somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

র্ধম

১২ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এখানে কোন সন্দেহ নেই যে, মানুষ তার স্বজাতীয় লোকদের সাথে সমাজবদ্ধ হয়ে একসংগে জীবন যাপন করে। মানুষ তার জীবনে সামাজিক পরিবেশে যে সব কাজ করে, সে সকল কাজ পরষ্পর সম্পর্কহীন নয়। যেমনঃ মানুষের খাওয়া, পড়া, পান করা, চলা, ঘুমানো, জাগ্রত হওয়া, পরষ্পরের সাথে মেলা মেশা ইত্যাদি কাজ বাহ্যতঃ পরষ্পর সম্পর্কহীন বলে মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে এগুলো সম্পূর্ণ রূপে পরষ্পর সম্পর্কযুক্ত। যে কোন কাজই ইচ্ছেমত যত্র-তত্র ও যখন ইচ্ছে তখন করা যায় না। বরঞ্চ যে কোন কাজের জন্যেই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। তাই মানুষ তার জীবনের প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম গুলো সুনির্দির্ষ্ট একটি নিয়মতাš্র—িকতার অধীনে সম্পন্ন করে, যা কখনই ঐ নিয়ম থেকে বিচ্যুত হয় না। আর মানব জীবনে সম্পাদিত সকল কাজের উদ্দেশ্যই বিশেষ একটি বিন্দু থেকে উৎসারিত। আর সেই কেন্দ্র বিন্দুটি হল, মানব জীবনের সাফল্য ও সৌভাগ্য লাভের আকাংখা, অর্থাৎ মানুষ তার অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্যে তার অভাব ও প্রয়োজন গুলোকে যথাসম্ভব পূর্ণ করার আকাংখা পোষণ করে।
এ কারণেই মানুষ তার জীবনের সকল কাজকর্মকে তার স্বরচিত নিজের ইচ্ছেমত রচিত আইন বা অন্যের কাছ থেকে গৃহীত আইনের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করে। এ ভাবে সে আপন জীবন যাপনের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ জীবন পদ্ধতির অনুসরণ করে। তাই জীবন যাপনের স্বার্থে সে প্রয়োজনীয় জীবন উপকরণ সংগ্রহের জন্যে আÍ নিয়োগ করে। কেননা, সে বিশ্বাস করে জীবন উপকরণ সংগ্রহ জীবন যাপনের জন্যে প্রয়োজনীয় একটি বিধান। সে রসনার তৃপ্তি সাধন এবং ক্ষুধা ও তৃষ্ণা নিবারণের জন্যে খাদ্য ও পানি পান করে থাকে। কেননা, সৌভাগ্যপূর্ণ ভাবে বেঁচে থাকার জন্যে খাওয়া ও পান করাকে সে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করে। ঠিক এভাবেই সে প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের লক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত কিছু নিয়ম মেনে চলে।
মানব জীবনের উপর প্রভুত্ব বিস্তারকারী উলি−খিত বিধি বিধানের ভিত্তিমূল একটি বিশেষ মৌলিক বিশ্বাসের উপর প্রতিষ্ঠিত। আর তার উপরই মানব জীবন নির্ভরশীল।
মানুষ এই সৃষ্টি জগতেরই একটি অংশ বিশেষ এবং সমগ্র সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের মূলরহস্য সম্পর্কে প্রতিটি মানুষেরই একটি সুনির্দিষ্ট ধারণা বা বিশ্বাস রয়েছে। সৃষ্টি জগতের রহস্য সম্পর্কে মানুষের চিন্তা-ভাবনা বা ধারণার প্রকৃতি কেমন হতে পারে, একটু চিন্তা করলেই তা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে। যেমন-যারা এ সৃষ্টি জগতকে শুধুমাত্র জড় বা বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে এবং মানুষকেও