ঠিক এ মুহূর্ত থেকে আর ঘন্টার ব্যবধানের ব্যপার মাত্র, বিশ্বের সকল মানুষ তাদের ‘মা’-কে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালন করবে, ‘মা’ দিবস। সব ভালবাসা, আবেগ, সুখ-দু:খের স্মৃতিকে জড়িয়ে মা’কে নিয়ে রচিত হবে একটি দিনের বলা না বলা অজস্র কথামালা।
ঠিক এ মুহূর্তে যখন এ লেখাটা লিখছি, হয়ত পড়ে সবাই ছি: ছি: বলবে, বলবে প্রচেত্য র এটা কি লিখেছ ? যেদিন বিশ্ব মা দিবসে বিশ্বের সকল মা কে সম্মান জানানো হবে, তাদের জন্য দিবসটি সেলিব্রেট করা হবে আর কিনা তার আগ মুহূর্তে, ছি: ছি: এটা হতে পারেনা, তুমি তোমার লেখা উইথড্র করে নাও।
হ্যা, আমি আমার লেখা তুলে নিতে পারি, কিন্তু পারিনা একটি অবুঝ নিষ্পাপ সন্তানের দুচোখের পবিত্র জলকে মুছে দিতে, পারিনা যে সন্তান তার মায়ের বুকের দুধের প্রত্যাশায় তীব্র অপেক্ষার প্রহর শেষে যখন জোটে বুকের দুধের বদলে ফিডারের দুধ, পারিনা একটি নিষ্পাপ শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে জানাতে তার অস্তিত্বের কথা, যেখানে থাকতে পারে সন্দেহের অবকাশ, থাকতে পারে অবিশ্বাসের ছোয়া।
কথাগুলোর মাঝে অস্পষ্টতা থাকতে পারে, কিন্তু তাই বাস্তব, আর বাস্তব বলেই সত্য বলে মানতে কষ্ট হয়। লিখতে ইচ্ছে হচ্ছিলনা, তবুও, যদিও এরকম বা এরকমের বিপরীতমুখী বহু প্রত্যক্ষ্য বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যাবে, তারপরেও কাছ থেকে দেখা বিষাদময় এ ঘটনাগুলো কিছুটা তুলে ধরছি।
ঘটনা ১ : প্রেমের বিয়ে ছিল দুজনের মাঝে। প্রথম দিককার সংসার ভালই চলছিল। আর্থিক চাহিদার সীমাটা পূর্বে কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দিন যাবার সাথে সাথে ক্রমশ তা বাড়তেই থাকে। মেয়েটি তার চাহিদার কথা জানিয়ে দেয়, অপূর্ণতাই প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত ওদের মাঝে। মেয়ের পরিবারও এ সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেননি বলে তাকে ফিরিয়ে নেবার চাপ ছিল। এক সময় মেয়েটির মনও পরিবর্তন হয়, চলে যায় বাপের বাড়ী, ততদিনে তার গর্ভে চলে আসে সন্তান। অ্যাবরশন করতে চাইলে ছেলেটির অনুরোধে করেনি। যেদিন সন্তান হয় সেদিনই তাদেও পরিবার সন্তানটিকে ছেলেটির কাছে দিয়ে যায়। পরে আর কোনদিন যোগাযোগ কিংবা খোজও রাখেনি মেয়েটি। না সন্তানের না তার একসময়ের ভালবাসার মানুষের।
ঘটনা ২ : দুজনের সংসার, বাহিরে থেকে বেশ পরিপূর্ণ মনে হলেও ভিতরটা এতটা অগভীর ছিলনা বোঝা যেতনা। দুজনেই চাকুরীজীবি। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেটি খুব কম সময়ই দিতে পারত পরিবারকে। মাঝে তাদের একটা ফুটফুটে সন্তানও হল। বছর চার না যেতেই মেয়েটি অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সম্পর্ক রাখতে চাইলনা, জানিয়ে দেয় পরিবারে, কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যত প্রশ্ন ? সে এক পর্যায়ে সংসার ছেড়ে চলে যায়। জানা মতে আর কোনদিন সন্তানকে দেখতেও সে আসেনি।
ঘটনা ৩ : বিয়ের আগেই যে ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিল, বিয়ের পরও বেশ কিছুদিন ছিল। ঘনিষ্ঠতা তাদের সম্পর্ককে অনেকদূর নিয়েছিল। যখন তার গর্ভে সন্তান আসে মেয়েটি জানত প্রকৃতই তার পিতৃত্বের অধিকারী কে ? তবুও সংসার, স্বামী, পরিবার সব কিছুকে উপেক্ষা করেই কোন এক অজানাই কাউকে জানতে দেইনি কিছুই। যথারীতি সন্তানও হল, এ সন্তানের পিতৃত্ব প্রশ্নে যে অবিশ্বাসের গন্ধ ছিল তা শুধু জানত ওই সন্তানের মা-ই।
উপরের ঘটনাগুলো কোন অমূলক বা বানানো কিছু নয়, আমার জীবনের খুব কাছ থেকে দেখা প্রত্যক্ষ কিছু বাস্তবতা। আজ যখন সারা পৃথিবীর সন্তানরা যখন তাদের মা কে নিয়ে গর্ব করবে তখন এই সন্তানেরা কি বলবে তাদের পৃথিবীকে ? কিভাবে খুজবে তাদের মায়ের মমত্ব, ভালবাসাকে। আর সেই মায়েরা কিভাবে তাদের পরিপূর্ণতাকে মূল্যায়ন করবে ?
উত্তর অনুসন্ধানের জন্য নয়, বরং কিছু সত্যকে মেনে নিতে হয় বলেই, অনুভবে কষ্ট হয় । আজ আমি নিজেকেই ক্ষমা করতে চাই, পারিনি, পারিনা এবং কখনো পারবোওনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

