ঢাকা ওয়ারিয়ার্সের জয়ে বিসিবি’র কর্মকর্তারা কি খুশি হতে পেরেছেন ? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে!
একান্তই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষনে ঠিক এ প্রশ্নটিই বারবার উত্তর অনুসন্ধানের খোজঁ করে চলেছে, ঠিক গতকাল থেকেই। যখন গতকালকের দিল্লী বনাম ওয়ারিয়ার্সের খেলায় রফিকের করা বোল্ডের মধ্য দিয়ে দিল্লী’র শেষ ব্যটসম্যান মাঠ থেকে ফিরছিলেন, ঠিক পেছনেই তখন ওয়ারিয়ার্সের জয়োৎসব। জানিনা, বিসিবি’র কর্মকর্তারা সে দৃশ্য দেখেছেন কিনা ! কিংবা ম্যাচটি ! শেষের প্রেজেনটেশন স্রিমনি'তে উইনিং টিমের প্লাকার্ড হাতে হাবিবুলের জয় উল্লসিত হাসি কি বিসিবি’র কর্মকর্তারা তাৎক্ষনিক পছন্দ করেছিলেন ? সে প্রশ্নটাও প্রথম প্রশ্নের মত !
প্রশ্ন আর তার উত্তর, সে অনুসন্ধানে হয়ত সমালোচনা বা আলোচনা দুটোই হতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, রটে যাওয়া বিদ্রোহী দলের খেলোয়াররা তাদের ৩য় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছে। জয় শুধু ওয়ারিয়ার্সের নয় এ জয় যে, আমার দেশের জয়।
সাম্প্রতিক চলতি আইসিএল সিরিজে অলক কাপালির ব্যাটিং তান্ডব, ওপেনিং জুটির ভাল পারফরমেন্স, বোলাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছুই আলোচনার শীর্ষে। যেখানে তারা নিজ দেশেই আলোচিত হতে পারেনি। হিরো হয়েও হিরো নয় জিরোই হয়ে রইল। বলা যায়, এ প্রতিভা কোথায় ছিল এতদিন তোমাদের !
বিদ্রোহী শব্দটি শুনতে এখন আর ভাল লাগেনা, তবুও যখন খেলোয়ারদের স্বীকৃতি প্রদানকারী কমিটি তাদেরকে বিদ্রোহী বলে ঘোষণা দিয়েই ফেলেছে সেখানে সাধারণদের কাছে এর মর্মার্থ অন্য কিছু কি আর হতে পারে ?
ওয়ারিয়ার্সের হয়ে খেলতে যাওয়া খেলোয়ারদের উপর ১০ বছরের জাতীয় ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা ঝুলছে। নিশ্চয় এটা একটা মানসিক চাপ তাদের জন্য, যদিও এত বড় শাস্তি যে হতে পারে তারা পূর্ব অনুমান করতে পারেনি। কিন্তু বিসিবি তো পূর্ব অনুমান করতে পেরেছিলেন এমন কিছু হতে যাচ্ছে যেখানে জাতীয় দলের বেশ ক’জন খেলোয়ারদের আইসিএল-এ খেলার ব্যপারে যখন সিডন্স দেশের বাহিরে থেকেও সে সংক্রান্ত মেইল করে তাদেরকে সতর্ক করেছিলেন, তখন বিসিবি কি সতর্ক হয়েছিল ? যদি হত তাহলে তো এমন ফল দাড়াতনা। তাহলে বিসিবি কি চেয়েছিল এমনটাই হোক যেখানে তারুন্য নির্ভর শক্তি দিয়ে নতুন দল গঠনের সুযোগ পাওয়া যাবে, না চাইতেই বৃষ্টির মত - পুরোনোদের ছেটে ফেরার কাজটাও সারা হয়ে যাবে ? অবশ্য পরবর্তীতে যখন আইসিএল-এ চলে যাওয়া খেলোয়ারদের কাছ থেকে ঘোষণা আসল, প্রেস ব্রিফিং দিয়ে তখন ফিরিয়ে আনার জোর জবরদস্তিও চলল, মিডিয়াগুলো সরব তখন, সব কিছুই সম্ভব আবার কোনটাই অমূলক নয়। তবুও যা উহ্য থাকল তার অর্ন্তনিহিত কিছুই জানা হলনা।
