somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... টেকি সাহায্য_ ব্লাকবেরি ৮৫২০ http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29257993 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29257993 2010-10-19 22:21:45 বাংলাদশে কৃষি ক্যাম্পে অংশগ্রহণরে জন্য আবদেনপত্র আহব্বান বাংলাদেশ কৃষি ক্যাম্পে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনপত্র আহব্বান

সামগ্রিক কৃষি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে তরুণ সমাজের সক্রিয়তার মাধ্যমে দেশব্যাপী ঐক্যমত গড়ে তোলার লক্ষ্যে
গ্রামীণ জীবনযাত্রার স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল)-এর সহযোগিতায় পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এন্ড অ্যাকশান নেটওয়ার্ক- প্রান আগামি ৬ থেকে ০৮ মে নোয়াখালীতে ‘বাংলাদেশ কৃষি ক্যাম্প- ২০১০’ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

দেশের প্রতি জেলা থেকে একজন তরুণ ও একজন তরুণী ক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। অংশগ্রহণকারী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকান্ডে সম্পৃক্ততা, সমাজের প্রতি দায়বোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা ইত্যাদি বিষয়কে বিবেচনা করা হবে।

ক্যাম্পে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী ২৩ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যুবদের থেকে ঠিকানায় ই-মেইল বা ০১৮১৯ ৪৪৯ ৭১০ নাম্বারে ফোন করে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করা অনুরোধ রইলো। অংশগ্রহণের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০১০।





]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29126735 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29126735 2010-03-31 16:55:13
'লোকজ সংস্কৃতির প্রয়োগ, উপস্থাপনা ও ভাষার ক্ষেত্রে এনজিও-দের ভূমিকা' একটা রচনা লিখতে হবে। কেউ কি আছেন একটু সাহায্য- সহায়তা করতে...
কি ধরণের সাংস্কৃতিক টুলস্ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়;
- কোন কোন সংগঠন লোকজ সংস্কৃতির কি টুলস্ ব্যবহার করে;
- সংস্কৃতিক টুলস্ সমূহের মৌলিকত্ব কতটুকু সংরক্ষিত হচ্ছে;
- লোকজ সংস্কৃতির উন্নয়নে এনজিও এবং গণমাধ্যম কি কাজ করতে পারে;
- এনজিওদের ফলে সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কি কি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে

দয়া করে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও ত্বত্ত্ব দিয়ে সহায়তা করবেন।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29092348 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/29092348 2010-02-06 17:06:55
প্রকাশ নাকি আড়াল করা একটা সময় দু’ ফোটা বৃষ্টি নামলো
তাতে না ভিজে আমার মন- না ভেজে ওর শরীর।
না জাগলো চোখে প্রেম!!

এটা কেমন একটা মিথ্যা প্রকাশ।
আমরা যতটা সাজি- ততটা কী প্রকাশিত হই!
না হই যবে- তবে সাজি কেন?

এটা কী জবাব হয়, যদি বলি
আমি তোমাকে সাজাবো বলেই সাজি
তোমাতে ভিজতে চাই বলে সাজি!

না, এটা কী যুক্তি হলো!
আমার সাথে যুক্ত কোথায়?

আমি আমার বিশ্বাস প্রকাশ করি
তোমার জন্য।
আমার বিশ্বাস আসনপেতে বসে
তোমার বিশ্বাসের তরে।

কথায় কি আর চিড়ে ভিজে
না- কথায় মালা চোখে আসে।
মালা সাজানো কি থেমে থাকে?

আচ্ছা, শব্দে মালা কি নিষিদ্ধ হয়েছে-এ তল্লাটে!

যদি হয়?
যদি হয়- কী হবে
আমার স্বপ্ন কি পুলিশ আটক করবে
আমার হৃদয় কি জল্লাদেও খড়গের নিচে কাটা পড়বে শেষমেশ।

আমার হৃদয়নিসৃত শেষ রক্তশীষ
তোমাকে জপবে
প্রিয়তমা।

নিছক আড্ডা অথবা মুক্ত বাতাস
প্রশ্রয় অথবা জামিন
আত্মআটক আ মুক্তি।

তবে,

সত্য যে, কোলাহলভরা মেলায়
কেউই হারালো না;
সুরটা প্রকাশ পায় কিন্তু
গলাটা খোলো না।

কানে আমার কী যেন
একটা অট্টহাসি।

আমি কার খুরের শব্দ শুনতে পাই
মুক্তি আমাকে কোন
বন্দিত্বের দিকে টানে।

কার শব্দ
কিসের সুবাস
কোন ছলনা!
একদিন প্রশ্নও তুলেছিলাম- আমরা আমাদেও প্রতি
এমন করে প্রকাশ হচ্ছি কেন?
এ বেলায় মনে হচ্ছে- অনর্থক প্রশ্নে কেন আটকা পড়ি।

প্রকাশ হবার ডালটা পাতা দেয় না
অসহিষ্ণু উষ্ণ তীব্রতায়, হয়তো।

কারণ কী হতেই হবে
প্রকাশ নাকি আড়াল করা।


২৭ জুন’ ০৯
বরাইপাড়া, গাজীপুর।


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28971248 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28971248 2009-06-29 14:40:39
A documentary film name `Climate Refugees'
Producer said "Climate Refugees" will enlighten the world to an alarming aspect of climate change that has never been addressed. It is the director’s hope, to world premier "CR" at the Cannes 2009.

They have been taken Bangladesh as a case and captured a lot of photo from various please of Bangladesh; used some still photo of cyclone victims.

Please visit the links for trailer of the movie- http://www.climaterefugees.com/]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28954520 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28954520 2009-05-23 11:12:52
ইনফো এক্টিভিজম ক্যাম্পের ১ম ৩দিন
অংশগ্রহণকারীদের দিক থেকে এটা দারুন। মিডিয়া ও যোগাযোগ প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এমন অনেক এক্টিভিস্ট, সেনাশসিত হচ্ছে বার্মা, তিউনেশিয়া, আবার ল্যটিন আমেরিকার অঞ্চলের কয়েকটি দেশ, ফিলিস্তিন, লেবানন এবং দেশীয় যারা কাজ করছে সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে, একই সাথে আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন জায়গা থেকে ‘উন্নয়ন কর্মী’রা এসেছে এ ক্যাম্পে।

অন্য একদল অংশগ্রহণকারী হচ্ছে যারা জিপিএস, মোবাইল ফোনের বহুমাত্রিক ব্যবহার ও ভিওআইপি, সিএমএস, ইন্টারনেট নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে। এদের সাথে রয়েছে কিছু ওয়েব ডেভেলপার ও ফিল্ম মেকার। সারা দুনিয়া থেকে প্রায় ১৪০ জনের সম্মিলন।

ট্রেনিং, কনফারেন্সের মত এখানে কোন কাগজ, কলম, টেবিল চেয়ারের বালাই নেই। সবার হাতে ক্যামেরা, ল্যাপটপ। বেঙ্গেলোর শহর থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে একটা দুর্গম এলাকায় বসেছে এ ক্যাম্প। বসানো হয়েছে একটা ভিসেট সাথে লোকাল সার্ভার। ক্যাম্পের সকল কার্যক্রম, তথ্য, সূচি যাবতীয় জিনিসই রয়েছে উইকি’ তে; এ জন্য তৈরি করা হয়েছে ক্যাম্প উইকি। ভেন্যু হিসেবেও এটা দারুন- ১৯৯৬ সালে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এ ভেন্যু ‘গ্রিন ভ্যালি রিসোর্ট’ কে ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রোগ্রামের দিক থেকেও এটা একটা দারুন জিনিস। প্রতিদিন অনেকগুলো সেশন হচ্ছে, সহায়করা কোন সেশনে কী জ্ঞান/ দক্ষতা শেয়ার করা হবে এটার ব্যবহার কী তা প্রথমে একটি বড় দলের আলোচনায় উস্থাপন করে পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারীরা তাদের চাহিদা মোতাবেক সে সেশনে যোগ দিচ্ছে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে অনুরোধ করা হয়েছে তাদের চাহিদা কী, কোন ধরণের বিষয় তাদের জানা দরকার সে মোতাবেক সেশন প্রস্তাব করার জন্য। পরবর্তীতে প্রস্তাবিত সেশনগুলো আলোচনা করা হচ্ছে। প্রতিটি সেশন শেষে একটি প্যানারি সেশন হচ্ছে সেখানে পরবর্তীতে সেশনগুলো কী হবে তার একটি ব্রিফ দেয়া হয়। ব্রিফের পর আমার সাথে যে সেশনটি ফিট হচ্ছে আমি সেখানেই যাচ্ছি।

ক্যাম্পটি যারা পরিচালনা করছে তারাও খুবই মজার,এবং এখানে ব্যবহৃত প্রতিটি মেথডটি খুবই অংশগ্রহণমূলক এবং শিখনীয়।

এখানে এসে দেখা হলো গ্লোবাল ভয়েসের অপর্ণা এবং সামি’র সাথে। অপর্না সামহয়ারইন ব্লগের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি সা.ইন ব্লগ নিয়ে খুবই উৎসাহী। পাশাপাশি এখানে কিভাবে দু’বাংলা সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অধিকার বিষয়ক আলোচনা করা যায় সেগুলো নিয়ে কথা বললেন।

প্রতিদিনই এখানে ডিজিটাল মিডিয়া’র সেশন হচ্ছে। আমি এবং অপর্না আলোচনা করছি সামহয়ারইন ব্লগকে একটি সেশনে কেসস্টাডি হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য। সিডর, বন্যা, যুদ্ধাপরাধী বিচারের দাবিতে সামহয়ারইন ব্লগ কিভাবে কাজ করেছে; কিভাবে যুবকরা এ জনসাংবাদিকতা চর্চায় সম্পৃক্ত হয়েছে তা তুলে ধরাই হবে আমাদের সেশনের উদ্দেশ্য।

রাতে আলাপ হচ্ছিল, ইন্টারনেট জকি খ্যাত ফ্যাডরিক ও জার্মান একটি মেয়ের সাথে তারা দুজনে বাংলাদেশের নাগরিক সাংবাদিকতার অগ্রসরতার কথা শুনে অভিভূত হয়েছে। ফ্রেডরিক অবশ্য সামহয়ারইন, আমার ব্লগ ইত্যাদি সম্পর্কে জানেন।

এখানে থাকতেই ২১ ফেব্র“য়ারি এলো। প্রতিদিন ক্যাম্প থেকে একটি নিউজ লেটার বের হয়। ২১ তারিখে সেখানে আমি একটি সংবাদ দিয়েছি ‘আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এবং আমরাই একমাত্র জাতি যারা তাদের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে। পরে অনেকেই এসে আমাদের সাথে এ বিষয়টি জানতে চাচ্ছিলেন।

অঞ্জলি এসেছেন কানাডা থেকে, থরথর করে ইংরেজি বলেন। গতরাতে আমার কাছে এসে আস্তে করে বললেন, আপনি কী বাংলা জানেন? আমি তো শুনেই থ। আমি বললাম হাঁ, সাথে সাথে সে বল্লো, আপনি ধীরে ধীরে বাংলা বলেন আমি বাংলায় বলতে-শুনতে চাই। অঞ্জলি কানাডিয়ান মেয়ে, কাজ করে ফিলিপিনে। তার মা আসলে কলকাতার- সে কারণেই তা বাংলা জানাশোনা এবং সে বাংলা পছন্দ করে।

ক্যাম্পে সেশনের সময় ইন্টারনেট ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এজন্য পরে বিস্তারিত লিখতে হবে।

ধন্যবাদ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28915115 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28915115 2009-02-23 11:26:33
Info Activism Reflections
What an amazing and dynamic mix of participants. Half activists who use media and communication technology in their campaigns. From sex workers to militant nationalists/democrats from Egypt, Burma, and Tunisia, social justice activists from Latin america, Palestine, Lebanon and Asia to 'development practitioners' from across Africa and Europe.

The other half of participants are media and technology activists from web developers and digital film makers/trainers to guys specializing in developing digital maps using GPS, many leaders in activist applications of mobile phones and VOiP, content and contact management peeps, and a bunch of (paranoid sounding) security artists with scary stories to tell about how vulnerable our identity and privacy are on line. It is quite a sight. 150 communication activists from across the world, all with laptops, all consuming bandwidth through a tiny satellite connection here in rural India.

The programme is very dynamic and responsive. Each day there are a range of sessions to choose from and participants are encouraged to request sessions they want, propose and facilitate sessions on skills and knowledge they have to offer. After each tea break there is a short 'plenary' session where all the upcoming sessions are introduced briefly by their facilitators, then we cal vote with our feet - some sessions are large, some are small, some get repeated, some form into an ongoing 'stream' of sorts.

The programme is organized along the same principals as the internet: Users/participants generate their own content and then users/participants establish demand for each session by choosing it (or not). They have tried to replicate the same methodology inside the sessions with an emphasis on participatory facilitation, dialogue, and peer learning. I found this quite frustrating at times when the facilitation is quite clearly highly knowledgeable in a field and, with the limited time we have together, insists on a series of participatory brainstorming type exercises. I never thought I'd say it... but sometimes I think a plain and simple lecture would be most exciting. At some point I'm scheduled to faciltate a session called "going off line - engaging the mass media".

The skills & knowledge I've acquired in three days (to name a few):

* I've explored ways to get our content/perspective out into the internet from the amandla site though engaging bloggers, using RSS (really simple syndication), exchanging links, and search engine optimization.
* I've learnt how to in-crypt my email and surf the internet anominiously without attracting the attention of authorities (by they way you can never be full confidential or anominious - and facebook is evil).
* I've explored the elements of story telling, segmenting and speaking to different audiences, and various innovative ways to present information.
* We spent an evening watching some amazing films made by participants.
* I've met multi media activists, community and 'citizen' journalists all doing similar work to us - there have been many interesting and exciting conversations over meals and into the evening.

Indian food three meals a day. The novelty soon wears off. Tomorrow we have a 'day off' and the whole camp is going into town do do some shopping. I'm looking forward to my first taste of India beyond the airports and this camp. Then it's back for another four days of exchanges and learning.

Some more links:

http://www.revolutionvideo.org/agoratv/
http://hub.witness.org/
http://advocacy.globalvoicesonline.org/
http://globalvoicesonline.org/
http://www.digiactive.org/
http://www.planetplanet.org/
http://www.torproject.org/
http://tacticaltech.org/
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28914569 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28914569 2009-02-22 08:37:47
কথার পাঁচ হেরে যাওয়া
নাকি অপমান হওয়া
চলুক লটারি।

শানিয়ে নিব বলেই
মরে যাওয়া
কিন্তু ডুবতে নয়।

ঘুটঘুটে অন্ধকার ভেবে
হয়ত আলো নিয়ে আসবে
কিন্তু তার আগেই জ্বলে থাকতে চাই, ধকধকে ক্ষতের মত।

ঘা পড়ুক দরজায়
আমি বৃষ্টিতে ভিজতে চাই।

এও কী ভালোবাসা।
এও কী ভালোবাসা।
---------------------------------------------------------

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28911314 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28911314 2009-02-14 23:38:42
ডাটা উদ্ধার করার জন্য সাহায্য চাই http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28761419 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28761419 2008-01-16 18:47:09 দিননামাচা: গ্রামীণ ফোনের শুয়ের বাচ্ছা মার্কা কর্মের ফলে ভোগান্তির বিবরণ মাত
সকাল ৯:০০ টা
১. অধ্যক্ষ আবুল বাসার স্যারকে ফোন করার কথা, কিন্তু পারিনি
২. আউয়াল ভাইকে ফোন করার দরকার, পারিনি
৩. কাজলকে দরকার কিন্তু ফোন করতে পারলাম না
ই-মেইল
১. ই-মেইল চেক করা গেল না
২. ড. মাহবুব একটা রিপোর্ট পাঠানোর কথা গতকালে, কিন্তু চেক করতে পারছি না


সকাল ১১:০০ টা
১. সমাজসেবা বিভাগে যাওয়ার কথা-ডিডি সাহেব আছেন কিনা খবর নেয়া দরকার; কিন্তু মোবাইল চলে না
২. সোনাপুর কলেজে ০২ তারিখের প্রোগ্রামের অগ্রগতি জানা দরকার, কিন্তু ফোন করা যাচ্ছে না
৩. গণসাক্ষরতায় তপন দা’র সাথে কথা বলতে হবে- উনাকে আমন্ত্রণ জানানো ও প্রোগ্রামের খরচের বিষয়ে কিন্তু ফোন কারবার করে না
ই-মেইল
১. আজকেই বিএফএফ-এ একটা প্রকল্প প্রস্তাবনা মেইল করার কথা,-প্রকল্পের আর্থিক দাম ০৬ লাখ টাকা; কিন্তু পারছি না।
২. আউয়াল ভাই একটা প্রকল্প প্রস্তবনার ড্রাফট মেইল করবেন, কিন্তু পারছেন না- এই প্রস্তাবনাটি চুড়ান্ত করে আগামিকাল জমা দিতে হবে। এটির আর্থিক মূল্য কমবেশি ১০ হাজার মার্কিন ডলার
৩. বিটিএনের আমন্ত্রনপত্র পেয়েছি-তাদের কনপার্মেশান মেইল করা দরকার, কিন্তু পারছি না
৪. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আইসিটি’ নিয়ে একটি ডকুমেন্ট ডাউনলোড করা দরকার, কিন্তু পারছি না। বিকেলে এ বিষয়ক একটি সেমিনারে কথা বলতে হবে

বিকেল ৫:০০টা
১. অফিস টাইম শেষ, কার্যত কোন যোগাযোগ হয়নি
২. ডিসি সাহেবকে ফোনে পেলাম না
৩. মিটিংয়ে আসার জন্য এডিসিকে তাগাদা দেবার কথা দিতে পারিনি, তিনি সভায় আসেননি
৪. রুদ্রকে বারবার ফোনে চাচ্ছিলাম- পেলাম না
৫. টেলিটকের সিমে টাকা রিচার্জ করতে হলো

১. কোন ইমেইল পেলাম না
২. কাউকে মেইল করা হলো না
৩. শামীম আরেফিনকে মেইল করতে পারলাম না
৪. কালকে ঢাকায় উন্নয়ন ধারার একটা প্রোগ্রাম আছে, যেতে পারবো না; কিন্তু নয়ন ভাইকে ফোন কিংবা মেইল করতে পারলাম না
৫. মনি’র আজকে প্রথম অফিস দিন, কিন্তু উইশ করা হলো না
৬. রোকু বার বার ফোন দিচ্ছে কিন্তু রিসিভ করলে কেটে যায়- বোধ হয় বন্ধুত্বটা থাকবে না

এসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে গ্রামীণ ফোনের কারণে। আজ সকাল থেকে নোয়াখালীতে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। আমার সমস্যা ও ক্ষতির পরিমান খুবই সামান্য্। কিন্তু আমার মত আরো অনেকেই এরকম হাজারো সমস্যা হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে বিরাট অংকের। আমরা এ ক্ষতি ও সমস্যার একচি সারণী করা দরকার। দরকার এ সমস্যা ও ক্ষতিসমূহের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবির। সেবাপ্রদানকারী সেবাসরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা মনে রাখতে হবে আজকের এ বিড়ম্বনার জন্য জিপি আমাদের কোন নোটিশ দেয়নি। এ ক্ষতির তালিকা পূর্ন রূপ দানে আপনার সহায়তা চাই।

আমাদের এ সমস্যা তৈরি ও ক্ষতি সাধনের জন্য জিপি’র আর্থিক শাস্তি হওয়া উচিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28748193 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28748193 2007-11-28 19:15:22
দিননামাচা: গ্রামীণ ফোনের শুয়রের বাচ্ছা মার্কা কর্মের ফলে ভোগান্তির বিবরণ মাত্র
সকাল ৯:০০ টা
১. অধ্যক্ষ আবুল বাসার স্যারকে ফোন করার কথা, কিন্তু পারিনি
২. আউয়াল ভাইকে ফোন করার দরকার, পারিনি
৩. কাজলকে দরকার কিন্তু ফোন করতে পারলাম না
ই-মেইল
১. ই-মেইল চেক করা গেল না
২. ড. মাহবুব একটা রিপোর্ট পাঠানোর কথা গতকালে, কিন্তু চেক করতে পারছি না


সকাল ১১:০০ টা
১. সমাজসেবা বিভাগে যাওয়ার কথা-ডিডি সাহেব আছেন কিনা খবর নেয়া দরকার; কিন্তু মোবাইল চলে না
২. সোনাপুর কলেজে ০২ তারিখের প্রোগ্রামের অগ্রগতি জানা দরকার, কিন্তু ফোন করা যাচ্ছে না
৩. গণসাক্ষরতায় তপন দা’র সাথে কথা বলতে হবে- উনাকে আমন্ত্রণ জানানো ও প্রোগ্রামের খরচের বিষয়ে কিন্তু ফোন কারবার করে না
ই-মেইল
১. আজকেই বিএফএফ-এ একটা প্রকল্প প্রস্তাবনা মেইল করার কথা,-প্রকল্পের আর্থিক দাম ০৬ লাখ টাকা; কিন্তু পারছি না।
২. আউয়াল ভাই একটা প্রকল্প প্রস্তবনার ড্রাফট মেইল করবেন, কিন্তু পারছেন না- এই প্রস্তাবনাটি চুড়ান্ত করে আগামিকাল জমা দিতে হবে। এটির আর্থিক মূল্য কমবেশি ১০ হাজার মার্কিন ডলার
৩. বিটিএনের আমন্ত্রনপত্র পেয়েছি-তাদের কনপার্মেশান মেইল করা দরকার, কিন্তু পারছি না
৪. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আইসিটি’ নিয়ে একটি ডকুমেন্ট ডাউনলোড করা দরকার, কিন্তু পারছি না। বিকেলে এ বিষয়ক একটি সেমিনারে কথা বলতে হবে

বিকেল ৫:০০টা
১. অফিস টাইম শেষ, কার্যত কোন যোগাযোগ হয়নি
২. ডিসি সাহেবকে ফোনে পেলাম না
৩. মিটিংয়ে আসার জন্য এডিসিকে তাগাদা দেবার কথা দিতে পারিনি, তিনি সভায় আসেননি
৪. রুদ্রকে বারবার ফোনে চাচ্ছিলাম- পেলাম না
৫. টেলিটকের সিমে টাকা রিচার্জ করতে হলো

১. কোন ইমেইল পেলাম না
২. কাউকে মেইল করা হলো না
৩. শামীম আরেফিনকে মেইল করতে পারলাম না
৪. কালকে ঢাকায় উন্নয়ন ধারার একটা প্রোগ্রাম আছে, যেতে পারবো না; কিন্তু নয়ন ভাইকে ফোন কিংবা মেইল করতে পারলাম না
৫. মনি’র আজকে প্রথম অফিস দিন, কিন্তু উইশ করা হলো না
৬. রোকু বার বার ফোন দিচ্ছে কিন্তু রিসিভ করলে কেটে যায়- বোধ হয় বন্ধুত্বটা থাকবে না

এসব সমস্যা তৈরি হচ্ছে গ্রামীণ ফোনের কারণে। আজ সকাল থেকে নোয়াখালীতে গ্রামীণ ফোনের নেটওয়ার্ক নেই। আমার সমস্যা ও ক্ষতির পরিমান খুবই সামান্য্। কিন্তু আমার মত আরো অনেকেই এরকম হাজারো সমস্যা হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে বিরাট অংকের। আমরা এ ক্ষতি ও সমস্যার একচি সারণী করা দরকার। দরকার এ সমস্যা ও ক্ষতিসমূহের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবির। সেবাপ্রদানকারী সেবাসরবরাহের ক্ষেত্রে সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু আমরা মনে রাখতে হবে আজকের এ বিড়ম্বনার জন্য জিপি আমাদের কোন নোটিশ দেয়নি। এ ক্ষতির তালিকা পূর্ন রূপ দানে আপনার সহায়তা চাই।

আমাদের এ সমস্যা তৈরি ও ক্ষতি সাধনের জন্য জিপি’র আর্থিক শাস্তি হওয়া উচিত।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28748188 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28748188 2007-11-28 19:08:13
কে বিচার করবে! একদিকে ঘূর্ণিঝড় অন্যদিকে গ্রামীণফোনের বিতলামী গ্রামীণ ফোনের কার্যকলাপ ইতোমধ্যে অনেক কাহিনীর জন্ম দিয়েছে। একবার দেখলাম গ্রামের গরিব মানুষের ক্ষমতায়ন করেছ-এ কথা বলে জিএসএম থেকে পুরঙ্কার ভাগিয়েছে। লোকে বলে গ্রামীণ ফোনের লাভ-ক্ষতি নিয়ে বেশি খেচখেছ করবে না - এ শর্তে ড. ইউনুস নোবেল পেয়েছেন। সে যাই হোক ইতোমধ্যে জিপি তার গ্রাহকদের সাথে কী ধরনের সম্পর্ক রক্ষা করেছ, কত টাকা কামাই করছে, কত টাকা সামাজিক উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে, কতটাকা নরওয়েতে নিয়ে যাচ্ছে- এসব নিয়ে আমাদের কথা বলা দরকার। আমরা মানে পত্রিকাওয়ালা, চ্যানেলওয়ালা, দাতা গোষ্টি, এনজিও নয়। আমরা মানে আমজনতা-যারা জিপির সেবা গ্রহণ করি এবং মুনাফা'য় যোগান দেই। আমরা উর্পযুক্ত বিষয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।

লেখাটি লিখতে লিখতে আমার নিজের ফোনেই একই এসএমএস পেলাম। কপাল আমার!

