বাংলাদেশে কথিত যুদ্বাপরাধিদের বিচার নিয়ে দল / গোত্র বিশেষের লম্ফ ঝম্ফ আর হহ্নি তহ্নির শেষ নেই, ১/১১ এর অনেক পরে মূলতঃ নির্বাচন কমিশনের সাথে সংলাপে বাংলাদেশে নাস্তিক্যবাদী বাম গোষ্ঠিভুক্ত সাইনবোর্ড সর্বস্ব রাজনৈতিক এতিম এই নন ইস্যুকে ইস্যু বানানোর অপচেষ্টা করে। এরপর হঠাৎ গজিয়ে উঠে ভুঁইফোড় সেক্টর কমান্ড়ারস ফোরাম, দীর্ঘ্য ৩৭ বছর পরে এই কমান্ড়ারদের হঠাৎ করে কেন অতি মাত্রায় চেতনা উথলে উঠলো তা রীতিমত গবেষনার দাবী রাখে। ইতোপূর্বে দেশে যারা ক্ষমতায় এসেছেন তাদের কেউই মুক্তিযুদ্বের বিরোধি শক্তি ছিল বলে শোনা যায়না, তথাপিও এই সেক্টর কমান্ড়ারসগন সে সময় তাদের এহেন গুরুত্বপূর্ন দাবী রেখে কি কারনে এত দীর্ঘ্য সময় কুম্ভকর্ন সেজে ছিলেন? সে কথাই মূলতঃ বলার চেষ্টা করব আজ। বিএসএফ সন্ত্রাসীরা সিমান্তে পাখির মত গুলি করে মানুষ মারলে, দেশের অখন্ড়তার নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনিকে সহায়তা দান করলে কিংবা ফারাক্কাসহ অভিন্ন নদ-নদীতে বাঁধ দিয়ে এদেশকে মরুকরন করলে এসব কুম্ভকর্নদের চেতনা জাগ্রত হয়না। অন্ততঃ বিগত ৩৭ বছরে তারা এ নিয়ে টুশব্দ করেছে বলে জানা নেই, এক্ষেত্রে তাদের কন্ঠ বোবা আর কলম ভোঁতা হয়ে যায়।
আসলে সেক্টর কমান্ড়ার ফোরাম একটা আওয়ামি ফ্রন্ট, সমগ্র দেশবাসি আর বিশ্ব যখন বাংলাদেশে একটি নির্বাচনের জন্য উম্মুখ, তখন এই ফারমের লোকগুলো কার পারপাস সার্ভ করছে, তা ভাববার বিষয়। আদালতে প্রমানিত হওয়া দুরের কথা মামলা হবার আগেই যাদের বিরুদ্বে যুদ্বাপরাধী বলে কুৎসা রটানো হচ্ছে, তার আইনী ভিত্তি বা যৌক্তিকতা কি তা স্বঘোষিত দন্ড়মুন্ড়ের কর্তাদের কাছে জানতে চাই।
যুদ্বাপরাধি যদি থেকে থাকে আর যদি তাদের বিচারই করতে হয়, তবে তৎকালিন পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বি (ইচ্ছায় / অনিচ্ছায়) সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি, সামরিক, আধা সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা, কর্মচারি সবাইকে এ বিচারের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু বর্তমানে বিহ্নিত আওয়ামি দালালগুলো কি তেমন নিরপেক্ষ বিচার চাইছে? তেমনটা করতে গেলে অনেক আওয়ামি রথি মহারথি, চেলা চামুন্ড়া ধরা খেয়ে যাবেন যারা বর্তমানে কালো কোট গায়ে ঝুলিয়ে মুক্তিযোদ্বা সেজে কাকের মত এক পায়ে নেচে বেড়াচ্ছেন, তেমনটি হলে লোম বাছতে গিয়ে কম্বল উজাড় হবার দশা হবে। তাই তারা কেবল উদ্দেশ্য মূলক একটি বিশেষ দলের গায়ে যুদ্বাপরাধের তকমা লাগিয়ে তাদের বদ করতে উঠে পড়ে লেগেছে ... যা অত্যন্ত গর্হিত।
ইসলামি আদর্শের বিপরীতে আওয়ামি দালালদের কাছে এমন কোন কার্য্যকরি আদর্শ নেই যা নিয়ে তারা জনমত গঠন করতে পারে কিংবা নির্বাচনে পার পেতে পারে, তাই তারা রাজাকার যুদ্বাপরাধি ইস্যুটিকে যুগের পর যুগ জিইয়ে রেখে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ জানে ও বিশ্বাস করে ধর্মনিরপেক্ষতা কোন মুসলমান মেনে নিতে পারেনা, এটা ইসলামে হারাম।
