নিয়মিত কর্মব্যস্ততার জীবন থেকে আজ কিছুদিন হল দিলগুলি অন্যরকম, যেন ছন্দপতন হয়েছে, সকালের পরিপাটি ড্রেসে অফিসের প্রস্তুতির তড়িঘড়ি নেই, এক কাপ গরম চায়েরও আগের মত ডিমান্ড নেই, শেভিং কিটগুলো নিয়েও তেমন নাড়াচাড়া হয়না, সাজিয়ে দেয়া লাঞ্চ বক্সটিতেও কোন দুপুরের খাবার ভরা হয়ে উঠেনা, জুতোর চামড়াতেও কালির প্রলেপ পড়েনা আর।
মরচে পড়ে যাওয়া জীবনটা যেন অল্পকদিনেই মুটিয়ে গেল। মুখের ত্বকটা শুষ্ক হয়ে কড়কড়া লোমে ভরে উঠেছে, ব্যাস্ততার ভারটুকু নেই, নেই আগের চাপও, তাই বাসের সারিতে দীর্ঘ লাইনে আর বাসের অপেক্ষায় থাকতে হয়না, লেট এটেনডেন্সের ঝামেলা নেই, বসের রাগ চক্ষু আর নয়, পিএবিএক্স-এর রিংটোনও অনেকদিন শোনা হয়না, কোথাও যেন কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে, যা হয়ত একেবারেই চিরদিনের জন্য, আর কখনো খুজে ফিরে পাওয়া যাবেনা, তাকে অর্জনের পুন:চেষ্টারও কোন প্রত্যয় নেই, তাহলে এতসব হারিয়ে জীবনের বাকী সময়টুকু কি শুধুই অবসর, বিষন্নতাকে সঙ্গী করে নেওয়া।
এটাই কি তবে রিটায়ারমেন্ট ! আমি ঠিক জানিনা। যে পূর্ণ অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার কথা তার কিয়দংশ হয়তবা পেরেছি, তাও ধার করা অভিজ্ঞতা থেকে। আমার বাবা, যিনি বর্তমানে একজন অবসরপ্রাপ্ত। অবসরে যাবার পূর্ব মুহূর্তে তার সময়কালীণ অবস্থান ছিল এরকম, তিনি অবসরে যাবার কয়েক মাস আগে বেশ কয়েকদিন ছুটি নিয়ে অবসর যাপন করতেন, অবসরে যাবার পর মুহূর্তকে সামলানোর জন্যই।
আমি আজ তরুণ যুবক, চাকুরী করছি কিংবা করিনা বা করব কিন্তু আমাকে একটি সময় শেষে অবসর নিতেই হবে। বাবার মুহূর্তগুলোকে স্বচক্ষে দেখার পর থেকে “অবসর” ভাবনাটি বারবার সামনে চলে আসে। জীবন তো একটাই অবসর তো নিতেই হবে, কিন্তু অবসরের মুহূর্তগুলোকে মানিয়ে নেয়া কি এতই সহজ হবে ? তার চেয়ে বরং ব্যস্ততাপূর্ণ জীবনই ঢের ভাল ! উপলব্ধি তাই - ই বলে !
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, ২০০৭ রাত ৮:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


