somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... বেদে কোনো বর্ণভেদ নেই
এই লেখায় আমরা চেষ্টা করব বেদ অনুযায়ী আমাদের caste system সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস উদঘাটন করার এবং শূদ্রের আসল অর্থ খোঁজার।

১।
প্রথমত, কোনো প্রকার হিংসা বা বৈষম্যের স্থাণ নেই বেদে যেকোনো ব্যক্তি সম্পর্কে - সে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, বা শূদ্র কিনা।

২।
Caste system প্রায় নতুন। বেদে কোনো শব্দ নেই যার অর্থ বর্ণ/জাতি হতে পারে। আসলে, caste, জাতি আর বর্ণ এগুলো এক একটি এক এক অর্থ বহন করে।

Caste হলো একটি ইউরোপীয় নবধারা যার সাথে বৈদিক সংস্কৃতির কোনো সামঞ্জস্যতা নেই।

জাতি

'জাতি'র অর্থ হচ্ছে এক শ্রেণীভুক্তকরণ যার উৎস হচ্ছে জন্মে। ন্যায় সূত্র বলেছে "সমানপ্রসাভাত্মিকা জাতিহ্‌" অথবা তারা যাদের একইপ্রকার জন্মসূত্র যা এদেরকে একটি জাতিতে সমষ্টিবদ্ধ করে।
একটি প্রাথমিক আরো বড় শ্রেণীভুক্তকরণ ঋষিদের দ্বারা করা হয়েছে চারভাবে: উদ্ভিজ (অর্থাৎ গাছপালা), আন্ডাজ (অর্থাৎ ডিম থেকে যার উৎপত্তি যেমন পাখি এবং সরীসৃপ), পিন্ডজ (স্তন্যপায়ী), উষ্মজ (তাপমাত্রা বা পরিবেষ্টনকারী আবহাওয়ার জন্য যার জন্ম যেমন ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া ইত্যাদি)।
তেমনিভাবে নানাপ্রকার পশুসমূহ যেমন হাতি, সিংহ, খরগোশ ইত্যাদি তৈরি করে এক ভিন্ন 'জাতি'। একইভাবে সমস্ত মানবকুল তৈরি করে একটি 'জাতি'।
একটি নির্দিষ্ট জাতির থাকবে একই ধরনের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য যারা সেই জাতি থেকে আরেক জাতিতে পরিবর্তিত হতে পারবে না এবং ভিন্ন জাতির বাচ্চা প্রসব করতে পারবে না। অর্থাৎ, জাতি হচ্ছে ঈশ্বরের সৃষ্টি।
ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রেরা কোনোভাবেই ভিন্ন জাতি নয় কারণ তাদের মধ্যে জন্ম সূত্রগত বা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যগত কোনো পার্থক্য নেই যা তাদেরকে ভিন্ন করবে।
পরবর্তীতে 'জাতি' শব্দটি ব্যবহৃত হতে শুরু করে যেকোনো প্রকার শ্রেণীভেদকরণের জন্য। তাই সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা ভিন্ন ভিন্ন সমাজকেও ভিন্ন ভিন্ন 'জাতি' হিসেবে আখ্যা দেই। কিন্তু এ শুধু ব্যবহারের সুবিধার জন্য। আসলে আমরা মানবকুল এক জাতিরই অংশ।

বর্ণ

প্রকৃত যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র বোঝাতে তা হলো 'বর্ণ' ('জাতি' নয়)।
'বর্ণ' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এই চারকে বোঝাতেই নয়, বরং দস্যু ও আর্যদেরকেও।

'বর্ণ' অর্থ হচ্ছে তাহাই যাহা গ্রহণ করা হয় পছন্দের দ্বারা। তাই, যেখানে 'জাতি' ঈশ্বর দ্বারা প্রদত্ত, 'বর্ণ' হচ্ছে আমাদের নিজস্ব পছন্দগত।

যারা আর্য হতে পছন্দ করে তাদের বলা হয় 'আর্য বর্ণ'। তেমনি যারা দস্যু হতে পছন্দ করে, তারা হয় 'দস্যু বর্ণ'। একইভাবে হয় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র।

এই কারণেই বৈদিক ধর্মকে বলা হয় 'বর্ণাশ্রম ধর্ম'। বর্ণ শব্দটি ইঙ্গিত করে যে এটির ভিত্তি হচ্ছে নিজ পছন্দকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া ও যোগ্যতা অনুসারে পরিচালিত ব্যবস্থাকে অনুমোদন দেয়া।

৩।
যারা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকান্ডে নিয়োজিত, তারা পছন্দ করেন 'ব্রাহ্মণ বর্ণ'। যারা প্রতিরক্ষা, যুদ্ধ-বিগ্রহ পছন্দ করেন, তারা হন 'ক্ষত্রিয় বর্ণ'। যারা অর্থনীতি ও পশুপালনাদি পছন্দ করেন তারা হন 'বৈশ্য বর্ণ' এবং যারা নিয়োজিত আছেন অন্যান্য সেবামূলক কাজ-কর্মে, তারা হন 'শূদ্র বর্ণ'। এসব শুধু বোঝায় নানা ধরনের পছন্দ যেসব মানুষজন তাদের কর্মের জন্য নির্বাচন করেন এবং এর সাথে 'জাতি' বা জন্মের কোনো সম্পর্ক নেই।

৪।
পুরুষ সুক্তের অন্যান্য মন্ত্রসমূহ উদ্ধৃতি দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, ব্রাহ্মণ এসেছে ঈশ্বরের মুখ থেকে, ক্ষত্রিয় হাত থেকে, বৈশ্য উরু থেকে এবং শূদ্র পা থেকে। সেইভাবে এইসব বর্ণসমূহ জন্মগত। কিন্তু কোনোকিছুই এর চেয়ে বেশী ভ্রান্তিজনক হতে পারে না। আসুন দেখি কেন:

(অ)
বেদ ঈশ্বরকে বর্ণনা করে আকারহীন ও অপরিবর্তনশীল হিসেবে। এমন ঈশ্বর কিভাবে বিশাল আকৃতির মানুষের রূপ ধারণ করতে পারে যদি তিনি আকারহীনই হন? (যজুর্বেদ ৪০.৮)

(আ)
যদি ইহা সত্যিই হয়, তাহলে তাহা বেদের কর্মতত্ত্বের বিরোধীতা করবে। কারণ কর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, একজন ব্যক্তির জন্মগত পরিবার পরিবর্তিত হতে পারে তার কর্ম অনুসারে। সুতরাং একজন ব্যক্তি যে শূদ্র পরিবারে জন্ম নেয়, পরের জন্মে এক রাজার পরিবারে জন্ম নিতে পারে। কিন্তু যদি শূদ্রেরা ঈশ্বরের পা থেকে এসে থাকে, তাহলে সেই একই শূদ্র ঈশ্বরের হাত থেকে কিভাবে জন্ম নেয়?

(ই)
আত্মা হলো সময়হীন এবং কখনো জন্ম নেয় না। সুতরাং আত্মার কখনোই কোনো বর্ণ হতে পারে না। এ শুধুমাত্র যখন আত্মা জন্ম নেয় মনুষ্য হিসেবে তখনই এর সুযোগ থাকে বর্ণ বেছে নেবার। তাহলে বর্ণ দ্বারা কি বোঝানো হয় যা ঈশ্বরের একাংশ হতে আসে? যদি আত্মা ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম না নিয়ে থাকে, তাহলে কি এই বোঝায় যে আত্মার দেহ তৈরি হয়েছে ঈশ্বরের দেহের অংশ থেকে? কিন্তু বেদ অনুযায়ী, এমনকি প্রকৃতিও চিরন্তন। এবং এই একই অনু-পরমানু পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে নানা মনুষ্যের মধ্যে। তাই কৌশলগতভাবে ঈশ্বরের দেহ থেকে জন্ম নেয়া কারো পক্ষে অসম্ভব, এমনকি আমরা যদি ধরেও নেই ঈশ্বরের দেহ আছে।

(ঈ)
উপরে উল্লেখ করা পুরুষ সুক্ত রয়েছে যজুর্বেদের ৩১তম অধ্যায়ে (এবং ঋগবেদ ও অথর্ববেদ বাদে যেগুলোতে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যজুর্বেদে এ হচ্ছে ৩১.১১)। প্রকৃতভাবে এর অর্থ কি তা বোঝার জন্য, আসুন দেখি এর আগের মন্ত্রের দিকে লক্ষ্য করি ৩১.১০।
এতে প্রশ্ন করা হয়েছে - কে মুখ? কে হাত? কে উরু আর কেই বা পা?
এর পরের মন্ত্র এর উত্তর দিয়েছে - ব্রাহ্মণ হলো মুখ, ক্ষত্রিয় হলো হাত, বৈশ্য হলো উরু এবং শূদ্র হলো পা।
লক্ষ্য করুন, মন্ত্রটি কিন্তু বলছে না ব্রাহ্মণ "জন্ম নেয়" মুখ থেকে...এটি বলছে ব্রাহ্মণ "হলো" মুখ।
কারণ যদি মন্ত্রটির অর্থ হতো "জন্ম নেওয়া" তাহলে এটি উত্তর দিত না আগের মন্ত্রের প্রশ্নটির "কে মুখ?"
যেমন, যদি আমি প্রশ্ন করি "দশরথ কে?" উত্তরটি যদি হয় "রাম জন্ম নেন দশরথের ঘরে" তাহলে তা হবে অর্থহীন।

প্রকৃত অর্থ হচ্ছে:
সমাজে ব্রাহ্মণ বা বুদ্ধিজীবিরা তৈরি করে মস্তিষ্ক বা মাথা বা মুখ যা চিন্তা করে এবং বলে। ক্ষত্রিয় বা রক্ষণকর্মীরা তৈরি করে হাত যা রক্ষা করে। বৈশ্য বা উৎপাদনকারীরা এবং ব্যবসায়ীরা তৈরি করে উরু যা ভার বহন করে এবং যত্ন করে (লক্ষ্য করুন উরুর হাড় অথবা উর্বাস্থি তৈরি করে রক্ত এবং এ হচ্ছে দেহের সবচেয়ে শক্ত হাড়)। অথর্ববেদে উরুর বদলে "মধ্য" শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে যার অর্থ বোঝায় পাকস্থলী এবং দেহের মধ্যের অংশ।

শূদ্র বা শ্রমিকেরা তৈরি করে পা যা কাঠামোটিকে দাঁড় করায় এবং দেহকে চলতে সক্ষম করে।
পরবর্তী মন্ত্রগুলো আলোচনা করেছে অন্যান্য দেহের অংশ সম্পর্কে যেমন - মন, চোখ ইত্যাদি। পুরুষ সুক্ত বর্ণনা করেছে সৃষ্টির সূত্রপাত এবং তার স্থায়ী থাকা সম্পর্কে যার মধ্যে অন্তর্গত মানব সমাজ এবং বর্ণনা করেছে অর্থপূর্ণ সমাজের উপাদানসমূহকে।
তাই এ ভীষণ করুণ অবস্থা যে এমন সুন্দর সমাজ সম্পর্কে রূপক বর্ণনা এবং সৃষ্টি সম্পর্কিত বর্ণনা বিকৃত হয়েছে যা সম্পূর্ণভাবে বৈদিক মূল্যবোধের বিরুদ্ধে।
এমনকি ব্রহ্ম গ্রন্থগুলো, মনুস্মৃতি, মহাভারত, রামায়ণ এবং ভগবদগীতা বলে নাই কোনোকিছুই যার কাছাকাছি উপপ্রমেয় হতে পারে এমন অদ্ভূত যে ঈশ্বর তৈরি করেছেন ব্রাহ্মণদের তাঁর মুখ হতে মাংস ছিঁড়ে কিংবা ক্ষত্রিয়দের তাঁর হাতের মাংস থেকে বা অন্যান্যসমূহ।

৫।
তাই এটি স্বাভাবিক কেন ব্রাহ্মণরা বেদ অনুসারে সবচেয়ে বেশী সম্মান লাভ করেছে। এমনটিই হচ্ছে আজকের বর্তমান সমাজে। বুদ্ধিজীবিরা এবং অভিজ্ঞরা আমাদের সম্মান অর্জন করেন কারণ তারা তৈরি করেন দিক প্রদর্শনকারী সারা মানবতার জন্য। কিন্তু যেমনভাবে পূর্বে আলোচিত হয়েছে যে, বেদে শ্রমের মর্যাদা সমভাবে জোর দেওয়া হয়েছে এবং এই কারণেই কোনো প্রকার বৈষম্যের উপাদান নেই।

৬।
বৈদিক সংস্কৃতিতে সবাইকে ধরা হয় শূদ্র হিসেবে জন্ম। তারপর ব্যক্তির শিক্ষা-দীক্ষা দ্বারা সে পরিণত হয় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যতে। এই শিক্ষা-দীক্ষার পূর্ণতাকে ধরা হয় দ্বিতীয় জন্ম। একারণেই এই তিন বর্ণকে বলা হয় "দ্বিজ" বা দু'জন্মা। কিন্তু যারা রয়ে যায় অশিক্ষিত (যেকোনো কারণেই হোক) তারা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়। তারা চালিয়ে যায় শূদ্র হিসেবে এবং করে যায় সমাজের সেবামূলক কাজসমূহ।

