প্রতিদিন টিভির সামনে/প্রথম আলোয় মাশরাফির প্যানপ্যানানি আর সহ্য হচ্ছে না। অবশ্যই সে আমার প্রিয় খেলোয়ার কিন্তু সব কিছুর পরো একজন বোলারের রিদমে আসতে সময় লাগে। জিম্বাবুয়ের সাথে প্রথম ২টা ম্যাচের কথা কারো খেয়াল আছে কিনা জানি না, সেই ম্যাচ ২টির শুরুতে কিন্তু সে প্রচুর নো আর ওয়াইড বল করেছিল। শেষ ম্যাচে সে লাইন লেংথ ফিরে পেয়েছিল। এখন তাকে নিয়ে যেভাবে মাতামাতি হচ্ছে তা দলের ভেতরে চাপ ফেলতে পারে। আজকে কালের কন্ঠে তার উদ্ধত দেখে মেজাজ পুরাই গরম হয়ে গেল। নিউজ কোট করছিঃ
সিডন্সের উপর ক্ষুব্ধ মাশরাফিঃআমাকে নিয়ে উনাকে কে ভাবতে বলেছে
২০১১ বিশ্বকাপ-স্বপ্ন মলিন হয়ে যাওয়ার কষ্টে নীল মাশরাফি বিন মুর্তজা। সেই একই রকম কষ্ট দেশের সাধারণ মানুষের। মাশরাফিকে বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ দেওয়া যে ভুল সিদ্ধান্ত, প্রথম ম্যাচের দুই সপ্তাহ আগে মাঠে নেমেই সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন সাবেক বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু কী আশ্চর্য, পরশু দিন জাতীয় দলের প্র্যাকটিসে কোচ জেমি সিডন্স তাঁর সম্পর্কে করে বসলেন আপত্তিকর কিছু মন্তব্য। মাশরাফি তাতে ভীষণ হতাশ। সে কষ্টের কথাই গতকাল কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের বিশেষ প্রতিনিধি সাইদুজ্জামানকে বলেছেন মাশরাফি
প্রশ্ন : জেমি সিডন্স বলেছেন যে এ মুহূর্তে আপনাকে নিয়ে তিনি ভাবছেন না। কোচের এ মন্তব্যকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
মাশরাফি বিন মুর্তজা : উনি যেটা বলেছেন যে 'বিশ্বকাপ স্কোয়াডটা ১৫ জনের। আমি মাশরাফিকে নিয়ে ভাবছি না।' আমি জানতে চাই, আমাকে নিয়ে উনাকে ভাবতে কে বলেছে?
প্রশ্ন : চিকিৎসক ও ফিজিও তো আপনাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেগুলো কি মেনে চলছেন?
মাশরাফি : প্রতিদিন তো তা-ই করছি। এখন যদি আমাকে নিয়ে অন্য কোনো চিন্তা থেকে থাকে, তাহলে কেউ একজন সামনে এসে বলুক আমি কী করব। বলুক যে এটা করলে দলের জন্য ভালো হয়। ফিটনেসের জন্য মাঠে যাচ্ছি। গিয়ে তো আর তাঁকে (কোচ) আমাকে নিয়ে ভাবতে বলছি না! উনার আমাকে নিয়ে এত ভাবার কিচ্ছু নাই। এটা আমার জন্যও ভালো নয়। ফিট হওয়ার জন্যই মাঠে যাই। ঘরে বসে থাকলে তো আর ফিট হব না।
প্রশ্ন : আপনার ব্যাপারে কোচের এ মানসিকতার পরও কি বিশ্বকাপ-স্বপ্ন দেখেন? যদি সুযোগ এসেও যায়, তাহলে দলে ফিরে ভালো পরিবেশ পাবেন?
