somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... মুক্তির আগমনে... (গল্প)

[১]
কুয়াশার চাঁদর ভেদ করে ভোরের নরম আলো উঠোনে প্রবেশের কিছু বাকি থাকতেই শ্যামলীর হঠাৎ করে ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। কানে ভেসে এলো আযানের শেষ ধ্বনিটুকু। গতরাতের অস্থিরতার রেশ যে এখনো কাটেনি ঘুমটা ভাঙ্গতেই অনুভব করল সে। সারারাত তার ছটফটানির কারনে পাশে শুয়ে থাকা আম্মাও ঠিক মতো ঘুমাতে পারেন নাই। আবার এই সময় তাকে কোন মতেই রাতে একলা ঘরে শুতে দিবেননা আম্মা। অবশেষে এই ভোররাতে তার চোখটা একটু লেগে এসেছে।

একটু কিছুক্ষণ চুপচাপ শুয়ে থাকলো শ্যামলী, বুকের মাঝের অস্থিরতাটা আরো বেশি করে যেন বুঝতে পারলো এই সময়টুকুতে।
আস্তে করে বিছানা থেকে নেমে, গায়ে ভালোমতো শালটা জড়িয়ে পা টিপে টিপে দরজা খুলে উঠানে গিয়ে দাড়ালো শ্যামলী। এক ঝলক শীতল বাতাস এসে ছুঁয়ে দিয়ে গেল তাকে।
কুয়াশার আবছা পর্দায় ঢেকে আছে চারিপাশ। উঠোনের ডান পাশের কলতলায় যেয়ে আম্মার নিষেধ অমান্য করেই কল চেপে ঠান্ডা পানি দিয়ে তৃষ্ণা মেটাতে গিয়ে টের পেল সে বুকের মাঝের অতৃপ্তি তবুও বিরাজমান।

এতটুকু উঠোন পেরিয়ে দাওয়ায় এসে উঠতে উঠতে এই শীতের মাঝেও হাঁপিয়ে গেল সে। খুঁটি ধরে একটু বিশ্রাম নিতে গিয়ে কুয়াশা আবছা চাদরে ঢাকা পুব আকাশে শূণ্যদৃষ্টি মেলে তাকালো। কতদিন পর আজ ভোরের আলো ফোটা দেখছে সে মনে করতে পারলনা...

তার সাথে দেখা নাই প্রায় তিন মাস হতে চলল। শেষবার যখন এসেছিল শ্যামলীর দুই গালে হাত রেখে যতই কাঁদতে মানা করছিল তার চোখ বেয়ে পানির ধারা সুজনের হাত চুইয়ে ততই গড়িয়ে পড়ছিল।
যাবার আগে রোজ তাকে একটা চিঠি লেখার কথা বলে গিয়েছিল সুজন। শ্যামলী রোজ তাই করে। তার যত মান-অভিমান, রাগ-অভিযোগ, নতুন অনুভূতির কথা, ভাবনাগুলো কাগজের পাতায় পাতায় সুজনের জন্য জমিয়ে রাখে সে।

এসব কোন কিছুতেই আজকাল আর মন মানাতে পারেনা শ্যামলী, শুধু সুজনের বলে যাওয়া শেষ কথাগুলো আকড়ে ধরে আবার নতুন করে বুক বাঁধে সে।
এসব ভাবতে ভাবতেই হু হু করে ওঠে তার বুক, আলতো করে পেটের কাছে রাখা সুজনের সৃদশ্য হাতটার উপর হাত রাখে শ্যামলী।
সুজনের বেল যাওয়া শেষ কথাগুলো মনের মাঝে বেজে উঠে তার,
"এই যে সোনা বউ আমার, এই যে আমার অস্তিত্ব তোমার সাথে রেখে যাচ্ছি...আমাদের এই স্বপ্নের 'মুক্তি' যেন নতুন দেশের নতুন মাটিতে মুক্ত পাখির মতো হেসে খেলে বড় হতে পারে সেই ব্যবস্থাই না করতে যাচ্ছি। পাশে থাকবে না? এই তো আর কিছুটা দিন বউ!...তারপরই দেখো...

ডিসেম্বরের কনকনে শীত ততক্ষণে আক্রমন করা শুরু করেছে বেশ জোরেশোরেই। ঘরে ঢুকতে ঢুকতে ফিসফিস করে বলে উঠল শ্যামলী, "তোমার পাশে সব সময় ছিলাম, আছি, থাকবো, সুজন। আমাদের স্বপ্নের স্বাধীনতা নিয়েই ফিরে এসো তুমি..."

ঘরে ঢুকে বিছানায় শুতেই আম্মা চোখ মেলে কপালে মায়া ভরা হাত রেখে জিজ্ঞাসা করে ওঠেন, শরীর কি খুব খারাপ লাগছে, মা? হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে পাশ ফিরে শোয় শ্যামলী। এই বুক ভরা চাপা কষ্ট কি শুধু তার একারই কষ্ট নাকি তার মতো আরো শত শত নারীর প্রতিমুহূর্তের আতংকিত প্রতীক্ষার কষ্ট ভাবতে ইচ্ছা করছেনা আর!

-------------------------------------

আম্মা নামায শেষ করে নাস্তা বানাতে বসতে না বসতেই আব্বা মসজিদ থেকে ফিরে আসেন। নাস্তা সেরেই আবার তিনি বাইরে বেড়িয়ে যাবেন, ফিরবেন সেই দুপুরে খাবার সময়ের আগে দিয়ে। প্রতিদিনই নতুন কোন না কোন খবর নিয়ে আসবেন তিনি। আর খেতে বসে আম্মার সাথে আলাপ করবেন সেসব খবর নিয়ে। বিছানায় শুয়ে শুয়েই সব শুনতে পায় শ্যামলী।

-------------------------------------

আজ দুপুরে হাতের রান্নাটা শেষ করার আগেই মেয়ের তীব্র ব্যথায় অস্থির হয়ে পড়লেন শ্যামলীর আম্মা। ছোটাছুটি করে দুই ঘর পরের মজিদকে ডেকে এনে- প্রথমে বাজারে শ্যামলীর আব্বাকে খবর দিয়ে তারপর পাশের গ্রামের সখিনা দাইকে ডেকে আনতে পাঠালেন তিনি। এরপর হাতের সব কাজ ফেলে মেয়ের মাথার কাছে বসে ঢিপঢিপ বুকে দোয়া পড়তে পড়তে অপেক্ষা করতে থাকলেন ...

---------------------------------------

...মাগরিবের আযান শেষে সন্ধ্যার আঁধার নামা শুরু হতেই বাড়ির উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া এক ঝাঁক কাকের কর্কশ কা-কা ধ্বনি ছাপিয়ে রহিম মাস্টারের বাড়ি থেকে তীক্ষ্ম নতুন এক কন্ঠের আগমনী বার্তা সকলের কানে ভেসে এলো...


[২]
বাজারের শেষ মাথায় খোলা একমাত্র জব্বর মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে রহিম মাস্টার বসে আছেন। একটু আগে বাড়ি যাওয়ার জন্য মজিদ এসে তাকে খবর দিয়ে গেছে। তবুও তিনি বসে আছেন।
এখানে আসার পর থেকেই লোকমুখে কানা-ঘুষা শুনতে পাচ্ছেন আজ সন্ধ্যায় গ্রামের পুব পাশে পাকবাহিনীর ঘাঁটিতে নাকি মুক্তিবাহিনী আক্রমণ করবে।

সাঁকো পার হয়ে আসার সময় ঝোপের আড়াল থেকে হঠাৎ করে শফিক বের হয়ে এসে ব্যাপারটা আগেই রহিম মাস্টারকে নিশ্চিত করে দিয়ে গেছে। ফিরে যেতে যেতে মাস্টারের চেহারা দেখে তার মনের সন্দেহটারও উত্তর দিয়ে গেছে শফিক।

সব কিছু জেনেও তিনি চুপচাপ বসে আছেন। যদিও পরপর দুইটা এমন খবর শুনে এখন তার এখন খুশিতে বাড়ি যাবার কথা, শ্যামলীর মাকে ভালো- মন্দ কিছু রান্না করতে বলার কথা। কিন্তু কেন জানি আজ কোন কিছুই ভালো লাগছে না।

ঠান্ডা চায়ের কাপ হাতে দোকানে বসে থাকতে থাকতেই সেই কত বছর আগের স্মৃতিগুলোর কথা মনে পরে গেল রহিম মাস্টারের। ক্লাসের সেই ছোট্ট বুদ্ধিমান উজ্জ্বল ছেলেটাকে বরাবরই তার ভীষণ ভালো লাগতো। ছেলেটার আচার-আচরন, আত্মবিশ্বাস, তার প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা সব কিছুই রহিম মাস্টার খেয়াল করতেন।

চোখের সামনে বড় হয়ে যাওয়া এই ছেলোকেই অবশেষে নিজের একমাত্র মেয়ের জামাই হিসাবে পেয়ে তিনি গর্ব করতে ভোলেননি কখনো।
এই সুজনই যখন তার কাছে এসে অনুমতি চাইল - তিনি শুধু একজন বাবা হয়েই না, আগত নতুন অতিথির কথা ভেবেও সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় নিয়েছিলেন।

অবশেষে সুজনেরই জয় হয়েছিল। আরো শত শত মানুষের মতো দেশের জন্য শুধু যে তিনিই তার এই ছেলেটিকে উৎসর্গ করে দিলেন তাই নয়- একজন স্ত্রী তার স্বামীকে, একজন অনাগত সন্তান তার বাবাকে বিসর্জন করে দিয়েছে। রহিম মাস্টারের আজ বারবার কেন জানি এ কথাটাই মনের মাঝে ঘুরপাক করছে।

-------------------------------------------

আজ সুমন চার মাস পর গ্রামে ফিরবে। ভাবতে ভাবতেই চোখ বুঁজে তিনি দেখতে পেলেন , আত্মবিশ্বাসী, সাহসী- নির্ভীক এক যোদ্ধাকে। তার উজ্ঝল চোখ জোড়াতে দেশের প্রতি আগাধ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা স্পষ্ট। দৃঢ় প্রতিজ্ঞ লক্ষ্যে আটল এক যোদ্ধা এখন সে...