মুকুল যে প্রশ্নটি তুলেছেন তা খুবই প্রাসিঙ্গক। আমরা এখন কী আশা করছি, বিশেষত উপকূলের মানুষ? এ মাত্র সাতক্ষীরা থেকে মোহনের মেইল পেলাম। মোহন প্রার্থনা করতে বলেছে তার এলাকার মানুষরা যেন `হারিকেন'র ধকল সইতে পারে। কাল সকালে যেন মানুষ প্রকৃতি দেখতে পায়; কারো লাশ দেখতে না হয়। এটা একজন মাত্র মোহনের মেইল। তার সাথে ১০ জন/ ২০ জন কিংবা ৩০/৫০ অথবা ১০০ জন সম্পৃক্ত। এদের সাথে মোহনের কোন শর্ত নেই কিংবা মুনাফা আয় রোজগারের বিষয়। তবুও তার এতটা উৎকন্ঠা।
কিন্তু গ্রামীণ ফোনের সাথে ১০ কিংবা ১০০ জন নয়; সারা দেশ সম্পৃক্ত। তাদের বিজ্ঞাপন মতে গ্রাহক সংখ্যা ১ কোটি (?)। আমরা এ কোটি মানুষ তাদের মুনাফার যোগানদাতা। আমাদের পকেটের টাকা তাদের ব্যাংকে জমা হয়। এই যদি আমাদের সম্পর্ক হয় তাহলে গ্রামীণ ফোন আমাদের এ দুর্যোগে আমাদের জন্য আসলেই কী করছে?

মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কিভাবে জনগণের উপকার করা যায় তার প্রমাণ সারা দুনিয়াতে আছে। আর কত খারাপ করা যায় তার প্রমাণও আছে- তবে তার বেশিরভাই বাংলাদেশে। ইয়ারা, অস্ত্র, খুন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন- এসবের পেছনে সহায়ক শক্তি এ সেল ফোন। মাশাল্লাহ জিপির `ডিজুস' প‌্যাকেজের তো আর কথাই নাই। প্রায় একটি জেনারেশন তারা শেষই করেছেন। এটা অবাক হবার বিষয় হবে না, যদি আমরা শুনতে পাই বিনা পয়সায়/ কম দামে কথা বলার জন্য ছেলেরা রাতে ইয়ারা খেয়ে জেগে থাকত।

আসলেই এ কথায় সূত্র সন্ধান করা উচিত আমাদের। এবং প্রমাণ সাপেক্ষে মামলাও করা দরকার।

ফিলিপাইনে জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন তৈরিতে মোবাইলের ফোনের কেরামতি ছিল সব'চে বেশি। ঔখানে এসএমএসের মূল্য নামমাত্র। কোম্পানিগুলো এসএমএসের দাম বাড়াতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণ স্পিকারের অফিস ঘেরাও করে তা পর্যন্ত করতে দেয়নি। আর আমাদের মোবাইল ফোন কম্পানিগুলান আমাদের পারলে শাসন করে। লাল-সবুজ মাত্রা তাদের একটি লোগো ছিল-ইউনুস মিয়ার পছন্দের। টেলিনরের বাচ্ছারা তা পর্যন্ত বদল করেছে কিন্তু ইউনুস মিয়ারে একবার জিজ্ঞাসিনি।
ইন্ডিয়াতে বর্তমানে `রিয়েল টাইম সুনামি এল্যাট'র ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষ প্রতি সেকেন্ডে সুনামি সংক্রান্ত তথ্যাদি পাবে। এবং এ রকমভাবে একটি সেবা দেয়া আমাদের মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোর জন্য কোন বিষয়ই ছিল না।

কিন্তু না। তারা তা করেনি। কখনো করেনি। করে না।

আমাদের দুর্যোগ সংক্রান্ত তথ্য দেয়া নেবার ক্ষেত্রে এখন নাগাদ কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানুষনির্ভর মুখে মুখে তথ্য প্রেরণ ব্যবস্থা। টিভি রেডিও থাকলেও তা বিপদের সময় ঠিকমত তথ্য দেয় না এবং তা রিয়েল টাইম তথ্য নয়। আবার পিকুলিয়ার ব্যাপার দেখলাম আজ বিটিভি'তে, তারা টর্নেডো উপলক্ষে হাম-নাতের আসর জমিয়েছে। মানুষ কী করবে কী প্রস্তুতি নিবে তা কোন কথা নাই- উল্টা মানুষের মনের মধ্যে ভীতি তৈরি করছে। ভাবখানা এমন- আল্লাহ'র মাল আল্লাহ'য় নিবে; সমস্যা কী?

দীর্ঘদিন থেকে আমরা বলে আসছি এ সমস্যা নিরসনে কমিউনিটি রেডিও চালু করতে। কিন্তু সরকার এ কথা কানেও তোলে না। তাদের আবার ভয়; পাছে কমিউনিটি রেডিও ব্যবহার করে কেউ যদি তাদের স্বাধীনতা দাবি করে বসে! তাই তারা কমিউনিটি রেডিও লাইসেন্স দিচ্ছেন না।

এক্ষেত্রে মোবাইল ফোন কম্পানিগুলান এগিয়ে আসতে পারতো। তারা জানে বিপদশঙ্কুল ১৫টি উপকূলীয় জেলা তাদের কতটি টাওয়ার আছে এবং এ টাওয়ারগুলোর আওতায় কতগুলো কানেকশান আছে। প্রতিটি কোম্পানি যদি উক্ত কানেকশানগুলোতে এসএমএস দিয়ে এ বিপদের তথ্য দিতো তাহলে মানুষ সহজে এ বিষয়ে তথ্য পেত এবং প্রস্তুতি নিতে ও জানাতে সহজ হতো। একই সাথে মানুষ প্রস্তুতি নিতে কোথায় কী সমস্যায় রয়েছে তা জানানোর জন্য তারা `শর্টকোড' যেমন, ৩৪৫ দিয়ে একটি হটলাইন শুরু করতে পারতো কিন্তু তারা কেউ তা করেনি।
গ্রামীণ ফোন তাদের সিএসআর `কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সসিবিলিটি' থেকে নানা কাজের পিরিস্তি দেয়। গ্রামে গ্রামে উদ্যোক্তা তৈরি এ তথ্যসেবা নামে তারা সাইবার ক্যাফে `সিআইসি' তৈরি করছে। `সিআইসি' হোক-আমরাও তা চাই কিন্তু তা গরিব মানুষের কতখানি উপকারে লাগে তা দেখতে হবে।

আমরা চাপ তৈরি করা দরকার
১. জাতীয় দুর্যোগের সময় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলো যেন বিনামূল্যে তথ্যসেবা নিশ্চিত করে; এটি ভয়েস কিংবা এসএমএস যাই হোক না কেন!
২. একই সাথে দুর্যোগকালীন সময়ে `শর্টকোড' কিংবা লংকোড হটলাইন চালু করা!
৩. বিপদ সংক্রান্তু এসএসএস সমূহ বাংলা ভাষায় দেওয়া; যেন মানুষ সহজে বুঝতে পারে। প্রয়োজনে তা ইমেজ আকারে দেওয়া!
৪. দুর্যোগপ্রবল এলাকায় `ইনফো সেন্টার তৈরি করা বা তৈরিতে সহায়তা করা;
৫. মোবাইলের কলরেট কমানো
৬. মোবাইল ফোন কম্পানিগুলোর সিএসআর নিশ্চিত করা এজন্য প্রয়োজনে পাবলিক হেয়ারিং করা এবং সোশ্যাল অডিট পরিচালনা করা;
৭. গ্রামীণ ফোনের মুনাফা সাথে সম্পৃক্ত এসএমএস দেয়া বন্ধ করা; যদি এ জাতীয় এসএমএস দিতে হয় তাহলে এ জন্য গ্রাহকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হওয়া। (ভোদা ফোন তার গ্রাহকদের বিভিন্ন বিজ্ঞাপন পাঠায়, এ জন্য গ্রাহকের সাথে কম্পানি চুক্তি থাকে এবং কম্পানি তার জন্য গ্রাহককে টাকা দিতে হয়।

এ মাত্র বিডি নিউজে দেখলাম,
`অন্য কোনো মোবাইল অপারেটরকে কিনে নিতে পারে গ্রামীণ ফোন'; যদি সত্যি এ ধরণের কোন বিষয় শেষ নাগাদ ঘটে তাহলে তা বাজারের পরিবেশকে যেমন নোংরা করবে একই সাথে তাদের মনোপলি ব্যবসার সুযোগ আমাদের বেশি বেশি ঠকাবে। তাই ফোন কম্পানিগুলোর শেয়ার বাজারে ছাড়ার জন্য এদের আরো জোরশোর চাপ দিতে হবে। কম্পানিগুলোতে মানুষের প্রতিনিধিত্ব তৈরি হলে এদের স্বেচ্ছাচারিতা কমবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28745753 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28745753 2007-11-15 18:58:36
টেলিটক বনাম বাংলালিংক
পরামর্শ চাই]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28736196 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28736196 2007-10-08 11:46:42
জিপিআরএস ব্যবহার কোন কোম্পানি ভালো হবে ]]> http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28736074 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28736074 2007-10-07 19:53:31 সাংবাদিকদের আইটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ_ পরামর্শ দরকার
যদি সাংবাদিকদের আইটি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কোন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয় তাহলে সাংবাদিকদের কোন কোন বিষয়ে ধারনা দেয়া দরকার। প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কী কী বিষয় রাখা দরকার?

এ জাতীয় প্রশিক্ষণ পরিচালনার জন্য সম্ভাব্য কারা রিসোর্স পার্সন হিসেবে কাজ করতে পারবে। ঢাকায় কার কার এ জাতীয় ট্রেনিং চালানোর দক্ষতা আছে? কাদের এ প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে?

সবার পরামর্শ চাইছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28733803 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28733803 2007-09-26 21:32:05
আমার জন্মই হইয়াছে এসব কমিটির সদস্য হইবার জন্য!
যাই হোক ঐ তরুণী আমাদের আজকের বিষয় নয়, বিষয় নোয়াখালী। নোয়াখালী দেশের সবচেয়ে পুরানো জেলাগুলোর একটি। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সবক্ষেত্রেই এ জেলার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। দরিয়ার কূলে অবস্থানের কারণে একসময়ে নোয়াখালী কেবলমাত্র ভাঙ্গা-গড়ার মধ্যে সীমিত থাকলেও আজকের প্রেক্ষাপটে সে জায়গাটির অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। সভ্যতা নিয়তই মানুষকে সৃষ্টিশীল করে তুলছে। দুনিয়াজোড়া মানুষ সকলেই তাদের সামর্থ্য ও সাধ্যমাফিক এখানে কন্টিবিউট করার চেষ্টা করে। প্রকারান্তে তারা নিজেরাই এ সভ্যতার স্বাদ গ্রহণ করে।

কিন্তু যদি প্রশ্ন আসে আমার প্রতি আমরা এ সভ্যতায় কতখানি শরিক হয়েছি? কতখানি আমি দিয়েছি কিংবা কতখানি বাদ রেখেছি নেয়া থেকে? আমার কাছে কোন জবাব নাই। এতসময় আমরা পার করে এলাম কিন্তু আমরা আজে একটি পরিকল্পিত শহর তৈরি করতে পারিনি। আমাদের একখানা শহর আছে কিন্তু তার কোন অলংকার নাই। বাচ্ছারা অভিযোগ করে আমরা তাদের বিনোদনের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করি। কিন্তু আমরা জবাব দিতে পারি না। অবশ্য আমাদের নেতারা এ প্রশ্নের জবাব আমাদের সাথে সাথে দিয়ে দেন। শিশুপার্কের জন্য প্রকল্প তৈরি হয়েছে, টাকা আছে, আগামি মে (!) মাসের মধ্যে শিশুপার্ক হয়ে যাবে। আমরা আমজনতা খুশী হয়ে হাততালি দিতে দিতে বাসায় ফিরি। বিশ্বকাপ জেতার মত একখানা ভাব নিয়ে বাচ্ছাদের বলি, পার্ক হয়ে যাবে- নেতাজী বলেছেন। কিন্তু মে মাস আসে, মে মাস যায় কিন্তু পার্ক তৈরি হয় না। ছেলে আমার শিশু থেকে বুড়ো হয়ে যায়-তবু পার্ক তৈরি হয়। তার একদিন ভিসিডিতে হিন্দি সিনেমা দেখতে দেখতে বাচ্ছা আমার বলেই ফেলে, বাবা তোমরা সব মিথ্যুক। আমি কোন জবাব দিতে পারি না। দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। ছাদের কোণায় দাঁড়িয়ে আল্লাহকে বলি, ‘মাবুদ আমার-আমাদের নেতারা যেন তাদের সন্তানদের সাথে সত্যি কথা বলতে পারে তার তওফিক দিও’।

শহরে বেশ কয়টি প্রতিষ্ঠান আছেন। জনগণের জন্য এ সকল প্রতিষ্ঠান তৈরি হলেও কালের-কাওচালিতে এসকল প্রতিষ্ঠান নেতাদের ব্যক্তিগত দোকানপাটে পরিণত হয়েছে। জেলার অনেক পুরানো একটি জনপ্রতিষ্ঠান- নোয়াখালী পাবলিক লাইব্রেরি। অনেক গড়াগড়ি পর অবশেষে এসে টাউন হলের পাশে মাথা গেঁড়েছে। কিন্তু পাঠক, ব্যবস্থাপনা আর জনঅংশগ্রহণের দিক থেকে তাথৈইবচ একখানা অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতবিশাল সংগ্রহশালা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি টিকে থাকলেও বেঁচে আছে মৃতপ্রায় অবস্থায়।

পাশেই আছে নোয়াখালী টাউন হল। কিন্তু এত এত গরিমাময় এ প্রতিষ্ঠানটি অবস্থা খুবই নাজুক, হতশ্রী। ফোটাকয়েক বৃষ্টিতে টাউন হল নামক ঘরখানার সামনে একহাটু পানি জমে থাকে। কিন্তু টপকে যেতে পারলেই সারে, কোণার রুমখানা একেবারে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। হরতন, ইসকা যাই চালান সমস্যা নেই। শুধু সমস্যা আমজনতা, সমস্যা সমাজ-সচেতন নাগরিকদের। একটি ভালো সভা, চর্চা, স্টাডি সার্কেলে বসতে চাইলেও সে জায়গাখানি এশহরে পাওয়া খুবই দুষ্কর। জানা মতে টাউন হল পরিচালনার জন্য একখানা কমিটিও আছে। কিন্তু তারা কোথায় কিংবা টাউন হলের উদ্দেশ্য কি অথবা এ ঘরখানা দিয়ে আগামিতে কী হবে তার কোন ভাবনা হয়ত তাদের মধ্যে নেই। শেষবার মেসবাহ ভাইয়ের স্মরণ সভায় গিয়ে টাউন হলের মঞ্চের পেছনে একখানা কালো পর্দা দেখেছিলাম। ঠিক কবে এ পর্দাটি লাগানো হয়েছিল তা জানার কোন উপায় না থাকলেও ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে ছেঁড়া পর্দাখানা দেখে যে কেউ এটা অন্তত: বুঝতে বাকি থাকবে যে কর্তৃপক্ষ এ হলটির বিষয়ে আসলেই কতখানি উদাসিন। ছেঁড়া পর্দাটি বারবার উড়তে দেখে মনে হচ্ছিল ঈশ্বর যদি আমাদের বিবেকের সামনে ঝুলে থাকা পর্দাটি ছিঁড়ে দিতেন তাহলে হয়ত আমাদের আগামি দিন আরো সুন্দর হত। আমরা হয়ত পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম জায়গাগুলোর একটির বাসিন্দা এ ভেবে পুলকিত হতে পারতাম।
শহরে আরো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, রাষ্ট্র এসকল প্রতিষ্ঠানকে এক ধরণের ‘জনসভা’ হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়তাও করেছে। কেউ গড়ে উঠেছেন পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে, কেউ সংস্কৃতির নেকাবে, কেউবা ‘জনমিলনের’ জন্য। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে কালে-ভদ্রে এ সকল প্রতিষ্ঠান দু’চার জন আমজনতাকে কাতারে সামিল করলেও পরবর্তীতে সেসকল প্রতিষ্ঠানের শরীরময় একখানা স্বেচ্ছাচারিতার উর্দি গেঁড়ে বসেছে। ফলে এসকল প্রতিষ্ঠান সামাজিক কারণে গড়ে উঠলেও সেখানে সমাজের আর দশজনের কোন অংশদারিত্ব থাকেনি। সমাজের বদলে প্রতিষ্ঠানসমূহ ব্যক্তি, পরিষদের কিংবা হাতেগোনা সদস্যদের ‘ব্যক্তিগত সাদৃশ্য’ সম্পদে পরিণত হয়েছে।

সমাজ কী সভ্যতা তৈরি করে নাকি সভ্যতাই নতুন নতুন সমাজ তৈরি করে, এটি আমার কাছে একটি জটিল ও গাণিতিক প্রশ্ন। কিন্তু একটি আদর্শিক, দেশপ্রেমিক, জবাবদিহিমূলক সমাজ তৈরি করতে হলে অবশ্যই সমাজের প্রত্যেকটি চোখকে সমানভাবে কাজ করা জরুরি। একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে নাগরিকদের সাথে রাষ্ট্রের দায়িত্ব-সম্পর্ক জোরদার ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য এসকল সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে/ গড়তে সহায়তা করে এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের শর্তপূরণে চাপ তৈরি করে। নৈতিকভাবে এসকল প্রতিষ্ঠান জন-অধিপরামর্শক হিসেবে রাষ্ট্রকে অবহিত করে এবং কিন্তু এসকল প্রতিষ্ঠান যদি পরবর্তীতে তাদের এ জায়গা থেকে সরে আসে তাহলে সমাজ কাঠামোয় ‘বিকলাঙ্গতা’ তৈরি হয়। তাই এ সকল প্রতিষ্ঠানকে সরব হওয়া এবং একই সাথে কার্যকরী করে তোলা জরুরি। প্রয়োজনে রাষ্ট্র নিজেই সক্রিয়তা উদ্যোগে অনুঘটকের ভূমিকায় আসতে পারে। রাষ্ট্রের মূল¯িপ্রট থেকে এটাই সত্য সবার ওপর জনগণ সত্য এবং জনগণকে রাষ্ট্রই সবোর্চ্চ সহায়তা করতে পারে।

দিন কয়েক আগে প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে হেঁটে আসছিলাম, সাথে আরো অনেকেই আছেন- যারা প্রায় সকলেই সকলেই উনার ছাত্র ছিলেন। কতদূর হাঁটার পর স্যার হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালেন। বেশ হতাশা আর আবদারের সুর স্যার তাঁর প্রিয় ছাত্রদের বললেন-এই শহরে কী আমরা কোথায়ও একটু বসার জায়গা পাবো না? সবাই মিলে বসবে, আড্ডা দিবে, শহরের সুন্দর আর পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলবে। স্যারকে আমরা কোন কথা দিতে পারিনি কিন্তু আমরা সবাই অনুধারণ করেছি এতটুকু জায়গা নিশ্চয়ই দরকার। দরকার এ কারণে কেননা আমাদের প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের দূরত্ব কমাতে হবে, আমাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধকে ফেরি করতে হবে পরবর্তী প্রজন্মের সাথে।

প্রিয় মাইজদী’র সকল সমস্যাই কমে যাবে যদি আমরা শহরের সকল প্রতিষ্ঠান সমূহকে তাদের লক্ষ্য মোতাবেক সচল করতে পারি। আগামি দিনের নোয়াখালী শহরটা আরো সুন্দর হবে। দুনিয়াজোড়া মানুষ আমাদের চিনবে এটাই হোক আমাদের প্রেরণা।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28731761 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28731761 2007-09-17 12:31:01
সাহায্য করুন* ওপেন সোর্স একাউন্টিং সফটওয়্যার `জিনু' সেট-আপ
সামহয়্যারে অনেক আইটি পার্সন আছেন। আমি সবার সহায়তা চাইছি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28731592 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28731592 2007-09-16 17:03:58
নীতিমালার বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিশুরা অধিকার বঞ্চিত
শিশুদের জন্যে গৃহীত নীতিমালাসমূহ বাস্তবায়িত না হওয়ায় শিশুরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেড়ে উঠার জন্যে শিশুদের সাংবিধানিক অধিকারসমূহ ও জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে উল্লেখিত অধিকারসমূহ রাষ্ট্র কর্তৃক নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

কারা শিশু: জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ মোতাবেক যদি না শিশুদের জন্যে প্রয়োগকৃত আইনে আরো কম বয়সে সাবালকত্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে তা হলে এই সনদ অনুযায়ী শিশু বলতে বোঝায় ১৮ বছরের কম বয়সী প্রত্যেকটি মানব সন্তানকে। বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনে শিশুর বয়স সীমা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ১৪ বছর পূর্ণ হয়নি এমন ছেলেমেয়েদের শিশু হিসেবে গণ্য করা হবে।

শিশু অধিকার সনদ: ১৯২৪ সালে শিশু অধিকার সম্পর্কে জেনেভা ঘোষণা ও ১৯৫৯ সালের ২০ নভেম্বর সাধারণ পরিষদে গৃহীত শিশু অধিকার ঘোষনায় শিশুদের প্রতি বিশেষ যতেœর কথা বলা হয়েছে। ইতিহাসে শিশু অধিকার সনদ হচ্ছে সবচেয়ে ব্যাপকভাবে গৃহীত মানবাধিকার চুক্তি। ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে এ চুক্তি গৃহীত হয়। ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বরে এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি অংশে পরিণত হয়। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশসহ ১৮৭টি দেশ চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।
শিশু অধিকার সনদে স্বীকৃত অধিকারের আওতায় শিশুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু ও পিতা-মাতার মধ্যকার সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে, নাগরিক অধিকার, শিশু শোষণ এবং অপরাধের সাথে জড়িত শিশুসহ অনেক বিষয়ই অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ১৯৯০ সালের জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদ অনুমোদনের পর থেকেই বাংলাদেশ শিশু অধিকারসমূহ আদায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন মোতাবেক শিশুদের টিকাদানের হার শতকরা ৭০ ভাগের কাছাকাছি উন্নীত হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য ও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী জেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, বিশ্বের যে কোন দেশে দুই তিন বার পোলিও টিকা খাওয়ানোর পরই সে দেশ পোলিও মুক্ত হয়েছে। অথচ এ দেশে তা দশবার খাওয়ানোর পরও পোলিও মুক্ত হয়নি।
শিশু শ্রম কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গার্মেন্টস শিল্প থেকে পর্যায়ক্রমে শিশুদের প্রত্যাহার, তাদের জন্যে বিশেষ বিদ্যালয় স্থাপন, যেখানে সম্ভব তাদের পরিবারের সদস্যদের কাজে লাগানো এবং তাদের হারানো আয় পুষিয়ে নেয়ার জন্যে তাদের বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবুও দেশের সম্পদের স্বল্পতা, অনুন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের অভাবে শিশু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং বাসস্থানের মত মৌলিক চাহিদা থেকে এখনো অনেক শিশু বঞ্চিত রয়েছে।
এক জরিপে দেখা যায়, ৩৫% শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে। তন্মধ্যে ১০ জনই অধিকাংশ দিন না খেয়ে বিদ্যালয়ে যায়। বাকি ৬৫ জনের মধ্যে ১৫ জন স্কুলে যায়। ২৫ জন বিদ্যালয়ে যাওয়া বাদ দিয়ে পারিবারিক কাজে সহায়তা করে। আর বাকী ২৫ জন কোন দিনই স্কুলে যায় না। ১৯৯৭ সালের এক হিসেবে দেশের জনসংখ্যা ১২৪ মিলিয়ন। তন্মধ্যে ১৮ বছরের নীচে শিশুর সংখ্যা ৬১৭ মিলিয়ন যা জনসংখ্যার ৪৯.৬%। ০-৪ বছর বয়সী কন্যা শিশু ৭.৭ মিলিয়ন যা সেই জনসংখ্যার ১২.৬৬%। ৫-৯ বছর বয়সী কন্যা শিশুর সংখ্যা ৯ মিলিয়ন যা মোট জনসংখ্যার ১৫.২৯%। ১০-১৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ৭.৭ মিলিয়ন যা ১২.৬ ভাগ মোট জনসংখ্যার এবং ১৫-১৭ বছর বয়সী মোট জনসংখ্যার ২.২৯%।

