আমার অন্যতম একজন প্রিয় কলামিস্ট ফারুক ওয়াসিফ। চেষ্টা করি তার লেখা পড়তে। তার লেখার সব অংশের সাথে সব সময় যে সহমত হই তা নয়। তবে তার গঠনমূলক লেখা আনেকের মত আমারও ভালো লাগে।
ব্লগে ফারুক ভাইকে দেখে চমকে ওঠলাম। কারণ ব্লগে ফারুক ভাই ! আমার জন্য চমকই বটে। পোস্টে ফারুক ভাইয়ের প্রশ্ন ........ তাহলে স্যাম মানেকশই বাংলাদেশের স্রষ্টা? প্রশ্নে আলোড়িত হই। এ কোন অদ্ভূতুড়ে উটের পিঠে চলেছি আমরা। তাই ফারুক ভাইয়ের সাথে গলা মেলানোর লোভ সামলাতে পারলম না।...........
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর। মুক্তিযুদ্ধের নবম মাস। মানেকশ কিন্তু ঐ সময়ের ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ইচ্ছে সত্ত্বেও প্রথমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। আর অস্বীকারের ফলও তিনি জানতেন। তাই তিনি বলেছিলেন-পদত্যাগ পত্রে শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করবো না মানসিক .........!
কারণ তিনি জানতেন যুদ্ধে যোগ না দিলে তার চাকুরী থাকবে না। আর যুদ্ধে যোগ দিতে চাননি এজন্য যে যদি এ যুদ্ধে মার্কিনীদের সাথে যদি চীন যোগ দেয়....! তাতে স্বল্প যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে যুদ্ধে হারার সম্ভাবনাই বেশি।
অথচো আমরা মার্কিন কিংবা চীনের পারমানবিক অস্ত্র অথবা রক্তচক্ষু কোনোটাকেইতো পরোয়া করিনি। করলে কি আর আগ পাছ নাভেবে মৃত্যফাদে পা দিতে পারতাম? যেমনটি প্রথমে পারেননি মানেকশ!
অথচ সেই মানেকশই নাকি বাংলার স্রষ্টা। ইতিহাসে শেখ মুজিব, জিয়ার মাঝে তৃতীয় অংশীদারের আগমন। এ গল্পটি আগে জানা থাকলে বাংলার সৃষ্টি এবং স্রষ্টা বিতর্ক ত্রিমাত্রিক ক্লাইমেক্স হত এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিতর্ক পিয়াসীরা নতুন রসদ পেতো। যা এখন পাবে।
কিন্তু আমার একথার মানে এই নয় যে আমি সেনা নায়ক মানেকশের ভূমিকাকে অস্বীকার করছি। আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার সক্রীয় ও কৌশলী অংশগ্রহণ এবং তার মৃত্যুতে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
কিন্তু বাংলাদেশী যোদ্ধারা যখন শুধু সাহস আর দা, কাচিরমত মেঠো অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে লড়ে যান। শহীদ হন। ৩০ লাখ বাঙ্গালীর রক্তের দাগ নিয়ে যখন বাংলাদেশ নামের একটি বদ্বীপ বিশ্বের বুকে স্বীয় অস্তিত্ব নিয়ে জেগে ওঠে। তখন সেই রক্তমাখা স্বদেশে সন্তান হারা বাবার আর্তনাদ, মায়ের কান্না ...............আরো অসংখ্য বেদনায় চিহ্নকে কেবলই প্রহসন মনে হয়।
কিন্তু এইসব বীরত্বগাথা যখন ছিনতাই হয়ে যায় একজন সেনানায়ক মানেকশ এর নামে তখন আমার খুব বেশি খারাপ লাগে না।(?)
একাত্তরের ঐ নয়মাস আর ১৬ ডিসেম্বর নিয়ে বাণিজ্যতো আর কম হলো না।
যে দেশে .............
স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকাররা মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সমাধীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে।
রাজাকাররা মুক্তিযাদ্ধা হয়ে যায়!
স্বাধীন দেশের পতাকা গাড়িতে পতপত করে উড়িয়ে রাজাকার আলবদররা ৭১ কে বুড়ো আঙ্গুলি দেখায়!
মুক্তিযোদ্ধা আর রাজাকাররা আঁতাত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে!
আর কিছুদিন পরেই যখন দূর্ণীতির দায়ে অভিযুক্ত দেশ দরদীরা(!?) ফুলের মালা পরে আবার দেশ সেবায় আত্ননিয়োগ করবে.........
তখন আমার মনে হয় এ দেশে সবই সম্ভব।
আমাদেরকে যে কেউ তার ইচ্ছেমত দিগম্বর করতে পারে। কিন্তু আমরা লজ্জা পাই না।
এই সব সম্ভবের দেশকে কিছুক্ষেত্রে অসম্ভবে রুপান্তর করতেই হবে। যে করেই হোক। না হলে .........
স্যাম মানেকশরা বাংলাদেশের স্রষ্টা হবে..........!
এবং রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধা হয়ে দেশ সেবার মহান ব্রত মাথায় তুলে নেবে................................!!!!!!!!!
পুনশ্চ : ফারুখ ভাইকে ধন্যবাদ ব্লগে এমন অসাধারণ একটি পোষ্ট দেওয়ার জন্য

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


