নিজেকে নিয়ে কিছু একটা লেখার চেষ্টা, এখোনো করে যাচ্ছি . . .

অবাঞ্চিত গর্ভধারণ, গর্ভপাত - ভ্রূণ হত্যা; সার্থক হোক "মা" দিবস

১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:২২

শেয়ার করুন:                   Facebook

সেদিন সকাল থেকেই খুব ব্যস্ত ছিলাম, অফিসের এতটা কাজ যে চোখ তুলে তাকাবার পর্যন্ত সময় ছিলনা, এমনটা হয়েছে বাসা থেকে দু'বার কল এসেছে সেটাও পর্যন্ত ধরার সময় হয়নি। ঠিক দুপুর তখন, কিছুটা সময় বাদেই ডাইনিং-এ যাব। ওই সময় আরেকটা ফোন এল, বেশ বিরক্তও হলাম "কে ফোন করে এ সময়?" অপরিচিত নম্বর দেখেই কলটা রিসিভ করি, একটা মেয়ের জড়ানো কন্ঠ "চিনতে পারছ তুমি" স্বভাবতই অপ্রস্তুত হয়ে পড়ি, কন্ঠটা মনে করতে পারছিনা যে তার সাথে কোন পূর্ব পরিচয় আছে কিনা, আবার তুমি করে স্বম্বোধন করছে দেখে "কিন্তু আপনাকে তো ঠিক?" তখনও মাথার সমস্ত ডাটাবেস খুজে বের করার প্রানন্তর চেষ্টা মেয়েটা কে "এত সহজে ভুলে গেলে আমাকে, সত্যি, তুমি আমাকে চিনতে পারনি", ও সবসময় 'সত্যি' কথাটা খুব একটা ঢং দিয়ে বলত, সত্যি যেন সত্যি করেই বলত, আমি বুঝতে পারলাম "তুই হ্যাপী না ! এতদিন পর" ও যে কাঁদছে বুঝতে পারেনি "তুমি কি একবার আসতে পারবে" আমার ভেতরটাতে তখন ঝড় বইছে "হ্যাপী, তুই আমাকে তুমি করে বলছিস কেন ? কি হয়েছে তোর" ও বিড়বিড় করে যেন কি বলছে, এতটুকুন শুনলাম "তুমি তাড়াতাড়ি আস"

ও ইউনিভার্সিটির হোষ্টেলেই থাকত। মাঝের অনেকদিন কোন যোগাযোগ ছিলনা, মাস ছয়েক আগে ওর খোজ পেয়েছিলাম তাও এক বন্ধুর সুবাদে। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করা অব্দি পাশাপাশি ফ্লাটে থাকা, এক স্কুল-কলেজে পড়া, সেই ছোট থেকে বড়বেলার সাথী, সবই বাবার চাকুরীর সুবাদে।

ইউনিভার্সিটির হোষ্টেলে ওকে পেলাম না, ওর এক বান্ধবীর বাসায় যখন পেলাম তখন সন্ধ্যা প্রায়। দোতলা বাড়ীর একদম শেষের ঘরটায় জানলার পাশে জড়ো সড়ো হয়ে বসা। প্রথম দেখে ওকে চিনতেই পারিনি। চোখের নীচে কালো দাগে মুখটাও কেমন শুকনো। বিশ্রী রকম লাগছে। একটা চাদড় গায়ে জাড়ানো ছিল, মনে হচ্ছিল সমস্ত জগৎ থেকে ও নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইছে।

ইউনিভার্সিটিতে আসার পর প্রথম বর্ষ শেষে এক সিনিয়র ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল। সাধারণ প্রেমে যা হয় সেরকমই, কথা, গল্প, আড্ডা আরো বেশী কিছু হলে একান্ত কিছুক্ষন, এভাবেই বছর দেড়েক চলে যায়। শেষমেষ ওদের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি রকমের কিছু হয়ে গেল "শারীরিক সম্পর্ক"। যথারীতি "অবাঞ্চিত গর্ভধারণ"। প্রথমে ও কাউকে জানায়নি, অপেক্ষায় ছিল, কিছুটা সময় যেতেই বুঝতে পেরেছিল কি ঘটতে যাচ্ছে ওর ভাগ্যে, তখন শুধু ওর মা'কে জানায়। তিনিও সরাসরি না করে দিলেন।

"এ সন্তানকে বাঁচিয়ে রেখে কি লাভ, একে দিয়ে আমি কি করব, ও কার পিতৃ পরিচয়ে বড় হবে। কে নেবে এই ভার। মানুষ যখন আমাকে খারাপ বলবে, আমার সন্তানের দিকে আঙুল তুলে বলবে ও .. না না আমি ভাবতে পারিনা, এ সন্তান আমি চাইনা। আমি এ পাপ থেকে মুক্ত হতে চাই"

হ্যাপীর জড়ানো কথাগুলো বারবার আটকে যাচ্ছিল। ওর বান্ধবী জানিয়ে গেল সবকিছু ঠিক আছে। রাগ আর ক্ষোভে ওর দিকে তাকাতেও ইচ্ছে হচ্ছিল না কিন্তু অসহায়ত্বের কাছে বারবার হেরে যাচ্ছিলাম, আমার হাত দুটো ধরে চিৎকার করে কাঁদছে।

এবোরশন শব্দটা এর আগেও বহুবার শুনেছি, কিন্তু এই প্রথম যখন মুখোমুখি হলাম এমন নিষ্ঠুর বাস্তবতার সামনে যেখানে মা হত্যা করতে যাচ্ছে তার ভ্রুণ সন্তানকে যে হত্যা দ্বারা মোচন হবে তার পাপ কিন্তু পাপী নয়। কি অদ্ভূত আত্ম অবিশ্বাস!

