কাজের ফাঁকে চায়ের কাপে ঠোট ছোয়ানো। দিনে অন্তত দু'তিনবার । এমন অভ্যাসের আমি এবং আমরা। কিংবা আমি এবং আমাদের এমন অভ্যাসে প্রতিদিনের মত আজও হোসেনের চায়ের স্টলে। চা উঠে আসে ঠোটে। তারপর গন্তব্যে। প্রতিদিনের মত। কিন্তু বিল পরিশোধের সময় যাপিত জীবনে টান পড়ে। কাপ প্রতি এক টাকা বেশি....................।
আট কাপ চায়ে আট টাকা.......................?
মানজুর ভাই, জ্যোতি ভাই, জাহিদ ভাই. রানাসহ আমি বিস্মিত।
জাহিদ ভাই প্রশ্ন ঠোট থেকে ছুড়ে দেয়, কেনো রে এক টাকা বেশি?
খবর রাখেন না দেহি কিছুই, জানেন না কিরাসিনের দাম বাড়ছে ? হোসেন কেরোসিন বিশেষজ্ঞ হয়ে ওঠে।
হুম, হেরলাই চায়ে আজ কিরাসিনের গন্ধ একটু বেশি কইলো রে...........! তা কয় ফোটা বাড়তি কেরোসিনের ফ্লেভার দিছস রে হোসেন। মানজুর ভাইয়ের হিউমারে আমরা হেসে উঠি।
কিন্তু পকেট চুপসে যায়। হিসেব মেলে না। জ্যোতি ভাই পাক্কা হিসেবির মত অংক কষতে বসে ,এক লিটার কেরোসিনে কত কাপ চা হয়?
থাক বাদ দিন,না । বলি আমি।
জ্যোতি ভাই বাদ দেয়।
এইতো গত ১/১১ ঘটনার কিছুদিন পর চাল, ডাল তেলের দাম বাড়লো। কিন্তু দূর্ঘটনাবসত(!) চিনির দাম কমেছিল। তাতে কি ?
এরপর র চা খেতে গেলেও হোসেন দু টাকার বদলে তিন টাকায় আপ্যায়ন করেছিল। জিজ্ঞেস করেছিলাম দাম বাড়ার নেপথ্য কাহিনী। কারণ র চা'য়ে তো শুভ্র দুধের ফোটা ফেলতে হয় না।
উত্তর শুনে যে দেশে ঘি আর দুধের দাম সমান সেই দেশের কথা মনে পড়েছিল। যেখানে চুরির দায়ে শূলে চড়তে হয়েছিল বেচারা ভিন দেশি নিরপরাধ ব্যক্তিকে। পরে অবশ্য রাজাই নিজে শূলে চড়ে ছিলেন। সে অন্য কথা।
ফিরে আসি র চা'র দাম বাড়লো কেনো সে প্রসঙ্গে। হোসেন প্রতিদিন হয়ত একশো কাপ চা বিকোয়। তাতে ধরা যাক চল্লিশ টাকা লাভ হয়। হোসেনের ভাষ্যমতে। আর হোসেনের প্রতিদিন চাল কিনতে হয় চার কেজি। চালের দাম বেড়েছে । দোকানের আয় কিন্তু বাড়েনি। ফলে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য আনতে র'চায়ের দাম বাড়ে। হোসেনের মগজে আমি বিল গেটসকে খুজি।
২. বাসে আজও রীতিমত যাত্রী-কন্ডাক্টর বচসা। মিনি বাসের ভাড়া বেড়েছে ৯০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮ পয়সা। কিলো প্রতি। তাতে কি?
বাংলা মটোর থেকে ফার্মগেটের ভাড়া বাড়ে ১ টাকা!
পকেট মলিন থেকে মলিনতর হতে থাকে। তাতে লোকাল জীবন থেমে থাকে না ঠিকই।
কেরোসিনের দামের সাথে চাল ,ডাল, তেল............সবকিছুর দামই বাড়ে। মূল্যস্ফীতি.........মদ্রাস্ফীতি ! এরকম ভারি ভারি শব্দ নিয়ে ক্যাচলামি শুরু হয়। হোসেন আর বাসের কন্ডাক্টররা কোনোমত টিকে থাকতে পারলেও মানজুর ,জ্যোতি. জাহিদ এবং আমাদের প্রান্তিকীকরণ শেষ হয় না।
কারণ আজই দেখলাম বেনসন থেকে পলমলে আশ্রয় নিয়েছে মানজুর ভাইয়ের তজর্ণী ও মধ্যমা। এই নিয়ে আবার কাড়াকাড়ি।
ঈশ্বর মালুম.......শেষমেশ আকিজ বিড়িতে খুঁজে ফিরতে হয় কিনা আমাকে এবং আমাদেরকে.........................?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জুলাই, ২০০৮ রাত ৮:১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


