somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“বিশ্ব মা দিবস” - শিরোনামে এ লেখার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী

১০ ই মে, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঠিক এ মুহূর্ত থেকে আর ঘন্টার ব্যবধানের ব্যপার মাত্র, বিশ্বের সকল মানুষ তাদের ‘মা’-কে শ্রদ্ধা নিবেদন করার জন্য একটি বিশেষ দিবস পালন করবে, ‘মা’ দিবস। সব ভালবাসা, আবেগ, সুখ-দু:খের স্মৃতিকে জড়িয়ে মা’কে নিয়ে রচিত হবে একটি দিনের বলা না বলা অজস্র কথামালা।

ঠিক এ মুহূর্তে যখন এ লেখাটা লিখছি, হয়ত পড়ে সবাই ছি: ছি: বলবে, বলবে প্রচেত্য র এটা কি লিখেছ ? যেদিন বিশ্ব মা দিবসে বিশ্বের সকল মা কে সম্মান জানানো হবে, তাদের জন্য দিবসটি সেলিব্রেট করা হবে আর কিনা তার আগ মুহূর্তে, ছি: ছি: এটা হতে পারেনা, তুমি তোমার লেখা উইথড্র করে নাও।

হ্যা, আমি আমার লেখা তুলে নিতে পারি, কিন্তু পারিনা একটি অবুঝ নিষ্পাপ সন্তানের দুচোখের পবিত্র জলকে মুছে দিতে, পারিনা যে সন্তান তার মায়ের বুকের দুধের প্রত্যাশায় তীব্র অপেক্ষার প্রহর শেষে যখন জোটে বুকের দুধের বদলে ফিডারের দুধ, পারিনা একটি নিষ্পাপ শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে জানাতে তার অস্তিত্বের কথা, যেখানে থাকতে পারে সন্দেহের অবকাশ, থাকতে পারে অবিশ্বাসের ছোয়া।

কথাগুলোর মাঝে অস্পষ্টতা থাকতে পারে, কিন্তু তাই বাস্তব, আর বাস্তব বলেই সত্য বলে মানতে কষ্ট হয়। লিখতে ইচ্ছে হচ্ছিলনা, তবুও, যদিও এরকম বা এরকমের বিপরীতমুখী বহু প্রত্যক্ষ্য বাস্তব উদাহরণ পাওয়া যাবে, তারপরেও কাছ থেকে দেখা বিষাদময় এ ঘটনাগুলো কিছুটা তুলে ধরছি।

ঘটনা ১ : প্রেমের বিয়ে ছিল দুজনের মাঝে। প্রথম দিককার সংসার ভালই চলছিল। আর্থিক চাহিদার সীমাটা পূর্বে কোন বাধ্যবাধকতা না থাকলেও দিন যাবার সাথে সাথে ক্রমশ তা বাড়তেই থাকে। মেয়েটি তার চাহিদার কথা জানিয়ে দেয়, অপূর্ণতাই প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকত ওদের মাঝে। মেয়ের পরিবারও এ সম্পর্ককে মেনে নিতে পারেননি বলে তাকে ফিরিয়ে নেবার চাপ ছিল। এক সময় মেয়েটির মনও পরিবর্তন হয়, চলে যায় বাপের বাড়ী, ততদিনে তার গর্ভে চলে আসে সন্তান। অ্যাবরশন করতে চাইলে ছেলেটির অনুরোধে করেনি। যেদিন সন্তান হয় সেদিনই তাদেও পরিবার সন্তানটিকে ছেলেটির কাছে দিয়ে যায়। পরে আর কোনদিন যোগাযোগ কিংবা খোজও রাখেনি মেয়েটি। না সন্তানের না তার একসময়ের ভালবাসার মানুষের।


ঘটনা ২ : দুজনের সংসার, বাহিরে থেকে বেশ পরিপূর্ণ মনে হলেও ভিতরটা এতটা অগভীর ছিলনা বোঝা যেতনা। দুজনেই চাকুরীজীবি। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেটি খুব কম সময়ই দিতে পারত পরিবারকে। মাঝে তাদের একটা ফুটফুটে সন্তানও হল। বছর চার না যেতেই মেয়েটি অন্য একটি ছেলের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সম্পর্ক রাখতে চাইলনা, জানিয়ে দেয় পরিবারে, কিন্তু সন্তানের ভবিষ্যত প্রশ্ন ? সে এক পর্যায়ে সংসার ছেড়ে চলে যায়। জানা মতে আর কোনদিন সন্তানকে দেখতেও সে আসেনি।


ঘটনা ৩ : বিয়ের আগেই যে ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিল, বিয়ের পরও বেশ কিছুদিন ছিল। ঘনিষ্ঠতা তাদের সম্পর্ককে অনেকদূর নিয়েছিল। যখন তার গর্ভে সন্তান আসে মেয়েটি জানত প্রকৃতই তার পিতৃত্বের অধিকারী কে ? তবুও সংসার, স্বামী, পরিবার সব কিছুকে উপেক্ষা করেই কোন এক অজানাই কাউকে জানতে দেইনি কিছুই। যথারীতি সন্তানও হল, এ সন্তানের পিতৃত্ব প্রশ্নে যে অবিশ্বাসের গন্ধ ছিল তা শুধু জানত ওই সন্তানের মা-ই।


উপরের ঘটনাগুলো কোন অমূলক বা বানানো কিছু নয়, আমার জীবনের খুব কাছ থেকে দেখা প্রত্যক্ষ কিছু বাস্তবতা। আজ যখন সারা পৃথিবীর সন্তানরা যখন তাদের মা কে নিয়ে গর্ব করবে তখন এই সন্তানেরা কি বলবে তাদের পৃথিবীকে ? কিভাবে খুজবে তাদের মায়ের মমত্ব, ভালবাসাকে। আর সেই মায়েরা কিভাবে তাদের পরিপূর্ণতাকে মূল্যায়ন করবে ?

উত্তর অনুসন্ধানের জন্য নয়, বরং কিছু সত্যকে মেনে নিতে হয় বলেই, অনুভবে কষ্ট হয় । আজ আমি নিজেকেই ক্ষমা করতে চাই, পারিনি, পারিনা এবং কখনো পারবোওনা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৮ সকাল ১১:০১
১৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×