রাত তখন অনেক, যখন ওকে বাসায় পৌছে দিয়ে ফিরছি। পেছনে ফেলা আসা দু:সহ স্মৃতিকে কিছুতেই ভুলতে পারছিনা, হৃদয়হীন নয় বলে ... কারণ আজ আমি পৃথিবীর নিষ্ঠুরতম খুনের একমাত্র স্বাক্ষী।

এ ঘটনাটি প্রায় বছর এক আগের। এবোরশন করানোর পর মাস দুয়েক ওর শরীর বেশ খারাপ ছিল। শুনেছি পরে বিয়েও করে ফেলেছে। সেদিনের পর থেকে আর কোন যোগাযোগ হয়নি। এ লেখাটি হত না যদি না সেদিন সে ফোন করত "তুই কেমন আছিস, কোন খবর নাই" আমি ওর কথাগুলো শুধু শুনি "তুমি অনেক বদলে গেছ" হ্যাপী তখন হো হো হাসছে "কিরে আজ তুই আমাকে তুমি করে বলছিস কেন" আস্তে করে ফোনটা রেখে দিই।
.
.
"মা" দিবসের শিরোনামে কিছু একটা লেখবার যখন মনস্থির হল, পজিটিভ কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল, যে দৃশ্যে সন্তান মা মা ডাকে মায়ের বুকে দৌড়ে যাবে আর মা পরম মমতায় তাকে বুকে টেনে নিবে। সার্থক মা, সার্থক মা দিবসের পরম রচয়িতা রচিত হবে। সে আর হলনা, এমন একটা বণর্না তুলে দিলাম যেটা হয়ত হৃদয়হীন মানুষের কাছে আবেগের খুব একটা অনুভূতি সৃষ্টি নাও করতে পারে, কিন্তু অন্তরালে যে সত্য লুকিয়ে থাকল সেখানে মূল চরিত্রে "মা" হয় একজন ভ্রূণ হত্যাকারীনি, একজন খুনী।

কবিতাটির কিছু লাইন খুব মনে পড়ছে, ...
প্রথম যেদিন তুমি এসেছিলে ভবে
তুমি মাত্র কেদেঁছিলে
হেসেছিলে সবে ..

"একটি নবজাতকের কান্না একজন মায়ের মুখে স্বর্গীয় হাসি ফোটাতে পারে তা নিজের চোখে না দেখলে আর প্রাণের গভীর অনুভব না করলে সঠিক মূল্যায়ন করা যায়না" - অধ্যাপিক ডা. সুলতানা জাহানের এ উক্তিটি আমার সেই ছোটবেলা সাথীর জন্য প্রযোজ্য নয়। যারা সজ্ঞানে, বিচারে ভ্রূণ হত্যা করতে পারে, শরীরী কামনা আসক্তিতে অবাঞ্চিত গর্ভধারিত ভ্রূনকে নির্দিদ্ধায় বৈধতার সংকোচে পাপ মোচনের অযুহাত দিয়ে শরীরের কলংককে মুছে ফেলতে চায়, সমাজের চোখে বিশুদ্ধতাই যখন প্রধান অবলম্বন, নিদারুন স্বার্থপরতা, হিংস্রতার পাশবিক আচরণের শেষ পরিণতি হয় তখন গর্ভনাশ।

এ লেখাটির প্রসঙ্গ "স্বতস্ফূর্ত গর্ভপাত" এর দিকে বিন্দুমাত্র লক্ষ্য নেই, শুধুমাত্র "আবিষ্ট গর্ভপাত" যার মাধ্যমে স্ব-ইচ্ছায় নষ্ট করে দেয়া একজন নারীর ব্যক্তিগত, সামাজিক অবস্থানকে দেখানো হয়েছে।

উদ্বেগজনক হবারই মত বিষয়, বিশ্বে যেখানে ৬৪ শতাংশ গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে অবিবাহিত মহিলাদের, ১৮ শতাংশ বিবাহিত এবং ৯ শতাংশ বিপত্মীকদের ক্ষেত্রে যার কারণ অনুসন্ধানের চিত্রটি এমন, ১ শতাংশ ধর্ষণ বা ইনসেস্ট এর কারণে, ৬ শতাংশ মা বা শিশুর শারীরিক সমস্য এবং বাকী ৯৩ শতাংশই হয়ে থাকে সামাজিক কারনে যার প্রধান ইস্যু অবাঞ্চিত, অনাকাঙ্খিত এবং অবৈধ। (সূত্র : The Alan Guttmacher Institute)

কিন্তু কেন গর্ভপাতের মত রক্তপাত আজকের সময়কে আহত করছে? সামাজিক অবক্ষয়, উদার নৈতিকতা যখন প্রশ্নবিদ্ধ তখন পশ্চিমা বিশ্বের দিকে তাকালেই সহজেই অনুমেয় 'সমকামীতার' মত বিতর্কিত বিষয়টিকে তারা অনুমোদন দিয়ে যাচ্ছে, দেয়া হয়েছে গর্ভপাতকেও। যৌন স্বাধীনতাকে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে এভাবে উপস্থাপিত ও বাস্তবায়িত করা হচ্ছে যেখানে প্রতিনিয়ত নৈতিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক কাঠামো ধ্বংস হচ্ছে। নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যৌন অনাচার, মাদকের বহুমাত্রিক ব্যবহার সমাজের নীতির দৈন্যতাকে আরো প্রকট করছে। সামাজিক এ রক্তক্ষরণ শারীরিক রক্তক্ষরণের চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

গর্ভপাত বলতে যে শুধু স্বইচ্ছায় ভ্রুণ নষ্ট (আবিষ্ট গর্ভপাত) করাকে ধরে নেয়া হবে তা নয়, world abortion policies এর ৩১ডিসেম্বর ২০০৬ তথ্য অনুযায়ী যে ক্ষেত্রগুলোতে গর্ভপাতের অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেগুলো :
১) নারীর জীবন বাঁচাতে
২) শারীরিক স্বাস্থ্য রক্ষার্থে
৩) মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার্থে
৪) ধর্ষণ বা ইনসেস্ট এর কারণে
৫) ভ্রূণ নষ্ট বা ক্ষতি সাধিত হলে
৬) অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে এবং
৭) অনুরোধের প্রেক্ষিতে
কিন্তু বিশ্বের সব রাষ্ট্রই উপরোক্ত সব বিষয়গুলিতে অনুমোদন দেয়নি।
(Source: The Population Policy Data Bank maintained by the Population Division of the Department of Economic and Social Affairs of the United Nations Secretariat.)