৭।
এক ব্রাহ্মণের পুত্র, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করতে অসমর্থ হয়, পরিণত হয় শূদ্রে। তেমনিভাবে শূদ্রের পুত্র অথবা এমনকি দস্যু, যদি সে তার শিক্ষা-দীক্ষা সম্পূর্ণ করে, তাহলে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয় কিংবা বৈশ্য হতে পারে। এ হচ্ছে নির্ভেজাল যোগ্যতা অনুযায়ী ব্যবস্থা। যেমনভাবে এখনকার সময়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয়, যজ্ঞপবিত দেয়া হতো বৈদিক নিয়ম অনুসারে। তাছাড়া, আচরণবিধির সাথে অসম্মতি ঘটলে যজ্ঞপবিত নিয়ে নেয়া হতো বর্ণগুলোর।

৮।
বৈদিক ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে বর্ণ পরিবর্তনের -

(ক)
ঋষি ঐতরেয়া ছিলেন দাস বা অপরাধীর পুত্র কিন্তু তিনি পরিণত হন শীর্ষ ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজন এবং লেখেন ঐতরেয়া ব্রহ্ম এবং ঐতরেয়াপোনিষদ। ঐতরেয়া ব্রহ্মকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে ধরা হয় ঋগবেদ বোঝার জন্য।

(খ)
ঋষি ঐলুশ জন্মেছিলেন দাসীর ঘরে যিনি ছিলেন জুয়াখোর এবং নিচু চরিত্রের লোক। কিন্তু এই ঋষি ঋগবেদের উপর গবেষণা করেন এবং কিছু বিষয় আবিষ্কার করেন। তিনি শুধুমাত্র ঋষিদের দ্বারা আমন্ত্রিতই হতেন না এমনকি আচার্য্য হিসেবেও অধিষ্ঠিত হন। (ঐতরেয়া ব্রহ্ম ২.১৯)

(গ)
সত্যকাম জাবাল ছিলেন এক পতিতার পুত্র যিনি পরে একজন ব্রাহ্মণ হন।

(ঘ)
প্রীষধ ছিলেন রাজা দক্ষের পুত্র যিনি পরে শূদ্র হন। পরবর্তীতে তিনি তপস্যা দ্বারা মোক্ষলাভ করেন প্রায়ঃশ্চিত্তের পরে। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৪)
যদি তপস্যা শূদ্রদের জন্য নিষিদ্ধ হতো যেমনভাবে উত্তর রামায়ণের নকল গল্প বলে, তাহলে প্রীষধ কিভাবে তা করল?

(ঙ)
নবগ, রাজা নেদিস্থের পুত্র পরিণত হন বৈশ্যে। তার অনেক পুত্র হয়ে যান ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.১.১৩)

(চ)
ধৃষ্ট ছিলেন নবগের (বৈশ্য) পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং তার পুত্র হন ক্ষত্রিয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.২.২)

(ছ)
তার পরবর্তী প্রজন্মে কেউ কেউ আবার ব্রাহ্মণ হন। (বিষ্ণু পুরাণ ৯.২.২৩)

(জ)
ভগবদ অনুসারে অগ্নিবেশ্য ব্রাহ্মণ হন যদিও তিনি জন্ম নেন এক রাজার ঘরে।

(ঝ)
রাথোটর জন্ম নেন ক্ষত্রিয় পরিবারে এবং পরে ব্রাহ্মণ হন বিষ্ণু পুরাণ ও ভগবদ অনুযায়ী।

(ঞ)
হরিৎ ব্রাহ্মণ হন ক্ষত্রিয়ের ঘরে জন্ম নেয়া সত্ত্বেও। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৩.৫)

(ট)
শৌনক ব্রাহ্মণ হন যদিও ক্ষত্রিয় পরিবারে জন্ম হয়। (বিষ্ণু পুরাণ ৪.৮.১)
এমনকি বায়ু পুরাণ, বিষ্ণু পুরাণ ও হরিবংশ পুরাণ অনুযায়ী শৌনক ঋষির পুত্রেরা সকল বর্ণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
একই ধরনের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় গ্রীতসমদ, বিতব্য ও বৃৎসমতির মধ্যে।

(ঠ)
মাতঙ্গ ছিলেন চন্ডালের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন।

(ড)
রাবণ জন্মেছিলেন ঋষি পুলৎস্যের ঘরে কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ঢ)
প্রবৃদ্ধ ছিলেন রাজা রঘুর পুত্র কিন্তু পরে রাক্ষস হন।

(ণ)
ত্রিশঙ্কু ছিলেন একজন রাজা যিনি পরে চন্ডাল হন।

(ত)
বিশ্বামিত্রের পুত্রেরা শূদ্র হন। বিশ্বামিত্র নিজে ছিলেন ক্ষত্রিয় যিনি পরে ব্রাহ্মণ হন।

(থ)
বিদুর ছিলেন এক চাকরের পুত্র কিন্তু পরে ব্রাহ্মণ হন এবং হস্তিনাপুর রাজ্যের মন্ত্রী হন।

৯।
"শূদ্র" শব্দটি বেদে দেখা গেছে প্রায় ২০ বারের মতো। কোথাও এটি অবমাননাকরভাবে ব্যবহৃত হয়নি। কোথাও বলা হয়নি শূদ্রেরা হলো অস্পর্শযোগ্য, জন্মগতভাবে এই অবস্থাণে, বেদ শিক্ষা হতে অনুনোমোদিত, অন্যান্য বর্ণের তুলনায় নিম্ন অবস্থাণের, যজ্ঞে অনুনোমোদিত।

১০।
বেদে বলা হয়েছে শূদ্র বলতে বোঝায় কঠিন পরিশ্রমী ব্যক্তি। (তপসে শূদ্রম্‌ - যজুর্বেদ ৩০.৫)
একারণেই পুরুষ সুক্ত এদের বলে পুরো মানব সমাজের কাঠামো।

১১।
যেহেতু বেদ অনুযায়ী চার বর্ণসমূহ বলতে বোঝায় চার প্রকারের কর্মকান্ড যা পছন্দের উপর ভিত্তি করে, একই ব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে চার বর্ণের বৈশিষ্ট্য চার ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এইভাবে সকলেই চার বর্ণের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সারল্যতার জন্য, আমরা বলি প্রধান পেশাকে বর্ণের পরিচয় হিসেবে। এবং এই কারণে সকল মানুষের উচিত পূর্ণভাবে চার বর্ণ হবার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করা, যেমনভাবে বেদের জ্ঞান আমাদের বলে। এই হলো পুরুষ সুক্তের সারাংশ।

ঋষি বশিষ্ঠ, বিশ্বামিত্র, অঙ্গীরা, গৌতম, বামদেব ও কন্ব - এরা সকলেই চার বর্ণের বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তারা বৈদিক মন্ত্রের অর্থ উদ্ভাবন করেছেন, দস্যু দমন করেছেন, দৈহিক শ্রমের কর্ম করেছেন এবং নিজেদেরকে যুক্ত করেছেন সমাজ কল্যাণের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায়।
আমাদেরও উচিত এমনটিই হওয়া।

অবশেষে আমরা দেখলাম বৈদিক সমাজ সকল মানুষকে একই জাতি বা গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করে, শ্রমের মর্যাদা বহাল রাখে, এবং সকল মানুষের জন্য সমান সুযোগ প্রদান করে যাতে তারা নিজ নিজ বর্ণ গ্রহণ করতে পারে।
বেদে কোনো প্রকার জন্মগত বৈষম্যের উল্লেখ নেই।
আমরা যেন সকলে একযুক্ত হয়ে একটি পরিবারের ন্যায় একতাবদ্ধ হতে পারি, প্রত্যাখান করতে পারি জন্মগত সকল বৈষম্যকে এবং একে অপরকে ভাই-বোন হিসেবে সদ্ব্যবহার করতে পারি।
আমরা যেন সকল পথভ্রষ্টকারীদের ভুল পথে এগুনো ব্যাহত করতে পারি যারা বেদে বর্ণভেদ সম্পর্কে ভিত্তিহীন দাবী করে এবং দমন করি সকল দস্যু, অসুর, রাক্ষসদের।
আমরা যেন সকলে আসতে পারি বেদের আশ্রয়ে এবং একত্রে কাজ করে মানবতার বন্ধনকে আরো দৃঢ় করতে পারি এক পরিবার হিসেবে।

সুতরাং বেদ অনুযায়ী কোনো বর্ণভেদ নেই।

--------------------------

ফেইসবুকের এক গ্রুপের মাধ্যমে এই লেখাটি ইংরেজীতে পাই যেটিকে বাংলায় অনুবাদ করি। পাঠকের কাছে আশা করছি কোনো প্রকার ভাষাগত ভুল-ত্রুটী ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে মার্জনা করে দিবেন।

_________________________

There is no caste system in VEDAS



It is unfortunate that in this country of ours, where Vedas were the foundation of our culture, we forgot these original lessons of Vedas and got trapped in a variety of misconceptions regarding birth-based caste system and discrimination of people born in certain castes collectively known as Shudras.
The misleading theories of communists and biased indologists have already caused a great damage to our society and have sown seeds of differences. It is unfortunate that so-called Dalits consider themselves outcaste and hence we fail to unite together for prosperity and security. The only solution is to go back to the roots – the Vedas – and rebuild our understanding of our relationships with each other.
In this article, we shall evaluate the reality of caste system in Vedas and actual meaning of Shudra.
1.
As discussed in the first article “Vedas and Shudra”, there is absolutely no element of hatred or discrimination in Vedas regarding any person – be he or she a Brahmin, Vaishya, Kshatriya or Shudra.
2.
The concept of caste is relatively new. Vedas contain no word that can be considered a synonym for ‘caste’. The two words commonly considered to mean ‘caste’ are Jaati and Varna. However the truth is that, all the three mean completely different things.

Caste is a European innovation having no semblance in Vedic culture.


Jaati
Jaati means a classification based on source of origin. Nyaya Sutra states “Samaanaprasavaatmika Jaatih” or those having similar birth source form a Jaati.
An initial broad classification made by Rishis is 4-fold: Udbhija (coming out of ground like plants), Andaja (coming out of eggs like birds and reptiles), Pindaja (mammals) and Ushmaj (reproducing due to temperature and ambient conditions like virus, bacteria etc).
Similarly, various animals like elephant, lion, rabbits etc form different ‘Jaati’. In same manner, entire humanity forms one ‘Jaati’. A particular Jaati will have similar physical characteristics, cannot change from one Jaati to another and cannot cross-breed. Thus Jaati is creation of Ishwar or God.
Brahmin, Kshatriya, Vaishya and Shudra are no way different Jaati because there is no difference in source of birth or even physical characteristics to differentiate between them.
Later, word ‘Jaati’ started being used to imply any kind of classification. Thus in common usage, we call even different communities as different ‘Jaati’. However that is merely convenience of usage. In reality, all humans form one single Jaati.

Varna
The actual word used for Brahmin, Kshatriya, Vaishya and Shudra is ‘Varna’ and not Jaati.
The word ‘Varna’ is used not only for these four, but also for Dasyu and Arya.
‘Varna’ means one that is adopted by choice. Thus, while Jaati is provided by God, ‘Varna’ is our own choice.
Those who choose to be Arya are called ‘Arya Varna’. Those who choose to be Dasyu become ‘Dasyu Varna’. Same for Brahmin, Kshatriya, Vaishya and Shudra.
That is why Vedic Dharma is called ‘Varnashram Dharma’. The word Varna itself implies that this is based on complete freedom of choice and meritocracy.
3.
Those involved in intellectual activities have chosen ‘Brahmin Varna’. Those into defense and warfare are ‘Kshatriya Varna’. Those in economics and animal rearing are ‘Vaishya Varna’ and those involved in other support functions are “Shudra Varna”. They refer merely to various choices of professions and have nothing to do with any Jaati or birth.
4.
Often mantras of Purush Sukta are cited to prove that Brahmins originated from Mouth, Kshatriya from hands, Vaishya from thighs and Shudras from legs of God. Thus these varnas are birth-based. However nothing could be more deceptive. Let us see why:
a. Vedas describe God to be shapeless and unchangeable. How can such a God take shape of a gigantic person if He is shapeless. Refer Yajurved 40.8.
b. If indeed this were true, this would defy the theory of Karma of Vedas. Because as per Theory of Karma, one’s family of birth can change as per his or her deeds. So one born in Shudra family can take birth as king’s son in next birth. But if Shudras are born from feet of God, how can same Shudra again take birth from hands of God?
c. Soul is timeless and never born. So soul can have no Varna. It is only when it takes birth as human that it has a chance to opt a Varna. Then what is meant by a Varna coming from one part of God’s body? If Soul did not take birth from God’s body, then does it mean body of soul is prepared from God’s body parts? But as per Vedas, even nature is eternal. And same atoms recycle among various humans. So it is technically impossible for any one taking birth from God’s body, even if we assume God to be having a body.

d. The said Purush Sukta is in 31st Chapter of Yajurved, apart from Rigved and Atharvaved with some variations. In Yajurved it is 31.11. To see what it actually means, let us look at the previous mantra 31.10.
It asks a question – Who is mouth? Who is hand? Who is thigh and who is leg?
The next mantra gives the answer – Brahmin is mouth. Kshatriya is hand. Vaishya is thigh and Shudra becomes the legs.
Note that the mantra does not say that Brahmin “takes birth” from mouth…It says Brahmin “is” mouth. Because if the mantra would mean “takes birth” it would not answer the question in previous mantra “Who is mouth?”
For example, if I ask “Who is Dashrath?”, an answer like “Rama is born from Dashrath” would be meaningless!

