আমার প্রিয় পোস্ট
- ছবি ব্লগঃ ব্রিটিশ শাসন আমলে বাংলাদেশ - শেখ আমিনুল ইসলাম
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- পেট ফেটে যাওয়া কিছু কৌতুক-{সংগ্রহ} - নষ্ট কবি
- জাফর ইকবাল স্যারের যত বই, প্রায় ৬৪টি বই ডাউনলোড করুন এদম ফ্রী - বখতিয়ার হোসেন
- "বাঁধ ভাঙার আওয়াজ" এ ব্লগারদের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের এই মৌসুম আরও বেশি বর্ণিল হোক... - নোটিশবোর্ড
- অন্ধকার-৪.. - অ্যালন
- ঢাকার অনেক পুরাতন কিছু ছবি!! দেখুন ও শেয়ার করুন
- বজ্রাহত
- প্রিয় দুইজন ব্লগারকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা : শুভ জন্মদিন 'আহমাদ মোস্তফা কামাল'; শুভ জন্মদিন 'প্রিয়তমা' - একরামুল হক শামীম
- গল্প : অপেক্ষা - একরামুল হক শামীম
- তারার ফুল (কল্পগল্প) - (অ)গাণিতিক
- বীরাঙ্গনা ......... আজো ক্ষমা চাই তোমাদের কাছে........ - হনলুলু
- বৃষ্টি এবং টেলিপ্যাথী - উত্তরাধিকার
- বাক্যমুক্তি...................... (গল্প) - রন্টি চৌধুরী
- একাকিত্বের অন্ধকারে ----- - বিষাক্ত মানুষ
- অতিক্রান্ত সময়...... তুমি...... আমি...... - দেবদারু
- উৎসর্গ ....... আমার সতের বছর বয়স ...... - হনলুলু
- ঘুমের আবেশে,ভালোবেসে... - ২য় জীবনানন্দ
- বাবা তোমায় ভালোবাসি - একরামুল হক শামীম
কিংবদন্তী ঢাকার মসলিন (পর্ব-২)
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ রাত ২:৩৯
কিংবদন্তী ঢাকার মসলিন (পর্ব-১)
মসলিন তৈরি করার জন্য দরকার হতো বিশেষ ধরনের তুলা, ফুটি কার্পাস। এ বিশেষ ধরনের কার্পাসটি জন্মাতো মেঘনা নদীর তীরে ঢাকা জেলার কয়েকটি স্থানে। একদম ভাল মানের কার্পাস উৎপন্ন হত মেঘনার পশ্চিম তীরে। শ্রীরামপুর, কেদারাপুর, বিক্রমপুর, রাজনগর ইত্যাদি স্থানগুলো ফুটি কার্পাসের জন্য বিখ্যাত ছিল। আজকের যে কাপাসিয়া নামটি আমরা জানি তা এসেছে এই কারপাস হতে। মেঘনা এমনিতেই খুব বড় নদী, তার উপর সমুদ্রের কাছাকাছি আবার বর্ষাকালে নদীর দু'কূল ভেসে যেত। তার ফলে যে পলি জমতো তার কারনেই ফুটি কার্পাসের উৎপাদন খুব ভাল হতো এসব স্থানগুলোতে। কিন্তু একজন কার্পাস চাষী একবিঘা জমিতে ভালমানের মসলিন তৈরির জন্য মাত্র ছয় কেজির মতো তুলা পেত। তাই মসলিনের চাহিদা যখন খুব বেড়ে গেল, সেই সময় ভারতের গুজরাট হতেও তুলা আমদানি করা হতো- কিন্তু ওগুলো দিয়ে ভালমানের মসলিন তৈরি করা যেত না- যা হতো তা খুব সাধারন মানের হতো।
সাধারনত, মহিলারাই সুতা কাঁটা আর সূক্ষ্ম সুতা তোলার মত পরিশ্রম এবং ধৈর্যের কাজে নিয়োজিত ছিল। সুতা তোলার সময় কম তাপ এবং আর্দ্রতার দরকার হতো। তাই একেবারে ভোর বেলা আর বিকালের পরে এ কাজ করা হতো। মজার ব্যাপার হলো- আর্দ্রতার খোঁজে অনেক সময় এমনকি নদীতে নৌকার ওপর বসে সুতা কাটার কাজ চলত। একজন মহিলা এভাবে প্রতিদিন সুতা কেটেও মাসে মাত্র আধা তোলা সুতা তুলতে পারতেন। এই পরিশ্রমসাধ্য কাজের কারণে দক্ষ সুতা কাটুনির সংখ্যা অনেক কমে আসতে থাকে উনিশ শতকের শুরু থেকেই। জানা গিয়েছে- এই রকম সূক্ষ্ম সুতা কাটার কাজ অঞ্চল ছাড়া অন্য কোথাও এতোটা ভাল হতো না । এর কারণ ধরা হয় দু'টো- ঢাকার ফুটি কার্পাস আর শ্রমিকের দক্ষতা ও পরিশ্রম।
বিভিন্ন সুত্র হতে যা জানা যায়- ১৮৫১ সালে লন্ডনে এক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ঢাকা হতে কিছু মসলিন পাঠানো হয়। সেখানে এক পাউন্ড সুতা দেখানো হয়েছিলো যা প্রায় আড়াইশো মাইল ছিল !! আরও মসলিন সম্বন্ধে, "মর্নিং ক্রনিকল" পত্রিকায় লিখা হয়- হাবিবুল্লাহ তাঁতির বোনা দশ গজ লম্বা একখন্ড মসলিনের ওজন মাত্র তিন আউন্স !!