শিশু অধিকার ও কন্যা শিশু: শিশু অধিকার সনদ অনুযায়ী ১৮ বছর বয়সের কম প্রত্যেক মানব সন্তানই শিশু। এবং এখানে পুত্র শিশু ও কন্যা শিশু বলে আলাদা কোন ধরণ নেই। কিšদ সরজমিনে দেখা যায়, জন্মের পর থেকেই কন্যা শিশুরা সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়। নোয়াখালী সুধারাম উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের মোঃ হোসেন বলেন, ছেলেদের চেয়ে কন্যা শিশুরা সাধারণতঃ মা-বাবা বা অন্যদের কাছে অনেক সময় কম øেহ আদর পেয়ে থাকেন। তবে সাধারণত অশিক্ষা ও কুসংস্কার এর জন্যে দায়ী।
এ প্রসঙ্গে বাটইয়া মওদুদ আহমেদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, কন্যা শিশুরা কাজ করে না, উপার্জন করতে পারে না এ ধারণা থেকে তাদের যে বৈষম্যের শিকার হতে হয়, তা ভুল ধারনা। ৫-১২ বছর বয়সী ও ১৩-১৯ বছর বয়সী কন্যা শিশুরা নানা ধরনের গৃহস্থালী কাজে অংশগ্রহণ করে। তাদের এ সকল কাজে গোবর কুড়ানো, খড়ি কুড়ানো, রাস্তার পাশ থেকে কিংবা মাঠ থেকে কাঁচা তরকারি কুড়ানো, পশু পালন, পশুর আহার যোগান দেয়া, রান্না করাও পরিবারের ছোটদের সেবা দান বড়/অসুস্থ্যদের পরিচর্যা করা ও রয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১০-১৪ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের মধ্যে ২.৩ মিলিয়ন শিশু এবং ১৫-১৯ বছর বয়সী কন্যা শিশুদের মধ্যে ২.৪ মিলিয়ন অর্থনৈতিক কাজে জড়িত।
গ্রামাঞ্চলে শিশুদের যে শ্রমক্ষেত্র রয়েছে সেখানে কন্যা শিশুদের উপযোগী তেমন কোন শ্রম নেই। শিশু আমেনা বেগম (১১) বলেন, আমি এক বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করি। আমাকে তারা মাসে ২০০ টাকা দেয় আর খাবার দেয়। অথচ আমার ভাই চা দোকানে চাকুরি করে। খাওয়াসহ তাকে মাসে ৮০০ টাকা হারে বেতন দেয়। কন্যা শিশুরা কর্মক্ষেত্রেও নানাভাবে বৈষম্যের শিকার। তারা অন্যদের চেয়ে কম মজুরী পায়। পারিবারিক এবং সামাজিকভাবে কন্যা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্যেও তেমন কোন সহায়ক পরিবেশের সুযোগ সৃষ্টি হয় না। বরং তারা নানা ধরনের নিরাপত্তাহীনতা, যৌন নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হয়। শিক্ষার দিক থেকেও কন্যা শিশুরা পিছিয়ে রয়েছে। ঘোষবাগ ইউনিয়নের একরাম উদ্দিন বলেন, মেয়েরা বিয়ের পর অন্যের ঘরে চলে যাবে। এ ধারণা থেকে তাদের সাধারণত শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয় কম। ১৯৯৮ সালের রিপোর্টকৃত খরচ অনুযায়ী ১০-১৯ বছর বয়সী ৪০৬ জন কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া ঐ বয়সী ৪৫ জন এসিড নিক্ষেপ, ৮৭ জন অপহরণ ও ৪৮ জন যৌতুকের দায়ে নির্যাতনের শিকার হয়। আত্মহত্যা করে ৭২ জন।

শিশু অধিকার গুচ্ছ ও বাস্তবতা: জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে বর্ণিত অধিকারসমূহকে সাধারণতঃ চারটি গুচ্ছে ভাগ করা হয়। সেগুলো হলো ১. বেঁচে থাকার অধিকার, এর মধ্যে রয়েছে জীবনধারনে সহায়ক মৌলিক বিষয়াদির অধিকার, যেমন স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টিকর খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ। ২০০০ সালের মধ্যে সবার জন্যে স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার নিয়েছিল বাংলাদেশ। গ্রামাঞ্চলের শিশুদের স্বাস্থ্যের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। প্রায় প্রতিটি শিশুই কমবেশী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। সাধারণ মানুষ থেকে জানা যায়, দারিদ্র্যতাই শিশুদের স্বাস্থ্যহানীর মূল কারণ। এ প্রসঙ্গে ফতেজঙ্গপুর গ্রামের আবুল বাসার বলেন, গ্রামের মানুষকে একবেলা খেয়ে আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে প্রতিদিন প্রায় ১০০ জন শিশু অন্ধ হয়ে যায় এবং অর্ধেকের বেশি অন্ধ হওয়ায় এক সপ্তাহের মধ্যে মারা যায়। ৬ থেকে ৭২ মাস বয়সের ১০ লাখ শিশু কম বেশি ভিটামিন-এ এর অভাবে ভোগে।
পশুরামপুর গ্রামে সরজমিনে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ শিশু ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, আমাশয়সহ নানাবিধ রোগে ভূগছে।

বিকাশের অধিকার: বিকাশের অধিকারের মধ্যে আছে শিশুর শিক্ষার অধিকার, গড়ে উঠার জন্যে জীবনযাত্রার মান ভোগের অধিকার এবং অবকাশ যাপন, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের অধিকার। সরজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, উপকরণ, দারিদ্র্যতা, অভিভাকদের অসচেতনতা, শিবিখা কার্যক্রম যথাযথ বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিশুরা শিক্ষার অধিকার হতে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড় রামদেবপুর গ্রামের বিদ্যালয় গমনোপযোগী অনেক শিশু শুধুমাত্র দারিদ্র্যতার কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না। এ গ্রামের ফজির আহম্মেদ বলেন, সারাদিন হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে ৫০/৬০ টাকা পাই। ৬/৭ জনের সংসার তাদের খাবার যোগাতেই সবশেষ হয়ে যায়। তাই শিশুদের পড়াশুনা হয় না। একই বাড়ির লেদু মিয়ার মোট ৮টি ছেলে মেয়ে। লেদু মিয়া রিকশা চালায়। তাতে সংসার চলে না। তাই লেদু মিয়া স্কুলে না পাঠিয়ে দুই ছেলেকে চা দোকানে কাজ করার জন্যে দিয়েছে। লেদু মিয়ার বড় ছেলে খোকনের সাথে আলাপে জানা যায়, তার পড়ালেখার খুব ইচ্ছে কিšদ তার বাবা তাকে পড়তে না দিয়ে চা দোকানে কাজ করার জন্যে দিয়েছে। জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে শিশুর নিজের মতামত খোলাখুলীভাবে প্রকাশ করার এবং মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা থাকলেও তা কার্যত প্রান্তিক পর্যায়ে লঙ্ঘিত হচ্ছে। ফলে শিশুরা তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সুরক্ষার অধিকার: এ অধিকারে আছে শিশুদের অধিকারসমূহ, যেমন উদ্বাস্তু শিশু, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশু এবং শোষণ, নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হবার সম্ভাবনা রয়েছে এমন শিশু। পরিত্যক্ত, অবহেলিত, অনাথ, সুস্থ ও আশ্রয়হীন শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশ, ভরণ-পোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনের অধিকার রয়েছে। বানদত্ত মোহাম্মদী নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র রাসেলের সাথে আলাপে জানা যায়, তাদেরকে মাদ্রাসায় সকালে এক ঘন্টা, দুপুরে দু ঘন্টা ও সন্ধ্যায় এক ঘন্টা পড়ানো হয়। বাকী সময়ে মাদ্রাসার সবজী বাগানের কাজ, কখনো মাদ্রাসার উন্নয়নমূলক কাজ কখনো এতিমখানার জন্যে চাঁদা উঠাতে বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনাথ শিশুরা এতিমখানায় সামান্য মাথা গোঁজার ঠাই পায়। এছাড়া তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। সমস্ত শিশু ঝুঁকিপূর্ণ পরিশ্রম, শোষণ এবং দুষিত পরিবেশের ভয়াবহতা হতে রক্ষার অধিকার রয়েছে। কিšদ আমাদের দেশের চলমান দরিদ্রতার জন্যে আমাদের শিশুরা সকল ঝুঁকিপূর্ণ কায়িক শ্রম ও অন্যান্য ভয়াবহ পেশায় জড়িয়ে পড়ছে।
১৯৬৫ সালের ফ্যাক্টরী আইনে ১৮ বছরের কম বয়সীদের যথাযথ নির্দেশনা, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও তত্ত্বাবধান ছাড়া বিপজ্জনক মেশিনে কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৯৩৮ সালের শিশু নিয়োগ আইনে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের কাজ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে বিপজ্জনক কাজ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়ন, চামড়া পাকাকরণ, বিড়ি, সাবান, কার্পেট, ম্যাচ ও বি®েফারক তৈরির কাজ।
নোয়াখালী সদর থানার চাপরাশিরহাটে একটি বিড়ি কারখানায় দেখা যায়, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা কাজ করছে। ভ্যাপসা গরমে, বদ্ধ ঘরে বসে শিশুদের কাজ করতে খুবই কষ্ট হয়। এ প্রসঙ্গে কারখানার দায়িত্ব নিয়োজিত নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, গ্রামের মানুষ দরিদ্রতার কারণে তাদের ছেলে মেয়েদের কারখানার কাজে নিয়োজিত করে। বিপজ্জনক কাজে নিযুক্ত শিশুরা তাদের শিক্ষা, পরিশ্রম এমনকি অবকাশের অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়ে থাকে।

অংশগ্রহণের অধিকার: এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের কথা শোনার অধিকার, অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার এবং তথ্য ও ধারণা চাওয়া পাওয়া ও প্রকাশের অধিকার। বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর এক ছাত্রী জানায় আমরা যদি কোন কারণে একদিন বিদ্যালয় কামাই করি তাহলে আমাদের কোন কথা না শুনে শিক্ষকরা আমাদের প্রহার শুরু করে। শিশুদের কথা বলার অধিকার থাকলেও এ ক্ষেত্রে তাদের অধিকার লঙ্ঘিত হয়। গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রত্যেক শিশুকে তাদের পারিবারিক গন্ডীর ভেতর থাকতে হয়। তাই তাদের আগ্রহ থাকলেও তারা সবার সাথে সমানভাবে মিশতে পারে না। ফলে তারা অংশগ্রহণের এ অধিকার থেকেও বঞ্চিত।

শিশু অধিকার সনদ মূলনীতি ও বাস্তবতা: জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে চারটি মুলনীতি রয়েছে। সেগুলো হলো বৈষম্যহীনতা, শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ, শিশুদের অধিকার সমুন্নত রাখতে পিতা-মাতার দায়িত্ব ও শিশুদের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। এ প্রসঙ্গে অশ্বদিয়া খো“োদপুর গ্রামের আলমগীর বলেন, শিশুদের শিক্ষা, মূল্যায়ন, øেহ সব কিছুই পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই হয়ে থাকে। অর্থনৈতিক অবস্থা ছাড়াও শিশুদের বিশেষ বৃত্তি, পুরস্কার প্রদান ইত্যাদি ক্ষেত্রে অনেক শিশু ধর্ম ও বর্ণের শিকার হন।
পিতা-মাতা, সংসদ, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ শিশু সম্পর্কিত যে কোন কর্মকান্ডে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিশু বা শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থে পরিচালিত হবেন। শিশুদের উন্নয়নকে দিয়ে মূলত মানব উন্নয়নের সূচক নির্ধারণ করা হয়। শিশুর জন্মগ্রহণ পিতামাতার উপর বর্তালেও শিশুর বাকী অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।

শিশু অধিকার ও জন্ম নিবন্ধিকরণ: শিশু অধিকার সনদে জন্মের পরপরই প্রত্যেক শিশুর নিবন্ধিকরণ করা একান্ত প্রয়োজন। ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা এ দায়িত্ব পালন করে থাকে। বড়রামদেবপুর গ্রামে অনেক পরিবার জন্ম নিবন্ধনের কথা জানেন কিšদ তাদের সন্তানদের নিবন্ধন হয়েছে কিনা তা অনেকেই জানেনা।
শিশুদের অধিকারসমূহ রক্ষার জন্যে জন্ম নিবন্ধিকরণ একান্তই জরুরি। শিশুর নিবন্ধন থাকলে তাতে শিশুর জাতীয়তার অধিকার, অল্প বয়সে বিয়ে রোধ, সঠিক বয়সে স্কুলে গমন, ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া যায়। ১৯৯৭ সালের জরিপ অনুযায়ী ১০ শতাংশ শিশুর জন্ম নিবন্ধন করা হয়, বাকীদের তা হয় না। শিশু সুন্দর জীবন নিশ্চিত করতে পারলেই সুন্দর একটি দেশের স্বপ্ন দেখা সম্ভব। সেজন্যে শিশুদের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্য, বৈষম্যহীন আচরণ ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28729219 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28729219 2007-09-03 16:12:22
আইটি পার্সনদের সাহায্য দরকার
নোয়াখালী এসেও কাজটি করা যাবে। দরকারি সব লজেস্টিক সাপোর্ট দেয়া থাকবে। থাকবে থাকা-খাওয়া ব্যবস্থা। থাকে আড্ডা আর বেড়ানো তো থাকবেই।

আগ্রহী বন্ধুর যাওয়া-আসার সব ব্যবস্থা আমরাই করবো।

প্লিজ একটু সাহায্য করুন।

আপনার জবাবের অপেক্ষা করছি।

০১৭২৭-২৩ ১৭ ২২]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28728765 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28728765 2007-09-01 02:22:49
বিতর্ক : আল্লাহ আছে নাকি নাই
মাঝে মাঝে আবার আল্লাহ, ধর্ম ইস্যুতে গালিগালাজ দেখি।

ইন্টারেস্টিং।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28727669 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28727669 2007-08-25 02:10:20
কামার হবে না কামারের ছেলে কর্মকার। ক্ষুদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। কামার নামেই তারা বেশি সমাদৃত। তাদের ওজনদার হাতুড়ির ঠক ঠক শব্দ যেন প্রতিনিয়ত দারিদ্র্যের দুয়ারে কড়া নাড়ে। আর হাপরের দীর্ঘশ্বাসের সাথে লেপ্টে আছে তাদের জীবন। ভয়ানক দারিদ্র্যের মধ্যে কাটছে নোয়াখালীর সোন্দলপুরের কালামুন্সি বাজারের কামারদের দিনকাল। লৌহজগতে কঠিন তাদের পথচলা।

দশঘরা কামার বাড়ি: কালামুন্সি বাজারে চারটি কামারশালা। বাজারের পাশেই কামারদের বাড়ি। একই বাড়িতে থাকে সবাই। বাড়িতে সব মিলে ১০টা ঘর। ১০০ জনের মত মানুষ। এটাই সোন্দলপুরের একমাত্র কামার বাড়ি। প্রিয়লাল কর্মকার জানালেন, তারা ব্যতিরেকে পার্শ্ববর্তী ঘোষবাগ, অশ্বদিয়া, নেওয়াজপুর ইউনিয়নেও আর কোন কামার নেই। ৩/৪টি ইউনিয়নে তারাই একমাত্র কামার। এক সময় আরো কামার ছিল কিšদ এখন সকলেই এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে। কামার বাড়ির পরিবেশের অবস্থা খুবই নাজুক। বাড়িতে কোন স্যানেটারী পায়খানা নেই। একটি মাত্র টিউবওয়েল থাকলেও সেটির অবস্থা খুবই করুণ। তাছাড়া টিউবওয়েলের পানিতে আর্সেনিক আছে কি নেই তাও তারা জানে না। বাড়ির এক গৃহিনী বলেন, আমাদের নুন ভাত দুটোর টান। আর্সেনিক পরীক্ষা করবো কখন, আর কি দিয়া করবো?

মৌসুমে দশ হাজার টাকার হাল বেইচতাম: কামাররা কাজ করে সারা বছর। আগের বিক্রির বিশেষ মৌসুম থাকলেও এখন বেচাকেনার আলাদা কোন মৌসুম নেই। আগে সাধারণত বছরে দু’বার বেশি বেচাকেনা হতো। সুভাষ কর্মকার বলেন, আগে চাষের সময় এক মৌসুমে ১০ হাজার টাকার লাঙলের হাল (ফাল) বেইচতাম। এখন বিদেশ থেকে কলের লাঙল এসেছে। কেউ গরুর হাল ব্যবহার করে না। আমাদেরও আর বিক্রি হয় না।

ঠুক ঠুক হাতুড়ি সারা বছর চলে: মনিন্ড কর্মকার (৪০) জানালেন, কামারদের হাতুড়ি সারা বছর চলে। বছরের সব সময় কম বেশি বিক্রি হয়। তবে বর্তমানে ধান আসলে বেশি বেচাকেনা হয়। সকলেই ধান কাটার জন্যে কাঁচি কিনে। এছাড়া বাকী সময়ে বিক্রি-বাট্টা কম থাকে। বিশেষত বর্ষার সময়ে একদম হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়। তখন সংসার চালাতে হয় সুদের টাকা দিয়ে।

ঋণের রশি মাজায় বাধা: প্রিয়লাল কর্মকার (৩২) বলেন, আমরা সারাদিন খাটলেও মজুরি পাই খুব কম। তাছাড়া এখন লোহা, কয়লার দামও বেড়েছে। অন্যদিকে কলের জিনিসপত্র, স্টিলের জিনিসপত্রের কারণে আমাদের পণ্যের চাহিদাও কম। তবু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করলেও মানুষ জিনিসের যথাযথ দাম দেয় না। প্রিয়লাল আরো জানালেন, যখন মৌসুম থাকে না তখন মহাজনী ঋণ তাদের গ্রহণ করতে হয়। গোটা বছর টানতে হয় সুদের বোঝা। একদিকে সুদ, অন্যদিকে সংসার। কামারদের হৃদপিন্ড যেন দমে দমে থেমে যায়। মনিন্ড কর্মকার জানালেন, তিনি সব মিলিয়ে এ নাগাদ ২০,০০০ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন।

জীবন কাটে যুদ্ধ করে: মনিন্ড কর্মকার। বয়স ৪০। আজ প্রায় ৩০ বছর ধরে কামারের কাজ করেন। ৩ মেয়ে। ১ ছেলে। ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করছেন ঠিকই তবে তাদের যোগান দিতে গিয়ে মনিন্ডের বুকে মাটি ছুঁয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া প্রসঙ্গে সুভাষ কর্মকার বলেন, আমাদের আবার লেখাপড়া, কালামুন্সি স্কুলের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে তিনি বলেন, এ স্কুল হওয়ার সময় মায়ের জন্যে পান না কিনে চাঁদা দিয়েছি। অথচ আজ স্কুলের বেতনের জন্যে আমার ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারছি না। আবার স্কুলে গেলেও বেতনাদির জন্যে হাজারো কথা শুনতে হয়।

হাপরের ঘন ঘন হয়ত থাকবে না: এক সময় প্রত্যেক গ্রামে কিংবা দু’তিন গ্রাম মিলিয়ে একজন কামার পাওয়া গেলেও এখন যায়না। প্রিয়লাল কর্মকার বলেন, সোন্দলপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০/৪৫ হাজার মানুষ অথচ কামার মাত্র ৩/৪ জন। আগামী ৫ বছর পর দেখবেন আমরাও নেই। তিনি আরো বলেন, আমাদের কাজটি খুব পরিশ্রমের। লোহার উপর হাতুড়ি পেটাতে পেটাতে আমাদের ঘাম তপ্ত লোহার উপর পড়ে। লোহা সে ঘাম টেনে নেয়। তারপর একটা জিনিস হয়। এত পরিশ্রম করা স্বত্ত্বেও আমরা সঠিক দাম পাইনা। তাই পরবর্তীতে কেউ আর এ পেশায় আসবে না। সুভাষ কর্মকার বলেব, ‘আঙগো হোলাহাইন দরকার অইলে চা দোয়ানে চাকরি কইরবো। ত আর কামারগিরি কইর ত ন। এ ক্ষোভের পেছনে তিনি বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেন। যেমন- পুঁজির অভাব, কাজের অভাব, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদিত দ্রব্যের দাম কম, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, হাটে জায়গা না পাওয়া প্রভৃতি।

বাপ ওস্তাদ, ছেলে সারগেদ: কর্মকারদের সাথে আলাপে জানা যায়, তারা সকলেই প্রায় ১২/১৩ বছর থেকে কাজের সাথে জড়িত। মনিন্ড কর্মকার বলেন, আমার বয়স যখন ১৫ বছর তখন থেকেই আমি কাজ শুরু করি। আমার বাবাই আমাকে কাজ শিখিয়েছে। সুভাষ কর্মকার বলেন, দেশে প্রত্যেক কাজে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আমাদের দেশে এ কাজের কোন প্রশিক্ষণ নেই। আমরা সকলেই আমাদের বাবা কিংবা ভাইয়ের কাছ থেকে কাজ শিখেছি। কাজ শেখা বা শিখানো প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, আমরা বাবা ভাইয়ের থেকে কাজ শিখলেও আমাদের ছেলেদের তা শেখাব না। আগুনের তাপ আর হাতুড়ির ওজনের সাথে বুক যেন ছিঁড়ে যায়। কিšদ দাম পাই না। তাহলে আমরা কাজ শেখাব কোন সাধে?

কামারের জায়গা নেই: প্রত্যেক হাটে বাজারে ক্ষুদ্র পেশাজীবিদের জন্যে আলাদা জায়গা বা ভিটে থাকলেও কামারদের জন্যে কোন জায়গা নেই। সুভাষ কর্মকার বলেন, আমরা হাটের দিন বিভিন্ন হাটে গেলে দেখা যায়, আমাদের বসার জায়গা দিতে চায় না। প্রত্যেক দোকানীর জন্যে আলাদা আলাদা নির্দিষ্ট জায়গা থাকলেও আমাদের তা নেই। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে সুভাষ বলেন, অনেক কষ্ট করে কোন হাটে যদি একটু জায়গা করে নেই পরের হাটে আমাদের সেখানে বসতে দেয় না। যারা বাজারের দায়িত্বে থাকে তাদের খুব তোষামোদ করতে হয়। নিজেকে তখন খুব নীচ মনে হয়। প্রিয়লাল আক্ষেপের সুরে জানায়, কামারদের জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা না থাকলেও তাদের হাটে খাজনা অন্যদের চেয়ে বেশি দিতে হয়।

ভাত খরচ যা লাগে ওষুধ খরচ ম্যালা লাগে: আমরা কি মাইনসের জগতে থাকিনি, আমরা থাই লোয়ার জগতে। সুভাষ কর্মকার বলেন, আমাদের দেশের মানুষের সামান্য গরম সহ্য হয় না। অথচ আমরা সারাদিন উনুনের সাথে বসে থাকি। ওজনদার হাতুড়ি দিয়ে বাড়ি দিতে দিতে হাতে ফোস্কা পড়ে, খত হয়ে যায়। হাতুড়ির ঠক ঠক শব্দে এখন কানে কম শুনি। এভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবন যাপন। এত পরিশ্রমের কারণে প্রায় কামারই অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে ওষুধ খেয়ে আবার শরীর ঠিক করতে হয়। এ প্রসঙ্গে প্রিয়লাল বলেন, যা আয় করি তাতে ভাত খরচ যা লাগে, ওষুধ খরচ আরো বেশি লাগে। আমরা তো মানুষ, মানুষ কি সুস্থভাবে লোহার সাথে বাস করতে পারে?

হিরা করা ম্যালা ভালা: কামারদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, আগে অনেকে কাজ শেখার কারণে বর্তমানেও এ পেশায় টিকে আছে। যদি অন্য কোন কাজের সুযোগ থাকত তাহলে তারা প্রায় সকলে এ কাজ ছেড়ে দিত। তাদের অনেকে এ কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্য কাজও করছে বলে জানান। এর মধ্যে কেউ কেউ স্বর্ণকার, কেউ ব্যবসা, কেউ ছোটখাট চাকুরী করছে। সুভাষ কর্মকার বলেন, ‘হিরা করা ম্যালা ভালা। ত এ কাম আর ভালা লাগে না’। যদি সরকার ইচ্ছে করে তাহলে হয়ত এ পেশাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে বলে তারা জানান।

জ্ঞাতিতে জ্ঞাতিতে বিয়ে হয়: কামাররা হিন্দু ধর্মাবলম্বী। হিন্দু ধর্ম মতই তাদের আচার অনুষ্ঠান পালিত হয়। বিয়ের ক্ষেত্রে কামারদের সাথে কামারদের সম্পর্ক স্থাপিত হয়। প্রিয়লাল কর্মকার বলেন, এ নিয়ম অবশ্য বর্তমানে কিছু ভাঙছে। কামারদের ভেতরে কেউ কেউ লেখাপড়া করার কারণে বর্তমানে অন্য বর্ণের সাথে কামারদের বিয়ে হচ্ছে। তার এক সময়ে কামাররা নিচু বলে অন্য জ্ঞাতির তাদের সাথে সম্পর্ক করত না। বিয়ের সময় হিন্দুদের মতই যৌতুক পন এসব দিতে হয় বলেও তিনি জানান।

ভোটের সময় ভাই ভাই: মজুুরি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে ক্ষুদ্র ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকলেও আমাদের দেশে এসব সুবিধা নেই। তবু সরকারি যে সকল সুযোগ-সুবিধা জনগণের জন্যে রয়েছে কামাররা তাও পায়না। সুভাষ কর্মকার বলেন, আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ। দেশ স্বাধীন হবার পর অনেকে ভারতে চলে গেলেও আমরা যাইনি। দেশকে ভালবেসে আজও অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছি। অথচ সরকারি কোন সুযোগ সুবিধাই আমরা পাই না। সরকার যায় সরকার আসে, অথচ আমাদের পরিবর্তন হয় না। ভোটের সময় আমাদের ভাই ভাই বললেও ভোটের পর আমরা এক মুঠো কিংবা সাহায্য পাই না। মনে হয় আমরা যেন দেশের বাহিরের কেউ। দেশে অনেক এনজিও কাজ করলেও কামারদের নিয়ে কেউ কাজ করছে না বলে তিনি জানান।

আঁঙ্গো কি কে অ নাই: দা, ছুরি, বোটা, কোদাল বানানোই কামারদের কাজ। মাঝে মাঝে দেখা যায়, পুলিশ কামারদের দোকান তল্লাশী করে। সামান্য ছোরা পেলেও কামারদের জুলুম করে, ধরেও নিয়ে যায় অনেক সময়। এ প্রসঙ্গে সুভাষ কর্মকার বলেন, মানুষ সাধারণ ব্লেড দিয়েও খুন করতে পারে। দা ছোরা লাগেনা। অথচ আমরা যদি ছোট্ট একটা ছুরিও বানাই প্রশাসন আমাদের অত্যাচার করে। আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, আঙ্গো কি কে-উ নাই। এজন্যে তিনি তার দরিদ্র অবস্থাকে দায়ী করেন। তার ধারণা কামাররা ক্ষুদ্র ও হত দরিদ্র বলে সকলে তাদের উপর জুলুম করে।