--------------------------------------------

মাগরিবের নামায শেষ করে সন্ধ্যার আঁধার নামা শুরু হতেই অবশেষে অনিচ্ছা নিয়ে রহিম মাস্টার বাড়ির পথে পা বাড়ালেন। মনটা এক গভীর বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন তার...

কিছু পথ যেতে না যেতেই দূর গ্রামের পুব পাশ থেকে ভেসে আসল চাপা টানা কিছুক্ষণ গোলাগুলির আওয়াজ। থমকে দাঁড়ানো রহিম মাস্টারের মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাওয়া এক ঝাঁক কাকের কর্কশ কা-কা ধ্বনি সেই আওয়াজকে ছাপিয়ে দিয়ে কানে ভেসে এলো...


]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28876560 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28876560 2008-12-01 01:48:00
:::: লাল-সবুজ ::::
লাল সূর্যের কোমল আভায়
সবুজ ঘাসের শিশির কণা
ভোরের আলোয় ঝিকিমিকি
স্বপ্নমাখা এক আলপনা।

লাল বরণ রক্ত জবা
সবুজ সজীব পাতার দোলায়
নতুন প্রাণের আশা জাগায়
দুঃখ দিনের ক্লান্তি ভোলায়।

লাল টুকটুক নতুন বঁধু
সবুজ বনের পথের গাঁয়ে,
পালকি চলে দুলকি চালে
সুখের খোঁজে নিজ আশ্রয়ে।

লাল রক্ত, রক্ত লাল
সবুজ মাটির আমার দেশ
লাল-সবুজের মায়ায় ঘেরা
স্বাধীন আমার বাংলাদেশ।



...<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28875590 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28875590 2008-11-29 00:33:03
তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে... কতদিন পর আজকে ব্লগে লিখতে বসলাম <img src=" style="border:0;" /> ! বাংলা টাইপ করতেও একটু একটু ভুলে গেছি মনে হচ্ছে <img src=" style="border:0;" /> ! প্রায়ই লিখতে ইচ্ছা করে কিন্তু সময় পাইনা<img src=" style="border:0;" /> নাকি ব্ল্যাক হোল ইফেক্ট বুঝতে পারছিনা। আজকাল কোন কিছুই ভালো লাগেনা /<img src=" style="border:0;" /> । নিঃসঙ্গতার ব্ল্যাক হোলে ঘুরপাক খাই শুধু! মাঝে মাঝে মনে হয় বেঁচে থাকতে হয় তাই থাকছি আরকি...মেঘাচ্ছন্ন মগজে হাবিজাবি চিন্তারও জায়গা হয়না...তাই লিখতে বসে কিছুই লেখার খুঁজে পাচ্ছিনা!

এখানে এখন ঢাকার তীব্র শীত এর মতো ওয়েদার শুরু হয়েছে। আস্তে আস্তে আরো ঠান্ডা পরবে। তবে সকাল বেলা ক্লাসের জন্য যখন বের হই, বুক ভরে কুয়াশার ঘ্রান টেনে নেই। কি যে ভালো লাগে তখন। মনে পরে হালকা কুয়াশার মধ্যে দিয়ে যখন ছোটবেলায় মা সোয়েটার-মোয়েটার পরিয়ে প্যাকেট বানিয়ে দিত আর বাবার সাথে স্কুলে যেতাম, তারপর যখন কলেজে যেতাম তখন এই রকম একটা ঘ্রাণ নাকে এসে লাগতো! সেদিন আবার মনে হল শুকনা পাতা পোড়ার গন্ধও পাচ্ছিলাম <img src=" style="border:0;" /> ।
ভাপা পিঠা খেতে ইচ্ছা করে তখন <img src=" style="border:0;" />

সকালের রাশ আওয়ারে এক্সপ্রেস ট্রেন পাই বলে মোটামুটি আধা ঘন্টায় ক্লাসে পৌছে যাই। মাঝে মাঝে এমন ভীড় হয় যে মানুষগুলোকে ঠেসে ট্রেনের দরজা ব্ন্ধ করতে হয় <img src=" style="border:0;" /> ! যদিও আমার কখনো তেমন একটা ওঠা হয়নি তবুও আমাদের দেশের মুড়ির টিনের কথা তখন খুব মনে হয় <img src=" style="border:0;" /> (দুলদুল <img src=" style="border:0;" /> )

অন্যসময় লোকাল ট্রেনে উঠলে থেমে থেমে চললেও মাঝে মধ্যে ভাবনার মাঝে হারিয়ে গেলে সময়টা মনে হয় জলদি চলে যায়। তবে সাধারণঃত লোকালে খালি সিট পাওয়া যায় আর পেলেই আমি বসে একটা ঘুম দিয়ে নেই<img src=" style="border:0;" />

ক্লাসে পৌঁছে ঢোকার সময় আইডি কার্ড দেখাতে হয় যখন, সিটি কলেজের সেই বিখ্যাত দিনগুলির কথা মনে পড়ে<img src=" style="border:0;" /> গলায় গরুর মালা না দেখলে....
তবু ভালো এখানে গলায় মালাখানা না পড়লেও চলে! <img src=" style="border:0;" />

ক্লাসের টেবিলগুলোতে আঁকিবুকি দেখলে ভাবি যে মানুষ পৃথিবীর যেই দেশেরই হোকনা কেন মিল একটা কোথায় জানি থেকেই যায়।<img src=" style="border:0;" />

A+B অথবা I Love You, নকল সহ আরো কত ক্রিয়েটিভ সব কারুকাজ! যদিও এখানে তুলনামূলক কম তবুও আমাদের দেশেই এই প্রতিভা শুধু দেখা যায়না!<img src=" style="border:0;" />
তবে (ওয়াক থু <img src=" style="border:0;" /> ) এখানে টেবিলগুলির নিচে সব চুইংগাম খেয়ে খেয়ে আঠাগুলো লাগিয়ে রাখে! (একদিন না জেনে হাত দিয়ে ধরে ফেলছিলাম <img src=(" style="border:0;" /> )

স্ট্যাট ক্লাসের বয়্স্ক মহিলা প্রফেসর কেমনে জানি টের পেয়ে গেছে সারা ক্লাস ওনার লেকচার শুনে হাবুডুবু খেলেও আমার তেমন একটা সমস্যা হচ্ছেনা!<img src=" style="border:0;" />
ব্যাস! এখন খালি উনি বসে বসে লেকচার দেন আর আমাকে বোর্ডে ম্যাথগুলো সব লিখতে হয়<img src=" style="border:0;" />! তবে লাভ হয়েছে সারা জীবন ক্লাসের পিছনে বসা এই আমি এখন এতগুলো চোখের সামনে দাঁড়িয়ে দিব্যি স্ট্যাটিস্টিকের সমাধান করে ফেলি <img src=" style="border:0;" /> আর ওদিক দিয়ে ভয়াবহ আ্যাংলোফোবিয়াও একটু ধুর হয়েছে মনে হয় :``>>
প্রফেসর আমাকে তার অন্য ক্লাসের এক গাড্ডু ছেলেকে হেল্প করার জন্য বলছে, ঐটারে বুঝাতে গিয়ে আমার যে এত ধৈর্য্য ছিল আবিষ্কার করেছি!! তারপরও এই লাস্ট পরীক্ষায় সে গোল্লা খাইছে!<img src=" style="border:0;" />
আমি তো এখন পালায় বাঁচি আরকি!<img src=" style="border:0;" />

আবার অন্যদিকে ইংলিশ লিটারেচার ক্লাসে লাড্ডু খেতে খতে এখন সী লেভেলের বেশ নিচের দিকে অব্স্থান করছি! এত্ত বোরিংও ক্লাস হতে পারে! <img src=" style="border:0;" /> ভালোই লাগেনা!!

কোনকোন দিন সন্ধ্যায় যখন ফিরি রাস্তাঘাটের আলো, গাড়ি, হৈচৈ শব্দ সব কিছুর মাঝে দিয়ে আমি যেন হারিয়ে যাই কলাবাগান, নিউমার্কেট, গুলশানের রাস্তাগুলোতে। (মনে হয় বুঝি তার সাথে হেটে বেড়াচ্ছি!) এখানে এত চওড়া, ভীড়হীন ফুটপথগুলোও আমার কেমন জানি অপরিচিত লাগে/<img src=" style="border:0;" />

আমার বাংলাদেশের কথা মনে পড়ে দেখে তার কথা এত মনে হয় নাকি তার কথা এত মনে পড়ে দেখে দেশে যাতে এত ইচ্ছা হয় সেসবও আজকাল আর ভাবতে ইচ্ছা করেনা.... ইচ্ছাগুলো মরেই যাচ্ছে সব! এত আলোকিত দুনিয়াতে মানুষ আসার জন্য কি না করে! আর আমি ভাগ্যক্রমে এসে পড়েও খাপ খাওয়াতে পারছিনা...

ধুর এখন আর কিছু লিখতে ভালো লাগছেনা...অনেক বকবক করে জ্বালিয়েছি। তবে ব্লগটাকে অনেক মিস করি। কম্পিউটারের সামনে বসলেই নেশার মতো টেনে আনে। কিছু লিখি বা না লিখি কিছুক্ষণ থাকলেই মনটা হালকা হয়ে যায়!

(মনে হয় পোস্টের শুরুতে লিখে দেয়া উচিৎ ইহা একটি হাবিজাবি পোস্ট<img src=" style="border:0;" />)

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28870485 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28870485 2008-11-18 00:28:51
ছবি ব্লগ: হাডসন কাউন্টি শীতের শুরুতে পাতা ঝরার উৎসবে প্রকৃতি যে
কত-শত রং-বেরঙে সেজেছে তারই কিছুটা শেয়ার করছি সবার সাথে...<img src=" style="border:0;" />






আপেল বাগান, লাল গালিচার মতো গাছগুলোর নিচে আপেল পড়ে আছে...


মিষ্টি কুমড়া বাগান, সামনে হ্যালোইউন এর জন্য সব কেটে রেখেছে


ছবির ডানদিকের ওওই চূড়ায় 'ওলানা হাউস' দেখা যাচ্ছে...








পাহাড়ের চূড়ায় একজন পেইন্টারের স্থপতি - 'ওলানা হাউজ']]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28854730 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28854730 2008-10-14 22:57:27
দর্শক! এক একটা দৃশ্যপটের দর্শক...

