somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... "Video Streaming & Medical Informatics” এর উপর আইইউটি তে ওয়ার্কশপ Introduction
Islamic University of Technology (IUT),
Dhaka, a subsidiary organ of the
Organisation of the Islamic Conference
(OIC) is mandated by OIC to develop
human resources of the Member States
in the fields of engineering, technology
and technical education. The objectives
of the IUT include imparting technical
knowledge at various levels, upgrading
skills, conducting research and sharing
specialized technical expertise among the
member states of the OIC. The Road Map
for the Development of Socio Economic
and Scientific Issues adopted after the
Third Extraordinary Summit of OIC
recommends the closing of the digital
gap. This is also one of the important
activities of the 10 year Action Plan.

Course Objectives
Over the last few years, IUT has offered
several short courses and workshops on
different topics on computing
technologies. Based on the necessity of
further requirements, CIT Dept. is going
to offer a three-day long international
workshop on "Video Streaming &
Medical Informatics”. Keeping in view
the latest trend of the field, this
workshop will enable one to focus on new
research direction.

Course Outline
The workshop consists of lectures and
practice sessions in the Computer
Science and Information Technology
(CIT) Department of IUT.

Major course outlines of this Short Course:
• Image & video Compression
• Compressed domain Analysis
• Video Streaming
• Medical Informatics &Telemedicine
Participants
Faculty members of various universities
including IUT along with post-graduate
students and professionals are expected
to join to acquire some latest academic &
research knowledge in the field.

Medium of Instruction
The medium of instruction for the
workshop will be English.

Venue and Climate
The workshop will be held in the
premises of IUT campus at Board Bazar,
Gazipur, Bangladesh; about 30 km north
of Dhaka city centre (Latitude 23043’ N
and Longitude: 90025’ E) and 11 km
away from the Zia International Airport
on Dhaka-Mymensingh highway.
Bangladesh is a beautiful country with
meandering rivers and canals adding to
the scenic beauty. It has mighty rivers,
royal Bengal tigers and a rich cultural
heritage. The weather during November
is generally mild and fare and the
temperature ranges from 19 to 300C.
Additional information on the IUT campus
is available at the website http://www.iutoicdhaka.
edu.

Registration
The participant will have to register for
the workshop on 8:30 A.M. of 22nd
February 2010 at the Board Room,
Administrative Building, IUT. Registration
fee for the workshop is Tk. 2,000/= (Two
Thousand) for participants.

Nominations
The participants shall fill in the prescribed
Application Form (attached), also
Nominations by appropriate authority of
the applicants willing to participate
should be sent to the workshop organising
secretary latest by the 15th February
2010. Early application is encouraged

Resource Persons
Key Speaker
Prof. Dr. Jayanta Mukhopadhyay
B.Tech., M.Tech., Ph.D. IIT, Kharagpur, India]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/29087252 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/29087252 2010-01-28 13:55:04
IUTAA REUNION & ELECTION 2010 আইইটা (IUTAA) - IUT ALUMNI ASSOCIATION , আইইউটি (ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনলজি) এর এক্স স্টুডেন্টের সংগঠন। গতকাল নতুন বছরের প্রথমদিন ১লা জানুয়ারী ২০১০ ছিল IUTAA এর দ্বিতীয় রিইউনিয়ন ও নতুন কমিটির নির্বাচন।

আইইউটি প্রাক্তন ছাত্রদের প্রাণের এই সংগঠন IUTAA এর প্রথম রিইউনিয়ন সংঘটিত হয় ২০০৬ সালে। ঐ বছরই এর প্রথম ওরগানাইজিং কমিটি ফর্ম হয় ইলেকসনের মাধ্যমে। ধীরে ধীরে তিনটি বছর পার হয়েছে। সংগঠনটি তার শিশুকাল অত্তিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলেছে। আইইউটির মত একটি সুনামধন্য ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস আউট ইঞ্জিনিয়ারদের এই সংগঠন গতকাল নতুন কমিটি রিফর্ম ও রিইউনিয়নের উদ্দেশ্যে আইটি ক্যাম্পাসে মিলিত হয়। স্ব স্ব প্রফেসনে সুপ্রতিষ্ঠিত আইটির অদ্যবধি পাস আউট করা '৯৬, '৯৭, '৯৮, '৯৯, '০০, '০১, '০২, '০৩, '০৪, '০৫ ব্যাচের ইলকেট্রিক্যাল, মেকনিক্যাল ও সিআইটি ডিপার্টমেন্টের অনেকেই গতকাল প্রাণের তাগিদে হাজির হন।

বিকেলে খেলাধূলা এবং সন্ধ্যায় নিজস্ব ব্যান্ড শিল্পীদের দ্বারা মনোজ্ঞ সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

নতুন কমিটির নাম প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/29070201 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/29070201 2010-01-02 06:22:42
ইভি(EV) -আগামীর পথে পথে ঘুরে বড়োবে যে বাহন (১) ইভি(EV) --শব্দটির সাথে কি আমরা খুব একটা পরিচিত?
হয়তো না । সেটাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক। আরেকটু এলাবরেশন মুডে বললে আবার সবাই হয়তো বুঝেও ফেলবেন।
কিন্তু সবচেয়ে সত্যি নিকট ভবিষ্যতে এই শব্দটি এভাবে না হলেও অন্যভাবে অন্য কোন রূপে আমাদের খুব প্রচলিত শব্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
তার মুখ্য কারন জ্বালানী সংকট বিশ্বের সর্বত্র।

ইভি মানে ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল যার খাশ বাংলা অর্থ তড়িৎ বাহন। পরিচিত নাম যার ইলেকট্রিক কার।

প্রচলিত হাইব্রিড কার ( মানে বর্তমানে কারে বা গাড়ীতে ফুয়েল ইঞ্জিন , ইলেকট্রিক ব্যাটারী এবং মেকানিক্যাল ব্যাটারি সব একসাথে থাকে বলে হাইব্রিড) এর ইন্টারনাল কম্বাশন ইঞ্জিনের পরিবর্তে ইলেকট্রিক কারে ব্যবহৃত হয় ইলেকট্রিক মটর এবং মটর কন্ট্রলার। মটরটি মটর কন্ট্রলার হতে শক্তি বা পাওয়ার পায় । আর এনার্জি জমা থাকে রিচার্জযোগ্য ব্যাটারি প‌্যাক এ , যা খুব সহজেই বসতবাড়ীতে ব্যবহার যোগ্য ইলেকট্রিসিটি দ্বারা চার্জ করা যায়।
খুব সংক্ষেপে এটাই মূলনীতি এই বাহনের চালনা শক্তির।

অনেকআগেই বিজ্ঞানীরা এধরনের ইভি আবিষ্কার করলেও মার্কেট পায়নি , কারন ব্যাটারীর দূর্বল ধারন ক্ষমতা । যে কানেএকবার চার্জ করলে খুব বেশী ক্ষণ সেই চার্জ দ্বারা গাড়ী চলতে পারতনা আর গতিও কম থাকত।

তবে বর্তমানে বিজ্ঞানীরাএইসব সমস্যা সমাধানে বেশ উন্নতি সাধন করেছেন। তারা আশাবাদী খুব শীঘ্রই ইভির বা ইলেকট্রিক কারের নতুন জেনারেশন বা যুগ এর আবির্ভাব ঘটতে চলেছে।
উন্নত বিশ্বে এইসব গাড়ীর প্রদর্শনীর ব্যাপক আয়োজন হচ্ছে।

এই পোষ্টে এবং ধারাবাহিক দু তিনটে পোষ্টে সামনে আসছে আমাদের প্রিয় পৃথিবীর অসংখ্য রাজপথ কাঁপাতে যেসব ইভি সেগুলোর মনোরম চিত্র তুলে ধরতে চেষ্টা করব।

তার আগে বর্তমান প্রচলিত কারের সাথে ইভির একটা তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরলাম নিচের ছবিতে


ইভির চিত্র পরবর্তী পোষ্টে...........আসছে ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28908745 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28908745 2009-02-09 15:02:45
T.... Moy Hacking Day ! টাইপ ওয়ার্ম অ্যাটাক্ট করেছিল ওয়ার্ম টাইপের কিছু একটা হবে। ডেস্কটপে জ্যামিতিক হারে বাড়তে রাগল একটা লেখা ( কালো হরফ অফ হোয়াইট ব্যাকগ্রাউন্ড)
দূর শালা লেখাটা ভুলে গেছি..
সম্।বত T.... Moy Hacking Day !
কন তো কেমন লাগে...এজ মডেম গিলে খেলো..কাজই করেনা..
অনেক ভেবে শেষে তারিখ পাল্টে দিলাম পিসির ..এবার থামল ওয়ার্মের দৌড়াত্ম ...কিন্তু মডেম কাজ করে না
সুইজ টু ইউজার করে ..অন্য ইউজার হিসেবে নতুন করে মডেম ইনস্টর করে তবে ..ঢুকতে পারলাম নেটে ...
ততক্ষণে শেয়ার মার্কেটে বন্ধ হয়ে গেছে ট্রেড ....

কেউ কি জানেন ঐ টা কি ওয়ার্ম / ভাইরাস ছিল।
অন্য আরেক পিসিতেও অ্যাটাকের খবর পাইছিলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28905616 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28905616 2009-02-02 11:02:43
প্রযুক্তির আলোচিত দশ 'ভুল ভবিষ্যদ্বাণী'! ( খবরটি বিডিনিউজ২৪ ডট কম থেকে হুবুহু তুলে ধরলাম) প্রযুক্তির আলোচিত দশ 'ভুল ভবিষ্যদ্বাণী'!

আসন্ন ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তার সাথে আমাদেরকে আগেভাগে পরিচয় করিয়ে দেয় 'ভবিষ্যদ্বাণী'। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে পূর্বাভাসটি দেয়া হয় যদি তার উল্টোটি ঘটে তবে কেমন লাগবে আপনার! প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আর হর্তাকর্তাদের এরকম পূর্বাভাস এখন পাঠকদের কাছে কেবল কৌতুক মাত্র। বিভিন্ন সময়ে প্রযুক্তি জগতের আলোচিত দশটি বাজে ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইন্ডিয়াটাইমস অবলম্বনে প্রতিবেদনটি লিখেছেন শোভন আহম্মেদ।

আই পডের মৃত্যু
২০০৫ এর ফেব্রুয়ারিতে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আমস্টার্ড এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার অ্যালেন মাইকেল সুগার ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আসছে ক্রিসমাসেই আইপডের মৃত্যু ঘটবে। এটি ব্যবহারহীন, অকেজো হয়ে যাবে। ঘটনাক্রমে আমস্টার্ড আর অ্যাপলের মধ্যে সে সময় চলছে হাড্ডহাড্ডি প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যদ্বাণীর ঠিক উল্টো ঘটনাটি ঘটেছে। অক্টোবরের মধ্যেই আইপড রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়। এগারো মিলিয়নেরও বেশি আইপড বিক্রি করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যা আগের বছরের চেয়ে শতকরা আট ভাগ বেশি।


গৃহে ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই
১৯৭৭ সালে ডিজিটাল ইকুয়িপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ওসলেন গৃহে কম্পিউটারের ব্যবহার নিয়ে এমন মন-ব্য করেন। তবে এধরণের মন্তব্য তিনিই প্রথম করেননি। তারও আগে ১৯৪৩ সালে আই বি এম চেয়ারম্যান টমাস ওয়াটসন ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, সারা বিশ্বে মাত্র পাঁচটি কম্পিউটারের বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। নব্বইর দশকের শেষদিকে ওরাকল এর সি ই ও লেরি এলিসন পিসি’কে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস হিসেবে অভিহিত করেন।



৬৪০ কিলোবাইটের বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই
১৯৮১ সালে বিল গেটস দাবি করেন পার্সোনাল কম্পিউটারে ৬৪০ কিলোবাইটের বেশি মেমরির কোন প্রয়োজন নেই।
অবশ্য ১৯৯৬ সালে ব্লুমবার্গ বিজনেস নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য অস্বীকার করেন। মন্তব্যটি সম্বন্ধে গেটস বলেন, “আমি বোকামো কিংবা ভুল বলেছিলাম তা নয়। কম্পিউটার সম্বন্ধে ধারণা নেই এমন কারো পক্ষেই এই ধরনের মন্তব্য করা সম্ভব।” এ সম্বন্ধে বিল গেটসের সক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হল।

“কম্পিউটারকে আরো কার্যকরী করতে এবং তার উন্নত সফটওয়্যারের জন্য বাড়তি মেমরির প্রয়োজন হয়। মূলত প্রতি দু বছর অন-রই মূল ধারার সফটওয়্যারগুলো পূর্বের তুলনায় মেমরির দ্বিগুন স্থান দখল করে নিচ্ছে।”

“১৯৮১ সালে যখন আই বি এম কোম্পানির পিসি বাজারে আসে তখন অনেকে মাইক্রোসফটের সমালোচনা করে। সে সময় বলা হয় ৬৪ কিলোবাইট মেমরি আর আট বিটের কম্পিউটারই জগতে চিরকাল বিরাজ করবে। এসময় অপচয়ের অভিযোগ এনে অনেকে আমাদের সমালোচনা করেছিল।”

“তবে মাইক্রোসফট এর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছিল। আমরা এখন জানি ৬৪০ কিলোবাইট মেমরির ১৬ বিট কম্পিউটার টিকতে পেরেছিল মাত্র চার থেকে পাঁচ বছর। ৬৪০ কিলোবাইট মেমরিই যথেষ্ট -এমন একটি ভিত্তিহীন উক্তি আমার বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার কোন প্রমাণ নেই। এটি একটি গুজব যা বার বার ব্যবহার করা হচ্ছে।”


টিভি টিকে থাকবে না
আজকের টিভি ভক্তদের জন্য এটি একটি মজার কৌতুক বলা যেতে পারে। ১৯৪৬ সালে ডেরিল জানুক বলেন, টেলিভিশন বেশিদিন টিকবে না, কারণ একটি প্লাইউডের বাক্সের দিকে প্রতি রাতে তাকিয়ে থাকা দর্শকের কাছে একঘেয়েমির কারণ হয়ে দাড়াবে। হলিউডের প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্ব ছিলেন অস্কার বিজয়ী প্রযোজক,পরিচালক, অভিনেতা, চিত্র নাট্যকার ও স্টুডিও নির্বাহী।

১৮০ টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেটেন্টধারী আমেরিকান বিজ্ঞানী লী ডি ফরেস্ট ১৯২৬ সালে টেলিভিশন নিয়ে যে মন্তব্য করেন তাও বেশ চমকপ্রদ। তিনি বলেন, “ধারণাগতভাবে টেলিভিশন হয়তোবা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতার বিচারে টেলিভিশন অসম্ভব একটি ধারণা যা নিয়ে স্বপ্ন দেখে আমাদের খুব কম সময় অপচয় করা উচিৎ।”


এর চেয়ে বড় কোন বিমান আর তৈরি হবে না
১৯৩৩ সালে মাত্র দশ জন যাত্রী বহনযোগ্য বোয়িং ২৪৭ নামে বিমানটি তৈরির পর এর প্রকৌশলী গর্ব করে বলেছিলেন, “ এর চেয়ে বড় আর কোন বিমান তৈরি হবে না।”
একইভাবে মারেকাল ফার্দিনান্দ ফক নামের অধ্যাপক ১৯০৪ সালে বলেন “ উড়োজাহাজ একটি মজার খেলনা হতে পারে, তবে সামরিক বিবেচনায় এর কোন মূল্য নেই।”


স্পাম সমস্যার সমাধান
ই-মেইল ব্যবহারকারীদের জন্য স্পাম একটি বিরক্তিকর সমস্যার নাম। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে বিল গেটস ঘোষণা দিয়েছিলেন স্পাম ই-মেইল মেসেজ সমস্যা দুই বছরের মধ্যেই সমাধান করা হবে।
মাইক্রোসফট চেয়ারম্যান বলেন তারা তিনটি উপায়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।



ই-বে
২০০৫ এর ফেব্রুয়ারিতে ই-বে কোম্পানির সিইও মেগ হুইটম্যান ঘোষণা দেয়েছিলেন, “ই-বে নিঃসন্দেহে চীনে বিজয়ীর আসনে বসতে যাচ্ছে।” কিন্তু ২০০৬ এর ডিসেম্বরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার বাজার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। টম অনলাইন নামে এক চীনা ইন্টারনেট কোম্পানির ছোট ব্যবসায়িক পার্টনার হতে বাধ্য হয় ই-বে।

সেই সাথে চীনে বিনিয়োগ করে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কোম্পানির কাছে নত হওয়া আরেকটি আমেরিকান কোম্পানির দলে যোগ দেয় ই-বে। চীনের ইয়াহু পার্টনার আলিবাবা’কে হারাতে কোম্পানিটির সি ই ও হুইটম্যান ২০০৫ সালে একশো মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেন।


টেলিফোন মূল্যহীন
ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী ও ‘ইনভেন্টিং দ্যা ফিউচার’ গ্রনে'র লেখক ডেনিস গেবর ১৯৬২ সালে লেখেন “প্রণালীগত ভাবে টেলিফোনের তার দিয়ে তথ্য আদান প্রদান সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক উপাদানের খরচ বিবেচনায় এটি বাস-বসম্মত নয়।”
একইভাবে ১৮৭৯ সালে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানি তাদের আভ্যন্তরীন প্রতিবেদনে টেলিফোনকে অলাভজনক ডিভাইস হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফটোকপি
১৯৫৯ সালে আই বি এম ফটোকপি মেশিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেরক্স এর প্রতিষ্ঠাতাদের সম্ভাব্য মার্কেট সম্বন্ধে বলেছিল “বিশ্বে সর্বোচ্চ ৫০০০ ফটোকপি মেশিনের বাজার রয়েছে।”

অথচ উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী ১৯৬১ সালের মধ্যে জেরক্স প্রায় ষাট মিলিয়ন ডলার আয় করে। ১৯৬৫ সালের মধ্যে যা ৫০০ মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে।

১৯৫৭ সালে বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকা প্রেন্টিস হল এর সম্পাদক ভষ্যিদ্বাণী করেছিলেন, “ডাটা প্রসেসিং হুজুগে একটি ফ্যাশন যা এই বছর পর্যন্তও টিকবে না।”


বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/শোভন/এমকে/এমআইআর/ডিসেম্বর ৩০

আসন্ন ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে তার সাথে আমাদেরকে আগেভাগে পরিচয় করিয়ে দেয় 'ভবিষ্যদ্বাণী'। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে পূর্বাভাসটি দেয়া হয় যদি তার উল্টোটি ঘটে তবে কেমন লাগবে আপনার! প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ আর হর্তাকর্তাদের এরকম পূর্বাভাস এখন পাঠকদের কাছে কেবল কৌতুক মাত্র। বিভিন্ন সময়ে প্রযুক্তি জগতের আলোচিত দশটি বাজে ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ইন্ডিয়াটাইমস অবলম্বনে প্রতিবেদনটি লিখেছেন শোভন আহম্মেদ।