মাশরাফি : প্রথমত, সে পরিবেশ হয়তো পাব না। দ্বিতীয়ত, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন নিয়ে ফিটনেস ট্রেনিং করছি না। আমার আরো অনেক দিন খেলার ইচ্ছা আছে। আসলে বিশ্বকাপ নিয়ে এখন বাড়তি কোনো চিন্তা করছি না। দলে যেহেতু নেই, সেহেতু এটা নিয়ে চিন্তা করেও কোনো লাভ নেই। অপারেশন করালে হয়তো আমি আরো ভালোভাবে ফিট হব। এখন যাঁদের দায়িত্ব দল নির্বাচনের, তাঁরা যদি মনে করেন আমার এ ফিটনেসই যথেষ্ট, তাহলে তাঁরা দলে নেবেন। তা ছাড়া আমি কোনো সম্ভাবনা দেখছি না। নিজস্ব কোনো ইচ্ছাও নেই। তার পরও যেসব কথা হচ্ছে, তাতে খুব খারাপ লাগছে।
প্রশ্ন : অনেক দিন ধরে জাতীয় দলে খেলছেন। এত দিন পর কোচের এ ধরনের কথাবার্তা শুনতে কেমন লাগে?
মাশরাফি : একজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কিভাবে ব্যবহার করতে হবে, সেটা একজন কোচের জানা উচিত। আমি কখনোই বলব না যে আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। তবু একজন কোচের বোঝা উচিত একজন খেলোয়াড় সম্পর্কে কতটুকু বলা উচিত। বিশেষ করে যে খেলোয়াড় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত আছে। বিশ্বকাপ খেলতে পারছি না, এটা নিশ্চয় আমার জন্য আনন্দের খবর নয়। এখন আবার এসব শুনছি। শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যাপারে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে কোচের সচেতন থাকা উচিত।
প্রশ্ন : বিশ্বকাপ না খেলতে পারলে অপারেশন করাবেন। কিন্তু বিশ্বকাপের পরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড আসছে। তার মানে আরো কিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবেন না...
মাশরাফি : বিশ্বকাপের পরের দুটি সিরিজ নিয়ে এখন ভাবছি না। এ মুহূর্তে যেটুকু বুঝতে পারছি তা হলো, এক অর্থে আমার বিশ্বকাপ শেষ। অন্তত ৯০ ভাগ। তার পরও কিন্তু আমি বসে নেই।
প্রশ্ন : ৫ ফেব্রুয়ারি ম্যাচ খেলেছেন। আপনার কি মনে হয় যে আর দুই সপ্তাহ পর আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ফিটনেস লেভেলে পেঁৗছে যেতেন?
মাশরাফি : আমি ফিট না হলে তো আর ম্যাচ খেলতাম না। তবে হ্যাঁ, ম্যাচ ফিটনেস ভিন্ন জিনিস। আমি নিশ্চিত আরো এক-দুটি ম্যাচ খেলতে পারলে আমি ওই পর্যায়ের ফিটনেস পেয়ে যেতাম। আমি বিশ্বাস করি, একজন খেলোয়াড়ই তার ফিটনেস সবচেয়ে ভালো বুঝতে পারে। আরেকটা কথা_তিনি (কোচ) এখানে এসেছেন চাকরি করতে। আর আমরা খেলি দেশের নামে। তাই অনেক স্বার্থ ত্যাগ করতে পারি।
ফাইজলামি আর আবেগ-দুইটার সীমা থাকা দরকার। তার প্রয়োজন ছিল অপারেশনের। সে সেটা না করে দলের বাহিরে থেকে চাপ সৃষ্টি করছে। আর মিডিয়াও তাকে আগেরবারের নান্নু বা সুমনের মতো দলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। অথচ মাশরাফি বিষয়টি কিন্তু সেই ২ জনের মতো নয়। সে পুরো রান আপে যে পেসে,যে মানের বল করছে তা কি এখনকার বাংলাদেশ দলে চান্স পাবার যোগ্য কিনা প্রশ্ন জাগে। আর বর্তমানে যেই ফিট ৩ পেস বলার আছে তাদের উপর ভরসা রাখতে দোষ কোথায়? একটা ইনজুরড প্লেয়ারকে এভাবে মিডিয়া আর সাবেক খেলোয়ারদের সাপোর্ট দিয়ে যাওয়াটা আমার কাছে মোটেও যৌক্তিক মনে হচ্ছে না

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