পরিবর্তনের অক্ষমতা উপলব্ধি
অতঃপর... অপেক্ষা... শুধু...অপেক্ষা...
কেন্দ্রীয় চরিত্রে যদিও দেখি আমারই অবস্থান!

অনুভূতিদের শক্ত পাথর স্তুপের রুক্ষ ভার
বহন করা আর কতকাল?...

অর্থহীন সব...টিকে আছে শুধু ঘৃণা...ক্ষোভ
...ব্যর্থতা...যত..নিজেকে ঘিরে...
শোধ!... অভিশাপ!... সব হাতছানি দেয়

...আর কতকাল টানতে হবে..
...আর কতকাল দেখতে হবে...
...ন্যুব্জ দেহের ব্যথা ভরা আর্তনাদ শুনতে কি পাও?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28846724 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28846724 2008-09-23 01:11:46
যাও পাখি...........♫♫ যত দূর বুক গেছে
যত দূর চোখ ভেসে যায়
যত দূর শখ আছে
যত দূর কেউ কাকে চায়

তারাদের রেণু মেখে কল্পনা যাবে যত দূরে
যাও পাখি
যাও তুমি ঘুরে

আমি মুঠো খুলে দেই
আঙুলের ডগা থেকে মহাকাশ ছুটে চলে
ছায়া ছায়া পথে নীড়
গ্রহণের কুল ঘেসে কুয়াশায় ভিজে উঠে রোদ
আমি কভু দূরে একা ঘাড় গুঁজে পরে থাকা ফোঁটার মত

পাঁজড়ের নিচে সেই চলে যাওয়া আজো আছে পরে
যাও পাখি
যাও তুমি ঘুরে

কিছু আলো ছায়া রোদ কিছু ভালোবাসা হোক
নিয়ে যাও ঠোঁটে করে ভাবনার চেয়ে দূর
স্বপ্নের রং বুকে যেন কেউ নাগাল না পায়
এখানে মাটিতে আঁকে কি করে বাঁচাবে লোকে
ছাই ওড়ে সময় চিতায়

এ জীবন আজো সেই বেঁচে থাকা ধিকি ধিকি পোড়ে
যাও পাখি
যাও তুমি ঘুরে

যাও পাখি
যত দূর বুক গেছে
যত দূর চোখ ভেসে যায়
যত দূর শখ আছে
যত দূর কেউ কাকে চায়


গানটার লিংক খুজে পাচ্ছি না<img src=(" style="border:0;" />
কেউ কি জানেন?/<img src=" style="border:0;" />]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28830673 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28830673 2008-08-14 02:32:33
আত্মতৃপ্তির নেশায় (গল্প)
মেলিপাটি পঞ্চম হাত হতে তৃতীয় হাতে বদল করে আবার খুঁজতে শুরু করল র্র। প্রথম হাতে খুব যত্নের সাথে খানিকটা গোল আকৃতির সাদা বর্ণের বস্তুটি ধরে রেখেছে সে। ক্ল্যাভিথাণ দ্বারা গঠিত এ ব্স্তুটিকে প্রতিস্থাপন করাই তার এই মিশনের মূল লক্ষ্য। প্রতিস্থাপনের পর কিছুদিনের মাঝেই (হিসাব মতে দ্বিতীয় প্রদর্শনীর আগেই) হিলিয়ামের সাথে বিক্রিয়া করে সম্পূর্ণ ভাবে মিলিয়ে যাবে তার এই জটিল আবিষ্কার। ততদিনে অনায়াসে নিরাপদে লুকিয়ে ফেলতে পারবে সে মূল বস্তুটিকে।

দ্বিতীয় টিউবটি খুঁজতে খুঁজতেই মাঝ সকালের সেই স্মৃতিটা আবারো র্র এর বুকের কাছের সেকেন্ডারি ব্রেনে ভেসে উঠল।

তাদের সারা ইউনিটে চ্র-ই একমাত্র ব্যক্তি যাকে হিসাব করে গত ফিন বছর প্যাগা ছায়াপথের পরের দুই ছায়াপথ পেরিয়ে বেশ দূরের একটি সৌরজগতের বিশেষ এক গ্রহে মহাকাশ গবেষণা ইউনিট পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিল। আর সেখান থেকে ফেরার পর হতেই তার ভাব-গাম্ভীর্যের মাত্রা এমনই কয়েক য্যা গুণ বেড়ে গেছে যে সারা ইউনিটের কাছে তা এখন নিঃসন্দেহে অসহনীয় পর্যায় ঠেকেছে। তার সেই ভ্রমণের এক ফিন বছর পূর্তি উপলক্ষেই আজ মাঝ সকালে এক বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল চ্র।

সেই অনুষ্ঠানে তৃতীয় হাতে পিটা ভর্তি গ্লাস নিয়ে চলমান পথ দিয়ে ঘুরতে ঘুরতে তার বিশাল সংগ্রশালা আমন্ত্রিত অতিথিদের দেখাচ্ছিল চ্র। অবশেষে সাত কোণ বিশিষ্ট এই বিশালাকার হল রুমটার সামনে এসে পৌঁছে অতিথিদেরকে বিশেষ গোপনীয়তা রক্ষা করার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রুমের ব্লু-রে নির্গমনের টিউবগুলো কোড প্রয়োগে সাময়িক কাল অফ করে দিয়েছিল সে। এরপর কপালের উপরের একমাত্র চোখটি নাচিয়ে নাচিয়ে মাত্রাতিরিক্ত গর্বিত কন্ঠস্বরে আমন্ত্রিত সকলের সাথে খানিকটা গোলকৃতির এই সাদা বস্তুটির সাথে পরিচিত করিয়ে দিয়েছিল চ্র। আর ঠিক সেই সময়েই তার এই আমন্ত্রণের মূল উদ্দেশ্যটা র্র এর কাছে পরিষ্কার হয়ে ধরা পড়ে গিয়েছিল।

পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে আসার আগ দিয়ে সে নাকি এই স্যাম্পল সংগ্রহ করেছে। এবং ফিরে এসে মহাকাশ ইউনিট প্রধানের কাছে বিশেষ অনুরোধ করে অবশেষে নিজের সংগ্রহশালায় এই বস্তুটিকে রাখার অনুমতি লাভ করেছে সে।
বস্তুটির অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা ঠিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রায় বিশেষভাবে এই হলরুম গঠন করেছে চ্র এবং ডবলইউ রে দ্বারা এর মধ্যকার ব্ণহীন অর্ধতরল বস্তুতে ভাসমান নরম গোলাকার কমলা বৃত্তটির গঠন রুমের মাঝের হলগ্রাফিক স্ক্রিনে দেখানোরও ব্যবস্থা করেছে...

আরো নানা ধরনের বর্ণনা দিতে দিতে অবশেষে চ্র হলরুমের আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে কিছুটা তাচ্ছিল্যের সুরে এক সময় যখন বলে উঠল যে, এর মাঝে পৃথিবীর ভাষায় প্রাণের সঞ্চার নামক জটিল এক প্রক্রিয়া ঘটে থাকে যা তাদের সাধারণ মস্তিষ্কের বোঝার ক্ষমতার বাইরে বলে সে আর এখন ব্যাখ্যা দিচ্ছেনা...., ঠিক তখনই র্র এর মেজাজ নবম স্কেলের চূড়ান্ত পর্যায়ের পৌঁছে গেল এবং ঠিক সে মূহুর্তেই তার মস্তিষ্ক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল যেভাবেই হোক এ বস্তু তাকে গাপ করে ফেলতেই হবে!

হিসাব করে আরো কিছু ফিন বছর পরে সে নিজের নামে চালিয়ে দিতে পারলেও এই মুহূর্তে বরং চ্র এর অহংকারের মাত্রা খানিকটা কমিয়ে আনাই র্র এর মস্তিষ্কে মূল উদ্দেশ্য হয়ে কাজ করছে।

র্র ঠিক যেই মুহূর্তে ব্লু-রে নির্গমনের দ্বিতীয় টিউবটা খুঁজে পেয়ে অকেজো করায় মগ্ন ঠিক সেই মুহূর্তে পাঁচ লইমা দূরে চ্র তার সামনে খোলা হলগ্রাফিক স্ক্রিনটা অফ করে দিয়ে বামপাশে ভাসমান সমতল হতে পিটা ভর্তি গ্লাসে শেষবারের মতো চুমুক দিয়ে বিশ্রাম নেয়ার আয়োজন করছে। চতুর্থ হাতের ইশারায় ঘরের নরম সবুজ আলোটাকে আরো একধাপ কমিয়ে দিয়ে একমাত্র চোখটা বন্ধ করতে করতে মাঝ সকালে নিজের আচরণের কথা ভেবে তার নিজেরই কেমন জানি হাসির মতো এসে গেল।
বোকার দল সব!

মহাকাশ ইউনিট প্রধানের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি তো দূরের কথা পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে ফিরে আসার পর তাকে নানা রকম শর্তাবলী দিয়ে বেঁধে রাখা সহ এক একটা ধূলিকণাও সব শুষে নিয়েছে মহাকাশ ইউনিট! এমন কি ফিরে আশার পর গত নিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তাকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে রাখা হত। প্রতিটা চাল-চলন তার স্ক্যান করা হত! কঠিন সব শর্তাবলী পালনের মধ্য দিয়ে তার দিন পার হত...

অবশেষে এই বছর সেসব ঝুট ঝামেলা ব্ন্ধ হওয়ার পর পরই চ্র নিজের সেকেন্ডারি ব্রেন দিয়ে পৃথিবী থেকে তুলে আনা বিভিন্ন সব ছবি দেখে দেখে কিছু মিশ্রনের সমন্বয়ে সম্পূর্ণ নিজের আবিষ্কৃত- এই খানিকটা গোলাকৃতির সাদা বর্ণের বস্তুটি দেখিয়ে কি দারুনভাবেই না সবাইকে চমকে দিল আজ!


ছবিলিংক]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28826411 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28826411 2008-08-02 01:21:19
কল্পনায় রাঙা...








