somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... কষ্ট করে ঢাকা ইউনিভার্সিটি'র রেজাল্ট শীট-টি দেখুন ? রেজাল্টের জন্য নয় .... অন্য কিছু এটাই স্বীকৃত, তাতে অস্বীকার করার কোন দ্বিধা থাকবার কথা না। নিশ্চিত

নিম্নের প্রসঙ্গটি কি এতটাই আশ্চর্য হবার মত ?

দেশের সর্ববৃহৎ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আমাদের গর্ব, পরিসংখ্যানে বলে কতটা গ্রহণযোগ্য যখন একটি আসনের বিপরীতে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করে মাত্র একজন একটি আসনের অধিকারী হয়। সেরকম পরীক্ষার কোন রেজাল্ট নিশ্চয় আবেদনকারী ছাত্র ছাত্রীদের কাছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু যখনই রেজাল্ট শীট খুলে রেজাল্ট শীটের খুব সাধারণ ভূল গুলো চোখে পড়বে বা যাদের পড়েছে তাদের প্রতিক্রিয়া এ সাধারণের পক্ষে জানা সম্ভব না হলেও, সর্ববৃহৎ এ প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের দায়িত্ব সচেতনতার পরিচয়ের ব্যাখ্যা অন্তত খুজে পাওয়া কষ্ট !

অন্য প্রসঙ্গ আসি, ছোট বেলায়, মাঝারি বেলায় আর বড় বেলায় মজা করে বলা হত " মানুষ মাত্রই ভুল" - (Man is Mortal), মজা করেই বলি আর যাই বলিনা কেন ভুলের মাঝেই কিন্তু ভুল হয়ে গেল। সংশোধনই যেখানে ভূল, ভূলের রাজত্ব সেখানে।

কিন্তু, এখন কোন শিক্ষার্থী যেন না বলে বসে ................................
রেজাল্ট শীটের রোল নম্বরে ভুল নেই তো ?

এতদসত্বেও কোন শিক্ষার্থী যখন চান্স পায়নি, আক্ষেপ করে বলবে "তাও ভাল যদি চান্স পেতাম!"

.
.
.
.
.
.
.

প্রসঙ্গের বাহিরের কথা :
শিরোনামটি এমনই "কষ্ট করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির রেজাল্ট শীট-টি দেখুন ? রেজাল্টের জন্য নয় .... অন্য কিছু "
"কষ্ট" শব্দটি শুরুতেই জুড়ে দিয়ে পাঠকদেরকে যে কষ্ট দিয়েছি তাতে কেউ কষ্ট পাক বা না পাক এ সাধারণ পোষ্টদাতা সত্যি এমন ভুলে কষ্ট পেয়েছে ...


বি:দ্র: রেজাল্ট শীটটি লক্ষ করুন]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28871760 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28871760 2008-11-20 17:28:39
পরকিয়াসক্ত
সে চেষ্টাই করছি, নিজের জীবনের কিছু কথা, একান্তুই ব্যক্তিগত, তবুও অপ্রকাশিত থাকবে তেমন কিছু নয় ! এই তো যে কথা বলছিলাম 'পরকিয়া' সেরকমই কিছু। ঘটে যাওয়া যেসব সত্যের কিছুটা প্রকট প্রকাশ।


সম্পর্কের শুরুটা বেশ আকষ্মিকতায়। হঠাৎ করেই খুজে পাওয়া। কিছু একটা এমন পেতে চাইছিলাম অনেক দিন ধরেই, পেয়েও গেলাম তেমন স্বাভাবিকতাই। যেমনটি চাওয়া ছিল। শুরুতেই নিজের করে নেয়া বলে যে কথা থাকে তা বুঝে উঠবার আগেই একটি সম্পর্কের বাধঁনে বেধে ফেললাম। তার জীবনের ঘরে নিজের নামটা তুলে দিলাম। প্রথমটা যেমন হয়, খুব সুন্দর, কিন্তু অতটা সাজিয়ে গুছিয়ে তখনও ওঠা হয়নি। পরিপক্কতার ছাপ ছিল। তবুও ভাল লাগত। বেশ সে মহুর্তগুলো। অপূর্ণতা কিছু যে ছিলনা তাও নয়। দেখতে দেখতেই বেশ ক'টা সময় খুব তাড়াতাড়িই চলে গেল, সম্পর্কের পরিসীমাও তখনও বছর ছুই ছুই, কি হতে কি হল অল্পতেই ভেঙ্গে যাচ্ছিল, অপূণতাই কাল হল। পূর্ণতা আর ফিরে এলানা। বেরিয়ে এলাম সে সম্পর্ক থেকে।


এ সম্পর্কটা তারও বেশ কিছুদিন পর। একটি সম্পর্ক শেষ না হতেই আরেকটি সম্পর্কের হাতছানি। মাঝখানের সময়টা বেশ একাকীত্বের সাথে বসবাস। সেই পূর্বের জীবনেই ফিরে এলাম আরেক নামে। নতুন সম্পর্ক-পুরোনো পরিচয়ে। শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি তাই। একই স্বত্তায় দুটো ভিন্ন প্রকৃতি। দিনলিপির প্রতিদিনকার অভ্যেসে সে এখন আর নতুন অতিথি নয়। রাত্রের যাপিত জীবনের সময়ের সঙ্গী। কখনো রাগ, প্রতিবাদী, কখনো আবেগের হাসি কান্না। পরিপূর্ণতার যে অভাববোধটা ছিল, এ সম্পর্কে সেটা নেই। অনেকটা স্বচ্ছল। মেলামেশার ঘনিষ্ঠতা খুব কাছাকাছি। সানন্দে তাই মানিয়ে চলছিল এখনও চলছে। বাঁধ ভাঙার উচ্ছাসে ভেসে বেড়ায় সময়গুলো।



এইতো খুব যে বেশী দিন হয়েছে তা নয়। পুরোনো সম্পর্ক জোড়াতালি দেবার ক্ষনিক সময় পরেই এ নতুনের পরিচয়। অনেকটা রহস্যময় হাতছানিতে এগিয়ে যাওয়া। কি এক টান আছে, সম্পর্কের সূত্রতা বাড়তে থাকে। এড়িয়ে যেতে পারিনি, তাই পুরোনো সম্পর্কের আড়ালে এ এক নতুন। সেখানেও গল্প, হাসি, আনন্দ, কথা বলা না বলা। কি মুগ্ধতায় কাটতে থাকে দিনগুলি ! মাঝে অনেক দিন কোন যোগাযোগ ছিলনা, ব্যস্ততায় সময়গুলোও হারিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক সে সময় অন্য আরেকটি সম্পর্কের মধুরতা বোঝার আগেই একদিন, হঠাৎ সে ছেড়ে চলে যায়। যখন খুজতে গিয়েছি আবার, পাইনি তাকে। এরপর বেশ ক’বার গিয়েছি সেখানে, ফেলে আসা স্মৃতিগুলো পেতে, পাইনি আর কখনো, একবার শুধু জানতে পেরেছি, সে ফিরবে, সময় নিয়েই ফিরবে।



পূর্বের সম্পর্কটা চলমান। মাঝের সম্পর্কটি তখনো অবিচল। যখন নিজস্ব ভাললাগা অনুভূতিগুলোকে দুভাগে বিলীন হয়ে হচ্ছিল তারই ঠিক কিছুদিন পর এ সম্পর্কের আভাস। নেশায় কাকে না ঘোর করে। নেশার মত সম্পর্কগুলো। বোঝা যাচ্ছিল হয়ত এড়াতে পারবনা, ঠিক তাই হল। সেই ঘটনাচক্রের পুনারাবৃত্তি। আবারো জড়িয়ে পড়া। খুব ভাল সময় উপভোগের উপলক্ষ। দিনের আলোতে একটি, মধ্যাহ্নে অন্য, শেষ বিকেলে গোধুলীতে এসে এ অনন্য মুখ। কেউ উপেক্ষিত নয় আবার পূর্ণ ভোগও নয়। আক্ষেপ মিশেল এ সম্পর্কগুলোকে পেতে চাই সর্বক্ষন, কিন্তু সে তো প্রায় অসম্ভব, তবুও অতৃপ্ত নই। এই বা কম কিসের। আমার তাকে আমারই করে নিই।



পরকিয় এ সম্পর্কগুলো তখন ধুন্ধুমার চলছে। দু-তিনটে সম্পর্কের জোড়াতালিতে এ জীবন তখন বিষন্ন আনন্দময়। কোন সম্পর্কে প্রশান্তি খুজে পাচ্ছিনে এমন । বিক্ষিপ্ত পদচারণায় একমুঠো সুখ খোজার বৃথা চেষ্টায়। কালক্ষেপন – এক সময পরিচয় হল এ সম্পর্কটির সাথে। পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছিল। সাময়িক ঘটনাপ্রবাহে কিছুটা উত্তাল থাকলেও আকর্ষিত মোহ সেখানে ছিল। সম্পর্কের সূচনা যে হচ্ছে বোঝা যায়। একদিন হয়েই গেল জানাজানি সে কথা। অনেকটা রটা করেই সম্পর্ক তৈরী। খুব বেশী কাছাকাছি তার যাওয়া হয়নি এ পর্যন্ত। অল্প এ কদিনে যে কয়েকবার যাওয়া হয়েছে সে এক প্রজন্মের উজ্জল স্বাক্ষর বলেই মনে হয়।



আজ এ সময় অনেক পরিণত। সম্পর্কের সাথে অন্য সম্পর্ক, মেলামেশা, সংযোগ আবার তার সাথে অন্য এ বিষয়গুলো খুব সহজবোধ্য। মেনে নেয়া যায়। যদিও সমাজের চোখে ... না সে বিতর্ক আজ আর নয়। আমি সেসব নিয়ম আর মানিনা, এ পরকিয়াতে দোষেরও কিছু দেখিনা। খুব সাহসী বলে মনে হচ্ছে ? হতেই পারে, কিন্তু যা আমি তা আর বলতে দ্বিধা কেন ? এ সম্পর্কেও তাই পরকিয়া উচ্চারণটি জুড়ে দিলাম।
আগের সম্পর্কগুলো এখনও আছে। সবাইকে আগলে রেখেছি। কেউ বঞ্চিত নয়। সবাই গৃহীত। সময়ের উপভোগ্য এ ‘পরকিয়া’ উপকরণটি আনন্দদায়কও বটে ! তাই পরকিয়া করে আসছি এদেরই সাথে …..