The actual meaning is:
In society, Brahmins or intellectuals form the brain or head or mouth that think and speak. Kshatriya or defense personnel form the hands that protect. Vaishya or producers and businessmen form the thigh that support and nurture (note that thigh bone or femur produces blood and is strongest bone). In Atharvaveda, instead of Uru or Thigh, the word “Madhya” is used meaning that it denotes also the stomach and central part of body.
Shudra or Labor force form the legs that lay the foundation and make the body run.
The next mantras talk of other parts of this body like mind, eyes etc. The Purush Sukta describes the origin and continuation of creation including human society and states ingredients of a meaningful society.
Thus, its a pity that such a beautiful allegorical description of society and creation is distorted to mean something that is completely contrary to Vedic ethos.
Even the Brahman texts, Manusmriti, Mahabharat, Ramayan and Bhagvat do not state anything even close to crazy hypothesis of God creating Brahmins by tearing of flesh from his mouth, Kshatriya from flesh of hands and so on.
5.
It is thus obvious why Brahmins are accorded high respect in Vedas. This is same as what happens even in modern society. Scholars and experts get our respect because they form the direction-providers for entire humanity. However, as we have discussed in previous articles, dignity of labor is equally emphasized in Vedas and hence there is no element of discrimination.
6.
In Vedic culture, everyone is considered to be born as Shudra. Then based on his or her education, one becomes a Brahmin, Kshatriya or Vaishya. This completion of education is considered to be a second birth. Hence these three Varnas are called “Dwija” or twice-born. But those who remain uneducated for whatever reasons are not discarded from society. They continue as Shudra and perform support-activities for the society.
7.
A son of Brahmin, if he fails to complete his education, becomes a Shudra. Similarly, son of a Shudra or even a Dasyu, if he completes his education can become a Brahmin, Kshatriya or Vaishya. This is pure meritocracy. The way degrees are accorded today, Yajnopaveet was provided in Vedic system. Further, non-compliance with the code of conduct for each Varna could result in taking away of the Yajnopaveet.
8.
Many examples exist of change of Varnas in Vedic history.
a. Aitareya Rishi was son of a Daasa or criminal but became a Brahmin of highest order and wrote Aitareya Brahman and Aitareyopanishad. Aitareya Brahman is considered critical to understand Rigveda.
b. Ailush Rishi was son of a Daasi, gambler and of low character. However he researched on Rigveda and made several discoveries. Not only was he invited by Rishis but also made an Acharya. (Aitareya Brahman 2.19)
c. Satyakaam Jaabaal was son of a prostitute but became a Brahmin.

d. Prishadh was son of King Daksha but became a Shudra. Further he did Tapasya to achieve salvation after repenting.
(Vishnu Puran 4.1.14)
Had Tapasya been banned for Shudra as per the fake story from Uttar Ramayan, how could Prishadh do so?
e. Nabhag, soon of King Nedishtha became Vaishya. Many of his sons again became Kshatriya. (Vishnu Puran 4.1.13)
f. Dhrist was son of Nabhag (Vaishya) but became Brahmin and his son became Kshatriya (VP 4.2.2)
g. Further in his generation, some became Brahmin again (VP 9.2.23)
h. As per Bhagvat, Agniveshya became Brahmin though born to a king.
i. Rathotar born in Kshatriya family became a Brahmin as per Vishnu Puran and Bhagvat.
j. Haarit became Brahmin though born to Kshatriya (VP 4.3.5)
k. Shaunak became Brahmin though born in Kshatriya family. (VP 4.8.1). In fact, as per Vayu Puran, Vishnu Puran and Harivansh Puran, sons of Shaunak Rishi belonged to all four Varnas.
Similar examples exist of Gritsamad, Veethavya and Vritsamati.
l. Matanga was son of Chandal but became a Brahmin.
m. Raavan was born from Pulatsya Rishi but became a Rakshas.
n. Pravriddha was son of Raghu King but became a Rakshas.
o. Trishanku was a king but became a Chandal
p. Sons of Vishwamitra became Shudra. Vishwamitra himself was a Kshatriya who later became a Brahmin.
q. Vidur was son of a servant but became a Brahmin and minister of Hastinapur empire.
9.
The word “Shudra” has come in Vedas around 20 times. Nowhere has it been used in a derogatory manner. Nowhere it mentions that Shudras are untouchable, birth-based, disallowed from study of Vedas, lesser in status than other Varnas, disallowed in Yajnas.
10.
In Vedas, Shudra means a hard-working person. (Tapase Shudram – Yajurved 30.5). And that is why Purush Sukta calls them as foundation of entire human society.
11.
Since the four Varnas refer to 4 kinds of activities by choice, as per Vedas, the same person exhibits characteristics of the 4 varnas in different situations. Thus everyone belongs to all the 4 varnas. However, for simplicity sake, we refer to the predominant profession to be the representative Varna.
And hence, all humans should strive to be all the 4 Varnas to best of their capabilities, as per Vedic wisdom. This is the essence of Purush Sukta.

The Rishis like Vasisth, Vishwamitra, Angira, Gautam, Vaamdeva and Kanva exhibited traits of all the four Varnas. They discovered meanings of Vedic mantras, destroyed Dasyus, did manual labor and indulged in wealth management for social welfare.
We should also emulate the same.
In summary, we see that the Vedic society considers all humans to be one single Jaati or race, upholds the dignity of labor and provides equal opportunity for all humans to adopt the Varna of their choice.
There is no element of birth-based discrimination of any manner in the Vedas.
May we all unite together as one integrated family, reject the last element of birth-based discrimination of any manner and embrace each other as brothers and sisters.
May we also thwart the designs of those who want to mislead us by making baseless claims of casteism in Vedas and destroy the criminals aka Dasyu/Daas/Rakshas.
May we all come under the shelter of Vedas and work together to strengthen the humanity as one single family.

There is no caste-system in Vedas.]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29416316 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29416316 2011-07-20 05:20:59
আমি কেন হিন্দু? কিছুক্ষণ পর আমাদের মধ্যে কথাবার্তা শুরু হলো। আমি তাকে বললাম আমি ভারত থেকে আগত। ভদ্রমহিলা আমাকে জিজ্ঞেস করল, "আপনার বিশ্বাস কি?" "মানে?" আমি না বুঝতে পেরে প্রশ্ন করলাম।
"মানে আমি জানতে চাচ্ছি আপনার ধর্ম কি? আপনি কি খ্রীষ্টান নাকি মুসলিম?"
"না," আমি বললাম, "আমি খ্রীষ্টানও নই, মুসলিমও নই।"
ভদ্রমহিলা আমার দিকে অতি বিস্ময়ের সাথে তাকাল।
"তাহলে আপনি কি?"
"আমি একজন হিন্দু" আমি বললাম।
ভদ্রমহিলা আমার দিকে এমনভাবে তাকাল যেন তিনি কোন খাঁচায় আটকানো কোনো জন্তু দেখছেন। উনি মনে হলো যেন আমার কথা বুঝতে পারছেন না। (একজন সাধারণ ইউরোপীয়ান বা আমেরিকান খ্রীষ্টধর্ম কিংবা ইসলাম সম্পর্কে জানেন। কিন্তু হিন্দুধর্ম!)
আমি ভদ্রমহিলাকে বোঝালাম - আমার এক হিন্দু বাবা ও হিন্দু মায়ের ঘরে জন্ম। তাই জন্মসূত্রে আমি একজন হিন্দু।
"তাহলে কে আপনাদের নবী/প্রবক্তা?" ভদ্রমহিলা আমাকে জিজ্ঞেস করলেন।
"আমাদের কোনো নবী/প্রবক্তা নেই।" আমি উত্তরে বললাম।
"আপনাদের ধর্মগ্রন্থ কি?" উনি প্রশ্ন করলেন।
"আমাদের কোনো নির্দিষ্ট একটি ধর্মগ্রন্থ নেই। বরং আমাদের শত শত, হাজার হাজার ধর্মীয়, দার্শনিক গ্রন্থ আছে।" আমি উত্তরে বললাম।
"ওহ প্লীজ, অন্তত এতটুকু তো বলবেন আপনাদের একজন ঈশ্বর আছে। নাকি তাও নেই? যেমন আমাদের আছে গড্‌, মুসলিমদের আল্লাহ।"
আমি কিছুক্ষণ ভাবলাম। মুসলিম ও খ্রীষ্টানরা এক ঈশ্বরে (পুরুষ) বিশ্বাস করে যিনি বিশ্ব তৈরি করেছেন। এসব ধর্ম মনুষ্যকেন্দ্রিক। এই ভদ্রমহিলার চিন্তা-ভাবনাও একইরকম। উনার কাছে কিংবা যেকোনো হিন্দুধর্ম সম্পর্কে অজ্ঞাত মানুষের কাছে ধারণাটুকু এমনতর যে একটি ধর্মের জন্য এক নবী/প্রবক্তা, একটি ধর্মগ্রন্থ, এক ঈশ্বর থাকতে লাগবে। এদের চিন্তা-ভাবনা এত সঙ্কীর্ণ ও এমনভাবে তৈরি যে ইহা ভিন্ন অন্য কিছু এদের কাছে গ্রহণযোগ্যই নয়। আমি বুঝতে পারলাম উনার ধর্ম সম্বন্ধে চিন্তা-ভাবনা।
আপনি হিন্দুধর্মকে বিশ্বের বর্তমান বড় বড় ধর্মগুলোর সাথে তুলনা করতে পারবেন না যেখানে আপনাকে এক ঈশ্বরেই বিশ্বাস করতে হবে। আমি ভদ্রমহিলাকে বোঝালাম, "আপনি এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে হিন্দু হতে পারেন। আবার বহু ঈশ্বরে বিশ্বাস করেও হিন্দু হতে পারেন। এমনকি আপনি কোনো ঈশ্বরে বিশ্বাস না করেও হিন্দু হতে পারেন, যেমনভাবে একজন নাস্তিক আসলে হিন্দুই।"
কথাগুলো উনার কাছে পাগলের মতো শোনাল। উনি এমন অবিচ্ছিন্ন রকমের ধর্ম কল্পনাও করতে পারেননি যা কিনা হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসছে, টিকে আছে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে।
"আমি বুঝছি না। কিন্তু বিষয়টি খুব আকর্ষণীয় লাগছে। আপনি কি ধার্মিক?" ভদ্রমহিলা প্রশ্ন করলেন।
'আমি বুঝে উঠতে পারছিলাম না উনাকে কি উত্তর দেব।'
আমি বললাম, "আমি প্রতিনিয়ত মন্দিরে যাই না। আমি নিয়মিত ধর্মীয় আচার-নিষ্ঠা পালন করি না। ছোটবেলায় ধর্মীয় উৎসবসমূহে অংশ নিতাম। সেসময় ওসব খুব উপভোগ করতাম।"
"উপভোগ করতেন? আপনি কি ঈশ্বরকে ভয় পান না?"
"ঈশ্বর তো বন্ধুর মতো। না - আমি ঈশ্বরকে ভয় পাই না। কেউ আমার উপর কখনো চাপ প্রয়োগ করেনি এসব নিয়ম-নিষ্ঠা পালন করার জন্য।"
উনি কিছুক্ষণ ভাবলেন, তারপর জিজ্ঞেস করলেন, "আপনি কি কখনো ভেবেছেন অন্য কোনো ধর্মে ধর্মান্তরিত হবার বিষয়ে?"
"কেন ভাববো? যদি আমি হিন্দুধর্মের কিছু আচার-নিষ্ঠাকে চ্যালেঞ্জও করি তবুও কেউ আমাকে অন্য ধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। কারণ একজন হিন্দু হিসেবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ও বস্তুনিষ্ঠভাবে চিন্তা-ভাবনা করতে পারি, কোনো প্রকার শর্তাবলী ছাড়া। আমি একজন হিন্দু হিসেবে আছি জোর করে না, বরং নিজ পছন্দে।"
আমি উনাকে বোঝালাম, হিন্দুধর্ম আসলে কোনো ধর্ম নয়, বরং এক সেট বিশ্বাস ও রীতি-নীতি। এ কোনো এমন ধর্ম নয় যা খ্রীষ্টধর্ম বা ইসলামের মতো কোনো একব্যক্তির দ্বারা প্রচারিত অথবা এর কোনো সংগঠিত সংঘ বা সমিতি নেই যেমন খ্রীষ্টানদের আছে চার্চ বা অর্ডার। হিন্দুধর্মে কোনো সংস্থাপণ বা কর্তৃত্বধারী গোষ্ঠী নেই অন্য ধর্মগুলোর মতো।"
"তাহলে আপনি কি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন না?" মনে হলো যেন ভদ্রমহিলা সব সাদা-কালোতে চান।
"আমি তো তা বলিনি। আমি কোনো ঈশ্বরিক শক্তিকে অস্বীকার করছি না। আমাদের বেদসমূহ, উপনিষদ, গীতা বলেছে - ঈশ্বর আছেনও আবার নেইও। আমরা কিন্তু সেই সর্বশক্তিমান নির্বস্তুক পরব্রহ্ম যিনি এই বিশ্বব্রহ্মান্ডের তৈরিকারক তার প্রার্থনা ঠিকই করি।"
"আপনারা কেন একজন ব্যক্তির ন্যায় ঈশ্বরের উপাসনা করেন না?"
"আমাদের ভাবনাধারা হলো একটা ধারণার মতো, যা কিনা নির্বস্তুক। আমাদের ঈশ্বর সম্পর্কে ভাবনা একজন ব্যক্তিগত ঈশ্বরের মতো না যেমনটি আপনাদের। এ তো আমাদের কাছে ভাবনারও অতীত যে আপনারা একজন ব্যক্তির মতো ঈশ্বরের আরাধনা করেন যিনি কিনা এমনতর যে, মেঘের মাঝে লুকায়িত যেখান থেকে উনি আমাদের যুক্তিহীন গল্প শুনিয়ে যাচ্ছেন উনার পছন্দমত বার্তাবাহকদের দ্বারা এমনভাবে যেন আমাদের উনাকে উপাসনা করতেই হবে; না করলে শাস্তি। আমার মনে হয় না ঈশ্বর কোনো স্বৈরশাসক বা সম্রাট যিনি চান আমরা উনার সম্মান করি ও ভয় করি। আমি ভদ্রমহিলাকে বললাম, "এসব চিন্তা-ভাবনা শুধুমাত্র অল্প শিক্ষিত মানুষজনদের অলীক কল্পনা বা মিথ্যা বিশ্বাস। এরকম সাধারণ নৃতাত্ত্বিক ধর্মীয় ব্যবস্থা হিন্দুধর্মের লোকদের মধ্যেও আছে যারা ঈশ্বরকে একজন ব্যক্তির ন্যায় বিশ্বাস করে।"
হিন্দুধর্মের মধ্যেও এমন কুসংস্কার আছে। হিন্দুধর্মের দার্শনিক দিকগুলো এসব কুসংস্কারকে ভুল প্রমাণ করে। "তাও ভালো আপনি স্বীকার করলেন আপনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন। তা, আপনি তো বললেন আপনি প্রার্থনা করেন। আপনাদের প্রার্থনা কি তাহলে?" ভদ্রমহিলা জিজ্ঞেস করলেন। "লোকো সমস্ত সুখিনো ভবন্তু। ওঁম শান্তি শান্তি শান্তি।"
"এর অর্থ কি?"
"জগতের সকল কিছু সুখে থাকুক। শান্তি! শান্তি! শান্তি!"
"হুমম...আকর্ষণীয়। আমি আরো জানতে চাই এই ধর্ম সম্পর্কে। এ এমন গণতান্ত্রিক, এমন স্বাধীন, উদারপন্থী।" উনার আগ্রহ বেড়ে গেল।
"হিন্দুধর্ম হলো একজন ব্যক্তির ধর্ম, ব্যক্তির জন্য ধর্ম, ব্যক্তির দ্বারা ধর্ম যার শিকড় রয়েছে বেদ ও গীতার মতো ধর্মগ্রন্থে। পুরো বিষয়টা হলো একজন ব্যক্তির ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানো তার নিজস্ব ব্যক্তিগত মাধ্যমে, তার নিজস্ব মানসিকতা ও অন্তর্নিহিত বিবর্তনের মাধ্যমে - ইহা এমনি সহজ।"
"কিভাবে তাহলে একজন ব্যক্তি হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত হয়?"
"কেউ আপনাকে হিন্দুধর্মে ধর্মান্তরিত করতে পারবে না। এ কোনো ধর্ম নয়। বরং এক জীবনপ্রণালী, জীবনে চলার রীতি-নীতি সম্বলিত ব্যবস্থা। সকল কিছুই হিন্দুধর্মে গ্রহণযোগ্য কারণ কোনো একক কর্তৃত্বধারী বা সংগঠন নেই যা এর ব্যবস্থাকে বাতিল ঘোষণা করবে বা এর বিরুদ্ধে প্রশ্ন করবে।"
"যেমন ধরুন একজন প্রকৃত অন্বেষণকারীর কাছে বাইবেল গাইডলাইনের মতো যখন ইহা বলে 'ঈশ্বরের রাজ্য আপনার মধ্যেই।'" আমি উনাকে মনে করিয়ে দিলাম যীশুর শিক্ষাসমূহ যাতে উনি আমাদের সকলকে ভালোবাসতে বলে গেছেন। এখানেই আপনি পাবেন জীবনের অর্থ। সৃষ্টির সকল কিছুকে ভালোবাসাই হলো পরম সত্য। "ঈশ্বর বিরাজিত সকল কিছুতেই। কিছুই ঈশ্বর থেকে দূরে নয় কারণ ঈশ্বর সকল কিছুতেই। সকল জীব ও জড়কে ঈশ্বর জ্ঞানে সম্মান করা উচিত আমাদের। ইহাই হিন্দুধর্ম আমাদের শিক্ষা দেয়। এই কারণেই একে বলে সনাতন ধর্ম, চিরন্তন বিশ্বাস। এ এক ধর্ম নামক রীতি দ্বারা চালিত যার অর্থ জীবন চলার প্রথা। হিন্দুধর্মের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজের প্রতি সৎ থাকা। এর কোনো একক ধ্যান-ধারণা নেই। এটি সকল কিছুর কাছেই উন্মুক্ত। হিন্দুরা এক ঈশ্বরে বিশ্বাস করে যিনি আবার নানা রূপধারণ করতে পারেন। হিন্দুদের কাছে ঈশ্বর সময়হীন ও আকারহীন। বর্তমান হিন্দুদের আদি পূর্বপুরুষগণ বিশ্বাস করতেন চিরন্তন সত্য ও মহাজাগতিক নিয়ম-কানুনে। এইসব সত্য বা নিয়ম-কানুন সবার কাছে উন্মুক্ত যে এ সম্পর্কে আরো গভীরে যেতে চান। কিন্তু হিন্দুদের মাঝেও এমন অংশবিশেষ রয়েছে যারা কুসংস্কারে বিশ্বাস করে অথবা ধর্মীয় উগ্রপন্থী যারা ধর্মকে উলট-পালট করে দিতে চায়।"
অভারতীয়রা হিন্দু শব্দটির জন্ম দেয় সিন্ধু নদের উপত্যকায় উৎপত্তির জন্য। এর ফলে ওই অঞ্চলের মানুষদের তখন হিন্দুধর্মাবলম্বী হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। আমি ভদ্রমহিলাকে বললাম, "ধর্ম এখন এক মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং ইন্ডাস্ট্রীতে রূপান্তরিত হয়েছে যা ধর্মান্তরের মাধ্যমে প্রসারের মার্কেট শেয়ার বাড়াতে চাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ব্যবসা হচ্ছে আধ্যাত্বিকতা। হিন্দুধর্মও ইহা ভিন্ন নয়।"
"আমি একজন হিন্দু কারণ হিন্দুধর্ম অসহিংসতার ডাক দেয়। 'অহিংসা পরমো ধর্ম' - অসহিংসতা হচ্ছে সর্বোচ্চ কর্তব্য। আমি একজন হিন্দু কারণ ইহা আমার মনকে কোনো বিশ্বাস ব্যবস্থার সাথে শর্ত জুড়ে দেয় না। একজন পুরুষ/মহিলা যে তার জন্মগত ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়, সে হলো নকল/ভন্ড এবং তার নিজস্ব আদর্শ, সংস্কৃতি ও জীবনের মূল্যবোধকে মূল্য দেয় না। হিন্দুধর্ম হচ্ছে জগতের প্রথম উৎপন্নিত ব্যবস্থা।"
হিন্দু হিসেবে গর্ববোধ করা উচিত। আমরা যে যাহাই, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত।


