সরকার সম্প্রতি, ২৯ মে, ফেইসবুক ব্যবহারের ওপর ‘সাময়িক নিষেধাজ্ঞা’ জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করার জন্য সরকার রাষ্ট্রের করায়ত্ত প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ব্যবহার করেছে তাৎক্ষণিকভাবে। সরকার এখনো পর্যন্ত তার এই অগণতান্ত্রিক আচরণের ব্যাখ্যা দেয়নি।
আচরণটি অগণতান্ত্রিক কারণ, ফেইসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। বাংলাদেশের প্রায় ৯ লাখ মানুষ, অধিকাংশই তরুণ-তরুণী, এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখেন, সমাজ-রাজনীতি, শিল্প-সাহিত্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যক্তিগত-নৈর্ব্যক্তিক, জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইত্যাদি নানান বিষয়ের ওপর নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন, তথ্য আদান-প্রদান করেন, তর্ক-বিতর্ক করেন একে অন্যের সঙ্গে। এভাবে তৈরি হয় নতুন বন্ধুত্ব, নতুন যোগাযোগ – এমনকি নতুন বিতর্ক। চিন্তাভাবনা আদান-প্রদানের জন্য বিশেষত যাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা নেই, কিংবা থাকলেও তা সীমিত, তাদের জন্য খুবই কার্যকর একটা জনপ্রিয় গণমাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ফেইসবুক। এটা ঘটেছে সর্বত্র – সারা পৃথিবীতে। জনসংখ্যার মানদন্ডে বাংলাদেশেই বরং ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কম – ১৫ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ৯ লাখ। যে কোনো গণমাধ্যম ব্যবহারের ওপর, যুক্তিগ্রাহ্য কোনো কারণ না দেখিয়ে, নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা অগণতান্ত্রিক। নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি গণতান্ত্রিক অধিকার।
সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ ব্যাখ্যা না করলেও, সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) বরাত দিয়ে দেশের পত্রপত্রিকায় এ সম্পর্কে একটি খবর বেরিয়েছে। বিটিআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে খবরটিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার ব্যঙ্গচিত্র বানিয়ে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ফেইসবুকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি ও বলবৎ করেছে। এ কাজের ‘অপরাধে’ সরকার এক তরুণকে গ্রেফতারও করেছে। সংশ্লিষ্ট তরুণটি বর্তমানে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের অধীন রয়েছে। এ দেশে পুলিশি রিমান্ড মানেই শারীরিক নিপীড়ন। তরুণটি কী অবস্থায় রয়েছে আমরা জানি না।
হাসিনা ও খালেদার কী রকম ব্যঙ্গচিত্র ফেইসবুকে যুক্ত হয়েছিল আমরা দেখিনি, জানি না। কিন্তু জীবন ও জগতের খবর রাখেন, এমন ব্যক্তিমাত্রই জানেন, কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র পৃথিবীব্যাপী স্বীকৃত একটি শিল্পমাধ্যম। সাধারণত, কিংবা প্রধানত, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রভাবশালী মানুষের নানান কাজকর্ম, বিশেষত তাদের গণবিরোধী তৎপরতার প্রতি কটাক্ষ করার ভেতর দিয়েই এ শিল্পের উন্মেষ ও বিকাশ ঘটেছে। কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র হতে পারে সরস কিংবা ঝাঁঝালো। সমাজসচেতন শিল্পীদের প্রতিবাদের একটি ভাষা হিসেবে এই মাধ্যমটি সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই দিক থেকে দেখলে, ফেইসবুকের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে সরকার কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রশিল্পের ওপরও পরোক্ষ আক্রমণ চালিয়েছে।