প্রথম সম্পর্ক

প্রথম পরকিয়া

দ্বিতীয় পরকিয়া

তৃতীয় পরকিয়া


চতুর্থ পরকিয়া

পঞ্চম পরকিয়া
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28864523 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28864523 2008-11-04 14:18:57
বিদ্রোহী দল ঢাকা ওয়ারিয়ার্সের জয় : বিসিবি’র কর্মকর্তারা কি খুশি হতে পেরেছেন না সত্যিই অখুশি ? একান্তই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষনে ঠিক এ প্রশ্নটিই বারবার উত্তর অনুসন্ধানের খোজঁ করে চলেছে, ঠিক গতকাল থেকেই। যখন গতকালকের দিল্লী বনাম ওয়ারিয়ার্সের খেলায় রফিকের করা বোল্ডের মধ্য দিয়ে দিল্লী’র শেষ ব্যটসম্যান মাঠ থেকে ফিরছিলেন, ঠিক পেছনেই তখন ওয়ারিয়ার্সের জয়োৎসব। জানিনা, বিসিবি’র কর্মকর্তারা সে দৃশ্য দেখেছেন কিনা ! কিংবা ম্যাচটি ! শেষের প্রেজেনটেশন স্রিমনি'তে উইনিং টিমের প্লাকার্ড হাতে হাবিবুলের জয় উল্লসিত হাসি কি বিসিবি’র কর্মকর্তারা তাৎক্ষনিক পছন্দ করেছিলেন ? সে প্রশ্নটাও প্রথম প্রশ্নের মত !

প্রশ্ন আর তার উত্তর, সে অনুসন্ধানে হয়ত সমালোচনা বা আলোচনা দুটোই হতে পারে। কিন্তু তার চেয়ে বড় কথা, রটে যাওয়া বিদ্রোহী দলের খেলোয়াররা তাদের ৩য় ম্যাচে প্রথম জয় পেয়েছে। জয় শুধু ওয়ারিয়ার্সের নয় এ জয় যে, আমার দেশের জয়।
সাম্প্রতিক চলতি আইসিএল সিরিজে অলক কাপালির ব্যাটিং তান্ডব, ওপেনিং জুটির ভাল পারফরমেন্স, বোলাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং, ফিল্ডিং সবকিছুই আলোচনার শীর্ষে। যেখানে তারা নিজ দেশেই আলোচিত হতে পারেনি। হিরো হয়েও হিরো নয় জিরোই হয়ে রইল। বলা যায়, এ প্রতিভা কোথায় ছিল এতদিন তোমাদের !

বিদ্রোহী শব্দটি শুনতে এখন আর ভাল লাগেনা, তবুও যখন খেলোয়ারদের স্বীকৃতি প্রদানকারী কমিটি তাদেরকে বিদ্রোহী বলে ঘোষণা দিয়েই ফেলেছে সেখানে সাধারণদের কাছে এর মর্মার্থ অন্য কিছু কি আর হতে পারে ?
ওয়ারিয়ার্সের হয়ে খেলতে যাওয়া খেলোয়ারদের উপর ১০ বছরের জাতীয় ক্রিকেটের নিষেধাজ্ঞা ঝুলছে। নিশ্চয় এটা একটা মানসিক চাপ তাদের জন্য, যদিও এত বড় শাস্তি যে হতে পারে তারা পূর্ব অনুমান করতে পারেনি। কিন্তু বিসিবি তো পূর্ব অনুমান করতে পেরেছিলেন এমন কিছু হতে যাচ্ছে যেখানে জাতীয় দলের বেশ ক’জন খেলোয়ারদের আইসিএল-এ খেলার ব্যপারে যখন সিডন্স দেশের বাহিরে থেকেও সে সংক্রান্ত মেইল করে তাদেরকে সতর্ক করেছিলেন, তখন বিসিবি কি সতর্ক হয়েছিল ? যদি হত তাহলে তো এমন ফল দাড়াতনা। তাহলে বিসিবি কি চেয়েছিল এমনটাই হোক যেখানে তারুন্য নির্ভর শক্তি দিয়ে নতুন দল গঠনের সুযোগ পাওয়া যাবে, না চাইতেই বৃষ্টির মত - পুরোনোদের ছেটে ফেরার কাজটাও সারা হয়ে যাবে ? অবশ্য পরবর্তীতে যখন আইসিএল-এ চলে যাওয়া খেলোয়ারদের কাছ থেকে ঘোষণা আসল, প্রেস ব্রিফিং দিয়ে তখন ফিরিয়ে আনার জোর জবরদস্তিও চলল, মিডিয়াগুলো সরব তখন, সব কিছুই সম্ভব আবার কোনটাই অমূলক নয়। তবুও যা উহ্য থাকল তার অর্ন্তনিহিত কিছুই জানা হলনা।

তারুন্য নির্ভর শক্তি সাহসে দল গঠন হতে পারে কিন্তু সে তারুন্যকে যথার্থ প্রয়োগের জন্য দরকার অভিজ্ঞতা। যুগে যুগে সে রীতিই চলে এসেছে। কিন্তু আমাদের বেলায় আমরা সবাই এক সাথেই অভিজ্ঞ হতেই চেয়েছি, তাই নবীনদের পদচারনা বেশী। তারুন্য শক্তির কাছে অভিজ্ঞদের পরাজয়, বঞ্চনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। যেখানেই ক্ষোভের সৃষ্টি আর বিদ্রোহী বনে যাওয়া। তবে, এক্ষেত্রে নবীনদের সাধুবাদ জানাই তাদের সাফল্যও কামনা করি।

উত্থাপিত হতেই পারে, হাবিবুল, নাফিস, আফতাবের চলে যাওয়া নিয়ে, সে সূত্রেই মোটা অংকের হাতছানিকেও এড়িয়ে গেলে চলবেনা। কিন্তু যখন নিজ দেশেই তাদের ভবিষ্যত অনিশ্চিত বা দলে টিকে থাকা না থাকার সন্দেহের অবকাশ সেখানেই তাদের ক্ষোভগুলোর বিষ্ফোরণ ঘটল আইসিএল-এ যোগদানের মধ্য দিয়ে। পাইলটের কথাই ধরুন না কেন, দেশের জন্য খেলার স্বপ্নে আইসিএল-এর প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেন কিন্তু বিনিময়ে কি পেলেন ? অপমানিত হবার পূর্বেই যথাপোযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অবসরে চলে গেলেন। যেখানে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে হল একান্তই ব্যক্তিগত অনিচ্ছা সত্বেও।

বিসিবি যে শাস্তি দিয়েছে তার বেশী হতেও পারত, নমনীয়তায় মাত্র ১০ বছর কার্যকরী হল। বিসিবি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী তাই তারা পেরেছে। সমালোচনার চাইতে আলোচিতও হল বটে এমন শাস্তি দিয়ে ! মাঝ দিয়ে বিদায় নিতে হল দেশের বেশ ক’জন প্রতিভাবান খেলোয়ারদের। “ক্ষমা স্বর্গীয়”। প্রতিভাবান এ খেলোয়ারদের ফিরিয়ে আনার তাগিদে বিসিবি’র কর্মকর্তরা যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং শাস্তি প্রত্যাহার করেন সেটাই যে মঙ্গলময় হবে তা একবাক্যে সবাই স্বীকার করবে। বিসিবি’র কাছে সেটাই প্রত্যাশা করি এবং কামনা করি।

আমরা বাংলাদেশী, যেদিন থেকে আমাদের ক্রিকেট বিশ্ব অঙ্গনে পরিচিত হল সেদিন থেকেই ক্রিকেট নিয়ে উচ্ছাস যেকোন খেলার তুলনায় অনেক বেশী। জয়ে যেমন আনন্দিত হয়েছি আবার পরাজয়ে আবেগ আপ্লুতও হয়েছি। তাই দেশের হয়ে যেকোন জয়-ই আমাদের কাছে অনেক বড়। তাইত দেশের বিদ্রোহী যোদ্ধাদের খেলাকে যেমন উপক্ষা করতে পারিনি তেমনি জয়ে সুস্থির থাকতে পারিনি। আনন্দে উল্লসিত হয়েছি, উল্লসিত হয়েছে দেশ ও দেশের মানুষ। এখন সেটাতেই সান্তনা ওয়ারিয়ার্স ভাল খেলুক, জয় পাক, ওরা জয়ী হোক।
.
.
.
.
.
.
.
.
..
.

ওয়ারিয়ার্সের হয়ে খেলতে যাওয়া আমাদের দেশের সকল ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্যে পোষ্টটি উৎসর্গ করা হল। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28857699 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28857699 2008-10-21 12:32:47
বরং সত্যকে জানুন .... ‘হ্যা’ অথবা ‘না’ যেকোন একটি বলুন ! ‘হ্যা’ অথবা ‘না’ - সোজা সাপ্টা বলবেন, এক কথায় - কিচ্ছু মনে করবনা বরং আরো খুশী হব।

বিষয়টি সবার জানা দরকার। এতদিন যে ভ্রান্ত ধারণা নিয়ে জেনে আসছি তার একটা সুরাহা হওয়া দরকার। বড় বড় মানুষেরা বড় বড় কথা বলে কিন্তু তাদের কথা যে সত্য কিংবা তার আড়ালে যে বাণিজ্য নেই তারই বা প্রমাণ কি ? তার চেয়ে বরং সত্যকে জানুন, সুন্দরভাবে বাচুঁন।


আপনি কি জানেন? “সিগারেট বা ধূমপান আমাদের শরীরের জন্য উপকারী”
এক্ষেত্রে আপনি কি মনে করেন ? ‘হ্যা’ অথবা ‘না’
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28853006 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28853006 2008-10-10 13:20:40
কন্যা সন্তানের একটি নাম চাই, প্লিজ হেল্প করুন, আপনার পছন্দের নামটি লিখে যান মেয়েটির জন্য একটি মুসলিম নাম রাখতে চাই

এ ব্যপারে আপনাদের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
আপনাদের জানা এবং সৃষ্ট যেকোন সুন্দর ও শ্রুতিমধুর নামটি লিখে যান



মন্তব্যদাতা ও সহয়তাকারী সকল ব্লগার বন্ধুদের জন্য রইল শুভেচ্ছা রাশি রাশি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28842118 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28842118 2008-09-12 14:32:50
ADrive Download Problem ::: সামাধান আবশ্যক (অতি সাময়িক পোষ্ট)
সাধারণত মুভি ডাওনলোড করি ডাইরেক্ট লিংক ব্যবহার করে, যার অধিকাংশই ADrive.com এর লিংক। এর আগে অনেক মুভিই ডাওনলোড করেছি, কোন সমস্যা হয়নি, সারারাত পিসি চালিয়ে রেখে ডাওনলোড দিলে প্রায় ৪ টা মুভি (৭০০মেবা প্রতিটি) ডাওন হত। সেদিন রাতেও ডাওন দিয়ে গেলাম, কিন্তু ৪টি নয় এবার ৮টি। পরদিন ৮টি মুভির সবগুলিই প্রায় ৮০% করে ডাওন হয়েছে। সারাদিন কাজ করে সন্ধ্যায় যখন আবার মুভিগুলো resume করলাম অনেকক্ষন connecting দেখিয়ে একটি ম্যাসেজ দেয় " Cannot download the file because of time out. Details : Connection timed out"

হলনা তো হলইনা।

এবার নতুন আরএকটি adrive ডাওনলোড লিংক দিয়ে ট্রাই দিলাম, adrive- সাইটেই ঢুকেনা, মহা সমস্যায় পড়লাম।