----------------------------------------------



ফেইসবুকে এক গ্রুপের মাধ্যমে উপরোক্ত লেখাটি পাই। ইংরেজীতে লেখাটি শুধু বাংলায় অনুবাদ করলাম। বাংলায় জ্ঞান সীমিত বিধায় কোনো প্রকার ত্রুটী থাকলে মার্জনা করে দিবেন। লেখাটির মূল লেখক আমি নই। প্রকৃত লেখক কে সেটি ওই গ্রুপের পোস্টধারী নিজেও নন। তাই লেখার ক্রেডিট কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে কাউকে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে দুঃখিত।

এটি সকল ধর্মাবলম্বী মানুষদেরই পড়া উচিত। উপরের অনেক বিষয়ই আছে যা হিন্দুধর্মাবলম্বীরা জানেন না অথবা অন্য মতাদর্শীরাও অবগত নন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে লেখাটি অনুবাদ করা হয়নি।




লেখাটির মূল ইংরেজী অংশটুকু নিচে তুলে ধরলাম:


=============================


WHY I AM A HINDU - Best Explanation..

Four years ago, I was flying from JFK NY Airport to SFO to attend a meeting at Monterey , CA. An American girl was sitting on the right side, near window seat. It indeed was a long journey - it would take nearly seven hours. I was surprised to see the young girl reading a Bible unusual of young Americans.
After some time she smiled and we had few acquaintances talk. I told her that I am from India Then suddenly the girl asked: 'What's your faith?' 'What?' I didn't understand the question.
'I mean, what's your religion? Are you a Christian? Or a Muslim?'*
'No!' I replied, 'I am neither Christian nor Muslim'. Apparently she appeared shocked to listen to that. 'Then who are you?'
'I am Hindu’, I said.
She looked at me as if she was seeing a caged animal. She could not understand what I was talking about.* A common man in Europe or US knows about Christianity and Islam, as they are the leading religions of the world today. But a Hindu, what?.*
I explained to her - I am born to a Hindu father and Hindu mother. Therefore, I am a Hindu by birth.*
Who is your prophet?' she asked. 'We don't have a prophet,' I replied.*
'What's your Holy Book?'* 'We don't have a single Holy Book, but we have hundreds and thousands of philosophical and sacred scriptures,' I replied.*
'Oh, come on at least tell me who is your God?'* 'What do you mean by that?'* 'Like we have Jesus and Muslims have Allah - don't you have a God?'*
I thought for a moment. Muslims and Christians believe one God (Male God) who created the world and takes an interest in the humans who inhabit it. Her mind is conditioned with that kind of belief.* According to her (or anybody who doesn't know about Hinduism), a religion needs to have one Prophet, one Holy book and one God. The mind is so conditioned and rigidly narrowed down to such a notion that anything else is not acceptable. I understood her perception and concept about faith.
You can't compare Hinduism with any of the present leading religions where you have to believe in one concept of god.* I tried to explain to her: 'You can believe in one god and can be a Hindu. You may believe in multiple deities and still you can be a Hindu. What's more - you may not believe in god at all, still you can be a Hindu. An atheist can also be a Hindu.'*
This sounded very crazy to her. She couldn't imagine a religion so unorganized, still surviving for thousands of years, even after onslaught from foreign forces.*
'I don't understand but it seems very interesting. Are you religious? ' What can I tell to this American girl?*
I said: 'I do not go to temple regularly. I do not make any regular rituals. I have learned some of the rituals in my younger days. I still enjoy doing it sometimes..'*
'Enjoy? Are you not afraid of God?'*
'God is a friend. No- I am not afraid of God. Nobody has made any compulsions on me to perform these rituals regularly. '*
She thought for a while and then asked: 'Have you ever thought of converting to any other religion?'*
'Why should I?. Even if I challenge some of the rituals and faith in Hinduism, nobody can convert me from Hinduism. Because, being a Hindu allows me to think independently and objectively, without conditioning. I remain as a Hindu never by force, but choice.'
I told her that Hinduism is not a religion, but a set of beliefs and practices. It is not a religion like Christianity or Islam because it is not founded by any one person or does not have an organized controlling body like the Church or the Order, I added. There is no institution or authority.*
'So, you don't believe in God?' she wanted everything in black and white. 'I didn't say that. I do not discard the divine reality. Our scripture, or Sruthis or Smrithis - Vedas and Upanishads or the Gita - say God might be there or he might not be there. But we pray to that supreme abstract authority (Para Brahma) that is the creator of this universe.'*
'Why can't you believe in one personal God?'* 'We have a concept - abstract - not a personal god. The concept or notion of a personal God, hiding behind the clouds of secrecy, telling us irrational stories through few men whom he sends as messengers, demanding us to worship him or punish us, does not make sense. I don't think that God is an autocratic emperor who wants others to respect him or fear him. 'I told her that such notions are just fancies of less educated human imagination and fallacies, adding that generally ethnic religious practitioners in Hinduism believe in personal gods.
The entry level Hinduism has over-whelming superstitions too. The philosophical side of Hinduism negates all superstitions.* 'Good that you agree God might exist. You told that you pray. What is your prayer then? she asked' 'Loka Samastha Suk ino Bhavantu. Om Shanti, Shanti, Shanti, '* 'Funny,' she laughed, 'What does it mean?'* 'May all the beings in all the worlds be happy. Om Peace, Peace, Peace. '*
'Hmm ..very interesting.. I want to learn more about this religion. It is so democratic, broad-minded and free' she exclaimed.* 'The fact is Hinduism is a religion of the individual, for the individual and by the individual with its roots in the Vedas and the Bhagavad-Gita. It is all about an individual approaching a personal God in an individual way according to his temperament and inner evolution - it is as simple as that.'
'How does anybody convert to Hinduism?' 'Nobody can convert you to Hinduism, because it is not a religion, but a set of beliefs, practices and a way of life and culture. Everything is acceptable in Hinduism because there is no single authority or organization either to accept it or to reject it or to oppose it on behalf of Hinduism.
'* For a real seeker, I told her, the Bible itself gives guidelines when it says ' Kingdom of God is within you.' I reminded her of Christ's teaching about the love that we have for each other. That is where you can find the meaning of life. Loving each and every creation of the God is absolute and real. 'Isavasyam idam sarvam Isam - (the God) is present (inhabits) here everywhere – nothing exists separate from the God, because God is present everywhere. Respect every living being and non-living things as God. That's what Hinduism teaches you. Hinduism is referred to as Sanathana Dharma, the eternal faith. It is based on the practice of Dharma, the code of life. The most important aspect of Hinduism is being truthful to oneself. Hinduism has no monopoly on ideas - It is open to all. Hindus believe in one God (not a personal one) expressed in different forms. For them, God is timeless and formless entity. Ancestors of today's Hindus believe in eternal truths and cosmic laws and these truths are opened to anyone who seeks them. But there is a section of Hindus who are either superstitious or turned fanatic to make this an organized religion like others.
The British coin the word 'Hindu' and considered it as a religion. I said: 'Religions have become an MLM (multi-level- marketing) industry that has been trying to expand the market share by conversion. The biggest business in today's world is Spirituality. Hinduism is no exception'* I am a Hindu primarily because it professes Non-violence - 'Ahimsa Paramo Dharma' - Non violence is the highest duty. I am a Hindu because it doesn't conditions my mind with any faith system. A man/ woman who change 's his/her birth religion to another religion is a fake and does not value his/her morals, culture and values in life. Hinduism was the first way of life originated. Be proud to be a hindu and be proud of who you are. Om Namo shivaya, Om Namo Narayanaya Namaha*]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29410645 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29410645 2011-07-10 20:27:51
অভ্র: এক নন-টেকির ভাবনা
বিদেশে এসে বাংলা চর্চা করার খুব প্রয়োজন বোধ করি যখন থেকে দেখতে থাকি এখানে বাঙালী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তান যদি আমেরিকান হিসেবে গড়ে ওঠে তাতে বেশী তৃপ্ত হয়। বাংলা পড়াটা মোটামুটি চালিয়ে যেতাম বাবার জন্য এখানকার স্থাণীয় পত্রিকা আনলে সেটা পড়ে। লেখার জন্য মাধ্যম হয়ে ওঠে অভ্র

