অন্য সব দিনের মত গত রাতেও যখন বাসায় ফেরা হয় তখন প্রায় ১১টা ছুই ছুই। কর্মময় জীবনের সমস্ত দায়িত্বটুকু অবসর দিয়ে ক্ষনিকের জন্য বাসার অতিথি, এই আমি। বাবা-মা’এর সঙ্গী হয়ে এই অল্প সময়ের সঙ্গতাটুকুই সারাদিনের অনুপ্রেরণা, আমার শক্তির ভর। আমার সব ক্লান্তিগুলো যেন আমার না আমার মায়ের, আমাকে নিয়েই তাঁর ব্যস্ততা আর আগ্রহের যেন কমতি নেই।
বাসায় ফিরেই দেখি মায়ের শরীরটা সকাল থেকেই খারাপ, প্রচন্ড কাপুনি দিয়ে জ্বরে শরীর উত্তপ্ত। আমার ছোয়া যেন তাকে প্রশান্তি এনে দিল, তাঁর চোখের ভাষাই সে কথাই বলে। 'শরীরটা কেমন এখন' - অবলিলায় মিথ্যে বলে দিল 'ভাল', যেন অসুস্থতার মাঝেও আমাকে শান্ত রাখার চতুরতা। যে চতুরতা সারাজীবন ধরেই, কখনো বুঝেছি কখনোবা এড়িয়ে গেছে। কোন কিছুই এখন আর আড়াল হয়না, তাই মা লুকোতে চাইলেও পারেনি।
রাত ১২টা। রাত্রির নীরবতা যতটা শান্ত, তার চেয়েও অশান্ত আমি, সমস্ত উদ্বেগ, উৎকন্ঠা মা'কে নিয়ে। বাবা ঘুমিয়ে পড়েছেন ততক্ষনে। থার্মোমিটারের পারদের সূচক বলে দিচ্ছিল জ্বরের অবস্থা। জল পট্টি হাতে, কিছুক্ষন পর পর মায়ের কপাল বুলিয়ে দিতে হচ্ছে, জ্বরের প্রকোপে ঘুমোতেও পারছেনা, বিছানার এপাশ-ওপাশ।
সারাদিনের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছিল তবুও তাঁর পাশে থেকে উঠতে মন চাইলনা, মাথায় হাত বুলানোতে মা বোধ হয় কিছুটা আরাম বোধ করলেন, চোখদুটো স্থির হয়ে আসছিল, মা ঘুমিয়ে পড়লেন একসময়, মা'কে ছেড়ে যেতে মন চাইলনা, ক্লান্তিকে ছাপিয়ে স্মৃতিতে জমে থাকা কত আনন্দ, হাসি, দু:খের পাতাগুলো একের পর এক চোখের সামনেই যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিচ্ছিল, যার প্রতিটিতেই সঙ্গীই ছিলেন 'মা'। রাতে এভাবে মায়ের পাশে কাটিয়ে দেয়া বায়েজীদ বোস্তামীর কথা মনে করিয়ে দেয়, তিনি মায়ের সেবা থেকেই মহান হয়েছিলেন। সে মহানের প্রত্যাশী আমি নই, শুধুই প্রার্থনা সারাজীবন যেন অন্তত মায়ের সেবাটুকু করতে পারি, কখনো এতটুকুন যেন তাকে কষ্ট না দেই, আমার বেহেশত্, সমস্ত সুখের প্রাপ্তি কেবল আমার মায়ের মুখের হাসি।
আজ একটি রাত যা পুরোটাই আমার মায়ের জন্য। পৃথিবীর সমস্ত ভাষা, পুস্তক খুজেও এমন কোন শব্দ আমাকে প্রশান্তি এনে দিতে পারবেনা যা পারে শুধু একটি 'মা' শব্দ দিয়ে। মা'কে খুব বেশী ভালবাসি বলেই তার থেকে কিছু পাওয়ার অধিকারটাও প্রশস্ত করতে চাই সবসময়ের জন্য।
নেটের সামনে বসে এ পোষ্ট হয়ত মা পড়বেন না, তার অলক্ষ্যেই আরো একবার বলি "মা, তোমাকে খুব খুব খুব বেশী ভালবাসি, তুমি যতটুকুন জান তার চেয়েও অনেক অনেক বেশী, শ্রদ্ধা তার চেয়েও বহুগুণে বেশী"।
যা জানাল আজ এ পোষ্টের লেখক আর জানল পোষ্টের সকল পাঠকবৃন্দ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

