সৌদি প্রবাসীদের নিয়ে প্রথম আলোর বিশাল প্রতিবেদন ও কিছু অজানা তথ্য

০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৩৯

শেয়ার করুন:                   Facebook

গত একুশে জুলাই একটি বহুল প্রচলিত জাতীয় দৈনিক এর ফিচার পাতায় সৌদিআরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিয়ে পত্রিকার এক প্রতিবেদক এর প্রকাশিত " সৌদিআরবে প্রবাসী বাংলাদেশী" শিরোনামের প্রতিবেদনটির কিছু বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এবং কিছু অসত্য তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে কিছু তথ্য তুলে ধরার জন্য এই লেখা। ফিচার পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে প্রতিবেদক মনগড়া আবেগ প্রসুত এবং আংশিক সত্য তথ্যের উপর ভিত্তি করে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা কিনা সৌদিআরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ব্যথিত এবং লজ্জিত করেছে। প্রতিবেদনটিতে এমন ত্রুটিযুক্ত তথ্য ছিল যা প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় প্রকাশ করে পত্রিকার তথ্যের গ্রহনযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন।

প্রতিবেদক মাত্র ছয় মাস সৌদি আরবে ছিলেন বলে রিপোর্টটিতে উল্লেখ করলেও এ কথাটি উল্লেখ করেননি যে, তিনি কেবলমাত্র হজ্জ্বের সময় সৌদিআরব এসেছিলেন এবং তার গন্ডী ছিল মক্কা,মদিনা,তায়েফ এবং জেদ্দা। সৌদিআরব সর্ম্পকে যারা জানেন তারা সকলেই জানেন যে রিয়াদ সৌদিআরবের রাজধানী এবং দাম্মাম,আলখোবার সৌদিআরবের অন্যতম প্রধান শহর যেখানে ল ল লোক বাস করে, এছাড়াও ছোট বড় আরো প্রায় ১০টির মতো শহর রয়েছে যেখানে বাংলাদেশীরা বাস করে। মক্কার কিছু এলাকা এবং জেদ্দার বালাদ (যেখান থেকে মক্কা বাস,টেক্সি পাওয়া যায়) এবং আর দুএকটি এলাকায় গিয়েই কি করে সৌদিআরবে বাস করা প্রবাসীদের সম্পর্কে বিশাল একটি প্রতিবেদন লিখলেন তা অবাক করার মতো ব্যপার। প্রবাসীদের দুঃখ কস্টে ব্যথিত হতে না শুধুমাত্র পৃষ্টা পূর্ণ করার তাগিদে তিনি প্রতিবেদনটি লিখলেন তা তিনি নিজেই বলতে পারবেন।

প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনে লিখেছেন যে, দালালদের খপ্পরে বাংলাদেশীরা সৌদিআরব এসে দেখেন যে, থাকার জায়গা আছে, খাবার নেই, বেতন মাত্র ৩০০ সৌদি রিয়াল। তিনি লিখেছেন যে, এসব শ্রমিকরা দাল্লা নামক একটি কোম্পানীতে চাকরি করেন এবং আরেকটি জায়গায় লিখেছেন যে, সৌদিআরবে আট/দশ লক্ষ বাংলাদেশী আছেন তাদের বড় অংশ দাল্লায় বা বালাদিয়ায় কাজ করেন এবং এর বাইরে মক্কা মদীনায় কিছু ব্যবসায়ী আছেন। এই কথাগুলোর মাধ্যমে প্রতিবেদক এ তথ্যটি কি সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশে প্রচার করলেন না যে, সৌদিআরবে যারা বাস করে তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ৩০০ রিয়াল এর রাস্তা পরিস্কার করার শ্রমিক এবং বাকীরা কিছু ব্যবসায়ী, কোন ধরনের হাই প্রফেসনাল জবে কোন বাংলাদেশী নেই?

