somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্যাক্রিফাইস

৩১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ থেকে তাও প্রায় বছর সাতেক আগে যখন বাড়ীতে প্রথম কম্পিউটার আনা হয় সে সময় বিক্রেতার দেয়া কিছু ভিডিও আর অডিও গানের মাঝে এল্টন জনে’র স্যাক্রিফাইস গানটাও ছিলো। অতটা না বুঝলেও দু-একবার চালিয়ে এতটুকুন বুঝেছিলাম গানটা’র বেশ কয়েক জাগাতে ‘স্যক্রিফাইস’ শব্দটা রয়েছে আর সেখানেই গায়ক এমন দরদী সুর তুলেছেন কি জানি এক বেদনা আর কষ্ট তাতে মিশে আছে। আগেই বলেছি এটা প্রায় বছর সাতেক আগের অনুভূতি, তখনও ব্যক্তিজীবনে স্যক্রিফাইস শব্দটার সাথে পরিচিত হবার কোন তাগিদ-ই অনুভব করিনি। প্রয়োজন হয়নি।

এদিকে আমার কম্পিউটারের বয়স বাড়তে থাকে, অনেক সমমানের আধুনিক-পুরোনো গানের সম্ভারে কবে যে ‘স্যক্রিফাইস’ গানটাকে হারিয়ে ফেলেছিলাম সে বোধটাও এসেছিলো অনেক পরে। যখন খুঁজতে গিয়ে আর পাইনি তখনই মনে হয়েছিল আমার এসব সব গানগুলোকে বিসর্জন দিতে পারি শুধু ওই গানটাকে পাওয়ার বদলে। অজান্তেই ‘স্যক্রিফাইস’-এর সাথে সখ্যতা তখন থেকেই।

জীবনের গতি থেমে থাকেনি, তাই না পাওয়ার বেদনাকে সঞ্চয় করে নতুন স্বপ্ন দেখাদের দলে যোগ দিয়েছিলাম। এরপর থেকে শুরু হয় জীবনের আরেক অধ্যায়, সম্পূর্ণ অচেনা-নতুন এ পথ। যেখানে কিছু পাওয়ার আগেই চিন্তা করতে হয়েছে আমি কতটুকু ছাড় দিতে পারি, ত্যাগ স্বীকারের হিসেবে আমি কতটা এগিয়ে কিংবা বিসর্জনকারী হিসেবে আমার সুখ্যাতি কতটুকু ! প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন কিছুদিনের জন্য স্থগিত তখন, অবসর-আনন্দ-হাসি সবকটা’কে ছুটি দিয়ে ‘বিসর্জনের’ পেছনে একক সময় দেবার পালা। আফসোস-অনুতাপ পাশাপাশি সহবস্থানে। আর তার বড় সাক্ষী সময়। এগুলো বেশ আগেকার কথা। আমার এ অতীতকে সবার সাথে পারিচয় করিয়েছি “স্ট্রাগল” নামের একটা কঠিন ক্রিয়াবাচক শব্দযোগে।

< মাঝের অনেকটা সময় স্কীপ করে গেলাম ! >

ছেলেটার সাথে মেয়েটার পরিচয় বছর খানেক হবে কিংবা তারও বেশী । অথচ তখনও পর্যন্ত ওরা কেউ কাউকে দেখেনি। ফোনে কথা হত। কথা ছিলো মেয়েটা ঢাকায় ফিরলে ওদের প্রথম দেখা হবে। দুজনেরই অপেক্ষা। ক্যালেন্ডারে কাটাকাটি করার অভ্যেস’টা ছেলেটার কাছে পুরোনো, সেই ছোটবেলায় পরীক্ষার সময়ের হিসেব থেকে শুরু করে অনেক সময়ই সে এমনটা করেছে।

অফিসের ডেষ্কে ‘স্যাক্রিফাইস’ গানটা বাজছে, অবসন্নতায় চেয়ারে শরীরটা হেলে দিয়ে সেল ফোনের পুরোনো কিছু এসএমএস পড়তে পড়তেই ছেলেটা ফোন দেয় তাকে -

তুমি কি ব্যস্ত ?
- হুমম, কেন ?
কোথায় এখন তুমি ?
- এইতো ট্রেনিং পোগ্রামে, কিছু বলবে ?
না ঠিক আছে, তাহলে পরে ফোন দেই !
(মেয়টা ওপাশ থেকে লাইন’টা ডিসকানেক্ট করে)