যাই হোক এটা কি কোন সমস্যা কিনা, বা সমস্যাটি কোথায় জানালে কৃতজ্ঞ থাকব ।

আমার অপারেটিং সিস্টেম এক্সপি,
ফায়ারফক্স ব্রাউজার
ইন্টারনেটা ডাওনলোড ম্যানেজার ব্যবহার করি ডাওনলোড করার জন্য।

পরে ভাবলাম এমনটাও হতে পারে আইটি এই সাইটটি ব্লক করে দিতে পারে।
প্লিজ আপনারা কি একটু http://www.adrive.com এ ঢুকতে পারেন কিনা একটু দেখবেন।
অথবা
এই ডাওনলোড লিংকটি কাজ করে কিনা একটু দেখবেন প্লিজ :
Click This Link
ছবিটির নাম : Freedom Writers

একটু ট্রাই করে দেখবেন প্লিজ !
সমাধান পেলে উপকৃত হব।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28837366 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28837366 2008-09-01 12:41:09
ছোটটা - না রে, আজ পারছিনে, অন্য আরেকদিন
না ভাইয়া, প্লিজ লেখনা !
- বলছিনে আজকে ভাল লাগছেনা, আর লিখবটাই বা কি ?
তুই কি তাহলে টপিকস খুজে পাছছিসনে, না কি ?
- না, আসলে সেরকম কিছু না, তারপরেও ভাল লাগছেনা
আচ্ছা যদি টপিকস খুজে না পাস, একটা টপিকস দেই তোকে, লিখবি ?
- কি বল ?
আগে বল লিখবি কিনা !
- বলবি তো !
আজ আমাকে নিয়ে একটা লেখা লিখে ফেল !
- তোকে নিয়ে ?
হ্যা! কেন, লিখতে পারবিনা ? আমাকে নিয়ে তোর ভাবা, না ভাবা সব কথাগুলো
আচ্ছা ঠিক আছে, তুই লিখলে লিখিস, আমি গেলাম
- এই কোথায় যাচ্ছিস ?
কাজ আছে, পরে এসে তোর লেখা দেখব ! ..

...... ওর পাগলামীটাই এরকম। হঠাৎ কোন কিছু আবদারের সুর তুলে বলে ফেলবে, এখন রাখ না রাখ নিজের ব্যপার। অন্যায় আবদার তো আর করেনি, তবে মাঝে মাঝে করে, জোড়ে বকা দিতে না পারলেও কিছুটা যে বিরক্ত হই, তা বুঝতে পারে। কেমন জানি সব কিছুতেই একটা বাড়তি দুর্বলতা কাজ করে। অনেক সময় রাগ করেও পারিনে, আবার গোমড়া মুখে থেকেও হেসে দিতে হয়। কি জানি, বুঝিনে এসব কেন হয় !

বয়সে তো ছোট বটেই, উচ্ছাসবোধটাই ওর সঙ্গী, সবসময় মুখে হাসি, মনে হয় হেসে হেসে পৃথিবীটাকে সুখী করার জন্য বোধহয় ওর জন্ম। সেই হাসিমাখা মুখের ছবিটাই রেখে দিতাম মানিব্যাগের অ্যালবামে।
বায়নাটা প্রচন্ড, যেবার যেটা বলেছে সেবার তা করবেই। অনেক মারও খেয়েছে বাবা-মা’র হাতে। বিন্দু বিন্দু আহ্লাদে সিন্ধু হয়ে আমি বায়না বাবু বানিয়ে ফেলেছি ওকে। রাগী আর জেদী খুব । এতটা আবার সবসময় ভালও লাগতনা। তবুও মেনে নিতাম। আবার ওদিকে বাবা-মা’ কেও সামলাতে হত। পড়াশোনার সময়টা বেশ অল্প কিন্তু রেজাল্ট ভাল। ঘুমকাতুরে মানুষ, গানের প্রতি খুব ঝোক কিন্তু খাওয়া-দাওয়ার প্রতি কোন নজরই নেই তার, তাইত তালপাতার সেপাই সেই তখনও আজ এখনও।

এই তো এখনও উজ্জল মনে পড়ে, দুজনের দু-কাধেঁ দুটো ব্যাগ ঝুলিয়ে দিত আর হাতে হাত ধরিয়ে দিয়ে বলত “যাও স্কুলে যাও, স্কুল থেকে ফেরার সময়ও এভাবে আসবে” - মায়ের আদেশ ছিল এটা। ঠিক সেভাবেই যেতাম, রাস্তার মানুষগুলো দেখে ভাবত ‘জমজ’, জিজ্ঞেসও করত মাঝে মাঝে।

কখনও তেমন বকতাম না, তাই বোধ হয় আশ্রয়-প্রশ্রায় দুটোই পেয়েছিল। এই তো অফিসের জুতার ভেতর তেলাপোকা রাখা থেকে শুরু করে, মানিব্যাগ হাওয়া করে দেওয়া,

বড় হতে লাগলাম আনুপাতিক হারে। বয়সের ব্যবধানটা তো আছেই। শারীরিক গঠনে ও বেশ ছাড়িয়ে গেল আমাকে। মানুষে ভাবত ওই বুঝি বড়। যাহোক সে ঝক্কিও কম ছিলনা। খুনসুটি তো থাকতই। মারামারি তেমন হয়নি, হলেও পেরে উঠতাম না, পেরে উঠতে চাইলেও স্ব-ইচ্ছেতে হেরে যেতাম। জিতুক, ওই জিতুক।

কথা দিলাম. পরীক্ষায় ভাল রেজাল্ট করলে একটা সারপ্রাইজ দেব। সেবার রেজাল্টও করল বেশ। পারিনি যে সারপ্রাইজটা দেবার কথা ছিল, সেটা দিতে পারিনি। একটা ছোট্ট কিছু উপহার দিয়েছিলাম। সাইকেল নিয়ে ঘুরতে ও খুব ভালবাসত। ও কখনো জানেনি আমি যে নিজেকে এভাবে মিথ্যে বলেছি। ওর যে দিনটা জন্মের, কখনো সে দিনটাকে ওভাবে জন্মদিন হিসেবে পালিত হয়নি। ইচ্ছে তো থাকেই, খুব ঘটা করে না হয় একবার ! তাও কোনদিন হয়ে উঠলনা।

এখন তো বড় থেকে আরো বড় হচ্ছি। যখন ও বুঝতে পারল একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার অসুস্থতায় বড় ভাইয়ের একার পক্ষে সম্ভব না, পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি নিয়ে নিল। দিব্যি সংসার চালিয়ে যাচ্ছে।

সেবার এক অসুখে পড়লাম, প্রচন্ড, মাথায় কি একটা সমস্যা ধরা পড়ল। ও তখনও জানতনা, অফিসে ছিল, যখন ফিরে শুনল, আমি ওর সামনে দাড়াতে পারিনি। ওর চোখের জলের সামনে নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হল। মাকে জড়িয়ে কাদঁছে আর বলছে “ভাইয়াকে চিন্তা করতে না বল, আমিই ওর চিকিৎসার সব টাকা যোগাড় করব” সেদিন আরও একবার ওকে খুব ভাল করে পরখ করলাম।

গেল ফেব্র“য়ারীর ১৪ তারিখ। ইচ্ছে করেই দেরীতে ঘুম ভাঙল। ঠিক উঠতে যাব হাতের কছটায় একটা খাম, একটা গোলাপ আর একটা ছোট বক্স। খামটা খুলেই বুঝতে পারি বদমায়েশটার কাজ। দারুন একটা উইশ মেসেজ আর বক্সটার উপর লেখা “ সময় আর আমি দুটোই তোমার বন্ধু”, বক্সে একটা চমতকার হাত ঘড়ি ছিল। একবার অতীতে ফিরে যাই ঠিক আবার ঘড়িতে সময়টা ঠিক করে নিই।

আজ বিকেলটা মনে হচ্ছে সন্ধ্যের দখলে। ইষৎ মেষে ঢেকে যাওয়া পশ্চিমের সূর্ষটা খানিকটা কোণঠাসা। ভালও লাগছেনা। ফোনটা বেজে উঠল ..

ভাইয়া লিখেছিস লেখাটা ?
- কোনটা ?
কেন তোকে দুপুরে বললাম না, ওই লেখাটা
- না রে, এখনও লিখিনি, লিখব
থাক তোর আর লেখা লাগবেনা ..............
(ফোনটা কেটে দিল)

আবারও সেই পাগলামী।
ইচ্ছে করেই মিথ্যেটা বলা। ওকে এ লেখা দেখাতে চাইনা, ও জানতেও পারবেনা এ ব্লগে প্রকাশ পাওয়া ওর কথাগুলো। ওকে নিয়ে আমার ভাবনাগুলো। সত্যি খুব বেশী কাছে টানি বলেই ভালবাসাটা অনেক বেশী। যে ভালবাসাই ভালবাসতে চাই আজীবন। ও তো আমার ছোটটা।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.

লেখাটা আর কিছুই নয়, শুধুই আমার ছোটটাকে নিয়ে লেখা। হয়ত ওর সব কথা বলা হয়নি তবুও যতটুকু পেরেছি, তাতেই ঢের। আবেগ, অনুভূতিগুলো লেখার চেয়েও অনেক বেশী, বেশী হতেই হবে কারণ সে যে আমার ছোট ভাই।
পোষ্টটি তাই উৎসর্গ করলাম আমার ছোট ভাই’কে উদ্দেশ্য করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28833683 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28833683 2008-08-22 19:37:46
আত্মকথন
তখনকার সময় বাবা সাধারণ কৃষক। অর্থ অভাবে পড়াশোনা, সে তো বিলাসিতা। তবুও ইচ্ছাশক্তিকে জয় করে মেট্রিক পাসটা হল। ততদিনে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়েছি, কিন্তু কৃষক বাবার ভরা ক্ষেতের মাঠ আর আমার পড়াশোনা, দুটো প্রসঙ্গই যেন প্রশ্নবিদ্ধ ? বাবা একদিন প্রচন্ড মারলেন, পড়াশোনার জন্য, কে খরচ দিবে ? তার চেয়ে যেন মাঠেই কাজ করি, অন্তত উপার্যন হবে। রাগে, ক্ষোভে, দু:খে বাবার মুখটাও দেখিনি-শুধু গায়ের গামছাটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম রাস্তায়, যাবার আগে বলেছিলাম “আমি আর ঘরে ফিরবনা, কোনদিনও না” - আর ঘরে ফেরাও হয়নি, যখন ফেরা হল, তখন আর অবশিষ্ট কিছুই ছিলনা।