একটি জাতীয় দৈনিকে এরকম একটি তথ্য প্রকাশের পর জেদ্দা কিং আব্দুল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যপনায় জড়িত বাংলাদেশী প্রবাসীদের অভিব্যক্তি কি হবে? কিং ফাহাদ হাসপাতালে যে কয়জন বাংলাদেশী ডাক্তার আছেন তাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে? সৌদিআরবের অন্যতম বড় গ্রুপ নেসমাগ্রুপ, জেদ্দা হিলটন, ্ওয়েস্টিন, ম্যারিয়ট, কিং আব্দুল আজিজ এয়ারপোর্ট , সৌদি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সাভোলা গ্রুপ, আল সায়া ইন্টারন্যাল কোম্পানী, বিন লাদেন, পাইওনিয়র এবং আরো অনেক বড় কোম্পানীর শীর্ষস্থানীয় পদে কর্মরত প্রবাসীরা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীদের কাছে দাল্লার ৩০০ রিয়াল বেতনের কর্মচারী হিসাবে পরিগনিত হবেননা তার নিশ্চয়তা কি প্রতিবেদক দিতে পারবেন? বাংলাদেশে সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রেরণকারী সৌদিপ্রবাসীদের এভাবে হেয় করার মতো রিপোর্ট কি করে একটি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হলো তা সত্যিই অবাক ব্যপার।

প্রতিবেদক লিখেছেন যে, হাতে গোনা কয়েকটি উচ্চমানের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসীরা কেবলমাত্র পরিবার নিয়ে থাকার অনুমতি পান যা সত্যের অপলাপ। সৌদিআরবের জেদ্দায় দুটি বাংলাদেশী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল রয়েছে সেখানে দুই হাজার এর বেশী বাংলাদেশী ছেলে-মেয়ে পড়াশুনা করে। এদের অভিবাবক সবাই যে ইসলামী ব্যাংক, ওআইসি, আর্ন্তজাতিক সংস্থা এবং কনসুলেট এর কর্মকর্তা তা নয়।বাস্তবতা এই যে, সৌদি আরবে কেবল মাত্র লেবার ওয়ার্কপারমিটধারী প্রবাসীগন পরিবার আনার অনুমতি সাধারণত পাননা। কিন্তু স্পন্সরের সাথে আলোচনা করে ওয়ার্কপারমিট এ প্রফেসন পরিবর্তন করতে পারলে তারাও পরিবার নিয়ে বসবাস করতে পারেন। এমনকি ইলেকট্রিসিয়ান এবং সেলসম্যান হলেও প্রবাসীরা তাদের পরিবার আনার অনুমতি পেয়ে থাকেন।

সৌদিআরবে বিদেশীদের জন্য পড়াশুনার জন্য ভালো কোন ব্যবস্থা নেই বলে যে মন্তব্য প্রতিবেদক করেছেন তা সত্য নয়। সৌদিআরবে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কয়েকটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে যাতে যোগ্যতার মাপকাঠিতে সুযোগ প্ওায়া যে কেউ অধ্যয়ন করতে পারেন। এসব আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড এবং ক্যামব্রীজ এর অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং ব্রিটিশ কাউন্সিলের তত্বাবধানে এসব স্কুলের পরীক্ষাসমূহ অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানগুলিতে অধ্যয়ন করে বেশ কিছু বাংলাদেশী ছাত্র-ছাত্রী স্কলারশীপসহ আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে পড়াশুনা করছে। সৌদিআরবে কয়েকটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কার্যক্রম চালু করেছে এবং এরকম একটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী ছাত্রীরা পড়াশুনা করছে। এসকল বিষয়গুলিকে পরোয়া না করে প্রতিবেদক সৌদিআরবের শিক্ষা ব্যবস্থা নিযে যে রকম মন্তব্য করলেন তা হতাশাজনক।