সারা বিশ্বে আনুমানিক ৪২ মিলিয়ন গর্ভপাত হযে থাকে যেখানে দিনে গড়ে ১,১৫,০০০ জনের গর্ভপাত হয়। সূত্রমতে ৮৩ শতাংশ এবোরশন উন্নয়নশীল দেশে এবং ১৭ শতাংশ উন্নত দেশে হয়ে থাকে। (সূত্র : The Aan Guttmacher Institute)

গর্ভপাত নিয়ে হৈ হট্টগোল কম হয়েছে তা কিন্তু নয়, বৈধতা-অবৈতার বিষয়গুলি সমাধানে রাস্তায় পর্যন্ত মানুষ নেমে এসেছে, যখন হাজার হাজার মানুষ মাদ্রিদের রাস্তায় "এখান থেকে বেরিয়া যাও, আমাদের শিশুদের বাঁচতে দাও" শ্লোগানে গর্ভপাত বিরোধী প্রতিবাদে মুখর হল সারা বিশ্ব কিন্তু তখন তা দেখেছে। ভারতে গর্ভপাত বিষয়ক আদালতের একটি রায় সেদেশেও বির্তকের সৃষ্টি করে। নিয়মানুযায়ী সে দেশে ২০ সপ্তাহের গর্ভাবস্থার পর গর্ভপাত করতে দেয়া হয় না, কিন্তু যে দম্পত্তি আদালতের অনুমতি চেয়েছিলেন সেখানে ২০ সপ্তাহের চেয়ে পরিণত ভ্রূনে জন্মগত ব্লক দেখা গিয়েছিল, কিন্তু আদালতের রায় না পাওয়ায় ক্রটিযুক্ত সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে বিষয়টি পরিপূর্ণ সুরাহা হয়নি।

একটি বিষয় না উল্লেখ করলো অসমাপ্ত থেকে যাবে, আমি বীরাঙ্গনাদের কথা বলতে চেয়েছি। আমাদের গৌরবজ্জ্বল স্বাধীনতার পেছনে যারা রেখে গিয়েছেন নীরব অবদান। (ব্রাউনমিলার, ১৯৭৫;৮৪) তথ্য মতে ৭১' এ ধর্ষণের ফলে বেঁচে থাকা নারীদের ২৫ হাজার জন গর্ভধারণ করেছিলেন। অন্যদিকে ড: জিওফ্রে ডেভিসের মতে প্রায় ৫হাজার জনের গর্ভপাত সরকারীভাবে ঘটানো হয়েছিল, এয়াড়াও ১ লাখ ৫০ হাজার নারীর ভ্রƒণ সরকারী উদ্যোগ নেয়ার আগেই স্থানীয় দাই, ক্লিনিকসহ যে যেভাবে পেরেছিলেন ষেভাবে নষ্ট করেছে। এখানে আমরা তাঁদেরকে শ্রদ্ধা করি সম্মান জানাই। (ব্লগ হতে তথ্য সংগৃহীত)

আমি পূর্বেই উল্লেখ করেছি লেখাটি শুধুমাত্র আবিষ্ট গর্ভপাতকে চিহ্নিত করেছে। তথ্য উপস্থাপানের কারণে প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
.
.
.

অন্য সবার মত আমারও একটি দিন আছে সেদিন "মা" দিবস। যেখানে মা তার বিশেষত্বে বিশেষায়িত। আমি তা ভুলে গিয়েছি এমনটি নয়। কেউ ভেবে থাকলে ভূল করবেন এ লেখার প্রসঙ্গটি 'মা' কিংবা তাঁর নামের মর্যাদার সামান্য অংশ ক্ষুন্ন করেছি কিনা। আমি মার্জনা প্রার্থনা করছি, বিধাতা যেন একদন্ড সেই সাহসও আমাকে কোন দিন না দেন 'মা'কে নিয়ে একটা কটু কথা বলি।

এখানে সেই নারীদের কথা বলা হয়েছে যারা 'মা' হবার পথে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বকে নিজ হাতে বিসর্জন দেন। যাকে আমরা শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা দিচ্ছি সেই নিষ্পাপ ভ্র'ণকে 'অবাঞ্চিত' 'অবৈধ' নামকরণে সামাজিক বৈধতার দু:শ্চিন্তায় আত্মরক্ষার্থে গর্ভেই তাদেরকে হত্যা করে।

কাকে অবৈধ বলছি ? মাতৃ জঠরে বেড়ে ওঠা সেই ভ্রূণ ? ভ্রূণ কখনো অবৈধ হতে পারেনা। অবৈধ সেই সম্পর্ক যা তার পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়না, তখন লোপ পাওয়া মনুষ্যত্বে অন্যায়ভাবে "অবৈধ-সন্তান" উচ্চারণটি অবৈধভাবে চাপিয়ে দেয়া হয় ভ্রূণের উপর। এক অন্যায় মোচনে করা হয় আরেক পাপ।

abortion is murder? abortion is terrorism? উন্মুক্ত বিশ্বযুগে ফোরাম, ব্লগের পাতায় প্রকাশ পাওয়া প্রশ্নগুলো যখন তুমুল বিতর্কের মুখে পক্ষে - বিপক্ষে সাফাই গাইছে তখনও কি থেমে আছে এবোরশন ? একথা ঠিক, আপনার এই সারমর্ম আলোচনার ক্ষনিকটুকুতেও পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে মা তা গর্ভজাত ভ্রূণকে হত্যা করছে।