সমাজের চোখ: দেশের অন্যত্র কামারদের নীচু বলে সামাজিকভাবে দেখলেও এখানাকার কামারদের সেভাবে দেখে না বলে তারা জানান। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন, তাদের নিবাসের আশেপাশে সবই হিন্দু পাড়া ছিল। কয়েক পুরুষের বসবাস এখানে তাদের। সকলে এখান থেকে চলে গেলেও তারা যায়নি। স্থানীয় এবং দীর্ঘদিন বসবাসের কারণে সকলের সাথে তাদের সামাজিক গ্রন্থি বেশ শক্ত।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: কামারদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ব্যাপারে তারা বেশ চিন্তিত। কোন কামারই চাচ্ছে না তার সন্তান এ পেশায় আসুক। এ প্রসঙ্গে মনিন্ড কর্মকার বলেন, খাই কিংবা না খাই আমার ছেলেকে আমি পড়ালেখা শেখাব। বড় ছেলে ৮ম শ্রেণীতে পড়ে। প্রয়োজনে সবকিছু খুইয়েও তাকে পড়াব। বর্তমানে কামারদের যে নাজুক অবস্থা তাতে করে কোন কামার তার ছেলেকে এ পেশায় আনতে চায় না। ছেলে প্রয়োজনে লেখাপড়া না করলে অন্য কাজ করবে তবুও কামার হবে না। সুভাষ কর্মকার বলেন, ‘আমরা যে ভুল করেছি আমাদের ছেলেদের সে ভুল করতে দেব না।’

যা করা যেতে পারে: কামারদের সাথে আলাপকালে দেখা যায়, বিভিন্ন সমস্যার কারণে অনেক কামারই এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছে। এভাবে পেশা বদলের ফলে এক সময় কামাররা হারিয়ে যাবে। আমাদের ঐতিহ্যের একটি অঙ্গ কামার। তাদেরকে স্ব পেশায় টিকিয়ে রাখার জন্যে সরকারিভাবে ঋণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভাতার বরাদ্দ যেতে পারে। তাতে পরবর্তীতে অন্যদের কাজ শেখার আগ্রহ বাড়বে। কাজ শেখার জন্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে। কামারদের ব্যবহৃত কাঁচামাল কম মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। যারা এ পেশা ছেড়ে দিয়েছে তাদের সাথে আলাপ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে এবং কামারদের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের পণ্য বিপননের ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ক্ষুদ্র জাতিসত্তাটিকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28727644 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28727644 2007-08-25 00:21:26
৯/১১-র একদিন আগে বাতাসে ডুবে ছিলাম ম্যালা সময়, তোমার ছোঁয়া পাবার আশায়।

এলোমেলো পায়চারি
দিনভর জটিল সব বেঁকাতেরা সমীকরণ
চা পরটা ঝিনুকের মালা
কাগজ-কলমের বিরতিহীন গড়াগড়ি, এই আর কি।

দেয়ালের ওপর কংকর ঘষে ঘষে মানবতার সন্ধান
ফের লুকিয়ে যাওয়া
আমি সৌখিন-একটু আলতা, ক্লিন সেভ
কাট কাট বাবু বিবি
রাশভারী গলা- সময়কে কিন্তু লাগাম টানতে হবে হে।

মাথামুন্ড কিচ্ছু নাই
আমার কি দোষ
আমি শুধু বলেছি- সবার মধ্যে একটা কাপুরুষ থাকে
এবং কাপুরুষমার্কা মানবদেরও ডাক নাম মানুষ।

কান্ডজ্ঞানহীন না হলে এমন করে কেউ বলে
নাকি,সত্য না হলে এমন করে কেউ ক্ষেপে।

আর হাঁ, সাগর দেখতে একবারও যাইনি
কারণ তুমি কখনোই সাগরের মত বিশাল ছিলে না।

অথচ, সাগর দেখতে তুমি এখনো ভালোবাস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726171 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726171 2007-08-16 16:27:31
হালকাহন আমার পাখি হতে ইচ্ছে করেছিল। যদি পাখি হতাম তাহলে নীল আকাশে দিনমান ঘুরে বেড়াতে পারতাম।

একদিন সাতসকালে ঠান্ডা ঝিরঝিরে বাতাস গায়ে মেখে
আমার শিশির হতে ইচ্ছে করেছিল। যদি শিশির হতাম তাহলে ভোরের শীতল শিশির সূর্যøান করতে পারতাম আমৃত্যূ।

আজকে আবার ভিন্ন ইচ্ছে হচ্ছে
যদি মাছি কিংবা কোনো পতঙ্গ হতাম তাহলে তোমার গালের ভয়ংকর সুন্দর টোল’টা ছুঁয়ে দেখতে পারতাম
কিংবা
যদি পানি হতাম তাহলে তোমার আটপৌঢ়ে আসা যাওয়ায় গাল ধুয়ে নিতে, তাতে যদি একবারও তোমার টোলের সৌন্দর্য্য আমি পাই তাও-বা কম কিসে।

তবে বৃষ্টি হতে পারলেই ভালো হতো বেলা-অবেলায় তোমাকে ভিজিয়ে দিতাম টোল ছুঁয়ে দেখবার অজুহাতে।

কিন্তু আমার দরিদ্রভাগ্য
আমি এর কিছু হতে পারলাম না।

তাই বলে কী তোমার আশ্চার্য্য সুন্দর টোল আমার ছুঁয়ে দেখা হবে না।
দুর ছাই, ছুঁয়ে দেখা নাই-বা হলো
তুমি হাসতে থাক আমি তোমার গালের টোল দেখি।

আর কী করব?
অন্তত: ঢোক গিলতে থাকি \]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726170 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726170 2007-08-16 16:20:50
প্রাথমিক স্তরে পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন : সংস্কারের নামে শিশুদের মগজ ধোলাই শিক্ষার বিষয়ব¯দকে শিক্ষার্থীর বয়স মনস্তাত্বিক বিচার, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্কের ধরণ ও অবস্থা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রছাত্রী প্রতিনিধি সমন্বয়ে আলোচনা সাপেক্ষে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করলে এ সকল সমস্যার সমাধান করা অনেকাংশে সম্ভব।

পাঠ্যক্রম কী: বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু ননী গোপাল মজুমদার বলেন, পাঠ্যক্রম একটি পদ্ধতি জাতি গঠনের জন্যে একজন নাগরিককে কোন পর্যায়ে কতখানি জ্ঞান বা ধারণা প্রদান করবে তার যে পদ্ধতি তাই মোটা দাগে পাঠ্যক্রম নামে অভিহিত। ফলাহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র নুসরাত জাহান রক্সী পাঠ্যক্রম বলতে বুঝে প্রত্যেক বইয়ের সূচিকে। গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাঈন উদ্দিন বলেন, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একটি জাতি গড়ে তোলাই শিক্ষার লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্যে পৌছানোর মূল সিঁড়ির নামই পাঠ্যক্রম বা পাঠ্যসূচি।

যে কারণে পাঠ্যক্রম: একটি দেশের একটি জাতির অতীত, বর্তমান, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি সম্পর্কে অবগত করেই একটি জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে হয়। আর এ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রধান যোগানদাতা শিক্ষা। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে পাঠ্যক্রম। একটি জাতি সম্পর্কে, বিষয় সম্পর্কে একজন ছাত্র কোন শ্রেণীতে কতখানি জানবে শিক্ষার্থীর বয়স, মনস্তাত্বিক বিচার, বিশ্লেষণ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অবস্থান ইত্যাদি মাথায় রেখে একটি সফল পাঠ্যক্রম। তাই শিক্ষার মূল লক্ষ্যে পৌছতে পাঠ্যক্রম বাঞ্চনীয়। আর একটি সফল পাঠ্যক্রমের উপরই শিক্ষার সফলতা ব্যর্থতা নির্ভর করে বলে মন্তব্য করেন গঙ্গাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য মাঈন উদ্দিন।

পাঠ্যক্রমের বর্তমান হালচাল: বানদত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি এটিএম সামছুল হক বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা অরাজকতা বিরাজমান। প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যক্রম, পাঠ্যসূচি ও পাঠ্যপুস্তকের ক্ষেত্রে চলছে বহুমাত্রিক ধারা। সরকার চালিত বিদ্যালয় সমূহের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যক্রম বোর্ড (এনসিটিবি), মাদ্রাসাসমূহের পাঠ্যক্রম নির্ধারণ করে মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড, আবার এনজিও এবং কিন্ডার গার্টেন বিদ্যালয় সমূহের পাঠ্যক্রম প্রণীত হয় তাদের নিজস্ব ধ্যান ধারণার উপর।

প্রথম পাঠ্যক্রমের ইতিকথা: পাঠ্যক্রম প্রণয়ন একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা। প্রাথমিক স্তর থেকে বেরিয়ে একটি ছাত্রছাত্রী যত শিক্ষিতই হোক না কেন তাদের যে চেতনা, তাদের যে মূল্যবোধ তা মূলতঃ প্রাথমিক স্তর থেকে ভিত লাভ করে। আমাদের দেশে প্রথম পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে ব্রিটিশরা। বেশ কয়েকবার পাঠ্যক্রম বদল হলেও বর্তমানে আমাদের পাঠ্যক্রমের আদল কিছুটা ব্রিটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের মধ্যেই রয়ে গেছে। ব্রিটিশ পাঠ্যক্রম প্রণয়নের সময় একটি বিশেষ পরিকল্পনা মাথায় রেখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে।
মিঃ ম্যাকলে নামক এক বৃটিশ নাগরিক সর্বপ্রথম পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে। বৃটিশরা চেয়েছিল আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে অফিস আদালতের কেরানী হবে এবং সে পরিকল্পনা মাথায় রেখেই মিঃ ম্যাকলে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। এ পাঠ্যক্রম প্রণয়নে তারা এমনভাবে খেয়াল রেখেছিল যাতে কেউ বড় কর্মকর্তা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে না পারে এ পাঠ্যক্রম রপ্ত করে। এভাবে বৃটিশরা আমাদের দেশের নাগরিকদের শিক্ষিত করে তোলে। ঘটনার কালক্রমে বৃটিশরা আমাদের দেশ থেকে চলে যায়, তারপর পাকিস্তান শাসনামল, বর্তমানে আমরা একটি স্বাধীন দেশের মানুষ। অথচ আমাদের পাঠ্যক্রম এখনো বৃটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের মাঝেই আটকে রয়েছে।

যেমন পরিবর্তিত পাঠ্যক্রম: ‘বিগত এক দশকে সার্বিক পাঠ্যক্রম বদল হয়েছে একবার’ এ কথা জানালেন ফলাহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লায়লা আঞ্জুমান আরা বেগম। তবে বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ননী গোপাল মজুমদার বলেন, প্রত্যেক বছরই একটা দুইটা করে অধ্যায় যোগ বিয়োগ হচ্ছে। এ বছর হয়ত কোন অধ্যায় সংযোজন হচ্ছে আবার দেখা গেছে অন্য বছর সে অধ্যায় বিয়োজিত হয়েছে। তবে বেশি ক্ষেত্রে সমাজ বইয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের রদ বদল করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

যে কারণে পাঠ্যক্রমের বদল: ‘আগে প্রথম শ্রেণীতে পড়ানোর জন্যে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শব্দানুক্রমিকভাবে করা হতো। আর বর্তমানে তা করা হচ্ছে বাক্যানুক্রমিকভাবে।’ পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের এটিও একটি কারণ বলে জানালেন বানদত্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তাছাড়া সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিও বিশেষতঃ সমাজ বইয়ের দুএকটা অধ্যায় পরিবর্তনের কারণবলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, যে সরকার ক্ষমতায় তারা তাদের মত ইতিহাসের বিভিন্ন কথা যোগ করে। এর ফলে সে সরকার ক্ষমতায় না থাকলে অন্য সরকার তা আবার বদল করে। তবে মোদ্দাকথা হলো প্রাথমিক স্তর এখনো বৃটিশ প্রণীত পাঠ্যক্রমের ছকেই রয়ে গেছে। যা একটা যোগ বিয়োগ তা কেবল দেশের বিভিন্ন সরকারি দলের পূর্বসূরীর গুণগান বলে মন্তব্য করে কলেজ ছাত্র সোহেল।

পাঠ্যক্রম বদলের নীতিমালা: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু ননী গোপাল জানান, পাঠ্যক্রম বদলের আলাদা কোন নীতিমালা নেই। এনটিসিবি’র পাঠ্যক্রম প্রণয়নে একটা কমিটি আছে, তারা বসেই রদবদল করে। এ কমিটিতে কারা থাকে জানতে চাইলে তিনি জানান, হয়ত বড় কোন আমলা বা কোন সচিব থাকে সে কমিটির প্রধান। তবে এ সকল লোকজনের অভিজ্ঞতা কিংবা যোগ্যতার চেয়ে সরকারের পছন্দসই লোককেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়। ফলে কমিটির কাজ হয় সরকারের জনগণের সাথে লেজুড়যুক্ত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা। গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন্নাহার বলেন, পাঠ্যক্রম প্রণয়নে ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা নিরুপন করতে হয়। ছাত্রছাত্রী কি চায়, কি দরকার জানতে হবে। সেজন্যে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে প্রান্তের ছাত্র শিক্ষক থেকে কেন্দ্রের অভিজ্ঞ লোকজনের অংশগ্রহণ দরকার। আমাদের এখানে তা করা হয়না। ফলে আমাদের পাঠ্যক্রম যুথসই হয়ে উঠেনা।

বই মিছা কতা লেহে: মিলন। হাই স্কুলে পড়ে। এখন সে কম বেশি রাজনীতি বুঝে। প্রাথমিক স্তরের বই নিয়ে মিলন বলে, ‘চুতর্থ শ্রেণীর বইতে লিখেছে শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা দিয়েছে। কিšদ আমি এখন আমার ভাইয়ের কাছে শুনেছি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক। এবং এটাই সত্যি। তাই তার ধারণা বইতে মিছা কথা লেহে।
এ প্রসঙ্গে বানদত্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আসলে বিষয়টি ভাবনার। কারণ সরকার বই বদলের সময় তাদের মত কথাবার্তা লেখে । ছাত্রছাত্রী নিচের ক্লাশ থেকে ্সবে পড়ে গেলেও উপরের ক্লাশে গিয়ে তারা অনেক বিষয় রাজনৈতিক বক্তৃতার সাথে গুলিয়ে ফেলে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা করেছে কি করেনি, তা সত্য কি মিথ্যে তা আমার প্রশ্ন নয়। প্রশ্ন হলো বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত। তাই বিতর্কিত কোন কিছু ছোট ছেলেমেয়েদের শেখালে যদি তা বড়ো হয়ে জানতে পারে তাহলে শিক্ষক ও শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা নষ্ট হয়।

আগডুম বাগডুম:পৃথিবীর অন্যান্য দেশ তাদের শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষিত করলেও আমাদের দেশের শিশুরা অর্থহীন ছড়া পড়েই চলেছে। কলেজ পড়–য়া সোহেল বলেন, প্রত্যেক কবিতা গল্পেই একটা অর্থ থাকে এবং সে অর্থ উপস্থাপন করাই কবিতা বা গল্পের উদ্দেশ্য। বর্তমানে অনেক কবিতা ছড়ারই কোন অর্থ নেই। এ প্রসঙ্গে শিক্ষক ননী গোপাল বলেন, এসব ছড়া দিয়ে শিশুদের বা বাচ্ছাদের মুখের জড়তা কাটে এবং সহজভাবে শিশুদের শেখানোর জন্যেই এসব ছড়া পড়ানো হয়।
আগডুম বাগডুম, হাট টিমা টিম টিম কিংবা রং মেখে সং সেজেসহ বেশ কিছু ছড়া আছে প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বইতে। সে সকল ছড়ার মধ্যে শেখার কিছুই নেই। কলেজ পড়–য়া সোহেল বলেন, আসলে স্কুলে ছেলেরা কিছু পড়তে হবে তাই এসব ছড়া। এ সকল পড়ায় কোন অর্থ থাক বা না থাক তাতে কি, পড়া হলেই তো হলো এ ধারণা নিয়ে বোধহয় পাঠ্যক্রম প্রণেতারা পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করে।

এ বছরে ক্ষতি ৫০ কোটি টাকা: থানা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বছরে প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮টি বই পরিবর্তন হচ্ছে। এ বছর প্রায় নতুনভাবে ৮ কোটি বই ছাপানোর কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে পাঠ্যক্রম বদলের কারণে ২ থেকে আড়াই কোটি বই নতুনভাবে ছাপাতে হচ্ছে। এতে করে সরকার প্রতি বছর প্রচুর টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে। নতুনভাবে ছাপানো পরিবর্তিত বইয়ের দাম হিসেব করলে প্রায় (যদি একটা বইয়ের দাম ১৫ টাকা করে ধরা হয়) ৫০ কোটি টাকার মত দাঁড়ায়। এতো গেল সরকারি গচ্ছার হিসেব, বেসরকারিভাবে যে সকল বিদ্যালয়, কেজি স্কুল, এনসিটিবি’র সাথে চুক্তি করে তারা ডিলারদের থেকে বই কিনে নিতে হয়।
কান্দিরপাড় গ্রামের এনায়েত উল্যাহ বলেন, বেসরকারিভাবে যারা পড়াশুনা করছে বই বদলের ফলে তাদের সবেচেয় বেশি আর্থিক ক্ষতির মোকাবেলা করতে হয়। তিনি বলেন, এক সময় দেখা যেতো আমরা একসেট বই দিয়ে দুই/তিন বছর পর্যায়ক্রমে পড়তে পারতাম। কিšদ বর্তমানে প্রতিবছর বই বদলের ফলে নতুনভাবে প্রতিবছর বই কিনতে হয়। এতে করে অভিভাবকদের যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় তেমনি শিক্ষকরাও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের মনির আহম্মদ বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বর্তমানে ইপিআই, শুমারীসহ নানা কাজে জড়িত থাকায় তারা প্রায়শই ঠিকমত কাজে মনোযোগ দিতে পারেনা। এতে করে অভিভাবকরা ছেলেদের জন্যে নোটবই কিনে দেয়। যদিও তা বেআইনী। কিšদ আমাদের সমস্যা হলো, ২/৩শ টাকা দিয়ে নোট বই কেনার পর দেখা যায়, ছেলেমেয়েদের ১ বছর পড়ার পর তা আর কেউ কিনে নেয় না বা পরবর্তীতে কেউ পড়ে না। কারণ সরকারি বই বদল হওয়ার পর তা আর নোট বইয়ের সাথে মিলেনা। এতে করে প্রতি বছর গ্রামের দরিদ্র কৃষকদের অনেক টাকা নষ্ট করতে হয়।

যা লেখে তাই পড়াই: বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লুলু বিলকিছ বানু বলেন, বিগত ১০ বছরে অন্তত বই বদল হয়েছে তিনবার। তিনি বলেন,আগেরকার সময় দেখা যেতো যে শিক্ষক যে বিষয়ে পড়াতেন তিনি সে বিষয়ের বিভিন্ন অধ্যায়ের সাথে খুব পরিচিত হয়ে উঠতেন এবং ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে স্বকীয় একটা স্টাইল গড়ে তুলতেন। কিšদ বর্তমানে তা হয়ে উঠে না। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারি চাকুরী করি যা, লেখা তাই পড়াই কিšদ আমাদের তো দায়বদ্ধতা আছে। গত দশ বছরে বাংলা এবং সমাজ বইয়ের কয়েকটি অধ্যায় নানাভাবে পড়াতে হয়েছে। যা সত্যি দুঃখজনক।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726164 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28726164 2007-08-16 16:12:58
অভাব অনটন ভাগচাষীদের নিত্য সঙ্গী ভাগচাষীদের উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ও চাষীরা মোট শ্রমের অর্ধেক বিনা হিসেবে জমি মালিকের গোলায় চলে যায়। ভাগচাষীরা জমি মালিকদের ভূমিদাসে পরিণত হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে নোয়াখালীর অধিকাংশ জমি এক ফসলি জমিতে পরিণত হওয়ায় প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের বছরের বেশিরভাগ সময় বেকার থাকতে হয়। ফসলের মৌসুমে যে পরিমাণ কাজের লোক দরকার তার চাইতে বেশি পরিমাণ বেকার লোক পাওয়া যায়। ফলে গ্রামে কৃষিকাজের জন্য শ্রম বিক্রি করার সুযোগ থাকে না বিধায়ও অনেকে ভাগচাষ করে।
ফসল ওঠার পর ভাগচাষীরা উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক জমি মালিকদের ঘরে পৌঁছে দেয়। আর ভাগচাষীরা ফসলের উৎপাদন খরচ ও উৎপাদনের পেছনে ব্যয়িত শ্রমের বদলে অর্ধেক ফসল পায়। জমির মালিক জমি কেনার সময় মূলধন জাতীয় কাজের বিনিময়ে ভাগচাষীর উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক ও ভাগচাষীর মোট শ্রমের অর্ধেক নিজের গোলায় ওঠিয়ে নেয়। অথচ ভাগচাষীদের এ শ্রমের কখনো মূল্য নির্ধারণ হয় না। এতে ভাগচাষীরা ফসল উৎপাদন মৌসুমে অন্যত্র শ্রম বিক্রি না করে ভাগের ফসলের আশায় বসে থাকার ফলে বছরের অধিকাংশ সময় অভাবে থাকতে হয়। এ অভাব ঘোচানোর জন্য অনেক ভাগচাষী মহাজনি ঋণ ও ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেন। এক সময় ঋণের জটিল চক্রে জড়িয়ে কৃষকদের সর্বস্বান্ত হতে হয়।
১৯৮৪ সালে জারিকৃত ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশের ভাগচাষীদের স্বার্থ সংরক্ষণের যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে সেগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভাগচাষীদের শ্রম শোষণের হাত থেকে কিছু রক্ষা সম্ভব। নোয়াখালীর ভাগচাষী, জমি মালিক, স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপে এ তথ্য পাওয়া যায়।
গ্রামাঞ্চলে যাদের কোনো জমি নেই তারা অন্যদের জমি ভাগে বা বর্গা চাষ করে। এছাড়াও যাদের জমি কম এবং যারা ইতোপূর্বেও কৃষক ছিলেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে জমি বিক্রি করে ফেলেছেন তারাও অন্যদের জমি ভাগ চাষ করে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নোয়াখালীর একেক এলাকায় একেক নিয়মে ভাগ চাষ হয়ে থাকে। বড়রামদেবপুর আইপিএম ক্লাবের সহ-সভাপতি মাইন উদ্দিন জানান, যদি উৎপাদন খরচের অর্ধেক চাষী ও অর্ধেক মালিক দেয় তাহলে ফসল ভাগের সময় তা অর্ধেক অর্ধেক হয়। আবার উৎপাদনের সময় হালের খরচ, সার, বীজ, কীটনাশক ইত্যাদির খরচ চাষী দিলে উৎপাদিত ফসল তিনভাগ হয়। তিন ভাগের দুই ভাগ চাষী ও একভাগ জমির মালিক পায়। চাটখিলের মোহাম্মদপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, চাটখিল উপজেলার কিছু জায়গায় ভাগচাষী ফসল চাষের সময় সার, বীজ, কীটনাশক, হালের খরচ সব দেয়। তারপর ফসল উঠলে জমির মালিক ফসল উৎপাদন খরচ বাবদ কিছু ধান ভাগচাষীকে দিয়ে দেয়। বাকি ফসল দু ভাগ করে একভাগ ভাগচাষী ও অন্যভাগ মালিক নিয়ে যায়। চাটখিলের শোল্লা গ্রামের বেলাল জানান, জমির মালিক পানি সেচ খরচ অথবা সারের খরচ দেয়। বাকি সব খরচ ভাগচাষীকেই দিতে হয়। কিন্তু ফসল ভাগ দুই ভাগেই হয়।

সোন্দলপুরের আবুল হোসেন বলেন, আমাদের এলাকার কিছু অংশে আরেক নিয়ম আছে। সেটি হলো যে জমিতে ধান ও রবিশস্য ফলে সেগুলো আর্থিক মূল্যে বর্গা দেওয়া হয়। যেমন জমিতে ধান আবার শীতে সবজি চাষ করা হয়। জমির মালিক একজনের কাছে জমিতে বর্গা দিয়ে বলেন, এ জমি থেকে তুমি বছরে যা উৎপাদন কর তা তোমার বিষয়। তবে আমাকে বছরে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। এভাবে টাকা পরিশোধের মাধ্যমেও গ্রামাঞ্চলে ভাগ চাষ হয়ে থাকে। তবে এ জাতীয় চাষকে ঠিকা চুক্তিতে চাষও বলা হয়। অনেকে জানান, কৃষির কোনো উন্নতি ব্যতিরেকে বর্তমানের নিু উৎপাদনে এই চুক্তিতে মালিকদের সুবিধা ভাগ চাষের চেয়ে বেশি।
ভাগচাষের জন্য একটি চুক্তি থাকার নিয়ম থাকলেও তা গ্রামাঞ্চলে মানা হয় না। বর্গাচাষী হোসেন মিয়ার গ্রাম সোন্দলপুরে। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় কোনো চুক্তি হয় না। মালিক মুখে বলে দেয় চাষ করার জন্য। এভাবে ভাগচাষীও চাষ করে।
শোল্লা গ্রামের বেলাল জানন, জমি মালিকও ভাগচাষী একই গ্রামের হওয়াতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু কোনো কারণে যদি দুজনের মধ্যে কোনো রকম সমস্যা দেখা দেয় তখন চুক্তির দরকার হয়। কিন্তু সে সময় চুক্তিও থাকে না। ফলে জমির মালিক যা বলে তাই হয়।