আই পডের মৃত্যু
২০০৫ এর ফেব্রুয়ারিতে টেলিগ্রাফ পত্রিকায় দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আমস্টার্ড এর প্রতিষ্ঠাতা স্যার অ্যালেন মাইকেল সুগার ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, আসছে ক্রিসমাসেই আইপডের মৃত্যু ঘটবে। এটি ব্যবহারহীন, অকেজো হয়ে যাবে। ঘটনাক্রমে আমস্টার্ড আর অ্যাপলের মধ্যে সে সময় চলছে হাড্ডহাড্ডি প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যদ্বাণীর ঠিক উল্টো ঘটনাটি ঘটেছে। অক্টোবরের মধ্যেই আইপড রেকর্ড পরিমাণ বিক্রি হয়। এগারো মিলিয়নেরও বেশি আইপড বিক্রি করে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। যা আগের বছরের চেয়ে শতকরা আট ভাগ বেশি।


গৃহে ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারের প্রয়োজন নেই
১৯৭৭ সালে ডিজিটাল ইকুয়িপমেন্ট কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতা ওসলেন গৃহে কম্পিউটারের ব্যবহার নিয়ে এমন মন-ব্য করেন। তবে এধরণের মন্তব্য তিনিই প্রথম করেননি। তারও আগে ১৯৪৩ সালে আই বি এম চেয়ারম্যান টমাস ওয়াটসন ভবিষ্যদ্বাণী করেন যে, সারা বিশ্বে মাত্র পাঁচটি কম্পিউটারের বাজার সম্ভাবনা রয়েছে। নব্বইর দশকের শেষদিকে ওরাকল এর সি ই ও লেরি এলিসন পিসি’কে অপ্রয়োজনীয় ডিভাইস হিসেবে অভিহিত করেন।



৬৪০ কিলোবাইটের বেশি জায়গার প্রয়োজন নেই
১৯৮১ সালে বিল গেটস দাবি করেন পার্সোনাল কম্পিউটারে ৬৪০ কিলোবাইটের বেশি মেমরির কোন প্রয়োজন নেই।
অবশ্য ১৯৯৬ সালে ব্লুমবার্গ বিজনেস নিউজের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য অস্বীকার করেন। মন্তব্যটি সম্বন্ধে গেটস বলেন, “আমি বোকামো কিংবা ভুল বলেছিলাম তা নয়। কম্পিউটার সম্বন্ধে ধারণা নেই এমন কারো পক্ষেই এই ধরনের মন্তব্য করা সম্ভব।” এ সম্বন্ধে বিল গেটসের সক্ষাৎকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হল।

“কম্পিউটারকে আরো কার্যকরী করতে এবং তার উন্নত সফটওয়্যারের জন্য বাড়তি মেমরির প্রয়োজন হয়। মূলত প্রতি দু বছর অন-রই মূল ধারার সফটওয়্যারগুলো পূর্বের তুলনায় মেমরির দ্বিগুন স্থান দখল করে নিচ্ছে।”

“১৯৮১ সালে যখন আই বি এম কোম্পানির পিসি বাজারে আসে তখন অনেকে মাইক্রোসফটের সমালোচনা করে। সে সময় বলা হয় ৬৪ কিলোবাইট মেমরি আর আট বিটের কম্পিউটারই জগতে চিরকাল বিরাজ করবে। এসময় অপচয়ের অভিযোগ এনে অনেকে আমাদের সমালোচনা করেছিল।”

“তবে মাইক্রোসফট এর সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছিল। আমরা এখন জানি ৬৪০ কিলোবাইট মেমরির ১৬ বিট কম্পিউটার টিকতে পেরেছিল মাত্র চার থেকে পাঁচ বছর। ৬৪০ কিলোবাইট মেমরিই যথেষ্ট -এমন একটি ভিত্তিহীন উক্তি আমার বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। যার কোন প্রমাণ নেই। এটি একটি গুজব যা বার বার ব্যবহার করা হচ্ছে।”


টিভি টিকে থাকবে না
আজকের টিভি ভক্তদের জন্য এটি একটি মজার কৌতুক বলা যেতে পারে। ১৯৪৬ সালে ডেরিল জানুক বলেন, টেলিভিশন বেশিদিন টিকবে না, কারণ একটি প্লাইউডের বাক্সের দিকে প্রতি রাতে তাকিয়ে থাকা দর্শকের কাছে একঘেয়েমির কারণ হয়ে দাড়াবে। হলিউডের প্রভাবশালী এই ব্যক্তিত্ব ছিলেন অস্কার বিজয়ী প্রযোজক,পরিচালক, অভিনেতা, চিত্র নাট্যকার ও স্টুডিও নির্বাহী।

১৮০ টি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের পেটেন্টধারী আমেরিকান বিজ্ঞানী লী ডি ফরেস্ট ১৯২৬ সালে টেলিভিশন নিয়ে যে মন্তব্য করেন তাও বেশ চমকপ্রদ। তিনি বলেন, “ধারণাগতভাবে টেলিভিশন হয়তোবা গ্রহণযোগ্য হতে পারে। কিন্তু আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতার বিচারে টেলিভিশন অসম্ভব একটি ধারণা যা নিয়ে স্বপ্ন দেখে আমাদের খুব কম সময় অপচয় করা উচিৎ।”


এর চেয়ে বড় কোন বিমান আর তৈরি হবে না
১৯৩৩ সালে মাত্র দশ জন যাত্রী বহনযোগ্য বোয়িং ২৪৭ নামে বিমানটি তৈরির পর এর প্রকৌশলী গর্ব করে বলেছিলেন, “ এর চেয়ে বড় আর কোন বিমান তৈরি হবে না।”
একইভাবে মারেকাল ফার্দিনান্দ ফক নামের অধ্যাপক ১৯০৪ সালে বলেন “ উড়োজাহাজ একটি মজার খেলনা হতে পারে, তবে সামরিক বিবেচনায় এর কোন মূল্য নেই।”


স্পাম সমস্যার সমাধান
ই-মেইল ব্যবহারকারীদের জন্য স্পাম একটি বিরক্তিকর সমস্যার নাম। ২০০৪ সালের জানুয়ারিতে বিল গেটস ঘোষণা দিয়েছিলেন স্পাম ই-মেইল মেসেজ সমস্যা দুই বছরের মধ্যেই সমাধান করা হবে।
মাইক্রোসফট চেয়ারম্যান বলেন তারা তিনটি উপায়ে এই সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়নি।



ই-বে
২০০৫ এর ফেব্রুয়ারিতে ই-বে কোম্পানির সিইও মেগ হুইটম্যান ঘোষণা দেয়েছিলেন, “ই-বে নিঃসন্দেহে চীনে বিজয়ীর আসনে বসতে যাচ্ছে।” কিন্তু ২০০৬ এর ডিসেম্বরের মধ্যেই কোম্পানিটি তার বাজার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। টম অনলাইন নামে এক চীনা ইন্টারনেট কোম্পানির ছোট ব্যবসায়িক পার্টনার হতে বাধ্য হয় ই-বে।

সেই সাথে চীনে বিনিয়োগ করে শেষ পর্যন্ত স্থানীয় কোম্পানির কাছে নত হওয়া আরেকটি আমেরিকান কোম্পানির দলে যোগ দেয় ই-বে। চীনের ইয়াহু পার্টনার আলিবাবা’কে হারাতে কোম্পানিটির সি ই ও হুইটম্যান ২০০৫ সালে একশো মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার ঘোষণা দেন।


টেলিফোন মূল্যহীন
ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী ও ‘ইনভেন্টিং দ্যা ফিউচার’ গ্রনে'র লেখক ডেনিস গেবর ১৯৬২ সালে লেখেন “প্রণালীগত ভাবে টেলিফোনের তার দিয়ে তথ্য আদান প্রদান সম্ভব হলেও প্রয়োজনীয় যান্ত্রিক উপাদানের খরচ বিবেচনায় এটি বাস-বসম্মত নয়।”
একইভাবে ১৮৭৯ সালে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন কোম্পানি তাদের আভ্যন্তরীন প্রতিবেদনে টেলিফোনকে অলাভজনক ডিভাইস হিসেবে উল্লেখ করেন।

ফটোকপি
১৯৫৯ সালে আই বি এম ফটোকপি মেশিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জেরক্স এর প্রতিষ্ঠাতাদের সম্ভাব্য মার্কেট সম্বন্ধে বলেছিল “বিশ্বে সর্বোচ্চ ৫০০০ ফটোকপি মেশিনের বাজার রয়েছে।”

অথচ উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী ১৯৬১ সালের মধ্যে জেরক্স প্রায় ষাট মিলিয়ন ডলার আয় করে। ১৯৬৫ সালের মধ্যে যা ৫০০ মিলিয়ন ডলার স্পর্শ করে।

১৯৫৭ সালে বাণিজ্য বিষয়ক পত্রিকা প্রেন্টিস হল এর সম্পাদক ভষ্যিদ্বাণী করেছিলেন, “ডাটা প্রসেসিং হুজুগে একটি ফ্যাশন যা এই বছর পর্যন্তও টিকবে না।”

বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকম/শোভন/এমকে/এমআইআর/ডিসেম্বর ৩০]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903899 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903899 2009-01-29 13:02:54
গ্লোবাল ভয়েস অনলাইনের একটি খবর অনুবাদ......বইমেলা আসছে ঐভাবে তো আমরাও মিলিত হই, বই বের করছি... মিশরীয় ব্লগারদের বইমেলা ।


পনেরটির বেশী শিরোণামে মিশরীয় ব্লগাররা কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলাকে তুলে ধরেছেন।
মোহাম্মেদ হামদি লিখেছেন


من جديد يثبت المدونين المصريين أنهم مازالوا تحت دائرة الضوء فى مصر … هؤلاء الشباب الذين إتخذوا من الكتابة عبر الإنترنت وسيلة لجذب إنتباه مجتمع كامل إليهم … اليوم تتبلور نتائج أعمالهم من خلال معرض الكتاب المصرى لعام 2009 فمع إنطلاق فعاليات المعرض كانت أولى ندوات المعرض والتى ستقام الخميس عن أدب المدونين حيث يشارك فيها المدونين غادة عبد العال و شادى أصلان ومياده مدحت وسينظمها الكاتب الكبير الأستاذ يوسف القعيد
كتب المدونين فى المعرض لا تعد ولا تحصى .. المدون المصرى محمد التهامى يصدر له رواية هيروبولس وكتاب “إشتغل وإنت فى البيت” بالإضافة لإعادة بيع مجموعته القصصيه السابقة بنى أدم مع وقف التنفيذ. ساديزم هو عنوان المجموعة القصصية التى يصدرها المدون محمد الغزالى. وتصدر فى معرض الكتاب ثلاثة كتب اخرى يصدرها مدون أخر هو حسام مصطفى ابراهيم حيث يصدر له كتب “لولا وجود الحب” و “من غلبى” و “يوميات مدرس فى الأرياف”
فنان … كاتب .. شاعر.. والأروع : مدون بالتأكيد نتحدث عن الفنان خالد الصاوى والذى يصدر له ديوان أجراس والنص المسرحى اللعب فى الدماغ ويوميات خلود. للكاتبة والناقدة والصحفية والمدوّنة هويدا صالح صاحبة مدوّنة عشق البنات تصدر لها رواية عشق البنات خلال معرض الكتاب الحالى
أما عن ظاهره اشتراك اكثر من مدون فى إخراج كتاب واحد فهى تجربه جديده .. بدأتها بدرية طه وبسمه عبد الباسط من خلال كتاب “البنات عاوزه ايه” , ثم تبعهم محمد كمال حسن ومصطفى الحسينى بكتاب “قهوة المصريين” المدونة سحر غريب سيدصدر لها كتاب “حماتى ملاك” ويصدر لمحمد فتحى مجموعة مقالات فى كتاب بعنوان “مصر من البلكونه”
والسؤال هو : هل نشهد ظاهرة تحول التدوين من ظاهره الكترونية الى ظاهره مقروؤة ؟ وما هى الحدود الحقيقية لهؤلاء الجالسين خلف الشاشات المضيئة يكتبون؟
"মিশরীয় ব্লগাররা আরেকবার তাদের দৃঢ় অবস্থান বজায় রাখার প্রমান দিয়েছে; ঐসব সতেজ মন তাদের সমাজ সম্পর্কে এবং সমাজকে বলার জন্য তাদের বক্তব্যগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য বেছে নিয়েছে ব্লগীং। আজ তাদের অনস্বীকার্য উপস্থিতি ২০০৯ কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলার প্রথম সেমিনারে স্বীকৃতি প্রদান করে যেখানে ব্লগারদের লেখার অগ্রগামী ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেমিনারটি আয়োজন করে বিশিষ্ট লেখক ইউসুখ আল কা’য়েদ এবং ব্লগার ঘাদা আবদেল আঅল, সাদি আসলান এবং মায়েদা মেধাত যারা সাহিত্য ব্লগার হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে। অগনিত ব্লগারদের বই তাকে শোভা পাচ্ছে; মোহাম্মাদ এল তোহামি এর দুটি নতুন বই রয়েছে সেখানে-“হাইরাপোলিস” এবং “ ওয়ার্ক ফরম দি হোম”- সেই সাথে আছে তার প্রথম উপন্যাস “ এ হিউম্যান বিইং অন হোল্ড” এর পুন:সংস্করন। ব্লগার মোহাম্মাদ আল গাজালির নতুন উপন্যাস “স্যাডিজম”। হোসাম মোস্তফা ইব্রাহীম এর তিনটি নতুন বই আছে সেখানেঃ “বাট ফর লাভ”, “আউট অফ হেল্পলেস নেস” এবং “ দি ডেইলি ডায়েরীস অফ অ্যা টিচার ইন দ্যা কান্ট্রিসাইড”। খালেদ এল সুয়ই যে কিনা একজন অভিনেতা, একজন লেখক, একজন কবি এবং একজন ব্লগার , তার কবিতার বই বের করেছে “বেলস” শিরোণামে, নাটক লিখেছে যার নাম “মাইন্ড গেমস” এবং একটি উপন্যাস লিখেছে যার নাম “খোলুদ’স ডায়েরীস”। লেখক, সাংবাদিক এবং সমালোচক সালেহ তার ব্লগ “ গার্লস ইন ফ্যাচুয়েশন” এর নামে একটি বই প্রকাশ করেছে।
উল্লেখ্যযোগ্য আরকটি বিষয় হলো দুই জন ব্লগারের একত্রে বই প্রকাশ। বাদিরা তাহা এবং বাসমা আবদেল বাসেত তাদের বই “ হোয়াট ডু গার্লস ওয়ান্ট ?” এই বিষয়টি শুরু করেছে যা তারা অনুসরণ করেছে মোহাম্মদ কামাল হোসান এবং মোস্তফা আল হুসেইনী এর বই “ ইজিপসিয়ান’স ক্যাফে”। সাহার ঘারিব তার বই “মাই মাদার ইন ল ইজ অ্যান এঞ্জেল” এর এবং মোহাম্মাদ ফাতি “ ইজিপশিয়ান সিন ফরম দি ব্যালকনি” শিরোণামে একটি প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশের আশা করে।
ফেসবুক গ্রুপ নিমন্ত্রণ এবং বই ও বই মেলা ইভেন্ট প্রমোট এর দ্বারা এ বিষয়ে একাত্ম হয়েছে। আমার প্রশ্নঃ আমরা কি এমন একটা ঐতিহাসিক মুহর্তের স্বাক্ষী হচ্ছি না যা কিনা ব্লগীংকে স্ক্রীণ হতে ছাপায় পরিণত করছে? স্ক্রীণের বাইরে এইসব লেখকদের ভূমিকা কি হবে?'





ব্লগার আহমেদ আল সাব্বাঘ একটি ফেসবুক গ্রুপ এবং অনেকধরনের ইভেন্ট তৈরী করেছ সেইসব ব্লগারদের জন্য যারা একা একা না গিয়ে একত্রে মেলা পরিদর্শনে যেতে আগ্রহী তাদের । গ্রুপে প্রায় ২০০০ সদস্য নিবন্ধন হয়েছে এবং সপ্তাহান্তের দিনটি একত্রে গ্রুপে মেলায় যাওয়ার জন্য ঠিক করেছে।
যেহেতু অনেক বন্ধু এবং ব্লগার একত্রে মেলায় যাওয়ার চিন্তা ভাবনা করেছে, তাই আমি কায়রো আন্তর্জাতিক বইমেলা ২০০৯ এর জন্য এমন একটা ফেসবুক গ্রুপে দেখেছি যেখানে বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১৭০০ এর বেশী এবং আমি নিম্নোক্ত দিনগুলোতে একত্রে মেরা পরিদর্শনের জন্য পরামর্শ দিয়েছি।
জানুয়ারী ২৩
জানুয়ারী ২৪
জানুয়ারী ৩০
জানুয়ারী ৩১
মোহাম্মাদ হামাদীর নোটে উল্লেখ বইগুলো ছাড়াও আহমেদ আল সাব্বাঘ আরও অনেক ব্লগারদের বই এর নাম উল্লেখ করেছেনঃ
আল সাব্বাঘ হাশাম আবেয়ার বই “ এম কেস” সম্বন্ধে এখানে এবং ন্যান্সি হাবিব এর বই “ আই লাভ দ্যা সিনেমা” সম্বন্ধে এখানে লিখেছেন।


মূল খবরঃ গ্লোবাল ভয়েস অন লাইন ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903474 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903474 2009-01-28 15:15:52
এই প্রতিবাদ লিপিটি আগামীকাল প্রধান দৈনিক গুলোতে প্রকাশ পেতে পারে, আপনিও জানুন সেবামূলক ও লাভজনক সরকারী প্রতিষ্ঠান অধুনালুপ্ত বিটিটিবি/টিএন্ডটি তথা বিটিসিএলকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের ভিত্তিমূলে কুঠারাঘাত করার ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার উদাত্ত আহ্বান।

১) টিআইবি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান সমূহের তালিকায় বিটিটিবি’র নাম না থাকলেও দুদক কর্তৃক বিটিটিবি’র গত ৮ বছরের অত্যাবশ্যকীয় খরচকে ঢালাওভাবে অর্থ আত্মসাৎ হিসেবে অভিযোগ উত্থাপন করে মামলা দায়ের করা হচ্ছে । অধিকন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়টি প্রচার করে কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে সামাজিকভাবে হেয় ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা হচ্ছে। ফলে কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

২) দৈনন্দিন ও জরুরী রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া উচ্চ প্রযুক্তির এ টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব নয়। এ কারণেই বিটিটিবি এবং তৎপূর্ববর্তী এ প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টিকাল থেকে Post and Telegraph Manual, Initial Account Code অনুযায়ী এবং প্রচলিত সরকারী আর্থিক বিধি বিধান অনুসরণপূর্বক রক্ষণাবেক্ষণ এবং সরবরাহ ও সেবা খাতে ব্যয় নির্বাহ করা হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিধি-বিধান বিবেচনায় না নিয়ে বিটিটিবি’র সমস্ত রক্ষণাবেণ ও সরবরাহ-সেবা খাতের খরচকে দুদক কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হচ্ছে।