[ফটোশপের কাজ আমি এখনো তেমন একটা ভালো মতো পারিনা <img src=" style="border:0;" /><img src=(" style="border:0;" /> যতটুকু পারি তাই দিয়ে মনের মাঝের কিছু কল্পনা ফুটিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছি<img src=" style="border:0;" />। আপনদের সাথে তাই একটু শেয়ার করলাম (অনেকদিন কোন পোস্ট দেয়া হয়না<img src=" style="border:0;" />)।
কেমন লেগেছে, কিভাবে আরো ভালো মতো আঁকা যেত, অথবা কোন টিপস যাইহোক কোন মন্তব্য জানাতে ভুলবেন না কিন্তু <img src=" style="border:0;" />]

অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল সবার প্রতি...
খুব্ব ভালো থাকুন সব সময়...]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28824829 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28824829 2008-07-28 04:16:12
প্রিয় ব্লগের প্রিয় ব্লগারদের প্রিয়তমার প্রিয় কিছু কথা " style="border:0;" />
কিছুদিন পর আবারও কি মনে করে আসা শুরু করলাম...বিভিন্ন জনের লেখা পড়া শুরু করলাম এবং অবশেষে ভালো লাগা শুরু করলাম... <img src=" style="border:0;" />

একদিন হঠাৎই মন্তব্য করতে গিয়ে আবিষ্কার করলাম আমাকে রেজি করতে হবে <img src=" style="border:0;" /> ...করব করব করতে করতে শেষ পর্যন্ত করেও ফেললাম।
প্রথমে যে নিক নিয়ে রেজি করেছিলাম সেটার কনফারমেশন লেটারটা ভুলে জাংক মেইল থেকে ফেলে দেয়ায় কর্তৃপক্ষ কে মেইল করে আবারো লেটার পাঠানোর অনুরোধ করলাম। তারা কিছুদিন অপেক্ষা করতে বলল।
কিন্তু যখন সেই অপেক্ষার কোন শেষ নাই টের পেলাম <img src=" style="border:0;" /> , তখন 'প্রিয়তমা' নিক নিয়ে আবার রেজি করলাম এবং অবশেষে সা.ইনের একজন সদস্য হয়ে গেলাম। <img src=" style="border:0;" />

প্রথম প্রথম তখনও কোন পোস্টে মন্তব্য করার প্রতি আগ্রহ আমার তেমন একটা হয়নি। একদম প্রথম সেই মজাটা পেলাম "একরামুল হক শামীম" এর রাতবিরাতের আড্ডা নামক পোস্টের মাধ্যমে <img src=" style="border:0;" /> । বন্ধুত্ব গড়তে দক্ষ (বা পটাতে পটু <img src=" style="border:0;" /> ) শামীম ভাই কিছুক্ষণের মাঝেই আড্ডা জমিয়ে ফেলল। আমিও এই অন্তর্জালে প্রথম একজন ব্লগার বন্ধু পেয়ে গেলাম। <img src=" style="border:0;" />

সেদিনের সেই আড্ডাতেই একজন ব্লগারের ছোটবোনের সাথে আমার নাম মিলে যাওয়ায় আমি পেয়ে গেলাম একজন ব্ড়ভাই, "রাতমজুর" ভাইকে। <img src=" style="border:0;" />

এরপর হালকা-পাতলা নিজের কথা লিখে, নানা রকমের ব্লগারদের লেখা পড়ে আস্তে আস্তে পরিচিত হয়ে উঠল সব কিছু...তারপর এমন হওয়া শুরু হল সে শুধু অবসরেরই সঙ্গী না সারাবেলার কাজের ফাঁকেরই সঙ্গী হয়ে উঠল স.ইন।

আরো বেশ কিছুদিন পর ব্লগের অন্যতম শক্তিশালী লেখক "রন্টি চৌধুরী''র নিয়মিত পদচারণায় এবং তার কাছ থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণায় আমার (অপ)গল্প লেখার সুপ্ত পরতিভা ই শুধু বিকশিত হয়নি বাংলায় টাইপ করাও অবশেষে আমি শিখে ফেলেছি! <img src=" style="border:0;" />

ব্লগের প্রাণবন্ত ও আমার খুব প্রিয় দুজন লেখক "উত্তরাধিকার" আর "চিটি" আপুর কাছ থেকে পাওয়া অবিরাম মন ভালো করে দেয়া কমেন্টস গুলোও আমাকে দারুনভাবে প্রভাবিত করে। <img src=" style="border:0;" />
অবস্থা এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে ওনাদের উৎসাহপূর্ণ মন্তব্য, সমালোচনা, না পাওয়া পর্যন্ত আমার পোস্টগুলোকে কেমন জানি অপূর্ণ লাগতে থাকে। :``>>

আমার আরেকজন প্রিয় ব্লগার হল "চিকনমিয়া" <img src=" style="border:0;" /> । তাকে আরো অনেকের মতো আমিও ভালা পাই। চিকনভাইয়ের মন্তব্য করার স্বতন্ত্র স্টাইল, প্রোফাইল ফটো সবকিছুই খুব্ব মজা লাগে আমার। খেক খেক খেক। মাইনাচ! <img src=" style="border:0;" />

ব্লগখ্যাত "রাশেদ" এর বাংলা টিচারের মতো 'ভালৈ' টাইপ কমেন্ট পেলেও আমি দারুন উৎসাহিত হই। <img src=" style="border:0;" />
আর গানের পাখি "বিষাক্ত মানুষ" এর সমৃদ্ধশালী গানের পোস্টগুলোর প্রশংসা তো না করলেই নয়। <img src=" style="border:0;" />

"হনলুলু", "তামিম ইরফান" এবং "মানুষ" এই তিনজনের মন্তব্য পড়ে মনিটরের সামনে বসে দুইপাটি দাঁত বের করে হাসতে হাসতে আমার কাহিল অবস্থা হয়ে যায় কখনো কখনো! <img src=" style="border:0;" />
আবার কোন কোনদিন এই (জেএমটিটি!) মানুষগুলোরই এক একটা পোস্ট পড়ে অবাক হয়ে ভাবি আমি, সাহিত্যের কি মজবুত গাঁথুনি দিয়ে গড়া তাদের লেখনীগুলো! B<img src=" style="border:0;" />

এখন বলি "নিলা" আর "শ্রাবণী" ব্লগের দুই পরীর কথা। কখনো মায়াভরা, কখনো বিষন্ন আবার কখনোবা খুব রোমান্টিকতায় পূর্ণ তাদের লেখাগুলো পড়লে মনের খুব গভীরে যেন দাগ কেটে দিয়ে যায় <img src=" style="border:0;" /> । কখোন মনে হতে থাকে আমার মনের অশ্রুগুলোই যেন তাদের লেখার মাঝে ঝরে ঝরে পড়েছে।

আমার অতিপ্রিয় আরেকজন ব্লগার হল "আউলা"। তার করা মন্তব্য আর পোস্টগুলো পড়ে হাসতে হাসতে আমার চেয়ার থেকে উল্টিয়ে পরে যাওয়ার দশা হয়ে যায়!
"চানাচুর" আর "আউলা" আপুর এই মজার কমেন্টগুলোর পিছনে আমি অনেক আন্তরিকতা আর বড় একটা মনের ছাপ খুঁজে পাই, যা আমার খুব্ব ভালো লাগে। <img src=" style="border:0;" />

ব্লগের অন্যতম বিশিষ্ট লেখক(কবি) "কালপুরুষ" বা "সুলতানা শিরীন সাজি" আপুর দৃষ্টি যদি কখনো আমার ব্লগবাড়িতে পরে বলাই বাহুল্য ভালো লাগায় মনটা ভরে যায় তখন।

আবার আমার মন্তব্য ঘর সমৃদ্ধ করে যখন "মৈথুনানন্দ" বাণান ভূল ধড়িয়ে দেন <img src=" style="border:0;" /> , বা "নিহন" জাক্কাস! বলে ওঠে অথবা "মিয়াভাই সিলটী" ভালো লেগেছে তাই প্লাস বলেন তখন খুব ভালো লেগে যায়!

ভালো লাগে "(অ)গাণিতিক", "ভুতের আড্ডা" আরো অনেকের লেখা দারুন সব গল্পগুলো পড়তে।

"বিবর্ণ","অদ্ভুত আঁধার এক","আরিফ থেকে আনা", "ইফতেখার ইনান", "ধূসরিত স্বপ্ন গুলো", "দূরন্ত", "পলাশমিঞা", "মুসকান", "মুহিব", "আবদুর রাজ্জাক শিপন".....(আঃ হাঁপিয়ে গেছি)... <img src=" style="border:0;" /> .....

আরো অনেক অনেক ব্লগারের কাছ থেকে অনেক সময় অনেক সুন্দর সুন্দর মন্তব্য পেয়ে ব্লগের প্রতি আমার ভালোবাসা আরো কয়েক ধাপ বেড়ে গেছে যেন। <img src=" style="border:0;" /> <img src=" style="border:0;" />

এই ব্লগে কখোন কোন লেখা পড়ে যেমন খারাপ মন ভালো হয়ে গিয়েছে বার কখোন ঠিক উল্টোটাও হয়েছে। ভালো মনটাকে খারাপ করে বসে থেকেছি!
আবার কখোন হয়তো কোন ভালো লেখা চোখের আড়ালেই থেকে গেছে...দেখা হয়ে উঠেনি অথবা সময়ের অভাবে পড়তে পারিনি। <img src=" style="border:0;" />

তবে সব কিছুরই ভালো-মন্দ দুইটা দিক থাকে তাই সব খারাপগুলোকে ছাপিয়ে যদি ভালোগুলোকে দেখি তাহলে স্বীকার করতেই হবে সা.ইন এর মতো এত মায়া কাড়া ওয়েব সাইট আমি আজো দেখিনাই! সত্যি! <img src=" style="border:0;" />

আমার মনে হতে থাকে সবাই যেন একই পরিবারের সদস্য। আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, পাওয়া-না পাওয়া, স্বান্তনা-প্রতিবাদ জীবনের নানা রকমের স্মৃতিগুলো একজন আরেক জনের সাথে শেয়ার করার মাঝে দিন দিন এই বন্ধুত্বের বন্ধন যেন আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে।

সারা দিনে যখনই একটু সময় পাই শক্তিশালী চুম্বকের মতো আকর্ষণ করতে থাকে সা.ইন. যে টান উপেক্ষা করা সম্ভব হয়না!