লিখিত চুক্তির বিষয়ে জানতে গিয়ে দেখা যায়, জমি মালিক ও ভাগচাষী উভয়ই বিষয়টি হালকা চোখে দেখে। বিশেষত জমির মালিকরা মনে করেন, আমার জমিন আমি বর্গা দেব, তাতে চুক্তি করব না।
অনেক ভাগচাষী চুক্তি করার নিয়মের কথা জানলেও তারা তা বলে না। এ না বলার পেছনে এক ধরনের ভয় কাজ করে। কারণ অনুসন্ধানে দেখা যায়, গ্রামের অনেকে জমি ভাগ চাষ করতে চায়। তাই কোনো ভাগচাষী মালিকের সাথে তর্ক করলে জমি হাতছাড়া হতে পারে। এজন্যও অনেকে চুক্তির কথা তোলে না।
বড়রামদেবপুরের এনায়েত বলেন, বর্গাচাষীরা এ এলাকায় এক সময় জমি মালিকদের প্রায় সমান তালে চলতে পারত। দেখা যেত একজন ভাগচাষী কয়েকবার একটি জমি চাষ করছে। কিন্তু বর্তমানে জমি মালিকরা বারবার জমি হাত বদল করছে। বিক্রি করছে। এজন্য ভাগচাষীরা আগামী বছর জমি পাবে কী না ? জমি এ মালিকের কাছে থাকে কীনা এ জাতীয় একটি ভয়ের মাঝে থাকছে।
ভাগচাষের ফলে চাষীরা মূলত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সদর উপজেলার সোন্দলপুর ও চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের কয়েকজন ভাগ চাষী জানান, গ্রামে বৌ-ছেলে নিয়ে থাকি। অন্য সময় বদলা দেই তাই ‘বাগা’ চাষ করি। কিন্তু এ চাষে লাভ নেই।
জমি মালিক ১০ গন্ডা জমি ভাগ চাষে দিলে তিনি কোনো খরচ দেন না। সমস্ত খরচ দিতে হয় ভাগচাষীকে। ১০ গন্ডা জমি হালচাষ ৫০০ টাকা, বীজ ৩০০ টাকা, ঘাস বাছাই ৪০০ টাকা, বীজ উৎপাদন ২০০ টাকা, সার, কীটনাশক ২৫০ টাকা, পানি সেচ ৮০০ টাকা, কাটাই মাড়াই ৩০০ টাকা। অর্থাৎ ১০ গন্ডা জমির পেছনে একজন ভাগচাষীকে প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ করতে হয়। এছাড়াও ভাগচাষী ফসল লাগানো থেকে শুরু করে ফসল ঘরে তোলা নাগাদ প্রতিদিন গড়ে ৩/৪ ঘন্টা করে জমিতে কাজ করে। এ কাজের দাম কখনো হিসাব করা হয় না। কিন্তু ফসল উৎপাদন শেষে ফসল ভাগের সময় যে পদ্ধতিতেই ভাগ করা হোক না কেন ভাগ চাষীর এ শ্রমের অর্ধেক জমি মালিকের কাছে চলে যায়। কিন্তু ১০ গন্ডা জমিতে ধান পাওয়া যাবে ২০ মন। বাজার দর মনপ্রতি ২৫০ টাকা হারে হবে পাঁচ হাজার টাকা। ভাগচাষী পাবে ২৫০ টাকা। তাতে দৃশ্যত লাভক্ষতিতে ভাগচাষীর ৫০০ টাকা ক্ষতি হয়।
আবার জমি ব্যবহার করে ফসল উৎপাদন করছে বলে যে জমির দামও কমে যাচ্ছে তাও নয়। তথ্য সংগ্রহকালে দেখা যায়, প্রত্যেক এলাকায়ই যে জমির আগে প্রতি একরের দাম ছিল ৫০ হাজার এখন তা ৬০/৭০ হাজার টাকা হচ্ছে। ফলে জমি মালিককে সে দিকেও ঠকতে হয় না। এ প্রসঙ্গে শোল্লা গ্রামের বেলাল বলেন, এত হিসাব করার সময় কৈই? ধান যা পাই তা ভাগ করে দিয়ে দেই। জমি মালিক মাওলানা নুর ইসলাম বলেন, যে চাষ করবে সে তো শ্রম দিবেই এতে হিসাব অথবা ক্ষতির কি আছে।

ভাগচাষের সুফল-কুফল
ভাগচাষের সুফলের কথা বলতে গিয়ে সদর উপজেলার সোন্দলপুর ইউনিয়নের বড়রামদেবপুরের আবুল হোসেন জানান, ভাগচাষের ফলে ধনী কৃষকদের লাভ হয়। একদিকে তাদের কোনো জমি পতিত পড়ে থাকে না। অন্যদিকে নিজেরা জমি চাষ করলে যে ঝুঁকি থাকে ভাগচাষী করলে সে ঝুঁকি তাদের নিতে হয়। ফলে কোনোরূপ খরচাপাতি ছাড়া তারা ফসল পেয়ে থাকে।
তিনি আরো জানান, ভাগচাষের যে প্রথা তাতে চাষীরা উৎপাদনে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। দেখা যায়, ভাগচাষীদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসলের বিরাট একটি অংশ মালিককে দিতে হয়। এতে ভাগচাষীরা উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
ভাগচাষের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় জমির। বড়রামদেবপুরের অলি উল্যাহ বলেন, ভাগচাষের ফলে জমির মান কমে যায়। ভাগচাষী আগামী বছর জমি চাষ করতে পারবে কি পারবে না তার কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে জমির কোনো উন্নয়ন করে না। অন্যদিকে ভাগচাষী মনে করে এ বছরই যা ফসল ফলানো যায় তাই লাভ, এ চিন্তা করে জমিতে বেহিসেবে সার কীটনাশক প্রয়োগ করে। ফলে জমির গুণগত মান কমে যায়।

ভাগচাষের সরকারি নীতি
১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অর্ডিন্যান্স (আইন) এ ভাগচাষীদের স্বার্থ সংরক্ষণে কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়। ভাগ চাষের সংস্কারের জন্য ঘোষিত ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে নিুলিখিতগুলো উল্লেখযোগ্য।
১। জমির মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে ন্যূনতম পাঁচ বছর মেয়াদের জন্য একটি লিখিত চুক্তি থাকবে। এ মেয়াদের মধ্যে ভাগচাষীকে চাষাবাদ থেকে বিরত রাখা যাবে না। তবে চুক্তির শর্ত যদি ভাগচাষী দ্বারা লঙ্ঘিত হয় সে ক্ষেত্রে জমির মালিক ভাগচাষীকে অবশ্যই জমি চাষাবাদ থেকে বিরত রাখবে।
২। কোনো ভাগচাষী ১৫ বিঘা পর্যন্ত জমি চাষাবাদ করতে পারেন।
৩। মালিক বর্গায় প্রদত্ত জমি বিক্রি করতে চাইলে তা ক্রয়ের সুযোগ প্রথমে ভাগচাষীকে দিতে হবে।
৪। বর্গার প্রদত্ত জমির উৎপাদিত ফসল তেভাগা নীতিতে বন্টন করতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ জমির মালিক, এক তৃতীয়াংশ ভাগ চাষী ও এক তৃতীয়াংশ পাবে উপকরণ সরবরাহকারী। যদি উপকরণ জমি মালিক ও ভাগচাষী যৌথভাবে প্রদান করে তবে ফসল ৫০:৫০ হিসেবে জমি মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে বন্টিত হবে।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে ২০ জন কৃষকের সাথে আলাপে ১৭ জন জানান, তারা ভাগচাষে সরকারি নীতি সম্পর্কে জানেন না। তিনজন বলেছেন তারা জানেন কিন্তু জমি মালিকরা যেভাবে বলেন সেভাবে চাষ করতে হয়।

মালিক ও ভাগচাষী দ্বন্দ্ব
সরেজমিন পরিদর্শনে অনেক কৃষক বলেন, জমি মালিক ও ভাগচাষীর মধ্যে বর্তমানে দ্বন্দ্ব খুবই কম। তবে চাটখিলের মোহাম্মদপুর গ্রামের বেলাল বলেন, ফসল ভাগের সময় সাধারণত দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ফসল চাষের সময় জমি মালিকরা কোনো উপরকণ দেয় না। সেগুলো চাষীকেই দিতে হয়। ফলে ফসল ভাগের সময় তিনভাগে ভাগ করার কথা থাকলেও জমি মালিক দু ভাগে ভাগ করে নিজে এক ভাগ নিয়ে যায়। এতে দু পক্ষের দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।
আবার একই গ্রামের শাহ আলম বলেন, আমি ভাগচাষী। চাষাবাদে তেমন লাভ হয় না। কিন্তু তারপরও চাষ করি ধানের খড়গুলো দিয়ে ঘরের চাল ছানি দিব এ আশায়। কিন্তু জমি মালিক তাও নিয়ে যায়। এ কারণে তার সাথে আমার তর্ক হয়। এরপর থেকে আমি আর ভাগচাষ করি না।

সুপারিশ
সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জমি মালিক ও ভাগচাষীদের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন কিংবা মনিটরিং এর ব্যবস্থা করা। ভাগচাষীকে জমি চাষে স্বাধীনতা দেওয়া এবং ভূমি সংস্কার নীতি বাস্তবায়ন করে ভূমিহীন চাষীদের মাঝে খাসজমি বিতরণ করলে ভাগচাষীদের জীবন মানের উন্নয়ন সম্ভব বলে সরেজমিন পরিদর্শনে ভাগচাষী ও জমি মালিকরা জানান।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28723562 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28723562 2007-07-31 14:25:58
ভূমি সংস্কার নীতি বাস্তবায়নে শম্ভুক গতি
ভূমি সংস্কার কি? : অর্থনীতিবিদদের মতে ভূমি সংস্কার হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থার ত্র“টি সমূহ দূর করে জমির মালিকানা ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে ভূমির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পুরোপুরি স্বার্থ সংরক্ষণ ও দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নের জন্যে যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ভূমির মালিকানার পূণবিন্যাস, মালিক ও প্রজার মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়ন, জমির খন্ডীকরণ রোধ, খন্ডিত জমিসমূহ একত্রীকরণ এবং কৃষির সাথে যুক্ত অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান সমূহের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন প্রভৃতি বিষয়গুলোকে ভূমি সংস্কার ব্যবস্থার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মূলত এক কথায় বলা যেতে পারে ভূমি সংস্কার হচ্ছে, বিদ্যমান ভূমিস্বত্বের ত্র“টিসমূহ দূর করে দেশের কৃষি ও কৃষকের স্বার্থে যে যথাপোযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় তাই ভূমি সংস্কার।

ভূমি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা: আমাদের মত একটি কৃষি নির্ভর উন্নয়নশীল দেশের জন্যে ভূমি সংস্কার উন্নয়নের পথে একটি মৌলিক বিষয়। কেননা দেশের মোট জনসংখ্যার ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে এবং সকলেই কোন না কোনভাবে গ্রাম অর্থনীতির সাথে সংযুক্ত এবং নির্ভরশীল। নরোত্তমপুর ইউনিয়ন কৃষি ব্লক সুপারভাইজার আব্দুল মতিন বলেন, আমরা ভূমি নির্ভর দেশের মানুষ। যেহেতু গ্রাম অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে ভূমি নির্ভর তাই আমরা সকলেই ভূমি নির্ভর। গ্রামীণ মানুষের অধিকাংশ ইতিমধ্যে জমি হারিয়ে ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে। গ্রামীণ জনসংখ্যার ৬২ শতাংশই এখন ভূমিহীনে পরিণত হয়েছে। বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আর্থ-সামাজিক কাঠামো, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর এ সংখ্যা আরো বেড়েই চলেছে। জাতীয় উৎপাদনের শতকরা ৪০ আসে কৃষি থেকে তথা ভূমি থেকে। তাছাড়া মোট শ্রম শক্তির ৭২ ভাগই কৃষি উৎপাদন তথা ভূমিতে নিয়োজিত। তাই এ সকল বৈষম্য ও দারিদ্র্যতার চিত্র পরিবর্তন করতে হলে ভূমি সংস্কার করা অত্যাবশ্যক বলে আবদুল মতিন জানান।

ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে যে সকল লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে: অর্থনীতিবিদের অভিমত, প্রান্তিক কৃষক, সাধারণ মানুষ ও পেশাজীবিদের সাথে আলাপ করে ভূমি সংস্কার যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ভিতর দিয়ে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যগুলো অর্জিত হতে পারে বলে জানা যায় সেগুলো হলো: ১। কৃষি উৎপাদন ও জমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ২্। ভূমির যথাযথ ব্যবহার এবং স্থায়ী ব্যবহার যোগ্যতার নিশ্চয়তা সৃষ্টি ৩। ভূমি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পদ খাল, বিল,জলাশয়, জনমহল, পুকুর ইত্যাদি সুষ্ঠু ব্যবহারের নিশ্চয়তা সৃষ্টি ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি। ৪। ভূমিহীন (সব ভূমিহীন পরিবারকে ভূমি দেওয়া সম্ভব নাও হয়) প্রান্তিক ও দরিদ্র কৃষকদের হাতে চলে আসা জমি ও সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি, ফলে তাদের উৎসাহ, উদ্যোগ দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পরিণামে উৎপাদন বৃদ্ধি। ৫। প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সুবিধা প্রান্তিক ক্ষুদ্র ও মধ্য কৃষকদের নাগালের মধ্যে আসা যার ফলশ্র“তিতে তাদের উদ্বুদ্ধ ও সঞ্চয় বৃদ্ধি। ৬। এ সকল উদ্ধুত্ত ও সঞ্চয় অকৃষিজ নানা উৎপাদনশীল উদ্যোগ ও গ্রাম ভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরী। ৭। গ্রামীণ দরিদ্র বেকারদের কর্মসংস্থান/আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ৮। গ্রামীণ দরিদ্রদের ব্যাপকাংশের জীবনমান উন্নয়ন, ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিঃস্বকরণ প্রক্রিয়া রোধ।

ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে যে সকল সামাজিক ও রাজনৈতিক সুফল অর্জিত হতে পারে: (ক) সমাজে ভূমিকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে যে সব হানাহানি মারামারি, মামলা-মোকদ্দমা, খুনাখুনি ঘটে আসছে তা হ্রাস পাবে এবং পরিণামে ভূক্তভোগীদের অর্থ ও অন্যান্য সম্পদ অপচয় থেকে রক্ষা পাবে। (খ) বিদ্যমান ক্ষমতা কাঠামোর যে চরম ভারসাম্যহীনতা ও বৈষম্য রয়েছে তা হ্রাস প্রাপ্তি ও স্থানীয় উন্নয়মূলক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগের সাথে ব্যাপক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ কর্মকান্ডে সমষ্টিগতভাবে অংশগ্রহণের ফলে বৃহত্তর জনগোষ্টীর সংহতি চেতনা বৃদ্ধি, সমষ্টিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নে তার ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি। (ঘ) উৎপাদনমুখী ও সামাজিক কর্মকান্ডে নারীর অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং এপথে বিদ্যমান সামাজিক বাধাগুলো দ্রুত বিলুপ্তি। (ঙ) ভূমি সংস্কারের বাস্তবায়নে স্থানীয় স্বশাসিত সরকারের সম্পৃক্ত করার ভিতর দিয়ে স্বশাসিত সরকার কাঠামো আরও গতিশীল, অংশগ্রহণমূলক ও জনগণের কাছে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিতামূলক হয়ে উঠবে। (চ) ভূমি একটি বহুমাত্রিক কর্ম। তাই এর বাস্তবায়নে প্রত্যক্ষ সামাজিক ফলাফল হিসাবে উৎপাদনে ব্যাপক গণউদ্যোগ সৃষ্টি, গণশিক্ষায় নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, সামাজিক পরিবেশ, গণস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, রোগ ও মহামারী প্রতিরোধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত বৃদ্ধি। (ছ) গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্টীর ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে তা ব্যাপক শিল্পায়নের সহায়ক হবে।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে ভূমি সংস্কার: ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের অভ্যুদয়ের পর থেকে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে ভূমি সংস্কারের ক্ষেত্রে কিছু কিছু ব্যবস্থা গৃহিত হয়েছিল। এতে কৃষি উন্নয়নের পথ কিছুটা হলেও প্রশস্ত হয়েছিল। কিšদ কৃষির উন্নয়নে যে বিপ্লব গঠিত হওয়ার কথা ভাবা হয়েছিল তা প্রকৃতপক্ষে হয়নি। ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ সরকার কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের দিকে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। এ লক্ষ্যে ১৯৭২ ভূমি সংস্কার। ১৯৭২ সালের ভূমি সংস্কার নীতির বিশেষ দিক সমূহ হলো: ১। খাজনা মওকুফ: দরিদ্র কৃষকদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার ১৯৭২ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল বকেয়া খাজনা সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছেন। ঐ একই দিন হতে ২৫ বিঘার কম জমির খাজনা মওকুফ করে দেওয়া হয়।
২। জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ: সরকার জমির সর্বোচ্চ মালিকানা পরিবার প্রতি ১০০ বিঘায় নির্দিষ্ট করে দেন। তবে ফলের বাগান, চা বাগান ও ডেইরী ফার্মের ক্ষেত্রে জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা শিথিলযোগ্য থাকবে।
৩। জমি বন্টন: নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ সীমার অধিক উদ্বুদ্ধ জমি ভূমিহীন কৃষক, নদী ভাঙনে ছিন্নমূল ও প্রান্তিক কৃষকদের (যাদের ১.৫ একরের কম জমি রয়েছে) মধ্যে বন্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
৪। ইজারাদারী প্রথার বিলোপ: দীর্ঘকাল যাবৎ বাংলাদেশে নির্যাতনমূলক ইজারাদারী প্রথা প্রচলিত ছিল। বাংলাদেশ সরকার এ প্রথার বিলোপ সাধন করেন।
৫। অনাবাদী জমি চাষের বিশেষ কর্মসূচি: অনাবাদী জমি চাষের জন্যে সরকার এ নীতিমালার এক বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
৬। পৃথক মন্ত্রণালয় স্থাপন: দেশের ভূমি স্বত্ত্ব ব্যবহার দ্রুত সংস্কার সাধনের উদ্দেশ্যে সরকার ‘ভূমি প্রশাসন ও ভূমি সংস্কার’ নামক একটি পৃথক মন্ত্রণালয় স্থাপন করেছেন।
১৯৮২ সালর জুলাই মাসে ভূমি সংস্কারের উদ্দেশ্যে একটি ভূমি সংস্কার কমিটি গঠন হয়। এ কমিটি ১৯৮৩ সালের জানুয়ারী মাসে ভূমি সংস্কারের উদ্দেশ্যে সরকারের নিকট বিভিন্ন সুপারিশ পেশ করেন। এ সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের জন্যে সরকার ভূমি সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ১৯৮৪ জারি করেন। এ ভূমি সংস্কার নীতি ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার নীতি নামে পরিচিত। ১৯৮০ সালের ভূমি সংস্কার নীতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো নিুরূপ: ১। পরিবার প্রতি জমি সর্বোচ্চ মালিকানা ১০০ বিঘা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবং তা কোন অবস্থাতেই পরিবর্তন করা হবেনা। ২। যাদের জমি বর্তমানে ৬ বিঘার নীচে রয়েছে ক্রয়ের মাধ্যমে তা ৬০ বিঘার উর্ধ্বে নেওয়া যাবেনা। ৩। বসতবাড়ি হিসেবে ব্যবহৃত এরূপ জমি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবেনা। বসতবাড়ি নির্মাণ করার মত খাসজমি থাকলে সরকার বা ভূমিহীন ও শ্রমিকদের মধ্যে বন্টন করবেন। ৪। বিনা চুক্তিতে কেউ অন্যের জমি চাষ করতে পারবেনা। বর্গাচুক্তি ৫ বছরের জন্যে স্থায়ী হবে। ৫। কোন বর্গাকার ১৫ বিঘার অধিক জমি বর্গা শর্তে রাখতে পারবেনা। ৬। মালিক বর্গায় প্রদত্ত জমি বিক্রি করতে চাইলে তা ক্রয়ের প্রথম সুযোগ বর্গাদারকে দিতে হবে। ৭। বর্গায় প্রদত্ত জমির উৎপাদিত ফসল তেভাগা নীতিতে বন্টন করতে হবে। অর্থাৎ উৎপাদিত ফসলের এক তৃতীয়াংশ মালিক, এক তৃতীয়াংশ বর্গাদার ও এক তৃতীয়াংশ মালিক বর্গাদার উৎপাদনের উপাদানের ভিত্তিতে আনুপাতিক হারে পাবে। ৮। কৃষি মজুরদের ন্যুনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩.৫ সের (৩.২৭ কেজি) চাল। ৯। জমির মালিক ও বর্গাচাষী যে ক্ষেত্রে সমভাবে সকল কৃষি উপকরণ সরবরাহ করবে সেক্ষেত্রে ফসল ৫০:৫০ হিসেবে মালিক ও বর্গা চাষীর মধ্যে বন্টিত হবে। ১০। নতুন চর এলাকায় পাওনাযোগ্য জমি ভূমিহীন ও দরিদ্র কৃষকদের মাঝে বন্টনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১১। গ্রামীণ এলাকায় উৎপাদন ও সংগঠন কাঠামোকে ন্যায়ধর্মী করে তোলার উদ্দেশ্য সামনে রেখে খাস কৃষি জমি কেবলমাত্র ভূমিহীন বা প্রায় ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে। ১২। গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী কৃষকদের ঋণের দায়ে বা¯দভিটা থেকে উচ্ছেদ করা যাবেনা।
্এছাড়াও ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ এবং ২৫ বিঘা জমির খাজনা মওকুফ করেন। ভূমি সংস্কার নীতি এ যাবতকাল পর্যন্ত যেভাবে গৃহিত হয়েছে তাতে গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনের পথ প্রশস্ত হয়নি। প্রান্তিক কৃষক ও ক্ষুদ্র কৃষকে এখনও ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হচ্ছে। নানাভাবে হচ্ছে নিগৃহীত।

সরকার গৃহিত ভূমি সংস্কারের ফলাফল: বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সাল এবং ১৯৮৪ সালে ভূমি সংস্কারের ক্ষেত্রে যে সমস্ত ব্যবস্থা অবলম্বন করেন তা কতটুকু কার্যকরী হয়েছে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের জেলা যুগ্ন আহবায়ক আবদুল মমিন বিএসসি বলেন, জমির মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা ১০০ বিঘায় নির্ধারণ করা হলেও উদ্বুত্ত জমি সরকারের হাতে আসেনি। তাছাড়া ভূমি বন্টনের ক্ষেত্রে এখন নাগাদ কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভূমিহীনদের সংখ্যা না কমে ক্রমশঃ বেড়েই চলছে। তাছাড়া সরকার ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করলেও শিক্ষা কর, সেচকর ইত্যাদি কর মওকুফ করেনি। ফলে কৃষকরা লাভবান হতে পারেননি। এগুলো নীতিমালার ব্যর্থতা হলেও পাশাপাশি কিছু সফলতা আছে বলেও তিনি জানান, বর্গাদারের স্বার্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, উৎপাদিত ফসল কিভাবে মালিক ও বর্গাদারদের মধ্যে বন্টিত হবে সে বিষয়টি নির্ধারণ হওয়ায় সে সমাধান হয়েছে। ন্যুনতম কৃষি মজুরিও নির্ধারণ হয়েছে। তবুও যে সকল লক্ষ্য সামনে রেখে ভূমি সংস্কারের উদ্দেশ্য তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলেও তিনি জানান।

ভূমি সংস্কার নীতি ও বর্তমান অবস্থা: স্বাধীনতা লাভের পরে দুইটি ভূমি সংস্কার নীতিমালা প্রণয়ন হলেও সাধারণ কৃষকদের তথা ক্ষুদ্র প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে তা পুরোপুরি সহায়ক হতে পারেনি বলে অনেকে মন্তব্য করে। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে বাটইয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শেখ আহম্মদ ভূঞা বলেন, জমির সর্বোচ্চ মালিকানার সীমা ১০০ বিঘা নির্ধারণ এবং পরবর্তীকালে তা কমিয়ে জমির সর্বোচ্চ মালিকানার সীমা ৬০ বিঘা নির্ধারণ করা হয়। জমির সর্বোচ্চ সীমা এভাবে নির্ধারিত হওয়ায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে বিরাজমান ধনবৈষম্য হ্রাস পাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়নি। জমির সর্বোচ্চ সীমা ২৫ বিঘা থেকে ৪০ বিঘার মধ্যে ধার্য করলে গ্রামাঞ্চলে ধনবৈষম্য হ্রাস পেত এবং সাধারণ কৃষকদের অবস্থার উন্নতি হতো। ভূমি সংস্কার পদক্ষেপে উদ্বুত্ত জমি ক্ষুদ্র প্রান্তিক ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বন্টনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিšদ জমির সর্বোচ্চ মালিকানা ১০০ বিঘায় নির্ধারণ করায় বন্টন করার মত পর্যাপ্ত উদ্বৃত্ত জমি সরকারের হাতে আসা সম্ভব নয়। ১০০ বিঘা জমি পরিবার প্রতি রাখার পর মাত্র ১২ লক্ষ একর উদ্বৃত্ত জমি সরকারের হাতে আসবে। সরকারের হাতে রয়েছে ৪ লক্ষ একর খাস জমি। বাংলাদেশে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা ১৪ লক্ষ। মাথাপিছু অর্ধ একর জমির রয়েছে এমন কৃষকের সংখ্যা ১৬ লক্ষ। এ সকল কৃষকও মূলত ভূমিহীন। মাত্র ১৬ লক্ষ একর জমি ৩০ লক্ষ কৃষকের মধ্যে বন্টন করলে প্রত্যেকে অর্ধ একরের মত জমি পাবে। এমতাবস্থায় কৃষকদের প্রকৃত অবস্থার মৌলিক কোন পরিবর্তন না হওয়াই স্বাভাবিক।
এক জরিপ থেকে দেখা যায় যে, মোট আবাদী জমির শতকরা ২৫ ভাগ মাত্র ২ শতাংশ লোকের মালিকানায় রয়েছে। পক্ষান্তরে শতকরা মাত্র ৪.৮ ভাগ জমি রয়েছে ৫০ ভাগ চাষীর মালিকানায়। বর্তমানে ভূমিহীন কৃষকের সংখ্যা শতকরা প্রায় ৬০জন। গ্রামীণ এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা অভাবের তাড়নায় তাদের শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে ভূমিহীন কৃষকে পরিণত হচ্ছে। আর মুষ্টিমেয় লোকের হাতে ভূমি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।