৩) উল্লেখ্য যে, ২০০০-০১ হতে ২০০৭-০৮ পর্যন্ত ৮(আট) অর্থবছরে বিটিটিবি প্রায় ১২,০০০ (বার হাজার) কোটি টাকা রাজস্ব আয় করেছে।

৪) ১৯২৮ খ্রিঃ এর পর থেকে আজ পর্যন্ত বিটিটিবি ও তৎপূর্ববর্তী এ প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয় প্রতি বছর সরকারের অডিট অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও পাবলিক একাউন্টস কমিটি কর্তৃক নিরীতি / মীমাংসিত / নিষ্পত্তিকৃত। প্রসঙ্গত বিটিটিবিতে দুদক পরিচালিত অনুসন্ধান ও তদন্তকাজে নিয়োজিত দলের দলনেতা যখন সরকারের অডিট অধিদপ্তর এর পক্ষে বিটিটিবিতে অডিট কাজে নিয়োজিত ছিলেন তখন তিনি তাঁর প্রতিবেদনে এরূপ অর্থ আত্মসাতের কোন অভিযোগ আনেন নাই। কিন্তু বর্তমানে একই কর্মকর্তা দুদকের দুর্নীতির অনুসন্ধান কাজের দলনেতা হিসাবে বিটিটিবিতে এসে একই ব্যয়কে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন যা স্ববিরোধী, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও ষড়যন্ত্রমূলক, কোন সিন্ডিকেটের স্বার্থ রাকারী এবং সরকারী লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল (অধুনালুপ্ত বিটিটিবি) কে ধ্বংসের অশুভ চক্রান্ত।

এ অশুভ চক্রান্ত থেকে সরকারী লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিটিসিএল কে রক্ষা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে
কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানানো যাচ্ছে।

বিটিসিএল (সাবেক বিটিটিবি) এর সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903237 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28903237 2009-01-27 23:32:33
নতুন ব্লগার রুমানা বৈশাখী র দুটো গল্প রুমানা বৈশাখী র লেখা প্রথম পাতায় না আসায় নিচে তার দুটো লেখার লিংক দিলাম।


মানুষ! [ সায়েন্স ফিকশন]


শুধু তোমার কারনে ////(১ম পর্ব) ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28888158 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28888158 2008-12-26 08:07:06
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX ) এর ব্যবহার ...(২) ওয়াইম্যাক্স (WiMAX ) এর ব্যবহার ...(১)


২। ওয়াইম্যাক্স মোবাইল এপ্লিকেশন (802.16e-2005):
সেলুলার এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহারঃ
ওয়াইম্যাক্স এর সুবিধা নেয়ার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে সেলুলার ( মোবাইল ) সার্ভিস প্রোভাইডার কোম্পানীগুলো। কারন তাদের অলরেডী যে সিস্টেম চালু সেটা ওয়্যারলেস কালচারেই চলে(RF engineers, wireless savvy sales staff, etc )। কিন্তু অন্যদিকে ল্যান্ড ফোন বা ফিক্সড ফোনে এই বিল্ট ইন সুবিধা নাই বলে ঐ ক্ষেত্রে ওয়াইম্যাক্স কমপারেটিভলি একটু কষ্টলি।

উপরের চিত্রটিতে আমরা একটি প্রচলিত সেলুলার নেটওয়ার্ক বা বিভিন্ন সেলুলার ও অন্যান্য টেলিকম অপারেটরের মধ্যে একটি আন্ত সংযোগ ব্যবস্তা দেখতে পাচ্ছি। (এখানে যে টি১ গুলো আছে , আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে সেগুলোর নাম হবে ই১।) সে যা হোক ওয়াইম্যাক্স ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যবহার এর মাধ্যমে এই ক্ল্যামজি অবস্থা সহজ হয়ে যাবে এবং এতে ইনফ্রাসটেকচর সহজ হয়ে আন্ত অপারেটর ব্যবহার খরচ কমে যাবে।
"one network serves all" ----এই কথাটি এ ক্ষেত্রে ওয়াইম্যাক্স সত্য প্রমান করতে পারে।
ওয়াইম্যাক্স অনেক বেশী দ্রুতগতির হওয়ায় এবং এটি ভয়েস, ডাটা এবং ভিডিও একসাথে সাপোর্ট করায় ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তির মাধ্যমে মোবাইল কোম্পানীগুলো সহজেই তাদের সার্ভিসে এগুলো অ্যাড করতে পারবে। মোবাইলে সে ক্ষেত্রে ভিডিও দেখা যাবে, টিভি দেখা যাবে , ভিডিও কনফারেন্স সম্ভব হবে, দুপ্রান্তের মানুষের ছবি লাইভ দেখা যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে মোবাইল সেট টিও ওয়াইম্যাক্স সার্পোটেড হতে হবে। মোবাইল WiMAX এর এসব সুবিধা আমরা আসলে পেতে পারি বিভিন্ন পারসনাল ডিভাইসের মাধ্যেমেই যেমন PDAs, notebook PCs, game consoles, iPods, MP3 players, and cellular phones.

মোবাইল ওয়াইম্যাক্স ব্যবহারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে দেখানো হলো-
Figure: WiMAX as a mobile voice and data network is potentially exponentially more efficient (profitable) than the legacy cellular infrastructure

৩। ওয়াইম্যাক্স এন্ড আইপিটিভিঃ
Internet Protocol Television (IPTV) এর মাধ্যমে ওয়াইম্যাক্স সার্ভিস প্রোভাইডার খুব সহজেই ক্যাবল বা স্যাটেলাইট টিভি সার্ভিস প্রোভাইডারদের মত সার্ভিস দিতে পারবে। এর সাথে আইপিটিভি প্রোগামিয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও অন ডিমান্ড (VoD) সার্ভিস প্রদান সম্ভব। এই ব্যবস্থাগুলো মোবাইল এ মাধ্যমেও হতে পারে আবার ফিক্সড ও হতে পারে।

৪। ওয়াইম্যাক্স এন্ড ভিওআইপিঃ
এটি আসলে ফিক্সড ওয়াইম্যাক্সেরই একটা ব্যবহার। নরমাল ভাবে ভিস্যাট এর মাধ্যমে ভিওআইপি দিয়ে যে বাইপাস ভয়েস সার্ভিস চলে সেটা ওয়াইম্যাক্স ব্যবস্থায় আরও সহজে এবং সস্তায় প্রদান সম্ভব। কেউ কেউ অবশ্য বলে , VoIP is the "killer app" for WiMAX। নিচের চিত্রে আমার এই বিষয়টি একটু দেখে নিতে পারি।



#ছবিসমূহ এবং কিছু তথ্যের সূত্র ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28848218 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28848218 2008-09-26 19:07:09
ওয়াইম্যাক্স (WiMAX ) এর ব্যবহার ...(১)
তাহলে দেখা যাচ্ছে ওয়াইম্যাক্স ও সেই একই আইএমএস পদ্ধতি ব্যবহার করে । এই পদ্ধতির মাধ্যমে ওয়াইম্যাক্স এর মাধ্যমে নিম্নের সবগুললো সুবিধা সহজেই দেয়া সম্ভব।
(ওয়াইম্যাক্স নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে লেখাটিতে লেখাটিতে বলেছিলাম , ওয়াইম্যাক্স মূলত সব ধরনের টেলিকমিউনিকেশনের রিপলেসমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব, এখানে সেই ব্যবহার গুলোর উপর আলোকপাত করা হবে।)

১। ফিক্সড ওয়্যারলেস এপলিকেশন (IEEE 802.16-2004):

মূলত এই স্ট্যান্ডর্ডে প্রিসাইস ভাবে আমার তিনটি ব্যবহারকে ব্যাখ্যা করতে পারি।
(ক) T1 or E1 or fractional T1-like services to businesses, and (খ)broadband for residential, small office/home office (SOHO), and small- to medium-enterprise (SME) markets, (গ) wireless backhaul for Wi-Fi hotspots

(ক) T1/E1 এর রিপলেসমেন্ট :
ওয়াইম্যাক্স এর সবচেয়ে বড় ব্যবহারের একটি হচ্ছে , এটি বর্তমান ফিক্সড টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমের কপার তারের ব্যবহারকে তারহীন ব্যবস্থার মাধ্যমে বদলাতে সক্ষম। সাধারণত ফিক্সড ফোন কোম্পানী ইনটারকানেকশন এর জন্য যে ডাটালাইন ( যাকে আমেরিকতে T১ আর ইউরোপ এবং বাংলাদেশে E১ বলা হয়, টি১ মানে ১.৫৪ মেগাবাইট আর ই১ মানে ২ মেগাবাইট ডাটা লাইন) ভাড়া দেয় তার সংযোগ হয় কপার ক্যাবলের মাধ্যমে এবং এর ভাড়া যথেষ্ট বেশী ( হাজার হাজার টাকা প্রতি মাসে) । ওয়াইম্যাক্স এই ডাটা লাইন সাপোর্ট দিতে পারবে। যে ক্ষেত্রে খরচ অনকে কমে যাবে।
এই ভাবে ওয়াইম্যাক্স এর মাধ্যমে বর্তমান কপার ক্যাবল নির্ভর ফিক্সড ল্যান্ডফোন এর ব্যবহার খুবই সহজে ও কম খরচেই সম্ভব। এতে ল্যান্ড ফোন এর তার জনিত সমস্যা পুরোপুরি দূর হবে। ( আমেরিকাতে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে) ( বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকশেন কোম্পানী, বিটিসিএল যেহেতু ওয়াইম্যাক্স এর একটি লাইসেন্স পাবে , সে ক্ষেত্রে সুষ্ঠব্যবহারে ল্যান্ড ফোনের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতেও পারে)

(খ) ব্রডব্যন্ড :
ওয়াইম্যাক্স এর অন্যতম ব্যাপক আকারের আরেকটি ব্যবহার হচ্ছে ব্রডব্যান্ড একসেস। ওয়াইম্যাক্সের মাধ্যমে বাড়ীঘরে, ছোটখাট অফিসে, সম্ল টু মিডিয়াম এন্টারপ্রাইস মার্কেটে মানে সর্বত্র প্রয়োজনমাফিক ব্রডব্যান্ড কানেকশন প্রদান সম্ভব। এবং পুরোটাই তারহীন। ব্যবারের শেষাংশে শুধুমাত্র এশটি ইকুইপমেন্ট ব্যবহার করতে হয় যার নাম সিপিই( কনজিউমার প্রেমিসেস ইকুইপমেন্ট)।
ওয়াইম্যাক্স এর মাধ্যমে সংযোগকৃত ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে হাই স্পিড ইন্টারনেট ( মেগাবাইট লেভেলে স্পিড) সার্ভিস, ভয়েস ওভার আইপির মাধ্যমে টেলিফোন সার্ভিস (আইপি ফোন) এবং যেকোন ইন্টা নেট বেসড সার্ভিস প্রদান সম্ভব।

(গ) ওয়্যারলেস ব্যাকহোলঃ
ওয়্যারলেস বেকহোল সলিউশন হলো দুটো বিল্ডিং বা দুটো টাওয়ারের মধ্যে হাই স্পিড , পয়েন্ট টু পয়েন্ট ব্রডব্যন্ড কানেকশন , যে ক্ষেত্রে দুটো বিল্ডিং বা টাওয়ারের দূরত্ব হতে পারে সর্বোচ্চ ৪০ মাইল বা ৬৫ কিমি এভং যার ডাটা থ্রপুট ২ মেগাবিট/ সে থেকে ১ গেগাবিট/সে।
এই বেকহোল তৈরী করা হয় মূলত লাইন অফ সাইট ( মানে কোন বাধা হীন ভাবে, মাঝে কোন অবসটেকেলস থাকবেনা) যাতে করে এই ব্যাকহোল টি অন্যান্য পয়েন্ট টু মাল্টি পয়েন্ট ইকুইপমেন্টের মধ্যবর্তী সংযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।


(................চলবে.)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28848131 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28848131 2008-09-26 14:21:54
টক অবদ্যা টেলিকম সেক্টরঃ ওয়াইম্যাক্স, একটু ধারনা। নিলামে ওয়াইম্যাক্স লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদশে অন্যতম একটি হট নিউজ। এমনেতেই এই টেকনলজি নিয়ে অনেক জল্পনা কল্পনা তার উপর বিশ্বের মধ্যে এ ধরনের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য পাওয়া গেছে। যা থেকে এবং বিটিআরসির চেয়ারম্যানের কথা থেকে মনে হচ্ছে ওয়াইম্যাক্স টেকনলজি ইমপ্লিমেন্ট হওয়ার থেকে, এর সুবিধা নিভৃত জনগনের নিকট পৌঁছানোর চেয়ে টাকার অংকে লাভটাই মুখ্য প্রথমে। কিন্তু ২১৫ কোটি টাকা দিয়ে যে লাইসেন্স নিল কোম্পানী তিনটির প্রতিটি , এই বিপুল অর্থ কি তারা আদৌ এত সহজে লাভ করতে পারবে। এটা বাংলাদেশ, সিংগাপুর নয়, সেই চিন্তা কেউ কি করেছে। এ দেশে ইন্টারনেট কয়জনা ব্যবহার করে। অব্যশ যদি মোবাইল আর ল্যান্ড ফোন অপারেটার রা পুরোপুরি ওয়াইম্যাক্স ইউস করতে চায় সে ক্ষেত্রে লাইসেন্স পাওয়া কোম্পানী গুলোর একটা ভাল ইনকাম হবে। কিন্তু সেই তো হাত বদল আর ভাড়ার বেড়াজাল, ফলত মূল্য কি কমবে মোবাইল কিংবা ইন্টারনেট ইউজের? প্রশ্ন থাকবেই , নীতি নির্ধারণ যেন গুমোট কুয়াশা এ দেশে বরাবরই। এত আলোচিত ওয়াইম্যাক্স কি ? আসুন খুব সহজে একটু আলোচনা করি।


পূর্ণ করে বললে ওয়াইম্যাক্স মানে ওয়াল্ড ওয়াইড ইন্টার ওপারেবিলিটি ফর মাইক্রোওয়েভ একসেস্ । জুন ২০০১ এ গঠিত ওয়াইম্যাক্স ফোরাম IEEE এর একটি স্ট্যান্ডার্ড তৈরী করে যা 802.16d বা 802.16-2004 এবং অফিসিয়ালি নাম দেয়া হয় ওয়ারল্যাসম্যান। পরে আরেকটি স্ট্যান্ডার্ড এর নামকরণ হয় যা 802.16e-2005 বা 802.16e।
মূলত এইদুইটি স্ট্যান্ডার্ড ই হচ্ছে ওয়াইম্যাক্স টেকনলজি। পযার প্রথমটি আসলে `ফিক্সড ওয়্যারলেস ' আর পরেরটি আসলে ` মোবাইল ওয়্যারলেস'।

তাই ওয়াইম্যাক্স এর শক্তিশালি ভূমিকাটাই হলো এটি বর্তমান প্রচলিত প্রায় সব ধরেনর টেলিকমিউনিকেশনে নতুনত্ব আর গুনগত পরিবর্তন এনে কাজ করতে পারে।

ফিক্সড ওয়্যারলেস কনফিগারেশন এর ক্ষেত্রে ওয়াইম্যাক্স ব্যবহার করে কপার ব্যবহৃত টেলিফোন কে ওয়্যার লেস ও দ্রুত গতির করা সম্ভব। তাছাড়া আইএসপি র দ্বারা টিভি দেখার ক্যবল ব্যবস্থাকেও বদলানো যায়।

আবার মোবাইল ওয়্যারলেস এর কনিফগারেশন দ্বারা এটি বর্তমান মোবাইল নেটওয়ার্ককে কেও পরিবর্তন করতে পারে।
তাই খবরে আর পত্রিকায় যে বলা হচ্ছে দ্রুত গতির ইন্টারনেট কানেকশন। কথাট আংশিক সত্য। কারন বললামই তো কেবল ইন্টার নেট নয়..সকল প্রকার টেলিকমিউনিকেশনে এর হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতা আছে।

নিচের ছবিতে বিষয়টি দেখুন

পয়েন্ট টু পয়েন্ট এর ক্ষেত্রে ওয়াইম্যাক্স ৭০/৭২ মেগাবিট/সে. স্পিডে ৩০ মাইল বা ৪৮ কি.মি পর্যন্ত কাজ করে। আর পয়েন্ট টু মাল্টি পয়েন্টের ক্ষেত্র ৬ মাইল রেডিয়াসে ৪০ মেগাবিট/সে. স্পিডে কাজ করে।


কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটা ভুল ধারনা আছে , ৭০/৭২ মেগাবিট/সে. স্পিডে এবং ৩০ মাইল রেঞ্জ দুটো একসাথে কাজ করে না , বাস্তবে যে এলাকায় কোন বাধা থাকেবনা , ওয়েভ সরল রেখায় যেতে পারবে সেসব ক্ষেত্রে ১০ মেগাবিট/সে.স্পিড পাওয়া যাবে ১০ কিমি এলাকায় একনাগাড়ে আর শহর এলাকায় যেখানে বিল্ডিং এর বাধা খুব বেশী সেখানে ১০ মেগাবিট/সে. পাওয়া যাবে ২ কিমি এর মত এলাকায় মধ্যে।

থিউরি আর বাস্তব সর্বদা এক হয়না। আরেকটা সমস্যা হলো যখন একটি নির্দিষ্ট সেক্টরের ব্যান্ড উইথ অনেকে শেয়ার করবে মানে ঐ এলাকায় একসাথে অনেক ইউসার হয়ে গেলে ভাগাভাগি হবে, স্পিড কমে যাবে।


বলার তো আছে অনেক। কিন্তু সেটা অত সহজ হবেনা সবার নিকট। তাই শেষে অল্প একটু।
ইতিমধ্যে ওয়াইম্যাক্সের পূর্বেই আরকটি টেকনলজি সম্পর্কে আমরা শুনেছি , যার নাম ওয়াই-ফাই ।
নিচে একটা ছবি দিলাম দুটো মধ্যে তফাতের ..তাইলে আরেকটু ক্লিয়ার হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28847586 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28847586 2008-09-25 01:42:02
JEFF CORWIN >> হডিডটৃহদু মানুষের চেয়ে জীবজন্তুর সাথেই তাকে বেশী দেখা যায়। কখনও তার হাতের মুঠোয় অসহায় হয়ে ওঠে কাল কেউটে আবার কখনও কাঁধে চড়ে বসে নখর বানর অথবা চপল বেয়ে নামছে কোন ভয়ংকর দর্শন টেরান্টুলা। যার কথা বলছি তার চেহারা এবং অসম সাহসীকতার দৃশ্য স্যাটেলাইটের যুগে অনেকের কাছেই অতি পরিচিত অন্তত তারা ওয়াইল্ড লাইফ এর প্রতি কিঞ্চিৎ হলেও ভালবাসা পোষন করেন আত্ম হৃদয়ে। বিশেষ করে এনিম্যাল প্লানেট চ্যানলে তাকে নিয়মিতই দেখা যায় জীব জন্তুর সাথে সদা হাসিখুশী অবস্থায়।
লোকটির নাম জেফরি স্যামুয়েল করোয়িন, সংক্ষেপে জেফ করোয়িন নামেই তিনি ভয়খ্যাত ( ভয়কর ভাবে খ্যাত)। পেশায় ওয়াইল্ড লাইফ বায়োলজিষ্ট তিনি। বিপন্ন পশুপাখী সংরক্ষনে সদা ব্রতচারী। জন্ম আমেরিকায়।


আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই লোকটির ক্রিয়া কর্ম দেখে মুগ্ধ হই। তার কান্ডকারখানা দেখে মনে হয় কোন প্রাণীই ক্ষতিকারক বা হিংস্র নয়। কত সাবলিলায় তিনি সাপ , কুমির , বাঘ বানর সব প্রাণীর সাথে খেলে বেড়াচ্ছেন, গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন আবার নির্ভয়ে গহীন অরন্য মাঝে সরস কৌতুকও চালিয়ে যাচ্ছেন।
তার টিভি শোর জন্য তিনি পুরষ্কার ও পেয়েছেন অনেক। আবার ২০০২ সালে পিপলস ম্যাগাজিন এ ৫০জন মোষ্ট বিউটিফুল পুরুষ এর সিলেকশনেও তার নাম ছিল।
সবকিছু ছাপিয়ে তার জীবপ্রেম অসাধরণ।

নির্ভীক জীবজন্তু প্রেমিক এই সদা হাসিখুশি মানুষটিকে আমার অজস্র সেলুট।


নিচে ইংলিশে আরেকটু কিছু তার সম্পর্কে>>>>
(JEFF CORWIN

Wildlife biologist, Jeff Corwin has been working for the conservation of endangered species and ecosystems around the world since he was a teenager. Animal Planet viewers best know Corwin as host of The Jeff Corwin Experience and for the Discovery Kids series Jeff Corwin Unleashed, which won him an Emmy® as “Outstanding Host” and nominations in three other categories. Since 2000, Corwin has partnered with Animal Planet and Discovery Communications as host and executive producer of The Jeff Corwin Experience and Corwin’s Quest.