যেদিন থেকে অভ্র ব্যবহার শুরু করেছি, সেদিন থেকেই এটার খুব ভক্ত হয়ে উঠেছি। বাংলা লেখা যে এতো সহজেই কম্পিউটারে সম্ভব তা আমার জানা ছিল না (যেহেতু একজন নন-টেকি মানুষ)। অভ্র'র নির্মাতা, ও অমিক্রনল্যাবের সকলকে এই সফটওয়্যারটা তৈরির জন্য বিশাল ধন্যবাদ সবসময়ই দেই যখন অভ্র ব্যবহার করি।

শুধু একটা ছোট উদাহরণ দেই কিভাবে অভ্র এখানকার কিছু মানুষের/কমিউনিটির উপকার করেছে। আমার পরিচিত এখানকার এক বাঙালী প্রফেস্যার আংকেল আছেন। উনি বাংলা লেখালেখি করেন। দু-তিন বছর আগেও উনি নাকি বিজয় ব্যবহার করতেন। কিন্তু অভ্রের সাথে পরিচিত হওয়ার পর থেকে (আমি বলার আগেই উনি অভ্র সম্পর্কে জানতে পারেন ও এটি ব্যবহার শুরু করেন) উনি এখন বিজয় দিয়ে লেখা লিখতে যে সময় লাগত তার চেয়ে অনেক গুণ কম সময়ে লিখতে পারেন অভ্র দিয়ে। উনি বলেন, লেআউটটা সত্যিই সহজ।

আরেকটা উদাহরণ দেই। গত বছর এখানকার এক মন্দির কমিউনিটির বার্ষিক ম্যাগাজিন যেটি দুর্গাপূজায় বের হয়ে থাকে সেটি কম্পিউটারে কম্পোজের দায়িত্ব দেয়া হয় আমাকে। পুরো ম্যাগাজিনটা নাকি এক ব্যক্তি আগে বিজয় দিয়ে করতেন। কিন্তু আমাকে দেবার পরে ৪-৫ দিনের মধ্যে পুরো জিনিসটা শেষ করার পরে উনারাও অবাক। উনারাও উপকৃত হন ও অভ্র সম্পর্কে ধারণা হয় তাদের মাঝেও। (সম্ভবত এ বছরও দায়িত্ব পড়তে পারে!)

বিজয় সম্পর্কে জানতে পারি এই ফোরামিং-ব্লগিং দুনিয়া থেকেই। সাথে আরো জানতে পারি এর পেছনের মোস্তফা জব্বার সম্পর্কে, উনার অবদান (!) বাংলা ভাষার প্রসারে।

আমি খুব বেশী দ্রুত টাইপিস্ট নই। ইংরেজীতে যদিও মোটামুটি, কিন্তু বাংলাতে ততটা না যেটাকে দ্রুত টাইপিস্ট বলা যায়। কিন্তু এই অভ্র ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলা লেখা শুধু সহজই না, বলতে গেলে ফাস্ট আমার ক্ষেত্রে। আমার মতে, এ শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে অভ্র ব্যবহারের মাধ্যমে। যেমনভাবে বলছি, ঠিক তেমনভাবেই লিখছি। অনেকে বলবেন, যার যেটাতে হাত বসে গেছে। কিন্তু আমি শুধু এটুকুই বলব, যার যেটাতেই হাত বসুক না কেন, একজন নতুন ব্যক্তি বাংলা লিখতে যদি অভ্র ব্যবহার শুরু করেন, তাহলে তার অন্যান্য যেকোনো সফটওয়্যারগুলোর চেয়ে সবচেয়ে কম সময় লাগবে বাংলা লেখা শিখতে। অন্তত একজন নন-টেকি হিসেবে এটাই অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার অভ্র ব্যবহার করে।

পরিশেষে আবারও ধন্যবাদ জানাতে চাই অমিক্রনল্যাবকে ও মেহদী হাসান ভাইকে অভ্রের মতো এমন একটি সফটওয়্যার তৈরির জন্য। বর্তমান অভ্র-বিজয় যুদ্ধে উনার ও উনার অভ্রের বিজয় (জব্বারের 'বিজয়' না) আশা করছি।



পূর্ব প্রকাশিত আমার নিজস্ব ব্লগে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29157880 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29157880 2010-05-19 01:19:48
হায়রে পাশ্চাত্য!
প্রত্যেকটি জাতিই তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে সম্মান করে চলে। প্রত্যেকের কাছে ধর্ম যেমন (অন্তত আস্তিকদের কাছে) গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংস্কৃতিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এমনি আমাদের বাঙালী সমাজেরও দীর্ঘ আচার-সংস্কৃতি বহুকাল থেকে বিদ্যমান আছে। বৃটিশ শাসন, পাকিস্তান শাসন আমাদের বাংলা ভাষা কেড়ে নেবার মতো চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আমাদের সংস্কৃতির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা-ভক্তির কাছে।

কিন্তু সম্ভবত গত ২০০০ পরবর্তী সময় থেকে বা হয়ত এর কিছুটা আগে থেকেই আমাদের বাঙালী সমাজে পাশ্চাত্যের প্রভাব ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। বর্তমান সময়ে এর প্রভাব আরো বেশী করে চোখে পড়ার মত। যেখানে বিজয় দিবসের দিন রাস্তা-ঘাটে হিন্দি গান চলে কিংবা নতুন ঢাকায় ছেলে-মেয়েদের কাপড়-চোপড় পশ্চিমা ধাচের পড়ে ঘোরে তখন কি করে আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি সামনের দিনে টিকে থাকবে?

তাছাড়া, আজকাল পশ্চিমা ধাচের মতো বাংলাদেশেও বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সম্পর্ক এবং এর ফলে রমনা পার্কে বা ওইরকম স্থাণগুলোতে যুবক-যুবতী খোলামেলাভাবে যে সব আচরণ করে, তা তো আজ থেকে ২০ বছর আগেও বাঙালী কল্পনাও করতে পারেনি। যে কোনো প্রাচীন সময়ের চেয়ে আজকাল কিশোর-কিশোরী রাস্তায় যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, তাতে মুরুব্বীরাও লজ্জা পাবার অবস্থা দাঁড়ায়।

তাছাড়া, ইংরেজীর কথা তো এখনো বলাই হয়নি। আজকাল ইংরেজীর ব্যবহার বাংলার বদলে যে হারে বাড়ছে, তাতে আমার তো শঙ্কাই হয় কোনদিন জানি বাংলা ভাষাটাই বিশ্ব থেকে বিলীন হয়ে যায়! একবার একটা সেমিনারে শুনেছিলাম, যে হারে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে গর্ভপাত হয় বছরে, তাতে ২০৩৮ সালের মধ্যে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কৃষ্ণাঙ্গই আর খুঁজ়ে পাওয়া যাবে না। আমার তো মনে হয়, বাঙালীদের মধ্যে যদি বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কোনো সমীক্ষা করা হয়, তাতে এরকম একটা ফলাফল পাওয়াটা আশ্চর্য্যের কিছু হবে না।

যা হোক, অনেকে বলবেন, সময়ের তালে, যুগের পরিবর্তনের সাথে চলতে গেলে, বিশ্বায়নের সময়ে এইসব হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, তাই বলে কি আমার বাংলা সংস্কৃতিকে ভুলে গিয়ে? আমার মায়ের ভাষাকে ফেলে দিয়ে? একবার এক বাংলা ছবিতেই এক প্রবীণ অভিনেতা বলেছিলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানে নিজের আচার-সংস্কৃতিকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিজের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা। যেমন করে সাগরে জাহাজ ডুবলে এক টুকরো কাঠের প্রয়োজন হয় ভেসে থাকবার জন্য, তেমনি করে এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলেও আমাদের সেই কাঠের জায়গায় আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেই এগোতে হবে।


মূলপোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29079917 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29079917 2010-01-16 23:00:23
কিছু বিভ্রান্তি...অতঃপর এই লেখা
এবার মূল কথায় আসি।

আগের লেখার মূল বিষয় ছিল, রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত। ভারতের অযোধ্যা নগরীতে হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী রাম মন্দির পূর্বে ছিল বা ওই অঞ্চলে রামের জন্ম হয়েছিল। অনেকের কাছে এসব বিষয় উপাখ্যান বা পৌরাণিক কাহিনী হিসেবে (যেমন গ্রীসের mythology) মিথ্যা মনে হতে পারে। কিন্তু একজন হিন্দু হিসেবে অনেকেই এসবে বিশ্বাস করে থাকেন। আমিও তাদেরই একজন।

বলা হয়, মুঘল সম্রাট বাবর ওখানে মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। সত্য-মিথ্যা কি তা নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে যাবে, তাই মূল আলোচনায় আসি।

যেকোনো ধর্মাবলম্বীর কাছে তার নিজ নিজ ধর্ম অন্য সকল কিছুর চেয়ে বড়। বাংলাদেশ বা ভারতের মত উপমহাদেশের দেশগুলোতে ধর্ম আরো বড় ভূমিকা বহন করে পশ্চিমা দেশগুলোর চেয়ে। তাই, সহজেই আমাদের উপমহাদেশের মানুষ অল্প ধর্মীয় আঘাতই সহ্য করতে না পেরে হানাহানি, বিবাদে লিপ্ত হয় - যা খুবই অনাকাঙ্খিত। যেমন করে হিন্দু কোনো মহাপুরুষ, ঋষি এসব সমর্থন করবেন না, আমার মনে হয় না কোনো মুসলিম ইমাম বা হুজুরেরাও করবেন।

বাবরি মসজিদ যেমন করে উগ্রভাবে কিছু হিন্দু ভেঙ্গেছে তা সত্যিই দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা আসলেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা আরো লেলিয়ে দেয় - এ কথা অনস্বীকার্য। এ ঘটনায় যারা লিপ্ত ছিলেন, তারা অবশ্যই দাঙ্গাতে ইন্ধন দিয়েছেন। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন, সকল হিন্দুই কিন্তু সেই ঘটনার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেননি। যেমনভাবে এইসব হিন্দুগণ উগ্রবাদী হিসেবে পরিচিত, মুসলিম সমাজেও কিন্তু বর্তমান সময়ে উগ্রবাদীদের সংখ্যা কম নয়। তাই বলে আমি এই বলছি না সকল মুসলিমই জঙ্গীবাদী মনোভাব পোষণ করেন।

এখানে আমি একটা বিষয় স্পষ্ট করতে চাই যে, সহিংসতা কখনোই কোনো দেশ, জাতি, বা সমাজের জন্য মঙ্গল বয়ে আনে না। যেমনভাবে সেইসব কিছু হিন্দুর জন্য অন্য হিন্দুদের মূল্য দিতে হয়েছে, তেমনিভাবে আজকের কিছু বিচ্ছিন্ন মৌলবাদী মুসলিমদের জন্য সারা বিশ্বে মুসলিমরা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছে। আর এটি শুধু হিন্দু-মুসলিমদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। খ্রীষ্টান-ইহুদী মৌলবাদীও কিন্তু বিশ্বে আছে। মৌলবাদী মানে শুধু মুসলিম বা হিন্দু নয়, এরা হলেন কট্টরপন্থী। এরা ধর্মের নাম ভাঙিয়ে সহিংসতার লিপ্ত হন।

বর্তমান সমাজ খুবই সচেতন (কমপক্ষে আমার আগের লেখায় পাঠকদের মন্তব্য পড়ে যতদূর বুঝতে পারলাম)। অধিকাংশ মানুষই শান্তিপ্রিয়। কিন্তু যখনই আমাদের নিজেদের কোনো মন্দির-মসজিদে আক্রমণ হয়, তখনই কিন্তু আমরা আমাদের আবেগ বশীভূত রাখতে পারি না। নানাভাবে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে যেয়ে শান্তি ভঙ্গ হয়, বিশৃঙ্খলা বাধে।

কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন, এসবের জন্য কারা দায়ী। শুধুমাত্র একাংশ হিন্দু বা একাংশ মুসলিমদের জন্য সারা জাতি কি দায়ী হতে পারে? হয়ত শিব সেনারা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গেছে, কিংবা লস্কর-ই-তৈয়বার হাত ছিল মুম্বাইয়ের নানা সময়ের হামলায়, কিন্তু তাই বলে কি সারা হিন্দু জাতি দায়ী হতে পারে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার পেছনে কিংবা ভারতের পুরো মুসলিম জাতি মুম্বাই হামলার পেছনে?