প্রিয় প্রিয় সব ব্লগারদের প্রতি
অ-নে-ক
অ-নে-ক
অ-নে-ক
শুভেচ্ছা,
ভালোবাসা আর শুভ কামনা রইল।
সবাই খুব্ব ভালো থাকুন সব্ব সময়। <img src=" style="border:0;" />

- প্রিয় তমা]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28813050 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28813050 2008-06-24 05:06:39
যাত্রা পথের যাত্রী (গল্প) Our next stop is Whithlock Avenue....
Stand clear of the closing door please....
বলেই ট্‌খ্‌স করে বন্ধ হয়ে গেল দরজাটা।

দরজার কাছেই একটা খালি জায়গা দেখে ঝুপ করে বসে পড়লো সরোজ, এখানে ভদ্রতা দেখানো বোকামি। ছোট্ট একটা ঝাকি দিয়ে ততক্ষণে সিক্স ট্রেন চলা শুরু হয়ে গেছে। ট্রেনের তালে দুলতে দুলতে অনেকেই যারা বসার জায়গা পায়নি কিংবা স্বেচ্ছায় দাঁড়িয়ে আছে তারা জানালা দিয়ে শূণ্যদৃষ্টিতে চুপচাপ পাতালের অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে থাকে।
তবে বেশির ভাগ মানুষই হয় ব্যাগ থেকে খাবার-দাবার বের করে মহা আনন্দে খেতে থাকে অথবা কানটাকে সতর্ক রেখে চোখ বুজে একটা ন্যাপ নিয়ে নেয়। সরোজও সবসময় তাই করে।

গতরাতে ভালো মতো ঘুম হয়নি তার। সকালে অফিসে ঢুকতেই ক্লান্ত চেহারা দেখে এক কলিগ চোখ টিপ দিয়ে জিজ্ঞাসা করে কি ব্যাপার স্যাড়োজ রাতে ঘুমানো হয়নি মনে হচ্ছে? ঐ ব্যাটার সব কিছুতেই ফাজলামি! সরোজের ছোট ছেলেটার খুব শরীর খারাপ তাই সারারাত সে আর মিলি মিলে সঙ্গ দিয়েছে তাকে, ভোরে চোখটা একটু লেগে আসতেই অফিসের জন্য ছুট লাগাতে হয়েছে। তবে মজার বিষয় হল এসব কথা শুনে সেই ফাজিল ব্যাটা ম্যাক্সই সরোজের হাতের বাকি কাজগুলো করে দিবে বলে আজ আগে বাসায় চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।

কামরার এক মাথায় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ময়লা ছেড়া কাপড় পরা এক বৃদ্ধ উঠে পড়েছে। এরা অবশ্য মদের টাকায় টান পরলেই এমন বেপরোয়া হয়ে হাত পাতে। এদের দেখলে সরোজের এখনো রফিক ভাইয়ের সেই তের বছর আগের পুরানো জোক্সটার কথা মনে পড়ে যায়।

প্রথম প্রথম এখানে আসার পর সরোজ হতাশায় ডুবে যাচ্ছিল প্রায়। একে তো দেশের কথা মনে পড়লেই বুক ভেঙ্গে কান্না আসতো, তার উপর একটু আধটু ইংলিশ পারলেও এখানকার উচ্চারণ সে কিছুই ধরতে পারছিল না। সেই সময় একদিন রফিক ভাইয়ের সাথে ট্রেনে যাওয়ার পথে এক ফকির কে দেখিয়ে বলেছিল, 'দ্যাখ মিয়া, এখানকার ফকিরও কেমন গড়গড়িয়ে ইংলিশে ভিক্ষা করে আর তুই পারবিনা এটা একটা কথা হলো নাকি!'
সেই রফিক ভাই আরো কতো ভাবেই না সেই সময় সান্ত্বনা দিয়ে অবশেষে তাকে দাঁড় করিয়ে ছিলেন। পেটের তাগিদে দেশ থেকে পালিয়ে আসা এই মানুষটার পনের বছর পর অবশেষে দেশে ফেরার স্বপ্নটা পূরণ করে দিয়েছিল হঠাৎ এক এক্সিডেন্ট, লাশ হয়ে!

রফিক ভাইয়ের কথা ভাবতেই মনটা কেমন করে উঠল সরোজের। ছেলের পড়ালেখা, অফিসের কাজের চাপ আরও কত কি মিলিয়ে তারও দেশে যাওয়া হয়না প্রায় ছয় বছর হতে চলল। দেশে ফোন করলেই বুকে মোঁচড় দিয়ে ওপাশ থেকে মায়ের কান্না ভেজা ব্যাকুল কন্ঠস্বর ভেসে আসতে থাকে!

সরোজ কোলের উপর ব্যাগটা রেখে কামরার এপাশ থেকে ওপাশ একবার আড়চোখে দেখে নিয়েই চোখ বুজে একটু বিশ্রাম নিতে যাবে ঠিক তখন তখনই মেয়েটার দিকে চোখ পড়ে গেল তার।

প্রচন্ড অবাক হয়ে সরোজ আবিষ্কার করলো একদম মুখোমুখি সামনের সিটে বসা মেয়েটার চুল আর গায়ের রং টা বাদ দিয়ে হুবহু যেন শিউলির বসে আছে।

শিউলি!
ঠিক সেই রকম বড় বড় উজ্জ্বল এক জোড়া চোখ, পাতলা গোলাপি রঙা ঠোঁট, চিবুক, এমনকি ভ্রু জোড়াও একই রকম ভাবে বেশ কাছাকাছি। এত মিলও সম্ভব!
সরোজ মনে হল কোথায় যেন শুনেছিল স্রষ্টা একই ছাঁচে নাকি সাতটি চেহারা বানান। হ্য়তো তাই, নাহলে শিউলির সাথে এই ভিনদেশি মেয়ের... ...
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মেয়েটার সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল সরোজের। মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে হাতের খোলা বইটার দিকে আবার মনোযোগ দিল সে।
সরোজও আস্তে করে চোখ বুঁজে ফেলল। তের বছর আগের সেই রফিক ভাই, শিউলি আজ হঠাৎ করে তার সামনে এসে পড়ে কেমন জানি এলোমেলো করে দিচ্ছে ভাবনাগুলোকে...

মনে পড়ল সেই সময় সংসারের হাল ধরতে গিয়ে একমাত্র সম্বল জমিটুকু বিক্রি করে নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে সরোজ পাড়ি জমিয়েছিল ঐশ্বর্যর এই দেশ নিউইয়র্কে। রফিক ভাইয়ের হাত ধরে দিনরাত ফুলটাইম খেটে বাবার চাওয়া একটি মাত্র দাবী গ্র্যাজুয়েশনটা শেষ করেছিল সরোজ। তা নাহলে আজ এত ভালো কাজ পাওয়া তার পক্ষে হয়তো সম্ভব হতোনা।

সাত বছরের মাথায় দেশে ফিরে মায়ের কাছে জানতে পারে- শিউলি দুই বছর ধরে তার জন্য অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু সরোজের দেশে যাওয়া তখন সম্ভবই ছিলনা... অবেশেষে শিউলির অমতেই তার পরিবারের পছন্দে বিয়ে হয়ে যায়... তার দুই বছরের মাথায় পৃথিবীতে নতুন এক সদস্যের জন্ম দিয়ে গিয়ে তার অতীতের প্রেম চিরতরে এ পৃথিবীতে ছেড়ে চলে যায়...
এরপর মিলির সাথে তার বিয়ে দিয়ে দিলেন মা...
সরোজ তখন থেকেই নিজের জীবনের কোন ব্যাপারই মিলির কাছে গোপন করেনি...

ততক্ষণে আপটাউনগামী সিক্স ট্রেন পাতাল ছেড়ে উপরে উঠে এসেছে। বন্ধ চোখেই সরোজ অনুভব করছে বাইরের রোদেলা বিকেলের ঝলমলে উজ্জ্বলতা।

সরোজের ভাবনাগুলো তখনও চলেছে...
আসলে মনে হয় মানুষের জীবনটাই একটা ট্রেন যাত্রার মতো ছুটে চলা। প্রত্যেকেরই নির্দিষ্ট একটা গন্তব্য স্থল আছে। যার যার গন্তব্যে পৌঁছে তাকে নেমে যেতে হয়, আবার নতুন নতুন মানুষ এসে ভরে উঠে। পিছনে ফেলে যায় আনন্দ-বেদনা, স্বার্থ-বন্ধুত্ব, সাফল্য-ব্যর্থতা মাখা শুধু কিছু স্মৃতি। কখনোবা তারা এসে হানা দেয় অবশিষ্ট যাত্রীর মনের ঘরে...

এইসময় মাথার উপরের সাউন্ড বক্সটা ঘরঘর করে উঠল-
This is Whithlock Avenue.....
Our next stop is Parkchester ....

দরজা খোলার শব্দ শুনেও সরোজ চোখ বুজে বসে আছে। আরো তিন স্টেশন পর তার গন্তব্যস্থল ... কত নতুন মানুষ এখন উঠবে কতজন নেমে যাবে এখন..কতজন থেকে যাবে তারই মতো।

...ভাবছে, অতীতের সব কিছু জানার পরও জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রেই মিলির ভালোবাসার ছোঁয়া সে অনুভব করে..অফিস থেকে ফিরতেই ছেলেটা ঝাঁপিয়ে এসে পরে তার বুকে। মিলি আর ছোট ছেলেটাকে নিয়ে সে তো কোন অংশে কম সুখী নেই.... তাহলে অতীতের স্মৃতিগুলো খামোখা টেনে এনে দুঃখ পাওয়া ছাড়া আর কি বা লাভ হবে তার ... থাক না সেসব পিছনে পরে..

Stand clear of the closing door please....

টখস করে দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল...
মুখোমুখি বসে থাকা অতীতের স্মৃতি মাখা মেয়েটাকে আর দেখতে পাবে না সেই বিশ্বাস নিয়ে সরোজ ধীরে ধীরে তার চোখ মেলা শুরু করল... ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28811172 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28811172 2008-06-19 02:36:10
"২" (গল্প)
সেই বার দিনা ক্লাস ওয়ান থেকে টেনেটুনে টু তে উঠেছিল। টেনেটুনে বললে অবশ্য একটু ভুল হবে, কারণ শুধু একটা বিষয় বাদে বাকি সব বিষয়েই তার রেজাল্ট কার্ডে মোটামুটি বেশ ভালোই নম্বর ছিল।

ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দিন মা রিপোর্ট কার্ড নিতে দিনার সাথে স্কুলে গিয়েছিলেন। মাকে দেখেই ক্লাস টিচার মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে কার্ডটা হাতে দিয়েছিলেন। সেই কার্ডে মা চোখ বুলাতে বুলেতে হঠাৎ করেই এক জায়গায় এসে থমকে গেলেন আর ইয়া বড় বড় হয়ে যেতে লাগল তার চোখগুলো, এমনকি ঠোঁটের মৃদু হাসিটা মিলিয়ে গিয়ে সেখানেও কেমন জানি একটা ফাঁক দেখা দিল। সেই বিস্ময়কর ভঙ্গিতে মা কার্ডের মন্তব্য ঘরে তাকিয়ে দেখেন লাল কালি দিয়ে মোটা করে লেখা-
''ছাত্রীকে বিশেষ বিবেচনায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করা হল'' !!!