লেখাটি সংকলন করবার সময়কালে মনুষ্যত্বের আঘাতে যে ঘৃণা জমা হয়েছে তার প্রকাশটা বাঞ্চনীয়।
ঘৃণা সেই নারীদের, যারা হত্যা করে গর্ভজাত মানব বীজকে, কলংকিত হবার তাড়নায় যারা সেই কলংক লেপে দেয় নিজেদের আত্মায়। ক্ষণিকের জরায়ুমুখের রক্তরণ যতটা না তাদেরকে আহত করে, বিবেক আর মনুষ্যত্ব যে অবিরত রক্তক্ষরিত হয়ে মৃত্যুবরণ করে একটিবারের জন্যও তারা তা বুঝতে পারেনা। ঘৃণা সেই অপ্রকৃতস্থ, জ্ঞান বিবর্জিত মানুষগুলোর প্রতি।

ঘৃণা সেই কুৎসীত মন ও দেহধারী পুরুষদের প্রতি, সত্যকে ধারণ করার মতো শক্তি এবং সাহস কোনটিই যাদের নেই। ঘৃণা তাদের জন্য, সেইসব অসাধু, ভন্ড ও কাপুরুষদের, যাদের লোভ, ছলনার আকুতিতে অভিশপ্ত হয় মানব ভ্রূণ। অসুস্থ, বিকৃত মননের সেই পুরুষধারী মুখোষগুলি, আত্ম -পরিচয়ে যারা শংকিত।

গর্ভপাত : রক্তপাত, ভ্রূণ হত্যা : মানব হত্যা

উপসংহার টেনে দিলে লেখাটির হয়ত পূর্ণতা আসবে, প্রাপ্তি প্রত্যাশায় এ রচনা নয়। যে ঘটনা ও ব্যক্তিচরিত্রের সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং অবস্থানে শংকিত, সে অবক্ষয় কি এত সহজেই মুছে যাবে ? কলংকের দাগ শুকাতেও তো কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়।

"মা" দিবস নিয়ে কিছু লেখা হলনা। কিছু লেখার তাগিদও অনুভব করিনি, কারণ এক, মা সত্য, মায়ের ভালবাসা সত্য। একজন প্রকৃত মা কখনো পারেন না তার সন্তানকে হত্যা করতে, এ সত্যকে আরো একবার স্বীকার করে নেবার কোন অর্থ হয়না কারণ যে সত্য জেনে এসেছি এবং জানি এবং যে সত্য ধ্রুব - "মা" যে চিরন্তন সত্য। -

 

সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:২৬

 

  • ৫৬ টি মন্তব্য
  • ৬২৪ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ১৯ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:২৮
comment by: ~স্বপ্নজয়~ বলেছেন: সুন্দর পোষ্ট, এবোরশন নিয়ে একটা প্রেজেনটেশন দেখেছিলাম, জন্ম না নেয়া একটা বাচ্চার চিঠি তার মা'র কাছে - কথা গুলো মনে হলেও চোখে পানি আসে ...

সুচীপত্র - মা দিবসের (২০০৯) জন্যে লিখা সকল ব্লগের লিঙ্ক
১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ৯:২৭

লেখক বলেছেন: ওই প্রেজেনটেশন-টা আমিও দেখেছি, খুবই আবেগ তাড়িত হয়েছিলাম
সত্য বলতে সেই প্রেজেনটেশেনটা দেখেই এই লেখাটি লিখতে উৎসাহী হলাম।
পরে আমার দোস্তের এক বান্ধবী, তিনি বর্তমানে অসুস্থ হওয়ায় তার স্বামী তাকে বাবার বাড়ীতে পাঠিযে দিয়েছে, সন্তান সম্ভবা থাকলেও পরে তাকে এবোরশন করানো হয়েছে, বিষয়টা খুবই টাচি ছিল।
এবোরশন সার্চ দিয়ে অনেক ছবি, ভিডিও দেখলাম
নিমর্মতা, পাশবিকতা আমাকে ছুয়ে গেল
এতটা কষ্ট, এ লেখায় হয়ত তার কিছুই প্রকাশ পায়নি, শুধু আক্ষেপ ছাড়া

অনেক শুভেচ্ছা আপনি এত সুন্দর একটা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন
প্রশংসনীয়

২. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৩৪
comment by: কাক ভুষুন্ডি বলেছেন: :(
১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৪৩

লেখক বলেছেন: বেদনা বিধুর

৩. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪১
comment by: সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন: মা দিবস নিয়ে অনেক লিখা চোখের সামনেই ঘুরছিল-কেবল এই লিখাটির বিষয়বস্তুই মিলল আমার সাথে। আমি লিখিনি, ভাবছিলাম এই গর্ভপাত নিয়েই। সেলিম আল দীনের সাড়া জাগানো নাটক 'কেরামতমঙ্গলে' কেরামত মুক্তিযদ্ধের আগে থেকে পরবর্তী সময় পর্যন্ত সারা দেশ ছুটে বেড়িয়েছে-অসংখ্য ভ্রূণ রক্ষা করে চলেছে সে। সেখানে ভ্রূণের বর্ণনা আছে। রক্তজমাট বাধা কালচে একটা বীজ। একটা দৃশ্যে আছে-গ্রামের বাঁশঝাড়ে পড়ে থাকা ভ্রূণ খুঁটে চলেছে অসংখ্য পিপড়া-তাদের বিশাল সারি।