বাঙালী সংস্কৃতির নামে বৈশাখি উৎসব, বসন্ত বরন, বর্ষা বরন, যুবক যুবতিদের পেটে-গালে উল্কি আঁকা, মঙ্গল প্রদ্বীপ জ্বালানো ... ইত্যাদির অপসংস্কৃতির আমদানিকারক আর পৃষ্ঠপোষক হলো এই ধর্মনিরপেক্ষতার দালাল সম্প্রদায় এবং এসকল ভ্রাম্মন্যবাদি দালালগুলো এদেশের ইসলামি রাজনীতি, ইসলামি সংস্কৃতির বিরুদ্বে কখনো জঙ্গীবাদের নামে, কখনো ফতোয়াবজির নামে, কখনো যুদ্বাপরাধের নামে আবার কখনো নারী অধিকারের নামে প্রতিনিয়ত নানাবিধ কুচক্রান্ত করছে এবং তারা জানে ইসলামি ও জাতীয়তাবাদি শক্তিকে নিঃশেষ করতে না পারলে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ বা ভ্রাম্মন্যবাদি সংস্কৃতি এদেশে প্রতিষ্ঠা করা যাবেনা। বলা হয় দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে কারো কাছে বিচার চাওয়া যায় কিন্তু সাংস্কৃতিক আগ্রাসন হলে তার কোন বিচার চাওয়াও যায়না। আমরা আজ রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি সব আগ্রাসনের শিকার। আর এই আগ্রাসনের নায়ক হলো তথাকথিত এই চেতনাবাজ পান্ড়বগুলো, এদের এখনই চিহ্নিত করা দরকার, আগামি নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে এদের রুখতে হবে।
আজ তারা ১৪ দলিয় জোট করেও বুঝতে পারছে তাদের নির্বাচনে সংখ্যাঘরিস্টতা অর্জনের সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায়, কারন ১৪ দলে যারা আছে বিগত নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত মোট ভোটের হার দশমিক শূন্যের পরে (০.০২%), প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি কে বহুধা বিভক্ত করে দুর্বল করে দেয়া হয়েছে, বাকি ইসলামি শক্তি কে কুপোকাত করতে সময়ে অসময়ে এই যুদ্বাপরাধ আর রাজাকারের ধূয়া। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর এই চিহ্নিত দালাল গুলো বিএনপি জামায়াত জোট ভাঙার জন্য হেন কোন কুটকর্ম নেই যে করেনি, কিন্তু সফল হয়নি।
তাদের মধ্যে মূলত সেই শংকাই কাজ করছে; আবারও যদি বিএনপি জামায়াত জোট হয় তাহলে ভোটারহীন বাম রাজনৈতিক এতিম দিয়ে সংবাদ মাধ্যমে আতলামি করা গেলেও নির্বাচনে জেতা যাবেনা। তাই তারা আজ ইসলামি ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বিরুদ্বে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
যুদ্বাপরাধির বিচার হউক - তা সবাই চায়, তবে তা নিয়ে রাজনীতি হতে দেয়া যায়না, তথ্য প্রমান দিয়ে আইনের মাধ্যমে অপরাধি প্রমান করে শান্তি দেয়া হউক, তবে বিভিন্ন ফোরাম নাম দিয়ে চিহ্নিত দালালগুলো যা করছে, তাতে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট হবে, নির্বাচনে বিঘ্ন ঘটতে পারে, তাই এসকল দালালদের এখনই রুখতে হবে, প্রতিহত করতে হবে।
আর শুধু যুদ্বাপরাধির বিচার নয়, স্বাধীনতার পর হতে এ যাবত যারা মুক্তিযুদ্ব নিয়ে চেতনাবাজি, রংবাজি, ভেল্কিবাজি, চাদাবাজি, খুন-লুট, দখল ধর্ষন, রাহাজানি করেছে ... তাদেরও বিচার হউক - এটাই জনগনের প্রত্যাশা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