Most recently, Corwin traveled to Madagascar for Planet in Peril. When not in the field, he lectures on wildlife, ecology and conservation to audiences across the United States. Corwin also established an interactive museum and environmental education center called the EcoZone, a center whose goal is to build awareness of the wildlife and ecology unique to the wetlands of southeastern Massachusetts.)
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28838771 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28838771 2008-09-04 19:48:26
জ্ঞান দান করুন...( Cisco Training ) করার জন্য বাংলাদেশে কোথায় ভাল এবং অথোরাইজড ব্যবস্থা আছে...জানেন কি কেউ ..
যদি জানেন ...
একটু বিস্তারিত জানানোর জন্য অনুরোধ করছি। আশা করি অনেকেরই তাহা কাজে লাগতে পারে।

অগ্রীম ধন্যবাদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28835801 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28835801 2008-08-28 00:15:35
পুরা খেলায় রেফারি ব্রাজিলের সাপোর্ট টানল....না হইলে ব্রাজিল আরও কত গোল খাইত(!!!!!!!).. তাও শেষ অর্ধেক দেইখাই যা বোধদয় হইলো ....
রেফারির পক্ষপাতিত্ব ছিল অসাধারণ ব্রাজিলের পক্ষে...এতই সচতুর পক্ষপাতিত্ব বুঝতে খুব বেশী মননিবেশ করতে হইয়াছে।

নাইলে আর্জেন্টিনা আরও অনেক গুলান গোল দিত নিশ্চিত...

>>আর্জেন্টিনার প্রথম গোলের সময় ব্রাজিলের গোলকি হাত উঁচা করিয়া অফসাইটের জন্য আবেদন করিতেছিল....রেফারি উহা দেখেন নাই....ঐ হাত উচাঁ করা দেখিয়া অফসাইটের থাকা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় গোল মিসও করিতে পারিত...ইস । কিন্তু রেফারি কিছুই বলিল না

>>
দ্বিতীয় গোলটির সময়্ও ব্রাজিলের গোলকি সহ ডিফেন্সের খেলোয়াড়রা হাত উচাঁ করিয়া আবেদন করিতেছিল....একই অবস্থায় দুই অফসাইডার গোল মিসও করিতে পারিতদ। যাক তাহা হয়নাই। অত সামনে আগাইয়া থাকিলে কার গোল মিস হয়, আর্জেন্টিনার (ব্রাজিলের মত নয়) মত দলগুলানরে। রেফারি সেই সব হাত উঁচানোর জন্য কোন শাস্তি দেননাই।

>>
মেসি যখন পায়ে বাধিয়া ডি বক্সের মধ্যে পড়িয়া গেলো ..তখন কেবল পেনাল্টি দিল...লাল কার্ড দিলনা...তখনই লাল কার্ড দিলে কার্ড সংখ্যা তিনটে তো হতোই..
রেফারি ভীষণ পক্ষ পাতিত্ব করিল ব্রাজিলের পক্ষে

নইলে এত কম গোলে আর্জেন্টিনা জেতে...আর ব্রাজিল মাত্র দুটো লাল কার্ড খায়
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28832503 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28832503 2008-08-19 21:13:55
বলুন তো দেখি এইখানা কি ফল? খুবই পরিচিত......
দেখুন না চেষ্টা করে নামখানা মনে করা যায় কিনা সহজে

( ক্লু: খেতে খুবই মজা ...সব সময় না হলেও এই বিশেষে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28806836 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28806836 2008-06-06 15:35:01
অনাবিষ্কৃত আদিবাসী >>যান্ত্রিক পরিবেশের বাতাস লাগেনি পড়েনি সভ্য মানবের দৃষ্টি কভূ সকালে তাই যখন আলজাজিরার নিউজ এ হেড লাইন দেখছিলাম বারবার ....ঘটনাখানা দৃষ্টি কেড়েছিল।

নেটের জ্ঞান ভুবনে ঢু মারার ইচ্ছে তে আর বাধ সাধবে কে?
(আছে ...সে হলো বিদ্যুৎ)
যাহোক বাঁধ সরিয়ে টরিয়ে খবরখানার ব্যাপকতা মনে ধারন করা গেলো ..পাওয়া গেলো ছবিগুলোও....টিভিতে দেখছিলাম যেগুলো.....
....

গত কালকের ঘটনা.....
আমাজন বনের উপর দিয়ে উড়ছিল যখন সভ্য মানুষ এবং ব্রাজিল পেরু সীমান্তে কাছাকাছি ....ঘন জঙ্গলের উপরদিয়ে...ধরা পড়ল ছবিতে ..এমন এক জাতি যারা এখনো সভ্য জগতের পরশ পায়নি ....সম্র্পূর্ণ আনটাচ্ ড ট্রাইব----.এমনই ধারনা করা হচ্ছে....


বিস্তারিত দেখুন এবং পড়ুন....
নিচের লিঙ্কে
http://www.survival-international.org/
এবং
Click This Link
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28804557 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28804557 2008-05-30 18:38:29
ভালবাসি প্রিয় দেশটাকে অশেষ, ভালবাসি এই ব্লগটাকে অশেষ না হলেও অনেকদূর ব্লগের কথা খুব মনে পড়ে, কম্পিউটার ল্যাবে বসে অনলাইন খুঁজে পেলেই ব্লগের চেহারাটা দেখে নিতে ভুলিনা। লেখা হয়না, লেখা যায়না।

বৃষ্টি হয় , মন নেচে ওঠে সে বসন্ত বৃষ্টিতে , পথিক!!!!!!! ,আমি দূরন্ত উচ্ছাসে ভাবনাহীন ছন্দে পথে নেমে ভিজতে পারিনা।

ওমনই সময় কাটছে আজকাল। ছায়া সুনিবীড় সবুজ বনানী মাঝে সরকারী চাকুরীর প্রয়োজনে ফাউন্ডেশন কোর্সে আপাতত এভাবেই বিচ্ছিন্ন এক সময় কাটাতে হচ্ছে। অসম্ভব এক ব্যতি ব্যস্ততা আর নিয়মের মাঝে তবুও থেমে থাকেনা আমার কবিতা আর স্বল্প মাত্রার মনন, ভাব। কাগজ এর মাঝে ছিটকে ছিটকে পড়েই। ...

সাপ্তাহিক ছুটির দুটি দিন প্রিয় ঢাকার পরিচিতি মাঝে কাটানোর জন্যে ছুটে ঘরে ফিরে আসতে দেরী হয়না যেমন, তেমনি দেরী হয়না ল্যাপটপখানা আলমারি থেকে বের করেই ব্লগের পাতায় ঝাঁপিয়ে পড়তে। কিন্তু তারপরই একটু অবাক হই।
ভিজিটর বেশী আর ব্লগার কম। এমনতো খুব একটা দেখিনি সামহয়্যার ইন ব্লগ সাইটে। আরও অবাক হই পরিচিত ব্লগার খুব একটা চোখে পড়ছেনা অনলাইনে।

তারপরই ফোনটা আসে, ব্লগার প্রত্যুতপন্নমতিত্তের। অন্য একটা বিশেষ কারনে এসেছিল তার ফোন। যে আবেগ লিখতে বাধ্য করে( যদিও লেখার মত ওতটা উন্নত মস্তিষ্ক এখনও তৈরী হয়নি আমার) সেই আবেগ থেকেই ব্লগের খোঁজখবর নেই আর তখনই জানতে পারি, এস্কিমো আর রাশেদ নামে ব্লগার দুজনের ঘটনা সামান্য পরিমাণে।

একটু ভাবলাম, আবারও। বারাবার কেন ব্লগে এইসব সেন্টিমেন্টাল ঘটনা ঘটছে , ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা বা চাইনা। এলাম ছুটিতে কোথায় একটু লিখব কবিতা , প্রকাশ করব মনের কোন ভাব, অথবা দেশের পরিস্থিতি কার্ভখানার ঢালু পথের ব্যাখ্যা জাতীয় কিছু অথবা পড়ব আর পড়ব, মন্তব্য করে কাটাবো ছুটির একটা দিন অন্তত।

তারপরও ব্লগে ঢুকলেই মরু ও মধ্যে ঝড় ওঠে যখন তখন যে ভা জাগে পরিবেশে তেমন এক ভাব দেখতে থাকি বারবার।

আশা জাগতে থাকে , না রাশেদ আর এস্কিমো তো বেশ প্রগতিশীল আর প্রতিভাবান ব্লগার আর কর্তৃপক্ষতো সেটা নিশ্চয় জানে, তারউপর আরও অনেকের দাবী...ইগো আর রাগ অথবা অন্য কোন প্লান থাকতে পারে, ঠিক নিশ্চয় হয়ে যাবে শীঘ্রই। কিন্তু আজ কেন নয়?

তবুও আশা ...থাকেই।

কবিতা গল্পের খাতাটা টেবিলের উপর নিশ্চুপ শায়িত দেখে হাতে তুলে নেই। চারটে লাইন লেখা দেখে হঠাৎ মনে হলো একটু লম্বা করি...টানাটানি শুরু করে দিলাম। পড়ে নিজের মনে হলো ছড়াখানা নিরব কেন খাতায় পড়ে রইবে, সে হয়ে যাক আরও অনেকের...
ব্লগে মুহূর্তে সেই নির্দোষ ছড়া খানা পোষ্ট করেই দিলাম। ( পড়ুন--- Click This Link)

সাথে সাথে মানবীর মত একজন শক্তিশালী ব্লগারের মন্তব্য পেয়ে খুবই ভাল লাগল। এবং তার মন্তব্যর জবাবও লিখে ফেললাম সাথে সাথে।

তারপরই শুরু হলো ব্লগীয় প্রেতের প্রভাব। প্রথম পাতা থেকে উধাও হয়ে গেলো ছড়াখানা। ... যেন সেই ব্লাসফেমী আইনের মতো....৫৪ ধারায় তো যে কাউকেই বিনা নোটিশে যখন তখন আটক করতে পারে এ দেশের সরকার। ব্লগ তো সুন্দর আর বলিষ্ট কণ্ঠের লেখ্যরূপের আধার বলেই জানতাম। কোন কারন ছাড়াই কেন সেই ব্লাসফেমী আচরণ , ভেবে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়। জানতে চাই। প্রতিউত্তর মেলেনা। ..
বরং আমার জন্যে উপহার দেখতে পাই ---ছবিটির মত করে নোটিশ আকারে।

যেখানে আবার ব্যাখ্যাও নেই, নেই ব্যান করার কারন--যদিও
ব্লগের তথাকথিক নীতিমালায় আছে...
১খ. নিয়মভঙ্গ প্রসঙ্গে: এখন থেকে ব্লগের নিয়মভঙ্গের জন্য কোন ব্লগারকে ব্যান করা হলে তিনি তার নিজস্ব ব্লগ পাতায় একটি নোটিশ পাবেন, যেখানে নিয়মভঙ্গের সুনির্দিষ্ট ধারার উল্লেখ থাকবে। কোন ব্লগারের পোস্ট প্রথম পাতা থেকে সরিয়ে দেয়া হলেও ব্লগার একই ভাবে নিয়মভঙ্গের সুনির্দিষ্ট কারন সম্পর্কে অবগত হবেন।
নীতিমালা টি নিচের লিংকে গুতো দিলেই পড়া যাবে...
Click This Link

প্রথম পাতা থেকে সরানো আমার ছড়াটি কোন নীতির খড়গকৃপানে পরে প্রথমপাতা বর্জিত হলো বুঝে ওঠা কঠিনহয়ে যায় স্বল্প বৃদ্ধিও একজন এই আমার কাছে তারপরও বুঝে নেয়া যায় যখন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার কিছূ বিষয় একই রকম হয়ে ধরা দেয়। একজন কার্টুন আঁকা ছেলে আরিফ এক কার্টুন আঁকার অপরাধে এখনও শুনেছি জেলে পচঁছে। আরও শুনেছি সে নাকি কেবল ছবিটাই এঁকেছিল, ডায়ালোগ দিয়েছিল নাকি অন্য কেউ।

...ব্লগ কর্তৃপ ও একটা কাজ কিন্তু করেছে বেশ এই দেশীয় আইন জটিলতার মত, ঐ যে আপত্তিকর আর উস্কানীমূলক শব্দ ব্যান করার একটা ক্রায়টেরিয়া বলে দিয়ে। যেখানে কেউ বোধহয় স্পষ্ট করে বলতে পারবেনা, হট ইজ আপত্তিকর এন্ড হট ইজ নট।
ভেবে দেখুন একজন সেক্সুয়ালী পার্ভাটেড ব্যক্তির কাছে কোন নারীর বারান্দায় ঝুলানো কাঁচুলি দেখেও মনে উত্তেজনা বা উস্কানী বা আপক্তিকর আচরণ জেগে উঠতে পারে। তাই বলে বারান্দায় কাঁচুলি শুকাতে দেয়া টা নিশ্চয় কারও অপরাধ নয়।

সে যা হোক , সচারাচর এই পথচারী নিক টি দিয়ে আমি টেকনলিক্যাল, বা ভ্রমনমূলক বা শিক্ষমূলক কোন জ্ঞান , যা নিজে অর্জন বা শিখতে চেষ্টা করি তাই ব্লগে পোষ্টানোর চেষ্টা করি।

এই প্রথম ব্লগের এরকম একটা নিদারুন প্রহসন মূলক বিষয়ে অনেকখানি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়েই এই নিকিটিতে এই ধরেনের লেখা বাধ্য হয়ে লিখতে হচ্ছে, লিখতে হচ্ছে পথিক!!!!!! নিকটি কমেন্ট ব্যান করায়, লিখতে হচ্ছে আমার প্রিয় সহব্লগাদের অনন্ত একজন হলেও মনের কথাগুলো জানানোর জন্যে।

তবে মোটেও কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন বা সেই জনিত কোন উদ্দেশ্যতো নয়ই। অনেকেই , অনেক উন্নত মনন আর ভাষায় পারঙ্গম ব্লগার অনেক কিছুই লিখেছেন, লিখছে, কেউ ব্যান খাচ্ছে কেউ খাচ্ছেনা। সে বিষয়ে আর কিছু ভাববনা।

আমারা বাংগালী । আমরা জানি কিভাবে একজন ইউরোপিয়ানকে সাদরে আপন করে নিতে হয়। আমরা করেছিলামও তাই। আমাদের এত সুন্দর একটা ব্লগ উপহার দেয়ার জন্য তার কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আমাদের মোটামুটি সকলেরই আমি বিশ্বাস করি।
কিন্তু তাই বলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থার নানান মহাকাব্য আর সামরিক প্রভাব বিষয়ক ঘটনার ছায়া তাকে অন্য কিছু নিজেকে ভাবতে শেখাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে আমি চিন্তিত আর হবনা।
কিন্তু তাই বলে , আমি একজন ভিনদেশীর কাছে বারবার আর ভিক্ষুকের বেশ ধারন করতে ইচ্ছুক নই। কৃতজ্ঞ বলেই তার বারংবার পক্ষপাতমূলক এবং অর্বাচীন এবং অপ্রয়োজনীয়এবং বৈষম্যমূলক এবং বিভ্রন্তিমূলক আচরণ আমাদের কেন মেনে নিতে হবে?

ব্লগাঁর প্রায় শুরুথেকেই আছি, ভালবাসা তো জাগবেই। আজও বাসি। বাসব।

ব্লগই তো আমাদের একসাথে দাঁড় করিয়েছে প্রাপ্তি মণির কষ্টে
ব্লগইতো আমাদের হাত উঁচা করতে শিখিয়েছ রাহেলার বিচারের দাবীতে....
আর কত কত ইস্যুতে

তাই আশা অবশ্যই করব ব্লগ সব সমস্যামুক্ত হয়ে উঠবে, ভিনদেশি আমাদের সাথে সঠিক সত্য আর গঠনমূলক বাস্তবতার আঙ্গিকের মূল সুর অনুধাবন করে সঠিক পথে হাঁটবে আশা করি যাতে তাকে আর আমাদের ভিনদেশী বলে মনেই না হয়।
ব্যক্তিহত ইগো বা রাগে কেন কেউ ব্লগের উপর ইচ্ছামত ছুড়ি চালাবে বুঝিনা। ..
দেশ পরিপূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে গিয়ে দেখছি আমারা একটা সরকার অনেক নতুন নতুন সমস্যার মধ্যে পড়ে গেছেন, দুর্ভিও কথাটা সেই জন্যেই বারবার এখন মুখে মুখে উঠে আসছে কিনা ভাবছি।

সবাই কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানিয়ে এবং ব্লগের জন্য শুভ কামনা করে আপাতকালিন বিরতি নিচ্ছি। ...ব্লগটাকে ভালবাসি, তাই আছি, থাকব , ফিরে আসবই অফুরন্ত অবসরে এবং ব্যস্ততা মাঝেও। কিন্ত
মনটা তার জন্যএকটু জোড়া লাগাতে তো হবেই। মন যে ভেঙে দিয়েছে কেউ। ...

মন জোড়া লাগুক আমার
উঠুক পূর্ণিমার চাঁদ
ব্লগে ফিরে আসবই আমি
কে গড়িবে বাঁধ।


///মামুন ম. আজিজ( পথিক!!!!!!!)



