আমার নিশীথরাতের বাদলধারা, এসো হে গোপনে, আমার স্বপনলোকে দিশাহারা

আমাদের গ্যাছে যে দিন...

১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১১:০৪

শেয়ারঃ
0 0 0

বেলা 9 টা। মেয়েরা দুজনেই বেরিয়ে গেছে বাসা থকে। সরকারী সাপ্তাহিক ছুটির বাড়তি দিনটায় আলম সাহেব একলা হয়ে খুব একটা "একাকী" জাতীয় কষ্ট আজ বোধ করছেন না। বরং মেয়েরা বাসায় থাকলে অতিরিক্ত যত্নআত্তির কারনে যা করতে পারতেন না আজ নির্বিঘনে তাই করতে পারবেন ভেবে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন।

দুইদিন ধরে গান শুনতে পারছিলেন না, সিডিটা নষ্ট হয়েছে মনে হয় ।ঠিক করতে দিতে হবে। তার আগে হঠাৎ করেই পুরনো ট্র্যানজিস্টারটার কথা মনে পড়লো। মেয়েদের বলতেই..."আব্বু, ওইটার তো দি এন্ড হয়ে গেছে, খাটের নিচে ময়লার মধ্যে পড়ে আছে। আমরা কত ট্রাই করেছি ঠিক করার,কিছু হয় না।আমাদের চে বেশী বয়স ওইটার তুমিই না বলেছ? দাঁড়াও তোমাকে সিডিটা তাড়াতাড়ি ঠিক করে দিব। ওকে বাবা? "

আলম সাহেব সম্মত হয়েছিলেন, সিডিটাই ঠিক করতে হবে, এখন কি আর কেউ ক্যাসেটে গান শুনে? তবু আজ মেয়েরা না থাকায় হঠাৎ কি ভেবে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে মেয়েদের ঘরে এলেন। খাটের দিকে তাকিয়ে ছেলেবেলার কোন কিছু চুরি করতে যাবার আগে যেমন একটু দ্্বিধাজনিত লজ্জা লজ্জা হাসি হাসতেন, আজ অনেক দিন পরে তেমনি করে হাসলেন। তারপর এগুলেন কয়েক পা। পায়ে ব্যাথা, নিচু হতে কষ্ট হয়, তবু অনেকখানি ঝুঁকে খাটের নিচে খুঁজে খুঁজে অবশেষে বের করে আনলেন যা খুঁজছিলেন এতক্ষন ধরে।সেই অতি পুরনো ট্র্যানজিস্টার-- তাঁর, তাঁদের।

নিজেই ঝেড়েমুছে পরিষ্কার করেন ট্র্যানজিস্টারটা। নিজের ঘরে এসে সিডিটা সরিয়ে সেখানে রাখেন। কাঁপা কাঁপা হাতে একটা ক্যাসেট ঢুকিয়ে "প্ল্লে" তে চাপ দেন। বাজে না।রেডিও অন করেন, ঘরঘর শব্দ ছাড়া কার্যকরী কিছু শোনা যায় না সেখানেও। একটা মুহুর্ত কাটে, নীরবে। তারপর...নীরবতা অক্ষুন্ন থাকে, তার সাথে ঝরে পড়ে অশ্রু, আলম সাহেবের দুই চোখ বেয়ে। এক ঝটকায় ঝাপসা চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্মৃতি।

নতুন সংসার। বিয়ের বছরেই সেই সংসার আলো করে এলো ফুটফুটে দেবদূত। মাত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরুনো বেসরকারী কলেজের শিক্ষক আলম সাহেব নিজের সাধ্য অনুযায়ী স্বর্গ সাজান, পরী-বৌ আর দেবশিশুকে নিয়ে । সংসারে কেবল খুটিনাটি প্রয়োজনীয় কিছু আসবাব আর হাঁড়ি-পাতিল ছাড়া আর কোন বাহুল্য জিনিস নেই। একদিন পরী-বৌ আবদার করে একটা টিভি কেনার। আরো কিছুদিন অপেক্ষার পরে আলম সাহেব অবশেষে টিভি কেনার টাকাটা জমাতে পারেন। ঠিক হয় একটা ছোট্ট সাদাকালো টিভি কেনা হবে। পরী-বৌটার চোখে আনন্দের ঝিলিক দেখে আলম সাহেবের মনটা ভরে যায়। একসাথে বের হন টিভি কেনার উদ্দেশ্যে। দোকানে গিয়ে দুজনে মিলে দেখতে দেখতে হঠাৎ বৌ বলে আমার টিভি চাই না ! আলম সাহেব অবাক, বলে কি?! লজ্জা লজ্জামুখে বৌ বলে " মিতা, আমাকে ওই ট্র্যানজিস্টারটা কিনে দিবে? আমি টিভি দেখে কি করব? তার চে সারাদিন গান শুনব আর কাজ করব। দুইটা তো একসাথে কেনা যাবে না, তুমি আমাকে ট্র্যানজিস্টারটাই কিনে দাও না !" আলম সাহেব আরো অনেকক্ষন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন বৌয়ের ব্যাগ্র মুখের দিকে। নিজের মনের না বলা ইচ্ছাটা এমন করে মিলে গেলো!