সময়টা সনের হিসেবে ৬৯। তখন তো আর অত পত্র-পত্রিকা পাওয়া যেতনা, সম্বল ছিল রেডিও, তাও দু-এক গ্রাম মিলে একটা। বাড়ী থেকে সেই যে বেরিয়েছি আর ফিরিনি, কোন যোগাযোগও পর্যন্ত রাখিনি। মানুষের ভীড়ে চায়ের স্টলে দাড়িয়ে রেডিও বাজছিল। হঠাৎ একটা খবর সমস্ত আকর্ষন কেড়ে নিল। “লোক নিচ্ছে, আর্মিতে লোক নিবে-লাইনে দাড়াতে হবে।” আগামীকালই, রওনা দিলাম সাথে সাথে, যে কয়টা পয়সা ছিল তাতে হেঁটে আর গাড়ীতে মিলে পৌছে গেলাম। মাগুড়া স্টেশন। শ’ - শ' লোক লাইনে। “কোনছে ট্রেড লেনা হ্যায় ?” পশ্চিম পাকিস্তানীর আকষ্মিক এ প্রশ্নে কিছুটা ভড়কে গেলাম, কারণ ট্রেড কি তা তো জানা ছিলনা, - অতীত স্মৃতি আর প্রতিশোধ নেবার সুযোগ, “স্যার আমাকে এমন একটা ট্রেড দেন, যাতে আমি দেশ বিদেশ ঘুরতে পারি।” জয়েন হল চিটাগং-এ, তিন মাসের মাথায় পোষ্টিং অর্ডার চলে এল। গন্তব্য পশ্চিম পাকিস্তান।

“মোজাম্মেল, দোস্ত - এ চিঠিটা যখন লিখছি, তখন আমি মাঝ সমুদ্রে, এখন গভীর রাত, পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের পথে।” - চিঠির শুরুটা করেছিলাম এভাবেই। কতটাই না প্রতিশোধপরায়ন ছিলাম।

ট্রেনিং শেষে চাকরি শুরু হল। ভালই চলছিল, মাস শেষে কড়া কড়া নোটের মাইনে, সামান্য খরচ ছাড়া সবটুকুই জমিয়ে রাখতাম। এতদিনে মনে পড়ে গেল বাবার কথা, গ্রাম - ভাই, বোন এদের সবার কথা। সময় গড়িয়ে তাও বছর দুয়েক পার হয়েছিল। বাবার জন্য বেশ কিছু জামা-কাপড় আর জমানো টাকাগুলো হাতে দিয়ে পুরোনো রাগটাকে বিসর্জন দেব, এই ভেবেছিলাম, ছুটিও নিলাম, প্লেনের টিকেটও কনফার্ম। যেদিন দেশে ফেরার কথা, তার আগের দিনের পাওয়া টেলিগ্রাম জীবনটাকে আরও একবার ওলট পালট করে দিল। সব হিসেব নিকেষকে শুন্যের কোঠায় নিয়ে দাড় করাল। সমস্ত উপার্যন এ জীবনের কাছে খুব, অতি তুচ্ছ মনে হল।

বাবা যখন নাকি মারা যায়, শুধুই তিনি আমার নাম-ই করেছিলেন, জীবনের শেষ দিন, শেষ মুহুর্তের একটাই চাওয়া ছিল, আমাকে একটিবার দেখবার। সেই যে বের হলাম, সেই তো শেষ দেখা ছিল। জীবনের এ ভূল, ভূলের কষ্ট কোনদিন শোধরাবার নয়। যার জন্য ঘর ছাড়া, দেশ ছাড়া সে মানুষটিই নেই, কার জন্য আমি, কার জন্য আমার এসব।

অবশেষে যখন দেশে ফেরা হল - ৭১’ সন। জানুয়ারী মাস। ৩ মাসের ছুটি ছিল। ছুটি শেষ হবার আগেই দেশে শুরু হল গন্ডগোল। ২৫শে মার্চ রাতের ঘটনা। ২৬শে মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানে যোগদানের তারিখ। যখন শুনলাম ক্যান্টনমেন্টেও নাকি মানুষ মারা হচ্ছে, পশ্চিম পাকিস্তানে ফেরত না গিয়ে সোজা ভারতে চলে গেলাম। ৮নং সেক্টরের সাথে থেকে শুরু হল আরেক যুদ্ধ, দেশকে বাঁচাবার যুদ্ধ। ৯মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম শেষে যখন বিজয় এল, দেশ ভাগ হল, এদেশের সেনাবাহিনীতেই যোগ দিলাম।
আমিই ছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নন-কমিশনড্ অফিসারের মধ্যে সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা অফিসার-যখন অবসরে গ্রহণ করি।

গত হয়েছে অনেকটা সময়। আজ কোথায় তারা! কোথায় মোজাম্মেল, সেই গ্রাম, গ্রামের ধুলোমাখা পথ- যেখানে আজ কাঁচা পাকা রাস্তা, খসে পড়া স্কুলের দেয়ালে এখন চুনের রং, অবারিত ক্ষেতের মাঠ, রোববারের হাট, পূর্ব-পশ্চিম পাকিস্তান, যুদ্ধ, সংগ্রাম, দেশ ভাগ, কোথায় বাবা, বাবার সেই মুখখানি ...
.................................................................................
তার গলাটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে এসেছে , চোখটাও ঝাপসা, চশমাটা একবার খুলে মুছে নিতে দেখলাম।
বিষন্নতায় ডুবে থাকা মানুষটাকে কেমন জানি অগোছালো মনে হচ্ছিল, যতবারই কারণ জিজ্ঞেস করেছি এর আগে, এড়িয়ে গিয়েছে। কোথাও যেন খুব একটা বিষয় নিয়ে চিন্তিত নতুবা দুশিন্তা তাকে ভর করে আছে।

এভাবেই আজ যখন মানুষটি বলছিল তার -এ আত্মকথন, অতীত হয়ে যাওয়া জীবনের কিছুটা সময়ের কালক্ষেপণ। সে মানুষটির সামনেই আমি, বলা যায় মুখোমুখি দুজনে। অতীত খুঁজে ফেরা এ মানুষটির সামনে আমাদের বর্তমানকে বড্ড অসহায় মনে হল, তাইত স্বান্তনা দেবার মত সত্যি কোন সাহস আমারও ছিলনা।
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
স্মৃতিকথামূলক এ লেখাটি আজ উৎসর্গ করা হল আমার বাবা'কে।
বাবা’র জীবনের সাথে জড়িয়ে থাকা প্রত্যেকটি মানুষের অবদানকে কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, তার কর্মজীবনের সহযোগী, যুদ্ধের সহযোদ্ধা এবং সর্বপোরি পারিবারিক ও সম্পর্কযুক্ত সকল অস্তিত্বের প্রতি রইল সালাম। তাঁর সন্তান এবং পরিবারের পক্ষ হতে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28830077 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28830077 2008-08-12 13:25:43
জন্ম স্মৃতি
একটি শিশুর আবির্ভাব, একজন বাবা-মায়ের অহংকার, একটি পরিবারের নতুন মুখ, সবকিছুতেই ঘিরে থাকে একটি জন্ম, আর সে জন্মের উপলক্ষ একসময় ছিলাম আমি, আপনি বা আমাদের মতনই কোন সন্তান। মনে পড়ে কি সেই প্রথম পৃথিবীর আলো দেখা, চাদড়ে মোড়ানো নরম শরীরখানি, আলতো আদরে মায়ের প্রথম চুমু, মায়ের শরীরের প্রথম উষ্ণতা, তাঁর বুকের দুধের স্বাদই প্রথম পান, আরো কত সব স্মৃতি কিন্তু তা সবই হয়ত বাবা নয়ত মায়ের কাছ থেকে স্মৃতি কথন হিসেবে শোনা।

আমার ঘটে যাওয়া জন্ম স্মৃতিগুলো পুরোটাই শোনা আমার মায়ের কাছ থেকে। যখন বুঝতে শিখেছি তার পরের সময়টাতে ম কুবার বলেছেন সেসব দিনের কথা, ততবারই মুগ্ধতা নিয়ে শুনেছি আর তাকিয়ে থেকেছি মায়ের পবিত্র মুখটার দিকে, অপলক চোখে, যেখানে একবারও চোখের পলক পড়েনি।

জন্ম ময়মনসিংহ শহরে। সন ১৯৮২। বাবার চাকুরির সূত্র ধরেই ওখানে তখন থাকা। ঠিক জন্মের সময়টাতে বাবা পাশে থাকতে পারেননি, কাজের সূত্রতায় বাহিরে অবস্থান করছিলেন। জন্মক্ষন এল, যখন পৃথিবীর আলো সমস্ত মুখটার উপর এসে পড়ল ঠিক বাহিরে তখন আলো আধারির খেলা, সময়টা ঠিক যখন মাগরিবের আযান পড়ছে। দিন দশেক পর, জানা গেল শরীরে বেঁধেছে নিউমোনিয়া। এতটুকুন ১০ দিনের বাচ্চার নিউমোনিয়া, মা যেন অল্পতেই হোঁচট খেলেন। তখনকার সময় ডাক্তাররাও বেশ শংকিত ছিলেন, সরকারী হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা এই আমার শরীরের মানুষটি যখন জীবন-মৃত্যুর ঠিক সন্ধিক্ষনে, হাজারো শংকা যখন একজন মা'কে বারবার আহত করছে সে মায়ের কথা আর কি বলব !

এভাবেই এক মাস, দেড় মাস যখন দু-মাস ছুয়েছে প্রায় তখনও হাসপাতালে, মেডিকেল কলেজ হওয়ায় প্রায়ই ছাত্র-ছাত্রীদের এক্সপেরিমেন্ট অবজেক্ট হতে হয়েছিল। মা দিতে চাইতেন না, তবুও। এ কটা মাসে মা গোসল করতেন সপ্তাহে একবার, তার কি ধারনা হয়েছিল তার কোল ছাড়লেই মারা যাব। একদিন মা প্রায় বিরক্তই হয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রায়, কারণ জানতেন মারা গেলে মেডিকেল থেকে কখনো লাশ ফেরত দিবেনা ! এক ডাক্তার প্রায় টেনে হিচড়ে মাকে তুলে আনলেন। আবার নতুন করে দেখা হল আমাকে, যখন প্রেসক্রিপশন লিখছিলেন মা ডাক্তারের পা জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন ভাল ওষুধ লিখতে যেখান থেকে যেভাবে পারবেন সেভাবেই নাকি ওষুধ যোগাড় করবে। ডাক্তার সাহেব তাকিয়েছিলেন একবার মায়ের দিকে আর একবার আমার দিকে।

ওষুধ লেখা হল, এবার কোন সরকারী ওষুধ নয়। জার্মানীর। এক একটি ইনজেকশনের দাম প্রায় ৮০টাকা। বাবার বেতন তখন ৭০০ টাকা প্রতি মাস হিসেবে। প্রয়োজন হবে ৩৫টি ইনেজেকশন। এত টাকা কোথায় পাবে, মাসও প্রায় শেষের দিকে। তাহলে কি তাদের চোখের সামনে থেকে এই দুগ্ধপোষ্য শিশুটি অল্পকদিনের এ পৃথিবী ভ্রমণ শেষে আবার বিদায় নেবে ? অর্থাভাবে অসহায় পিতার অসামর্থতার বোঝা, মায়ের আকুল আকুতি, বিধাতার কাছে একটি চাওয়া - সবকিছু যেন কেমন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছিল।