সৌদিআরবের ভাষার প্রতি দতা প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতিবেদক এক জায়গায় লিখলেন যে, কফিল হচ্ছে সেসব সৌদি যারা সৌদিআরবে লোক আনা নেয়ার কাজ করেন। এবং কফিলরা প্রচুর টাকা পয়সার মালিক। বাস্তবতা হলো. সৌদিআরবে যে কোন বিদেশীর জন্যই একজন করে স্পন্সর থাকে এবং এই স্পন্সরকেই আরবীতে কফিল বলে। জেদ্দার বালাদে একটি রেল স্টেষনকে ঘিড়ে সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীরা সময় পেলেই আড্ডা দেন বলে যে মন্তব্য প্রতিবেদক করলেন তা হাস্যকর। জেদ্দা সৌদিআরবের একটি শহর, বিশাল এই শহরের একপ্রান্তে যারা বাস করেন অন্যপ্রান্তে গিয়ে আড্ডা দেয়ার প্রয়োজনীতা বোধ করেননা কারন এই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশীদের বিভিন্ন ব্যবসাকেন্দ্র এবং বাংলাদেশী মার্কেট রয়েছে যা কিনা প্রবাসীদের আড্ডার কেন্দ্রস্থল হিসাবে কাজ করে। জেদ্দার বালাদ সবচেয়ে জনপ্রিয় বানিজ্যিক এলাকা, ঢাকার গুলিস্তানের মতো হলেও এখানে আড্ডা দেয়ার জন্য যেখানে জেদ্দার লোকজনই তেমন আসেননা সেখানে পুরো সৌদিআরবের লোকজন আসে বলে প্রতিবেদক যে মন্তব্য করেছেন তা কি তথ্যের ভিত্তিতে করলেন তা তিনি বলতে পারবেন।

প্রতিবেদক লিখেছেন যে সৌদিআরবে ৮ থেকে ১০ ল বাংলাদেশী শ্রমিক আছেন যা একটি সম্পুর্ণ ভুল তথ্য। সৌদি আরবের জেদ্দা,মক্কা এবং তায়েফ অধ্যুষিত পশ্চিমাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় দশ ল প্রবাসী এবং পূর্বাঞ্চলে (রিয়াদ,দাম্মাম) রয়েছে কয়েক ল বাংলাদেশী। এদের বড় অংশ যে দাল্লায় কাজ করে তিনি যে মন্তব্য করেছেন তা সত্যিই দুঃখজনক।

প্রতিবেদক তার প্রতিবেদনে সৌদিপ্রবাসীদের নিয়ে কেবল নেগেটিভ প্রচারনা চালিয়েছেন। বাংলাদেশের বাইরে বসবাসরত একটি বিশাল কমিউনিটির সম্পর্কে তেমন কোন কিছু না জেনেই যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন তা অবিশ্বাস্য। প্রতিবেদক সৌদিআরবে বসবাসরত বাংলাদেশীদের কোন পজিটিভ দিক নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোকপাত করেননি। তিনি একথা তার প্রতিবেদনে একবারও বলেননি যে, মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় বৈশাখী মেলা অনুষ্ঠিত হয় সৌদিআরবে।তিনি একথা উল্লেখ করতে ভুলে গেছেন যে, আইনি বিধি নিষেধ থাকা সত্বেও সৌদিআরবের বিভিন্ন শহরে প্রতি সপ্তাহেই বাংলাদেশী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং প্রবাসী বাংলাদেশীগন টিকেট কিনে সেসব অনুষ্ঠানে শরীক হয় এই মরুর বুকে বাংলাদেশী সাহিত্য ও সাংস্কৃতিকে বাচিঁয়ে রাখার তাগিদে। শুধুমাত্র জেদ্দাতেই রয়েছে ৭টি শিল্পগোষ্ঠি যাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে নিজস্ব গায়কি সরঞ্জাম এবং লোকবল। জেদ্দাতে রয়েছে কবিদের সংগঠন, রয়েছে রোদ্দুর,অভিক এবং রিয়াদে রাইটার্স এর মতো বেশ কয়েকটি মানসম্পন্ন সাহিত্য পত্রিকা। জেদ্দা থেকে প্রকাশিত ্ওয়েব ম্যাগাজিন প্রবাসীডটকম, অভিকডটনেট,মুন্শীগঞ্চডটকম, রিয়াদ থেকে প্রকাশিত মরুপলাশ বিশ্বের সেরা বাংলা ্ওয়েবসাইটগুলোর কাতারে স্থান করে নিয়েছে। এসব সৃষ্টিশীল কাজগুলো কোন রকম উল্লেখ নেই উক্ত প্রতিবেদনে।

