আজ সকালে কি জানি কি দ্বন্দ্ব মনের মধ্য ভীড় করলো। ৮টার ক্লাসে যাবো কি যাবো না এইটা নিয়ে হিসাব নিকাশ করতে করতে শেষে আর যাওয়া হলো না। ৯টার ক্লাসের উদ্দেশে রওয়ানা দিলাম। রিকশায় উঠে প্রতিদিনের মতই এমপিথ্রি প্লেয়ার এ গান ছেড়ে হেডফোন কানে লাগিয়ে খুব আয়েশ করে রাস্তা-ঘাট দেখতে দেখতে যেতে লাগলাম। অর্নবের গান বাজছে। 'প্রকৃত জল খুজে বেড়াই...প্রহরীর মত...বুকে নিয়ে পাখি না হবার ক্ষত'......
গানটার ভেতর হারিয়ে যেতে যেতে কাঁটাবন পার হয়ে একটু সামনে যেতেই হাতের ডান দিকের প্রিন্টিং প্রেস এর দোকানগুলোর সামনে দেখলাম বিশাল ভীড়। লোকজনের অস্থির চেহারা। পুলিশ। তেমন কিছু ভাবান্তর হলোনা। কিন্তু আরেকটু সামনে যেতেই আসল ব্যাপারটা টের পেলাম। ...একটা রক্তাক্ত দেহ...মৃত...মাটিতে শুইয়ে রাখা। তার নিথর শরীর ভিজে আছে রক্তে......সিমেন্ট বাধানো পাকা রাস্তায় রক্ত...দৃশ্যটা ভালো লাগলো না...মুখ ফিরিয়ে নিলাম......খেয়াল হলো গানটা নিজের মত বেজে চলেছে......এতক্ষন কানে হেডফোন থাকার পরও একটা শব্দও কানে যায়নি। ...আর গান শুনতে ভালো লাগলো না......বন্ধ করে দিলাম যন্ত্রটা......
মনে মনে ভাবলাম...এই দৃশ্য দেখার জন্যই কি আজ সকাল ৮টার ক্লাসে আমার আসা হয়নি???......
সারাদিন এই ঘটনাটা মাথার ভেতর গেঁথে রইলো...।...দুপুরে ওই রাস্তা দিয়েই আবার ফেরার সময় দেখলাম মানুষ আবার স্বাভাবিক আর ১০টা দিনের মত চলছে-ফিরছে...। জীবন থেমে থাকেনা আসলেই। যেই লোকটা মারা গেছে হয়তো সে অখানেই কোনো দোকানে কাজ করত, কিংবা নিতান্তই পথচারী ছিল...কীভাবে সে মারা গেছে তাও জানি না......। প্রতিবার যখন এই রাস্তা দিয়ে যাবো, অই জায়গাটায় এসে সকালের দেখা দৃশ্যগুলো মনে পরে যাবে। ওই লোকগুলোরও পড়বে। কিন্তু জীবন থেমে থাকবেনা......। এই ভাবতে ভাবতে অফিস গেলাম।
সন্ধ্যার দিকে মা'র ফোন এলো। ছোটো খালা ৯ মাসের প্রেগনেন্ট...তার নাকি অবস্থা ভালো না...পেইন শুরু হয়ে গেছে......আজকেই অপারেশন হবে......আমাকে বললো তাড়াতাড়ি চলে যেতে হাসপাতালে...।
আমি অবশ্য তাড়াতাড়ি যাইনি...অফিস করে...আড্ডা দিয়ে......অমিতাভ দা আর সাইমন ভাইয়ের সাথে শর্মা খেয়ে তারপর গিয়েছি রাত ৯টা সময়......। মা ফোন দিয়েছিল ৬টার দিকে......।
তবে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে আমার খালার সার্জারি হয়েছে। ...একটা মেয়ে হয়েছে তার......যদিও প্রি-ম্যাচিওর......। ইনকিউবেটর এ রাখা হয়েছে তাকে। ...
কি অদ্ভুত মানুষের জীবন!...একটা আত্মা দেহ ত্যাগ করে...। আরেকটা আত্মা ঠাই গড়ে নতুন দেহে...। আসার সময় পিচ্চিটাকে একটু উকি মেরে দেখে এসেছি। এখনো ভালো করে চোখ ফোটেনি। সেই আধ ফোটা চোখই সে পিট পিট করছে। ...
সকালের সেই দৃশ্যটার প্রভাবে যেই বিষন্ন ভাবটা ছিল মনে, তা দূর হয়ে গেলো পিচ্চিটাকে দেখে। ......।
ওই অজ্ঞাতনামা লোকটা জানবেনা তার রক্তাক্ত লাশ কাউকে বিষন্ন করেছিল......। নবজাতকটাও জানবে না তার জম্ন সেই বিষন্ন মনে প্রশান্তি এনেছিল.........।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