আলম সাহেবর ঘরে হাঁড়ি-পাতিল,খাট-টেবিলের সাথে আরো একটি জিনিস যোগ হলো সেই থেকে--ট্র্যানজিস্টার ! আর গান-পাগল দুজন মানুষের ঘরে রাত-দিন বাজতে লাগলো গান। এরপর কেটে যেতে লাগলো দিন, সেই সংসারে যোগ হলো আরো কত কি! সেই সাথে আরো দুজন নতুন অতিথি।আরো দিন যায়.....একের পর এক...বছর পার হয়ে হয়ে 32 টি বছর ! একসাথে দুইজন....গানে গানে....।

আলম সাহেব পাশে রাখা গামছা দিয়ে চোখের জল মুছেন, আবার ভিজে ওঠে, আবার মোছেন। পুরো ঘরটায় চোখ ঘুরেফিরে তাঁর... এক বছর হলো প্রায়। এখনও আলনায় শাড়িগুলো তেমনি করে রেখেছেন ঠিক যেমনটা সে রেখেছিলো...জুতার স্ট্যান্ডে এখনও সারি সারি সখের জুতা তেমনি করে সাজানো। খানিক আগেই রোজকার মত সব ঝেড়েমুছে রেখেছেন নিজ হাতে। সব রয়ে গেলো...আরো কত কিছু এলো উপলক্ষ্য ধরে ধরে...এমনকি এই না বাজতে চাওয়া ট্র্যানজিস্টারটাও, কেবল সেই ফাঁকি দিলো আমাকে?

আরো দুদিন পরের বিকাল। ছোট মেয়ে ঘরে ফিরে দেখে বাবা গান শুনছে, সেই পুরনো ট্র্যানজিস্টারে ।

"বাবা! এটা কি করে করলে? এটা বাজলো?? ইম্পসিবল ব্যাপার !"

বাবা মিটিমিটি হাসেন, "হয়ে গেলো রে মা কেমনে যেন! দুই দিন ধরে হেডটা মুছামুছি করতে করতে মনে হয়... অনেক দিন ধরে ময়লা জমে ছিলো তো...আবার দ্যাখ রেডিওর সব স্টেশনও ধরছে। বিবিসি শুনতে পারব আবার রেগুলার।"

"কিন্তু বাবা আমরাও তো ওই হেড কত মুছে টুছে ট্রাই...."

মেয়ের কথা আটকে যায় বাবার হাসিমাখা মুখ দেখে।

আলম সাহেবের ঘরে এখন ট্র্যানজিস্টারে গান বাজে, পাশে ঠিক করে রাখা সিডি আর মেয়েদের পিসির গানের তুমুল শব্দকে পরিহাস করেই যেন।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: আমার দক্ষিন খোলা জানলা  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১০:৩৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৫:০৭
হযবরল বলেছেন: এটা একটা সত্য ঘটনা পড়লেই বুঝা যায়। ভাল লাগল ।
২. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: রাসেল, 32 বছর বেশীদিন না ভাই :) ... 1974 সাল ...
তখন ট্র্যানজিস্টার ছিল ...
সম্ভবত 60এর দশকের মাঝামাঝি বের হইছিল ...
ওয়াকম্যান আসছিল 79 তে
৩. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: শুধু সময়টা32 বছর না হলে ভালো লাগতো। 32 বছর আগে বোধ হয় ক্যাসেট নামক জিনিষটাই ছিলো না।
৪. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: চমৎকার।আসলেই সত্য ঘটনা নাকি!
৫. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: এটা আসলেই ট্র্যানজিস্টার না, ক্যাসেট প্লেয়ার বলা ভালো। কিন্তু ওই সময়ে যারা শুনতেন তারা ভুল জেনে বা না জেনে এই শব্দটা ব্যবহার করেন বলে আমিও লিখেছি। আর 32 বছরের যে কথা বলেছি তা আলম সাহেবের বিবাহিত জীবন প্রসংগে ।যদিও এই ক্যাসেট প্লেয়ার কেনার সাথে একই সময়ে উল্লেখের কারনে কথাটা কনট্রাডিক্টরী হয়ে গেছে হয়তো। দু:খিত সেই কারনে।