এমনকি জেদ্দায়,রিয়াদে বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ারস এসোসিয়েশন এবং ডক্টরস এসোসিয়েশন রয়েছে যা কিনা উপমহাদেশের অন্য কোন দেশের নেই। জেদ্দা এবং রিয়াদে প্রবাসীদের সংগঠিত করতে রয়েছে অসংখ্য আঞ্চলিক সমিতি। এসব আঞ্চলিক সমিতিগুলো বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি বাতসরিক অনুষ্ঠান, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান এবং বাংলাদেশের যে কোন দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে। জেদ্দায় দুটি বাংলাদেশী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল তন্মধ্যে একটি বাংলা এবং অন্যটি ইংরেজী মাধ্যম। বাংলা সেকশন এর ছাত্র-ছাত্রীরা বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ডের তত্বাবধানে এস.এস.সি এবং এইস.এস.সি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে থাকে। এই স্কুল গত বছর এস.এস.সি পরীক্ষায় পাশের হার বিবেচনায় বাংলাদেশে টপ টেনে স্থান লাভ করেছিল। পান্তরে ইংলিশ সেকশনের কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজিত ও লেভেল এবং এ লেভেল পরীক্ষায় পুরো সৌদিআরবের মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে শীর্ষস্থান লাভ করেছে। এসকল মেধাবী নতুন প্রজন্ম, এদের অভিবাবক এবং এদের নিয়ে গড়া একটি কমিউনিটি যারা সৌদি আরবে আছে সম্মানের সাথে এবং দেশে প্রচুর রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে তাদের বিষয়ে প্রতিবেদক কেন কোন কিছু লিখেননি তারা জবাব প্রতিবেদককেই দিতে হবে।

প্রতিবেদক কিছু প্রবাসীদের দুঃখ কস্ট নিয়ে লিখেছেন তার জন্য তিনি অবশ্যই ধন্যবাদ পাবেন। কিন্তু কিছু লোককে রেফারেন্স করে তিনি সৌদি আরবে বসবাসরত ল ল প্রবাসীদের এক কাতারে ফেলে তাদের তাদের বড় অংশ বালাদিয়া কোম্পানীর কর্মচারী অভিহিত করে তিনি সৌদি প্রবাসীদের যে অপমান করলেন কোন কারণে তা জানার অধিকার অবশ্যই আমাদের আছে। ভবিষ্যতে কোন বাংলাদেশী পত্রিকায় এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনের পূর্বে কর্তৃপ সচেতনভাবে তথ্য সংগ্রহ করবে এটা সৌদিআরবে বসবাসরত প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আমার বিনীত আবেদন।

মোহাম্মদ জিয়াউল ইসলাম শাহীন
প্রকাশক এবং সম্পাদক
প্রবাসীডটকম

http://www.probasi.com
+966 508677292

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার ডায়েরিআমার দিনকাল  বিভাগে ।

 

  • ২৩ টি মন্তব্য
  • ৪৩৭ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৫ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ১:৪১
comment by: শওকত হোসেন মাসুম বলেছেন: আপনি আপনার এই লেখা প্রথম আলোতে পাঠিয়ে দিন।
২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:২৩
comment by: বকলম বলেছেন: সৌদি প্রবাসীদের সম্পর্কে দেশের মানুষের যে নিম্ন ধারণা আছে এই প্রতিবেদন তার মধ্যে ইন্ধন যোগাবে।

যেখানে বাঙালি ডাক্তার ইঞ্জিয়ারসহ উচ্চশিক্ষিত লোকদের ইউরোপ আমেরিকা কানাডা অষ্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ওড জব করতে হয় সেখানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের শিক্ষিত প্রবাসীরা নামকরা প্রতিষ্ঠানে ভাল বেতনে কর্মরত আছেন। তারপরও আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ সৌদি বলতেই বোঝেন এখানে সব প্রবাসীই নিম্নমানের কাজ করেন। এটা খুবই দু:খজনক।