ওষুধও পাওয়া যাচ্ছিলনা শহর ঘুরে। রাত প্রায় ১০টা, একটা ফার্মেসি বন্ধ করতে চলেছে এ সময় বাবা জোড় করে ঢুকতে চাইলে ডাকাত সন্দেহ করে তারা দোকান বন্ধ করে ফেলে। অনেক অনুনয়ে খুললে সে দোকানেই পাওয়া যায় মাত্র দুটো ইনজেকশন। হাতের টর্চ লাইট, ঘড়ি, পরিচয় পত্র আর মানিব্যাগের গোনা কটা টাকা, এই সম্বলে প্রতিশ্রুতি পরিশোধে আনা হয় ওষুধগুলো।

শর্ত ছিল ইনজেকশন দেবার, হয় বাঁচবে নতুবা মরতে হবে। পাশের বেডের ছেলেটির বাবার অনুরোধ বাবা উপেক্ষা করতে পারেননি। এক অসহায় বোঝে আরেক অসহায়ের দু:খ। কিন্তু, হায় ইনজেকশন দেবার মিনিট ২০এর মধ্যে ছেলেটি মারা গেল। এবার আমার পালা। মা প্রায় পাগল তখন, মায়ের কথা ছেলে এমনিতে মরুক তবু ইনজেকশন দিয়ে মারবেন না। তারপর সে তো অনেক কথা, দেয়া হল ইনজেকশন। অপেক্ষার পালা, ঘড়ির সময় আর আমার স্পন্দন, দুটো যেন সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে চলছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে শুরু হল নতুন জীবনের পথ চলা, যেন জীবনের পর নতুন আর এক জীবন ফিরে পাওয়া।

এভাবে দিতে হয়ে বাকী ৩৪টি ইনজেকশন। যখন হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেবার দিন, ডাক্তার মায়ের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন এই ছেলে বাঁচবে, মায়ের স্নেহে আর আশির্বাদেই বেঁচে থাকবে।

আমার বাবার আদেশ ছিল একটি, জীবনে আর যাই করিনা কেন কোনদিন যেন অন্তত আমার মাকে ধমক কিংবা উচ্চস্বরে কিছু না বলি। কখনো যেন কোনদিনও এক মুহুর্তের জন্য কষ্ট না দেই।

আজ বড় হয়েছি, মা শুধু আমার জীবনে মা-ই নয়, একাধারে বন্ধু, শিক্ষক, সহকর্মী কত না সম্পর্কে আমার মাকে আমার প্রতিটি সময়ে বেঁধে রাখি, যেন সে সম্পর্ক জীবনের তরে কখনো ছিন্ন হবার নয়।

আমার মা, আমার জন্ম স্মৃতি আর আমি - এইতো পাশাপাশি রেখে পথ চলা।

.
.
.
.
.
.
.
.
.
.
সামগ্রিক বিষয়টি আমার 'মা' কেন্দ্রিক, তাঁর স্মরণেই লেখা। উৎসর্গ করা প্রথম পোষ্টটি তাই উৎসর্গ করা হল আমার "মা"-কেই।
'মা' তোমাকে সালাম।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28826420 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28826420 2008-08-02 01:42:52
মতামত প্রত্যাশিত, সহমত হতে পারে আবার দ্বিমতও !
এই যেমন এখনকার কথাই বলি, যদিও অফিসে তবুও কিছুটা ফ্রি অন্যদিন তুলনায়, তাই এ ফাকেঁ নেটে বসে আছি, সিদ্ধান্তটাও তেমন ফ্রি মুডেই নেয়া।

মূল কথায় আসি, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আগামী মাস থেকে যে সব পোষ্ট দিব সব পোষ্টগুলোকেই এই ব্লগের প্রিয় সব জানা, পরিচিত, অপরিচিত, নব্য সব ব্লগারদের নামে উৎসর্গ করব। প্রত্যেকটা পোষ্টে এক একজনকে ধারাবাহিকভাবে উৎসর্গ করা হবে।

বিষয় যাই হোক, যেকোন লেখাই হতে পারে। এভাবেই যাদের সাথে ভার্চুয়ালি দৈনন্দিন জীবনের বেশ খানিকটা সময় পার করি, যেখানে লেখা, যাদের উদ্দেশ্যে লেখা তাদের সবাইকেই আমার লেখার মাঝে ধরে রাখতে চাই। তারা সবাই বেঁচে থাকুন আজীবন - পোষ্টের সূত্র ধরেই।

আপনারা যারা এ পোষ্টটি নিছক কৌতুহল বশত: দেখার উদ্দেশ্যেই ক্লিক করেছেন তারা সহ সবাইকে অনুরোধ করছি আপনাদের মতামত রেখে যাবার জন্য ।

যদিও বিষয়টি আমার একান্ত ব্যক্তিগত, তথাপিত সবার সমর্থনে প্রত্যাশিত কিছুই শ্রেয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28824375 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28824375 2008-07-26 16:16:16
এসএমএস (SMS) নির্ভর প্রতিভা অন্বেষন :: গ্রহণযোগ্যতার বিচারে কতটুকু যুক্তিসঙ্গত ? - “ আপনার পছন্দের প্রতিযোগীকে পরবর্তী রাউন্ডে দেখতে চাইলে তাকে বেশী বেশী এসএমএস (SMS) করুন, যতখুশী তত” : উপস্থাপকের মন্তব্য
- “আপনাকে এবার প্রতিযোগীতা থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে, কারণ আপনার পক্ষে এসএমএস (SMS) -এর সংখ্যা অন্য প্রতিযোগীর তুলনায় অনেক কম” : উপস্থাপিকার মন্তব্য

প্রতিযোগী, উপস্থাপক বা উপস্থাপিকার এমন কোন মন্তব্যে খুব বেশী আশ্চর্য হবার দরকার নেই, কারণ প্রতিভা অন্বেষনের প্রতিযোগীতাগুলোতে বিচারকদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শক-শ্রোতাদের মূল্যায়নের যে সুযোগ করে দেয়া হয়েছে সেখানে কোন প্রতিযোগী তার পক্ষে বেশী সংখ্যক এসএমএস (SMS) চাইতেই পারে, আর কম সংখ্যক এসএমএস (SMS)-এর কারণে যদি কোন প্রতিযোগী প্রতিযোগীতা থেকে বিদায় নেন তা খুব বেশী ব্যাতিক্রম কিছু নয়।

প্রযুক্তির বিকাশে মুঠোফোনের কল্যানে আপনারই দেয়া একটি বা দুটি বা ততোধিক এসএমএস (SMS) একজন প্রতিযোগীর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম। এটা বর্তমান বাস্তবতা কিন্তু তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা প্রশ্ন সাপেক্ষ ? পশ্চিমা সংস্কৃতির কল্যাণেই বলি আর পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোর আদতে গড়া আমাদের এ আয়োজনকে আরও বেশী অর্থবহ ও সার্থক করে তোলার জন্য আয়োজকরা এসএমএস (SMS) প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে থাকেন। যখন আপনি একজন দর্শক বা শ্রোতা হিসেবে একজন প্রতিযোগীকে এসএমএস (SMS) করছেন, সেক্ষেত্রে আপনি একজন বিচারক, বিচারকের আসনে তার প্রতিভাকে মুল্যায়নের স্বার্থেই আপনার করা এসএমএসে (SMS) প্রতিযোগীর ফলাফল মুল্যায়িত হয়। কিন্তু আপনি কোন বিষয়গুলিকে বিবেচনায় আনছেন একটি এসএমএসের জন্য : -

ক) প্রতিযোগীর সঙ্গীতজ্ঞ জ্ঞান ?
খ) তাল, লয়, সুরের সমন্বয় ?
গ) উচ্চারণের শুদ্ধতা ?
ঘ) প্রতিযোগীর সাজসজ্জা ?
ঙ) মঞ্চ উপস্থাপনার দক্ষতা, ইত্যাদি ?

হয়তবা এ বিষয়টির সাথে একমত হবেন, উপরোক্ত বিষয়গুলির সবগুলি নিশ্চয় কেউ মাথায় নিয়ে আর এসএমএস (SMS) করেন না, তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় আপনি যে মূল্যায়নের ভিত্তিতে একজনকে নির্বাচন করছেন, সে ভিত্তিটাই বা কি? সাময়িক উচ্ছাসবোধ, আকর্ষণবোধ, ভাল লাগা বা গানের কন্ঠ ও সুরকে ব্যতিক্রমী মনে হওয়া, মানবিকতা ইত্যাদি, তাহলে এই ? ব্যাস এতটুকুই ?

প্রশ্নের সঠিকতা নিরুপন স্বার্থে নয় বরং কিছু প্রস্তাবনাকে এভাবে ব্যক্ত করা যেতে পারে : -

প্রথমত : একজন বিচারক যদি একজন প্রতিযোগীকে মূল্যায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বর প্রদান করতে পারেন তাহলে সেখানে দর্শক-শ্রোতা কিভাবে সেই প্রতিযোগীকে মূল্যায়নের জন্য একাধিক এসএমএস (SMS)-এর অপশন পাবেন ?
- একজন দর্শক বা শ্রোতা সর্বাধিক একজন প্রতিযোগীকে একটি এসএমএস (SMS)-ই করতে পারবে, একটির বেশী - কে গ্রহণযোগ্য করা উচিত নয়।

দ্বিতীয়ত : বিচারকদের নম্বর ও প্রাপ্ত এসএমএস এর উপর চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারণ হয়।
- অবশ্যই বিচারকদের গ্রেডকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত, সেখানে এসএমএস (SMS)এর মূল্যায়ন সেখানে থাকতে পারে কিন্তু তা একটি শতকরা আনুপাতিক হিসেবের বেশী নয়।

তৃতীয়ত : প্রতি বছরই এরকম আয়োজনে বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিভা বেরিয়ে আসছে ঠিকই, কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখা যায় বছর না ঘুরতেই পিছনের কয়জন শিল্পীকে কতজনই বা মনে রাখছে ? বা কতজনই নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সমর্থ হচ্ছে ?
- সে আলোকে কিছুটা সময় দেয়া উচিত, অর্থাৎ এরকম আয়োজনকে প্রতি বছরের পরিবর্তে বছর তিন অথবা তারও চেয়ে কিছুটা সময় পর আয়োজন করা হলে ভাল।

এভাবে, সমালোচনার কাঠগড়ায় যদি কঠিন শাস্তি হিসেবে কখনো অভিযোগের সুর তোলা হয় “এসএমএস টেকনিক-টা তো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বা আয়োজকের একটি হিউজ ইনকাম সোর্স” বা “এসএমএস বাণিজ্য” নামে আখ্যায়িত করণের মধ্য দিয়ে - দ্বিমত হবার আশংকাও উড়িয়ে দেয়া যায়না, তবুও আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় আয়োজক সংশ্লিষ্টরা নিশ্চয় এত বড় আয়োজনকে সামান্য এ স্বার্থে নিজেদের অর্জন ও আস্থাকে বিলিয়ে দিতে চাইবেন না।

আমরা প্রযুক্তির পক্ষে, গঠনমূলক কোন আয়োজনের পক্ষে, সে সূত্রেই এ ধরনের প্রতিভা অন্বেষনের কোন উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই, ধন্যবাদ জানাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়োজকদের এবং সমর্থক হিসেবে সকল শ্রেনীর দর্শক ও শ্রোতাদেরকে।

প্রত্যাশা থাকবে এদেশের প্রতিভা সংখ্যায় বড় নয়, গুণে গুণান্বিত হবে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28822630 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28822630 2008-07-21 15:51:29
হারিয়ে যাওয়া সেই সময়, সময়ের সন্ধানে -- অবন্তী, নীলিমা আর অবন্তী’র বাবা

- বাবা, কি ভাবছ তুমি ?
কই কিছু না তো মা !
- নীলিমা আন্টি কি এখনও ওখানে ?
জ্বী মা, ডাক্তারদের রুমে আছে
- কি হয়েছে বাবা ? তুমি কিন্তু আমাকে বলনি এখনও !
কোথায় মা, কিছু হয়নি তো ! সব ঠিক হয়ে যাবে
- আচ্ছা ঠিক আছে ..