কিন্তু এসব অগণতান্ত্রিক তৎপরতা চালাতে গিয়ে সরকার একটি চালাকির আশ্রয় গ্রহণ করেছে। সরকারের তরফ থেকে পরোক্ষভাবে বলা হয়েছে, যা আমরা আগেই উল্লেখ করেছি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী উভয়ের ব্যঙ্গচিত্র যুক্ত করার কারণেই ফেইসবুক বন্ধ হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যঙ্গচিত্র যুক্ত হওয়ার কারণে শেখ হাসিনার সরকার ফেইসবুক বন্ধ করেছেন – এ কথা এ দেশের কোনো মানুষের বিশ্বাস করার কারণ নেই। বিগত সেনানিয়ন্ত্রিত অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হাসিনা ও খালেদা – উভয়ের বিরুদ্ধেই কিছু দুর্নীতির মামলা রুজু করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই, সাধারণ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ তদন্তের ভেতর দিয়ে প্রকাশ্য আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার বদলে উচ্চ আদালতে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অসাধারণ তৎপরতার মাধ্যমে তিনি সম্প্রতি মামলাগুলো থেকে বেরিয়ে এসেছেন। খালেদা জিয়া, বিশেষত তার রাজনৈতিক দল, এই অভিন্ন অন্যায্য সুবিধা লাভের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে চলেছেন। কিন্তু হাসিনার সরকার খালেদাকে সেই অভিন্ন সুবিধা মঞ্জুর করতে নারাজ। ফলে, ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে ‘ক্ষুণ্ণ’ হওয়া খালেদা জিয়ার ‘ভাবমূর্তি’ রক্ষা করার জন্য হাসিনার সরকার কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে – এমন দাবি নিতান্তই অবিশ্বাস্য। সরকারের দিক থেকে এ এক সস্তা ‘চালাকি’ ছাড়া কিছু নয়।
ফেইসবুকে সাম্প্রতিককালে সরকারের অগণতান্ত্রিক কার্যকলাপ সম্পর্কে অনেক সমালোচনা হচ্ছিল। হাজার হাজার মানুষ সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনীহা, সরকার পরিচালনার ব্যর্থতা, সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বেপরোয়া অবিচার-অত্যাচার, ভিন্নমতের প্রতি সরকার ও সরকারি দলের অসহিষ্ণুতা, ইত্যাদি বিষয়ে নানাবিধ বিরূপ সমালোচনায় ভরপুর রাখত ফেইসবুকের দেয়াল। সরকারি দলের সমর্থক অনেক তরুণ-তরুণী ওইসব সমালোচনার বিরুদ্ধে আপন আপন যুক্তিও তুলে ধরতেন। কিন্তু সরকারের অসংখ্য দৃশ্যমান ব্যর্থতার পক্ষে ন্যায্যতা জোগানো সরকার সমর্থকদের পক্ষেও কঠিন হয়ে উঠেছিল বৈকি। সরকারের যারা অনুচর, বেতনভুক কিংবা অবৈতনিক, তারাই সম্ভবত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই প্রপঞ্চ সম্পর্কে ধারণা জুগিয়ে থাকবে। সরকার, অতঃপর, চালাকির পথে অগ্রসর হয়েছে। এক্ষেত্রে, সরকারের গণতান্ত্রিক কর্তব্য ছিল ফেইসবুকের দেয়ালে লিপিবদ্ধ বিরূপ সমালোচনাগুলো বিবেচনায় নিয়ে ইতিবাচক কর্মযজ্ঞের সমালোচনার মাধ্যমে ভিত্তি দুর্বল করে দেওয়া। সরকারের দিক থেকে সেটা হতো বুদ্ধিমত্তার কাজ। কিন্তু বুদ্ধিমত্তা ও সরকার প্রায়শই একসঙ্গে চলতে পারে না। ক্ষমতার এই এক অন্তর্গত সমস্যা – সর্বত্রই। ক্ষমতা, বিশেষত অসীম ক্ষমতা, বরাবরই বুদ্ধিভ্রংশী। ফলে বেশি জনসমর্থনসিক্ত সরকারগুলো বরাবরই চালাকির আশ্রয় নেয়, এড়িয়ে চলে বুদ্ধিমত্তা। চালাকেরা অন্যদের বোকা মনে করে, বুদ্ধিমানরা প্রতিপক্ষের বুদ্ধিমত্তাকে হিসাবের মধ্যে রাখেন। আমাদের সরকার বুদ্ধিমত্তার চর্চা করল না।
ফেইসবুক বন্ধ করে পেছনে ন্যায্যতা জোগানোর জন্য কিছু সরকারসমর্থক ব্যক্তি অবশ্য অন্য একটি যুক্তির (?!) অবতারণা করে চলেছেন। তারা দাবি করছেন, সম্প্রতি ফেইসবুকে ইসলামের মহান নবী সম্পর্কে নানান ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্র ছড়িয়ে পড়ার কারণে অনেক মুসলমানের ধর্মানুভূতিতে আঘাত লেগেছে। সে কারণেই সরকার সাময়িকভাবে ফেইসবুক বন্ধ করে দিয়েছে।
