যখন কেজী, ওয়ান, টু-তে ছিলাম সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মার্ক থাকত শুধু এই ছবি আঁকাতেই কম পেতাম, যার কারণে রেজাল্ট বরাবরই পিছিয়ে যেত। এটা তো আর মুখস্থের বিষয় না যে অনন্য সাবজেক্টের মত পরীক্ষা দিয়ে নম্বর পাওয়া যাবে।
বাবা-মাও উদ্বিগ্ন থাকতেন, কিন্তু কোন ফল হতনা। ড্রইং টিচার পরামর্শ দিলেন বই, খাতায় যে ছবিই দেখি তার যেন শেপ আঁকার চেষ্টা করি, শুরু হল চেষ্টার পথযাত্রা। থেমে থাকিনি, তাই এবার বাবা-মায়ের উদ্বিগ্নটাও অন্যরকম, বইয়ের পাতায়, খাতায়, পেপার, টাকায়, দেয়ালে, টেবিলে সর্বক্ষেত্রেই যখন আমার পেন্সিল স্কেচের বাহার খেয়াল করলেন তাদের ঘুম হারাম হবার অবস্থা, পড়াশোনা বাদ দিয়ে শুধু ছবি আর ছবি। নেশায় ডুবে গেলাম।
ফিরতে হয়নি, যতদুর পারা যায় এগিয়েছি। চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় পুরষ্কার পেয়েছি, দেয়াল অংকন, ক্লাসের টেবিল, চেয়াল, ওয়ালে এখনও খুজলে হয়ত আমার চিত্র শিল্প পাওয়া যাবে। সংগ্রহে ছিল অনেক আঁকা ছবি, বাসা বদলের সময় হারিয়ে ফেলেছি প্রায়ই।
ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত নেশাটা ধরে রেখেছিলাম, পড়াশোনার পাশে যখন চাকুরীতে জয়েন করলাম নেশা আর ধরে রাখতে পারলামনা। আজ অনেকদিন আঁকা হয়না। খুব মিস করি সেই দিনগুলি, দিনগুলির স্মৃতি, আমার আঁকা ছবিগুলোকে।
ছবিটির প্রসঙ্গে বলি : ছবির চরিত্রটি আমার `মা', তিনি আমাকে ছেড়ে এখনও একদিনও থাকেননি, আমিও না। ছবির বিষয়বস্তু : যদি কখনো আমি দুরে চলে যায়, 'মা' কিভাবে অপেক্ষা করবে, পথ চেয়ে থাকবে, দরজার কার্নিশে মাথা রেখে সুদূর পানে প্রতিক্ষার প্রহর গোনা ইত্যাদি ইত্যাদি অবাস্তব মনের ভাবনা।
যদিও সেরকম আহামরি কিছু ছবি আঁকতে পারতামনা। তবুও ছবি আকঁতে ভাললাগে, ভালবাসি আজও এখনও।
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
^
(বি:দ্র: এই পোষ্টটি সহ-ব্লগার স্কেচ প্রিয় বন্ধু "ফারজানা১৬" - কে উৎসর্গ করা হল)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