মেয়েটার রেজাল্ট হয়ে গেলে ঢাকায় ফেরার কথা, অবশ্য তখন আরো ব্যস্ত থাকতে হবে তাকে। স্কলারশীপের জন্য এপ্লাই, এডমিশান - অনেক ঝক্কি, পারবে কি মেয়েটা একদিন সময় করতে ? দ্বিধা-দ্বন্দের দোদুল্যতায় কোন কারণ ছাড়াই মেয়েটা’কে টেক্সট করে “মিস ইউ”

< আরো কিছুটা সময় স্কীপ করে গেলাম ! >

মেয়েটা তখন ঢাকাতেই। দেশের বাইরে যাবার ব্যপারটাতে সে তখন দ্বিগুণ ব্যস্ত। যেবার ছেলেটা উইকেন্ডে শহরের বাইরে গেল সেদিনই সে তাকে দেখা করতে বলে। দেখা হয়না, ছেলেটার ফিরে আসতে সময় লাগে। তার কিছু পরে বদলী হয়ে তাকে শহরের বাইরে চলে যেতে হয়। মেয়েটার গোছানো প্রায় তখন শেষের দিকে।

মফস্বলের যে জাগাটাতে ছেলেটা থাকতো, কিছুটা সরু রাস্তা পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠতে হত, আবার সেখান থেকে রিকশা তারপর পাবলিক বাসে অফিস। আচমকাই ফোনটা বেজে উঠতে তাকিয়ে দেখে মেয়েটার ফোন ...

কেমন আছো ?
- এইতো কেটে যাচ্ছে
কেটে যাচ্ছে মানে ? তুমি সবসময় এমন উদাস টাইপ কথা বলো কেন ? আমার ভাল লাগেনা
- তোমার তো কোন সময়ই ভালো লাগতোনা
- ফোন করেছো কেন ?
একটা সারপ্রাইজ দেব তোমাকে
- আমাকে ?
হুমম !
- কি
অনুমান করতো
- না পারছিনা, তুমিই বল
কোথায় তুমি এখন
- এইতো রিকশা থেকে নেমে, বাসের অপেক্ষায়
জানো, আমার না ভিসা হয়ে গ্যাছে, সব রেডী, কাল ফ্লাইট
বাসার সবাই খুব ব্যস্ত, জামাকাপড়-বই,খাতা কত্ত সব হাবিজাবি
এত্ত ওজনের ব্যগটা নিব কিভাবে বলোতো ...
(মেয়েটা এক লাইনে অনেক কথা বলতে থাকে, ছেলেটা শুনতে পাচ্ছে-অস্পষ্টতায় শুধু একটা কথায় বারবার ফিরে আসে “কাল ফ্লাইট”)
হ্যালো, হ্যালো এই তুমি শুনছো
- হুমম, বলো . তোমার ফ্লাইট কখন
এইতো খুব ভোরে
- তোমার অনেকদিনের স্বপ্ন তাইনা ?
হ্যা, তুমি খুশী হওনি
- হু, অবশ্যই হয়েছি
তোমার কি মন খারাপ ?
- না, মন খারাপ হতে যাবে কেন ?
- আমাদের আর দেখা হলনা, তাইনা ?
হুমম, তুমি কি কষ্ট পাচ্ছো ?
- আমি তোমার সাথে একবার দেখা করতে চায়, শুধু একবার; তোমাকে সামনে থেকে দেখতে চায়, প্লিজ !
তুমি না আমাকে প্রায়ই বলতে, জীবনে অনেক স্যাক্রিফাইস করেছো তুমি, তোমার অনেক সাহস-তোমার সব প্রিয় মানুষদের জন্য তুমি স্যাক্রিফাইস করতে জানো !
- হ্যা, বলেছিলাম
তাহলে, আমার জন্য না হয় এতটুকুন স্যাক্রিফাইস করলে, দেখা হলোনা তাতে কি !
(কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থাকা অত:পর একটা দীর্ঘশ্বাস)
- ওকে !
- শোনো একটা শেষ কথা, আমাকে কি সারপ্রাইজ না স্যাক্রিফাইস - কিসের জন্য ফোন করেছিলে ?
(মেয়েটি কোন কথা বলে না)
(ছেলেটি লাইনটি ডিসকানেক্ট করে)

শহরের চৌরাস্তার এই মোড় থেকে পশ্চিমের বাস ধরে অফিসের পথ। সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সময়ের টানাটানিতে ছাতাটাও আনেনি ছেলেটা। পূবের পথ ধরে সামনে এগুলেই একটা শুকিয়ে যাওয়া নদী সেখানে। মোবাইলটা তালুবন্দী করেই ছেলেটা পূবের পথে হেটে চলে, ঘড়ির সময় তখন ৯টা বেজে ৪৩ মিনিট !



Elton John - Sacrifice
উৎসর্গ : একজনকে
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা আগস্ট, ২০১০ রাত ১:১০
৯টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×