শাহীন ভাই, আপনাকে ধন্যবাদ এমন একটি বিষয় তুলে ধরার জন্য।
৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪০
comment by: বকলম বলেছেন: আমাদের সরকারের কাছে আবেদন, ৮০০ রিয়ালের নীচে যাতে কোন লোক না পাঠায় এখানে। অদক্ষ শ্রমিক না পাঠিয়ে আধা দক্ষ বা টেকনিক্যাল কাজ জানে যেমন, রাজমিস্ত্রি, প্লাম্বার, পেইন্টার, স্টীলফিক্সার, ওয়েল্ডার এবং ইলেক্ট্রনিক্স দ্রবাদির (ফটোকপি মেশিন, ফ্যাক্স, টিভি, স্পোর্টস টুলস সহ যাবতীয় হোম এপ্লায়েন্স) সার্ভিসিং করতে পারে এমন জনবল পাঠানো উচিৎ। এছাড়া কমপক্ষে গ্রাজুয়েট জনবল যারা, সেক্রেটারিয়ার জব, আই টি টেকনিশিয়ান, অটোক্যাড অপারেটর, প্রজেক্ট সিডিউলার, মার্কেটিং বা সেলস এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করতে পারবে। এরা বর্তমান প্রেরিত রেমিটেন্সের হারকে ৫ গুন বা তারও বেশি করবে তা সন্দেহাতীত ভাবে বলা যায়। স্কিলড্
৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৪
comment by: হাসান তারিক বলেছেন: প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকের কাছে এ ধরণের রিপোর্ট আশা করা যায় না
৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৪৮
comment by: বইপাগল বলেছেন: প্রথম আলোর কৃতকর্ম সম্পর্কে জেনে খুব রাগ লাগছে। এদের কারণেই 'সৌদী প্রবাসী' শুনলে মানুষ কেমন যেন অভিব্যক্তি প্রকাশ করে, হেয় করে কথা বলে। ধন্যবাদ আপনার প্রতিবেদনের জন্য।

'প্রথম আলো' পত্রিকার ক্ষমা চাওয়া উচিত ভুল ভিত্তিহীন এবং অসম্পূর্ণ তথ্য পরিবেশনের জন্য। একই সাথে আমি প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সংশোধন করে পুনরায় ছাপানোর দাবী জানাচ্ছি।
৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫০
comment by: বইপাগল বলেছেন: বকলম-এর সাথে সহমত প্রকাশ করছি।
৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৬
comment by: নুর3ডিইডি বলেছেন: প্রতিবেদনটি ভুল এবং কিছু অসত্য তথ্য প্রকাশের প্রতিবাদ জানিয়ে, আপনার এই লেখাটি ঐ পত্রিকায় পাঠিয়ে দিন। এই ব্লগে যদি লেখার মান হিসেবে শ্রেষ্ঠ ব্লগার নির্বাচন করা হয়। আমাদের সৌদি প্রবাসী ফজলে এলাহি ভাই প্রথম হবেন। শাহিন ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে অন্যতম সৌদি প্রবাসীদের পক্ষ থেকে এই লেখাটি লেখার জন্য।
৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ দুপুর ২:৫৮
comment by: নুর3ডিইডি বলেছেন: সহমত@ বকমল।
৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:১০
comment by: বকলম বলেছেন: বকমল কেডায়?!!!
১০. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৩৩
comment by: মদন বলেছেন: দোষ কিছুটা হলেও তো প্রথম আলোর আছে। অর্থাৎ রিপোর্টারের ভুল তথ্যের দায় প্রথম আলো এড়াতে পারে না।

ইত্তেফাকের আইটি বিভাগে মিশু অথবা এরক নামে একজন রিপোর্টার আছেন যিনি আইটি রিপোর্ট করে থাকেন। সমস্যা হলো তার পর পর দুটি রিপোর্ট পড়েছি, দুটিই তিনি ইন্টারনেট থেকে কপি মেরে বাংলা অনুবাদ করে চালিয়েছেন। সমস্যা ।েখানেও নয় সমস্যা হলো রিপোর্টের বাস্তবতাও যাচাই করার ধৈয্য তার হয়নি। এপ্রিলের ১ তারিখে গুগল একটি ফান করেছিল যে তারা পয়:নিস্কাশনের লাইন দিয়ে ইন্টারনেট কানেকশন দিবে। এটা ছিল স্রেফ ফান। অথচ জনাব মিশু তা রিপোর্ট আকারে ছেপে দিয়েছিলেন।