সস্পূর্ণরূপে (১০০%) জড় অস্তিত্ব (জন্মের মাধ্যমে জীবনের সূচণা এবং মৃত্যুর মাধ্যমে তার ধ্বংস) বলে বিশ্বাস করে, তাদের অনুসৃত জীবন পদ্ধতিও জড়বাদের উপর ভিত্তি করেই রচিত। অর্থাৎ স্বল্পকালীন এ পার্থিব জীবনের স্বাদ উপভোগই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আর এ জন্যেই সমগ্র বিশ্বজগৎ ও প্রকৃতিকে বশে আনার জন্যে তারা তাদের জীবনের সকল প্রচেষ্টা ও সাধনা বিনিয়োগ করে।
আবার অনেকেই (মূর্তি উপাসকরা) এ বিশ্ব জগৎ ও প্রকৃতিকে তার চেয়ে উচ্চতর ও মহান এক অস্তিত্বের (আল−াহ্) সৃষ্টিকর্ম বলে বিশ্বাস করে। তারা বিশ্বাস করে মহান আল−াহ্ মানুষকে তাঁর অসংখ্য অনুগ্রহ মূলক দান ও নেয়ামতের মাঝে নিমজ্জিত রেখেছেন, যাতে মানুষ আল−াহ্ প্রদত্ত অসীম অনুগ্রহ উপভোগ করে উপকৃত হতে পারে। সৃষ্টি জগতের অস্তিত্বের রহস্য সস্পর্কে এ ধরণের বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তিগণ এমন এক জীবন পদ্ধতির অনুসরণ করেন, যার মাধ্যমে সর্বস্রষ্টা আল−াহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করা এবং তাঁর ক্রোধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কেননা, যদি তারা মহান আল−াহ্র সন্তুষ্টি লাভ করতে সর্মথ হন, তাহলে তিনি তাদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়ে দিবেন এবং তাদেরকে অসীম ও চিরন্তন অনুগ্রহ বা নেয়ামতের অধিকারীও করবেন। আর মানুষ যদি তার কৃতকর্মের মাধ্যমে মহান স্রষ্টার ক্রোধের সঞ্চার করে, তাহলে তারা আল−াহ্্ প্রদত্ত অনুগ্রহ বা নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হবে।
অন্য দিকে যারা শুধুমাত্র আল−াহ্র প্রতি বিশ্বাস ছাড়াও মানুষের জন্যে এক অনন্ত জীবনে বিশ্বাসী, এবং মানুষকে তার পার্থিব জীবনের কৃত সকল ভাল ও মন্দ কাজের জন্যে দায়ী বলে বিশ্বাস করে। ফলে তারা কেয়ামত দিনের প্রতিও বিশ্বাসী, যে দিন মানুষকে তার ভাল মন্দ সব কাজের জবাবদিহি করতে হবে এবং ভাল কাজের জন্যে পুরস্কৃত করা হবে; এই কেয়ামতের দিনকে ইহুদী, খৃষ্টান, মাজুসী এবং মুসলমানরাও বিশ্বাস করে। এ ধরণের বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তিরা এমন এক জীবন পদ্ধতির অনুসরণ করে যা ঐ মৌলিক বিশ্বাসের সাথে সামঞ্জশ্যপূর্ণ এবং মানুষের ইহকাল ও পরকালীন উভয় জীবনেই সৌভাগ্যবান হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করে। এ বিশ্ব জগতের সৃষ্টিরহস্য সম্পর্কিত মৌলিক বিশ্বাসসমূহ এবং তার ভিত্তিতে রচিত অনুকরণীয় জীবন পদ্ধতির নীতিমালা সমষ্টির অপর নামই ‘দ্বীন’। ‘দ্বীনের’ মধ্যে সৃষ্ট শাখা সমূহকে ‘মাযহাব’ বলা হয়। উদাহরণ স্বরূপ যেমন ঃ আহ্লুস্ সুন্নাহ্ ও আহ্লুশ্ তাশাইয়ূ ইসলামের অন্যতম দু’টি মাযহাব এবং খৃষ্টান ধর্মের মালেকানী ও নাসতুরী মাযহাবদ্বয়।