ভূমি সংস্কারের বাস্তবতা: আমাদের দেশে জনসংখ্যার তুলনায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ খুবই কম। তাই সংগতিপূর্ণ সংস্কার করতে হলে দেশের সিলিং অনেক নীচে নামাতে হবে। ফলে ধনী এমনটি মধ্যম শ্রেণীর কৃষকদের একটি অংশ ও সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। তবুও যে জমি পাওয়া যাবে তা দেশের বিপুল গ্রামীণ জনগণের প্রত্যেকের মাঝে দেওয়াও অসম্ভব হয়ে উঠবে। তবুও যদি তা দেওয়া হয় তাতে অনেক অ-অর্থনৈতিক ক্ষুদ্রজোতের জন্ম হবে। আর যদি ভূমিহীনদের নয় কেবল যাদের জমি আছে তাদের দেওয়া হয় তাহলে গ্রামের ভূমিহীনরা সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেহমান সোবহানের অভিমত হল, ভূমি সংস্কারের মূলভিত্তি হচ্ছে ‘গ্রামাঞ্চলে ক্ষমতা কাঠামোকে ভেঙ্গে সেখানে একটি সমতা বিমুখী প্রবৃদ্ধির সুচনা ঘটানো।’

ভূমি সংস্কারের জন্যে যা করা যেতে পারে: রেকর্ড সংরক্ষণ ও সশোধন পদ্ধতির ভুলের জন্যে মালিকানা নিয়ে জটিলতা একাধিক দাবীদারের জন্ম এবং জালিয়াতির ও প্রতারণার সুযোগ রয়েছে। রেকর্ড সংরক্ষণ ও সংশোধন পদ্ধতির আধুনিকীকরণ ও উল্লেখিত অবস্থা ও সমন্বয়হীনতা দূর করা ভূমি প্রশাসন সংস্কারের একটি মৌলিক ও জরুরী করণীয় বলে গণ্য করা উচিত। আর এস রেকর্ডের বিষয়টি একটি চালমান প্রক্রিয়া। তবুও এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান ত্র“টি ও জটিলতার জন্যে জনগণের কষ্টের অন্ত নেই। তাই সিএস এবং এস এ রেকর্ডের তথ্যাদি ম্যাপ পর্চা এসকল বিষয়গুলো সংরক্ষনে আধুনিকায়ন করা উচিত বলে তিনি জানান। ভূমি আইনের সংস্কার ভূমি সংস্কারের মৌলিক লক্ষ্যে পৌছার জন্যে অত্যাবশ্যক। বর্তমান আইনগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকে এ আইনটি পর্যালোচনা করা উচিত। তাতে এ আইনটি থেকে প্রয়োজনীয় অংশ বাতিল করে সমযোপযোগী করা উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির স্বার্থেই অপরিহার্য।
ভূমি সংস্কারের বড় কাজগুলোর মধ্যে আরো ভাবনার যা তা হচ্ছে ভূমি নিয়ে বিচার পদ্ধতির কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার। খাস জমি, চরের জমি, বন, জলা, বিল, জলমহল, জাল দলিলের ভিত্তিতে রুজু করা টাইটেল সুট-এ জাতীয় মামলা যার সঙ্গে অনেক মানুষের ভাগ্য ও স্বার্থ জড়িত। তা দ্রুত নিষ্পতির জন্যে ভূমি ট্রাইবুনাল গঠন করা যেতে পারে।
১৯৮৪ সালে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশে বর্গাচাষীদের অধিকার সংরক্ষণের কিছু বিধান চালু আছে। তবুও এ নিয়ম বাস্তবায়নে কিছু জটিলতা আছে। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28723123 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28723123 2007-07-28 22:53:03
নারীর ক্ষমতায়নে ইউপি নারী সদস্য : আদতেই গালভরা বুলি ইউনিয়ন পরিষদের নারী সদস্যরা নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। ভিজিএফ কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন ধরণের সভা করেই কেটেছে তাদের ক্ষমতার পাঁচ বছর। এতে জনগণ ও তাদের প্রত্যাশার জায়গাটুকু অনেকাংশে শূন্য রয়ে গেছে। ফলে অনেক নারী সদস্যই পুনরায় ভোটে যেতে রাজী নয়। অনেকে তাদের অভিজ্ঞতায় বলেন, এ পদটি নামকাওয়াস্তে। জনগণও নারী সদস্যদের নিস্ক্রিয়তায় তাদের ওপর দার”ন নাখোশ।
এ সবের পেছনে রয়েছে নারী সদস্যদের কাজ না দেওয়া, অবমূল্যায়ন করা, ঠিকমত বেতন-ভাতা না পাওয়া, রাজনৈতিক চাপ, সকল মহলের কম বেশি অসহযোগিতা, তাদের ক্ষমতা স£úর্কে ধারণা না থাকা ইত্যাদি। এছাড়াও নারী সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকাও তাদের নিষ্ক্রিয়তার উল্লেখযোগ্য কারণ।
নারী সদস্যদের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, তাদের বেতন-ভাতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি, প্রত্যেক কাজে সরকারিভাবে নারী সদস্যদের আরো সক্রিয় করে তোলার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়াকে আরো গতিশীল ও জনমুখী করে তোলা সম্ভব। সরেজমিন পরিদর্শনে নারী সদস্য, পুর”ষ সদস্য, চেয়ারম্যান, এনজিও কর্মী, সরকারি কর্মকর্তা, জনগণের সাথে আলাপে এ তথ্য জানা যায়।

জনগণের প্রত্যাশা : ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সদস্য হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় নারী সদস্যদের প্রতি জনগণের অনেক প্রত্যাশা ছিল। বিশেষ করে এ আগ্রহ ছিল গ্রামের নারীদের। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী সদরের অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, গ্রামের নারীরা তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারে না। তাই তাদের প্রতিনিধি দরকার। এ জন্য আমরা নারী সদস্যরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তারা আমাদের কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করেন। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, গ্রামের নারীরা আমাদের কাছে ন্যায় বিচার, রাস্তা-ঘাট তৈরি, বিভিন্ন ভাতা ও রিলিফ চেয়েছিল।

জনগণের কাছে প্রতিশ্র”তি : নির্বাচনে অংশগ্রহণের সময় জনগণের কাছে কী কী প্রতিশ্র”তি ছিল এ প্রশ্নের জবাবে সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা আক্তার বলেন, আমার বাবা এক সময় এ ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এ জন্য আমাকে কারো কাছে কোনো প্রতিশ্র”তি দিতে হয়নি। একই ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, ভোটের সময় আমাকে কোনো দিন ঘর থেকেও বের হতে হয়নি এবং আমি বেরও হয়নি। আমার স্বামী সব করেছেন। তাই কোনো প্রতিশ্র”তি দিতে হয়েছে কী না তা আমি জানি না। তবে প্রত্যেক নারী সদস্যই জানিয়েছেন নির্বাচনের সময় ভিজিডি, ভিজিএফ, রিলিফ এসব ঠিকমত বন্টনের প্রতিশ্র”তি দিয়েছিলেন।
প্রত্যাশা ও প্রতিশ্র”তি পূরণ
নির্বাচনে নারী সদস্যদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ও সদস্যদের প্রত্যাশা পূরণ বিষয়ে অনেক নারী সদস্যই জানান, তারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা জানান, পরিষদের বরাদ্দ কম এ জন্য তিনি জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, মানুষের তো দাবির শেষ নেই, আমরা এতো দাবি মিটাবো কিভাবে? অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার জানান, নারী সদস্যদের তিন ওয়ার্ডে কাজ করতে হয়, আর পুর”ষ সদস্য এক ওয়ার্ডে কাজ করতে হয়। এ জন্য আমরা সব কাজ করতে পারি না। তিনি গত চার বছরে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আবদুল্লাহ নায়েব সড়কের কিছু অংশ ইটের কাজ ও বাকিটুকু মাটি ভরাটের কাজ করেছেন। এছাড়া কিছু জনগণকে ভিজিএফ, ও ভিজিডি কার্ড দিয়েছেন।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা জানান, তিনি কী কী কাজ করছেন তা জানেন না। রাস্তার কাজ, কার্ড, রিলিফ বিতরণ এসব তার স্বামীই করেন। তবে গ্রামের কোনো নারী তার কাছে কোনো দরকারে এলে তিনি খাবার দাবার ডাল-ভাত খাইয়ে দেন।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছার স্বামী আবদুস ছোবহান জানান, তার স্ত্রী গত ৪ বছরে দু-একটা কার্ড বিলি ছাড়া আর কোনো কাজ করতে পারেনি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা জানান , তিনি এ নাগাদ বেশ কয়েকটি রাস্তার ও ওয়াপদার বেড়ির কাজ করিয়েছেন।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে নারী সদস্যরা মানুষের জন্য তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি। অথবা করেননি। সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, সংসারের কাজকর্ম করতে হয়, তাই গ্রামের নারীদের নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা, গণশিক্ষা কিংবা কোনো সচেতনতামূলক আলোচনাও করেননি। তবে একই ইউনিয়নের নারী সদস্য ফেরদৌসী সুলতানা বলেন, আমি গণশিক্ষার জন্য আমার এলাকায় একটি সমিতি করেছি। এখানে মাঝে মাঝে আমি বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নারীদের সাথে কথা বলি।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার আরো একটি কারণ হলো এলাকার মানুষের অসহযোগিতা। এ বিষয়ে সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, নলুয়ায় রাস্তার কাজ করাতে গেলে মাটি কাটার কোদালের প্রতি কোপে টাকা চায়।
ফেনী দাগনভূঁঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য শাহেনা আক্তার গত চার বছরে ইউনিয়ন পরিষদে কোনো কাজ করতে পারেননি বলে জানান। তবে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিনি কেয়ার বাংলাদেশের ২ লাখ ৩৭ হাজার টাকা বৃক্ষরোপন ও ২৫ হাজার টাকার একটি কালভার্টের কাজ করিয়েছেন।

প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবার কারণ :জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হবার কারণগুলো হলো- চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতা, স্থানীয় লোকজনের অসহযোগিতা। ফেনী দাগনভূঁঞা উপজেলার জয়লস্কর ইউনিয়ন সরেজমিন পরিদর্শনের সময় নারী সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যানদের অসহযোগিতার কারণে তারা কোনো কাজ করতে পারেননি। অধিকাংশ নারী সদস্য জানান, তারা গত বছরগুলোতে ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ড বিতরণ ছাড়া তেমন কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। জয়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য আলেয়া বেগম বলেন, চেয়ারম্যানরা আমাদের কোনো কাজ দেয় না। নিয়ম মোতাবেক আমাদের মাঝে মাঝে বিভিন্ন প্রকল্পের চেয়ারম্যান করে ঠিকই কিšদ আমাদের কাজ দেয় না। চেয়ারম্যান সাদা কাগজে সাক্ষর নিয়ে নেয়। আমি ডিগ্রি পাশ। এ কারণে চেয়ারম্যানের সাথে অনেক তর্ক বিতর্ক করে দুটি কাজ করিয়েছি।
নারী সদস্যদের কাজ করতে না পারার আরো একটা কারণ হলো স্থানীয় লোকজনের অসহযোগতা। এ বিষয়ে সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা জানান, তাকে নলুয়ায় কাজ করাতে গিয়ে টাকা দিতে হয়েছে। এ ছাড়াও তিনি ওয়াপদার আউটার বেড়ির কাজ পেয়েও তা করাতে পারেননি। পরে তিনি সে কাজটি আরেকজনের কাছে ৫০ হাজার টাকা লাভে বিক্রি করে দেন। এছাড়াও রয়েছে স্থানীয় পুর”ষ প্রভাব। কাজ ভাগের সময় পুর”ষ সদস্যরা অনেক সময় প্রভাব খাটায়। তারা চান এলাকার সব রকম উন্নয়ন কাজ নিজেরা করতে। এতে করে তারা জনগণের সবরকম প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি।

আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ: ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান নারী সদস্যদের অনেকেই আগামি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান না। আগামীতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণ হলো, নারী সদস্যদের ক্ষমতা না থাকা, কাজ করতে না পারা, স্থায়ী চাকরির সন্ধান ইত্যাদি।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা জানান, তিনি আগামিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না। কেন করবেন না জানতে চাইলে বলেন, আমি গ্রাজুয়েট। আমি স্থায়ী কোনো কাজ করব। ভালো চাকরি করব। মে£^ারি করা তো কোনো চাকুরি না। বেতন ভাতাও কম। তাই আগামীতে আর নির্বাচন করব না।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম, ফয়জুন নাহারসহ আরো অনেকে বলেন, তারা আগামী বছরও নির্বাচন করবেন। এটি হচ্ছে স£§ানী দায়িত্ব। তাই তারা আগামীতেও নির্বাচন করবেন।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা বলেন, আর নির্বাচন করব না। এখানে থাকলে মান ইজ্জত থাকে না। মানুষ মনে করে আমরা মানুষের টাকা পয়সা, সব খেয়ে ফেলছি।
জায়লস্কর ইউনিয়নের নারী সদস্য কামর”ন নাগার পাখি ও শাহেনা আক্তার জানান, আগামীতে আর তারা ভোট করবেন না। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার কারণ হিসেবে তারা বলেন, আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই। দায়িত্ব বুঝে দেয় নাই। তাই এ ভোট করে লাভ নাই।
সরেজমিন পরিদর্শনে বিভিন্ন এলাকার নারী সদস্যরা জানান, তারা অনেকেই আগামীতে ভোট করবেন না। এ বিষয়ে সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান জানান, ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে নারী সদস্যদের যে দায়িত্ব তা ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে আরো সুনির্দিষ্ট করতে হবে। একই কথা বলেন বাটইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন আলাউদ্দিন।

নারী সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে প্রশাসন, এনজিও, সমাজের বিভিন্ন অংশের ভূমিকা : নারী সদস্যদের কাজের ক্ষেত্র তৈরিতে প্রশাসন ও সমাজের নানা শ্রেণীর মানুষের ভূমিকা নামেমাত্র। তবে এ ক্ষেত্রে এনজিওরা কিছু কাজ করলেও তা খুবই সীমিত। দু একটি এনজিও বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্য চিকিৎসা এ সব বিষয়ে কাজ করতে গিয়ে নারী সদস্যদের সহযোগী হিসেবে রাখছে। আবার নারী সদস্যদের নিয়ে কাজ করতে গেলে সমস্যায়ও পড়তে হয় বলে জানান, অনেক এনজিও কর্মী। উন্নয়ন সংস্থা অর্পনের চিফ এক্সিকিউটিভ আব্দুল কাদের হাজারী বলেন, নারী সদস্যরা আদতে তাদের কাজের ধারা, ক্ষমতা এবং কোনো নিয়মকানুন স£úর্কে জানে না। তাদের নিয়ে কাজ করা আসলেই সমস্যা।
একজন উন্নয়নকর্মী বলেন, নারী সদস্যরা যে কাজই কর”ক সততার সহিত করে। তবে তাদের নিয়ে কাজ করতে গেলে দেখা যায় যে কাজ করার আগে তার স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। এলআইএফডি এর প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর জানান, নারী সদস্যরা কাজ কর্মে খুবই ধীর। এজন্য তাদের কোনো কাজে সংযুক্ত করা যাচ্ছে না।

সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারী সদস্য : অধিকাংশ নারী সদস্যই দায়িত্ব পালনে সচেতন নয়। সরেজমিন আলাপে দেখা যায়, অনেকেই তাদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে তা জানেন না। সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান বলেন, নারী সদস্যদের কী কাজ করতে হবে তা ইউনিয়ন পরিষদ ম্যানুয়েলে উল্লেখ নেই।
ভোট অনুযায়ী বরাদ্ধ পান কী না জানতে চাইলে অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, বাজেটের কোথায় কী পরিমাণ বরাদ্ধ থাকে তা আমরা জানি না। তাছাড়া বাজেট মিটিংয়ে উপস্থিত থাকি ঠিকই তবে তা নামে মাত্র।
সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, ভোটের সময় কিংবা ভোটের পরও আমি কখনো বোর্ড অফিসে যাইনি। কখন কী কাজ করতে হবে, কাকে কার্ড দিতে হবে, না হবে, এসব সিদ্ধান্ত আমার স্বামীই নেন।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য ফয়জুন নাহার বলেন, নারীরা নামেমাত্র সদস্য। বোর্ড অফিসে মিটিংয়ে যাই। কিšদ অধিকাংশ নারী সদস্যরই স্বামীরা তাদের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করে। এতে করে সকল সিদ্ধান্তই মূলতঃ নারীরা নিতে পারে না।
ইউপি কার্যক্রমে অংশগ্রহণ বিষয়ে অশ্বদিয়ার নারী সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন, গ্রামের সালিশ দরবারে আমরা থাকতে পারি না। কেনো থাকতে পারেন না এ বিষয়ে তিনি বলেন, গ্রামের বেশিরভাগ সালিশ রাতে হয়। রাতের বেলায় আমাদের সালিশে থাকতে সমস্যা হয়।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছা বলেন, মিটিংয়ে দাওয়াত পাই ঠিকই কিšদ সিদ্ধান্ত দিতে পারি না। গত চার বছরে আমি পুর”ষ সদস্যদের সমান ভিজিএফ কার্ড পেলেও চেয়ারম্যান আমাকে তা দেয়নি। চেয়ারম্যান এসব কার্ড রেখে দিয়েছেন।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা জানান, আইনী বাধ্যবাধকতা আছে বলে আমাদের অনেক প্রকল্পের চেয়ারম্যান করে ঠিকই। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা পারিবারিক কোনো বাধা আসে কী না জানতে চাইলে প্রত্যেকেই জানান, রাজনৈতিক বা পারিবারিকভাবে তাদের কোনো বাধার মুখোমুখি হতে হয় না।
বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছা জানান, তারা মিটিংয়ে যান ঠিকই কিšদ তাদের আলোচনার সুযোগ থাকে কম। আবার কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলেও পুর”ষ সদস্যরা তা মেনে নেন না।
সোন্দলপুরের ইউপি সদস্য মুনাফ জানান, নারী সদস্যরা মিটিংয়ে বসে বিভিন্ন বিষয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। আমাদের ইউনিয়নে মিটিংয়েঅংশগ্রহণ কিংবা মতামত প্রদানে নারী সদস্যদের কোনো সমস্যা না থাকলেও অন্যান্য ইউনিয়নে বিভিন্ন সমস্যা আছে।
বাটইয়া ইউনিয়নের একজন নারী সদস্যের ছেলে আলাউদ্দিন বলেন, অনেক মিটিংয়ে নারীদের ডাকাও হয় না। পরে চৌকিদার দিয়ে খাতা পাঠিয়ে নারী সদস্যের সাইন নিয়ে যাওয়া হয়।
অশ্বদিয়া ইউনিয়নের নারী সদস্যা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমি যখন ভোটে দাড়াই তখন একজন হুজুর বলেছে আমার কবরে গেলে জায়গা হবে না।
সামাজিকভাবে নারী সদস্যদের প্রতি কিছু বাধা থাকলেও এখন তা নেই। ধীরে ধীরে এসব বাধা কমে আসছে।
বেশিরভাগ নারী সদস্য জানিয়েছে বিভিন্ন কাজ কর্মে পুর”ষ সদস্যরা তাদের সহযোগিতা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী সদস্য বলেন, সালিশে আমাদের কথা এলাকার গণ্যমান্যরা শুনে না। কিছু কিছু পুর”ষ মে£^ার আমাদের পেছনে লেগে থাকে যাতে আমরা কাজ কর্ম ঠিকমত করতে না পারি।

ইউপি কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ : ইউপি কার্যক্রমে নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ অপরিহার্য হলেও অনেক নারী সদস্য জানান, ইউপি কার্যক্রমে তাদের তেমন অংশগ্রহণ নেই। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ নারী সদস্যরই কোনো অংশগ্রহণ থাকে না।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য তাহমিনা সুলতানা বলেন, নির্বাচিত নারী সদস্য হিসেবে আমাদের যে সব সুযোগ দেবার কথা ছিল সরকার তা দেয়নি। সরেজমিন পরিদর্শনে সোন্দলপুর, অশ্বদিয়া, বাটইয়ার অনেক নারী সদস্যই জানান তাদের কী কী দায়িত্ব রয়েছে।
সোন্দলপুরের নারী সদস্য ফেরদৌস সুলতানা বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আমাদের রাখা হয় ঠিকই। কিšদ আমাদের মতো বা সিদ্ধান্ত দেবার ক্ষমতা থাকে না। কোনো প্রকল্প এলে চেয়ারম্যান আর মে£^াররা মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়।
তারপর কাগজপত্রে ঠিক রাখার জন্য আমাদের মিটিংয়ে ডাকে। কিšদ কে কী কাজ করবে তা পুর”ষ সদস্যরা আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন বলেও তিনি বলেন।

নারী সদস্যদের যোগ্যতা :সরেজমিন আলাপে দেখা যায় অধিকাংশ নারী সদস্যই খুবই কম শিক্ষিত। সাত জন নারী সদস্যদের মধ্যে একজন বিএপাশ, দুজন এসএসসি পাশ, বাকিরা পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পাশ। অনেক সদস্যই শুধু স্বাক্ষর করতে পারেন। এতে করে অনেকে ঠিকমত অনেক দরকারি কাগজপত্রও পড়তে পারেন না।

নারী সদস্যদের কাজের আগ্রহ :প্রত্যেক নারী সদস্যই কাজ করতে চায়। কাজ করার ব্যাপারে প্রত্যেকের আগ্রহও আছে। সোন্দলপুর ইউপির নারী সদস্য তাহমিনা বলেন, আমরা তো ভোটে জিতে এখানে এসেছি। আমরা কাজ করতে চাই। নইলে আমরা আবার মানুষের কাছে কিভাবে যাব। কিšদ দেখা গেছে অনেক নারী সদস্যই তেমন কোনো কাজ করতে পারেনি। যেটুকু কাজ করছে তা ভিজিএফ, ভিজিডি কার্ড বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

রাজনৈতিক প্রভাব: নারী সদস্যদের বেলায়ও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করে। বাটইয়া ইউনিয়নের নারী সদস্য তৈয়বুর নেছার কাছ থেকে জানা যায়, তার স্বামী বিএনপি করেন এ জন্য গত সরকারের আমলে কোনো কাজ পাননি। কিšদ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আর পরিষদেও যান না। কিšদ তার স্বামী যেহেতু ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তাই তার স্বামী যে কোনো কাজ মন্ত্রীর থেকে পাশ করিয়ে আনে। আবার সোন্দলপুর ইউনিয়নের নারী সদস্য পরানী বলেন, এলাকায় কাজ করতে গেলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটে। যে কোনো কাজ করতে গেলে স্থানীয় বিভিন্ন দলীয় লোকজনকে টাকা দিতে হয়। নইলে কাজ করা যায় না।

সরকারি প্রকল্প বন্টন: সরকারি প্রকল্প বন্টনে নারী সদস্যদের ঠকানো হয়। সোন্দলপুরের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম বলেন, সরকারি বরাদ্দ তেমন আসে না। যা আসে তা পর্যায়ক্রমে সদস্যদের ভাগ করে দেওয়া হয়।
কিšদ অধিকাংশ সদস্যদের ভাষ্য তাদের ঠিকমত বন্টন করে দেওয়া হয় না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন নারী মে£^ার বল]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721575 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721575 2007-07-19 14:57:18
স্থানীয় সাংবাদিকতায় সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপ : তৃণমূল স্তরে সুশাসন ব্যাহত
সংবাদপত্রকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তৃণমূলে কতখানি গণতন্ত্র চর্চা হচ্ছে, গণতন্ত্র চর্চায় কি কি প্রতিবন্ধকতা রয়েছে জনগণ সরকার থেকে কি ধরণের সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যা ও তার সমাধান কি হতে পারে এ সকল কিছুই উঠে আসে স্থানীয় সংবাদপত্রে।
মূলতঃ স্থানীয় সংবাদপত্র শাসক গোষ্ঠী ও জনগণের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কিšদ স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশেও রয়েছে বিবিধ সমস্যা।
বৈষম্যহীন সমাজ, সুষ্ঠু সমন্বিত উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিকতার প্রয়োজন অপরিহায্য। স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার বিকল্প ও সংবাদপত্র প্রকাশনায় গতিশীলতা বৃদ্ধি সুশাসন নিশ্চিত করার জন্যে অপরিহার্য।
যে কোন ধরণের ধারণার চর্চা করতে হয় তৃণমূল থেকে। মফস্বলে অবস্থান করছে আমাদের তৃণমূল সমাজ। সুষম বন্টন ব্যবস্থায় কোন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া আমাদের দেশে গড়ে না উঠায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী তৃণমূল সমাজ তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এভাবে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, সহকারি, বেসরকারি অসহযোগিতা, শিক্ষার অভাব, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারণে প্রতিনিয়ত লঙ্ঘিত হচ্ছে মানবাধিকার। চর্চা হচ্ছে না গণতন্ত্রের। অথচ দেশ এখন গণতান্ত্রিক শ্লোগানে মুখরিত। জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে সুশাসন থেকে।
স্থানীয় সকল সমস্যা একমাত্র সংবাদপত্রই প্রকাশ করতে পারে। সংবাদপত্রকে মনে করা হয় জনগণের সদাজাগ্রত লোকসভা বলে। গণতান্ত্রিক দেশে জনগণের সুশাসন প্রাপ্তির অধিকার যেমন রয়েছে তেমনি সংবাদপত্র এ বিশাল জনবসতির সাথে মহামিলন ঘটিয়ে দিতে পারে। স্থানীয় সংবাদপত্র পারে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে। সরেজমিন পরিদর্শন, সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপে জানা যায়, স্থানীয় সংবাদপত্রও এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। এ ব্যর্থতার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্থানীয় পত্রিকার ডিক্লারেশনে সমস্যা, আর্থিক দৈন্যতা, বিজ্ঞাপন প্রাপ্তিতে সমস্যা, প্রশাসনের অসহযোগিতা, দক্ষ সংবাদকর্মীর অভাব, ব¯দনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা, রাজনৈতিক ও প্রভাবশালীদের চাপ, ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে পত্রিকা প্রকাশ করা ইত্যাদি। সরকার ও সচেতন মহল স্থানীয় সংবাদপত্র প্রকাশে যথাযথ সহযোগিতার হাত বাড়ালেই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংবাদপত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে সকল মহলের ধারণা।