রাসেল(........), এটা কেনা হয়েছে 1980 সালে। তখন বাংলাদেশে গান রেকর্ড শুরু হয়েছে কিনা জানি না তবে ভারতীয় গান নিশ্চয়ই হয়েছে, যা এখনও আছে আমাদের বাসায়।

ধন্যবাদ সবাইকে পড়ার জন্য। হু, এটা সত্যি ঘটনা।
৬. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
হযবরল বলেছেন: টেরানজিসটর 47 সালে বারডেন , শকলি এন্ড ব্রেটেন এর মাথায় আসে, শারীরীক রুপ পায় 60 এর দশকে। বারডেন এন্ড গং নোবেল পায় 56 তে ফর টেরানজিসটর । ও আবার একলা 72 এ পাইছিলো অতিপিছলার জন্য (সুপার কনডাকটিভিটি)
৭. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: হবে হয়তো, তবে ফিতায় গান রেকর্ড করা শুরু হইছে 80র দশকে। এর আগে এল পিতে গান রেকর্ড হইতো, আমার ভুলও হইতে পারে তবে আমার মনে হয় বাংলাদেশে প্রথম রেকর্ড করা টেপ 83র দিকের ঘটনা।
৮. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: আর 60এর দশকে সেই ট্রানজিস্টার আবিস্কার হইছে ঐটা দিয়ে গান শুনা যাইতো না, ট্রানজিস্টার রেডিও মানে হইলো ট্রানজিস্টার প্রযুক্তি ব্যাবহার করা রেডিও, আগের ঢাউশ রেডিওর সাথে ঐটার পার্থক্য ছিলো সাইজে, এখন সেমিকন্ডাকটর ট্রানজিস্টার পাওয়া যায়, ইলেকট্রনিক্সে পাইবেন, বোধ হয় এইটা আবিস্কারের জন্য একটা নোবেলও দেওয়া হইছে 2 -3 বছর আগে।
৯. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
অতিথি বলেছেন: সুন্দর লিখেছেন ... বেশ ভাল লাগল।

ও, আপনার ইতালি তো চ্যাম্পিয়ন হলো ... অভিনন্দন :)
১০. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
হযবরল বলেছেন: গতকল্য ব্লাক দেখলাম, অমিতাভ এখন নিজের কম্পিটিটর হয়া গেছে। কি অভিনয়টা করলো দুইজনে।
১১. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: রাসেল ভাই আর হযু ভাই যে গিয়ান দিলেন, কালকের ইলেকট্রনিক্স ক্লাসে আর যাব না ভাবছি, সকালে ভালো করে একটা ঘুম দিব !
১২. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: যিস কা বিবি মোটি অমিতাভের জিনিষ জটিল ছিলো ঐটা ডিসকো বেবি আমিও ভাবছিলাম, আহা কি দৃশ্য
১৩. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: আমাদের গেছে যে দিন, তা কি একেবারেই গেছে, কিছুইকি নেই বাকী.............
এখনও তাই একই গান শুনি
১৪. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: ট্রানজিস্টার ব্যাবহার করা ক্যাসেট প্লেয়ারই 60 এর দশকের মাঝামাঝিতে আসছিল ... আম্রিকাতে ... সম্ভবত 64 তে ...
তবে বাংলাদেশে কখন বিক্রি শুরু হইছে বলতে পারবনা ...

আমি হিন্দী গান শুনছিলাম 82 এর দিকে মনে আছে ... ওয়ানে পড়তাম ... গানগুলার একটা ছিল
'ডিস্কো বেবী মোটি, তুমহারা কিয়া নাম হ্যায়' :)
১৫. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
হযবরল বলেছেন: 64 তে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশী, কারণ ঐটা তখন বাজারে পাওয়া যায়।
১৬. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: ফিলিপসের জিনিষ নাকি, ফিলিপসের চাল্লু একটা টু ইন ওয়ান ছিলো, জটিল জিনিষ।
১৭. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
অতিথি বলেছেন: হা হা হা ... ঐটা 'যিস কা বিবি' ছিলো? ...
আহারে!! আমি যে কবে এই হিন্দি ভাষাটা ভালভাবে বুঝুম !!
খুবই ইনফেরিয়রিটি কমপ্লেক্সে ভুগি :(