তাহলে, সেইসব কিছু উগ্রপন্থীদের আমরা কি করছি? আমরা বলছি আমরা আমাদের সমাজ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করেছি। তাদেরকে সমাজচ্যুত ঘোষণা করেছি। কিন্তু তাতেই কি সমস্যার সমাধান হচ্ছে? শিব সেনাই কি শিবের নাম করে তাদের বাহিনী রিক্রুট করতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, কিংবা মাদ্রাসাকে ব্যবহার করে লস্কর-ই-তৈয়বা বা আল-কায়েদা সুস্থ প্রকৃতির মুসলিমদের অসুস্থ পথে নিতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে?

আমি জানি, অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই (যেমন মহাত্মা গান্ধী) বলে গেছেন, An eye for an eye makes the whole world blind। কিন্তু আজকের যুগে কি তা দিয়ে দুষ্টকে দমিয়ে রাখা সম্ভব। যতদূর আমি বুঝি, না। এর জন্য প্রয়োজন আমাদের মধ্যে একতা। একতাবদ্ধ হয়ে আজ যদি আমরা আমাদের নিজ নিজ ধর্মের নানা খারাপ দিকগুলো দেখি, মন্দিরে মসজিদে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করি, তাহলে কি পারবে শিব সেনা মতো বাহিনী কিংবা লস্কর-ই-তৈয়বার মতো গোষ্ঠী আমাদের মধ্য থেকে বাহিনী তৈরীতে লোক রিক্রুট করতে? প্রয়োজনে যুদ্ধ যদি ঘোষণা করি, নিজ নিজ ধর্মের মধ্যে সেইসব গোষ্ঠী-বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। যদি সম্ভব হয়, সেসব লোকগুলোকে বোঝাবো। যদি বোঝার সীমার মধ্যে না থাকে, তখন কি তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে নেয়া খুবই অন্যায় হবে? তার উপরে যেখানে তাদের মতো কিছু লোকদের জন্য একটা গোটা সম্প্রদায় তিরস্কারের পাত্র বনে যায় অন্য সম্প্রদায়ের কাছে।

সুতরাং, আসুন আমরা সকলে একযোগে সেইসব জঙ্গীবাদী/মৌলবাদী যেন গড়ে উঠতে না পারে সে দিকে নজর দেই। শুধু নজর না, প্রয়োজনে এ্যাকশনে নামব। তবুও তাদের জন্য মিথ্যা অপবাদের গ্লানি নিয়ে চলব না।

[বি. দ্র. - উপরোক্ত কথাগুলো একান্তই আমাদের ব্যক্তিগত অভিমত। এর সাথে অন্যের মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু তাই বলে গালাগালি, কাদা ছোড়াছুড়ির মতো ঘটনা ঘটলে তা হবে পুরোই অনাকাঙ্খিত। আশা করছি সকলে শোভনীয় আচরণ করবেন।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29075433 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29075433 2010-01-10 01:56:32
একটা বিষয় জানতে চাই যা হোক, আর ভূমিকা না বাড়িয়ে জানতে চাচ্ছি প্রশ্নটা। প্রশ্নটা হলো মূলত মুসলিম ভাই-বোনদের কাছে। যেহেতু আমি একজন অমুসলিম তাই প্রশ্নটা জেগেছে। প্রশ্নটি হলো, যেকোনো মিলাদ মাহফিল, ঈদ, শব-এ-বরাত ইত্যাদি মুসলিম উৎসবগুলোতে বা যেকোনো মুসলিত অনুষ্ঠানের শেষে প্রার্থনা করা হয় আল্লাহর কাছে যেন বিশ্বের সকল মুসলিম ভালো থাকে, কল্যাণ হয়, মঙ্গল হয়। আমার প্রশ্নটা হলো, কোরআন বা হাদিসে কি উল্লেখ আছে যেকোনো অনুষ্ঠান শেষে আল্লাহর কাছে সকল মুসলিমদের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করার জন্য? এই মঙ্গল কামনার মধ্যে কি অমুসলিম, পশু-পাখি, তথা সকল জীবসমূহ স্থাণ পায় না?
প্রশ্নটা জেগেছে যে মূল কারণে তা হলো, সেদিন বড়দিনের উৎসবের পরেও দেখলাম একজন আর্চবিশপ বিশ্বের সকল প্রাণী তথা সকল জীবসমূহের কল্যাণের কথা বলেছেন। হিন্দুদের যেকোনো পূজা-পার্বণেও দেখা যায় পুরোহিত বা সাধু-সন্তজন সকল মানবজাতি তথা সকল জীবের মঙ্গলের কথা বলেন। তাহলে কি ধরে নেব অন্যান্য সকল ধর্ম (মুসলিম বাদে) সকল জীবের কল্যাণ চায় আর মুসলিমরা চায় না? নাকি অন্য কিছু? যদি কোনো সাধারণ মুসলিম এই প্রার্থনা করত, তাহলে এ বিষয়ে প্রশ্ন জাগ্রত হতো না। কিন্তু ঈদ বা এ ধরনের মুসলিম অনুষ্ঠানে আলেম, মোল্লা বা হুজুররাই এই প্রার্থনা করেন যে, বিশ্বের সকল মুসলিম উম্মাহ যেন শান্তি পায়।

[বি.দ্র. - আমি কোনো ধর্মীয় তর্কে যেতে চাই না, শুধু বিষয়টুকু কোরআন বা হাদীসের মতো মুসলিম ধর্মগ্রন্থে কি বলেছে সে বিষয়ে জানতে চাই। সাথে যদি আপনারা মুসলিম হিসেবে এ বিষয়টিকে কিভাবে দেখেন সেটিও যদি বলেন, তাহলে খুশী হব।]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29067490 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29067490 2009-12-29 02:52:57
একটি চিন্তা, একটি ভাবনা...অবশেষে একটি প্রকল্প সেদিন বাবার সাথে বসে বাংলাভিশনের খবর দেখছিলাম। যেহেতু এ মাসটা বাংলাদেশের জন্য বিজয়ের মাস, সেহেতু চ্যানেলগুলোতে খবরের মধ্যে একটা প্রতিবেদন থাকত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক। অন্যান্য বছরগুলোতেও থাকত, কিন্তু এবার একটা নতুন চিন্তা মাথায় এলো সেদিনকার খবর দেখতে দেখতে।
আমাদের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ৩৮ বছর পার হয়ে গেলেও অনেক কিছুই ইতিমধ্যে হারিয়ে যেতে বসেছে। ইতিহাস ধরে রাখার মতো তেমন প্রকল্প সরকারগুলো রাজনীতিকরণের জন্য করে না। মাঝে দিয়ে আমাদের বাঙালীদের একটা মহান অধ্যায়ের অমর ইতিহাস হারিয়ে যেতে থাকে। যেমন, সেদিন বিজয় দিবসের দিনে দেখলাম বিপুল ভট্টাচার্য্য, তিমির নন্দীর মতো স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা এসে সেই ৭১-এর কিছু অমর গান গাইলো। বছরের পর বছর চলে যাচ্ছে আর সেইসব অনবদ্য শিল্পীরা বয়স/বার্ধ্যকের কারণে আমাদের কাছ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেইসব অমর সৃষ্টি গানগুলো সংরক্ষণ করার কোনো প্রকল্প সরকারী পর্যায়ে বা বেসরকারী পর্যায়েও চোখে পড়ে না।
তা এই বিষয়ে চিন্তার পর্যায়ে সেদিনকার খবর দেখতে গিয়ে একটা বিষয় মাথায় এলো। এইসব চ্যানেলগুলো প্রতিবছরই বিজয়ের মাস ডিসেম্বর, ভাষার মাস ফেব্রুয়ারী ও স্বাধীনতার মাস মার্চে প্রতিবেদন প্রকাশ করে প্রতিদিনকার খবরগুলোতে। সেইসব প্রতিবেদনগুলোতে সেইসময়কার যারা এইসব মহৎ কাজগুলোর স্বাক্ষী বা সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন তাদের কথা উঠে আসে। তাছাড়াও আরেক প্রতিবেদনে দেখলাম বিদেশীদের আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবদান সম্পর্কেও প্রতিবেদন।
এসব দেখে চিন্তা করলাম এসব তো আমাদেরই সংরক্ষণ করা উচিত। হয়ত বা সময়ের দাবীতে যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কথা উঠে আসবে কিংবা ৫০-১০০ বছর পরে বাঙালী জাতি তাদের পিছনের ইতিহাস জানতে চাইবে তখন এইসব প্রতিবেদন তাদেরকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তাই চিন্তা-ভাবনাটুকু মাথায় আসার পর থেকে শুধু সেমিস্টার শেষ হবার অপেক্ষায় ছিলাম। আজ ছুটির প্রথম দিনেই এই পোস্টের মাধ্যমে একটা প্রকল্প হাতে নিতে চাই। তা হলো, সেইসব প্রতিবেদন নানা চ্যানেল থেকে সংগ্রহ করে ইউটিউব বা এধরণের সাইটে কিংবা আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ওয়েবসাইট/ব্লগ সাইটে সংরক্ষণ করা। আমি ইতিমধ্যে কিছু খবর ডাউনলোড করেছি। আরও করছি। এই কাজে আমার জন্য বিশেষ উপকারে আসছে নাগরিকনিউজেরঅলবাংলানিউজ সাইট দুটো।
আমি আপনাদের নিকট এই পোস্টের মাধ্যে আহবান করতে চাই কি করে এই প্রকল্পটিকে সার্থক রূপদান করা যায় সে বিষয়ে আপনার মতামত, উপদেশ ও সাহায্য দিন। যাতে করে এটি একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের ইতিহাস রক্ষার্থে এক বিরাট ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি সম্প্রতি নতুন বাড়িতে উঠাতে আমার স্পীড আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশী। যদিও আমেরিকায় এর চেয়েও অধিক স্পীড সম্পন্ন আইএসপি আছে। কিন্তু আমার ১০ মেগা ডাউনলোডের স্পীড নিয়েই আমি খুশী। তাই ডাউনলোডের/আপলোডের বিষয়ে আমার কোনো সমস্যা নাই।
পরিশেষে এই পোস্টের ইতি টানতে চাই আপনাদের সকলের সহায়তা কামনা করে যাতে এই প্রকল্পটি সার্থক হয়।

মূলপোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29062646 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/29062646 2009-12-20 23:06:24
এই নাকি বাঙালী?
মূল কথায় আসি...
প্রবাসে (নিউইয়র্ক) গত ৬-৭ বছর ধরে যে আছি, এর মাঝে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালী/বাংলাদেশীরা প্রবাসে থাকলেও দেশীয় আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সকলই যথাযথভাবে পালনের যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। আমি বয়সে ছোট হিসেবে কোনো গ্রুপ বা গোষ্ঠীতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করি না জড়িত হবার। যদিও এদের উদ্দেশ্য লোকহিতকর, তবুও কোনো নির্দিষ্ট দলে যোগ দিতে চাই না এই কারণেই যাতে অন্য দল বা লোকেরা মন খারাপ না করে বা দূরে ঠেলে না দেয়। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব ভালো সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করি। এইসব দল বা গ্রুপ বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি), ধর্মীয়, অথবা সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
মূলত যে কারণে এই লেখাটি লিখছি তা আসলে কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া কিছু আঞ্চলিক সমিতির কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথমদিকে এইসব সমিতি ভালো মতো চললেও পরের বছরগুলোতে এদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। মূলত সমিতির বা দলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের অনৈক্যের সূচনা হয়।
এর মধ্যে সেদিন স্থাণীয় এক পত্রিকায় পড়লাম এখানকার জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের (এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন) এই বছরের কমিটি গঠনের নির্বাচনে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতানৈক্যের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি সংঘটিত হয়। পরে পুলিশ এসে একজনকে নাকি ধরেও নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। হতাহতও হয়েছে কিছু লোক। এইসব হতাহতের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কিছু কিশোর-কিশোরীও নাকি আছে। আবার সেই রিপোর্টে আরও পড়েছি যে, এবারের জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাকি অর্ধ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে।
এত কিছুর পরে আবার গত সপ্তাহের অথবা এর আগের সপ্তাহের (ঠিক মনে করতে পারছি না) পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি হয়ে গেছে। ছবিতে দেখিয়েছে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় একজনের পাশে বসে।
এইসব খবর পড়ে বা দেখে শুধু প্রশ্নই আসল মনে। এই কি বাঙালীর পরিচয়? প্রবাসে এসেছে সন্তানদের মানুষ করতে, নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে, দেশের সম্মান বাড়াতে। আর এইসব হাঙ্গামা কি দেশের সম্মান খুব বৃদ্ধি করবে? একটু মর্যাদা (সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হলে) পাবার জন্য এত কিছু করা কি আমাদের রূপ বিশ্বে অন্যান্য দেশের লোকদের কাছে কি খুবই বাড়ায়? স্থাণীয় সরকার কি দেখছে না বাঙালী/বাংলাদেশীদের কি রকম আচরণ? এমনিতেই বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের রেকর্ডে (দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন) বিদেশীরা একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশীদের, তার ওপর আবার এমন কর্মকান্ড...হায় রে কপাল!
উপরন্তু, আমার মাথায় ঢুকল না যে বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে মানুষ করতে চেষ্টা করে সুদূর প্রবাসে, তারা কি করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন হীন কাজ করতে পারে? বেশীরভাগ বাচ্চারাই এদেশে জন্ম। তাই তারা ঠিকমতও জানেও না তাদের পিতৃগত বা মাতৃগতভাবে সংস্কৃতি সম্পর্কে। আর এই যদি দেখে তাদের বাবা-মা করছে তাদের সামনে, তাহলে এই প্রজন্ম কি শিখবে?
শুধু এটুকুই নয়, আমি যদিও বেশী বুঝি না টাকা-পয়সার হিসাব তবুও একটি সংগঠনের নির্বাচনের ব্যয় যদি জানতে পারি অর্ধ মিলিয়ন ডলার তাহলে তো মাথাই ঘোরপাক খেতে থাকে। ঠিকমত একটা বাসা নিয়ে থাকতে পারি না, অথচ এরা এত ডলার খরচ করে নির্বাচনে(!) এর চেয়ে যদি দেশের দুস্থ-হতদরিদ্র লোকদের এক বেলার খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন এইসব লোকগুলো তাহলে না জানি কতগুলো প্রাণ বেঁচে যেত। একেই বলে কপাল! যার নাই, তার কিছুই নাই! আর যার আছে, তার নির্বাচনে ব্যয় করার জন্য ভুরি ভুরি ডলার আছে!
আবার পাঠকের নিকট শেষ প্রশ্ন, এই কি বাঙালী? এই কি মোদের পরিচয়? এই কি আমাদের স্বভাব?

মূলপোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28989413 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28989413 2009-08-05 23:19:38
কেউই কি বুঝলো না? মূলকথায় আসি…

সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে ধরা হয় ঈশ্বর বিভিন্ন আবার এক। তিনি যেমনি সাকার আবার তেমনিই নিরাকার। তার যেমনি কোনো রূপ নেই আবার তেমনি আছে। তার যেমন আদি নেই তেমনি অন্তও নেই। আবারও বলছি তিনি যেমনি অদ্বিতীয় তেমনি বহুবিধ। তা না হলে কি তিনি ঈশ্বর? সর্বশক্তিমান? পরমেশ্বর? সর্বোচ্চ আসনটিতে অধিষ্ঠিত তো তিনিই হতে পারেন যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যেমনি চাইবেন তেমনিই হতে পারবেন।
আগেকার দিনগুলোতে মানুষজন ঈশ্বরকে রূপ দিয়ে পূজা-আরাধনা করত। এখনকার দিনে যদিওবা হয়, তবে বর্তমান কালে বেশীরভাগই নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনায় মগ্ন। পাঠককে একটা বিষয় আমি এখানে জানিয়ে দিতে চাই, তা হলো, বর্তমান সময়ের মুসলমানদের ‘আল্লাহ’ বা খ্রীষ্টানদের ‘গড’ সবাই কিন্তু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতেও ঈশ্বরই দাঁড়ায়। কারণ ‘গড’ বা ‘আল্লাহ’ যেমন নিরাকার তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও মনে করে ঈশ্বর সাকারও হতে পারে আবার নিরাকারও। খ্রীষ্টানরা বা মুসলমানেরা যেমন তাদের নামকরণে ‘গড’ বা ‘আল্লাহ’কে সর্বশক্তিমান মানে, অদ্বিতীয়, এক, অভিন্ন মানে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও কিন্তু ঈশ্বর/ভগবানকে এক বা অভিন্ন জ্ঞানে জানে।
পাঠক এখানে একটা বিষয় হয়ত লক্ষ্য করবেন যে আমি ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী’ বলছি ‘হিন্দু ধর্মাবলম্বী’ না বলে। কারণ, হিন্দু শব্দটিই এসেছে প্রাচীন পারস্য/গ্রীকদের (পশ্চিমাদের) ভারতবর্ষ ভ্রমণকালে সিন্ধু নদের উপত্যকায় বসবাসকারী লোকজনকে উদ্দেশ্য করে। যেহেতু তারা (পশ্চিমারা) ‘স’-এর উচ্চারণ করতে অসক্ষম ছিল তাই তার এর স্থলে ‘হ’ এনে “হিন্দু” শব্দের উৎপত্তি ঘটায়। এর ইংরেজী নাম দেয় তারা “Indu” (Plural- Indus)। ধারণা করা হয়, এ থেকেই India শব্দটির উৎপত্তি। যেমনভাবে ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা আবিষ্কারের পর সেখানকার স্থাণীয়দের নাম দেয় “Red Indian” (কারণ সে মনে করেছিল সে ইউরোপ থেকে ইন্ডিয়াতে এসে পড়েছে, তাই লোকজনকে Red Indian লাল বর্ণের জন্য নামকরণ করে)। তাই বলে কি ইতিহাস দেখেনি এইসব লোক আসলে কোথাকার ছিল? এদেরকে পরবর্তীকালে বই-পুস্তকে Native Americans বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তেমনিভাবে আজ যদি আমরাও সেই প্রাচীন পারস্যদের ন্যায় সিন্ধু নদের উপত্যকায় বসবাসকারী লোকদের “হিন্দু” বলে থাকি, তাহলে কি আমরাও একই ভুল করছি না।
যা হোক, আমার মূল কথা এ নিয়ে ছিল না। আমি এ বিষয়টি স্পষ্ট করতে চাই যে, প্রত্যেকটি ধর্ম-বিশ্বাস তাদের নিজেদের মতাদর্শ নিয়ে গড়ে উঠেছে। কিন্তু তাদের সন্ধিক্ষণ সেইখানেই যেখানে আমরা সকলে এক। যেমনভাবে নদী-নালা সকলে গিয়ে সেই সাগরে গিয়ে মেশে, তেমনি করে আমরা (মুসলিম, খ্রীষ্টান, সনাতন ধর্মীরা) সকলেই কিন্তু একই সর্বশক্তিমানের আরাধনা করছি। আজ যদি আপনার এলাকায় বন্যা-সাইক্লোন শুরু হয় তখন একজন মুসলিম যেমন আল্লাহর নাম নেবে তেমনি একজন সনাতন ধর্মীও ভগবানের নাম নেবে। তখন যদি বন্যা-সাইক্লোন বন্ধ হয়ে যায় ওপরওয়ালার কৃপায় তখন কি এটা আল্লাহর গুণে হয়েছে নাকি ভগবানের? নাকি এটা সত্য যে, তারা সবই তো এক যেকারণে মুসলিমের নামাযে বা সনাতন ধর্মীর প্রার্থনায় একইজনের শরণাপন্ন হয়েছে মানবজাতি। তখন তিনি সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন।
এ নিয়ে লিখলে অনেকই লেখা যায় কিন্তু আমি যতটা পারি সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করব।
একটা উদাহরণ দেবার চেষ্টা করছি এখানে: একজন লোক (মুসলিম) যদি এ্যাক্সিডেন্ট করে তখন তার জরুরী রক্তের প্রয়োজন পড়ল। এখন যদি তার রক্তের গ্রুপ এ-নেগেটিভের সাথে আরেকজন লোকের (সনাতন ধর্মী) রক্তের মিল পাওয়া গেলে তার রক্ত মুমূর্ষ লোকটির কাজে লাগবে না। রক্তের বর্ণ কি মুসলিম বা সনাতন ধর্মীর ভিন্ন। নাকি দুইই লাল? তাই বলে কি বলব এ ওর থেকে এসেছে (ধর্মানুসারে) নাকি বলব আমরা সকলেই তো একই মানবজাতির অংশ তাই আমাদের সকলই এক হওয়াটাই স্বাভাবিক।
তাহলে যদি মানবজাতির একাত্মতা থাকে দেহে, মনে (বৈজ্ঞানিক ও মানসিকভাবে) তখন কি আমরা এও বলতে পারি না যে, ঈশ্বর/আল্লাহ/গড একই। যেমনি করে ঈশ্বরের ক্ষমতা আছে বন্যা-সাইক্লোন হঠাৎই বন্ধ করে দেবার তেমনি আল্লাহরও তো আছে একই শক্তি। তাহলে পার্থক্যটা কোথায় থাকল। নাকি আমরা মানবজাতিই নিজেদের মধ্যে ভেদাভেদটা তৈরি করেছি?
নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন। দেখবেন কথাগুলো যা বললাম তা সত্যই।

[কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেবার জন্য এ লেখা নয়। শুধুমাত্র আমাদের মানুষদের মধ্যে যে দূরত্ব সে দূরত্বকে যতটুকু পারি ঘুচানোর চেষ্টা। যদি এতে আরো ধর্মীয় বিভেদ তৈরি হয় তাহলে আমার প্রচেষ্টা শুধু বৃথাই হবে না, অনর্থক ধরে নেব।]