আপনার লিখাটি পড়ে ওই দৃশ্যটা মনে পড়ে গেলো। গর্ভপাত নিয়ে বিভিন্ন সময়েই নানা দেশে আন্দোলন হয়েছে। বিভিন্ন দেশগুলোতে এর সম্পর্কিত আইনও আছে। এবং গর্ভপাত ঠেকানোর মানবিক আবেদনকে কার্যকর করতে কনডম-পিল প্রভৃতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সমাধানটা হচ্ছে না। বাইরের দেশ বাদদেই-আমাদের দেশেও এই নৃশংসতা টিকে আছে। কারণ কি শুধুই সামাজিক, না সেই অর্থে রাজনৈতিকও।

আপনার অনুভূতির প্রতি ভালোলাগা রইল।
১১ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:৪৬

লেখক বলেছেন: শুভ্র ভাই, ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য
এ লেখাটির পেছনে অনেকগুলো বিষয় কাজ করেছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা, ব্যক্তিগত সূত্রতা, বর্তমান অবস্থান, অবক্ষয়, নৈতিকতার অধ:পতন প্রত্যকটির সাথেই আরেকটির যোগসূত্র রয়েছে।
রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নি:সন্দেহে সামাজিক পট পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেটা সামাজিক অবস্থান নির্ভর যেমন তেমিন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইন প্রনয়নের ব্যপারও অনেক সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের উপর নির্ভরশীল।
সামাজিক সচেতনার বিষয়টিও তাদের নিকট থেকে আসাটা বাঞ্চনীয় কারণ জনগণের খুব কাছাকাছি তারাই যেতে পারে।
আসলে কোন একটি দুঘর্টনা থেকে সবাই সতর্ক হতে চাই, কিছু আছে তা চলতে থাকে, কারও কোন মাথাব্যথাই থাকেনা, এটাই তেমনি

৪. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৩
comment by: মুক্তপাখী বলেছেন: ভাল লিখা। ষ্টিকি করা হোক।
১১ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মুক্তপাখী, মন্তব্যের জন্য

৫. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৪
comment by: অদ্ভুতুড়ে বলেছেন: ভাল পোস্ট
১১ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:৪৪

লেখক বলেছেন: শুভেচ্ছা ও শুভকামনা

৬. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৫
comment by: আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

চমৎকার একটি বিষয় তুলে ধরেছেন ।

আমাদের কামনার ফলগুলোকে আমরা স্বীকার করে নিতে পারিনা, আমরা মানুষরা ভীষণরকম ভন্ড আদতে ।
১২ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫১

লেখক বলেছেন: শিপন ভাই
অনেক ধন্যবাদ
আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য

৭. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৪৯
comment by: রাত্রী বলেছেন: এভাবে সবাই যদি ভাবতো!!!! ঘৃনা সেইসব পুরুষ-নারীকে যারা এইসবের জন্য দায়ী।।
১২ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:২৮

লেখক বলেছেন: আপনার মন্তব্যটি যথার্থ

৮. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৫২
comment by: শয়তান বলেছেন: ভ্রুনহত্যাকে কোন ভাবেই সাপোর্ট করতে পারি না । হোক তা বৈধ বা অবৈধ ।
১২ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:০২

লেখক বলেছেন: নির্মম সত্যি নির্মম

৯. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ৯:৫৭
comment by: মোতাব্বির কাগু বলেছেন: জুনো মুভি দেখেন। +++++++
১০. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:০৮
comment by: আমড়া কাঠের ঢেকি বলেছেন: এসেছিলাম....জন্মাবার স্বপ্ন নিয়ে
মিশেছিলাম....তোমার রক্তস্রোতে
আলোর পথে....হোচট খেয়ে দেখি
হারিয়ে গেছি....আধারে

____________

সুন্দর লেখা। প্লাস নেন।
১২ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৬

লেখক বলেছেন: চমতকার লিখেছেন
আমার এ লেখার সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিল

১১. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:১০
comment by: বলুন তো কে আমি? বলেছেন: মা দিবসের শুভেচ্ছা লন। প্রতিদিন মায়ের খোঁজ ন্যান, সেবা করেন। প্রতিদিনই মা দিবস মনে রাখবেন। বলুন তো কে বলেছে?
১২ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:২৭

লেখক বলেছেন: আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন

১২. ১০ ই মে, ২০০৯ রাত ১০:৩৪
comment by: চাচামিঞা বলেছেন: কি নির্মম ভাবে আপনি বিষয়টা তুলে ধরেছেন......আসেলে আমরা যতই আতলামি করি না কেনো? এইসব দিবোসগুলো কিন্তু আসলেই আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়।
=====================================
মা কে নিয়ে লিখা লিখি কোনোদিন ও শেষ হবে না
মাকে নিয়ে গাওয়া আমার একটা প্রিয় গান
১৩ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৫৭

লেখক বলেছেন: দিবসগুলির সার্থকতা এখানেই
শুভকামনা চাচামিঞা, (কিন্তু ছবি দেখলে মনে হয়না ...............)