এ কথা সত্য যে, কিছু পশ্চিমা কার্টুনিস্ট থেকে থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের উত্ত্যক্ত ও উত্তেজিত করার স্পষ্ট অভিপ্রায়ে নবীর ব্যঙ্গচিত্র এঁকে চলেছেন। এ কাজটি তারা করে চলেছেন পুঁজির পক্ষে, পুঁজিতন্ত্রের দাস হিসেবে। পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থার অলঙ্ঘনীয় অভ্যন্তরীণ সংকটের বর্তমান কালে যুদ্ধবিগ্রহ ছাড়া পুঁজিওয়ালা শ্রেণী তার বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক আধিপত্য জারি রাখতে হিমশিম খায়। দেশে দেশে যুদ্ধের মাধ্যমে পশ্চিমা পুঁজিতান্ত্রিক দেশগুলোর সামরিকশিল্প বাঁচিয়ে রাখা ও পৃথিবীর নানান অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিজেদের আধিপত্য জারি রাখা ছাড়া পুঁজির বিকাশ ও স্থিতি অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে, ওইসব বিতর্কিত কার্টুন ও ব্যঙ্গচিত্রকে পশ্চিমা পুঁজিওয়ালা শ্রেণী ব্যবহার করে যুদ্ধের উন্মাদনা তৈরি করার জন্য, কথিত ‘সভ্যতার সংঘর্ষ’ সাংস্কৃতিকভাবে নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করার ভেতর দিয়ে পুঁজির আধিপত্য জারি রাখার নির্মানবিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার জন্য। এক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল ও বুদ্ধিমান মুসলমানের দায়িত্ব হলো পৃথিবীর সামনে, এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের শান্তিকামী প্রগতিশীল গণতন্ত্রপরায়ণ মানুষের সামনে, পুঁজিতান্ত্রিক ব্যঙ্গচিত্র প্রকল্পের অন্তর্নিহিত হীনউদ্দেশ্য তুলে ধরাও ধর্মীয় বিশ্বাসনির্বিশেষে বিশ্ব জনমতকে ওই হীন মতলববাজির বিরুদ্ধে সংগঠিত করা – মানবতাবিরোধী হীনপুঁজিতান্ত্রিক প্রকল্পের ফাঁদে পা দিয়ে ‘সভ্যতার সংঘর্ষ’ তত্ত্বকে জোরদার করা নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি, আমাদের দেশের বহু তরুণ-তরুণী নবীর ব্যঙ্গচিত্র কিংবা কার্টুন সম্পর্কে উপরোক্ত ধরনের সচেতন প্রতিক্রিয়া জ্ঞাপনে ফেইসবুকের দেয়াল ব্যবহার করছেন। অমুসলমান কিন্তু গণতন্ত্রপরায়ণ বহু পশ্চিমা নাগরিকও ইসলামের নবীকে অন্যায়ভাবে ছোট করার পুঁজিতান্ত্রিক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন, করে চলেছেন এখনো।
কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার, আদৌ যদি ইসলামবিরোধী কার্টুনের জন্য ফেইসবুক বন্ধ করে থাকে, সে পথে অগ্রসর হয়নি – অগ্রসর হয়েছে কূপমন্ডুকতার পথে, মাথাব্যথার জন্য মাথা কেটে ফেলার পশ্চাৎপদ কৌশল নিয়ে, ইসলামী ঐক্যজোটের বিতর্কিত নেতা, মুফতি ফজলুল হক আমিনীর তরিকা অবলম্বন করে।
মুফতি আমিনী কিছুদিন আগে ফেইসবুক বন্ধ করে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে পাকিস্তানের সরকার ফেইসবুক বন্ধ করে দিয়েছে। মুফতি সাহেবের দাবির প্রণোদনা কোথা থেকে এসেছে, তা আমাদের বুঝতে অতএব অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু যে আওয়ামী লীগ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার’ স্লোগান দেয় গগনবিদারি চিৎকারে, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনীতির প্রবক্তা হিসেবে আমাদের প্রগতিশীল উদার গণতন্ত্রবাদী নাগরিকদের সমর্থন ভোগ করে, সেই লীগ সরকার ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতির একজন প্রতীক – মুফতি আমিনীর দাবি মেনে নেয় অনায়াসে, স্থূল রাজনৈতিক স্বার্থে পাকিস্তানি শাসকশ্রেণীর অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ অনুসরণ করে নির্দ্বিধায়! এটাকেই বলে আদর্শবিবর্জিত রাজনৈতিক সুবিধাবাদ – যা যে কোনো সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য বিপজ্জনক।