]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28785211 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28785211 2008-04-04 15:18:21
সবুজ ঘাসে ভর পেটে স্বপ্ন দেখে পার্বতীর সবুজ ঘাসের বিছানা পরে এদিক সেদিক
পড়েই ছিল গোটা কয়েক দেবদাস
কেবলই স্বপ্ন ঘোরে পার্বতিরই খোঁজে
...................



( মাইন্ড খাইয়েন না ....বঃমহাঃ)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28775863 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28775863 2008-03-02 23:59:04
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (১০ ও শেষ র্পব) ------------------------

আবার সেই পথ, সেই অবারিত সৌন্দর্য , সবুজ পাহাড়ে রোদের ঝিলিক , আগুন জ্বলতে থাকা পাহাড়ের ধোয়া দেখতে দেখতে ফিরে যেতে লাগলাম আমরা । সেই খাদ ছোয়া ভীতির পথে এবার নিচের দিকে নামার পালা। রিস্কটা টাই আগের চেয়েও একটু বেশী। মাথা টাও ধরেছিল। পেটে ভীষন ক্ষুধা। রুমা পৌঁছে একটু বিশ্রাম নিলাম সবাই। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছিল পথেই। রুমাতে একটু বেশী ক্ষণ পেলাম। ভয় হচ্ছিল বেশী বৃষ্টি হলে আবার পথে কোন সমস্যা হয় কিনা। গুড়ি গুড়িই ;এর বেশী আর হলো না বলে রা। আর্মি ক্যাম্পে এখানে আবারও ইনফর্ম করে আসতে হলো।

রুমার স্থানীয় হাসপাতালের একজন এমপ্লয়ি অনুরোধ করলেন বিশেষ ভাবে তাকে একটু আমাদের গাড়ীতে লিফট দেয়ার জন্যে। তিনি একজন ব্যেম উপজাতীয় লোক। অনুরোধ ফেলতে পারলাম না। অবশ্য লাভ হয়েছে তাকে নিয়ে । পথে বেশ মজার একটা রূপকথা শোনা গেলো তার কাছ থেকে।

রুমা হতে ফেরার পথে নদী তীরে এসে এবার আমারা পায়ে হেঁটেই পার হলাম। হাঁটুরও নিচে পানি। ওপারে সেই দূর্ধর্ষ দশ লেখা বড় ক্যাম্পটাতে ইনফর্ম করে আমরা এগিয়ে চললাম বান্দরবানের দিকে। উপজাতি লোকটা আর মাষ্টার সাহেব গল্প জুড়ে দিয়েছিলেন, বগা লেক নিয়ে গবেষণা চলছিল দুজনার।

মাষ্টার বলছিলেন, একটা বিশাল বড় পাহাড় নিচে ডেবে গেছে আর তাই লেকের নিচে ওত বড় বড় পাথরের স্তর। উপজাতি লোকটা বলছিলেন আরোও মজার তথ্য। কবে নাকি একজন সুইডিশ বিজ্ঞানী এসে বলে গেছেন, আটলান্টিক মহাসাগেরর সাথে এর তলার সংযোগ আছে। আমি আর সুমন হাসছিলাম মিটিমিটি। আশফাক ভাই তাল দিচ্ছিলেন। যুক্তিও দিচ্ছিলেন লোকটি। তার ভাষ্য মতে লেকের পানি নাকি রঙ বদলায় মাঝে মাঝে, আটলান্টিক এর পানিও নাকি তাই। কখনও নাকি লালচেও হয়। কিন্তু আমার মনে হয় সব পর্যটকদের সেটা দেখার দুভাগ্য হয়না। তার মানে কি ...গুজব।

তবে সবচেয়ে মজার রূপকথাটা যখন তিনি শুরু করলেন, শুনতে বেশ লাগছিল। তিনি তাদের উপজাতিগত যে বিশ্বাস লালিত তাদের মাঝে সেই পৌরাণিক গল্পটি বললেন।
অনেক দিন আগে বগা লেকের স্থানটিতে সাতটি পরিবার বাস করতো। তখনও লেক সৃষ্টি হয়নি। হঠাৎ এক সময় প্রায় প্রত্যেকদিনই রাতে তাদের গরু ছাগল কে যেন খেয়ে ফেলতে লাগল। তারাতো চিন্তিত। অবশেষে পাহাড়া বসিয়ে অনেক খুঁজে তারা দেখল একটি সাপ এসে এই কাজ করছে প্রতি রাতে। সাপটি বাস করে একটি গর্তের মধ্যে। গর্তটি খুঁজে পাবার পর তারা সেখানে বঁরশি পাতল। বরশিতে গাথঁল সাপের মুখ। এরপর টেনে তোলার পালা। সাত দিন সাতরাত সবাই মিলে কেবল টানল আর টানল, তাও সাপের শেষ নেই। আর না পেরে তারা যতদূর টেনে তুলেছিল সেইখানে কোপ দিয়ে কেটে ফেলল। তারপর সেই তোলা অংশ কেটে সব পরিবার ভাগ করে নিল খাওয়ার জন্যে।
এখন যে জায়গাটিতে আর্মি ক্যাম্প। সেই পাহাড়টির উপরে বাস করত এক বিধাব মহিলা। বিধাব মহিলাটির ভাগে পড়ল সাপের মাথা। আশ্চর্য মহিলাটি যখন মাথা কাটতে গেলো, মাথা কথা বলে উঠল। বলল , আমার চোখ গুলো কেটোনা। বিধাব ভয়ে মাথাটি উঠিয়ে রাখল। রাতে আবার কথা বলল মাথাটি। চোখ জ্বলছিল তার। বলল, তোমাদের গ্রামে আজকে অতিথি এসেছে না। বিধাব মাথা নাড়ল। মাথা বলল, ওদের কে রাতের মধ্যে বিদায় হতো বল। না হলে সকালে সবার সাথে ওরাও মারা যাবে, আর তুমি এই পাহাড়ের উপর থাকবে , তোমার কিছু হবেনা।
পরদিন সকালে এই লেকের সৃষ্টি হয় আর পুরো গ্রাম তলিয়ে যায়। বিধাবাও একা একা বেঁচে কি লাভ ভেবে সেও ঝাঁপ দিয়ে পড়ে মরে যায়।
সেই থেকে এই লেকের সৃষ্টি। সাপের সেই বাকী অংশ নাকি লেকের মাঝে এখনও আছে। দেখেছে অনেকেই ।

গল্প শুনতে শুনতে পথ প্রায় শেষ হয়েই এল। মাথা ভীষন ধরেছিল। অবশেষে বিকেল ৪টার দিকে আমরা বান্দরবান পৌঁছালাম। নীলাচল যাবার ইচ্ছে থাকলেও আর শরীরে কুলাচ্ছিলনা। খাওয়া দাওয়া সেরে দ্রুত রওয়ানা হয়ে গেলাম কক্সবাজারের পথে আমাদের এই পাহাড়ী ভ্রমন শেষে তিক্ত এবং মধুর স্মৃতি মনে ধারন করে ।



শেষ


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709524 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709524 2007-05-07 20:47:16
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক ( ৯ম পর্ব) ---------------------------------------

রুমা বাজারের পর বেশ কিছুদূর এই উপজেলার রেষ দেখা গেলো। কারন অনেক সমতল আশেপাশে। একটা বেশ বড় জলাশয়ও দেখলাম। সমতলে এখানে জমিতে দেখলাম তামাক আর আদার চাষ হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে। এদিকে রাস্তারও কাজ চলছে। হয়তো ভবিষ্যতে কখনও এলে এদিকেও পীচ ঢালা রাস্তা খুঁজে পাব ।

সমতলটুকু পেরিয়ে গেলেই আবার রাস্তা উপরে উঠতে শুর করলো। কোথাও হঠাৎ করে একদম খাড়া ও উঠে গেছে রাস্তা। গাড়ী পেছনে পড়ে যায় যায় প্রায়। ডানে বয়ে যাচ্ছে সাঙ্গু নদী। এদিকটার প্রকৃতি আরও ভীষণ প্রাকৃতিক। মানুষ এর পদচারণা কম বলে বোধহয়। কোন কোন পাহাড় কেবলই বিশাল বিশাল গাছ আর গাছে ভরপুর। অসাধারণ সবুজ।
মাঝে সাঙ্গুর একটা সরু ধারার উপর দিয়ে দ্রুত চলে গেলে গাড়ী। তারপর আবার দ্রুত উঠে গেলো রাস্তা অনেক উপরে।

রাস্তা যেমন এবড়ো থেবড়ো তার বাঁক ও তেমন ভয়ংকর আর একটু পর পরেই। যেন কেবলই প্যাচিয়ে প্যাচিয়ে উঠছি উপরে আর উপরে। উঠছিই কেবল। এখন আর নামার কোন নাম নেই। সবচেয়ে ভয়ংকর স্থান টিতে উঠে গেলাম একসময়। হাতের ডানে নিচে তাকালেই আত্মার পানি শুকিয়ে যায়। নিচে ছোট বড় পাহাড় গুলোকে অনেক নিচেই মনে হচ্ছিল। এবং আসলেই তাই। কিছু পাহাড় জ্বলছিল নিচে। ধোয়া উপরে উঠেও যেন ছুঁতে পারছিলনা আমাদের। বামে পাহাড় আর ডানে খাদ। হাজার ফুটের বেশী। সরু পথ। হঠাৎ বাঁক নিলেই মনে হয় দেহ নেমে ডাচ্ছে খাদে। চরম থ্রিলিং এক পথ। তারপরও চারপাশে মনকাড়া সব দৃশ্য।

এই উর্ধ্ব পথটুকু পেরোলেই পথ আবার কিছুটা নিচে নেমে এল। এর পরের দৃশ্য আরও অসাধারণ। বর্ননা করা সম্ভব নয়। সে কেবলই দেখার জন্যে। মাঝে মাঝে রাস্তার কোল ঘেঁষে অনেক উঁচুতে উঠে গেছে পাহাড়। পাথরের ভাঁজ। এরই মাঝে প্রায় স্থানেই সোনালী আর সবুজের এক অভাবনীয় মুগ্ধ সমাবেশ। দেখার মতো। আসলে বাঁশ গাছ শুকিয়ে ঝকঝকে সোনালী রং ধারণ করেছে। আর মাঝে মাঝে আবার কচি সবুজ গাছও এরই সাথে একসাথে জেগে আছে। অসাধারণ এক অভিব্যক্তি জেগে ওঠে চোখে সে দৃশ্য দেখে ।

এইরকম নিবিড় নিরিবিলি আর সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে হঠাৎ দূরে স্পষ্ট হলো একটা উুঁ পাহাড় । ঐ তো ওটার উপরেই উঠতে হবে। ও পাহাড়ের উপরেই সেই কাঙ্খিত বগা লেক।

আরও কিছুক্ষণ ধূলো ওড়ানো পথে এগিয়ে ঐ পাহাড়ের গোড়ায় এসে থামলো আমাদের গাড়ী। সামনে আর গাড়ী যাবার পথ নেই। একটা পথ অবশ্য কিছু আগে কেটে চলে গেছে সামনে তবে সেটা জুয়েল ব্যোমের ব্যক্তিগত পথে উঠে গেছে বগা লেকে। ও পথে অনেক রিস্ক।
তার চেয়ে হেঁটে উঠাই ভালো। নেমে দেখলাম ঘড়িতে তখনও ১০টা বাজেনি। এই তো আরেকটু। এই পাহাড়টার উপরে হেঁটে উঠতে হবে। বেশী উঁচু নয় এখান থেকে। ২০০ ফুট বড়ো জোর। অনেক উঁচুতে তো এমনেতইে চলে এসেছি। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে বগা লেকের পাহাড়ের উচ্চতা ৩৫০০ ফুটের কম না।

ড্রাউভারের আর তার সাথের লোকটি( রুমা থেকে উঠেছিল ড্রাউভারের সাথে) পাশের বাঁশ বন থেকে আমাদের সবাইকে সরু বাঁশ কেটে হাতে ধরিয়ে দিল। আসলে সামনের ঢাল পথে উপরে উঠার জন্যে এর খুবই প্রয়োজন।
হাঁটা শুরু হলো। একে তো দীর্ঘ যার্নির কান্তি তার উপর সিগারেটের প্রভাবটাও বোঝা গেল একটু পর পর থামতে বাধ্য হয়ে। পথটা সুর একটু সাবধানেই হাঁটতে হলো এবং ভালোমতোই সকলে উপরে পৌঁছালাম।

উপরে উঠে সামনে তাকাতেই অবাক। অসাধারণ মুগ্ধতা মুহূর্তে পেয়ে গেলো মন। চারদিকে পাহাড় আর পাহাড় আর মাঝে সেই বগা লেক। সেই স্বচ্ছ পানির আবদ্ধ জলাশয়। মুহূর্তে সবাই ভুলে গেলাম যেন সব কষ্ট কান্তি।

বামে আর্মি ক্যাম্পে যেতে হলো পানির কাছে যাবার আগেই। ওখানে আবার সবার নাম ধাম, কতণ থাকব সব বিস্তারিত জানাতেই কেটে গেলো ১৫ মিনিট। সেই সুযোগে অবশ্য একটা হালকা বিশ্রাম ও হয়ে গেলো। আর্মিরা বেশ গল্প করল। জানলাম তাদের কষ্টের কিছু কথা। এখানে পাহাড়ের উপর একটা হেলি প্যাড আছে। মাসে একবার রেশন দিয়ে যায় হেলিকপ্টার তাদের। আর অন্য কিছু প্রয়োজন হলে তাদের যেতে হয় পায়ে হেঁটে রুমা বাজারে। অবশ্য পায়ে হাঁটা পথ পাহাড়ী পথের মতো ঘুর নয় , কিছূটা কমই হবে সোজাসুজি গেলে। পাহাড়ে পাহাড়ে ক্যাম্পগুলোতেও তাদেও প্রায়ই যেতে আসতে হয় হেঁটে হেঁটেই। দেখলাম অ্যান্টিনা লাগিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক খোঁজার প্রানন্ত চেষ্টা। সিটিসেল নাকি পাওয়ায় যায় বললো। আশ্চর্য ! খাবার পানি বলতে লেকই সম্বল। নিচ থেকে মটর দিয়ে পানি উঠানোর ব্যবস্থা করেছে তারা।

আর্মি দের কাছ থেকে ইনফরমেশন পেলাম কেওকারাডাং যাবার পথে। এখান থেকে দেখা যায় না পাহাড়টা; লেকের ওপাশের একটা উঁচু পাহাড়ে দৃষ্টির বাধ । দেখতে হলে আরও ঘন্টাখানেক হাঁটতে হবে। আর উঠতে হলে মোট ঘন্টা দুয়েক। কাছাকাছি নাকি গাড়ীও নিয়ে যাবা যায় রিস্ক নিয়ে। অবশ্য যেতে হলে ট্রাকিং করেই যাওয়া বেটার। রুমা হতে হেঁটে বগা লেক আসতে পারলে আরও ভালো হতো। রাস্তার ধকল সইতে হতো না। তার জন্যে অবশ্য ট্রাকিংয়ের অভ্যাস থাকতে হবে। আধঘন্টা হেঁটেই যে কান্তি । পা চলতেই যাচ্ছিলনা। আর অত পথ! তারউপর আর্মি ক্যাম্প থেকে নির্দেশ দিল ২টার মধ্যে না গেলে আজকে আর ফিরতে দেবে না তারা।

ভুল হয়ে গেছে । এত কাছে এসে কেওকারাডং যাবোনা, তাই কি হয়। কিন্তু তাই হবে। সময় নাই। আর পূর্ব পরিকল্পনাও তো নাই। গাড়ীতে মাত্র চার লিটার পানি আছে অবশিষ্ট। তাও নিচে রেখে এসেছি আর উপরে উঠেছি নিয়ে দুই লিটার। লেকের পূর্ব পাড়ে দেখলাম ছোট একটা উপজাতি গ্রাম। ওখানে থাকার ব্যবস্থা আছে। নতুন কটেজ বানাতে দেখলাম। ভাড়া খুবই সস্তা । মাত্র ৩০ টাকা এক রাত। খাবার খরচও ওমনই। লেকে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। সে মাছই ধরে খাওয়াবে ওরা।

আর্মিরা গোসল করতে নেমেছিল কয়েকজন , আমরাও চারজন নেমে গেলাম। করিম, জীবন আর রহিম নামলোনা। শীতকালে শুনলাম প্রচুর পর্যটক আছে । দলে দলে আসে। এখন অবশ্য আমরাই একমাত্র আগন্তুক। ঠিক আমরাই, নয় রহিম ভাইয়ের পরিচিত বান্দরবানের এক স্কুল মাষ্টারকে পাওয়া গেলো , তিনি অন্য কোন গাড়ীতে এসেছেন। কাঠের গাড়ী তে মনে হয়। যাবার সময় অবশ্য আমাদের সাথেই ফিরেছেন বান্দরাবান।

পানিতে নেমে দেখলাম আসলেই অনেক স্বচ্ছ এই আবদ্ধ জলাশয়ের পানি। নিচে পুরোটাই পাথরের মেঝে । এবং খুবই দ্রুত নেমে গেছে অনেক গভীরে। শুনেছি মাঝে নাকি অতল গভীর। ৪০০/৫০০ ফুট দড়ি ফেলেও তল পাওয়া যায়নি। তারপরও অর্ধসাতাঁরু আমরা সাঁতার কাটার দুসাহস করেই ফেললাম। লেকে অনেক সুন্দর শাপলা ফুটেছে , নজর কাড়ল।

একদল আর্মিকে দেখলাম রুমা বাজার থেকে এসেছে। সেই সকালে রওয়ানা হয়েছে তারা। তাদের সাথে একটা উপজাতি তরুন। তার বাড়ী কেওকারাডং। এতদূর হেঁটেছে আবার হাঁটবে।

গোসল সেরে গ্রামটিতে ঢুকে আমরা এক বাড়ী থেকে কলা কিনলাম। পাহাড়ী কলা। বেশ মিষ্টি । একটা পিচ্চি কে জিজ্ঞাস করলাম- তোমার নাম কি?, বুঝলোনা। বললাম, বাংলা বোঝোনা, এইবার সে বলল মানে বুঝালো , না বোঝেনা।
খুব ইচ্ছে হচ্ছিল এইখানে এই বগার পাড়ে রাত্রে থেকে যাই, মিশে যাই পাহাড়ের মাঝে রাতের গহনে। উপায় নেই। ফিরতেই হবে রাতের মধ্যে কক্সবাজার।