আমি জানিনা প্রথম আলোর রিপোর্টার সত্যিই সৌদীতে গিয়ে রিপোর্ট করেছিলেন নাকি ইন্টারনেট থেকে কোন বিদেশী রিপোর্টারে হুবহু কপি বাংলা করে চালিয়ে দিয়েছেন
১১. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৩
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: প্রথম আলো'র একজন রিপোর্টার রিপোর্টটি করে ছিলো। আমি এই লে খা টি প্রথমআলো-তে পাঠিয়েছি লাম ২৬ জুলাই, তারা এ বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য আজ পর্যন্ত করেনি, তাই বাধ্য হয়ে ব্লগে পোস্ট করলাম। তারা উল্টা পাল্টা রিপোর্ট ছাপায় আবার তার প্রতিবাদে লেখা দিলে কোন আওয়াজ করেনা এমনকি ভদ্রতাবশত একটা রিপ্লাইও দেয়না।তাদের যে রিপোর্টার এটি ছাপিয়েছে সে ক্ষমা না চাইলে আগামীতে সৌদিআরব আসলে প্রবাসীদের তোপের মুখে পড়তে হবে।
১২. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৪৬
comment by: নুর3ডিইডি বলেছেন: বকলম থেকে বকমল মনেহয় ভালোই। তবে আপনার লেখা পড়ে মনেহয় সত্যিই আপনি বকলম না। তারপরও সরি ভুলে অক্ষর আগে পিছে হয়ে যাওয়ার জন্যে।@ বকলম।
১৩. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৩:৫১
comment by: বকলম বলেছেন: বকলম থেকে বকের মল (বকমল) আপনার কাছে ভাললাগলেও সবার ভাল লাগার কথা নয় @ডিইডি।

শাহীন ভাই, দু:খিত আপনার পোষ্টে এই অপ্রাসঙ্গিক কমেন্টের জন্য।
১৪. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:১৪
comment by: নুর3ডিইডি বলেছেন: বকলম = ব+কলম।
বকমল= ব+কমল।
তো বলুন কোনটা সুন্দর।
১৫. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৪:৩০
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: সৌদি প্রবাসীদের নিয়ে একটি ধারাবাহিক পজিটিভ প্রতিবেদন লেখা শুরু করছি। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন তথ্য জানা থাকলে দয়া করে জানাবেন।
১৬. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ বিকাল ৫:১৬
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: যারা এই লেখার বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে চান তারা নিম্মলিখিত ইমেইলে মেইল করতে পারনে।
১৭. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ৯:১৬
comment by: রবিনহুড বলেছেন: প্রথম আলো উল্টা পাল্টা ভূল এবং বিকৃতি নিউজ ছাপার ইতিহাস অনেক পুরানো।

এ ব্যপারে প্রথম আলো সবার আগে। প্রথম আলো মানেই মিথ্যা খবরের ডিপো।
১৮. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:০৩
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: সবসময় যে বিকৃতি নিউজ ছাপায় তা বলবোনা, কিন্তু এই নিউজটা ছাপানো উচিত হয় নাই, একপেশে নিউজ ছিল।রিপোর্টার এর পন্ডিতিতে এটা হয়েছে!
১৯. ০২ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৫৯
comment by: মিসকিন বলেছেন: বাংলাদেশ থেকে কিছু কিছু পত্রিকার রিপোর্টার কোন কোন সময় প্রবাসে আনন্দ ভ্রমনে আসেন। আসার পর তাদের জানাশোনা বন্ধুবান্ধব তাদের নিয়ে বেশ আনন্দ ফুর্তি করেন। এই মেহমানরা কোনদিন রান্নাঘরে বা বেড রুমের খবর জানেনা। মানে প্রবাসীর বাস্তব জীবনের ধারনা সীমিত। তাই নিয়ে তারা যা লেখে তাই তাদের পত্রিকা ছাপে। তারা মনে করে এটাই প্রবাসী জীবনের চিত্র। বাস্তব জীবনের ধারনা না থাকলে লেখা উচিত নয়। তাদের হাতে কলম আর পত্রিকা আছে বলে তারা প্রবাসীকে হেয় করে যা ইচ্ছে তাই লিখছে। ভুল তথ্য দিয়ে কোন কিছু লিখা একটা অপরাধ। তাই পত্রিকার লোকজনকে বলছি যদি সৌদি আরবে প্রবাসী বাঙালির জীবন যাত্রা নিয়ে কিছু লিখতে চান তাহলে পড়ুন: "কালো রক্ত", রচনা: মোল্লা বাহাউদ্দিন, প্রকাশক: ঘাসফুলনদী, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা।
নিইউয়র্ক সম্মন্ধে জানতে চাইলে পড়ুন: "স্বপ্ন নগরী নিউইয়র্ক" রচনা: মোল্লা বাহাউদ্দিন, প্রকাশক জনান্তিক, আজিজ সুপার মার্কেট, ঢাকা।
২০. ০৩ রা আগস্ট, ২০০৭ রাত ১০:৪৪
comment by: জিয়াউল ইসলাম শাহীন বলেছেন: ধন্যবাদ সুন্দর একটি মন্তব্যের জন্য। একপেশে সংবাদ পরিবেশনা জনপ্রিয় সংবাদপত্রগুলির একটি নিয়মিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে।
২১. ২১ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১২:১৬
comment by: ফরিদ বলেছেন: শাহীন ভাই,
আপনার তথ্যবহুল পোস্ট পেয়ে ভাল লাগল। সৌদিতে এত পরিমাণে প্রবাসী আছেন জানতাম না।