তারুন্য নির্ভর শক্তি সাহসে দল গঠন হতে পারে কিন্তু সে তারুন্যকে যথার্থ প্রয়োগের জন্য দরকার অভিজ্ঞতা। যুগে যুগে সে রীতিই চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের বেলায় আমরা সবাই এক সাথেই অভিজ্ঞ হতেই চেয়েছি, তাই নবীনদের পদচারনা বেশী। তারুন্য শক্তির কাছে অভিজ্ঞদের পরাজয়, বঞ্চনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যেখানেই ক্ষোভের সৃষ্টি আর বিদ্রোহী বনে যাওয়া। তবে, এক্ষেত্রে নবীনদের সাধুবাদ জানাই তাদের সাফল্যও কামনা করি।
উত্থাপিত হতেই পারে, হাবিবুল, নাফিস, আফতাবের চলে যাওয়া নিয়ে, সে সূত্রেই মোটা অংকের হাতছানিকেও এড়িয়ে গেলে চলবেনা। কিন্তু যখন নিজ দেশেই তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত বা দলে টিকে থাকা না থাকার সন্দেহের অবকাশ সেখানেই তাদের ক্ষোভগুলোর বিষ্ফোরণ ঘটল আইসিএল-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে। পাইলটের কথাই ধরুন না কেন, দেশের জন্য খেলার স্বপ্নে আইসিএল-এর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কিন্তু বিনিময়ে কি পেলেন ? অপমানিত হবার পূর্বেই যথাপোযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরে চলে গেলেন। যেখানে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে হল একান্তই ব্যক্তিগত অনিচ্ছা সত্বেও।
বিসিবি যে শাস্তি দিয়েছে তার বেশী হতেও পারত, নমনীয়তায় মাত্র ১০ বছর কার্যকরী হল। বিসিবি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাই তারা পেরেছে। সমালোচনার চাইতে আলোচিতও হল বটে এমন শাস্তি দিয়ে ! মাঝ দিয়ে বিদায় নিতে হল দেশের বেশ ক’জন প্রতিভাবান খেলোয়ারদের। “ক্ষমা স্বর্গীয়”। প্রতিভাবান এ খেলোয়ারদের ফিরিয়ে আনার তাগিদে বিসিবি’র কর্মকর্তরা যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং শাস্তি প্রত্যাহার করেন সেটাই যে মঙ্গলময় হবে তা একবাক্যে সবাই স্বীকার করবে। বিসিবি’র কাছে সেটাই প্রত্যাশা করি এবং কামনা করি।
আমরা বাংলাদেশী, যেদিন থেকে আমাদের ক্রিকেট বিশ্ব অঙ্গনে পরিচিত হল সেদিন থেকেই ক্রিকেট নিয়ে উচ্ছাস যেকোন খেলার তুলনায় অনেক বেশী। জয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি আবার পরাজয়ে আবেগ আপ্লুতও হয়েছি। তাই দেশের হয়ে যেকোন জয়-ই আমাদের কাছে অনেক বড়। তাইত দেশের বিদ্রোহী যোদ্ধাদের খেলাকে যেমন উপক্ষা করতে পারিনি তেমনি জয়ে সুস্থির থাকতে পারিনি। আনন্দে উল্লসিত হয়েছি, উল্লসিত হয়েছে দেশ ও দেশের মানুষ। এখন সেটাতেই সান্তনা ওয়ারিয়ার্স ভাল খেলুক, জয় পাক, ওরা জয়ী হোক।
.
.
.
.
.
.
.
.
..
.
ওয়ারিয়ার্সের হয়ে খেলতে যাওয়া আমাদের দেশের সকল ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে পোষ্টটি উৎসর্গ করা হল।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১২:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