মন ভরে না , তবুও যেতে হবে। ১২ টার মধ্যেই আমরা রওয়ানা দিয়ে দিলাম । আসার সময় আবার ইনফর্ম করে আসতে হলো ক্যাম্পে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709519 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709519 2007-05-07 20:13:56
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক ( ৮ম পর্ব) -----------------------
শুনে এসেছি রুমা বাজারের আগে গাড়ীতেই পার হতে হবে সাঙ্গু নদী। আগে কখনও নদীর উপর দিয়ে গাড়ী চলেছে আর আমি বসে আছি এমন হয়নি। বেশ থ্রিলে ছিলাম। কিন্তু নদী আর সামনে আসেনা।
নদীর প্রায় ১ কিমি আগে আমাদের থামতে হলো দূর্ধর্ষ দশ ( ই বি আর ১০) নামের আর্মি ক্যাম্পে। এটি বিশাল একটা মাল ভুমি টাইপ পাহাড়ে অবস্থিত। ১২ মাইলের ঐ মোড়ে আগেই আর্মি ক্যাম্পে ইনফর্ম করে আসতে হয়েছিল। ওরা বলে দিয়েছিল এই ক্যাম্পে এসে নাম ধাম লিখতে হবে। সবাই যার যার নাম ঠিকানা বলে দিলাম। ওরা লিখল। তারপর ক্লিয়ারেন্সের জন্যে ফোন করল রুমায়। ক্লিয়ারেন্স আসতে আসতে আমাদের সাথে আর্মির ঐ সময় দায়িত্ব প্রাপ্ত তিনজন সুখ দুখের গল্প জুড়ে দিল। আমরা ওদেও কষ্টের কথা শুনছিলাম। ওরা শুনছিল আমাদের ভ্রমনের উদ্দেশ্য।
এর মধ্যে আমরা সকালের নাস্তা সেরে নিলাম। নাস্তা মানে বিস্কুট আর পানি কেবল। প্রায় ১৫ বিশ মিনিট অপেক্ষা করতে হলো।
রুমা ক্যাম্প থেকে ক্লিয়ারেন্স এল অবশেষে । আমাদের যাত্রা আবার শুরু হলো। ক্যাম্প থেকে এক সৈনিক কে গাড়ীতে উঠিয়ে নামিয়ে দিলাম নদীর তীরে।

এই ক্যাম্প পর্যন্তই পাকা রাস্তা এর পর রাস্তায় আর কোন পীচ নেই। গাড়ীর ভেতর বসে এত বেশী হেলতে দুলতে হচ্ছিল মনে হচ্ছিল গেলো গেলো হাড় গোড়।

নদীর দেখা মিলল। ব্রীজ হচ্ছে দেখলাম। কেবল পিলার তৈরী হয়েছে। কাজ বন্ধ আপাতত। রাস্তা থেকে নদীর তীওে নামার পথটা ৬০ ডিগ্রির কম খাড়া হবেনা। ইটাও বিছানো নেই। পুরা কাঁচা। সেই ভয়ংকর ঢাল পেরিয়ে আমার নদীর বুকে এসে থামলাম। বেশী চওড়া না। দেখলাম মানুষ জন হেঁটেই পার হচ্ছে। যাবার সময় গাড়ীতে থাকলেও ফিরে আসার সময় আমরাও হেঁটে পার হয়েছিলাম। হাঁটু সমান পানি। এখান থেকে নৌকাতেও বান্দরবান যাবার ব্যবস্থা আছে জানলাম। কাঠ নেয়া হয় মূলত এই পথেই। তবে বর্ষাকালে পানি বাড়লেই সুবিধা হয়।

নদীর ওপার থেকেই রুমা উপজেলা যে শুর হলো তা এলাকার চেহারা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। এই দুর্গম পাহাড় মাঝে হঠাৎ যেন জীবনের প্রাণবন্ত সামবেশ। পাকা ঘরবাড়ী দেখা যাচ্ছিল। দেখরাম স্কুল কলেজও আছে এখানে। একটু বেশী সমতল জায়গা থাকায় অনেক রকম চাষবাসও হচ্ছে । এবং সবচেয়ে আশ্চর্য হলাম রুমা বাজারে উপস্থিত হয়ে সেখানে মফস্বল শহুরে ভাব প্রবল। বিদ্যুৎ ও আছে।

পেছনের পাহাড়ী পথে এই ব্যাপারটা আমাদের অবাক করেছিল। পাহাড় এর উপর দিয়ে এ পাহাড় হতে ও পাহাড়ে বৈদ্যতিক খুটি বসিয়ে বসিয়ে বিদ্যুৎ নেয়া হয়েছে। মানুষ কি না পারে।
রুমা বাজারে বেশীর ভাগ অধিবাসীই ব্যোম আর মারমা হলেও কিছু বাংগালীও চোখে পড়ল। ওখানে শহরের মধ্যবর্তী একটা উঁচু পাহাড়ে উঠতে হলো আমাদের । কারণ ওটা আর্মি ক্যাম্প। সেখানে আবার সবার নাম ধাম বৃত্তান্ত লিখতে হলো। জানলাম এখান থেকে নির্দিষ্ট ভাড়া দিয়ে গাইড নিয়ে সামনের দুর্গম পথে যেতে হয়। আমাদের সাথে রহিম ভাই ( বান্দরবানের স্থানীয়) থাকায় আর ড্রাইভার বলল সে বগা লেক গেছে আগে তাই গাইড নেয়ার ব্যাপারটা এড়ানো গেলো।

আর্মি পারসন যখন সবার নাম লিখছিল তখন যেই জীবন ভাই বললেন তার নাম জীবন দাস ওমনি জোরে বলে উঠল আর্মি পারসন , আপনি হিন্দু। হিন্দু তো অবাক হবার কি আছে বুঝলাম না। তবে জীবন ভাই মাইন্ড করলেন প্রচুর।

এখানে প্রায় ৩০ মিনিট সময় কেটে গেলো। আসলে এই সব সময় বাদ দিলে বগা লেকে যেতে ২:৩০ বেশীর লাগার কথা নয়। বান্দরবান থেকে রুমার দূরত্ব ৪০ কিমি। আর বগা লেকের ৬৯ কিমি। আর এই শেষ ২৯ কিমিই হলো আসল ভয়ংকর পথ।

পেটে ইদুর চোঁ চোঁ করছিল। কিন্তু খাবার মতো তেমন কিছু চোখে পড়ল না বা খেতে কেনো যেন ইচ্ছে করলোনা রুমা বাজারে।

হালকা বিস্কুট পানি খেয়ে আবার আমরা রওয়ানা দিলাম। রুমা বাজারে মিনারেল ওয়াটার পাওয়া যায়। তবে এর পরে আর প্রকৃত অর্থে কোন পানির সংস্থানই নেই লেক আর নদী ছাড়া।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709334 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709334 2007-05-06 11:20:10
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (৭ম পর্ব) ------------------------

৫টা বললেই কি আর ৫টা হয়। রওয়ানা দিলাম যখন তখন ঠিক সকাল পৌণে ছয়টা বাজে। এর মধ্যে আবার রহিম ভাইকে জোর করে রাজী করাতে হলো। আর করিম ভাইকে তো এক রকম হাত ধরে টেনেই উঠানো হলো। ভয়েই যাবেন না।

সকালের স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে লাগাতে লাগাতে সেই খালি পেটে আমরা রওয়ানা দিলাম। সারা রাত গাছপালা গুলো যে অক্সিজেন জমা করেছিল তা সব এখন বিলাতে লাগলো আমাদের। দূরে দূরে পাহাড়গুলোতে সবে সূর্য তেজদীপ্ত পরশ বুলাতে শুরু করেছে। সবুজ আর মেঠো রঙে সতেজ অনুভুতির হিল্লোল বইছে যেন। মেঘগুলো উড়ছে যেন আমাদের সাথে সাথে বন্ধুর পথে বন্ধু হয়ে।

পাহাড়ী অধিবাসী রা সাত সাকলে পানি আর খাবারের সন্ধানে পথে নেমেছে বিচ্ছিন্ন বিচ্ছিন্ন ভাবে। কোথাও দেখলাম হাঁটছে আবার দল বদ্ধ ভাবেও। জুম চাষের জন্যে রওয়ানা হয়েছে। তাদের হাঁটার মধ্যে কোন কান্তি ই নেই। কেউ হাঁটছে পিঠে ঝুড়ি নিয়েও। ঝুড়িতে লাকড়ি। কোন নারীর পিঠে দেখলাম বাচ্চাও বাঁধা। ওরা পারেও। তবে লক্ষণীয় সবার হাতে ই আগা সমান দাও।

রুমা বাজারের আগ পর্যন্ত অনেক উপজাতিকে মাঝে মাঝে দেখেছি। রুমা বাজারের পরে তেমন একটা চোখে পড়েনি। ওদিকটা আসলেই ভীষণ দুর্গম।

গতকালের চেনা পথ শেষ হলো সেই ১২ মাইলনামক স্থানে। ওখান থেকে আজ আমরা বামে চলে গেলাম। যতই সামনে যাই এলাকা হতে থাকে আরও গহীন। এক পাহাড় পেরিয়ে যখন অন্য পাহাড়ে যাই পেছনের পাহাড়ের পথ দেখে তখন মনে জাগে শংকা। ওমা! ঐ সরু পথ দিয়ে এঁকে বেঁকে এসেছে আমাদের গাড়ী। আবার সামনে দেখি অন্য পাহাড়ের পথ।
মাঝে মাঝে পাহাড়ের মোড় গুলো ভীষন ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হচ্ছিল। পশ্চিম দিকে তাকালে চিম্বুক পাহাড়ের উপর টাওয়ার টা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। রুমার আগ পর্যন্ত প্রায় চিম্বুক পাহাড় দেখা যায় কখনও ডানে কখনও পেছনে, কখনও বায়ে। এই যে এক দিক পরিবর্তন , এরই নাম বোধহয় পাহাড়ী ঘূর্ণন। ঘূরিয়ে প্যাচিয়ে এ পাহাড় থেকে ও পাহাড় পেরিয়ে পথ চলে গেছে তো গেছেই।

পাহাড়ে পাহাড়ে আগুন লাগানো শুর হয়ে গেছে সকালেই। অনেক ছোট ছোট পাহাড় জ্বলতে দেখলাম। দুপাহাড়ের মাঝে সমতলে দেখলাম অনেক জায়গায় তামাকের চাষ করেছে কেউ। অবশ্য রুমার কাছাকাছিই । আগে কোন সমতল চিন্তাই করা যাবেনা।

কলা আর আনারসে ভরে আছে জুম চাষ করা পাহাড়গুলো। ভাবতে অবাকই লাগে এই ঢাল বেয়ে নেমে নেমে কিভাবে চাষ করে!

কিছু কিছূ পাহাড়ে দেখলাম কেবল বিশাল বিশাল সেগুন গাছ আর গাছ। এইসব গাছের কাঠই সব চলে যায় আমাদের সভ্য শহর গুলোতে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709286 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709286 2007-05-05 22:14:27
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক ( ৬ষ্ঠ পর্ব) ----------------------

সন্ধ্যায় বান্দরবান শহর ঘুরতে বের হয়ে খুঁজলাম খাবার স্পেশাল কিছু পাওয়া যায় কিনা। না তেমন কিছু নাই। তবে বাজার টাজার গুলো বেশ জাকজমক । চিম্বুক নামে একটা মিষ্টির দোকার থেকে মিষ্টি খেলাম পেট পুরে। ভালোই।

রহিম ভাই আরোও একজন কে সাথে করে চলে গেলেন বগা লেকে যাবার জন্যে চাঁদের গাড়ী খুঁজতে। ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে যাবোই বগায় । যত বাধাই আসুক আর সময় যতই লাগুক। এতণে নানা জনের কাছে শুনে ৪ ঘন্টা লাগবে যেতে এই ধারনা টা বদ্ধ হয়েছিল। অবশ্য রাতে শেষ পর্যন্ত সঠিক ইনফরমেশন পেয়েছিলাম এক দোকানে পানির বোতল কেনার সময় । ছেলেটার বাড়ী রুমাতে। খুব বেশী হলে ৩ থেকে সাড়ে তিনঘন্টা লাগবে সে জানাল যেতে। রুমার পরে খাবার পানির ভীষন অভাব । আমার তাই মোট ১২ লিটার পানি নিয়েছিলাম। এবং সত্যি আসার সময় একটুও পানি ছিলনা। সব গিয়েছিল পেটে।

গাড়ী ঠিক করতে যাবার মধ্যে আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বোরিং হচ্ছিলাম। তাই রিকশা করে শহর টা সবাই চক্কর মেরে নিলাম। দেখে নিলাম পুরাতন আর নতুন রাজবাড়ী। উপজাতি রাজার বিশাল বাড়ী।
একটা ব্যাপার খুব অবাক করল , যতজন রিকশা ওয়ালার সাথে কথা বললাম তাদের সবার বাড়ীই উত্তর বঙ্গে। তারা ঘুরতে আসে এখানে বছরে কয়েকবার আর সুযোগে কিছু ইনকাম করে নেয় রিকশা চালিয়ে। অনেকে অবশ্য পারমানেন্টলি থেকে গেছে। একজন জানাল, সে ১২ দিন হয়েছে এসেছে। বউ কে এনেছে সাথে। ঘুরেছে অনেক। ইতোমধ্যে ১৭০০ টাকা আয়ও করে ফেলেছে। কয়দিন পরে ফিরে যাবে। আবার আসবে মাস দুয়েক পরে। দারুন ব্যবস্থা।

ঘুরে ঘুরে শহরের গুপ্ত জায়গা গুলোও চেনা হয়ে গেলে। কে যেন বলছিল তরল বা সিদ্ধির ব্যবস্থার জন্যে। অবশ্য সকালে বগার ভয়ংকর জার্নির কথা মনে করে আর সে ব্যবস্থা হলোনা। ভালোই হয়েছে তাতে।

রহিম ভাই থাকার সবচেয়ে বড় সুবিধাটা এখন পাওয়া গেলো। গাড়ী ঠিক করা আসলেই বেশ ঝামেলা। ওনার পরিচিত বলেই দেখেশুনে বুঝে পছন্দসই একটা গাড়ী আমরা ভাড়া করলাম সাথে ড্রাইভারও । ৫০০০ টাকা ভাড়া ঠিক হলো। সাথে অবশ্য সে বলে দিলো বগা লেকের পাহাড়ে উঠতে গেলে জুয়েল বোম এর কর্মচারীরা আরও ৫০০ টাকা নেবে। লেকের শেষ অনেকখানি পথে আর সরকারী পথের ব্যবস্থা নেই। সেখানে হয় হেঁটে উঠতে হবে। না হলে জুয়েল ব্যোম নামক এক জন এর ব্যাক্তিগত পথে গাড়ী হাই রিক্স নিয়ে উপরে উঠাতে হবে। সেখানে তার নিজস্ব কাঠের ব্যবসা। আমরা অবশ্য হেঁটেই উঠেছিলাম ঐ পথ। কারণ সেটাই ভালো মনে হয়েছিল।

ভাগ্য ভালো ছিল বান্দরবানে সন্ধ্যা সাতটায় বন্ধ হওয়ার ব্যবস্থা ছিলনা। গাড়ী ঠিক করতেই আমাদের রাত ১১:৩০ টা বেজে যায়। দোকান দুএকটা খোলা পেয়ে সকালের জন্যে এবং এই লম্বা যাত্রা পথের জন্যে শুকনো খাবার দাবার কিনে নিলাম। আর সাথে অবশ্যই ১২ লিটার পানি। রহিম ভাই তার ডিলারশিপ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হতে দিয়ে দিলেন জোর করে কয়েকলিটার সফট ড্রিংকস।

তাড়াড়াড়ি শুয়ে পড়ব ভাবলেও অভ্যাস, ঘূমাতে ঘুমাতে সেই ১:৩০/২ বাজলোই। সকালে উঠে ৫টার মধ্যে রওয়ানা দেবোই বলে সবার মোবাইলে সেরূপে দেয়া হলো এলার্ম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709285 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709285 2007-05-05 22:11:00
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (৫ম পর্ব) ----------------------------------------------------


বেইলী ব্রীজটার উপর গাড়ী আসতেই নিচে চোখ যায় শৈলপ্রপাতে। উপর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল পানি তেমন একটা নেই। প্রবাহটা বেশ অপ্রসস্থ এখন। তবে বর্ষাকালে প্রবাহ অনেক বেড়ে যায়। এর মধ্যে যে জায়গাটুকু একটু গভীর এবং পানি বেশী সেখানে উপজাতি মেয়েরা স্নানে নেমেছে উপর থেকেই দেখলাম।
ফর্সা আর ছোট ছোট চোখের সুদর্শন মেয়েগুলোর স্নান দৃশ্য হতে চোখ এড়াতে চাইলেও পর্যটকদের আড়চোখের দৃষ্টি যে মাঝে মাঝেই চলে যাচ্ছিল সে দিকে পর্যটক হিসেবে সেটা আমরাও অনুভব করলাম।

নিচে নামার জন্যে পর্যটন থেকে সুন্দর রেলিয়ের সিড়ি করে দেয়া হয়েছে। সিড়িতে নামার আগে পথের উপর উপজাতি মেয়ে আর শিশুরা পণ্যের পসার সাজিয়ে বসেছে। সেখানে দেখলাম বিক্রি হচ্ছে তাদের হাতে তৈরী নানান পোষাক , চাদর ঝুড়ি টুরি।

শৈলপ্রপাতের পেছনে পাহাড়ের প্রায় উপরে পড়েই যাচ্ছে সূর্যটা। আর ধরে রাখা যাবেনা তাকে বেশিক্ষণ বোঝা যাচ্ছিল।

সিড়ির পাশে একটা আম গাছ থেকে টুপ করে করিম ভাইয়ের সামনে আম পড়লো। করিম ভাই হাতে নিতেই একটা দ্বাদশী ব্যোম মেয়ে এসে বলল ওটা তার আম। সে পেড়েছ। করিম ভাই বলল , তুমি বাংলা জান। উত্তর এসেছিল দারুন, ‘কেনো জানবনা, আমরা এদেশের মানুষ না।’
শুনে ভাল লাগল কোন এক অজানা কারনে। উপজাতিদের বেশীর ভাগই যেখানে দেখি বৌদ্ধ সেখানে এই ব্যোম উপজাতির বেশীর ভাগই দেখলাম এখানে খ্রীষ্টান। একটু অবাক হলাম।

সিড়ি বেয়ে নিচে নামতেই মন জুড়ায়ে গেল। পাথড়ের ভাজগুলো যে এত সুন্দর চোখে না দেখলে বোঝানো যাবেনা। সেই ভাঁজ এর মাঝে শৈল প্রবাহ। সরু কিন্তু চটুল। এত সুরু প্রবাহে কি করে গোসল করব আমরা ভেবেই পেলাম না। আর যেখানটাতে একটু বেশী পানি জমে গভীরতা হয়েছে সেখানে চোখই মেলতে সবাই আড়ে আড়ে , গোসল করতে নামব কি করে। গোসলের চিন্তা সবাই বাদ দিলাম। চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

পূর্ব দিকটাতে মানে যে দিকটা হতে পানির প্রবাহ আসছে সেদিকে কিছুদূর এগোলাম। ঘন আধার সামনে। পাহাড়ের ভিতর চলে গেছে পাথড়ের দেয়াল। সেই ভেতর থেকে পানি আসছে। গা ছমছম করতে থাকায় বেশীদূর এগোনো গেলোনা। আশ্চর্য কোথায় কোন গহীন হতে পানি আসছে তো আসছেই, কোন বিরতি নেই।
ফেরার জন্যে উল্টো দিকে ঘুরে সামনে এগাতেই একটা তরুনীর বস্ত্র উন্মোচনের দৃশ্যে চোখ চলে গেলো। এই চোখ বড় সমস্যাজনক। না বেশীক্ষণ নিচে থাকলে আরও অনেক অনাহুত দৃশ্যে চোখ চলে যাবে অজান্তে , উপরে উঠেই এলাম সবাই।