মনে মনে অবশ্য ঠিক এমনটাই হবে ভেবে রেখেছিল দিনা। তাই এরপর কি কি ঘটবে সে ব্যাপারে সে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেল।
মা মিসের কাছ থেকে দিনার পরীক্ষার খাতাগুলো নিয়ে ফার্স্ট বেঞ্চে বসলেন। সবগুলো সব খাতা দেখা শেষে মা অংক খাতাটা খুলতেই দিনার বুকের ঢিপঢিপানি কয়েক গুণ বেড়ে গেল।
সারা খাতার পাতা জুড়ে এখানে-সেখানে নানান আকৃতির সব লাল লাল গোল্লারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে! আর সেই গোল্লা দেখতে দেখতে মায়ের চোখগুলোও সেরকম লাল আর গোল হয়ে যেতে লাগলো।
হতভম্বের মতো পুরা অংক খাতায় চোখ বুলিয়ে মা শেষের পাতায় এসে দেখেন দিনার অংক মিস গোটা গোটা হাতে লিখে দিয়েছেন-
" বিষয়টি একটু অবাক মনে হলেও যেসব অংকের উত্তর ফলে দুই(২) সংখ্যাটি আছে ছাত্রী ঠিক সেসব অংকই না করে খালি রেখে দিয়েছে! ক্লাসের ভালো পারফরমেনস ও অন্যান্য দিক বিবেচনা করে এবারের মতো ছাত্রীকে সর্বনিম্ন পাশ নম্বর প্রদান করা হলো। আশা করা যায় এরপর সে গণিতের প্রতি মনোযোগী হয়ে উঠবে।"

আর লেখাটা পড়তে পড়তে ঠিক তখনই মা প্রথমবারের মতো আবিষ্কার করে ফেললেন তার দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়া একমাত্র মেয়েটি এখনো '২' লিখতে পারেনা !!!

বাসায় ফেরার পথে সারাটা রিকশায় মা কোন কথা বললেন না দিনার সাথে। এটাও দিনা আগেই আঁচ করেছিল। বাসায় পৌঁছে সারা দুপুর চোরের মতো সে এদিক সেদিক ঘুরে বেড়ালো। সন্ধ্যায় কলিং বেলের শব্দ শুনতেই তার মনের অর্ধেকটা চাপ কমে গেল। এর জন্যই সারাদিন তার এত অপেক্ষা।
দরজা দিয়ে বাবা ঢুকেই দিনাকে ছোট্ট বাবুদের মতো কোলে তুলে আদর করা শুরু করে দিলেন। অন্য কেউ অবশ্য বাবুদের মতো এমন করলে তার খুব রাগ লাগে কিন্তু বাবার এই গুসুগুসি টাইপ আদরটা না পেলেই দিনার মনটা খারাপ হয়ে যায়। আদর পর্ব শেষে তার মনে যে ব্যাপারটা একটু ভয় ভয় লাগছিল ঠিক তাই হয়ে গেল।
বাবা ঝট করে জিজ্ঞাসা করে ফেললেন,"কিরে মা, আজ না তোর রেজাল্ট দেয়ার কথা?" মাও ঠিক সেইসময় ঘরে এসে জানালেন হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে এসে সব শুনতে। কিন্তু বাবাও নাছোড়বান্দা তাকে এখনই সব শুনতে হবে। শেষেমেশ আর থাকতে না পারে মা ফিক করে হেসে ফেলে বলে উঠলেন, "জানো, আমাদের গুণবতী মেয়ে যে এখনো '২' লিখতে পারেনা! ...!!"
আর মায়ের এই মিষ্টি হাসিতেই দিনার বুকের উপর সারাদিনের জমে থাকা বাকি চাপটা নিমাশেই হালকা হয়ে গেল।

এরপর মা আর বাবার মেয়েকে নিয়ে শুরু হয়ে গেল '২' এর অভিযান। প্রতিদিন রাতে সব হোমওয়ার্ক শেষে মায়ের লিখে দেয়া দুইয়ের উপর পেনসিল দিয়ে হাত বুলায় দিনা। বাবা অফিস থেকে এসে নতুন নতুন সব বুদ্ধিতে তাকে দুই লেখা শিখান। এখন চলছে ২ দিয়ে হাঁস আঁকার প্র্যাকটিস।

ওদিকে আবার ফেব্রুয়ারির দুই তারিখ থেকে দিনার টার্ম পরীক্ষা শুরু। এর আগে যেভাবেই হোক তাকে প্রস্তুত হতে হবে। মা-বাবা দেখিয়ে দিলে সে কোন মতে হাবিজাবি একটা কিছু লিখতে পারলেও যখনই তারা সামনে থাকেন না বা তাকে নিজে থেকে লিখতে হয় তখনই অবস্থা কেমন যেন একটু করুন টাইপ হয়ে যায় তার।

এদিকে ঘটেছে আবার আরেক কান্ড। এমনিতেই আজকাল ভাইবোন সবাই তাকে দেখলেই 'ক্লাস টু খায় ...' বলে ক্ষ্যাপাতে থাকে তার উপর এক নতুন যন্ত্রণা শুরু হয়েছে ক্লাসের সবাই কিভাবে জানি এই ব্যাপারটা টের পেয়ে গেছে!
সেদিন তো ক্লাসের ফার্স্ট গার্লটা তার দুই ঝুটি দুলাতে দুলাতে দিনার কাছে এসে ন্যাকামি সুরে বলেই উঠল "এই তুমি নাকি এক আর এক যোগ করলে কত হয় লিখতেই পারোনা?" !!

তবে মেজাজটা ভয়াবহ রকম খারাপ হয়েছিল যেদিন ক্লাসের সবচেয়ে ফাজিল ছেলেটা ফোকলা দাঁতের পাটি বের করে হাসতে হাসতে দিনার কাছে এসে, দুই হাতের দুই আঙুল ওর চোখের সামনে নাড়িয়ে নাড়িয়ে আর গলার স্বরটা মোটা করে দুলে দুলে বলে উঠেছিল, "ব-ল-ত এ-খা-নে ক-য়-টা আ-ঙু-ল"! আরে বাবা ২ লিখতে পারেনা বলে কি সে চোখেও দেখেনা, নাকি যোগ-বিয়োগও করতে পারেনা ঠিক মতো। যত্তসব! সে তো সবই ভালো মতোন পারে শুধু ঐ ২ টা লিখতে গেলেই একটু ইয়ে হয়ে যায় কেমন জানি।ধুর।

দেখতে দেখতে অবশেষে পরীক্ষার দিন চলে আসলো। রুটিনে প্রথম দিনই আবার অংক পরীক্ষা পরেছে। গতরাতে অনেক চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত বাবাকে একটা ২ লিখে দেখাতে পারেনি সে! তবুও বাবা তাকে বারবার মাথা ঠান্ডা রেখে সব প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য বলে দিয়েছেন।

পরীক্ষার দিন ঠিক পৌনে একটায় দিনা কপালে মায়ের এঁকে দেয়া চুমু নিয়ে হলে ঢুকে গেল। একটা থেকে দুইটা এক ঘন্টার পরীক্ষা হবে। নিজের সিট খুঁজে নিয়ে চুপচাপ বসে মিসের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে সে। অন্যরাও পরীক্ষার প্রথম দিনে বলে বেশ জড়োসড়ো হয়ে ওর মতোনই বসে অপেক্ষা করতে থাকে।

ব্ল্যাক বোর্ডের মাথার উপর ঘড়িটাতে ঠিক যখন একটা পাঁচ বাজে খাতাপত্র হাতে হন্তদন্ত হয়ে মিস ক্লাসে রুমে এসে ঢুকেন। খাতা দিতে দিতে আরো পাঁচ মিনিট পার হয়ে যেতেই সবাই একটু উসখুশ করে উঠল, সেটা বুঝতে পেরে মিস জানিয়ে দিলেন দুইটা বাজার পর আরো দশ মিনিটের মাথায় খাতা তুলবেন তিনি। এই ঘোষনার পর মহা খুশি হয়ে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে অংক করা শুরু করে দিল।

ধীরে ধীরে এক একটা অংক করতে করতে হঠাৎ ছয় নম্বরে এসে মনে মনে বিয়োগটা করে ফেলতেই দিনার হাত-পা সব ঠান্ডা হয়ে যেতে লাগল। উত্তরফলে একটা '২' আসছে... এখন...কিভাবে...
বুকের ঢিপঢিপানি এতখানি বেড়ে গেছে যে ভয় হতে থাকে পাশের জনও না শুনে ফেলে..তার উপর হাতটাও ঘেমে যাচ্ছে বারবার।
শেষে অনেক ভেবে মায়ের শিখিয়ে দেয়া বুদ্ধি মতো সে বাকি যে অংকগুলো পারে সেগুলো করা শুরু করে দিল...

...এভাবে হাতে যখন মিসের দেয়া দশ মিনিট সহ মোট বার মিনিট বাকি দিনা হিসাব করে দেখে তার শুধুমাত্র সাতটা অংক বাকি। সেই সাতটা অংকের ফলাফলেই '২' সংখ্যাটা লিখতে হবে! এইটা ভাবতেই আবার তার বুক জোরে জোরে ধুকপুক শুরু করে দিল। ঘেমে যাচ্ছে সারা শরীর। একটু একটু কান্না এসে গেল যেন গলার কাছে। সময়ও তো আর বেশি নাই। কেঁদেই ফেলবে নাকি শেষ পর্যন্ত।..

