নিরবিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা-অঘটনা ছাড়াই ছেলেটির জীবন চলে যাচ্ছিল। কবে সে চমকে উঠেছিল, সে কথা বেমালুমই ভুলে গিয়েছে। আজ হঠাত আবার নতুন করে চমকে উঠল, জীবনবোধ, ব্যাথা, হারানো সুখগুলো তাকে পেয়ে বসেছে, কোন কিছুতেই স্থির হতে পারছেনা।
এই কিছুক্ষন আগেও সে এমনটা ছিলনা, যেভাবে তার জীবন চলছিল, সকালের - দুপুরের অবধি সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত ছুই ছুই পর্যন্ত অফিস আর অফিস, সে ব্যাস্ততাই তাকে জগতে অন্য ভাবনা থেকে দুরে রাখত, আজই সব কিছু ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে, যা সে ভাবতে চাইনা, মনে করতে চাইনা সেগুলোই বারবার অনিচ্ছাস্বত্তেও হানা দিচ্ছে।
ওয়ার্কষ্টেশনের পিএবিএক্স ফোনের রিং-ই বলে দিচ্ছিল ইনহাউস কোন ফোন নয়, বাহিরের। ফোনের রিসিভারটা কানে নিতেই একটা ডাক তার আজ সবকিছু পাল্টে দিল
"বাবা !" "বাবা, আজ তুমি কখন আসবে"
ছেলেটি বাবা ঠিকই কিন্তু এ ফোন তার সন্তনের নয়, ভুলে আসা এশটি নিষ্পাপ কন্ঠ, যে কন্ঠের ডাক "বাবা"
ভালবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হয়েছিল, পরিবার মেনে নেয়নি, তাই আলাদাই সংসার পাততে হয়। খুব বড় বেতনের চাকুরী নয়, যা উপার্যন তাতে দুজনের চলে যেত, অভাবটা তাই পিছু ছাড়তনা, সম্পর্কের শুরুতে বাস্তবতার হিসেব নিকেশ গুলো ভালাবাসার তরীতে ভেসে বেড়ানো দুটি প্রাণের কাছে কোন অস্তিত্বই ছিলনা, সময় বাড়ে উপলদ্ধিতেও কড়া নাড়ে বাস্তবনা, বুঝতে বেশী দিন সময় লাগেনি তার আগেই সব হিসেব নিকেশ চুকে যায়, সংসারের এ টানপোড়েন আর্থিক ঐশ্বর্যে লালিত হওযা মেয়েটি মেনে নিতে পারিনি তাই গর্ভের সন্তান নিয়ে ছেলেটির ঘর ছেড়ে চলে যায়। ছেলেটি হয়ে পড়ে একাকী, না পাশে থাকে তার পরিবার, না তার প্রিয ভালবাসার মানুষটি।
সন্তান জন্মগ্রহণের পর একবার কি দুবার দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল, তাও সে একেবারে ছোটবেলায়, মেয়েটির পরিবার থেকেও কেউ কোন যোগাযোগ রাখতে চাইনি, সন্তান বড় হতে থাকে, এক সময় মেয়েটির পরিবার মেয়েটিকে সন্তানসহ বিদেশ পাঠিয়ে দেয়।
ছেলেটি যখন জানতে পারে, বোঝাতে পারবনা ছেলেটির কষ্ট অনুভূতির কথা। তার আবেগ, তার ভালবাসা মিশ্রিত অশ্রুসজল চোখদুটির বর্ণনা দেবার সাধ্য আমার নেই। যে আবেগের মূল্য কোন ভালবাসা, স্বান্তনা, প্রতিশ্রুতি দিয়েও শোধ করা যাবেনা। সন্তানের বাবা হয়েও আজ সন্তানহীন,সন্তান পিতৃহীন। এর চেয়ে বড় কষ্ট কি হতে পারে, সন্তানকে জন্ম দিয়েও তার পিতা হতে না পারার ব্যর্থতা ঘাড়ে নিয়ে বেচে থাকা।
ছেলেটির সন্তানের বয়স আজ হয়ত বছর ৫ হয়ছে, কিন্তু এত দিনের পরও একটি দিনের জন্যও সে শুনতে পারেনি তার সন্তানের কান্ঠোর "বাবা" ডাকটি। বাস্তবতা এতটাই নিষ্টুর হতে পারে, বিশ্বাসঘাতক হতে পারে কল্পনায় আনতে পারেনা ছেলেটি, তাই যখন আজ এক অন্যরকম 'বাবা' ডাকটি শুনতে পারে জগতে সমস্ত কষ্টগুলো জমা হতে থাকে তার বুকে।
একাকীত্বে ভোগা ছেলেটি সম্পর্কগুলো নিয়ে ভাবতে থাকে, সবকিছুই আধার, অস্পষ্ট মনে হয়, মিথ্যে মনে হয় ভালাবাসা, প্রেম আর সম্পর্ক। চুর্ণ - বিচূর্ণ করে দিতে চাই জগতের সব বাধনগুলো, যখন কেউ কারও জন্য মায়া করবেনা, ভালবাসবেনা, কেউ কাউকে কাছে টানবেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