ওকে মিথ্যে বলতে ইচ্ছে হচ্ছিল না, তবুও এতটুকুন মেয়ে রোড একসিডেন্ট কি তা সে বোঝে ..
অবন্তী, আমার মেয়ে, ছোট্ট একটা মেয়ে - ওকে নিয়েই আমার সংসার, আমরা দুজনেই এ সংসারের মানুষ, সুখ - দু:খ এ দুজনকেই ঘিরে, আর বাকী একজন ? ওর ‘মা’ ? বলছি .......


= আন্টি, আন্টি
- কেমন আছ মামুনি ..... কাদঁছ কেন ? আমি তো এখন সুস্থ ..... এই দেখ
= তুমি সুস্থ হলে হাসপাতালে কেন !
- এই ফুল কার ? আমার ! তোমার বাবা কোথায় ?
= বাহিরে আছে, আসতে বলব !
- না! তুমি আমার কাছেই থাক


যা বলছিলাম, অবন্তীর মা, অবন্তীর যখন বছর ১, অতটুকুন বয়সে এ দুধের শিশুকে ফেলে ওর মা ছেড়ে গিয়েছিল, সে যেতে চেয়েছিল তাই আর বাধা দেইনি, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক একটা সমস্যায় ওদের পরিবার আমাদের এ সম্পর্কটাকে মেনে নিতে পারছিলনা, কিন্তু ততদিনে যে সময় গড়িয়েছে তখন অবন্তী পৃথিবীর আলো দেখার পথে। বেশ কয়েকবার আবোরশন করার চেষ্টাও করেছিল, অবশেষে, অনেক অনুনয়, বিনয় আর অনুরোধের পর ....... সে চলে গেলে এতটুকুন মেয়েকে কিভাবে, কোথায় ... সে দুশ্চিন্তায় .... দিনের পর দিন ........


- কি ব্যপার, আজ অবন্তীকে নিয়ে এলে না যে ?
বাহিরে প্রচন্ড বৃষ্টি ছিল, ওর আবার ঠান্ডার দোষ আছে, একটুতেই ..
- তাই ? না কি ...
না, তোমার কাছ থেকে কখনই ওকে আড়াল করিনি
- তাহলে মেয়েটাকে এভাবে কেন কষ্ট দিচ্ছ ?
হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিচ্ছ কবে ?


নীলিমা ? পেছনের কথার রেশ ধরেই বলি, যখন অবন্তীর মা চলে গেল, আমি প্রায় দিশেহারা এতটুকুন মেয়েকে নিয়ে ......, আমার বাবা-মা-ও তখন পুরোনো শহরে থাকেন, এ শহরে আমি প্রায় একা। অবন্তী’র যেবার অসুখ হল, সে হাসপতালেই নীলিমা’র সাথে পরিচয়।.সেখান থেকেই অবন্তী হয়ে উঠে নীলিমা’রই একজন । নীলিমা পেশায় একজন ডাক্তার।


- ডিসিশন-টা তহলে ফাইনাল, চলেই যাবে ?
কেন যেতে চাচ্ছি, একবারের জন্যেও কি বুঝতে পারনা ?
- তুমি চলে গেলে নীলিমা অনেক একা হয়ে যাবে, ওর মা চলে যাবার পর তো ....
নীলিমাকে কষ্ট তুমিই দিচ্ছ, নিজেকে যেভাবে দিয়েছ এতদিন
- আমি?


নীলিমা আন্টি, তুমি কি সত্যি চলে যাবে ? বাবা বলনা আন্টিকে আমাদের সাথে থেকে যেতে ..
নীলিমা তাকিয়ে থাকে, অবন্তী আর অবন্তী’র বাবার দিকে .......



নীলিমা’র একটা ফোন আসে, ও ফোনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে
অবন্তী অপলক চেয়ে থাকে নীলিমা আর তার বাবার দিকে ....... 

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28820581 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28820581 2008-07-15 17:01:57
অদম্য মেধাবীদের সাফল্যকথা - ওরা যেন না হয় ‘শিক্ষা সুযোগ বঞ্চিত’
আমি তাদের কথাই বলছি, যাদের খুব সাধারণ ঘরে বাস, খুবই সাধারণ- হয়ত এ আধুনিক আলো সজ্জিত সভ্যতায় অনেকটা অনভ্যস্তও তারা। পরিচয়ে তারা শিক্ষার্থী- কিন্তু আদতে সব সাধারণ শিক্ষার্থীর মত যে তারা নয়, জীবন সংগ্রামের যুদ্ধে যাদেরকে প্রতিনিয়ত কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, সে বাস্তবতাকেই সংঙ্গী করেই তাদের পথ চলা, এ চলাতেই যোগ হয় শিক্ষা জীবন, তাতে তারা হেরে যায়না, জিতে, জয়ের মত করে জয়। যে জয়েরই কথা প্রকাশ করা হয় পাতায় পাতায়।

ওরা এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে ওদের সে সংগ্রামের কথাই না হয় জানুন :- কুপিতে তেলের অভাবে পড়াশোনা করতে হয়েছে দিনের আলোয় তাও সব কাজ শেষে, ফরম পূরনের টাকা আনতে হয়েছে সুদে, রিকশাও পর্যন্ত চালাতে হয়েছে কাউকে, বন্ধুর বই ধার করে করতে হয়েছে পড়াশোনা, টিউশনি, গ্যারেজে হাড় ভাঙা খাটুনি - সংসার চালানোর ভার যখন এদের মাথায় চলে আসে এ বয়সে তখন কি তাদের শুধুই শিক্ষার্থী-ই বলবেন ? না সংগ্রামী শিক্ষার্থী ?

স¤প্রতি বললে ভুল হবে, প্রচলনটা শুরু হয়েছে বেশ অনেক আগেই, দেশের প্রথম পাবলিক পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশের পর থেকেই পত্রিকার পাতা আর মিডিয়ার স্ক্রীনে চলে আসে এসব শিক্ষার্থীদের নাম আর ছবি। দেখানো হয় তাদের কৃত সাফল্য। এ সাফল্য পেতে যে এই শিক্ষার্থীকে কতটা কষ্ট, শ্রম দিতে হয়েছে সেসবের পিছনের অজানা কাহিনীর মর্মস্পর্শী লেখা বা ভিডিও চিত্র। তা হয়ত পড়ে বা দেখে আমরা কেউ আবেগকে মূল্য দেই আবার কেউ তুচ্ছ এ আবেগকে অগ্রাহ্যও করি।

খেয়াল করার মত বিষয়, শহরের বাবা-মায়েরা যেভাবে উৎকন্ঠা থাকেন তাদেন সন্তানদের সু-শিক্ষা নিয়ে সেখানে ওদের বাবা-মা এ বিষয়ে কতটুকুই বা সচেতন। স্কুল-কোচিং-এ পড়ছে ছেলে বা মেয়ে আর বাহিরে অপেক্ষা করছে তাদের মা-বাবা। পরীক্ষার হলগুলোতে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা না যতটা দু:শ্চিন্তায় আছে কেন্দ্রের বাহিরে অপেক্ষমান বাবা-মা’এর দু:শ্চিন্তাই যেন বেশী। ক্লাস - কোচিং- প্রাইভেট কতই না আয়োজন। সেখানে অবেহেলিত এ শিক্ষার্থীর কতজনই বা এসব সুযোগের বিন্দুমাত্র পেয়ে থাকে ?

দেশের যে এই মেধা সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে, তাদের অনেকেই হয়ত এত ভাল রেজাল্ট করার পরও অর্থাভাবে পরবর্তী উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ হারাবে, পড়াশোনা সুযোগ হতে বঞ্চিত হবে। এতে কাদের ক্ষতি হচ্ছে সে বিষয়টি কি আমরা একবার উপলব্ধি করতে পারি ? খবরের কাগজে শুধু শিরোনামই হয়, ছবি ছাপা হয়, এই এতটুকুই, এই এতটুকুনই কি আমাদের সব দায়িত্ব শেষ ? হয়তব না আবার হয়তবা তাই।

সমাজের অর্থবান বা বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থা যদি তাদের শিক্ষা সাহায্যে এগিয়ে আসে তাহলে এদের মত শিক্ষার্থীদের জীবন আলোকিত হতে পারে, সমাজ - জাতি পেতে পারে যোগ্য জনসম্পদ। শুধু সময়ের উপলব্ধিতেই নয় বরং এদের কৃতিত্বকে ধরে রাখার জন্য প্রয়োজন একটি নিরবিচ্ছিন্ন সামগ্রিক প্রয়াস, যেখানে অংশগ্রহণ থাকবে আমি, আপনি এবং আমাদের এই সমাজ মানুষই।

ওদের মেধা আর ওদের শ্রমকে শ্রদ্ধা জানাই। যার সমন্বয়ে ওদের জীবন গড়া। জীবন যুদ্ধে ওদের জয় অব্যাহত থাকুক সে কামনাই করি।




কেউ যদি আকষ্মিক প্রশ্ন করে বসেন, এই পোষ্ট লেখার আগে এ পোষ্ট লেখক কতজন এরকম শিক্ষার্থীর সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন ? উত্তরটা খুব সাধাসিধে:- “আমার ভাই সে সাধ্য ছিলনা কিন্তু সাধ ছিল, এর চেয়ে বেশী কি বলতে পারি। এখানে না হয় নিজের কথা না-ই বা বললাম।”
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28816979 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28816979 2008-07-05 13:03:31
কোথায় 'দারোয়ান' আর কোথায় 'মাষ্টার মশাই' , দেখুন তো, কান্ডটাই-না কি একখান !
আচ্ছা আমার এ ব্লগের যে পাঠক বাবুরা এতক্ষন যে, মাষ্টার মশাইয়ে দেয়া তার ক্লাসরুমের ঠিকানা দিলেন তা কি কেউ একদমে বলতে পারবেন ? অর্ধ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি 'সম্ভব না', তাহলে বুঝুন মাষ্টার মশাইয়ের এ ছাত্রের কি অবস্থা হয়েছিল সেদিন, না পেরেছি আবার জিজ্ঞেস করে নিতে, পাছে মাষ্টার মশাই ভেবে বসে, 'রাম হদ্দ-গদর্ভ ' কোথাকার !