ততক্ষণে মনে মনে নিজেকে বুঝানো শুরু করল দিনা...আচ্ছা মা শুনলে কতই না কষ্ট পাবে..আর বাবা জানলে কি বলবে...ক্লাসের সবাই আবার হাসাহাসি শুরু করবে... এসব ভাবতে ভাবতেই আস্তে করে চোখ বুজে এল তার...
...আরে ঐ তো মায়ের লেখা ২ টা হাতছানি দিয়ে ডাকছে...বাবার একে দেয়া ২ এর মতো হাঁসটাও উড়ছে ঐ যে...মনে পড়েছে...হ্যাঁ এভাবেই তো হবে...
...আস্তে করে বন্ধ চোখে পেনসিলের আগাটা খাতার পাতায় লাগায় দিনা... ঘামে ভিজে যাচ্ছে সে...নাহ ভয় কিসের এত...মা-বাবার দেয়া সাহসগুলো মনের মাঝে আর খাতার পাতায় দিনার পেনসিল ঘুরে চলেছে একই ছন্দে...


আমাদের দিনা কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব সুন্দর করে একটা '২' লিখে ফেলেছিল...এরপর থেকে আর কোনদিনও তার '২' লিখতে সমস্য হয়নি।
তবে চুপিচুপি একটা কথা বলে রাখি, জীবনে প্রথম '২' টা হলে বসে দিনা যখন লিখছিল ঠিক তখন ব্ল্যাক বোর্ডের মাথার উপরের ঘড়িটা সময় দেখাচ্ছিল দুইটা বেজে দুই মিনিট ... উমম মনে হয় দুই সেকেন্ড ও হবে!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28809272 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28809272 2008-06-14 00:54:50
:::: শূণ্য মেয়ে... :::: যতনে বালিশ বুকে টেনে নেয় ভেজা বৃত্ত আঁকা

একাকী মেয়ে নিরবে কাঁদে সেথায় লুকিয়ে মুখ
বিষাক্ত লাগে সব ভালোবাসা সব ভালোলাগা সুখ

স্বপ্নেরা সব হাহাকারে কাঁদে রঙ হারিয়েছে আশা
ক্লান্ত হৃদয় ব্যথায় বেগুনি বেদনার জল ঠাসা

শিরা-উপশিরা ধমনীতে বয় গাঢ় নীল ব্যাথা রক্ত
কল্পনা সব ডানা কুঁকড়ে তীব্র বিষে বিষাক্ত

চারিদিক ঘেরা আঁধার কালোয় নিথর দেহ প্রাণ
শূণ্যতায় হাতড়ে খোঁজে একটুখানি সে ঘ্রাণ

আঁধার ঘরের ফ্যাকাসে মেয়েকে ছুঁয়ে প্রাণ দিবে কে সে
প্রতীক্ষায় দিন চলে যায় অশ্রু জলেতে মিশে ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28807993 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28807993 2008-06-10 03:08:06
আবর্তন... (গল্প)
এই দিন সকাল হতেই শহরের বইয়ের দোকান গুলোতে লম্বা লাইন লেগে থাকা একটা পরিচিত দৃশ্য। কে কার আগে প্রিয় লেখকের গরম গরম টাটকা বইটা হাতে নিবে তার প্রতিযোগীতা শুরু হয়ে যায়। তারপর কিছুদিন পাড়ায়-পাড়ায় তরুণদের মাঝে জটলা চলতে থাকে। বইয়ের বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানান রকমের আলাপ-আলোচনা হয় তাদের মাঝে। আবার হ্য়তো কখনো দেখা যায় পার্কের বেঞ্চে প্রেমিকের বুকে মাথা রেখে প্রেমিকা হাওয়ায় উড়ে বেড়ানো ফুলের রেণুর তালে তালে গল্পের সবচেয়ে রোমান্টিকতায় পূর্ণ প্যারাগুলোর স্মৃতিচারণ করছে!

ড্যানিয়াল লিয়ানের বইয়ের প্রতিটা পাতা থেকে যেন আবেগ চুঁইয়ে চুঁইয়ে পরে। বই প্রকাশের পর থেকে শহরের ঘরে ঘরে চিরাচরিত চিত্র কিছু দিনের জন্য হলেও পালটে যায়। প্রকৃতির সাথে সাথে শহরের মানুষগুলোর মনেও যেন বসন্তের রঙিন তুলির ছোঁয়া লাগে।

লিয়ানের বইয়ের আবেগ পূর্ণ ভাষা কখনও কোন তরুণীর চোখের কোণের জলের কারন হয়ে দাঁড়ায়, আবার হয়তো কখনো বয়স্ক কোন পাঠককে তিরিশ- চল্লিশ বছর আগের সেই যুবক বয়সের ঝলমলে দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। একঘেঁয়ে জীবনের ব্যাস্ততার ফাঁকে মধ্যবয়স্ক পাঠককে আবারও নতুন করে তার প্রিয়তম মানুষটার অনেক বেশি নিকটে পৌঁছে দেয় ভালোবাসার মাধুর্যে পরিপূর্ণ সেই সব উপন্যাস।
অন্যদিকে পড়ার বইয়ের ফাঁকে লুকিয়ে লুকিয়ে উঠতি বয়সী কিশোর-কিশোরীরা চোখ বড় বড় করে গোগ্রাসে গিলতে থাকে আর ভালোবাসার গভীরতা উপলব্ধি করে শিহরিত হয়ে উঠতে থাকে।

এমনই ভালোবাসার যাদু ভরা লিয়ানের উপন্যসগুলো। এমন লেখকের ফ্যান ক্লাব থাকবেনা তা তো হয়না। শহরের একদল তরুণীর রুমের দেয়ালে স্থান পায় লিয়ানের হাস্যোজ্জল পোস্টার, তাদের সারা জীবনের একমাত্র স্বপ্নই যেন লিয়ানের কাছ থেকে একটা অটোগ্রাফ পাওয়ার। আর তার সাথে যদি কোনক্রমে একটা ছবি তুলতে পারে তাহলে তো কথাই নেই। সেই আরেক স্টার হয়ে যায় যেন।


নিজের বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা কোনক্রমে শেষ করেই আজ ড্যানিয়াল লিয়ান তার সব ভক্ত দর্শকদের মন ভেঙ্গে দিয়ে গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে যায়। কাল রাত থেকেই তার শরীরটা ভালো লাগছেনা তেমন। মাথা ব্যাথা নিয়ে হলেও আজ তার অনুষ্ঠানে আগমন। সে নিজেও ভিতরে ভিতরে এই দিনটার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু শরীরটা তার আজ কিছুতেই মানছে না।

গ্যারেজে গাড়ি পার্ক করে রেখে বাসার ঢুকে ব্লেজারটা খুলে স্ত্রীর হাতে দিতে দিতে লিয়ান জানায় তার শরীর খারাপের কথা। এখন শাওয়ার নিয়ে সে নিজের ঘরে বেশ কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে চায়। কিন্তু তার আগে সে এক কাপ গ্রীন টি পেতে পারে নাকি জানতে চায়।

তার স্ত্রী সম্মতি জানিয়ে জিজ্ঞাসা করে আজ বইয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কেমন হলো। সে একটু আগে চলে আসলেও সব কিছু বেশ ভালো মতোই সম্পন্ন হয়েছে, দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে লিয়ান জানিয়ে দেয়।

দোতলায় যখন লিয়ান শাওয়ার নিতে থাকে নিজের তলায় তার স্ত্রী কেটলীতে ফুটন্ত গরম পানির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে অবচেতন মনেই হিসাব মিলিয়ে যেতে থাকে।
মানুষটা তার সমস্ত ভালোবাসা আবেগ অনুভুতি নিজের লেখার মাঝেই ঢেলে দেয়। উপন্যাসের নায়িকার অশ্রু সিক্ত চোখের জল কি সহজেই না হাতের তালু দিয়ে মুছে সে বুকে টেনে নিতে পারে কিন্তু নিজের স্ত্রীর বুকের হাহাকার সে এত বছরেও টের পেল না। ঘন্টার পর ঘন্টা সে স্টাডি রুমে কাটাতে পারে কিন্তু স্ত্রীর একান্ত অল্প কিছুটা মুহূর্ত তার সাথে কাটানোর আর্তনাদ সেই রুমের চার দেয়াল ভেদ করে তার কাছে পৌঁছায় না। তার কলমের স্পর্শে নায়িকার অপরূপ রূপে কি সহজেই মুগ্ধ হয় প্রেমিক নায়ক, কিন্তু নিজের স্ত্রীর যে রূপ-লাবণ্য ছটা ধীরে ধীরে অযত্ন আর বয়সের ছাপে ঢাকা পরা শুরু হয়েছে তা কখনোই তার মনে মুগ্ধতার সঞ্চার করেনি।

চায়ের কাপে রাখা টি-ব্যাগটা গরম পানি দিয়ে ভিজাতে ভিজাতে নিজের এত বছরের নিয়তিকে ঝাপসা চোখে আবারো মেনে নেন মিসেস ড্যানিয়াল লিয়ান।

আসলে গল্পটা কিন্তু এখানেই শেষ। আরো যদি বলতে যাই তাহলে ঘটনাগুলো চক্রাকারে ঘুরতে থাকবে। আবারো কোন এক বসন্তে হয়তো লিয়ানের অনেক পরিশ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে দাঁড় করানো আরেকটা বই প্রকাশিত হবে, সারা শহরের মাঝে সেই বই ভালোবাসার রঙ ছড়াবে কিন্তু নিজের পাশের ঘরের মানুষটা কোন রঙে সাজবেনা, মুখোশের আড়ালে তার জীবনের সঙ্গীটা সাদা-কালোই থেকে যাবে। লিয়ানের সুদূর অতীতে কিছু ঘটেছিল কিনা আমার জানা নেই যদি ঘটেও থাকে তবে সে আজো কেন তা আঁকড়ে ধরে আছে সেইটাও আমার জানা নেই।
হয়তো মিসেস লিয়েনের মতো একজন নারী সত্ত্বার নিজের নিয়তিকে মেনে নিয়ে নতুন স্বপ্ন-আশায় বেঁচে থাকার মতো গুণাবলী একজন লেখক হয়েও ড্যানিয়াল লিয়ানের মাঝে নেই!