১৩. ১১ ই মে, ২০০৯ রাত ১২:৩৫
comment by: মেঘ বলেছেন: শরীর যার সিদ্ধান্ত তার......বাচ্চার পর বাচ্চা হবে, পুরুষ কনডম ইউজ করবে না.....মজা না??নবজাতকের কান্না, মায়ের জাত, মায়ের হৃদয় বইলা বইলা খালি নিজজেদের বংশ রক্ষা করা??
এত ভালোবাসা এক একজনের মায়রে জন্য, উপচে উপচে পড়ছে.....মায়েরে কোন কাজে সাহায্য করে না, বইসা বইসা ব্লগায়, আর কয "আম্মু, আমি এসাইনমেন্ট রেডি করছি, আমারে এট্টু চা বানায়ে দাও"- তোমগোরে আমার চেনা আছে।
যত ভালোবাসা মায়ের লাইগা দেখাও হেইটা সত্যি থাকলে - এত এত নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটতো না।ইভ টিজিং এ মাইয়া গো স্কুলে যাওয়া বন্ধ হইতো না। কিসুই হইতো না। তোমগো সব লোক দেখাইন্না কান্না।
"মা" দিবস, ঢং দিবস। এক ধর্মে যেমন দেবী পূজা হেইরম, কত দেবী, নারী মানেই দেবী, বাঁশডলাটা নারী গো লাইগাই।
যাউক গা.....খাটাখাটনির পোস্ট, মোটের উপর ভালো লাগছে।
মাইন্ড না খাইলে হয়। টা টা
১৪ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:৪৩

লেখক বলেছেন: মেঘ

১৪. ১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ১০:১৬
comment by: ইষ্টিকুটুম বলেছেন: প্রচি, দারুন লিখেছিস তবে শেশ করতে পারিনি, ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি, পরে অবশ্যি পড়ব।

ভাল থাকিস।
১৫. ১১ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:০৯
comment by: খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন:
@মেঘ, আপনার কথায় আমি যারপরনাই বিরক্ত হয়েছি।
টাইপ এ আমার অবস্থা ভালো নয়, নাইলে এক্ষুনি আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতাম। তবে এটার উত্তরে একটা পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা থাকল।
আপনার কাছ থেকে এরকম অর্ধেক চিন্তা আশা করিনি।
১৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫২

লেখক বলেছেন: অবশ্যই স্বাধীন মত প্রকাশ করতে হবে

১৬. ১১ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১২:৫৬
comment by: ইষ্টিকুটুম বলেছেন: প্রচেত্য, লেখাটা আবার পড়লাম। ভাল লাগলো। তাই, দিলাম প্লাস।

তবে, "মেঘ" এর বক্তব্য ভাল লেগেছে।অভিনন্দন!
১৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫৩

লেখক বলেছেন: অভিনন্দন আপনার প্রতিও রইল

১৭. ১২ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:১৩
comment by: কাকশালিখচড়াইগাঙচিল বলেছেন:
রাস্তার পাশে যখন তখন মিলে সদ্যজাতের শরীর।

তাছাড়াও, বিবাহিতরাও কন্যা সন্তানের ভ্রূণ হত্যা করে ফেলে। ভারতের একটা/দুটো রাজ্যে তো পুরুষ নারীর অনুপাতই বদলে গেছে।

ঘৃণা শুধুই ঘৃণা
১২ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৩:২৪

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ কাকশালিখচড়াইগাঙচিল

বাস্তব তথ্য তুলে ধরেছেন,
আমরা প্রায় ডাম্প অথবা ডাম্পিং শব্দটা শুনতে শুনি যা সাধারণত ব্যবহৃত হয় বিভিন্ন অব্যবহৃত ঘরের জিনিসপত্র দূরের নির্দিষ্ট কোন স্থানে ফেলে আসার ক্ষেত্রে, কিন্তু যখন বেবী ডাম্পিং হয় তখন কতটা আশ্চর্য হই ? কতটা আশ্চর্য হওয়া উচিত ? অথচ হয়, যে শিশুগুলির কোন পরিচয় দেবার ভয়ে ডাম্প করা হয় এদের কথা কি কেউ কখনো জোড়ে বলি ?


বর্তমানে ভারতে প্রতি হাজার ছেলে-শিশুর বিপরীতে কন্যা শিশুর সংখ্যা ৯২৭। অথচ ১৯৯১ সালেও প্রতি হাজার ছেলে-শিশুর বিপরীতে দেশটিতে কন্যা-শিশুর সংখ্যা ছিলো ৯৪৫।

সে দেশে কন্যা ভ্রূণ ধ্বংস ঠেকাতে সরকার নিজে অর্থায়ন করবে-এটা আশার কথা।

১৮. ১৫ ই মে, ২০০৯ সকাল ১১:৫০
comment by: সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: ঘৃনা সেই সব নারীদের এটাতেই আপত্তি। আপনার বান্ধবী যদি সেদিন এই কাজটা না করতো আপনি বা আপনার সমাজ, আমি বা আমার সমাজ কি তাকে আশ্রয় দিতাম। এই পৃত্বত্তের জন্য যে দায়ী সেও কি আপনার বান্ধবীকে ঘৃনা করতো না।এই শিশুটি কি একটা কুলাঙ্গার পরিচয়ে বড় হত না।
আগে ঘৃনা করুন সেই সব পুরুষদের।একটা মেয়ে নিরুপায় হয়ে এই জঘণ্য তম কাজ টা করে। না হলে সে সহ তার পরিবারের অবস্থান হয়ে পরে আমাদের সমাজে অচ্ছুত। ছেলেটার তো কিছু হয় না।
অন্যান্য যে সকল কারনে ভ্রুন হত্যা করা হয় সেখানে অর্থনৈতিক কারন থাকে অসুস্থতা থাকে, ধর্ষন থাকে। এসব যুক্তিযুক্ত কারন গুলি মেনে নেয়া যায়। তবে বিয়ের সাথে সাথে কেন গর্ভধারন হল এটার জন্য গর্ভপাত অমার্জনীয় অপরাধ। যদি সব দিক প্রতিকুল থাকে তবে আমি বিশ্বাস করি একজন মা সহজে ভ্রুনহত্যা করতে চান না।
০৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৩

লেখক বলেছেন: একজন মা সহজে ভ্রুনহত্যা করতে চান না।
- এ সত্যটি আমিও মানি ও জানি

ঘৃনা দুজনেরই জন্য

১৯. ১৫ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:০১
comment by: আবু সালেহ বলেছেন:

দারুন একটা বিষয় তুলে ধরেছেন...ধন্যবাদ আপনাকে........
০৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৪

লেখক বলেছেন: সালেহ ভাই, খুব ভাল লাগে পুরনো মানুষগুলোকে ব্লগে পেলে
ভাল থাকবেন

২০. ১৫ ই মে, ২০০৯ দুপুর ১:৪৫
comment by: সামছা আকিদা জাহান বলেছেন: একজন নারীর মধ্যে তখন ই মাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয় যখন তার শারীরিক অনুভুতিতে আসে সে একটা প্রান ধারন করছে তার মধ্যে। তার আগে মাতৃত্ব জিনিসটাই তার মধ্যে থাকে না। আর সে যখন সত্যিকারের মা অর্থাৎ একটা জীবন্ত শিশু তার কোলে পান তখনই সত্যিকার অর্থে তিনি মা হন।

জন্মের মূহুর্তে যে শিশু মারা যায় তার প্রতি একজন মা যে টান অনুভব করেন, তার চেয়ে অনেক বেশি টান অনুভব করেন তার সেই সন্তানের প্রতি যে জন্মের পর এক ঘন্টাও বেঁচে ছিল।

একজন নারীকে মা হতে হয়। আর মা হবার আকাঙ্ক্ষা প্রতিটা নারীর মধ্যে জাগ্রত। যে নারী মা হতে পারে না তার বয়সের সাথে সাথে আকাংখাটা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়।

আমার কর্মক্ষেত্রে দেখেছি, যে সকল মা অবাঞ্চিত শিশু জন্মের অপেক্ষায় আমাদের কাছে আসে, তাদের আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষন দেই। আবার কাউন্সিলিং করি যাতে এমন ভুল আর না হয় এবং তাদের কে কাউন্সিলিং করতে করতে এমন একটা যায়গায় নিয়ে যাওয়া হয় তারা নিজেরাই বলে বাচ্চা হবার তিন মাস পর আমরা বাচ্চা আপনাদের দিয়ে চলে যাব। কারন তারা বোঝে এই বাচ্চা নিয়ে তারা পথ চলতে পারবে না । তাদের পরিবার সমাজের কাছে অচ্ছুত হয়ে যাবে।

তার পর ও শতকরা ৮৫% মা তাদের বাচ্চা ছেড়ে যায় না। তারা তাদের বাড়িতে ফিরবে না। তারা আলাদা যায়গায় থাকবে আমাদের বলে একটা কাজ দিন আমি বাচ্চা রেখে কোথাও যাব না। অর্থাৎ তারা মা , তারা পারে না বাচ্চাকে রেখে যেতে।
এই ৮৫%এর বাইরে যে ১৫% আছে সেই সব মায়েরা বাচ্চা রেখে যায় তাদের পরিবার পরিজনদের চাপে পরে। এই ১% অর্থনেতিক ভাবে স্বচ্চল। তারা আবার দেখা যায় সামাজিক ভাবে নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে তাদের বাচ্চাকে নিজেরাই দত্তক নেয়। ওরা মা বলেই বাচ্চাকে ফেলতে পারেনা। আর বাকিদের মায়েরা ঘুরে ফিরে খোঁজ নিয়ে যায় তার বাচ্চা কোথায় আছে।
মা তখনই হন একজন নারী যখন সে আনুভব করে তার ভিতরে অন্য কার ও নড়া চড়া।সেই সন্তান কে কি কেউ খু ব বিপদে না পড়লে হত্যা করে ।

ভ্রুন হত্যা কী শিশু হত্যা? আমি তা ঠিক জানি না। আমি তাই সেই বিতর্কে যাব না।

আমি বলব একজন পুরুষ ছারা একজন নারী গর্ভধারন করতে পারে না। সেই পুরুষ যখন পিতার দায় থেকে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে তখন কেন সেই নিরুপায় নারীকে ঘৃনা। ঘৃনা সেই পুরুষকে করুন।
একদিনের বিবাহিত জীবনে যে নারী গর্ভধারন করেছে সেও তার ভ্রুন কে হত্যা করেনা।
০৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:১৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ, আকিদা, তথ্যপূর্ণ মন্তব্যের জন্য

বিষয়টি বিতর্কের জন্য নয়, বিতর্ক নিরসনেরই জন্যে উপস্থাপিত

"আমি বলব একজন পুরুষ ছারা একজন নারী গর্ভধারন করতে পারে না। সেই পুরুষ যখন পিতার দায় থেকে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে তখন কেন সেই নিরুপায় নারীকে ঘৃনা। ঘৃনা সেই পুরুষকে করুন।" - এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য "গর্ভধারনের অবদান দুজনের উপরেই নির্ভর করে" কিছু অনাকাঙ্খিত ব্যপার ছাড়া।

লেখার ঘৃণা'র প্রকাশে কাউকে ছোট বা বড় করে দেখাবার জন্য নয়, ঘৃণা সেই সম-অপরাধীদের জন্যই, যারা এ অন্যায়ের পথে পা বাড়ায়, অপরাধ করে।

আপনার জন্য রইল শুভকামনা
আমার এ ব্লগে এসে মাঝে মাঝে লেখায় মন্তব্য করে যাবেন

২১. ১৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:০১
comment by: খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন:
সামছা আকিদা জাহান বলেছেন:

আমি বলব একজন পুরুষ ছাড়া একজন নারী গর্ভধারন করতে পারে না। সেই পুরুষ যখন পিতার দায় থেকে নিজেকে লুকিয়ে ফেলে তখন কেন সেই নিরুপায় নারীকে ঘৃনা। ঘৃনা সেই পুরুষকে করুন।