উপজাতিদের দোকানে চায়ে চুমুক দিয়েই মনে পড়ল, পানি তো এই প্রপাতেরই। কিন্তু কি আর করার খেয়েই নিলাম। অসম্ভব মিষ্টি।
একটা ছোট মেয়ে আম পাড়ছিল। চাইতেই দিয়ে দিল। দাম নিলনা। যাক মুখের সেই অসম্ভব মিষ্টি ভাবটা কেটে গেলো।

এই শৈলপ্রপাত টা বান্দবান শহর হেত মাত্র ৮ কি মি দূরে। পাহাড়ে উঠতে অনেক রিক্স থাকলেও এখানে আসতে তেমন একটা রিক্স নেই। বান্দরবান শহরে এলে তাই অন্তত এই প্রপাত দর্শন মিস করা উচিৎ নয়।

সন্ধ্যা হয়ে আসছিল। তাড়াতাড়ি না গেলে নীলাচল যাওয়া যাবেনা। কিন্তু বান্দরবান শহরে ঢুকে প্লান চ্যাঞ্জ হলো। ভাগ্যিস হয়েছিল না হলে বালাখালি আর যাওয়াই হতোনা।
বালাখালী শহরের অন্য প্রান্তে। ওদিক দিয়েই রাঙামাটির পথ। আমরা যাচ্ছিলাম বালাখালি বৌদ্ধ মন্দির দেখতে। পথে দেখলাম বান্দরবানের আর্মি আর পুলিশ ক্যাম্প। পাহাড়ের মাঝে সমতলে বেশ সুন্দর । পথের এপাশে আর অপাশে।

মন্দির টা একটা উচুঁ পাহাড়ের উপর। অনেক গুলো সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হলো। পা সারাদিনের ধকলে যেন আর পারছিলনা উপরে উঠতে। কিন্তু উপরে উঠে মন্দিরের রূপ দর্শনে ভরে গেলো মন। মূল মন্দিরের উপরে উঠলাম কতৃপক্ষের অনুমতি আর অর্থ প্রদান পূর্বক ( ঠিক টিকিট টাইপ নয়)। অবশ্য সাথে আশফাক ভাই উঠতে পারলেন না। ওনার হাফপ্যান্টটা একদম হাঁটুর নিচে থাকায় ওনাকে না ওঠার অনুরোধ করলো বৌদ্ধ ভিুক মহাদয়। কি আর করার কষ্ট কওে নিচেই নেমে গেলেন।

আমরা উপরে উঠলাম যে কজন তারা তো ভীষণ মুগ্ধহলাম। চীন জাপানের ছবিতে দেখেছি এমন অপরূপ বৌদ্ধ মন্দির। বাংলাদেশে দেখলাম এই প্রথম। চারদিকে গোল করে বাউন্ডারী দিয়ে নিপুণ কারুকার্জে পুরো মন্দির তৈরী। ভেতরে ঢোকার অনুমতি না থাকলেও দরজা দিয়ে দেখলাম নিপুণ কারুকার্জ আর বৌদ্ধ মুর্তি। অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা নিষেধ থাকলেও চুরি করে কিছু ছবি তোলার ইচ্ছে দমন করা গেলোনা।
অবশ্য আমারা নামার পর জীবন আর নাসিম দেখলাম অনুমতি নিয়েই ধুমছে ছবি তুলছে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709203 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709203 2007-05-05 10:37:14
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (৪র্থ পর্ব) --------------------------------

বান্দরবান শহর হতে প্রায় ২৪/২৫ কিমি দূরে অবস্থিত চিম্বুক পাহাড়টি বেশ দীর্ঘ এবং প্রশস্থ। আশেপাশের সকল পাহাড় থেকে এর মাথা একটু বেশী উপড়েই। সাগর পৃষ্ঠ থেকে ৩০০০/৩৫০০ ফুট উচ্চতায় চিম্বুকের চূড়ায় উঠে দেখলাম জায়গাটা বেশ সমতল।

সমতলে ওঠার মুখেই জেলা পরিষদের সুরম্য ডাকবাংলো , দুতলা বিল্ডিং। ১০ গজ দূরে রোডস এর ছোট বাংলো কুটির। এর পরেই টি এন্ড টির সীমানা। ওখানেই টাওয়ারটা বসানো। এই টাওয়ারের রেডিও লিংক ব্যবাহার করেই পুরো বান্দরবানের পাহাড়ের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আর্মি ক্যাম্পগুলো আন্ত যোগাযোগ রক্ষা করে।

পাহাড়ের চূড়ায় এখন আমরা সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক পেলাম মোবাইল গুলোতে। এই প্রথম আমিও ঢাকায় এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর কাছে ফোন দিলাম। জানালাম এই চিম্বুক এর উপরে অনাবিল হিমেল হাওয়ার পরশের সুখের বারতা। হু হু করে বাতাস বইছিল দক্ষিণ আর পশ্চিম দিক হতে । ক্লান্ত প্রাণ পূর্ণ প্রশান্তিতে জুড়াচ্ছিল।

টাওয়ারের সুইচ রুমে দ্বায়িত্ব পালনরত রেডিও ওপারেটর জয়নাল সাহেব কে আমার পরিচয় দিতেই সে ছুটে এল। জানাল এখানের অনেক তথ্য। এতক্ষণ পশ্চিমে তাকালেও খেয়াল করিনি। জয়নাল সাহেবই দেখিয়ে দিল পশ্চিমের দিকে পাহাড় আর টিলার শেষে হাইওয়ে পেরিয়ে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে আমাদের বঙ্গপোসাগর। স্পষ্ট দেখলাম দুটো জাহাজ চলছে সাগরে। যদিও এতদূর আর উচ্চতা থেকে সেগুলোকে ছোট নৌকা বলেই ভ্রম হচ্ছিল। বাম দিক টাতে কুতুবদিয়ার কিছু অংশও দৃশ্যমান হলো। দৃষ্টিতে সাগর পাহাড়ের মিলন মেলা। উপরে মেঘগুলো যেন সেই আনন্দেই হাসছিল খুব কাছে পেয়ে আমাদের।

পূর্ব দিকটা ঘণ মেঘে আচ্ছন্ন থাকায় বগা লেক এর পাহাড়টি দেখা যাচ্ছিলনা। দেখা যাচ্ছিলনা কেওকারাডং। পূর্ণ পরিষ্কার আকাশ থাকলে দেখা যায় কখনও কখনও এই পাহাড় হতে জানাল জয়নাল সাহেব।

চিম্বুকের এই উচ্চতা থেকে নিচের দিকে তাকালেই গভীর খাদ আত্মার পানি শুকিয়ে ফেলতে চাইলেও উপর্যুপরী আনন্দের স্রোত ভিজিয়ে দিচ্ছিল মন প্রাণ বারবার।

পাহাড়ের উপর অনেক রকম ফলের গাছ দেখলাম। যারা এখানে বিভিন্ন সময় বসবাস করতে এসেছে তারাই লাগিয়েছে। এমনেতেও হয়েছে অনেক গাছ। আম গাছটি সেরকমই একটা হবে। একটু কিনারে। তারপরও দেখলাম করিম আর আশফাক ভাই অনেকগুলো আম পেড়ে ফেলেছেন।

এমনেতেই আমি কাঁচা আম পছন্দ করি ভীষন। তার উপর জার্নিও ধকল শেষে আম কয়েকটাই খেয়ে ফেললাম। যেন অমৃত।

চিম্বুক পাহাড় ঢাল এ বেশ কিছূ পাকা বিল্ডিং দেখলাম। নিচের দিকেতো পুলিশ ক্যাম্প আছেই। বেশ অনেক মানুষই বাস করে এখানে উপজাতিরা ছাড়াও। তবে অবাক হলাম জেনে - এই দীর্ঘ ২৪/২৫ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে বান্দরবান থেকেই তাদের খাবার পানি নিয়ে আসতে হয়। অবশ্য চাঁদের গাড়ী চলে নিয়মিত। বুঝলাম যতই তৃপ্তী জাগুক এই মনোহর পরিবেশে আমাদের , যারা এখানে দিনের পর দিন বাস করেন তারাই বোঝেন কত ধানে কত চাল।

সূর্য হেলে যেতে শুরু করেছিল। মন জুড়ানো পাহাড়ী দৃশ্য আর সূর্যের নেমে যাওয়া দেখতে দেখতে পাহাড়ী পথের পিচ ধেয়ে ধেয়ে পেছনে চিম্বুকের উচ্চতা ছেড়ে ফিরে চলল আমাদের গাড়ী। এবার দূরে সাগরটাকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল না মোটেও।

এখানে একটা কথা বলতেই হয় , এই চিম্বুক পর্যন্ত মোটামুটি যেকোন গাড়ী নিয়ে আসা সম্ভব। চারহুইলের হলে তো অবশ্যই ভালো বা আরোও বেশী। কিন্তু এর পরে মানে রুমার দিকে বা থানছির দিকে চাঁদের গাড়ী অথবা ঐ টাইপ ৪/৫/৬ হুইলের গাড়ী ছাড়া সম্ভবই নয়।

বিকেলের শান্ত হাওয়া য় উড়তে থাকা গাছের পত্রের সম্ভাষণ মন ভরে নিতে নিতে পৌঁছেগেলাম শৈলপ্রপাতে। এখানে অবশ্য বেশ কয়েকদল পর্যটক দেখা গেল। যেটা চিম্বুকে দেখিনি। আসলে পাহাড়ে আসার অসময় শুরু হয়েই গেছে। শীতকালেই মূলত আসে যারা আসার।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709054 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28709054 2007-05-04 11:11:37
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (৩য় পর্ব) ------------

কেউ বলল বগা লেক যেতে লাগবে ৬/৭ ঘন্টা , কেউ বলল হাঁটতেও হবে ২/৩ ঘন্টা। নানারকম ভীতি সঞ্চারী কথা আসছিল কানে। কেউ বলল চাঁদের গাড়ীর ভাড়াই লাগবে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। কেউ তো আবার বলেও ফেলল বগা লেকে শান্তি বাহিনী ধরে নিয়ে যেতে পারে। কোন নিশ্চয়তা নেই। এর মধ্যে আবার রহিম ভাইও ভয় পাচ্ছিলেন , তিনি স্পষ্ট মুখের উপর না বলতে পারলেও চাচ্ছিলেন আমরা কাল সকালের মধ্যেই যেন কক্সবাজার ফিরে যাই । তিনি ইতোমধ্যে বুঝে গেঝেন এই পাগলের দল সকালে থাকলেই শত বিপত্তি এড়িয়েও বগা লেকে রওয়ানা দিয়ে বসবে।

সফর সঙ্গীদের মাঝে সাবধানী, অতি সাবধানী আর দুঃসাহসী বিভাজনে ডিসিশান নেয়ার ক্ষেত্রে আরও জট পাকিয়ে যাচ্ছিল। খেতে খেতে যাই হোক মোটামুটি ডিসিশন হলো আশেপাশের দেখার মতো যা যা আছে এখন থেকে সন্ধ্যের মধ্যে ঘুওে আসব। রতে থাকবই। বগা লেকের সিদ্ধান্ত পরে হবে।

ইস্ তখনও যদি কেউ বলত বগা লেকে থাকার ব্যবস্থা আছে। তাহলে ঐ দুপুরেই ছুটতাম। থাকতাম রাতে। কেউ ঠেকে শেখে আর কেউ দেখে। আমরা দুটোই। আসলে ইনফরমেশন জ্ঞাপ থেকে ইনফরমেশন গ্যাদার করার মাঝে আলাদা একটা মজাও আছে।

হোটলে ঢুকে মোটামুটি ফ্রেশ হয়ে আমরা যখন দৃশ্য দর্শনের নেশায় রওয়ানা হলাম তখন তপ্ত দুপুর। ঘড়িতে ৩টার মতো। শুনেছি কাছেই পাহাড়ে ঝর্ণা আছে। সেখানে গোসল করব বলে গোসল ছাড়াই প্রিপারেশন নিয়ে বের হলাম আমরা।

গাড়ী ছুটে চলল। বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে উঠে যেতে লাগলাম। পাহাড়ী পথ ধরে উপরে। পেছনে বান্দরবন শহরের একাশং। পাহাড়ী ঢালে ঘর বাড়ী দালান। আরেকটু এগিয়ে সামনে বায়ে গভীর খাদ। দূরে সারি সারি পাহাড়। মাঝে অনেকটা সমতল আর ছোট টিলার সমারোহ। এসবের মাঝেই স্পষ্ট দেখলাম পানির একটা আঁকাবাঁকা প্রবাহ। ওটাই বান্দরবানের বিখ্যাত সাঙ্গু নদী। আমরা ৩০০/৪০০ ফুট উপরে থাকায় নদীটাকে বেশ সরুই লাগছিল।

পথের ডানে ছোট ছোট পাহাড় আর টিলা চলে গেছে একদম কক্সবাজার চিটাগাং হাইওয়ে পর্যন্ত অনেক দূর। ডানে কাছেই একটা বেশ উঁচু পাহাড় এর উপর ছাউনী দেখতে পেলাম। ওটাই ‘নীলাচল’ । আরেকটি পর্যটন কেন্দ্র। উল্টো পথে মেঘলা যাবার সময় বামে নীলাচলের পথ চলে গেছে । এটি বেশ নতুন একটি স্থান । সূর্য ডোবা দেখার জন্যে ভালো। সময়ের অভাবে অবশ্য যাোয়া হয়ে ওঠেনি নীলাচল পাহাড়ে।

৫ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে সামনে বায়ে পড়ল মেলিসা রিসোর্ট। বেশ বড় এলাকা ।ভেতরে অবশ্য ঢোকার ইচ্ছে হলো না । এখানে একটা পুলিশ ক্যামপও দেখা গেলো । আমাদের জিজ্ঞেসাবাদ করলো।

সামনে ছোট একটা বাজার মতো পাওয়া গেলো। পাশে দীর্ঘ সিড়ি নেমে গেছে নিচে পাথুড়ে খাদে। নিচের খাদে দেখলাম পানিতে গোসল করছে অনেক উপজাতি। এটিই সেই ঝর্ণা ধারা। নাম শৈল প্রপাত। বান্দরবান শহর হতে এর দূরত্ব চার(৪) কিমি। ঠিক করলাম চিম্বুক পাহাড় দেখে ফিরে আসার সময় নামব।
বান্দরবানে আসলে পাহাড়ে ওঠা হোক আর না হোক এখানে অবশ্যই আসা উচিৎ। পাহাড় ঘূরে আসি । ফেরার সময় জানাব --কারণ।

শৈল প্রপাত পেড়িয়ে যেতে যেতে রাস্তার দুধারে মাঝে মাঝে উপজাতিদের কুটির দেখতে পেলাম আমরা। জানলাম এদের সবাই ব্যোম উপজাতি। বান্দরবান শহরে এবং আশেপাশে পাহাড়ে মূলত ব্যেম আর মারমা উপজাতিদেরই আধিক্য।

উঠতে উঠতে আমাদের গাড়ী আকঁবাকাঁ পথ পেড়িয়ে বেশ উপওে উঠে গেলো। পাহাড়ের কোল ঘেষেঁ ঘেঁষে খাদের কিনার ধরে ধরে রাস্তা এগিয়ে গেছে। এখনও পর্যন্ত রাস্তার পিচ যথেষ্ট ভালোই পেলাম। পাহাড়ে পাহাড়ে দৃশ্যগুলোর মধ্যে এত ব্যাপক বৈচিত্র্যতা ছিল যে আমরা বার বার মুগ্ধ হয়ে তাকাচ্ছিলাম। কোথাও ঘন জঙ্গল। কোথাও বাঁশের ঘন বন। লম্বা লম্বা বাশঁ উঠে গেছে উঁচু পাহড়ে আরও উপরে। কোথাও পাহাড় ঢালে বিশাল বিশাল গাছ।

মাঝে মাঝে কিছু পাহাড়কে উলঙ্গ মনে হচ্ছিল। জুম চাষের জন্য আগুন দিয়ে পুড়িয়ে পাহাড়ের উপরের সব গাছ পালা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলেই ওমন লাগছিল। নিচে খাদে তাকিয়ে অনেক পাহাড়কেই জ্বলতে দেখলাম। সম্ভবত এই কারনেই এই দীর্ঘ ভ্রমন পথের কোথাও বান্দরবানে আমরা একটা বন্য জন্তুও দেখিনাই। অবশ্য পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া পাহাড়গুলো বেশ লাগছিল। হঠাৎ আমাদেও পাশেই একটা বন পুড়তে দেখলাম। চোখে পেলাম ধোঁয়ার আঁচও। গাড়ী চালাতে গেলে এই আগুনের ব্যাপারটা খেয়াল রাখা উচিৎ ড্রাইভারের। বেশ উচূঁতে প্রসস্থ একটা স্থানে গাড়ী থামিয়ে নামলাম আমরা। অদূরে নিচে একটা টিলা জ্বলছিল। তার আগুনের ধোয়া আর মেঘ মিলেমিশে অভাবনীয় যে দৃশ্যেও অবতাড়না করল তাতে আমাদের নয়ন তো জুড়ালোই সাথে চারদিকের সুবজ আর সুবজে উজ্জীবীত হলো প্রাণ।

এই জায়গায় নামা মাত্রই সবার মোবাইলে নেটওয়ার্ক এর আবির্ভাব হলো। প্রয়োজনীয় ফোন করা শুরু করে দিল সবাই। আমার কেন জান কাউকে ফোন করতেই ইচ্ছে করল না। পাহাড়ের সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হয়ে তুললাম কেবল ছবি। ডান দিকেদূরে চিটাগাং কক্সবাজার হাইওয়ে । মাঝে প্রতিবন্ধতা নেই , তাই এতো বেশী নেটওয়ার্ক। ।

এ্খান থেকে আরও কিছুদূর সামনে যেতেই পথ দুদিকে ভাগ হয়ে গেছে। বামে রুমা উপজেলার পথ। ওপথেই বগা লেক আর কেওকারাডং। আর ডানের পথ চলে গেছে চিম্বুক পাহাড় পেড়িয়ে থানছি উপজেলায় । ওদিকে থানছি পেরোলে বিজয় ( প্রাক্তন তাজিংডং) নামের পাহাড়েও যাওয়া যায় শুনলাম। জানলাম থানছি হতে পাহাড়ি পথে খুব কাছেই নাকি লোহাগড়া। ওতদূর যাবার সময় এবার হয়নি আমাদের। ডানে মোড় নিয়ে আর্মি ক্যাম্প থেকে অনুমতি নিয়ে এগিয়ে যেতেই চোখে ধরা পড়ল চিম্বুক পাহাড়। দৃশ্যমান এরিয়ার মধ্যে ওটাই সবচেয় উঁচু পাহাড়। পাহাড়ের উপর একটা অনেক উঁচু টাওয়ার দেখতে পেলাম। থানছির পথ এড়িয়ে হঠাৎ উপরে চিম্বুকের চূড়ায় উঠে গেলো আমাদের গাড়ী।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708917 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708917 2007-05-03 16:51:13
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক ( ২য় পর্ব) ----------------------------------