আজই সেদিন, শুক্রবার - সকালেই বেরিয়েছি, আবার প্রাইভেট শেষে অফিসও আছে, তাই তাড়াটাও ছিল পিছু পিছু। গন্তব্যে পৌছেছি বেশ আগেই, চায়ের দোকান, সোজা রাস্তা, হোটেল, বায়ের গলি, লাল দালান কোনটাই খুজে নিতে বেগ পেতে হয়নি কিন্তু সমস্যাটি তখনই বাধল যখন দোতলা বাড়ীর সামনে এসে দাড়িয়েছি। বাড়ীটার ঠিক বাইরের ফটকে একটা সাদা কাগজে ছাপা আছে ...

- "এখানে একাউন্টিং প্রাইভেট পড়ানো হয়" যোগাযোগ : দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন, ঠিকানা ......... ইত্যাদি।"

প্রথমেই আটকে গেলাম, এ আবার কেমন মাষ্টার মশাই, প্রাইভেট পড়াবেন তিনি আর যোগাযোগ করতে বলছেন দারোয়ান সাহেবের সাথে। যাই হোক এতটা বিচলিত না হয়ে দারোয়ার শরীফ ভাইকে খুজতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। বাড়ীর দরজা নেড়েও তেমন কোন সাড়া না পেয়ে রাস্তার একটু সামনের দোকান গুলোতে দারোয়ার শরীফ সাহেবের খোজে অভিযান শুরু করলাম। এই নামে নাকি কোন দারোয়ানকেই কেউ চেনেনা। মহা মুশকিলে পড়লাম। বিপদও বটে। কতক্ষনই বা এভাবে খোজাখুজি করা যায়। আবার ওই দোতলা বাড়ীর গেটেই অপেক্ষা করতে লাগলাম। এক বয়সী লোক পেছন থেকে এসে জিজ্ঞেস করলেন কাকে খুজছি, 'দারোয়ান শরীফ'- ভাইকে, তিনি চলে গেলেন। তার অল্পক্ষনের মধ্যেই ক্লাসের এক ছাত্রের সাথে দেখা। ভালই হল, ওকে নিয়েই দোতলা বাড়ীর ঠিক পাশেই মাষ্টার মশাইয়ের ক্লাসরুমটা পেয়ে গেলাম।

এখন বেশ স্বস্তি লাগছে। মাষ্টার মশাইকে তার ক্লাসরুম খুজে পাওয়ার ইতিবৃত্ত জানালাম। এও জানালাম আজকাল মাষ্টার মশাইয়দের ব্যস্ততার দরুন বোধ হয় দারোয়ানদের সাথে যোগাযোগের জন্য বলে। মাষ্টার মশাই কিছুটা ক্ষেপে গেলেন, বুঝতে পারলামনা। বললাম গেইটের সাদা কাগজের সাইনবোর্ডের কথা। কিন্তু ....... কিন্তু ....... চোখ, কান তখন আর জায়গায় নেই, সব মাথায় উঠে গিয়েছে। এ কি দেখছি আর শুনছি ! ওটা নাকি আমার মাষ্টার মশাইয়েরই সাইনবোর্ড। তাহলে দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন-টা কে ?

জানতে পারলাম মাষ্টার মশাইয়ের নাম "দেওয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন "
....................................................................
টাইপিং ভুলে তা হয়েছে "দারোয়ান মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন"

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28814274 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28814274 2008-06-27 16:30:04
বিজ্ঞাপন দোষে দুষ্ট একটি প্রাকটিক্যাল অভিজ্ঞতার খসড়া
এখানে আসলে দুষ্টুমী শব্দটি না ব্যবহার করে যদি ফাইজলামী, বিটলামী কিংবা শয়তানী এ টাইপের কিছু ব্যবহার করতাম তাহলে বয়সের সাথে প্লাস লিঙ্গের সাথে একটা মানানসই হত।

থাকগে, পাঠক মশাইয়েরা যে যেভাবে নিবেন সেভাবেই কার্যসিদ্ধি হবে।

হঠাত করেই বিষয়টি মাথায় চেপে বসল, কোন ভাবনা ছাড়াই চিন্তা হলে যা হয় আর কি, অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত। মোবাইল থেকে ফোন করে বসলাম একটি মোবাইল কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়ারে। সুকন্ঠী কন্ঠের কোন নারী নিশ্চয় ফোন ধরবে - সেরকমই প্রত্যাশা করছিলাম। তাই হল .......

- শুভ সকাল। জ্বী স্যার বলুন আপনাকে কিভাবে সহযোগিতা করতে পারি ?
[কিছুক্ষন নিশ্চুপ রইলাম, ইচ্ছে করেই]
- হ্যালো স্যার, আপনি কি শুনতে পারছেন ?
জ্বী পারছি, আপনি কে বলছেন ?
- জ্বী বলুন, আপনার সমস্যাটি কি ?
কে বলছেন আপনি ?
- জ্বী
আপনি কি সৈকতের বোন বলছেন ? আপু কেমন আছেন, সৈকত ভাইয়া কিন্তু দারুন দুষ্টু
- মানে ? সরি স্যার আপনার সমস্যাটি বলুন।
আপু, আমি কিন্তু ইয়েস বাটনই প্রেস করেছি
- দু:খিত আপনি ভুল করছেন, আপনি কি সঠিক নম্বরে ফোন করেছেন ?
ও আপনি সৈকতের বোন না, তাহলে কি আপনি শাহেদ ভাইয়ার বৌ বলছেন ?
- সরি, আপনি নিশ্চয় কোথাও ভুল করছেন
ভাবী, আসসালামু আলাইকুম, আছেন কেমন ? শাহেদ ভাই ভাল আছেন ?
- হ্যালো, আপনি আবারো ভুল করছেন, আপনি যে কারণে ফোন করেছেন প্লিজ কারণটি বলুন
হ্যালো, আপনার কথা ঠিক মত শুনতে পারছিনা [মিথ্যে কথা, ঠিকই শুনতে পারছিলাম]
যাই বলেন ভাবী, শাহেদ ভাইয়ের যে ’ইয়ে’ রোগে পাইছে, তাতে আপনি না থাকলে আসলেই যে কি হত ..
- হ্যালো, আপনি সীমা অতিক্রম করছেন
আচ্ছা বাদ দেন, বলেন তো আমার ইয়েটা কত হইছে
- ইয়ে, সরি
ইয়ে মানে ইয়ে, আমার ইয়েটা, আপনারা তো আমাদের কাছের মানুষ, ইয়েটা বুঝেননাই
টেলিভিশনে ইয়ে বললে বুঝেন, এখন বুঝেন না ?
- দু:খিত, কিছু মনে করবেন না, আমি ফোনটি আমার উর্ধ্বতনকে ট্রান্সফার করছি

[কিছুক্ষন অপেক্ষার পর একজন পুরুষের কন্ঠ শুনতে পেলাম]

- জ্বী বলুন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি ?
আরে আপনি জলিল সাহেবের নাতি না ? নানা-ই কেমন আছেন, তারে সালাম দিয়েন
- জ্বী, আমি জলিল সাহেবের নাতি নই, আপনি কি জানতে চান সেটা বলুন
আচ্ছা ভাই, আপনি তো আমাদের চশমা, আপনি কি আমার ইয়েটা কত হইছে দেখতে পারবেন ?
- দু:খিত, আপনি স্পষ্ট করে বলুন
আচ্ছা, এই যে আমি হেল্প লাইনে কল করছি, এতে কি আমার বিল কাটছে কি ?
আচ্ছা, এটার কল চার্জ কত ?
এর কি কোন পিক - অফপিক আওয়ার আছে ? রাত ১২টার পর ফোন করলে কি সুপার অফপিক পাওয়া যাবে ?
বাদ দেন,এই যে এতক্ষন কথা বললাম, আমার বিল কত আসছে ভাই সেটাই বলুন ?
- জ্বী আপনাকে আমি এক্ষুনি জানাচ্ছি ...

........ ততক্ষনে লাইনটি কেটে দিয়েছি ........


[দৃ:খিত পোষ্টের বিষয়বস্তুর সাথে যাদের খাপখাওয়াতে একটু সমস্যা হচ্ছে তাদের জ্ঞাতার্থে , বিশেষত যারা দেশের ভিতর অথবা বাহিরে থাকেন অথচ আমাদের মোবাইল কোম্পানীগুলোর একটির এরকম বিজ্ঞাপনটি দেখেননি তাদের একটু কষ্ট হবেই বৈকি, বিষয়টি সহজসাধ্য করার জন্য কিছু তুলনা তুলে ধরলাম ................
সম্প্রতি সেই মোবাইল কোম্পানীটি তাদের কাষ্টমার কেয়ার সার্ভিসকে আরো গ্রহনযোগ্য এবং তা কতটুকু সাহায্যকারী তা বুঝানোর জন্য যে থিম ব্যবহার করেছেন তার ব্যবহারটি নিম্নরুপ :

বিজ্ঞাপন ১ : সৈকত চরিত্রটি ছোট্ট একটি ছেলের তার বোনের চরিত্রে রয়েছে একজন মেয়ে যিনি সেই কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়াবের একজন এক্সিকিউটিভ। সৈকত মাটির ব্যাংক থেকে টাকা বের করতে গিয়ে ব্যার্থ হলে বোন এগিয়ে আসে এবং জগৎজয়ী হাসি মুখে তাকে সাহায্য করে, এবং পরবর্তীতে এরুপেই মেয়েটি কাষ্টমার কেয়ারে থেকে সকল কাষ্টমারকে আন্তরিকতার সাথে তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে দেখা যায়। কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।

বিজ্ঞাপন ২ : শাহেদ ও শাহেদের স্ত্রী, শাহেদ সকালে অফিসে যাবার মুহূর্তে সবকিছু ভুলে ইয়ে ইয়ে করতে থাকে, এই যেমন তার কলম, চার্যার, মানিব্যাগ, বাচ্চার জন্মদিনও পর্যন্ত, কিন্তু শাহেদের স্ত্রী, যিনি অত্যন্ত তার কাছের মানুষ তিনি ঠিকই বুঝতে পারেন তার ইয়ের রহস্য, এবং তাকে সেভাবেই সহযোগিতা করেন, উল্লেখ্য শাহেদর স্ত্রী একজন কাষ্টমার কেয়ারের এক্সিকিউটিভ। তো ঠিক সেভাবেই তিনি তার কাষ্টমার কেয়ারের দায়িত্ব পালনের সময় সকল কাষ্টমারের ইয়ের অর্থ বুঝতে সক্ষম হন এবং সেভাবেই তাদেরকে সাহায্য করেন। কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।

