শুক্রবার সকালে মাষ্টার মশাইয়ের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেতে হবে, আজই প্রথম, তাই ঘুম থেকে বেশ আগেই উঠে পড়েছি। নতুন জায়গায় তার প্রাইভেট রুমটাও খুজে বের করতে হবে। একটু বলে নিই কিছু কিছু শব্দের ব্যপারে আমি আবার বেশ অন্যরকম, এই যেমন এ যুগেই টিচারকে কতই না নতুন নতুন নামে ডেকে বসে, অথচ আমি ’মাষ্টার মশাই’ বলে স্বম্বোধন করে আসছি। সে যাই হোক, তার সাথে পরিচয় ফোনেই, কখনো দেখিওনি, শেষেরবার তিনি জানিয়ে দিলেন এখানে এসে সোজা রাস্তা, তারপর বায়ে একটা চায়ের দোকান, তার ঠিক উল্টো দিকে একটা হোটেল তার বায়ের গলি দিয়ে সোজা ঢুকলে একটা লাল রং-এর দালান, তার ঠিক পাশেই একটা দোতলা বাড়ী ওই দোতলা বাড়ীতেই আমার মাষ্টার মশাইয়ের প্রাইভেট পড়ানোর ক্লাসরুম। ফোনটা যখন রেখে দিয়েছিলাম তার আগেই তার নামটা জেনে রাখি।
আচ্ছা আমার এ ব্লগের যে পাঠক বাবুরা এতক্ষন যে, মাষ্টার মশাইয়ে দেয়া তার ক্লাসরুমের ঠিকানা দিলেন তা কি কেউ একদমে বলতে পারবেন ? অর্ধ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি 'সম্ভব না', তাহলে বুঝুন মাষ্টার মশাইয়ের এ ছাত্রের কি অবস্থা হয়েছিল সেদিন, না পেরেছি আবার জিজ্ঞেস করে নিতে, পাছে মাষ্টার মশাই ভেবে বসে, 'রাম হদ্দ-গদর্ভ ' কোথাকার !
আজই সেদিন, শুক্রবার - সকালেই বেরিয়েছি, আবার প্রাইভেট শেষে অফিসও আছে, তাই তাড়াটাও ছিল পিছু পিছু। গন্তব্যে পৌছেছি বেশ আগেই, চায়ের দোকান, সোজা রাস্তা, হোটেল, বায়ের গলি, লাল দালান কোনটাই খুজে নিতে বেগ পেতে হয়নি কিন্তু সমস্যাটি তখনই বাধল যখন দোতলা বাড়ীর সামনে এসে দাড়িয়েছি। বাড়ীটার ঠিক বাইরের ফটকে একটা সাদা কাগজে ছাপা আছে ...
- "এখানে একাউন্টিং প্রাইভেট পড়ানো হয়" যোগাযোগ : দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, ঠিকানা ......... ইত্যাদি।"
প্রথমেই আটকে গেলাম, এ আবার কেমন মাষ্টার মশাই, প্রাইভেট পড়াবেন তিনি আর যোগাযোগ করতে বলছেন দারোয়ান সাহেবের সাথে। যাই হোক এতটা বিচলিত না হয়ে দারোয়ার শরীফ ভাইকে খুজতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। বাড়ীর দরজা নেড়েও তেমন কোন সাড়া না পেয়ে রাস্তার একটু সামনের দোকান গুলোতে দারোয়ার শরীফ সাহেবের খোজে অভিযান শুরু করলাম। এই নামে নাকি কোন দারোয়ানকেই কেউ চেনেনা। মহা মুশকিলে পড়লাম। বিপদও বটে। কতক্ষনই বা এভাবে খোজাখুজি করা যায়। আবার ওই দোতলা বাড়ীর গেটেই অপেক্ষা করতে লাগলাম। এক বয়সী লোক পেছন থেকে এসে জিজ্ঞেস করলেন কাকে খুজছি, 'দারোয়ান শরীফ'- ভাইকে, তিনি চলে গেলেন। তার অল্পক্ষনের মধ্যেই ক্লাসের এক ছাত্রের সাথে দেখা। ভালই হল, ওকে নিয়েই দোতলা বাড়ীর ঠিক পাশেই মাষ্টার মশাইয়ের ক্লাসরুমটা পেয়ে গেলাম।
এখন বেশ স্বস্তি লাগছে। মাষ্টার মশাইকে তার ক্লাসরুম খুজে পাওয়ার ইতিবৃত্ত জানালাম। এও জানালাম আজকাল মাষ্টার মশাইয়দের ব্যস্ততার দরুন বোধ হয় দারোয়ানদের সাথে যোগাযোগের জন্য বলে। মাষ্টার মশাই কিছুটা ক্ষেপে গেলেন, বুঝতে পারলামনা। বললাম গেইটের সাদা কাগজের সাইনবোর্ডের কথা। কিন্তু ....... কিন্তু ....... চোখ, কান তখন আর জায়গায় নেই, সব মাথায় উঠে গিয়েছে। এ কি দেখছি আর শুনছি ! ওটা নাকি আমার মাষ্টার মশাইয়েরই সাইনবোর্ড। তাহলে দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন-টা কে ?
জানতে পারলাম মাষ্টার মশাইয়ের নাম "দেওয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন "
....................................................................
টাইপিং ভুলে তা হয়েছে "দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন"
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০০৮ বিকাল ৪:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