সর্বোপরি, নির্বাচনের আগে লীগ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার এক বিমূর্ত স্লোগান উত্থাপন করেছিল। লীগ সরকারের নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথিত স্লোগানে আমাদের আকাশ-বাতাস এখনো প্রকম্পিত করে চলেছেন। উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে, এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশের জনগণের মাত্র ১.৯ ভাগ কম্পিউটার-প্রযুক্তি ব্যবহার করে। আর আগেই বলা হয়েছে, ১৫ কোটি মানুষের এই দেশে ফেইসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ৯ লাখের মতো। এদের মধ্যে ১-২ লাখ মানুষ হয়তো ফেইসবুকে সামাজিক-রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে নিজেদের ভেতর টুকরো টুকরো মতবিনিময় করেন, চালিয়ে যান তর্ক-বিতর্ক। সেই তর্কে-বিতর্কে একটি নির্বাচিত সরকারের যোগ্যতা, দক্ষতা ও অঙ্গীকার নিয়ে আলোচনা আসতেই পারে।
যে সমাজের তরুণ-তরুণীরা রাজনীতিসচেতন নন, রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করেন না, সেই সমাজ ভেতরের দিক থেকে বিরাজনীতিকৃত হয়ে পড়ে – যা কিনা যে কোনো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়ঙ্কর। ফলে, পৃথিবীর যে কোনো নির্বাচিত সরকারের গণতান্ত্রিক দায়িত্ব হলো তরুণ-তরুণীদের ভেতর রাজনৈতিক ভাবাদর্শিক বিতর্ক চালাতে অনুপ্রাণিত করা, পৃষ্ঠপোষকতা করা। উল্টোটা করার অর্থই হলো সরকার চায় সমাজ বিরাজনীতিকৃত হয়ে পড়ূক। তবে আমরা জানি, কর্তৃপক্ষের অন্যায় কাজ-কর্মের ব্যাপারে সমাজের নীরবতা স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থারই সাংস্কৃতিক জমিন তৈরি করে।
যাই হোক, কম্পিউটার-প্রযুক্তির ব্যবহারকে উৎসাহিত করার প্রশ্নে বর্তমান সরকারের দায় আরো বেশি, কারণ তারা নির্বাচনের আগে আমাদের তরুণসমাজের সামনে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু ফেইসবুক বন্ধ করার ভেতর দিয়ে সরকার তার ওই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে।
কোন সরকার কী করবে, আর কী করবে না, সেটা তার ব্যাপার। কিন্তু গণতন্ত্রপরায়ণ নাগরিকদের দায়িত্ব হলো যে কোনো সরকারের যে কোনো অগণতান্ত্রিক আচরণ ও কার্যকলাপের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ জারি রাখা, গড়ে তোলা কার্যকর প্রতিরোধ। ফেইসবুক একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এবং অপরাপর মাধ্যমের মতো এই মাধ্যমেও মানুষের মতামত প্রকাশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার অনস্বীকার্য। আবার, অপরাপর গণতান্ত্রিক নাগরিক অধিকারের মতো, মতপ্রকাশের অধিকার নিরঙ্কুশ করার জন্যও নিজেদের সক্রিয় রাখা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশের জন্য অপরিহার্য। সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর ছাড়া মানুষের মর্যাদাবান মানবীয় উত্থান অসম্ভব। ফলে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি লালন করেই আমাদের এগুতে হবে। মানুষের ইতিহাসের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রতিবাদী সংগ্রাম এক অনিবার্য অনুষঙ্গ বৈকি।
নূরুল কবীর
সূত্র: সাপ্তাহিক বুধবার

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