মূলপোস্ট ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28977821 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28977821 2009-07-13 21:05:49
তাহলে আসুন, চ্যালেঞ্জ! একটা লেখা লিখেছিলাম যাতে সামহোয়্যারইন ব্লগে অনেক কটু ভাষার মন্তব্য পেয়েছি। না মাইন্ড করিনি। কেননা প্রত্যেকেরই স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের অধিকার আছে। কিন্তু সেই লেখা থেকে যেটা অনুধাবন করতে পারলাম সেটা হলো, অনেক বাংলাদেশীই ভারতকে সহ্য করতে পারেন না। যে কোনো অঘটন ঘটলে দোষটা আওয়ামীদের আর তাদের ভারতীয় বন্ধুদের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বলেন। যে দেশটি বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণকে ঠাঁই দিল পাকিস্তানীদের থেকে বাঁচার জন্য ১৯৭১ সালে তাদেরকে আমরা এখন শত্রু ভাবি? যাদের সহযোগিতায় আমরা মুক্তিযুদ্ধ নয় মাসে জিতে আসতে পেরেছি সেই দেশকে আমরা বিপক্ষ ভাবি? অথচ যে দেশের থেকে আমরা মুক্তির জন্য লড়াই করলাম সেই দেশকে আমরা ঠিকই সমর্থন করছি আজদের দিনে। সেই চিত্র খুবই স্পষ্ট যেকোনো ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের সময়।
তাই শেষে একটা জিনিস মাথায় আসল, আর সেটা চ্যালেঞ্জের মতো ছুড়ে দিতে চাই তাদেরকে যারা মনে করেন ভারতই আমাদের প্রকৃত শত্রু (অন্যদের নয় কিন্তু)। আপনি যদি ভারতকে শত্রু মনে করেন, তাহলে বর্জন করুন ওদের। ওদের দেশের হিন্দি ছায়াছবি থেকে শুরু করে হিন্দি গান, হিন্দি ভাষা (যা এখন অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নাটকেও ব্যবহৃত হয়), সর্বোপরি ভারতের যেসব জিনিস নিজেদের তা দেখা, শোনা, বলা, পড়া, করা থেকে বিরত রাখুন নিজেকে। শত্রুর কোনো কিছু ব্যবহার করা কি ঠিক, বলুন? হায় রে বাংলাদেশ! রক্ত দিলি বাংলা ভাষার জন্য আর এখন চলে হিন্দি সারা দেশব্যাপী।
তাহলে আসুন, চ্যালেঞ্জ করুন নিজেকে শত্রুর কোনো কিছু ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত তাখবেন। আর যদি না পারেন, তাহলে তো “যেই লাউ, সেই কদু”!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28922027 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28922027 2009-03-09 19:04:38
পাজল তো মিলছে! প্রশ্নটা আমারও। কিন্তু উত্তর খুঁজতে বেশী সময় লাগলো না, কারণ একটা সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে এর একটা ধারণা পেলাম। জামায়াতের ইন্ধনেই নাকি এই ঘটানাটি ঘটানো হয়েছে। পেছনকার নায়ক (নাকি ভিলেন?) ছিলেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, ওরফে সাকা চৌধুরী। খবরটি সিএনএন-আইবিএনের মাধ্যমে বিডিনিউজ২৪.কম থেকে জানলাম।
অনেকে এটি বিশ্বাস করছেন না, অনেকে বা এটিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। খোদ জামায়াত এবং সাকা চৌধুরীও এর তীব্র বিরোধীতা করেছেন। কিন্তু কিছু কারণে কিন্তু এদের প্রতি সন্দেহটা বেড়ে যায়।
যুদ্ধাপরাধী ইস্যুটা নিয়ে দেশে যেরকম আলোড়ন চলছে তাতে জামায়াত নির্বাচনের পরে প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দলও যুদ্ধাপরাধীদের পাকড়ানো শুরু করেছে ইতিমধ্যে। এমতাবস্থায় জামায়াত নিশ্চয়ই পথ খুঁজবে নিজেদের বিনাশ থেকে রক্ষা করতে। আর তা করতে একটা মিলিটারী ঝামেলা লাগিয়ে (পূর্বের ইতিহাসগুলোর মতো) দেশ থেকে হয়তবা আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করে সরকারের মনযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাবে অথবা সরকারকে এই সমস্যা সামলাতে না পেরেছে অজুহাতে উৎখাত করার একটা চেষ্টা করবে। আর সেটাতে সাকা চৌধুরীর হাত থাকার কারণ আরো বেশী আসে কারণ বিএনপির একজন প্রথমসারির নেতা ইনি যাকে দেশের অনেক পাবলিকই যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জানে।
লক্ষ্যে কতটা সফল হতে পেরেছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু প্রাথমিক তদন্ত ছাড়া কোনো কিছুই সুস্পষ্ট করে বলা যাবে না। আর একটা বিষয়ও আমার মাথায় ঘোরপাক খাচ্ছিল যে, একটা বাহিনী তাদের অধিকার, ন্যায্য প্রাপ্যের দাবীতে কি কখনো এমনকরে পরিকল্পিতভাবে হত্যাকান্ড চালাবে, এমনকি কিছু নিরপেক্ষ মানুষের উপরেও। ক্ষোভ যদি তাদের থেকেই থাকে তাহলে তো আর্মিদের ওপরে থাকবে। এর সাথে আজ আরো জানতে পারলাম বাংলাভিশনের খবরে যে, সেসময় একটি ধূসর রঙের গাড়িতে করে কারা যেন এসে মদদ/উসকে দিয়েছিল বিডিআরের লোকদের। কারা ছিল এরা? এদের নাকি কোনো ইউনিফর্মও ছিল না। সাধারণ বিডিআর বাহিনীর লোক না হলে কারা ছিল এইসব লোকজন?
এই সকল প্রশ্নের উত্তরে তো সেই একই উত্তর আমি খুঁজে পাই। ছকটা মিলিয়ে দেখলে সিএনএন-আইবিএনের খবরের সত্যতা একেবারে মিলে যাচ্ছে। তবে হ্যাঁ, সুষ্ঠু তদন্ত করে এর পেছনে যারা ছিল (যদি সংসদ সদস্যও হয়) তাদের সকলের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় সেটাই চাইব।
পাঠক কি মনে করেন? আমার অনুমানের সাথে কি আপনি একমত? না হলে, আপনার যুক্তিগুলোও উপস্থাপণ করবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28918279 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28918279 2009-03-01 03:52:51
একুশে ফেব্রুয়ারীতে লিখলাম সেদিন উকিলের অফিসে গেলাম বাবা-মাকে নিয়ে ট্যাক্স ফাইল করতে হবে। মোটামুটি বড়ই লাইন ছিল, তাই অপেক্ষা করতে হলো অনেকক্ষণ। দেখলাম এক মহিলা (দেখে তো মনে হলো বাঙালীই) কিন্তু কথা বলছিল ইংরেজীতে ফোনে। মনে করলাম হয়তো বা তাহলে দক্ষিণ এশীয়ই হবে (চেহারাতে তো তাই বলে)। যা হোক, কিছুক্ষণ পরে ওনার এক বোন আসলো ট্যাক্স ফাইল করতে। উনিও বোনের সাথে ইংরেজীতেই কথা বলছেন। আমরা (আমি, বাবা-মা) যখন কথা বলছিলাম আমাদের দিকে কেমন যেন বিদ্রুপাত্মক দৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল। যাক গে! কিছুক্ষণ পরে দেখি উকিলের স্ত্রী এসে আমাদের বলছেন চা-কফি কিছু খেতে আর ওনাদেরকেও বলছেন। একি বাংলাতে বলছেন, আর ওনারাও বুঝছেন! ওনারা কি বাংলা বোঝেন, না তাই নয় তো! ওনারা তো বাংলা বলতেও পারেন। উকিলের স্ত্রীর সাথে তো বাংলাতেই বলছেন। একি তাহলে বোনে বোনে এমন করে ইংরেজীতে বলছিলেন কেন?
কিছুক্ষণ পরে বুঝলাম এরা বাংলাদেশেরই লোকজন। বিদেশে এসে বদলে গেছেন। ভাই-বোন, বা এমনকি ছেলে-মেয়ের সাথেও (ফোনে সম্ভবত ছেলের সাথে বলছিলেন) ইংরেজীতে! এই কি আমার মায়ের ভাষা? এই কি তাদের মায়ের ভাষা? এর জন্যই কি ওরা রক্ত দিয়ে গেছে? আরে, আমরা কি ইংরেজী জানি না নাকি ইংরেজী বলে জাহির করতে হবে ওনারা ইংরেজী জানেন? বুঝি না এদের মনস্তত্ত্ব।
এ তো গেলো বিদেশের “নব্য বাঙালীদের” কথা, যারা নিজেদের পরিচয় বাঙালীই দিতে চায় না। সুদূর মাটিতে পরে নিজেদেরকে ভিনদেশী হিসেবে দেখাতে চায় অন্যদের কাছে। কিন্তু সেদিন খবরে দেখলাম (এখন বেশী দেখা হয় না, মাঝে মধ্যে উইকেন্ডেতে দেখি বাবার সাথে) এক রিপোর্টার রিপোর্ট করছেন বাংলাদেশের (বিশেষ করে ঢাকার) স্কুলগুলোর যেখানে ইংরেজী মাধ্যমের কিছু বাচ্চাদের মধ্যে জানতে চাওয়া হলো তারা জানে নাকি বাংলার মাহাত্ম্য। একজনকে জিজ্ঞেস করলো, বাংলা মাসগুলোর নাম বলতে। জৈষ্ঠ্য বলে আর আওড়াতে পারছে না। আরেকজনকে বলে, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কে? বলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হায় রে কপাল! এই প্রজন্মের জন্যই কি আমাদের ভাইয়েরা রক্ত দিয়েছিল পাকিস্তানীদের সামনে? এই ফল পাবার আশায়? দেশে-বিদেশে এই হাল হচ্ছে আর আমরা বাংলা ভাষা-ভাষীরা কি চেয়ে চেয়ে দেখব বাংলার এমন করুণ দশা?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28914446 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28914446 2009-02-21 23:11:16
ফলাফলটা আগেই আঁচ করতে পারছিলাম মানুষ জানে মহাজোটে স্বৈরাচারী একটা দল আছে। কিন্তু কেউ কি চাইবেন যুদ্ধাপরাধীদের নাকি স্বৈরাচারীদের? যতই অপরাধ করুক না কেন, যুদ্ধাপরাধ হলো এগুলোর চেয়ে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম।
আর গত কয়েক বছরের দুর্নীতির (হাওয়া ভবনের নানা ধরনের সিন্ডিকেট) পরেও মানুষ কি বোকা হলেই একমাত্র চারদলকে জয়ী করবে। হ্যাঁ, আওয়ামী আমলেও হয়েছে দুর্নীতি, কিন্তু গত কিছু বছরের দুর্নীতি মানুষের স্মৃতিতে কালরাত্রির মতো হয়ে আছে। মানুষ এখন এসব থেকে মুক্তি চায়। আর এ মুক্তির জন্য দুইটাই তো জোট, মহাজোট নয় চারদলীয় জোট। আর যুদ্ধাপরাধীদের যে কোনো মূল্যেই রুখবে দেশের মানুষ, আর এজন্যই মহাজোট।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28890566 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28890566 2008-12-30 20:21:38
এদের কি এখনো শিক্ষা হয়নি? এবার সময় হলো নিজেদের সত্যিকারের রূপটাও কিছুটা তুলে ধরার। নির্বাচনের আর বেশী সময় নেই। তাই আশা করব নিজেদের ভালো ঢোল পেটানোর সাথে সাথে খারাপ ঢোলটাও একটু পেটাবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28888063 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28888063 2008-12-26 00:49:03
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কে দেবে? অনেকে বলেন আওয়ামী লীগ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের বন্ধু। আমার প্রশ্ন, বন্ধুই যদি হতো, তাহলে শত্রুসম্পত্তি আইন কেন তাদের সময়ে বলবৎ ছিল? শুধুমাত্র ভারতে চলে গেলেই একটি হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি এই আইনের দ্বারা সরকারের অধীনস্ত হয়ে যাবে? তার আগে দেখার বিষয় কেনই বা ২০% সংখ্যালঘু থেকে আজ ১০% এরও কম সংখ্যালঘু বাংলাদেশে? কেন তারা ঘর-বাড়ি, জমি-জমা ছেড়ে বা দখলের ভয়ে বা এলাকার প্রভাবশালীদের দাপটে মাতৃভূমি ছেড়ে যাবে? যতটা অধিকার একজন সংখ্যাগরিষ্ঠের আছে বাংলাদেশে সুন্দরভাবে বসবাসের তেমনি করে কি অধিকার নেই একজন সংখ্যালঘুর?
এখন নির্বাচনের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ভয়, ২০০১ এর ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেসময় যেভাবে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত, নিষ্পেশিত হয়েছিল নির্বাচন পরবর্তী সময়কালে তা ভাবনাতীত। কিন্তু এবার কে দেবে তাদের নিরাপত্তা? কে শোনাবে আশার বাণী? কে বলবে ভয় পেয়ো না মা, মাসি, দাদা, মামা, কেউ তোমাদের ওপর হামলা করবে না নির্বাচন সময়ে বা এর পরে? কিংবা কে জানে আমাদের সকলেরই অজান্তে হয়তবা কেউ হুমকির মুখে ইতিমধ্যেই ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকবে?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28884704 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28884704 2008-12-19 06:40:13
প্রকৃত শিল্পীকে জয়ী করুন অপু , লিজা , আতিকসাজু । প্রত্যেকেই তাদের সুরের মূর্ছনায় ভোলাতে চেয়েছে বাংলাদেশের মানুষদের দেশে ও প্রবাসে। সাথে বিচারকগণ তো তাদের উৎসাহ দিয়েই গেছে।
২০০৫ ও ২০০৬ সালে যেই ভুল করেছিল বলে অনেকে মনে করেন, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্যই আমার এই লেখা। ১০ লক্ষ টাকা আর একটা গাড়ি পেয়ে গতবারগুলোর বিজয়ীরা ভুলে গেছে বিনম্রতা। অনেকে প্রবাসে এসে অশোভন আচরণও করেছে। শিল্পী তো তখনই শিল্পী থাকে যখন সে মানুষের হৃদয়ে অবস্থাণ করে। অহংকার আর গর্বের তোপে এরা ভুলেই যায় এদের অতীত। আর তাছাড়াও গানের দিক থেকে বিচার করলেও অনেক সংগীত বোদ্ধারা মানবেন এদের অক্ষমতার কথা। অথচ গত দু’বারই দ্বিতীয় বিজয়ী (রানার-আপ) অনেক ভালো গান করেও ভোট (এসএমএস বা অনলাইন ভোট) পায় না। কিন্তু পরে দেখা যায় এদের গানই বেশী বাজারে চলে। মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়।
তাই, আসুন বাংলাদেশী ভাই ও বোনেরা, আর ভুল নয়। প্রকৃত একজন শিল্পী “অপু”কে এবারের ২০০৮ এর ক্লোজআপ ওয়ান করুন। ওর গলায় শুধু বহুমুখীতাই নয়, উচ্চারণ, এক্সপ্রেশন, গানের ডেলিভারী সব মিলিয়ে এক অনবদ্য যোগসূত্রের অধিকারী। কিছু পর্ব আগে জন্ডিস নিয়েও সে স্টেজে গানের প্রতিযোগিতা চালিয়ে গিয়েছে এবং অনেকের মতে (সংগীত বোদ্ধা) অনেকে ভালোই করেছে অন্যদের তুলনায়। আর সবচেয়ে দেখার বিষয় অন্যরা যখন নিজেদের ভোটের জন্য নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সভা-সমাবেশ করছে, অপু তখন হাসপাতালে শয্যাশায়ী। যার বাবা গানের শিক্ষক, যার ভিত্তি উচ্চাংগ সঙ্গীতে পাকা, সেই তো সেরা হবার যোগ্য। ওর কিছু গান আমিই নিচে দিলাম, এরপর আপনারাই বিচার করুন:

“এক পায়ে নুপূর”


“বৃষ্টির দিনে”


“তুমি এমনই জাল পেতেছো”


“দিন যায়, কথা থাকে”


“জীবনানন্দ হয়ে সংসারে”


“ওই দূর দূর দূরান্তে”


“তুমি কত লিটার দুধ করেছ পান”


আর অপুকে ভোট দেবার জন্য বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীরা “APU” লিখে 1234 নম্বরে পাঠিয়ে দিতে পারেন এবং 123401 নম্বরে টেলি-ভোট করতে পারবেন। আর প্রবাসী দর্শকেরা ক্লোজআপ ওয়ানের ভোটিং সেকশন থেকেও ভোট করতে পারবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28879408 http://www.somewhereinblog.net/blog/ppdj/28879408 2008-12-07 00:35:49