somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৃত শালিকের ডায়েরী

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১০ দুপুর ১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


শেষ অবলম্বন

অথচ
এমন হবার কথা ছিল না মোটেও;
দখিনা হাওয়াকে ঝড়ের পূর্বাভাস ভেবে
হাঁড়িকাঠের ঠিকানা পেয়েছিল শরীর ও সময়।
তারপরেও
সমস্ত ভুলে বিভ্রান্ত হয়ে পড়লে
জমিন চিরে দিয়েছিল লাঙল তড়িৎ।

কেন?
কেন আমাদের স্পর্শ, ঘামে, নির্বাপিত কামে,
নির্মোহ শোকে ভেজা নিঃসঙ্গ যামে।
অনাহুত আগন্তুক কেউ
টোকা দিয়েছিল অনড় দ্বারে?

যখন
শেষ অবলম্বন মৌনতায় ডূবে গিয়ে
কারো কখনও হয় নি বলা,
"ভালোবাসি অন্ধকার..."

বিশুদ্ধ
শ্বদন্ত কেটে বসলে শাঁসালো জিঘাংসায়
আমাদের রক্তমাংসের শরীরে;
কি এক আকুলতায় আঁকড়ে ধরেছ
প্রাগৈতিহাসিক সময়!
অথচ ওতে কোন লাভ নেই...

এরচেয়ে
বরং পচে-গলে মিশে যাও মৃত্তিকায়;
আমরা খুঁটে খুঁটে শব্দগুলো কুড়িয়ে নেবো।



[৩ রা ডিসেম্বর, ২০১০]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~


এখন কিংবা তখন...

স্মৃতি জিনিশটা কোনও এক শাদা চুলের ডাইনীর মতো বসে আছে ঘোলাটে অন্ধকার একটা হোটেল রুমে, আর এই হোটেলের নাম 'ইনসমনিয়া'। সেই ডাইনী যখন তখন নিজ শরীরে নিষ্ঠুর কাঁচি চালিয়ে ঝাপসা করে দ্যায়, কিংবা সময়ের সাথে ঘষা খেয়ে খেয়ে ধুলোর গন্ধ জোটায়। রঙিন ছবিগুলো এখনও ধূসরপ্রবণ, কখনও আবার ওদের উপর ইরেজার চলে অন্য লেয়ারগুলোর।

বছর কয়েক আগে যখন...
এক কথককে খুন করে, তার লাশ গুম করে, স্ফুলিঙ্গকে আগুন করে আর রাতগুলো আরো নির্ঘুম করে আমি ফিরে এসেছিলাম এই ইঁদুরের গর্তটাতে; একবারও ভাবি নি যে এই ব্ল্যাকবোর্ড আর শাদা চকের ঠিকানা খুঁজে পাবো নতুন করে। অথচ পদ্মা দুঃস্বপ্নে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সূর্যাস্তে একঝাঁক শাদা কাক দেখাবার। যদিও পরবর্তী সন্ধ্যেয় দেখছিলাম চরের বালি এবং চায়ের দোকানে ভীড়, তবুও হাল ছাড়ি নি। কারণ লোকমুখে শুনেছিলাম কালো কাকেরা 3B পেন্সিল এবং কার্টিজ পেপারেও ভীষণ জ্যান্ত হতে জানে; আর আমিও খুঁজে রেখেছিলাম বেশকিছু ব্ল্যাকবোর্ডের ঠিকানা। খড়িমাটির রং প্রত্যাশায় আগুন বুনে দিত বলেই সেই নদীতীরের আরাধনা করে গেছি টানা আটটি বছর।

রাত্রিপ্রবণতা শুধু নখর আর শ্বদন্তই ভোঁতা করে দ্যায় নি, আলাদা একটা রক্তমাংসের মুখোশ এঁটে দিয়েছে শরীরের উপর; হারিয়ে গেছে বর্ণ-গন্ধ-শোক-স্বাদ আর দিন। অবশেষে পাটকাঠির মত পলকা হয়ে যাওয়া এই অস্তিত্ব নিয়ে নিতান্তই অনিচ্ছায় এক বালুঝড়ের সামনাসামনি দাঁড়িয়েছি, কারণ এবার সময় এসেছে পুরনো শব্দগুলোকে টিনের বাক্সে পুরে ঝাঁকিয়ে দেখবার...



[২৬ শে অক্টোবর, ২০১০]
উৎসর্গঃ অন্ধ আগন্তুক
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

আটকে পড়া সময়ে

ছেঁড়া প্যান্টের টুকরো কিংবা মোজাইক মেঝের
ক্ষতগুলো লাল-শাদা দৃষ্টি পেঁচায় দু'আঙুলে।
ভুলে যাওয়া পঙ্গুত্বের সেই আভাস অবশেষে
ধুলো ঝেড়ে স্নায়ুর মোচড়ে হিসিয়ে উঠলে
শিয়রে কালসাপ দুঃস্বপ্ন হেনেছিল,
ওতে ছটফটিয়ে মরে গেছে মগজ।
তবুও...

ধ্বংসোন্মুখ ইজেল তারপিনের গন্ধ দ্যাখে,
আকাশ চিরে দেয়া সুচারু মেঘেরা ছিনিয়ে নেয়
পালক কিংবা সূতো। এদিকে আমি মৃত্যুদন্ড দিচ্ছি
এক এলবাট্রসের কোন উঁচু চূড়ায় দাঁড়িয়ে,
হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরে আছি দক্ষিণমুখী বাতাস।
লাগুক ঠোকাঠুকি কৃপণ স্রোতদের মাঝে,
সংকল্প হারিয়ে আছড়ে পড়ুক উড়ন্ত মাছেরা শক্ত জমিনে।

এই ত সেদিন,
একটা শালিকের মৃতদেহ ঢেকে দিয়ে এসেছিলাম
কালো বেড়ালটার চোখ এড়াতে চেয়ে।
এখন দেখি আস্তরের উপর আস্তর জমেছে
ধুলো আর কংক্রীটের; আমি বলি,
এই লোকালয় হৃৎপিণ্ড হারিয়ে ফেলেও টিকে আছে।

বালুঘড়ির ঠিক মধ্যখানে,
যেখানে সময় ক্ষণস্থায়ী...
সেখানে আটকে রয়েছি ঠোঁট বন্ধ করে।
এজন্যেই,
বৃত্তবন্দীদের আলো দেখাতে নেই।



[০২ রা নভেম্বর, ২০১০]
উৎসর্গঃ স্বদেশ হাসনাইন
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ৯:৫৮
৩২টি মন্তব্য ৩১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×