কথা হয়েছে," দৈনিক না পারি প্রতি শুক্রবার একবার করে ফোন দেবো।' আমি তার কথা মতো সকাল ৭.১০ এ ঘুম থেকে উঠেছি। বাংলালিংকের অফার ধরার জন্যই এত সকালে ওঠা।
ফোন দেয়নি বলে মন খারাপ না করে আবার ঘুমোলাম। ১০ টার দিকে ছোট ভাই ফোন করে জানালো "সেজ ভাই, মেজ ভাই আসছে, তুই কি বাড়িতে আসবি?' ভাইরা কেউ বাড়িতে আসলে আমি কোনমতেই হলে মন টেকাতে পারিনা। রুমমেট হাসানের কাছে মিলটা ৩০ টাকায় বেঁচে (মিল কেনাবেচাঁর বিষয়টা আপনাদের কাছে একটু খারাপ লাগলেও এটার শানেনুযুল শুনলে মোটই খারাপ লাগবেনা) রওয়ানা হলাম।
দপদপিয়া ফেরী ঘাটে এসে ঘটনাটা ২৭ নম্বর সিটে বসে উপভোগ করলাম।
বরাবরের মতো একজন অন্ধ ভিক্ষুক আমাদের সিটের কাছাকাছি আসলো। আমি জানালার পাশে। আমার পাশে যে মুরব্বী তিনি একটা ছেড়া শার্ট আর পুরনো, ময়লা একটা লুঙ্গি পরে কোন করম কথা বিনিময় ছাড়াই সেই একঘন্টা ধরে বসে আছেন। মুরব্বী আমার চাইতেও অনেক গরবী। আমার পরনে তো ৫০০ টাকা দামের জিন্স, পায়ে মাত্র দেড় বছরের পুরনো একটা জুতো। গায়ের শার্টটা মেজ ভাইর কাছ থেকে রেখেছি বলে দাম জানিনা। চার পাঁচশ টাকা হবে। সে হিসাবে ঐ মুরব্বীর চেয়ে আমি অনেক ধনী।
অন্ধটা এসে যখন একটা টাকার জন্য আমাদের দিকে হাত পাতলেন আমি তখন আমার প্রিয় বন্ধুটাকে ম্যাজেজ করার জন্য আমার ১১০০ মডেলেল সেটটা বের করি। ( অন্ধের দিকে তাকালে হয়তো মায়া লাগতে পারে বলে কেমন কায়দা আমি শিখেছি দেখছেন!) আমার পাশের মুরব্বী পকেট থেকে একটা ১ টাকার কয়েন বের করলেন। আমি আড়েআড়ে মুরব্বীর কয়েনটার দিকে তাকাই। কয়েনটা ভাঙ্গা, উপরের শাপলা পাতাটা দেখা যায়না। আমি মনে মনে বলি, "হোক ভাঙ্গা, তারপরওতো উনি কিছু দেয়ার জন্য তৈরী'। মুরব্বী ভাঙ্গা কয়েনটা আবার পকেটে রেখে দিলেন। এরপর খুব দ্রুত একটা বাল কয়েন খুজতে লাগলেন। অন্ধ ভিক্ষুকটা ততক্ষনে বাসের সামনে চলে গেছেন। মুরব্বী আমার পাশ থেকে খুব দ্রুত বেগে উঠে দাড়ালেন। ততক্ষণে ভিক্ষুকটা বাস থেকে নেমে গেছে। পাছে পাছে সেই মানুষটা বাস থেকে নেমে যাচ্ছেন। কেন যেন মনে হলো এখন যে বিষয়টি এখানে ঘটবে সেটা আমি সচারাচর দেখতে পারবোনা। আমি বাসের জানালা থেকে লাফ দিয়ে নেমে গেলাম।
ঐ ভিক্ষুকটার কাছে যেতে যেতে বাসটা ছেড়ে ছিল। মুরব্বী মানুষটা ভিক্ষুককে টাকাটা দিয়ে বলেন, "এহন তো বাস গেলো, আমি বাড়ি যামু কেমনে?'
হল থেকে বাড়ি আসতে আমার ৪০ টাকার বেশি কখনোই লাগেনা। আমি ৫৪ টাকা নিয়েছি। মুরব্বী মানুষটাকে দেখে আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম। আমার ভিতরের অনুভুতি গুলো কেমন যে হলো আমি বলে বোঝাতে পারবোণা। আমি তার ডান পাশে গিয়ে বলি "চাচা, আপনি যাবেন কতদুল?' ওনি বলেন 'নলছিটি'।
আমি আমার প্রিয় শহরটিতে একজন মহৎ মানুষ নিয়ে ১.১০ শে এসে পৌছাই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