ইতিপূর্বের আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, মানুষ দ্বীনের (এক শ্রেণীর মৌলিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে রচিত জীবন পদ্ধতি) প্রতি নির্ভরশীলতা থেকে (যদি সে আল−াহ্তে বিশ্বাসী নাও হয়) আদৌ মুক্ত নয়। সুতরাং ‘দ্বীন’ মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় এমন এক জীবন পদ্ধতি, যা মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ স্বরূপ। পবিত্র কুরআনের ভাষ্য অনুযায়ী ‘দ্বীন’ কে এড়িয়ে যাওয়া মানুষের জন্যে অসম্ভব। এটা এমন এক পথ যা স্বয়ং মহান আল−াহ্ মানব জাতির প্রতি প্রসারিত করেছেন এবং মহান আল−াহ্্তে গিয়েই এ পথের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। অর্থাৎ সত্য ‘দ্বীন’ (ইসলাম) গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে মানুষ আল−াহ্র নৈকট্য লাভের পথেই ধাবিত হয়। আর যারা সত্য ‘দ্বীন’কে গ্রহণ করেনি প্রকৃতপক্ষে তারা ভ্রান্ত পথই অনুসরণ করেছে এবং পথভ্রষ্ট হয়েছে। [মহান আল−াহ্ বলেছেন ঃ “স্মরণ রাখ! আল−াহ্র অভিশাপ অত্যাচারীদের উপর নিপতিত, যারা আল−াহ্র পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং তাতে বক্রতা সৃষ্টি করে”। (-সুরা আল্ আ’রাফ, ৪৪ ও ৪৫ নং আয়াত।)
]
ইসলাম ঃ আÍসর্মপণ ও মাথানত করাই ‘ইসলাম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ। পবিত্র কুরআনে যে ‘দ্বীন’ অনুসরণের প্রতি মানব জাতিকে আহ্বান করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘ইসলাম’। ইসলাম নাম করণের মূল কারণ হচ্ছে, সমগ্র বিশ্ববাসী একমাত্র মহান আল−াহ্র কাছে সম্পূর্ণরূপে আÍসর্মপণ করবে। এই আÍসর্মপণের ফলশ্র“তিতে সে এক আল−াহ্র নির্দেশ ব্যতীত অন্য কারো নির্দেশের আনুগত্য করবে না এবং একমাত্র তাঁরই উপাসনা ব্যতীত অন্য কারো উপাসনা করবে না। আর এটাই হল ইসলামের মূল কর্মসূচী । [মহান আল−াহ্ বলেন ঃ “তার চেয়ে দ্বীনের ব্যাপারে কে উত্তম যে আল−াহ্র কাছে আÍ সমর্পন করে এবং নিজেও সৎকর্ম পরায়ণ, আর একনিষ্ঠ ভাবে ইব্রাহীমের সরল ধর্মাদর্শ অনুসরণ করে? (-সুরা আন্ নিসা, ১২৫ নং আয়াত।)
মহান আল−াহ্ আরো বলেছেনঃ “তুমি বল, হে ঐশী গ্রন্থে'র অধিকারীগণ! এসো, এমন এক কথায় (ঐক্য বদ্ধ হই) যা আমাদের ও তোমাদের মাঝেও একই (সমভাবে গ্রহণ যোগ্য); যেন আমরা আল−াহ্ ছাড়া আর অন্য কারো ইবাদত না করি এবং কোন কিছুকেই আল−াহ্র সাথে শরীক্ না করি। আমাদের কেউ আল−াহ্ ছাড়া অন্য কাউকে যেন প্রতিপালক রূপে গ্রহণ না করে। যদি তারা এ প্রস্তাব থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে বল, ‘তোমরা সাক্ষী থেকো আমরা মুসলিম”। (-সুরা আল্ ইমরান, ৬৪ নং আয়াত।)
মহান আল−াহ্ বলেনঃ অর্থঃ “হে মুমিনগণ তোমরা সর্বাÍক ভাবে আÍসর্ম্পণের স্তরে (ইসলামে) প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ককে অনুসরণ কর না। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“”।(Ñসুরা আল্ বাকারা ২০৮ নম্বর আয়াত।) ] পবিত্র কুরআনের বক্তব্য অনুযায়ী সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি এই ‘দ্বীন’ কে ‘ইসলাম’ ও এর অনুসারীদেরকে ‘মুসলমান’ হিসেবে নাম করণ করেন, তিনি হলেন হযরত ইব্রাহীম (আ.)।
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×