মেঘলার ঝুলন্ত ব্রীজে হিমেল হাওয়ায় হালকা দুলুনি, সবুজে ঘেরা পাহাড়ের মায়া আর রোদের কষ্টকর পরশের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে ঘুরতে ঘুরতেই বুঝতে পরলাম এখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের চরম রুগ্ন অবস্থা । মেঘলার উঁচু পাহাড়ি স্থানগুলোতে উঠলে একটু একটু নেটওয়ার্ক পাওয়া গেল। কথা বলতে গেলেই তাও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল।

আমাদের এক সফর সঙ্গী, জীবনের বাল্য এক বন্ধু থাকে বান্দরবানে। আগে থেকে তাকে ইনফর্ম করা থাকলেও মেঘলা থেকে বেরিয়ে তাকে আর নেটওয়ার্কে ধরাই গেলনা।

অজানায় সামনে তাই গাড়ী এগিয়ে চলল। বেশী দূর না। ৪/৫ কিমি যেতেই ছোট বান্দরবান শহরটিতে প্রবেশ করলাম আমরা। নিঝুম একটা পরিবেশ সেখানে বিরাজমান, প্রথম দর্শনেই বুঝে গেলাম। শহরের আগে পিছে সামনে বায়ে সব দিকে পাহাড় আর পাহাড়।

কিছুক্ষণ ঘুরে আর ফোন ফ্যাক্স থেকে ফোন করে স্থানীয় সেই যুবকটিকে আমরা খুঁজে পেলাম। নিতান্তই সুবোধ যুবক। ছোট খাট ব্যবসায়ী। ওরিজিনাল বাড়ী লোহাগড়া হলেও জন্ম তার এই এখানেই। নাম রহিম।

গাড়ীর এসিতে বাইরের তপ্ত গরম এরিয়ে আরেকজন ভাগিদার বাড়িয়ে সেই দুপুর ১২টায় আমাদের প্রধান কাজ হলো খাদ্য আর আশ্রয়ের সংস্থানে ছোটা। ছুটলাম। আবার সেই উল্টো পথে। মেঘলার আগে পাহাড়ের উপর দেখেছিলাম পর্যটন হোটেল আর হোলিডে কটেজ।

কটেজের ভাড়া কক্সবাজারের তুলনায় বেশ কম। ৪০০ থেকে ৭০০র মধ্যে। চারদিকের সৌন্দর্য আবার কক্সবাজারের থেকে শতগুন মধুর। কটেজের দুটো রুম ভাড়া করা হলো। রাস্তার ওপাশে ঢালে চোখ মেললেই মেঘলার সবুজ স্বচ্ছ জল। দূরে সটান কত কত উঁচু নিচু পাহাড় টিলা। কটেজের পেছনে একটা শান্ত সরোবর। সেখানে হাসেরা খেলছে। গাছে গাছে সবুজ পাতারা হাসছে।
কিন্তু ওখানে থাকা হলোনা। দুটো রুমের একটা নিয়ে বেধে গেলো গোল। ডবল বেডটাতে মালিকের পূর্বের বুকিং দেয়া ছিল। কিন্তু ম্যানেজার আর রুম বয়ের কমিউনিকেশন গ্যাপে একটা ছোট খাট ঝগড়া ও পর্ব চলল। আরও মেজাজ খারাপ হলো যখন দেখলাম ঐ রুমটাতে আমাদের চোখের সামনে দিয়ে হেঁটে গিয়ে উঠল অতীব সুন্দরী এক তরুনী আর সাথে এক হ্যান্ডসাম যুবক।

ভাড়া ফেরত নিতে বাধ্য হলাম। না এখানে থাকবোই না। সবাই রাগান্বিত। সরি টরির পর্বে হোটেল কতৃপরে মাধ্যমে জানা গেলো রাতে মালিকের বুকিং দেয়া গেষ্ট আসতে পারে নাও পারে আর এখন ৫টা পর্যন্ত ঐ কাপল ভাড়া নিয়েছে রেস্টেও জন্যে। হুমম। জানাল এখন একটা রুম আর বিকেলে অন্যটা দিতে পারবে কিনা জানাবে। হতেও পারে।

তবুও না থাকবোনা। জিদ চেপেছে সুমন আর জীবনের। কিন্তু কে জানত পর্যটনে গিয়ে সেই রাগ আর ও দীপ্ত হবে। কারন পর্যটনের তিনতলা হোটেলটাতেও এই ওড সময়েও আমারা একটাও রুম খালি পেলাম না। কোন কোম্পানী যেন সব বুকিংয় দিয়ে রেখেছে এক সপ্তাহের জন্যে। বুঝলাম, অনেকই আসে এদিকে তাহলে।

বাধ্য হয়ে শহরের ভিতরে আবার ফিরে এলাম । পাহাড়ের কোলে থাক মনোরম পরিবেশে আকীর্ণ না হলেও শহরের ভেতর পূরবী হোটেলেটাতে উঠে তেমন একটা খারাপ লাগলোনা। ভাড়াও ওগুলোর অর্ধেক। দুটো রুম ডবল বেড ভাড়া মাত্র ৩০০ করে ৬০০ টাকা। কিন্তু পার্কিং লট নেই। গাড়ী রাখা নিয়ে হলো বিপত্তি।

আমাকেই সমাধান করতে হলো। টি এন্ড টি এক্সচেঞ্জে গিয়ে পরিচয় দিতেই গাড়ী রাখার সমস্যা মিটলো । ওখানের রেস্ট হাইসের একটি মাত্র রুম টিতে থাকার একান্ত অনুরোধ কেও অগ্রাহ্য করতে হলো। যাক খুশি হলাম ভবিষ্যতে থাকার মতো জায়গা পাওয়া গেলো বলে।

রহিম ভাই থাকার প্রাথমিক সুবিধাটা পেলাম দুপুরে খাবার জন্যে পুলিশ ক্যান্টিনের খোঁজ পেয়ে। শহর ছোট হওয়ায় সব কিছূই মোটামুটি হাতের কাছেই।

রহিম ভাই থাকার সমস্যাও ছিল। উনি স্থানীয় হলেও কোনদিন বগা লেকে যাননি। যে কারনে উনি প্রকৃষ্ঠ ভয়টা আমাদের মধ্যে বিস্তার করতে না পারলেও চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। আর যেসব প্রাথমিক ইনফরমেশনগুলো উনি যোগান দিচ্ছিলেন আশেপাশে থেকে সংগ্রহ করে তাতে আমরা নানমতে নিজেরাই কনফিউস হচ্ছিলাম, বগা লেকে যাবো কি যাবোনা?
তবে আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে সাহসী পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছিল। জানা গেলো একদিনেই আশেপাশের মোটামুটি দেখার মতো সব ঘুরে আসা সম্ভব।
কেবল বাকী থাকবে বগা লেক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708710 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708710 2007-05-02 16:08:05
অসাধারণ মুগ্ধতায় দেখে এলাম বগা লেক (১ম পর্ব) যাব যাব করে আর যাওয়া হয়ে ওঠেনি কেবল সঙ্গীর অভাবে। আসলে মন যতই পথিক হোক , জীবন যতই হয়ে উঠুক একাকীত্বের পূজারী ;বাস্তবতা একাকীত্ব সাপোর্ট করেনা সর্বত্র। তার উপর ছুটি পেলেই তো দৌড়াতে হয় ঢাকায়। সঙ্গী সম্বল সফর , বান্দরবান ভ্রমনের সাধ তাই অপূর্ণই ছিল।

পরকিল্পনা যত দ্রুত নেয়া হলো, পরিকল্পনার বাস্তবায়নের সময়ও ততই স্বল্প। মাত্র দেড়দিন হবে সফর।
বান্দরবান যাব - মুখ্য পরিকল্পনা সেটাই ছিল। বগা লেক যাওয়া হবে কি হবেনা ,ঠিক ছিলনা। আসলে ছিল না বগা লেক সম্পর্কে তেমন কোন সম্যক জ্ঞানও কারও। অথচ শেষ পর্যন্ত বগা লেকই হয়ে উছেছিল আমাদের ঐ অনুক্ষণ ভ্রমনের মূল প্রাণ।

বগা লেকের সৌন্দর্য যেমন অসাধারণ মধুর এর যাত্রা পথের ধকলও তেমন অসাধারণ বিষাদের। এই অসাধারণ বিশ্লেষনই ম্লান করে দিয়েছে বান্দরবানে মন কাড়া আরও অনেক মুগ্ধতাকে।

তবুও ভুলিনি প্রিয় এই ভ্রমনের প্রতিটি ক্ষণ। ক্রমানুসারে আপন বর্ননায় তাই এগিয়ে যাব ডুব দিতে বগা লেকের স্বচ্ছ জলে।

( একটু খেয়াল করে দেখবেন , আমি এখানে বান্দরবন না লিখে বান্দরবান লিখছি। হয়তো সকলেই জানেন, আমি জানতাম না। সারা জীবন স্কুল কলেজে লিখে এসেছি ‘বান্দরবান’। ঐ স্থানে গিয়েই জানলাম আসলে শব্দটি বন নায় বান হবে। )


যাত্রা শুরু আর মেঘলায় জুড়াল চোখ
-------------------------------

গত ১৯ শে এপ্রিল শুক্রবার সকালে ঢুলু ঢুলু চোখে উঠে গোছাতে লাগলাম। চোখে তখন গতরাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টীমের শোচনীয় পরাজয়ের লাল ছাপ।

৮টার মধ্যেই রওয়ানা হয়ে গেলাম আমরা বান্দরবানের পথে। মোট ৬ জন। আমি , সুমন, করিম, আশফাক ভাই, জীবন আর নাসিম। ড্রাইভার নুরু সহ অবশ্য ৭ জন।

চকোরিয়ার সুরম্য ইনানী রিসোর্টে জমপেষ প্রাত ভোজন ( আমার আর সুমনের ২য়বার) সেরে আর সিল্ক লাইন থেকে নামা মিষ্টি মেয়েটার মিষ্টি হাসিতে মন ভরিয়ে চকোরয়িার বন পথ দিয়ে ছুটে চলছিল গাড়ী আর দেখছিলাম ডানে বন পেরিয়ে ঐ দূরে আবছা পাহাড়গুলো। ভাবছিলাম ঐগুলোই বান্দরবানের পাহাড়। কিন্তু তখনও একটুও ভাবিনি আগামী ৩০/৩৫ ঘন্টা ঐ পাহাড়গুলোতেই চরম ঝুকি নিয়ে এক টা হতে আরেকটা তে ছুটবো আমরাই। আর ভাবিও নি ওখানেই চরম আনন্দে ৩০০০ ফুট উপরে নান্দনিক বগা লেকে ফুটেছে শাপলা ফুল আমাদেরই জন্যে।

লোহাগড়া উপজেলার কেরানীহাট স্থানটিতে হাইওয়ে ডান দিকে চলে গেছে বান্দরবানের পাবর্ত্যে। মাইল ফলকে দেখলাম মাত্র ১৯ কিমি বান্দরবান।

আরও কিছুদূর যেতেই যেন পথ ধীরে ধীরে হতে লাগল উচুঁ। পাল্টে যেত লাগল দ্রুত সমতলের পরিবেশ। ডানে বামে পাহাড় গুলো হঠাৎ চলে এল খুব কাছে। হঠাৎ বামে বেশ মনোরম আর্কিটেকচারে গড়া বান্দরবান টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট দেখে বুঝে ফেললাম শহরের সন্নিকটে পৌঁছে গেছি।

ধারণা আরও পোক্ত হলো আরেকটু এগিয়ে পাহাড়ী পথের ধারে পর্যটনের হোটেল আর হোলিডের কটেজ গুলো দেখে। ইতোমধ্যে দুবার পুলিশ আর আর্মির প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পথের কিয়ারেন্স নিতে হয়েছে। তাতে একটা জিনিস বোঝা গেলো-বান্দরবান শহরের চরম সতর্কতার আড়ালে প্রচ্ছন্ন ভয়াবহতা।

উপর থেকেই প্রায় ২০০/২৫০ ফুট নিচে চোখে পড়ল সুদর্শন লেক। আমাদের মধ্যে কে জান চিৎকার দিয়ে উঠল, থাম থাম লেকর ছবি তুলব। তখনও আমরা জানিনা একটু পরে ওখানেই ঘুরব।

লেকটাই আসলে ‘মেঘলা’ নামের পর্যটন কেন্দ্র এবং সাফারী পার্ক। ঢুকতে পার পারসন ৯ টাকা করে লাগে।

দু দুটো সুদর্শন ঝুলন্ত সেতু নজড় কেড়ে নিল প্রথমেই। বামের সেতু দোলুনির আনন্দ মনে সঞ্চার করে হেঁটে পাহাড়ের উপর উঠে যেতে লাগলাম। তারপর খেয়াল হলো পথটা বেশ ঘুরে আরও কটা পাহাড় হয়ে অন্য সেতুর উপর দিয়ে ফিরে এসেছে। এনার্জি সেভ করার মানসে আমরা মাঝের একটা শটকার্ট খাড়া ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এলাম । মাঝের এই এলাকাটা বা দ্বীপটা একটা ছোট খাট চিড়িয়াখানা । কয়েকটা বন্য জীব খাঁচায় বন্দী। লেকের ওপাশে হাই ভলিউমে বাজতে থাকা গানের তালে তালে ভাল্লুকের শরীর দুলুনীটাকে নাচ বলেও চালানো যাবে। বেশ মজা।

চারদিকে পাহাড় ঘেরা এই লেক আর ঝুলন্ত ব্রীজ, উঁচু সিড়ি আর ঢাল বান্দরবান ভ্রমনের প্রারম্ভেই মুগ্ধ করল আমাদের হৃদয়।

---
//
ছবিতে--
বামে ১মটি বগালেকর
তার নিচে পাহাড়ে আগুন ( চিম্বুকে যাবার পথে)
তার নিচে -শৈল প্রপাত।
উপরে ২য় ছবিটি বান্দরবান শহরের বৌদ্ধ মন্দির

ডানে ১ম ছবিটি মেঘলায় শিমুল তুলার গাছ
২য় টি মেঘলার বামদিকের ঝুলন্ত ব্রীজ
৩য় টি হোটেলে ম্যাপ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708622 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28708622 2007-05-01 19:13:08
ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়েছে --তথ্য রিকভার করা যাবে কি?
ল্যাপটপ থেকে ব্যাক আপ রাখার অভ্যাসটা তাই চর্চা করার চেণ্টা করছিলাম সিডিতে কপি করে করে। কিন্তু না লাস্ট ৫ টা মাস এত বড় বড় প্রবলেমে ছিলাম যে সে অভ্যাস ত্যাগ করা হয়েছিল। আর খড়গটা মাথার উপর নামবি তো নামবি এ সময়েই।

মনটা যে কি ভীষণ বিপ্তি বলে বোঝাতে পারবোনা।
গতকাল দুপুরে আামার ল্যপটপ( অফিসের আসলে , আমার ব্যবহারের জন্যে) এর হার্ডডিস্ত মহাশয় সম্ভবত ইন্তেকাল ফরমাইয়াছেন। মানে ক্রাশ করেছে।

গেলো কত কত কবিতা ...উহ।
কত কত লেখা, ছোট গল্প , আর ক্যামেরায় বন্দী করা কয়েক হাজার ছবি। ...

একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়েও কিছু করতে পারছিনা। খূব কষ্ট লাগছে হার্ডডিস্ক ভর্তি আরও কত কত তথ্যের জন্যে।

শূনেছি নষ্ট হার্ডডিস্ক থেকেও নাকি তথ্য রিকভার করা যায় ।
যদি কেউ জানেন এই ব্যাপারে বা জানেন কারা রিকভার করে থাকে তবে প্লিজ আমাকে একটু জানাবেন।প্লিজ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28706614 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28706614 2007-04-17 17:49:01
গুগলের ফ্রি ফটো ওরগাইনাইজার সফটওয়্যার, বেশ চমৎকার চমৎকার - ব্যবহারে এবং আউটলুকেও।

হুঁ, যে সফটওয়্যারটির নাম বলছি সেটির নাম picasa ।
ফটো ব্রাউজিং এবং এডিটের জন্যে আমার কাছে সফটওয়্যারটি বেশ উইজার ফ্রেন্ডলি মনে হচ্ছে গত দুইদনি ব্যবহার করে।
খ্যাত ওয়েবসাইট গুগল এই সফটওয়্যারটি বিনামূল্যে দিচ্ছে সকলকে।

বিনামূল্যে অনলাইনে ফটো এ্যালবাম তৈরীর সুযোগ দিচ্ছে অনেক সেবামূলক সাইটই কিন্তু গুগল তাদের গ্রাহকদের জন্য একটু বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে পিকাসা ওয়েব এ্যালবামের সাহায্যে।
এই ওয়েব ফটো এ্যালবামে ১ গিগাবাইট (১০২৪ মেগাবাইট) পর্যন্ত ফটো আপলোড করা যাবে।
সাধারণত অনলাইন থেকে সরাসরি ফটো আপলোড করতে হলে একটি একটি করে ব্রাউজ করে আপলোড করতে হয় সেটা সময় সাপেক্ষ এবং আপলোডেও ধীর গতিতে হয় কিন্তু পিকাসা ২.০ সফটওয়্যারের সাহায্যে সহজে একটি ফোল্ডারের কয়েকশত (সর্বচ্চো ৫০০) ফটো সহজে এবং অল্প সময়ে আপলোড করা যায়।
এছাড়াও নোটিফেকেশনের (আর.এস.এস) মাধ্যমে অন্যের এ্যালবামে নতুন ফটো আপলোড করার খবর পাবেন এর মাধ্যমে।
আরো সুবিধা হচ্ছে আপলোড করা ফটো এ্যালবাম থেকে যেকোন এ্যালবাম এমবেট করে বা পিকাসা ২.০ সফটওয়্যার থেকে মাইস্পেস বা ব্লগারে ফটো আপলোড করতে পারবেন।
এখানে ইচ্ছামত ফটো সাজানো যায় ।

wcKvmv
লিংক থেকে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড করে ইনষ্টল করে নিন।
পিকাসা কম্পিউটারের থাকা সমস্ত ফটো কয়েক সেকেন্ডর মধ্যে গুছিয়ে দেবে।
এরপর আপনি এডিটিং, ইমপোর্ট , এক্সপোর্ট বা ব্লগপোষ্ট বা ওয়েব এলবম তৈরী সবই করতে পারবেন মনের মাধুরী মিশিয়ে খুবই সহজে।


কৃতজ্ঞঃ [link|http://biggani.com/content/view/398/|we]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28705219 http://www.somewhereinblog.net/blog/pothocharyblog/28705219 2007-04-07 05:20:35