“Why do u think they left me?” – এ প্রশ্নটি যখন Dannis, David Gordon’কে করেছিল, আনুমানিক ২০ সেকেন্ড স্ক্রীনে কোন ডায়ালগ ছিলনা, David Gordon প্রায় নিশ্চুপ, কোন উত্তর নেই তার কাছে, ডিরেক্টর তার পুরো মুভিটিতে এই -Silent Sequence-এ সবচেয়ে বেশী সময় নিয়েছিলেন - মাত্র একটি ডায়ালগ ডেলিভারী দিতে। শেষে যখন উত্তর দিয়েছিল Stupid বলে।
এই প্রশ্নটি কতটা কঠিন ছিল David Gordon-এর জন্য? সন্তানের করা এমন কোন প্রশ্নর উত্তর দিতে কোন পিতা যদি এতক্ষন নিরুত্তর থাকেন, তাহলে শিশু সন্তানটির কথা একটিবার ভাবুন, এরকম হাজারো কত প্রশ্নের উত্তর দিতে একজন বাবার কত সময় দরকার হবে? হিসেব কষতে হবেনা, বেহিসেবিই বলি হয়ত কোন উত্তরই থাকবেনা।
যদিও David Gordon তার প্রকৃত বাবা ছিলেন না, মাত্র একজন পালিত বাবা। তবুও Dannis-এর প্রশ্নের উত্তরে Director তার চিত্রায়নে তাকে যে ভালবাসা দিয়েছিল, যে মমতার টানে নিজের সন্তান করে নিয়েছিল পরিচালকের ওই -Silent Sequence- সাথর্কতা এখানেই।
অদ্ভুত একটা ক্যারেক্টর-Dannis, বাচ্চা বয়সের কোন দুরন্তপনাই ছিলনা, সূর্যের আলোকে যতটুকু ভয় পেত তাতেই একটা কার্টনের ভিতরেই সার্বক্ষনিক বসবাস। মজার বিষয় হল নিজেকে সে অন্য গ্রহের মনে করত, কোন মিশন নিয়ে তাকে এখানে পাঠানো হয়েছে শেষ হলেই আবার ফিরে যেতে হবে তাকে।ছবির নামরকরণও সেরকমই।
David Gordon, ২ বছর পূর্বে তার স্ত্রী মারা গিয়েছে। একজন সাইন্স ফিকশন লেখক। Dannis-এর এর সাথে প্রথম পরিচয়েই কিছুটা কৌতুহলী David একসময় বাচ্চাটিকে adopt নিয়ে ফেলে।
David – Dannis, বাবা এবং পালিত পুত্র – মূলত এ দুচরিত্র’কে ঘিরেই Menno Meyjes’এর পরিচালনার একটি মুভি “MARTIAN CHILD”
২৭মিলিয়ন ডলার বাজেটের মাত্র ১০১ মিনিটের ছবি “MARTIAN CHILD” যখন এলসিডি স্ক্রীনের ঝকঝকে পদার্য় সুবোধ দৃশ্যগুলো দেখবেন ক্ষানিকক্ষন কি বাস্তবের “MARTIAN CHILD”-এর দিকে তাকানোর সুযোগ হবে ?
সার্বজনীন প্রেক্ষাপটেই বলি, এমন অনেক স্নিগ্ধ সকাল গিয়েছে, পত্রিকায় রাস্তা কিংবা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া কোন শিশুর প্রতিবেদন দেখেছেন, কখনও কি আৎকে উঠেছেন?
আপনি বাবা হন বা না হন তার কোন প্রয়োজন এখানে মুখ্য নয়, ধরুন সে শিশুটিই যখন ¬¬জানতে শিখবে প্রথম প্রশ্নটিই যদি আপনাকে সে করে “Why do u think they left me?”
আপনি তো তার বাবা নন, কি উত্তর দিবেন?
আমাদের মূল্যবোধের দিকে যদি তাকাই এরকম কোন শিশুর কাছে তার মূল্যই বা কতটুকু।বোধটুকুকে না হয় বিসর্জনই দিলাম। প্রশ্নে উত্তর দেয়া কি তখনও সহজবোধ্য হবে ? তা না হয় প্রশ্নবিদ্ধই থাক!