এই কথা টা ভালো লাগল।
যে সাহস নিয়া দুইজন নর-নারী শারিরিক সর্ম্পক করল; এর পর মেয়েটার পেট-এ বাচ্চা আইলো- পোলা কইল আমি নাই আর মাইয়া কইল আমার শরীর আমার সিদ্ধান্ত। কি চমৎকার। মাঝখান থেকে একটা নিস্পাপ প্রাণ নেই হইয়া গেল।

আসলে দোষটা সমাজের দিয়া লাভ নাই কারণ আমরা সমাজের বাইরের কেও না আর সমাজের তথাকথিত নিয়ম আমরা যখন বানাতে পারেছি; নিশ্চয় পরিবর্তনও করতে পারব।
সবাই কেই এগিয়ে আসতে হবে একটু একটু কইরা।
০৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৫

লেখক বলেছেন: সমর্থন করি

২২. ১৬ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৫:০২
comment by: খািল িপডাইেত ইচ্ছা করে বলেছেন:
০৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৭

লেখক বলেছেন: খালি পিডাইতে ইচ্ছা করে .... তাই ?

২৩. ১৬ ই মে, ২০০৯ রাত ১১:১৪
comment by: ভাস্কর চৌধুরী বলেছেন:

+
যদিও বেদনা বিধুর তারপরও অসাধারণ পোষ্ট।
মেঘ এর মন্তব্যটা ভালো লাগল।
০৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৭

লেখক বলেছেন: দাদা, ভাল আছেন

২৪. ১৯ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:৩২
comment by: ~স্বপ্নজয়~ বলেছেন: "মা দিবস ব্লগ সঙ্কলন - ২০০৯ " ই-বুক আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিস্তারিত পাবেন এই পোষ্টে । পোষ্টটিতে আপনার মতামত আশা করছি।
০৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০৮

লেখক বলেছেন: আপনার উদ্যোগের প্রশংসা করলে তা কম হয়ে যাবে, তার চেয়েও অনেক বেশী কিছু

২৫. ০৫ ই জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৬:১৩
comment by: নাজনীন১ বলেছেন: আপনার এই লেখাটাতে মায়ের দায়বদ্ধতা যতটা উঠে এসেছে, বাবার দায়বদ্ধতা ততটা আসেনি, হয়তো মা দিবসে লেখার কারণেই নাকি, জানি না।এখন এখানে ভ্রূণটিকে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে বাবারও ভূমিকা আছে, সে যখন তার সন্তানের পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন ঐ মেয়ের আর কি করার থাকে?

তবে অবশ্যই আবাধ মেলামেশা কিছুতেই কাম্য নয়, ছেলে-মেয়ে কারো জন্যই নয়। আর এতে করে মেয়েরাই বেশী বিপদে পড়ে।

আর সামাজিক কারণেও, যেমন যৌতুক প্রথার কারণে, মেয়ে ভ্রূণ দেখলেই গর্ভপাত করানো হয় পাশের দেশেই, যেটা উপরেও বলা আছে, ঠিক বহু আগে যেমন মেয়েদের জীবন্ত পুঁতে ফেলা হতো, তারই আধুনিক সংস্করণ। এখানে একজন মা বড়ই অসহায়। তার কষ্ট কেউ বোঝে না।
০৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:০০

লেখক বলেছেন: নাজনীন,
একজন মেয়ে হয়ে আপনার মন্তব্যের মূল্যায়নকে সার্থক হিসেবেই দেখছি।
একটি বিষয়, আমরা কখন দুটি স্বত্ত্বাকে মা' কিংবা বাবা বলতে পারি, যখন সামাজিক দায়বদ্ধতায় সমস্ত সীকৃতি থেকে নতুন একটি সম্পর্ক সূচনার মাধ্য দিয়ে নতুন কোন পরিচয় সৃষ্টি হয়।

কিন্তু যে সম্পর্কে কোন সামাজিক রীতি থাকেনা, বৈধতা থাকেনা কিন্তু ভবিষ্যত কোন প্রাণের সূচনা হয় গর্ভে তখন সে সম্পর্কের সৃষ্টিকারী ছেলে বা মেয়েকে কোন পরিচয়ে মূখ্য করে তুলব ?

"তবে অবশ্যই আবাধ মেলামেশা কিছুতেই কাম্য নয়, ছেলে-মেয়ে কারো জন্যই নয়। আর এতে করে মেয়েরাই বেশী বিপদে পড়ে।" - আপনার এ কথার সাথে একমত।

"তার কষ্ট কেউ বোঝে না।" - সত্য

২৬. ১২ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৩
comment by: মুনিয়া বলেছেন: :(
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৫

লেখক বলেছেন: মুনিয়া' কেমন আছেন, অনেকদিন পর

২৭. ১২ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৩৫
comment by: মুনিয়া বলেছেন: মা হওয়াটা অনেক বিশাল একটা ব্যাপার... তবে যাকে আপনার বান্ধবীর মত অবস্থায় পড়তে হয়, তার আর উপায়ও থাকে না। আল্লাহ হয়তো ক্ষমা করতে পারে, কিন্তু আমাদের সমাজ ক্ষমা করতে জানে না। এজন্যই ঐভাবে চলে আসা প্রাণটাকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে পারে না মা।
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: ভাল বলেছেন

২৮. ১২ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৫
comment by: কবন্ধ বলেছেন: 'অবাঞ্ছিত' হবে,.

অবাঞ্চিত নয়...

দয়া করে সংশোধন করুন..
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

লেখক বলেছেন: ভাই ধন্যবাদ, ঠিক করে নিচ্ছি

২৯. ০৯ ই জুলাই, ২০০৯ সকাল ১০:৪৬
comment by: জইন বলেছেন: ভাষা হারিয়ে ফেলেছি ভাই
১৭ ই জুলাই, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১৭

লেখক বলেছেন: আসলে ঘটনাগুলো তার চেয়েও করুন

 

 


--- : শর্ত প্রযোজ্য : ---
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