নোয়াখালীর সংবাদপত্র: নোয়াখালী জেলার সংবাদপত্রের ইতিহাসে দেখা যায়, স্থানীয় সংবাদপত্র জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠায় কত বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ১৮৭৪ সালে বৃটিশ শাসিত ভারতবর্ষে থাকা অবস্থায় নোয়াখালী অঞ্চলের লোকজন ‘ঢাকা প্রকাশ’ নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নিলেও আর্থিক সহযোগিতা না পাবার কারণে সংবাদপত্রটি শেষ নাগাদ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। নোয়াখালী থেকে প্রথম প্রকাশিত পত্রিকার নাম সাপ্তাহিক ‘পূর্ব বঙ্গবানী’। ১৮৮৮ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায় প্রকাশের মাত্র চার বছরের মাথায়।
স্বাধীনতাপূর্ব বৃটিশ আমলে,পাকিস্তান শাসনামলে এ জেলায় প্রচুর সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোর প্রায় সবগুলোই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। স্বাধীনতার ৩০ বছরের মধ্যেও নোয়াখালীতে প্রচুর সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েছে। কিšদ তার অনেকগুলোই বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহত্তর নোয়াখালী জেলার সংবাদপত্র প্রকাশনার ধারাক্রমটিকে মোট চার পর্বে ভাগ করা যায়। প্রথমতঃ বৃটিশ শাসনকাল- সংবাদপত্র বিকাশের সূচনাপর্ব। দ্বিতীয়তঃ পাকিস্তান শাসনামল পর্ব। তৃতীয়তঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীকাল। চতুর্থতঃ নতুন জেলাভিত্তিক প্রশাসনিক বিন্যাস পরবর্তী।
ডিক্লারেশন: নজরানা যেন ফাইলের জীবনিশক্তি: জাতীয় পত্রিকাসমূহে স্থানীয় সংবাদ কম আসে বলে স্থানীয় জনসাধারণের দুঃখ দুর্দশা, শোষণ-বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরার জন্যে স্থানীয় পত্রিকার আত্মপ্রকাশ। কিšদ স্থানীয় পত্রিকার ডিক্লারেশন পেতে অনেক খড়কাঠ পোহাতে হয়। এর জন্যে প্রথমে জেলা প্রশাসক বরাবরে দরখাস্ত করে ডিএফপি থেকে পত্রিকার নামে ছাড়পত্র আনতে হয়। এরপর ডিএসবি, এসপিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন টেবিল ঘুরে পত্রিকার ডিক্লারেশন ফাইল আলোর মুখ দেখে। কিšদ টেবিলে টেবিলে ফাইল চালনা করতেই সমস্যা হয় সবেচেয়ে বেশি। পত্রিকা ডিক্লারেশনের জন্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষ প্রদান করতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে এ ব্যাপারে যোগাযোগ হলে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।

পত্রিকা প্রকাশনায় ইচ্ছে আছে, অর্থ নেই: ম্যাসলাইন মিডিয়া সেন্টারের একদল কর্মীবাহিনী নোয়াখালীর বিভিন্ন সংবাদপত্র কার্যালয় পরিদর্শন করেন। পরিদর্শক দল পত্রিকার সম্পাদক, মালিক এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কথা বলেন। এ পরিদর্শনকালে যে তথ্যটি বেরিয়ে আসে তাহল, সকল পত্রিকার সম্পাদকদেরই পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছে আছে কিšদ তারা আর্থিক দৈন্যতার কারণে পত্রিকা প্রকাশ করতে পারছেনা। সরকারি বেসরকারি বিজ্ঞাপন না পাওয়ার কারণে অনেক পত্রিকাই বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি পত্রিকা এখনো টিকে আছে সেগুলোর অধিকাংশই সম্পাদকদের নিজ পকেটের টাকায় ছাপা হয় বলে জানান নোয়াখালী কন্ঠের সম্পাদক।
অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ সংবাদকর্মীদের কোন সম্মানী দিতে পারে না ফলে সংবাদকর্মীরা এ পেশা ছেড়ে দিয়ে বিকল্প পেশায় চলে যায়। অবশ্য যথাযথ সম্মানীছাড়া যে কেন কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করাও ঠিক নয়। তাই জীবনের তাগিদে তারা অন্য পেশায় যুক্ত হয়। এতে করে স্থানীয় সংবাদগুলো প্রশিক্ষিত সংবাদকর্মী পায় না। পত্রিকা প্রকাশের জন্যে অর্থনৈতিক যোগান অবশ্যই দরকার সেজন্যে ডিএফপি কেন্দ্রীয়ভাবে বিজ্ঞাপন বন্টন বন্ধ করে স্থানীয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া উচিত।

মালিক যিনি সম্পাদক-সংবাদকর্মীও তিনি: স্থানীয় পত্রিকাকে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সচল রাখার জন্যে যে পরিমাণ দক্ষ লোকবল প্রয়োজন সেটি একেবারে নেই বললেই চলে। নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত অধিকাংশ পত্রিকার সাথে যুক্ত রয়েছে কিছু তরুন। যারা সাংবাদিকতার দায়িত্ব ও লেখালেখির দক্ষতা সম্পর্কে তেমন কোনো অভিজ্ঞতাই রাখেন না। কোনরূপ প্রশিক্ষণ ছাড়া একসময় এ রকম লিখতেন মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, সমাজের নানা ধরণের মানুষের সাথে বাস করতে গিয়ে যে ঘটনাটি আমার কাছে অ-স্বাভাবিক মনে হতো সাধারণতঃ সেই ঘটনা দিয়ে রিপোর্ট তৈরি করতাম। তাছাড়া সংবাদ লেখার আলাদা কাঠামো আছে, লেখার কৌশল আছে এ ধরণের কোন ধারণাও রাখতাম না। সাংবাদিকতার মাধ্যমে যে একটি মহৎ কাজ সম্পন্ন হয় সে কথা আজকে অনেকেই বিশ্বাসই করে না। প্রত্যেকে এ সকল কাজকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে দেখে। চৌমূহনী থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক পূর্বশিখার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন বলেন, কিছু আগ্রহী তরুন খুব আগ্রহ নিয়ে মাঝে মধ্যে লেখালেখি শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত আমরা আর্থিক দৈন্যতার কারণে তাদেরকে যথাযথ সম্মানী দিতে পারিনা বলে পরবর্তীতে তারা অন্য যে কোন পেশায় চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক বলেন, স্থানীয় পত্রিকাগুলো সাধারণত দু’একজনের তত্ত্বাবধানে প্রকাশিত হয়। পত্রিকায় নামকা ওয়াস্তে দু’একজনের নাম ব্যবহারই হয় মাত্র। কার্যত একজন ছাড়া বাকী কেহ প্রকাশনায় যুক্তও থাকেনা। এতে সম্পাদক যিনি সংবাদকর্মীই তিনি। আবার সংবাদকর্মী যিনি মালিকও তিনি।

স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন, অযথা খরচ: পত্রিকা প্রকাশের জন্যে প্রয়োজন আর্থিক সঙ্গতি। আর এ আর্থিক স্বচ্ছলতার একটি উপায় সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞাপন। কিšদ স্থানীয় পত্রিকার জন্যে প্রচলিত বিজ্ঞাপন নীতি রয়েছে তা খুবই বৈষম্যমূলক। বেসরকারি বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সমস্যা। স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ শিল্প কারখানা না থাকার কারণে বেসরকারি অবস্থান থেকেও তেমন কোন বিজ্ঞাপন পাওয়া যায় না। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী কন্ঠ সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বাচ্চু বলেন, বেসরকারিভাবে যাদের দুএকটি কল কারখানা আছে তারা মনে করে স্থানীয় পত্রিকার পাঠক কম। কম মানুষই স্থানীয় সংবাদপত্র পড়ে। তাই স্থানীয় সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিলে তাদের প্রচার-প্রসার কম হবে ভেবে তারা জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রদানকে তারা অযথা খরচ বলে মনে করেন। সাপ্তাহিক ফয়সালা পত্রিকার সম্পাদক আবু জাফর বলেন, ‘সরকারি পর্যায় থেকে স্থানীয় পত্রিকাগুলো যে ছিঁটেফোটা বিজ্ঞাপন পায় তাতে তেমন একটা সাশ্রয় হয় না।’ সরকারি দুএকটি বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলেও বিজ্ঞাপনের বিল প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পত্রিকাগুলো বাঁচিয়ে রাখতে হলে স্থানীয় বিজ্ঞাপনগুলো স্থানীয় পত্রিকায় দেওয়া উচিত। স্থানীয় পত্রিকার সাথে যেহেতু আম জনতার জীবন জীবিকার যোগসূত্র থাকে তাই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠানটির সাথে জনতার মিলন অটুট রাখার জন্যে স্থানীয় সংবাদপত্রও অত্যাবশ্যক।
অমুক ভাইয়ের সংবাদ ছাপা যাবেনা: সাংবাদিকরা অনেক সময় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও প্রশাসনিক দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ছাপার ফলে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল প্রশাসন কর্তৃক হুমকির সম্মুখীন হতে হয়। বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে এমন অনেক ঘটনা আছে বলে বিভিন্ন মহলের সাথে আলাপকালে জানা যায়।
ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির কথা পত্রিকায় প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকরা নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ থানার বসুরহাট পৌরসভার চেয়ারম্যান আঃ কাদের মীর্জার রোষানলে পড়তে হয়। তিনি জনসম্মুখে সাংবাদিকদের গালিগালাজ করেন। এমনকি তার দুর্নীতির বিষয়ে লেখার ফলে অনেক সাংবাদিককে এলাকা ছেড়ে ফেরারী জীবন যাপন করতে হয়। এছাড়াও ফেনীতে সত্য ও ব¯দনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করার অপরাধে সাংবাদিকদের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি এ সকল গোষ্ঠীর চাপে কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দিতে হয়। একই ঘটনা ঘটে লক্ষ্মীপুরে। সেখানে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান বিভিন্ন দুর্নীতি, অন্যায়, নির্যাতন, খুন ইত্যাদির কথা স্থানীয় সাংবাদিকরা পত্রিকায় তুলে ধরলে তিনি তৎকালীন একজন মন্ত্রীর সামনে জনসম্মুখে সাংবাদিকদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকি দেন। এ প্রসঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় একটি পত্রিকার সম্পাদক আফতাব উদ্দিন বাচ্চু বলেন, স্থানীয় পত্রিকার কোন সংবাদ ছাপাতে হলে স্থানীয় গড ফাদারদের অনুমতি নিতে হয়। কোন সংবাদটি ছাপানো যাবে কোনটি যাবে না তা স্থানীয় টাউটরা সম্পাদকদের পরামর্শ দেন। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এ সকল কথা উপেক্ষা করার কারণে একটি রাজনৈতিক দলের সন্ত্রাসীরা তার পত্রিকা অফিসে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। হুমকি, ভীতি, রাজনৈতিক চাপ ইত্যাদি কারণে জাতীয় ও স্থানীয় পত্র পত্রিকায় গ্রামের খবর প্রবাহের হারও খুবই নগন্য।

প্রশাসন ভাবে সাংবাদিক নয় যেন গোয়েন্দা: সাংবাদিকরা স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ সহযোগিতা পায় না। প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের ডাকার নিয়ম থাকলেও তাদের তেমন একটা ডাকা হয় না। আবার অনেক সময় প্রশাসন কেবল ক্ষমতাসীন দলের সমর্থনকারী সাংবাদিকদের ডাকে। এছাড়াও সাংবাদিকরা প্রশাসনের কাছ থেকে কোনরূপ তথ্য চাইলেও তারা দিতে চায়না। সাংবাদিকদের কোন প্রকার তথ্য প্রদান করা হলে তাদের বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়ে যাবে এ ধারণা থেকে তারা কোন তথ্য দেয় না। এছাড়াও প্রশাসনের বিভিন্ন অনিয়মের কথা সংবাদপত্রে প্রকাশ করার অভিযোগে অনেক সাংবাদিককে অতীতে মামলা ও গ্রেফতার বরণ করতে হয়েছে। প্রশাসনে যে কোন তথ্যের জন্যে গেলে তাদের সোজা কথা উপরস্থ অনুমতি ছাড়া দেওয়া যাবে না। এ প্রসঙ্গে সমাজকর্মী মামুনুর রশিদ বলেন, সাংবাদিকরা প্রশাসন ও জনগণের মাঝে মাধ্যম হিসেবে কাজ করতে পারে এবং প্রশাসনের তাই মনে রাখা উচিত। কিšদ তারা সাংবাদিকদের সাংবাদিক মনে না করে গোয়েন্দা মনে করে। এতে করে জনজীবনে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অনেকাংশে ব্যাহত হয়।

সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ যেন মালিকের অপচয়: সারাদেশে সাংবাদিকের সংখ্যার তুলনায় দক্ষ সাংবাদিকের পরিমাণ অত্যন্ত কম। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকরা দক্ষতা উন্নয়নের জন্যে তেমন কোন প্রশিক্ষণের সুযোগ পায় না। আর এই অদক্ষতা জন্যেই স্থানীয় সাংবাদিকরা সংবাদমূল্য নির্ধারণে অনেকাংশে ব্যর্থ হন। ফলে সংবাদ হওয়ার মত সংবাদও যথাযথভাবে উপস্থাপন হয় না। দৈনিক মাতৃভূমি নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি মিরন মহিউদ্দিন জানান, তৃণমূল পর্যায়ে প্রাত্যহিক জীবনে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, উন্নয়ন বিষয়ক হাজারো ঘটনা ঘটছে। আবার অনেক সুপ্ত ঘটনাই আছে যেগুলোর সাথে বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। কিšদ প্রশিক্ষিণের অভাবে বর্তমানে অনেক সংবাদকর্মীই সে সকল ঘটনাকে এড়িয়ে চটক সংবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সাংবাদিকতার রয়েছে বিশাল ভূমিকা। এমন ঘটনাই আছে যেগুলো সংবাদপত্রে প্রকাশের পর জনগণ তার প্রতিকার পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রশিক্ষিত একজন সংবাদকর্মী বলেন, নোয়াখালীর স্থানীয় সংবাদপত্র লোক সংবাদ কোম্পানীগঞ্জে চর দখলকারীরা ৯টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, রায়পুরে মাছ ঘাট, বয়ারচরের উপর অনুসন্ধানী প্রতিবেদকমূলক সংবাদ প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট সাধারণ মহল এ বিষয়ে প্রতিকার পেয়েছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষও তাদের প্রতি দৃষ্টি দিয়েছে। তাই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় সংবাদের রয়েছে শক্তিশালী অবদান। কিšদ অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের অভাবে স্থানীয় সংবাদ পত্র-পত্রিকায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে জনগণ, সংবাদপত্র ও প্রশাসনের সাথে সম্পর্কের প্রকৃতি যেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কিত ধারণার অভাব রয়েছে। সেই সাথে সমাজের সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে জ্ঞান ও পেশাগত দক্ষতার অভাবে সংবাদপত্রগুলো স্থানীয় জনতার দুঃখ দুর্দশা ও চাওয়া পাওয়ার মুখপাত্র হয়ে উঠছে না। জনগণও সে কারণে স্থানীয় সংবাদপত্রের মুখাপেক্ষী হয়ে উঠছে না।
স্থানীয় কিছু উৎসাহী যুবক সাংবাদিক পরিচয়ে আনন্দবোধ করে বলে তারা স্থানীয় পত্রিকাদির সাথে জড়িত থাকে। কিšদ তাদের কোন প্রশিক্ষণ নেই। ফলে সংবাদপত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ উঠে আসে না। যদি সংবাদকর্মীদের প্রশিক্ষণ থাকতো এ সমস্যা হতো না। এ সমস্যা সমাধানের জন্যে পিআইবিসহ দু’একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা মাঝে মধ্যে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের জন্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। এ ধরণের প্রশিক্ষণের জন্যে যে পরিমাণ অর্থ দরকার তা স্থানীয় অনেক পত্রিকারই নেই। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠান পত্রিকার অর্থ যোগান দেবার সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নের প্রশ্নে তারা অনীহা দেখায়। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালীতে কর্মরত একটি জাতীয় পত্রিকার প্রতিবেদক বলেন, সংবাদকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নে অর্থ খরচ করাকে মালিকপক্ষ অহেতুক অপচয় বলে মনে করে।

পত্রিকা নয় যেন তোষামোদ নামা: সংবাদপত্রকে জনমানুষের মহামিলন কেন্দ্র বলা হলেও কিছু কিছু স্থানীয় সংবাদপত্র মাঝে মাঝে শিল্পপতির বায়না বা তোষামোদ করে প্রকাশিত হয়। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক মিরণ মহিউদ্দিন বলেন, আসলে এজন্যে আর্থিক দৈন্যতাই দায়ী। অর্থাভাবে সম্পাদক পত্রিকা প্রকাশ করতে অপারগ হলে কোন বিশেষ ব্যক্তির দ্বারস্থ হন। আর সে ব্যক্তির নিকট থেকে কোন প্রকার সাহায্য পেল তার পক্ষে হয়ত দু’এক কলম ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721424 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721424 2007-07-18 11:43:28
প্রান্তিক কৃষক ও ব্যবসায়ীরা শোষণের শিকার
উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় ও মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের প্রভাবে প্রান্তিক কৃষক তথা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত অর্থ ও শ্রম শোষণের শিকার হচ্ছে।
সমাজের মূল জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় না রেখে বুর্জুয়া বাজার নীতি অনুসরণ করার কারণে প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মোকাবেলা করতে করতে অবশেষে ব্যবসা থেকে সরে আসছে। অন্যদিকে পুঁজিপতিরা ক্রমশ: পুঁজির পাহাড় গড়ে তুলছে। সুষ্ঠু, সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও পণ্য বিপনণ নীতির উন্নয়ন ও বাস্তবায়নই পারে এ সমস্যার মোকাবেলা করতে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। বাজার আধুনিক অর্থব্যবস্থার প্রাণকেন্দ্র। বাজারকে ঘিরেই অর্থনৈতিক কর্ম প্রবাহ আবর্তিত হয়। কৃষি নির্ভর অর্থনীতির সাথে যে বিষয়টি ওতোপ্রতোভাবে জড়িত তার নাম কৃষি বাজার । উৎপাদিত দ্রব্য কৃষকের কাছ থেকে ভোগকারীর নিকট পর্যন্ত পৌঁছার জন্যে বাংলাদেশে নানা রকম বিপনণ ব্যবস্থা রয়েছে। এ সকল বিপনণ ব্যবস্থাকে হাট, গঞ্জ ও বাজার নামে অভিহিত করা হয়।

হাট: এ বিপনণ কেন্দ্রে বিক্রেতা মূলত: কৃষক। কৃষক তার নিজস্ব উৎপাদিত দ্রব্য সামগ্রী এখানে নিয়ে আসে এবং বিক্রি করে। কৃষকের উৎপাদিত যাবতীয় দ্রব্য সামগ্রী হাটে বিক্রি করার পেছনে যে যুক্তিটি কাজ করে তা মূলত প্রয়োজন। ‘অভাব অনটন আমাদের নিত্য দিনের সাথী। তাই আমরা আমাদের উৎপাদিত ফসল বেশি দিন ধরে ঘরে তুলে রাখতে পারি না। ফসল আসার সাথে সাথে আমরা তা বিক্রি করে ফেলি’। এ কথাগুলো বললেন বড় রামদেবপুর গ্রামের মোঃ আজিম মিয়া। সরজমিনে পরিদর্শনে আরো দেখা যায়, প্রান্তিক কৃষক তাদের কোন না কোন প্রয়োজনে নিজের উৎপাদিত ফসল নামে মাত্র দামে বিক্রি করে ফেলে। এতে করে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হয়। এ সকল হাট সাধারণত: প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত। যেখানে কৃষক সরাসরি উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী নিয়ে আসেন। গ্রামের সাধারণ মানুষ এ সকল পণ্যের ক্রেতা হলেও মূলত: গঞ্জের দালাল, ফড়িয়া শ্রেণীই এ সকল বাজারের বড় ক্রেতা।
এ সকল হাটে পণ্যের মূল্য নির্ধারিত হয় অতি তুচ্ছ মূল্যে। একজন কৃষক হিসেব কষে এক মন শশা উৎপাদন করতে বীজ, সেচ, সার সব মিলিয়ে ৩২০ টাকা খরচ হয়েছে। তাই কৃষক সামান্য লাভে একমন শশা ৪০০ টাকা বিক্রি করে ফেলে। কিšদ এ শশা উৎপাদনে যে জমি ব্যবহার করতে হয়েছে, কৃষককে কায়িক শ্রম দিতে হয়েছে কৃষক সকল হিসেব কষে না। ফলে আমাদের কৃষকরা সর্বদাই তাদের শ্রমের দাম থেকে বঞ্চিত হয়। আর তাদের এ শ্রমকে পুঁজি করে জীবন চালিয়ে যায় মধ্যস্বত্বভোগীরা।

গঞ্জ: গ্রামের ছোট ছোট হাট থেকে সামান্য দামে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী কৃষি দ্রব্যসমূহ কিনে নিয়ে আসে এবং এখানে বিপনন করে। এ বিপনণ কেন্দ্রটি মূলত: মধ্যস্বত্বভোগীদের দখলেই থাকে। এসব মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরা হাটে কৃষকদের নিকট হতে অল্প দামে কৃষিজাত পণ্য ক্রয় করে এখানে এনে তা উচ্চদামে বিক্রি করে। এ সমস্ত মধ্যবর্তী ব্যবসায়ীরা, দালাল, ফড়িয়া, আড়তদার, ব্যাপারী প্রভৃতি নামে পরিচিত। এ সমস্ত ব্যবসায়ীরা কৃষকদের/প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের অসুবিধাগুলোকে পুঁজি করে তাদেরকে পণ্যের ন্যায্য দাম হতে বঞ্চিত করে।

বাজার: এখানে প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের কোন অস্তিত্বই থাকে না। এখানে বড় ব্যবসায়ীরা কৃষিজাত দ্রব্যসমূহ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ক্রয় করে এবং মধ্যস্বত্ত্বভোগীরাই হয়ে থাকে তাদের যোগান দাতা। একজন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য গ্রামের হাটে বিক্রি করার সময় মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের প্রতারণায় তার শ্রম মূল্য থেকে বঞ্চিত হলেও এ বাজারে পণ্য বিক্রির সময় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা একটি দ্রব্যের দামের সাথে কৃষকের শ্রম, ভূমির কর সব কিছুর দাম উঠিয়ে নেয়। সে ক্ষেত্রে কৃষকের শ্রমে দাম পায় দালাল আর কৃষক আবারো আর্থিকভাবে শোষিত হবার প্যাকেট পণ্য পায়। এ বাজারে কোন বিনিময় কিংবা প্রয়োজনে কাজ করে না। এ বাজারে একটাই উদ্দেশ্য তা হল মুনাফা। মুনাফা থেকেই জন্ম নেয় লোভ, লালসা, মানবাধিকার লঙ্ঘন করার একটি অঙ্কুর।