প্রতিপাদ্য বিষয়টিকে নিয়ে হয়ত অনেক উপলক্ষ খুজে পাওয়া যাবে, যেখানে প্রতিবেদন লেখা হবে, শিশু অধিকার সংরক্ষন আয়োজক হবে, কমিটি হবে, বিশ্ব সংস্থা হবে, নীতি হবে, সনদ, বিধিমালা, প্রতিবাদ, প্রতিরোধ পর্যন্ত হবে, একটিই লক্ষ্য শিশুকে বাঁচাতে হবে, শিশুরা বাচলেঁ আমরা বাচঁব, পৃথিবী বাঁচবে। একটি শিশুর জন্ম একটি ভবিষ্যতের সূচনা।
বর্তমান সময়োপলব্ধিতে বিবেচনা করা যায়, আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিযার্তিত শিশুদের সংখ্য ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।শিশুরা ঝুকে পড়ছে বিভিন্ন ঝুকিপূর্ণ কাজে, জীবন উপলব্ধি যেখানে প্রতিনিয়ত ক্ষুধার সাথে লড়াই করে সেখানে একটি শিশুর পক্ষে বেচেঁ থাকার জন্য নেমে যেতে হয় লক্ষ, অলক্ষ্য বস্তুর সন্ধানে। ভাবতেই কষ্ট হয় কারখানার মেলামাইন ইস্পাতের মত যুদ্ধ শিশু তৈরী করা হচ্ছে। যে অস্ত্র বহন করার শক্তি-ই বোধ সে শিশুর থাকেনা।
খুব সহজ একটা কাজ দিতে পারি, একদিনের একটা বাচ্চা হাতে তুলে দিব, কোলে তুলে নেবার জন্য নয়, ফেলে দিয়ে আসবার জন্য, কোন নির্জন রাস্তার পাশে, জঙ্গলে কিংবা শহরের সবচেয়ে বড় আস্তাকুড়ে, পারবেন ? আপনি না পারলেও খুব সহজেই ফেলে দিতে পারে এমন বাবা কিংবা মায়ের সংখ্যাও কম না। হাসপাতালের বেডে সদ্য নাড়ী কাটা শিশু আছে কিন্তু তার কোন বাবা বা মা কেউ নেই, এ তো হরহামেশাই হচ্ছে। প্রতিদিনকার ঘটনার মত বেড়ে যাচ্ছে অবাঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা। কি তাদের ভবিষ্যত, কোথায় আবাসস্থল কোন সুনির্দিষ্ট ব্যখ্যা কারও কাছে নেই।
কোথায় থাকে তখন বাবা, মায়ের স্নেহ ভালবাসার সংঙ্গা, এত বড় প্রাপ্তি স্বীকারের অধিকার দেবার যাদের ক্ষমতা থাকেনা, তারা বাবা – মা হবার কোন যোগ্যতাই রাখেনা।
আমরা চাইবনা নিশ্চয় কেউ, আমাদের সন্তান যেন কখনো না হয় Martian Child, তারা হবে আমাদের এ পৃথিবীর-ই সন্তান, আমাদের সন্তান।কবি সুকান্তের এ লাইনটি খুব মনে পড়ে
“ এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে
চলে যেতে হবে আমাদের।“
আজ কোন শিশু অধিকার দিবস নয়, সে উপলক্ষে লেখাও নয়, আমাদের প্রতিটি দিনই হোক শিশুর প্রাপ্ত অধিকারের শতভাগ বুঝিয়ে দেবার দিন।
কাল আমার পাশের ফ্লাটের যে গর্ভবতী মহিলাটি মা হবেন, তার ফুটফুটে যে বাচ্চাটিকে রাতের আঁধারে কালো মুখোশের আড়ালে রাস্তার নর্দমায় ফেলে আসা হবে, এই পোষ্টটি সেই সব অভাগা শিশুদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হল।
এতটুকুন বলতে চাই, ফেলে আসা এমন দূর্ভাগা কোন শিশুকে আমায় দিও, Martian Child নয় Child of the Earth করবই করব,
নতুন বছরের এ প্রথম দিনে এ আমার প্রতিজ্ঞা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