---------------------------------------------------
[লেখাটা মনে হয় কেমন জানি একটু রূপকধর্মী হয়ে গেসে <img src=" style="border:0;" />]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28805660 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28805660 2008-06-03 01:37:13
:::: মন ঘুড়িয়া :::: নীল আকাশে উড়ি
মেঘের চাদর ফুঁড়ি
দূর অজানায় উড়ি

সবুজ পাতার পাশে
ঝিকমিকি রোদ হাসে
রংধণু রঙ আঁকে
নদের আঁকে-বাঁকে
প্রজাপতির পাখা
স্বপ্ন-রেণু মাখা

রঙ দেখি আর উড়ি
সাদা-কালো ঘুড়ি

দুষ্টু দখিন হাওয়া
করল আমায় ধাওয়া
এলোমেলো উড়ি
কোনখানে যে পড়ি

হঠাৎ দেখি তাকে
খুঁজছিল মন যাকে
মায়ার জালে ভরা
পড়ল ঘুড়ি ধরা
হাতে নিল নাটাই
একসাথে দিন কাটাই

রঙিন হলো ঘুড়ি
দুজন মিলে উড়ি ।।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28804358 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28804358 2008-05-30 01:02:17
বৃষ্টির ভেজা ভাবনাগুলো... আর ছেলেটা অন্ধকারে বসে সেই বৃষ্টি দেখছে, মৃদু আলোর ঝলকে মাঝে মাঝে তার মায়াবী আলোকিত মুখটা দেখা যাচ্ছে। বৃষ্টির ছাট এসে জানালার কাঁচ ভিজিয়ে দিচ্ছে নাকি তার চোখটা ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে... বুঝতে ইচ্ছা করছে না...
এমনই কোন এক রাতে তার কানের কাছে একজনের অস্তিত্ব ছিল। রিনিঝিনি বৃষ্টির তালে তালে যে তাকে গান শোনাতো। হোক না দূরে তবুও হৃদয়ে তার স্পর্শ ঠিকই অনুভব করত সে। এমনই কোন এক দিন মুষল ধারার বৃষ্টির ঘন দেয়াল দেখতে দেখতে তাকে আলতো করে মুখে তুলে খাইয়ে দিয়েছিল একজন। ছেলেটা সেই স্মৃতি ভুলতে পারেনা। বারবার মনে পড়ে...
আর ঠিক সেই সময় মেয়েটা?... অনেক অনেক দূরে, এত দূরে যে এখন সেখানে দিনের আলো ঝলমল করছে, নরম রোদ মেখে প্রজাপতিরা উড়াউড়ি করে বেড়াচ্ছে কিন্তু এসব কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারছেনা। আকাশে কালো মেঘের ছিটেফোঁটাও নেই... আচ্ছা তবুও কেন তাহলে মেয়েটা সব কিছু ঝাপসা দেখতে পাচ্ছে! বুঝতে ইচ্ছা করছে না...

আচ্ছা আবার এমনও তো হতে পারে, ইলেকট্রিসিটি নাই, প্রচন্ড গরমে ছেলেটা হয়তো মশারির বাইরে মেঝেতে শুয়ে আছে এখন।
ছেলেটা মোবাইল হাতে শুয়ে আছে। মোবাইলের মৃদু আলোয় তার টলমলে চোখ দেখা যাচ্ছে। এমনই কোন এক রাতে তাকে ভালোবেসে ফোনে একজন আলতো করে বকে দিত। জলদি পানি খেয়ে মশারির ভিতরে শুতে বলে ফোনের ওইপাশে অপেক্ষা করতো। সারাদিনের তুমুল ব্যাস্ত সেই ফোনটা আজকাল একাকী নিরব হয়ে পড়ে থাকে। অনেকটা তারই মতো। ছেলেটা সেই স্মৃতি ভুলতে পারেনা।
বারবার মনে পড়ে...

আর ঠিক সেই সময় মেয়েটা?... অনেক অনেক দূরে, এত দূরে যে সেখানে মৃদু মৃদু ঠান্ডা বাতাস বইছে, বাতাসে বসন্তের আগমনের বার্তা নিয়ে ফুলের রেণুরা হাওয়ায় উড়ছে। গাছে গাছে কচি পাতারা ঝলমল করছে কিন্তু এসব কিছুই তাকে স্পর্শ করতে পারছেনা। জানালার পাশে গায়ে শাল জড়িয়ে বসে বসে হয়তো ঝাপসা চোখে মেয়েটা টাইপ করে যাচ্ছে! তার এখন কিছুই বুঝতে ইচ্ছা করছে না...

ছেলেটা যে সব জানে! সব বোঝে বলেই চোখের জলকণাগুলো বৃষ্টির কাছে বিলিয়ে দেয়। বোঝে বলেই অসহায় আবার হয়তো নিষ্ঠুরও সেই মেয়েটার উপর অভিমান করতে গিয়েও শেষ পর্যন্ত আর করতে পারেনা। বোঝে বলেই বাস্তবতার কাঁটা তারে ঘেরা মেয়েটার উপর প্রচন্ড রাগ করতে গিয়েও আর শেষ পর্যন্ত করতে পারেনা... তাই সে অপেক্ষা করে... আর অপেক্ষা করে...

আর আঁধারে নিমগ্ন মেয়েটা যাকে আজ কোনো কিছুই ছুঁয়ে যায়না... সে? থাক আজ তার কথা নাহয় অজানাই থেকে যাক! ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28803229 http://www.somewhereinblog.net/blog/priotamablog/28803229 2008-05-27 04:30:23
টুকুন (গল্প)
অন্ধকারে শুয়ে আছে টুকুন। একটু আগে সুপারম্যানের কথা ভাবছিল। কেমন করে অনেক দূরের জিনিস শুনতে পায়! আচ্ছা সুপারম্যানও কি রাতের নির্জনতায় এমন ছোট ছোট শব্দগুলো শুনে বিরক্ত হয়? নাকি মজা লাগে? মনে হয় লাগেনা। তাহলে সুপারম্যান নিজের কানকে নিজের সুবিধা মতো খোলা-বন্ধ করতে পারে মনে হ্য়। এটা ভেবেই টুকুনের হাসি পেয়ে গেল। তাকেও তাহলে সেইরকম করা শিখে ফেলতে হবে জলদি।

টুকুন এমনিতে বেশ চুপচাপ স্বভাবের ছেলে। তাই সে যখন কিছু বলে সবাই চেষ্টা করে সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং বিশ্বাস করতে।স্কুলে টিচাররাও তাকে খুব আদর করে।
এই টুকুনেরই কিছুদিন আগে কানে ব্যাথা শুরু হয়েছিল। মাকে বলবে ভাবতে ভাবতেই সে একটা আজব ব্যাপার টের পেয়ে গেল। কাছের শব্দগুলো ছাপিয়ে সে অনেক দূরের সব শব্দগুলো শুনতে পাওয়া শুরু করে। প্রথম প্রথম খুব মজা লাগছিল।এখন ব্যাথা কমলেও অন্যদিক দিয়ে কেমন জানি অসহ্য লাগা শুরু হয়েছে।

এই যেমন বিশেষ করে সকালে তো মনে হয় সব ফেরিওয়ালাগুলো বুঝি ওর কানের পাশে বসে বসে শাক, মুরগী বিক্রি করা শুরু করে, রাতের বেলা ঘুমাতে গেলে দূরের ছোট ছোট শব্দগুলো পর্যন্ত শুরু করে আরেক যন্ত্রণা! আবার ওদিকে সে অংক ক্লাস করতে করতেই পাশের বাংলা ক্লাসের পড়াও করে ফেলতে পারে! আর ক্লাসের মোটামুটি সব ছেলেরই গোপন সলা-পরামর্শের খবর তার জানা হয়ে গেছে! শুনতে না চাইলেও প্রতিবেশিদেরও সব খবরই সে একটুআকটু জেনে ফেলেছে!

প্রতিটা ঘটনার পরেই অবশ্য তার মনে একটু অপরাধবোধ জাগে। কিন্তু সুবিধাগুলো ভাবলেই আবার টুকুনের খুব মজা লাগতে থাকে। তাই কাউকেই এখনো সে সবকিছু বলেনি।

মজা হয়েছিল গত পরশু যেদিন ওদের ক্লাস টেস্ট ছিল। টুকুনের মোটামুটি সব লেখা শেষ শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর কিছুতেই মনে করতে পারছেনা। আর বেশি সময়ও নাই। চুপচাপ স্বভাবের বলে কাউকে জিজ্ঞাসা করতেও একটু লজ্জা পাচ্ছে, তাছাড়া তার প্রথম বেঞ্চটার খুব কাছেই টিচার দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় হঠাৎ করেই টুকুন আবিষ্কার করল তার থেকে দুই সারি পরের শেষ বেঞ্চে বসা মাসুমও এই একই উত্তরটা পারছেনা তাই তৃতীয় সারির শেষে বসা রনির কাছে জানতে চাচ্ছে। রনি টিচারের দিকে এক চোখ রেখে যেই উত্তরটা দিল টুকুন সুন্দর মতো সেটা শুনতে পেয়ে ঝটপট খাতায় লিখে ফেলল। পরীক্ষা শেষে রনি আর মাসুমকে অবাক করে দিয়ে সে একটা ধন্যবাদ দিয়ে বেড়িয়ে গেল।

সেদিন তো একটা খুব লজ্জারও ব্যাপারও ঘটেছিল। আপু তার রুমে বসে ফোনে কথা বলছিল, টুকুন একটা হোমওয়ার্ক বোঝার জন্য তার রুমে ঢুকতেই আপু হাতের ইশারায় একটু পরে আসতে বলল, এরই মাঝে টুকুন ফোনের ঐ পাশের ভরাট কণ্ঠের একজন লোকের কথা শুনে ফেলল। লজ্জায় লাল হয়ে সে নিজের রুমে ফিরে আসছিল। একবার ভেবেছিল আপুকেই তার শুনতে পাওয়ার ব্যাপারটা পুরো খুলে বলবে আর যদি বিশ্বাস না করে তখন ঐ লোকটার আহ্লাদি মার্কা কথাগুলো যা যা সে শুনে ফেলেছিল সব বলে প্রমাণ করে দিবে। শেষ মুহূর্তে অবশ্য সিদ্ধান্তটা বদলে ফেলেছে।

এইসব ভাবতে ভাবতেই টুকুনের চোখে ঘুম এসে গেল। ঘুমের ঘোরেই ভাবছে নিজের শুনতে পাওয়ার এ