বিক্রির ধরণ>বিক্রিত পণ্য>কিভাবে বিক্রি হয় : সরজমিন পরিদর্শনে এ তিন রকম বাজারে তিন ধরনের বিক্রির ধরণ খেয়াল করা যায়। সোন্দলপুর ইউনিয়নের আব্দুল্লামিয়ারহাট একটি গ্রামীণ হাট। এ বাজারে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি আলু বিক্রি হয়। মিষ্টি আলুর মৌসুমে দেখা যায় এখানে “োরছে আলু বিক্রি হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকরা বাজারের সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে ২/৩ কেজি করে বিক্রি করছে। অন্যদিকে শহরের বা থানা সদরের গঞ্জ থেকে কিছু মধ্যস্বত্বভোগীরা আসে এবং তারা একসাথে অনেকগুলো আলু কিনে নেয়। এ ক্ষেত্রে অনেক সময় আলু ওজন করা হয় না। মধ্যস্বত্বভোগীরা প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের থেকে একসাথে সবগুলো আলুগুলো কিনে নিয়ে যায়। এখানে সাধারণ ভোক্তারা সহজলভ্য দ্রব্য ক্রয়ে ব্যর্থ হয় আর শিকার হয় অর্থ শোষণের মুখোমুখি।
এ আলুগুলো পরবর্তীতে গঞ্জে আসে। গঞ্জের সাধারণ ক্রেতার পাশাপাশি বড় বড় ব্যবসায়ীরা ও থাকে। যাদের উদ্দেশ্য শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ করা। এ ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ০১ কেজি আলু প্রান্তিক ব্যবসায়ীর থেকে ক্রয়ে যেখানে ০৪ টাকা লেগেছে সেক্ষেত্রে গঞ্জের সাধারণ ক্রেতাদের থেকে ০১ কেজি আলু ৮/৯ টাকা বিক্রি করে। আর শিল্পের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে যারা আসে তারা মূলত: কয়েক মন আলু একসাথে কিনে নিয়ে যায়। তাদের কাছে বিক্রির সময় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা একজন প্রান্তিক ব্যবসায়ীর যাবতীয় খরচই উঠিয়ে নেয়। এতে করে শ্রম মূল্য থেকে প্রান্তিক কৃষক নিগৃহীত হলেও মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা হয়ে উঠে লাভবান।
ক্রেতা বিক্রেতা ধরণ: গ্রামের হাটে ক্রেতা বিক্রেতার ধরণ থাকে আন্তরিক। কেন না গ্রামের হাটের ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই হয় প্রান্তিক কৃষক। গ্রামের হাটে তারা নিজের উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি করে প্রয়োজনীয় অন্য কোন দ্রব্য ক্রয় করার জন্যে আসেন। তাও আরেকজন প্রান্তিক কৃষকের থেকে। তাই তাদের সম্পর্ক হয়ে থাকে আন্তরিক।
গঞ্জে ক্রেতা বিক্রেতার মাঝে সম্পর্ক থাকে কারবারী সম্পর্ক। এখানে ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ই হয় অপরিচিত এবং উভয়েই উদ্দেশ্য থাকে মুনাফা। ক্রেতা কাঁচামাল হিসেবে ক্রয় ইচ্ছুক পণ্য দ্রব্য ক্রয় করতে এখানে আসে আর বিক্রেতা হয় গ্রামের হাট থেকে প্রান্তিক কৃষক কিংবা ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে পণ্যাদি খরিদকারী সেই একই ব্যক্তি। যার স্বরূপ মধ্যস্বত্বভোগী হিসেবে গ্রামের প্রান্তিক উৎপাদক ও শিল্পের জন্যে কাঁচামাল সংগ্রহকারীর মাঝখানে এদের অস্তিত্বকে মধ্যস্বত্ব দালালী ফড়িয়া নামে আখ্যায়িত করা হয়।

মুনাফার পরিমাণ: গ্রামের হাটে প্রান্তিক কৃষক যে মূল্যে তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে সেখানে মুনাফার পরিমাণ থাকে একদম কম। গ্রামাঞ্চলে শীত মৌসুমে দেখা যায়, এক কেজি টমেটো ২ টাকা কেজি দরে পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এখানে একজন কৃষকের লাভ তো দূরের কথা প্রতি কেজিতে ৩/৪ টাকা করে ক্ষতিরও শিকার হতে হয় বলে জানান বাটইয়া গ্রামের মোঃ সৈয়দ আহম্মদ।
একটি পণ্য উৎপাদন করতে কাঁচামাল লাগে, জমি লাগে, যন্ত্রপাতি লাগে সেই সাথে শ্রম লাগে। তারপরই উৎপাদিত হয় পণ্য। একজন কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করার সময় যাবতীয় খরচাদির যোগ করলেও কখনো তার শ্রম মূল্য যোগ করে না। ফলে সর্বদা সে তার সঠিক মুনাফা অর্জন করতে পারে না।
কিšদ গঞ্জের মধ্যস্বত্বভোগীরা পণ্যের মূল্য নির্ধারণের সময় একজন প্রান্তিক চাষীর যাবতীয় খরচ তো ধরে সেই সাথে তার মুনাফার অংশও যোগ করে। তারপর সে পণ্যের বাজার দর নির্ধারণ করে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা তাদের নির্ধারিত দরে পণ্য বিক্রি করার ফলে পণ্যের যে উদ্বৃত্ত মূল্য বেরিয়ে আসে তাতে জড়িত একজন কৃষকের শ্রমের দাম ও মুনাফা। কিšদ মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে সর্বদাই আমাদের প্রান্তিক কৃষকরা এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

পণ্যের ব্যবহার: গ্রামের হাটে যে সকল পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা হয় তা মূলত ব্যক্তিগত কাজেই ব্যবহার করা হয়। এখানকার প্রত্যেক ক্রেতা গ্রামের পরিবার কর্তা। পরিবারের ব্যবহারের জন্যে এখান থেকে তারা পণ্যাদি ক্রয় করে।
গঞ্জে বিক্রিত পণ্য সাধারণত: মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা আরো বেশি মুনাফা লাভের আশায় গ্রামের হাট থেকে ক্রয় করে। সে অনুসারে তারা এগুলো গঞ্জে বিক্রি ও করে। এ সকল বিক্রেতার পণ্যাদি ক্রয়ের ক্রেতারা সাধারণ পুঁিজ হয়ে থাকেন। এখান থেকে পণ্য ক্রয় করে পরবর্তীতে তা আবার পুনরুৎপাদন করেন নতুন কোন দ্রব্যের মোড়কে।

পুনরুৎপাদিত পণ্য: গ্রামীণ হাট থেকে বিভিন্ন পণ্যাদি সংগ্রহ করে তা পরবর্তীতে পুনরুৎপাদন করে গ্রামের মানুষের কাছেই পৌঁছানো হয়। কথা হলো গ্রামের একজন ব্যবসায়ী আবুল খায়ের সাথে। তিনি বললেন, সরিষা মিলের মালিকরা গ্রামের হাট থেকে সরিষা সংগ্রহ করে। তা শহরের মিলে এনে সরিষা থেকে তৈল উৎপাদন করে আবার গ্রামে পাঠানো হয়। তারপর গ্রামের মানুষ এমনকি সরিষা উৎপাদনকারী কৃষক ও সে তৈল ব্যবহারের জন্যে খরিদ করে নিয়ে যায়।

পুনরুৎপাদন ও প্রান্তিক কৃষক: শুধু সরিষার তৈল নয় প্রত্যেক পুনরুৎপাদিত পণ্যের বাজারই মূলত: গ্রাম। গ্রামের হাট থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে আবার তা পুনরুৎপাদন করে গ্রামের মানুষের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এতে গ্রামের কৃষক শ্রেণী বার বার অর্থনৈতিক শোষণের মুখোমুখি হচ্ছে।
প্রথমত: একজন কৃষক কৃষি পণ্য উৎপাদনের সময় যে হারে খরচ যোগান দেন বিক্রি করতে গিয়ে সে হারে পণ্যের দাম পায় না। ফলে কৃষক হয়ে পড়ে উৎপাদনের প্রতি বিমুখ। আবার কৃষি পণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে যখন পুনরুৎপাদিত পণ্য গ্রামের হাটে পাঠানো হয় তখন সেই পণ্য ক্রয় করতে গিয়েও প্রান্তিক কৃষক অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হন। ফলে জীবন যাপনের জন্যে দ্বিতীয় বার অর্থের যোগান দিতে গিয়ে কৃষক ক্রমেই আর্থিক ক্ষতির চাকায় পিষ্ট হয়।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে যে নীতিমালা রয়েছে তাতেই রয়েছে যথেষ্ট সমস্যা। কৃষক কৃষিপণ্য উৎপাদন করে তা গ্রামের হাটে বিক্রি করে। সেখান থেকে দালাল, ফড়িয়া হয়ে তা আবার কোন না কোন দ্রব্য হিসেবে পুনরুৎপাদিত হয়ে কৃষকের হাতে ফিরে আসে। এতে সময় এবং অর্থনৈতিক দুই-ই দারুনভাবে ক্ষতির মুখোমুখি হয়। সময় যেমন বাড়ত তেমনি দেশের কৃষককুলও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হত।
যে এলাকায় সরিষা বেশি উৎপাদন হয় সেই এলাকায় যদি সরকার সরিষা তৈল কারখানা স্থাপন করতো তাহলে কৃষককে বার বার এ ক্ষতির মোকাবেলা করতে হতো না।
বার বার এ ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার কারণেই কৃষক উৎপাদনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। যে অঞ্চলে যে পণ্য বেশি সে অঞ্চলে সে পণ্যকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে শিল্প কারখানা গড়ে তোলা উচিত বলে মন্তব্য করেন মাহবুবুল আলম দুলাল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721372 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721372 2007-07-17 21:52:32
গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থায় নানামুখী সংকট সরকার ১৯৯০ সালের ১৩ ফেব্র“য়ারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক আইন পাশ করে। ১৯৯২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সারা দেশে এ কর্মসূচি একযোগে চালু হয়। এ আইনের মাধ্যমে ৫ থেকে ১১ বছরের শিশুদের বিদ্যালয়ে গমন বাধ্যতামূলক করা হয়। দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যাতে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সে জন্য সরকার শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করে। সরেজমিন আলাপে অনেকে অভিমত দেন বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা একটি কাগুজে ঘোষণা। সরকার প্রয়োজনীয় উপকরণ, শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনসংখ্যা বিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট দারিদ্র্যের জন্য সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করতে পারছে না বলে সাধারণ মানুষের ভাষ্য থেকে জানা যায়। তবে এ প্রসঙ্গে কবির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইকতেয়ার উদ্দিন বলেন, শিক্ষা সংস্কারের জন্য নানা কর্মসূচির সাফল্য প্রবক্তাদের আশানুযায়ী কখনোই অর্জন সম্ভব হয়নি। গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি ও বেসরকারি রেজিষ্টার্ড, নন রেজিষ্টার্ড, মক্তব, হাফেজিয়া ও ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং উপানুষ্ঠানিকসহ চতুমাত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে।
যা সুষ্ঠু শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য কাম্য নয়
প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিটি শিশুর জীবন ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় বুনিয়াদি শিক্ষা নিশ্চিত করে এবং পরবর্তীকালে জীবন ধারণের ভিত্তি রচনা করে।
প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে এমসিসি (ম্যানোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি) বানদত্ত শাখার ব্যবস্থাপক যুগল কিশোর দাস বলেন, তুরস্ককে এক সময় ইউরোপের রুগ্ন দেশ বলা হত। অথচ ব্রিটিশ শাসনের পর মাত্রা বিশ বছরের মধ্যে তুরস্কের শিক্ষার হার দাঁড়িয়েছে শতকরা ৬০-এ। ফলে সে দেশের অর্থনেতিক চিত্রের বদল হয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের ত্রিশ বছর পরও আমাদের প্রাথমিক শিক্ষায় বহু সমস্যা বিদ্যমান বলেও তিনি জানান।
সরেজমিন পরিদর্শন ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়, সীমাহীন অনিয়ম ও নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে সুধারাম থানার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। সরকার বিদেশী ফর্মূলা মোতাবেক আমাদের দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ক্যারিকুলাম চালু করলেও সে অনুপাতে শিক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ করতে পারেনি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রের স্বল্পতার কারণে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায় প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে চেয়ার, টেবিল ও ছাত্রছাত্রীদের বসার বেঞ্চের অভাব লক্ষণীয়। একটি লম্বা বেঞ্চে তিনজন ছাত্রছাত্রী বসার কথা থাকলেও সেক্ষেত্রে চার/পাঁচ জন করে ছাত্রছাত্রী বসে। ফলে স্বাভাবিক পাঠদান যেমন ব্যাহত হয় তেমনি গাদাগাদি করে বসার ফলে অনেক ছাত্রছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।
শিক্ষক স্বল্পতাও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি বড় সমস্যা। বিদ্যালয় সমূহে ৬০ঃ১ অনুপাতে শিক্ষক থাকার নিয়ম থাকলেও কোনো বিদ্যালয়েই সে অনুপাতে শিক্ষক নেই। বানদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী অনুপাতে শিক্ষক দরকার আট জন। কিন্তু শিক্ষক রয়েছে পাঁচ জন। ফলে প্রয়োজনীয় শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা বেবী রানী পাল বলেন, আমরা সবাই মিলে বিরতি ছাড়া এক নাগাড়ে ক্লাস নিলে পাঠদানের সমস্যা সমাধান করা যায়। কিন্তু আমাদের যে পরিমাণ সরকারি কাজ করতে হয় সেগুলো করতে হিমশিম খেয়ে যাই। শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির তালিকা তৈরি, বিভিন্ন ধরণের চারুকারুর কাজ ও সরকারি অন্যান্য কাজ করতে একজন শিক্ষককে পুরোমাস অফিসে বসে থাকতে হয়। ফলে একজন শিক্ষক মত ইচ্ছে থাকা স্বত্ত্বেও ক্লাস নিতে পারেন না বলে তিনি জানান।
মাকু চৌধুরী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফ বলেন, শিক্ষকদের ওপর ম্যানেজিং কমিটির প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রমেরএকটি অন্তরায়। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের অনেক সদস্য গম পাওয়ার অযোগ্য অনেক ছাত্রছাত্রীদের কার্ড দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের অবৈধভাবে চাপ দেয় অথবা প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ফলে কোথাও কোথাও শিক্ষক এবং ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্বের সূচনা হয়। এ সকল দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা ব্যাহত হয় বলে তিনি জানান।
গ্রামের অনেক শিক্ষকের শিক্ষকতা ছাড়াও অন্য পেশায় জড়িত থাকতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে হাজির হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, শিক্ষকদের যে বেতন ভাতা দেওয়া হয় তাতে অনেক শিক্ষক সংসারের খরচের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। ফলে শিক্ষকরা অন্য পেশায় জড়িত হয়।
প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হলেও গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশু বিদ্যালয়ে আসে না। নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ফলাহারী গ্রামের অভিভাবক আবুল খায়ের মিয়া বলেন, শিশুদের বিদ্যালয়ে না আসার প্রধান কারণ দারিদ্র্য এবং অভিভাবকদের মাঝে মান্ধাতার আমালের ধারণা। অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের নিজের কিংবা অন্যের শ্রমে নিয়োজিত করে। পড়ালেখা শিখিয়ে কি লাভ, এ ধারণা পোষণ করে অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠায় না। শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য সম্পর্কে আবুল খায়ের মিয়া বলেন, শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে অভিভাবক ও ছাত্রছাত্রীদেরও নৈতিকতার মৃত্যু ঘটেছে। কারণ এ প্রকল্প চালু হওয়ায় বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা পরিষদের মধ্যে দুর্নীতি আশ্রয় নিয়েছে। তিনি ছাত্রছাত্রীদের গম কিংবা উপবৃত্তি না দিয়ে তাদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করতে সুপারিশ করেন। আগের তুলনায় বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান সবদিক দিয়ে ভালো বলে মন্তব্য করেন অশ্বদিয়ার বদরপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান চৌধুরী। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উপকরণের অভাব, শিক্ষক স্বল্পতা, শিক্ষকদের দায়িত্বে অবহেলা এবং কিছু শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকায় শিক্ষার মান কমছে। প্রাথমিক স্তরে গ্রাম ও শহর এবং সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার বিদ্যমান সমস্যাসমূহ সমাধান করলে গ্রামাঞ্চলের প্রাথমিক শিক্ষার মান আরো উত্তোরত্তর সমৃদ্ধি পাবে।

রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়
গ্রামীণ শিক্ষার উন্নয়নে সরকার গ্রামভিত্তিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করার ফলে গ্রামাঞ্চলে অনেক রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। সরেজমিন দেখা যায় রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থা খুবই নাজুক। মাকু চৌধুরী রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফ বলেন, আমার বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রী প্রায় ২০০ জন। অথচ আমরা দু’জন শিক্ষক। ফলে এত ছাত্রছাত্রীকে পড়াতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তাছাড়া প্রতিদিন হাজিরা খাতা এবং চক পেন্সিলসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় শিক্ষা সরঞ্জাম আমি ব্যাগে করে বাড়ি থেকে নিয়ে আসি। কারণ বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রখার ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বাড়িতে রাখতে হয়। বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় বেঞ্চ নেই। শিক্ষকদের কোনো অফিস কক্ষে বসার জন্য কোনো আসবাবপত্র নেই। বিদ্যালয় গৃহের টিনের চাল থাকলেও চারপাশে কোনো বেড়া কিংবা আলাদা কোনো শ্রেণী কক্ষ নেই। এ বিদ্যালয়ের দৈন্যদশার কারণে গ্রামের অনেক ছেলেমেয়ে বিদ্যালয়ে আসে না বলে তিনি জানান। শিশুরা সব সময় চাকচিক্য, নতুনত্ব এবং সুন্দর জিনিস চায়। কিন্তু শিশুরা নিজের গ্রামের বিদ্যালয়ের এ করুণ অবস্থা দেখে শিক্ষার প্রতি অনাসক্ত হয়ে পড়ে বলে জানান সোন্দলপুর ইউনিয়নের পুর্ব রাজুরগাঁও গ্রামের মাহবুবুল হক চৌধুরী। রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সবিতা প্রভা শীল বলেন, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারের সাহসী পদক্ষেপ। গ্রামীণ শিক্ষার উন্নয়নে এ বিদ্যালয়গুলোর আরো উন্নয়ন করা উচিত। তিনি বলেন, আমরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর সমান শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদান করলেও তাদের সমান বেতন ভাতা এবং সম্মান পাই না। তিনি আরো জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঝে সুযোগ সুবিধা এং শিক্ষকদের বেতন ভাতা প্রদান সংক্রান্ত বৈষম্য দূর করলে গ্রামীণ শিক্ষা আরো অগ্রগতি লাভ করবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা
যারা সরকারি বা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে না অথবা ভর্তি হয়েও বিদ্যালয় ত্যাগ করে অথবা তাদেরকে শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে নিয়ে শিক্ষিত ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে দেশে উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সোন্দলপুরের রামদেবপুর গ্রামের আবদুল মোল্লা বলেন, বেসরকারিভাবে পরিচালিত বিদ্যালয়গুলো গ্রামের মানুষকে শিক্ষিত করে তুলতে অনেক ভূমিকা রাখছে।
বড় রামদেবপুরে এনআরডিএস পরিচালিত উপানুষ্ঠানিক কেন্দ্রের শিক্ষিকা মোস্তারী বেগম বলেন, গ্রামের অভাবী এবং বিদ্যালয় ত্যাগী শিক্ষা বিমুখ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে এনে শিক্ষিত করে তুলতে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করি। তবে আমরা এত পরিশ্রম করা স্বত্ত্বেও সংস্থা থেকে প্রদত্ত আমাদের পারিশ্রমিক অতি নগন্য। তিনি শিক্ষকদের পারিশ্রমিক বাড়ালে পাঠদানের শিক্ষকদের মনোনিবেশ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানান।

মাদ্রাসা শিক্ষা
গ্রামের অনেক অভিভাবকই ইসলামী শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ছেলেমেয়েদের আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে আগ্রহী। এতে সন্তানরা যেমন শিক্ষিত হবে তেমনি অভিভাবকদের ইহকাল ও পরকালের পূণ্য আদায় হবে। নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ফলাহারী গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের শুধুমাত্র আরবি শিক্ষায় শিক্ষিত হতেই পাঠান না। তারা তাদের সন্তানদের সুযোগ্য নাগরিক তথা আদর্শ চরিত্রবান ও উপযুক্তভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে মাদ্রাসায় পাঠান। গ্রামীণ শিক্ষার মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষাও অন্যতম ব্যবস্থা। ইবতেদায়ী স্তরই হচ্ছে মাদ্রাসা শিক্ষার ভিত্তি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রাথমিক বিদ্যালয় সমমানের এ মাদ্রাসাগুলোর কোনো কোনাটিতে মাত্র দু’তিন জন শিক্ষক দ্বারা ছয়/সাতটি বিষয় পড়ানো হয়। সেই সাথে মাদ্রাসার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ, আসবাবপত্র ও অবকাঠামোগত যথেষ্ট সমস্যা আছে। তবে সবচেয়ে বেশি সমস্যা শিক্ষকদের মাঝে। অনেক শিক্ষকই হীনমন্যতায় ভোগে। সমশিক্ষিত যোগ্যতা নিয়ে অন্যরা উচ্চ পর্যায়ে শিক্ষকতা করে বলে অনেকেই নিজেদের ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক তাদের অবস্থানকে অসম্মানজনক ও বেমানান বলে হীনমন্যতায় ভোগেন বলে রামেম্বরপুর এবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষক মোহাম্মদ হেদায়েত উল্যাহ বলেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার উদ্দেশ্য হল শিক্ষার্থীর দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও মানবিক বিষয়ে সর্বাঙ্গীন বিকাশ ও উন্নয়ন সাধন। কিন্তু গ্রামের অনেক ইবতেদায়ী, হাফেজী মাদ্রাসা ও ফোরকানিয়া মক্তবে ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের চেয়ে কায়িক শ্রমই বেশি করিয়ে থাকেন। ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসায় পড়তে গিয়েও দেখা যায় মাদ্রাসার সবজি বাগানসহ অনেক কাজ করতে হয়। দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার অন্য একটি ধারা হল হিফজ। যে সকল মাদ্রাসায় এ হিফজ শিক্ষা দেওয়া হয় সে সকল প্রতিষ্ঠানকে হিফজখানা বা হাফেজী মাদ্রাসাও বলে। এ শিক্ষাক্রমের বর্ষভিত্তিক কোনো সুনির্দিষ্টতা থাকে না। এ সকল প্রতিষ্ঠান কোনো বোর্ডের আওতাভূক্ত নয়। মূলতঃ সম্পূর্ণ ব্যক্তির দান অনুদানের ওপরই এগুলো পরিচালিত হয়।
মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য সরকারের বাৎসরিক ব্যয় থাকলেও গ্রামের অনেক মাদ্রাসা তেমন কোনো সরকারি সাহায্য পান না বলে একজন মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন। অভিভাবকগণের দেওয়া সামান্য অর্থকড়ি ও বিভিন্ন ব্যক্তির দান অনুদানেই মাদ্রাসা চলে। কিন্তু যখনই দাতারা তাদের সাহায্য বন্ধ করে দেন তখনই মাদ্রাসাগুলোর অপমৃত্যু ঘটে বলে অধিকাংশ অভিভাবক জানান।
শিক্ষার হার বৃদ্ধির সাথে সাথে গ্রামীণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ছে। বিভিন্ন গ্রামে বর্তমানে মেয়েদের জন্য মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতিতে এখনো যথেষ্ট সেকেলে প্রথার প্রচলন রয়েছে। বড়রামদেবপুরে ইউসুফ বলেন, আমাদের গ্রামীণ শিক্ষাও একটি ছকে সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। অনেক অভিভাবক কোরআন শরীফ ও নামাজ শেখা ছাড়া মেয়েদের অন্য কোনো শিক্ষার কথা বিবেচনা করেন না।
গ্রামাঞ্চলের ফোরকানিয়া মাদ্রাসাও গ্রামের মানুষের দান খয়রাতে চলে। অনেক আগে যেখানে সেখানে ফোরকানিয়া মাদ্রাসা গড়ে উঠতে যেমন দেখা যায় তেমনি আবার সেগুলো বন্ধ হয়ে যেতেও দেখা যায়। সরেজমিন দেখা যায়, গ্রামের অনেক অভিভাবক ছেলেমেয়েদের সাধারণ শিক্ষার চেয়ে আরবি শিক্ষা দিতে বেশি আগ্রহী হন। কিন্তু সেখানেও সমস্যা রয়েছে। কবির হাট সিনিয়ার মাদ্রাসার শিক্ষক ওবায়েদ উল্যাহ বলেন, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সুস্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় সুষম ও সঠিক কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে কোনো কোনো এলাকায় একাধিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আবার কোনো কোনো এলাকায় কোনো মাদ্রাসা নেই।
ধর্মীয় ভাবাপন্ন ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হওয়ায় আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার চাহিদা রয়েছে। তবে গ্রামে গড়ে ওঠা মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষা, শিক্ষাদান পদ্ধতিতে ত্র“টি রয়েছে। সমস্যা রয়েছে পরিচালনা পদ্ধতিতেও। অনেক মাদ্রাসায় দেখা গেছে দু’একজন ব্যক্তি নিজ খেয়াল খুশিমতো মাদ্রাসা পরিচালনা করেন। তাই মাদ্রাসাগুলো সঠিক উদ্দেশ্যে ছাত্রছাত্রীদের গড়ে তুলতে পারছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীরা মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ে নিয়োজিত হয় শিশু শ্রমে।
গ্রামীণ ও শহুরে শিক্ষা
গ্রামীণ জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য শহরের তুলনায় গ্রামীণ শিক্ষা ব্যবস্থায় সুযোগ সুবিধা অপ্রতুল। গঙ্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জোবেদা কামরুন নাহার বলেন, গ্রামের তুলনায় শহরের শিক্ষার সুযোগ সুবিধা অনেক বেশি। গ্রামের ছেলেমেয়েরা রাস্তাঘাট না থাকায় বিদ্যালয়ে আসতে পারে না। অথচ শহরের ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা থাকে। কবিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সহসভাপতি মফিজ উল্যাহ বলেন, গ্রামে অনেক মেধাবী ছেলেমেয়ে আছে। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, শিক্ষা সরঞ্জামও নেই, আবার ওপরের শ্রেণীতে ছাত্র থাকলেও ভালো শিক্ষক নেই। ব্যবহারিক ক্লাসের ব্যবস্থা নেই। অথচ শহরের বিদ্যালয়গুলোতে এ সকল সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত। ফলে মেধা থাকা স্বত্ত্বেও গ্রামের ছেলেরা মেধার সঠিক সুষ্ঠু বিকাশ ঘটাতে পারে না।
গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানসমূহে সাধারণত ভাল শিক্ষক পাওয়া দুস্কর। ভাল শিক্ষকরা গ্রামের বিদ্যালয়ে আসতে চান না বলে জানান, ফলাহারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সেতারায়ে ফেরদাউস। গ্রামের স্কুলে শিক্ষকতা করলেও অনেক শিক্ষক শহরে থাকেন। ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখা করানোর চেয়ে শহরের স্কুলে বদলী হওয়ার জন্য অনেক শিক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721220 http://www.somewhereinblog.net/blog/pranbdblog/28721220 2007-07-16 21:41:46