আমার বাংলা বই সম্পর্কিত ওয়েবসাইটটি মধ্যপ্রাচ্যে জনপ্রিয় করার বিষয়ে আপনার কোন পরামর্শ পেলে কৃতজ্ঞ থাকব।
২২. ২১ শে আগস্ট, ২০০৭ রাত ১:০৭
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন: প্রথম আলো'র একজন রিপোর্টার রিপোর্টটি করে ছিলো। আমি এই লে খা টি প্রথমআলো-তে পাঠিয়েছি লাম ২৬ জুলাই, তারা এ বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য আজ পর্যন্ত করেনি, তাই বাধ্য হয়ে ব্লগে পোস্ট করলাম। তারা উল্টা পাল্টা রিপোর্ট ছাপায় আবার তার প্রতিবাদে লেখা দিলে কোন আওয়াজ করেনা এমনকি ভদ্রতাবশত একটা রিপ্লাইও দেয়না।তাদের যে রিপোর্টার এটি ছাপিয়েছে সে ক্ষমা না চাইলে আগামীতে সৌদিআরব আসলে প্রবাসীদের তোপের মুখে পড়তে হবে।
**************
শাহীন ভাই> প্রথম আলোর এই 'বিমার' কিন্তু পুরোনো । ওনারা 'ইচ্ছাসাংবাদিক'। অর্থাত্ত যা ইচ্ছা করবেন,তা-ই লিখবেন (হউক মনগড়া) !

মতি মিয়ার জরুরী ভিত্তিতে চিকিত্সা দরকার ।


আর রিপোর্ট-এর ব্যাপারে আপনার লেখায় সবিস্তারে পড়ে 'অন্ধের হস্তি দর্শনের' সেই গল্প মনে পড়েছে ।
২৩. ১৫ ই অক্টোবর, ২০০৭ দুপুর ২:০৭
comment by: খারেজি বলেছেন: @বকলম ভাই গরিব দেশী ভাইদের সৌদি যাইতে মানা করেন ক্যান?
রেমিটেন্স তো ওরাই বেশী পাঠায় বইলাই যানি। চাকরি শেষে পয়সা কড়ি লইয়া কানাডা যাইয়া সেটেলড হবার ধান্ধাও তো ওদের কম। আপনার ইজ্জতে লাগে বইলাই ওগো বাইরে যাওয়া মানা!

দেশে ওগোরে শিক্ষিত করেন, ওরা স্কিলড হইয়াই যাউক, কিন্তু ওগো পড়তে দিবেন না, হকারি করতে দিবেন না, রিক্সা চালাইতে দিবেন না, অখন দুবাইও যাইতে দিবেন না... আল্লার দুইনায় ওগোর কি কোন যায়গা থাকবো না? বই পাগল ভাইজানও কি খালি ডিগ্রিওয়ালাগো পক্ষে?

 



 


ওয়েব ডেভোলপার, জেদ্দা, সৌদিআরব
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ৭৩১৪