মসলিন তৈরির কাজটি ছিল ভীষন জটিল, কঠিন, সময়সাধ্য- তারচেয়েও বড় কথা হলো সেটা তৈরির জন্য দরকার হতো অসামান্য নৈপুণ্য আর আসুরিক ধৈর্য। মোটামুটি যে ক'ধাপ পেরিয়ে তৈরি হতো মসলিন সেগুলো হলো; সুতা নাটানো, টানা হোতান, সান বাঁধা, নারদ বাঁধা, বু-বাধাঁ, আর সবশেষে কাপড় বোনা । এসব শেষে একজন তাঁতি আর তার দু'জন সহকারীর লাগতো কমপক্ষে দু'তিন মাস।
মসলিন তৈরি শেষে ওগুলো ধোয়া হতো। সম্রাট আকবর এর আমালে সোনারগাঁ'র কাছে এগোরো সিন্ধুর পানি কাপড় ধোয়ার জন্য প্রসিদ্ধ ছিল। আসলে এটা যে শুধু পানির গুনে হতো তা নয়, এর সাথে ছিল ভাল ক্ষার বা সাবান আর ধোপার দক্ষতা। মসলিন ধোবার জন্য রীতিমতো একটা শ্রেনীর মানুষই তৈরি হয়েছিল। আঠারো শতকের গোড়ায় একখন্ড মসলিন
ধোয়ার খরচ পড়তো দশ টাকা। আবার ধোয়ার সময় কাপড়ে কোন দাগ লাগলে বিভিন্ন ফলের রস দিয়ে সেটা তুলে দেয়া হত। কাপড় ধোবার সময় কোন সুতা সরে গেলে সেটা ঠিক করতো দক্ষ রিফুকাররা, তাদেরকে বলা হতো নারোদিয়া। এরপর শঙ্খ বা ছোট মুগুর দিয়ে পিটিয়ে মোলায়েম করা হতো। মোলায়েম করার সময় ছিটানো হতো চাল ধোয়া পানি। একাজে নিয়োজিতোদের বলা হতো কুন্ডুগার। তারপর সাবধানে ইস্ত্রি করা হতো মসলিন। কোন কোন মসলিনে ছুঁচের বা চিকনের কাজও করা হতো।
কোন কোন সময় রঙও করা হতো। ঢাকার চিকনের কাজেও যথেষ্ট সুনাম ছিল, এখনও আছে । এরপর কাপড়গুলোকে ভালমতো প্যাক করা হতো, একাজ যারা করতো তাদের বলা হতো বস্তাবন্দ। ইংরেজদের কারখানা ছিল তেজগাঁও-এ (অন্য আরেকদিন সুযোগ পেলে তেজগাঁও এর নামকরন হয়েছিলো কিভাবে তা আলোচনা করবো)। কেনা মসলিন ওখানে এনে ধোয়া থেকে শুরু করে প্যাক করার কাজ শেষ করে পাঠিয়ে দেয়া হতো কলকাতায়-সেখান হতে ইউরোপে।
-- চলবে--
লেখাটির বিষয়বস্তু(ট্যাগ/কি-ওয়ার্ড): মসলিন, কিংবদন্তী ঢাকার মসলিন (পর্ব-১), মসলিন, কিংবদন্তী ঢাকার মসলিন (পর্ব-১) ;
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৯ রাত ১:০৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন:
গুড পোস্ট । +++++
লেখক বলেছেন:
অনেক ধন্যবাদ বি মা ভাই।
ভাঙ্গা পেন্সিল বলেছেন:
জোস তো...আগের পর্বের চাইতে এই পর্ব আসতেও টাইম বেশি নিছে, রিসার্চও ভালোই করছেন !
লেখক বলেছেন: হুমম, অনেক দিন হতেই একটু একটু করে সংগ্রহ করছি আদি ঢাকার হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো। অনেক গুরুত্বপূর্ন তথ্যই তো হারিয়ে গিয়েছে চির দিনের জন্য ।
অনেক ধন্যবাদ ।
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
তুমি দেখা যায় ভালো গবেষণা করে পোস্ট দিচ্ছো। তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করে পোস্ট দিলে লেখাটা আরো ভালো হতো।শুভেচ্ছা থাকলো।
"আজকের যে কাপাসিয়া নামটি আমরা জানি তা এসেছে এই কারপাস হতে।"
তাই নিকি?