বিজ্ঞাপন ৩ : জলিল সাহেব মূল চবিত্রের কেউ না হলেও তার নাতি কেন্দীয় চরিত্রে যিনিও যথাক্রমে একজন ওই কোম্পানীর কাষ্টমার কেয়ারের এক্সিকিউটিভ। নাতি খুব ব্যস্ত মানুষ, ফোনে কথা বলতে বলতে জুতোর ফিতা লাগানোর সময় পর্যন্ত তার হয়না, এমনকি নাস্তার পর্বও খুব সীমিত, তড়িঘড়ি করে বের হচ্ছিল, নানুকে বিদায় সম্ভাষন জানিয়েও কিন্তু নানুর সামান্য মৃদু স্বরে ব্যাথাতুর কন্ঠ তার চোখ এড়ায়না, শত ব্যস্ত হলেও তার নানুকে তুলে ধরে এবং পর্যাপ্ত সময়ও দেয়। কারণ কাছের মানুষ দ্বারাই শুধু এমনটি প্রত্যাশা করা যায়।

উপরোক্ত তিনটি বিজ্ঞাপনের আলোকেই পোষ্টটি লেখা হয়েছে যা পুরোটাই কল্পনাপ্রসূত]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28810625 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28810625 2008-06-17 18:03:43
যাকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি তিনি একজন মানুষ, খুব সাধারন কিন্তু অসাধারণ পরিচয়টা কর্মসুত্রে। বেশ ক’বার এসেছে এর আগে, কথা হয়েছে, কাজের কিংবা কাজের বাইরেও। অনেকদিন ধরেই এ অফিসে তার যাতায়াত, আর আমি যখন থেকে তাকে দেখে আসছি তাও প্রায় বছর চারেকের উপর হবে।

মানুষটাকে এক নজর দেখেই যতটুকু বোঝা যায় বেশ আমুদে। বয়স কত হবে, অনুমান পঞ্চান্ন'র উপর ছাড়া কম নয়। গল্প করতে কিংবা জমাতে দুটোতেই বেশ উপভোগ করে। তাই যতবারই এসেছে ঠিক ততবারই কাজের কথার চেয়ে তার পারিবারিক, সাংসারিক বা দেশ, রাজনীতি ধর্ম কোন বিষয়ই উপেক্ষিত হতনা। এতে যে বিরক্ত হতাম না তাও নয়, তবুও কর্পোরেট ক্লায়েন্ট সার্পোট বলে কথা, হাসি মুখে হ্যা, হু, আহা, কি অবস্থা ইত্যাদি বিষ্ময়বোধক বা প্রশ্নবোধক শব্দ জুড়ে দিয়ে বাক্যের সমাপ্তি টানতে চাইলেও খুব বেশী সফল হয়ে উঠতনা।

ইদানিং, মানুষটা আগের তুলনায় অফিসে বেশ আসে, আর সাথে বেড়েছে আমার ঝক্কিও। কিছু প্রশ্নের তো উত্তর দিতেই হয়, এইতো সেদিন এল কোন কাজ নিয়ে নয়, স্রেফ কিছু সময় পার করা। আমিও কিছুটা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতাম, আর কতইবা।

রীতিমত বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়াল। কিছুতেই এড়ানো যায়না, আমিও যথাসম্ভব তার কাছ থেকে নিজেকে লুকিয়ে রাখার চেষ্টাই করতাম। এই যেমন সেদিন সে অফিসে এল, ডেস্ক থেকে উঠে বাহিরে অনেকক্ষন কাটিয়ে তারপর ফিরলাম। স্টেশন বাসে উঠেছি মাত্র, পেছনে ফিরে দেখি তিনি, আস্তে আস্তে নেমে এলাম - গন্তব্যের অনেক আগেই। বাসায় ফিরছি, হাটার গতিও বেশ ছিল আমার, হঠাৎ দেখি তিনি সামনে, পিছিয়ে এলাম, তিনি রাস্তা পার হলে তারপর এগিয়ে গেলাম। রেস্টুরেন্টে তখন বন্ধুদের সাথে, হঠাত দেখি তিনি ঢুকছেন, তাড়াতাড়ি করে ওদেরকে বসতে বলে বেরিয়ে এলাম, আর ঢোকা হয়নি। এভাবেই যতটা সম্ভব।

কিছুদিন কি হয়েছে, মনটা বড্ড বিক্ষিপ্ত, না পারছি কাজে কিংবা পড়াশোনায়ও মন দিতে। সংসারের বড় ছেলে, এমনিতেই হাল টানতে কষ্ট, তারউপর দু-ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ। সবমিলিয়ে হিমশিম খাবার যোগাড়। অফিসের পরিস্থিিিতও ভাল না। কিছু দেনায় জর্জরিত, বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন এ মুহূর্তে কিন্তু কিভাবে ? এক প্রকার নিজের কাছে নিজেই অসহায়।

সেদিন আকাশ জুড়ে ঘন মেঘ ছিল, মাত্র বৃষ্টি নামবে বলতেই বৃষ্টি নেমে এল, আমি আর সেই মানুষটি একই রাস্তায়। উনার কাছে মাত্র একটি ছাতা, মেলে ধরলেন, মাঝে আমরা দুজন, ছাতার প্রশস্তটুকু মেলে রাখলেন আমার উপর, তিনি ভিজতে থাকলেন, কিছু বলতে মন চাইছিল না। চুপ রইলাম। হঠাত সম্বিৎ ফিরে পেলাম যখন তার ঠান্ডা হাতের স্পর্শে জিজ্ঞেস করলেন “কি হয়েছে, কোন সমস্যা? তুমি কিন্তু আমাকে বলতে পার” তার চোখের দিকে তাকিয়ে আজ আর কোন রাগ বা ক্ষোভ কিছুই ছিলনা, বললাম, নিজের জীবনের কথা, কষ্টের কথা, প্রতিদিনের এক টুকরো ব্যাথাতুর সময়ের কথা। যে অনুভূতি কোন আবেগের নয়। সত্য তা ধ্র“ব।

অফিসে পৌছেই তাকে আমার টেবিলে পাই, কিছুটা বিস্মিত, এত সকালে। কুশলদি জানার পর একটি খাম হাতে দিয়ে বিদায় নেবার আগে শুধু বলে গেলেন -
“বাবা তুমি কি মনে কর আমি জানিনা, তবে শুধু কাজের জন্যই নয়, তোমাকে অন্যভাবে দেখি, নিজের ছেলের চেয়ে কোন অংশে কম নয়, যখনই আসি তুমি সুন্দর হাসিতে কথা বল, আপ্যায়ন কর, কতই না ভাল লাগে। হয়ত সম্পর্কে কিছুনা, তারপরেও কি কিছু থাকেনা ? আমি আসলে কোনদিন সাহস করিনি, কিন্তু বোধহয় ভুল হয়েছে, তুমি কিন্তু কিছু মনে করবেনা”
- তিনি চলে গেলেন। দৃষ্টিটুকু আটকে থাকে-যতদূর তাকে দেখা যায়।

টেবিলের স্বচ্ছ কাচের গ্লাসে আকাশটাকে দেখা যায়, মুখ ফিরিয়ে আকাশের দিকে তাকাই “হে বিধাতা, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও, যে মানুষটাকে নিয়ে যা কিছু ভেবেছি তা মুছে দিও, তিনি তো সাধারণ নন অসাধারণ ”




হ্যালো, চাচা কখন আসছেন, সেই কখন থেকে অপেক্ষা করছি
- আসছি বাবা, এই তো মাত্র আর মিনিট পাচ দুরে

তারপরও তিনি এসেছিলেন প্রায় ২৫ মিনিট পর
আকাশটা বেশ শান্ত, সূর্যটাও হেলে পড়েছে, কাচের দেয়ালে সূর্যটাকে এখন অস্পষ্ট লাগেনা

- কখন বেরুবে
এই তো আর কিছুক্ষন, কেন কোন কাজ ?
- না তোমাকে নিয়ে এক জায়াগায় যাওয়ার ইচ্ছে ছিল
সত্যি, তাহলে চলেন, বলেই দুজনে বেরিয়ে পড়ি কোন এক গন্তব্যে

চলি, আমি ও আমার পাশের সেই খুব সাধারণ কিন্তু অসাধারণ মানুষটিকে সঙ্গি করে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28807175 http://www.somewhereinblog.net/blog/prochettoblog/28807175 2008-06-07 17:18:30
বাবা হতে পারা
প্রজেক্টের রিপোর্টের কাজে একবার ওখানে যাওয়া হয়েছিল। সেবারই প্রথম, সেদিন সব বাচ্চাগুলোর মধ্য থেকে ঠিক ও আলাদা ছিল। বেশ কয়েকবারই গিয়েছি প্রতিবারই কাছে ছুটতে আসত, উপহার হিসেবে তো চকোলেকের বক্স থাকতই। কি জানি আমার সব লেখা আটকে যেত, কন্ঠে কোন ভাষা খুজে পেতাম না, তার চোখে দেখেছি জীবনের সরলতা, যে আকুলতা যেখানে চাওয়া - পাওয়ার সীমা এক করা অসম্ভব। ছলছলহীন চোখে তাকিয়ে থাকার অর্থ কি সে শুধু অতটুকুন ছেলেই বুঝত। আমি শুধু বুঝতাম কিছু হয়ত আমাকে পেতে চাইছে আর আমারও কিছু দেবার আছে।

অগ্রাহ্য করতে পারিনি তাইত সবাইকে অনুরোধ করে ওকে আমার কাছে নিয়ে আসি। বড় করতে থাকি নিজের সন্তানের সব ভালবাসাটুকু দিয়েই। জীবনে আর বিয়ে করা হয়ে উঠেনি, তবুও অতৃপ্ত নই। আমার সন্তান এখন বাবা বলে, বাবা বলে ডাকতে শিখেছে। এখন আমি একজন সন্তানের পিতা, পিতৃত্বের গর্ব করে বলতে পারি আমারও একজন সন্তান আছে, যাকে আমি ভালবাসতে পারি, ভালবাসা দিতে পারি, সমস্ত অর্জন, শ্রেষ্ঠত্ব আমার সন্তানকে ঘিরে, সব কষ্টগুলোর মাঝেও সুখকে খুজি শুধু ওরই জন্য, সমস্ত বিষাদের মাঝেও আনন্দের পরশ পাবার চেষ্টা সেটাও আমার সন্তানেরই জন্য।

আমি তার দুধ মা’র কাছে যাই। তার পা ছুয়ে সালাম করে আসি। আমার আর আমার সন্তানের জন্য দোআ নিয়ে আসি। যার ভাগ্যে জোটেন