এর চেয়ে প্যাথেটিক নিউজ হতে পারে না বোধহয়ঃ
‘তিন বছর আলো-বাতাস পাইনি দেখিনি খোলা আকাশ’
‘তিন বছর আলো-বাতাস পাইনি, দেখিনি খোলা আকাশ। কারও সঙ্গে কথাও বলতে পারিনি। শরীরটা উটপাখির মতো হালকা হয়ে আছে। এভাবে বন্দী না করে জেলখানায় দিলেও আলো-বাতাস পেতাম; পেতাম ঠিকমতো দুই বেলা খাবার। দ্বিতীয়বার বিদেশ যাওয়ার টাকা চাইতে গেলে বাবা মাওলানা শামছুর রহমানের নির্দেশে প্রায় তিন বছর আমাকে টয়লেটে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না। পিপাসা পেলে অনেক সময় টয়লেটের পানি খেয়ে থাকতে হয়েছে।’
ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া ফিরোজ আলম (৩২) এ প্রতিনিধিকে এভাবেই তাঁর বন্দিজীবনের বর্ণনা দিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ গ্রামে।
তিন বছর টয়লেটে বন্দিজীবন কাটানোর খবর ফাঁস হলে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরে গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে থানার পুলিশ ওই বাড়ির টয়লেট থেকে শিকল দিয়ে বাঁধা ফিরোজ আলমকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ গতকাল বুধবার ফিরোজের বাবা মাওলানা শামছুর রহমান, মা হালিমা বেগমসহ তাঁর দুই ভাই শাহ আলম ও নাছিরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে গ্রামবাসী জানান, মাওলানা শামছুর রহমানের ছেলে ফিরোজ পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে সবার বড়। এসএসসি পাস ফিরোজ বেশ কয়েক বছর আগে বিয়ের পর বিদেশে যান। স্ত্রীর সঙ্গে মা-বাবার বনিবনা না হওয়ায় তাঁর সংসার ভেঙে যায়। পরে আবার বিয়ে করানো হয় তাঁকে। দ্বিতীয় স্ত্রীও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন সইতে না পেরে বাপের বাড়ি চলে যান। একপর্যায়ে ফিরোজের সঙ্গে তাঁর মা-বাবার সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। নিরুপায় হয়ে বাবা তাঁর অবাধ্য ছেলেকে জেল খাটান। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি আবার বিদেশে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে টাকা চান। এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। একপর্যায়ে বাবার নির্দেশে তাঁকে নিজের পাকা ভবনের টয়লেটে বেঁধে রাখা হয় প্রায় তিন বছর।
গতকাল বুধবার ফিরোজদের বাড়ির আশপাশের লোকজন জানান, ‘মাওলানা শামছুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নেই।’ গ্রামে কেউই তাঁকে ভালো চোখে দেখে না বলে জানা যায়।
ফরিদগঞ্জ থানাহাজতের গেটে ফিরোজের বাবা মাওলানা শামছুর রহমান বলেন, ‘ফিরোজ বিদেশে যাওয়ার জন্য আমাদের নির্যাতন করত। আমাদের অবাধ্য থাকায় একবার তাকে জেলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।’ কিন্তু তাঁকে টয়লেটে বন্দী না রেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্নের জবাবে মাওলানা শামছুর রহমান বলেন, ‘আমি তো এখন অসহায়। টাকাপয়সার অভাবে তাকে জেলে দেওয়া সম্ভব হয়নি।’
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও চিকিৎসক সুমন বলেন, ঠিকমতো খাবার না খেতে পেরে ফিরোজের দেহটি কঙ্কালসার হয়ে আছে। তাঁর কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে না সে কোনো মানসিক রোগী।
ফরিদগঞ্জ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি (তদন্ত) জাবেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনার জন্য ফিরোজের মা-বাবা ও দুই ভাইকে আটক করা হয়েছে।
ইউএনও সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ফিরোজের খবর শুনে গতকাল বুধবার তাঁর শিকলের সব তালা খুলে মুক্ত করে আনা হয়েছে।
সোর্সঃ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