আমার বাড়ি কিন্তু কাপাসিয়া
লেখক বলেছেন: আসলে তথ্যগুলো তো সব অনেক ঘুরে ঘুরে অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা ।
বাহ, তুমি তাহলে কাপাসিয়ার মানুষ
পতত্রী বলেছেন:
ভাল লাগল।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পতত্রী
পতত্রী বলেছেন:
"ঢাকাই মসলিন" নামে একটা বই পড়েছিলাম মুনতাসীর মামুনের লেখা।ধন্যবাদ আমার পছন্দের বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ পতত্রী আবারো ![]()
একরামুল হক শামীম বলেছেন:
লেখক বলেছেন: আসলে তথ্যগুলো তো সব অনেক ঘুরে ঘুরে অনেক কষ্ট করে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করা ।সেই তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ কইরো পারলে।
লেখক বলেছেন: পরের বার এই ব্যাপারে আরো লক্ষ রাখা হবে ![]()
লেখক বলেছেন: এই কথায় এতো হাসির কি আছে ![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ হনলুলু ভাই...![]()
কেমন আছেন?
এক কান দিয়ে পড়ি চোখ দিয়ে ভুলে যাই
অনেক কিছু জানলাম আপনার লেখা থেকে।
লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ নিঃসঙ্গ ভাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কান দিয়ে পড়ে ফেললেন....![]()
রাজর্ষী বলেছেন:
অনেক কিছু জানলাম। ভালো লাগলো। তবে কাপাসিয়া কিন্তু মেঘনা নদীর ধারে কাছের না। আমার বাড়িও কাপাসিয়ার আশেপাশেই।তথ্যসুত্রগুলো দিয়ে দিলে আপনার লেখাটাই অনেকের রেফারেন্স হয়ে যাবে।
লেখক বলেছেন: আসলে এই তথ্যগুলো কোন বই কিংবা অনলাইন থেকে কপি করে নেয়া হয়নি, অনেকদিন থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পড়ে তীব্র এক জানার আকর্ষণ থেকে একটু একটু করে সংগ্রহ করেছি তথ্যগুলো...নিজের সেই জানাটাকে সবার সাথে শেয়ার করার উদ্দেশ্যেই আমার এই লেখা...আপনাদের কাছেও যদি কোন রেফারেন্স থাকে আমাকে জানাতে পারেন।
খোলা_আকাশ বলেছেন:
এত কষ্ট করতাছেন!
লেখক বলেছেন: চিন্তা করতে পারেন, আমাদের এই প্রিয় শহর ঢাকা- ৮০০ বছরের মতন পুরোন, যার অনেক কিছু হারিয়ে গেছে..যা আমরা আর কোনদিন ফিরে পাবনা, কত কি সুখ-দুঃখের স্মৃতি, কত হাসি কত কান্না মিশে আছে এই শহরের অলিতে গলিতে, ভাঙ্গা ইটের আস্তরণে তার কতটুকুইবা আমাদের জানা...সেই বিশাল অজানা থেকে সামান্য এতটুকু জানা আপনাদের সাথে শেয়ার করার মাঝে এমন কিবা কষ্ট আছে।
এত বড় একটা লেখা পড়ার কষ্ট করার জন্য আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।
লেখক বলেছেন: অনেক অনেক ধন্যবাদ আর শুভেচ্ছা রইল শুভ্র দেব রায় সাথে থাকার জন্য।
রাশেদ বলেছেন:
জ্বি, আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ আমাদেরকে ইতিহাস জানিতে সাহায্য করিবার জন্য। জাতি আপনাকে যুগ যুগ এজন্য দিক্কার দেবে! লেখক বলেছেন: আপনাকেও অনেক অনেক দিক্কার জানাই সাথে থাকার জন্য ও মূল্যহীন মন্তব্য করার জন্য
তামিম ইরফান বলেছেন:
দারুন পোষ্টরে ভাই............অনেক কিছু জানতে পারতেছি..........."মুগুর দিয়ে পিটিয়ে মোলায়েম করা হতো" মুগুর দিয়া পিটাইলে তো ভর্তা হয়ে যাওয়ার কথা
লেখক বলেছেন: আপনি নিশ্চই জীবনে অনেক মুগুরের পিটানি খাইসেন নাইলে বুঝলেন কেমনে মুগুর দিয়া পিটাইলে ভর্তা হয়...![]()
নিহন বলেছেন:
চলুক ................
লেখক বলেছেন: অনেক শুভেচ্ছা আর ধন্যবাদ নিহন...
জেরী বলেছেন:
ভালো পোস্ট.....+++@শামীমা ভাই
আপুনিকে ব্লগে কম দেখি যে??
লেখক বলেছেন: থাঙ্কু জেরী'পু ![]()
পোস্টটা সময় পেলেই এক এক করে দিতে চেষ্টা করব।
আসলে ক্লাস আর কাজের চাপে নিয়মিত আজকাল আসা হয়না ব্লগে![]()
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।
সোহরাব সুমন বলেছেন:
এই তথ্য বহুল পোস্ট থেকে আরো অনেক কিছু জানলাম!
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
















