হাইতির মাটিতে আগে থেকেই ২৬৭৬ জন মার্কিন সেনা নিয়োজিত ছিল। ভূমিকম্পের এক সপ্তাহের মধ্যেই এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬০০-তে। সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রেজার গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, রোববারের মধ্যেই হাইতির স্থল এবং জলে কমপক্ষে ২০ হাজার মার্কিন সেনা নিয়োজিত হবে। বার্তা সংস্থার এক সংবাদে জানা যায়, হাইতিতে কমপক্ষে ৩৩ হাজার মার্কিন সেনা নিয়োজিত হবে।
হাইতিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা মেডিসিনস সানস ফ্রন্টিয়ার্স। তারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওষুধ সরবরাহের আগেই সেনা সরবরাহ করছে। দেশটির মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং তাদের ত্রাণ বিতরণের দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া অন্য দেশগুলোর যথেষ্ট বিরক্তি উৎপাদন করেছে। বিশেষ করে ফ্রান্স, নিকারাগুয়া ও ভেনিজুয়েলা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। প্যারিস হাইতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার তদন্ত ও তা স্পষ্ট করার আহবান জানিয়েছে। নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ডানিয়েল ওর্তেগা বলেছেন, ‘হাইতির এখন প্রয়োজন মানবিক ত্রাণ, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মানবিক দুর্দশাকে সম্বল করে হাইতিকে সামরিকভাবে দখল করেছে। আমি সংবাদে দেখেছি তারা এমনকি প্রেসিডেন্টের প্রাসাদেরও দখল নিয়েছে।’
এর আগে অনেক ঘটনায়ই হাইতির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করেছে। ২০০৪ সালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট জাঁ ব্রাট্রান্ড অ্যারিস্টাইডকে তার দ্বিতীয় মেয়াদের মেয়াদ শেষের আগেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হয়। এ ব্যাপারে মার্কিন সেনাদের বড় ভূমিকা ছিল। অ্যারিস্টাইড তার এ বিদায়কে কিডন্যাপিং বা জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়া হিসেবে বর্ণনা করেন।
১৯১৫ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় ২০ বছর মার্কিন মেরিনরা জবর দখল করে রেখেছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ১৯৯৪ সালে হাইতিতে সেনাবাহিনী পাঠিয়েছিলেন।
লেখক: বুধবার প্রতিবেদন
সূত্র/সংগ্রহ: সাপ্তাহিক বুধবার(সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ)-২১তম সংখ্যা;৩ ফেব্রুয়ারি ২০১০
এরকম আরেকটি প্রতিবেদন এখানে- Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