স্যরি, আমার ভুল হইতে পারে .. 64 এর ক্যাসেট প্লেয়ারে ট্রানজিস্টার ইউজ হইছে কিনা এখন প্যাঁচ লাগতাছে ...:(
তবে 60 এর দশকেই ক্যালকুলেটর আসছিল বাজারে ... T.I এর একটা সেমিনারে শুনছিলাম
১৮. ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৯:০৭
অতিথি বলেছেন: রাসেল ভাই, এটা ফিলিপসের না, ন্যাশনাল।
১৯. ১৬ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
কালপুরুষ বলেছেন: রাসেল, জি্বনের বাদশাহ ঃ
আমি নিজে ক্যাসেট রেকডর্ারে গান রেকর্ড করে শুনেছি 76/77 সালে। সম্ভবত 78-এ ক্যাটস আই নাকামিচি 600-এ ক্যাসেট ডেক-এ লং প্লে থেকে গান রেকর্ড করতো। তারও আগে সুরসঙ্গম ঢাকাতে গান রেকর্ড করতো। আর টেপ বা ফিতেতে গান রেকর্ড আমি 60-এ দশকে দেখেছি। স্পুল টেপ ব্যবহার করা হতো। 'আকাই', 'টিক' গ্রুনডিগ" এই ব্রান্ডের টেপ রেকর্ডার ছিল। 'নাগ্রা' ব্রান্ডের একটা স্পুল টেপ রেকর্ডার 1962 সালে রাজশাহী বেতারে আসে। তার ম্যানুফ্যাকচারিং সাল ছিল 1956। ম্যাগনেটিক টেপ বা ফিতা আবিষ্কার করে ফিলিপস কোম্পানী। 78/80 সালে আমার নিজের কালেকশনে আকাই, টিক (টাসক্যাম) নাকামিচি 600, 480, 580 মডেলের ক্যাসেট ডেকগুলো ছিল।
২০. ১৬ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:০৭
কালপুরুষ বলেছেন: গান রেকর্ডিং করা আমার ভীষণ রকমের পছন্দের একটা শখ বা নেশা ছিল। আমার নিজের ব্যক্তিগত কালেকশনে ইংরেজি, বাংলা, হিন্দী (কম) 400র মত এলপি বা লং প্লে ছিল । 78/45/33.33 আরপিএম। আর তখন টার্ণ টেবল-এ (গানের রেকর্ড বাজানোর যন্ত্র) গান শুনতাম বেশী। ঢাকার বহু প্রতিষ্ঠিত গান রেকর্ডিং-এর দোকান আমার কাছ থেকে অনেক ক্যাসেট ডেক ও রেকর্ড কালেকশন করেছে তাদের সুনাম বৃদ্ধির জন্য। গানের ডালি, রেইন বো, সুর সম্ভার এদের মধ্যে অন্যতম।
২১. ১৬ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৯:০৭
নওরীণ সুলতানা বলেছেন: ডিবেট ভাল জমেছে। তবে এটুকু মনে করতে পারছি গান শোনা এবং রেকর্ড করার যন্ত্র আমাদের ছিল। তাকে আর যাই হোক ট্রানজিস্টর বলতো না। কিন্তু আমি শব্দটা এই মুহুর্তে মনে করতে পারছি না। আব্বু এনেছিল ইংল্যান্ড থেকে 74 এ। আব্বু গান শুনতো, আর টিভি থেকে রুনা লায়লার গান রেকর্ড করতো। স্টারদের মধ্যে এই একজনই আব্বুর পিয় ছিল। মজার ব্যাপার হলো, আব্বুর এই পছন্দের কথা রুনা লায়লাকে আমি বলেছিলাম। উনি শুনে বললেন, তোমার আব্বুই শুধু আমাকে পছন্দ করত, আম্মু করত না?
২২. ১৬ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৯:০৭
অতিথি বলেছেন: ওরে বাবা,এত কালেকশান! টার্ণ কেবলটা কি? কলের গান যেটাকে বলে তেমন কিছু?কেমন আছেন কালপুরুষ?
২৩. ১৭ ই জুলাই, ২০০৬ সকাল ১১:০৭
কনফুসিয়াস বলেছেন: ট্রানজিস্টার, চেইঞ্জার বা ক্যাসেট প্লেয়ার ফাঁক ফোকর দিয়েও আলম সাহেবের ভালোবাসাটুকু ঠিকঠাক উপলব্ধি করতে পেরেছি। সমস্যা হয় নি কোন।
অনেক ধন্যবাদ। ভালোবাসার গল্প শুনতে চিরকালই ভালো লাগে।
২৪. ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:০৭
অতিথি বলেছেন: I am facing some troubles regarding using Bangla fonts in a Linux Machine..plz delete my previous comment
২৫. ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৬:০৭
হযবরল বলেছেন: 60 এর দশকের শুরু থেকে ক্যাসেট প্লেয়ার/রেডিও সব গুলোর নাম হয়ে গেছিল ট্রানজিসটর। কারণ একটাই 56 সালে নোবেল এবং 60 এর দশকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের কারণে বাজারে আসে ট্রানজিসটর যেটা ছিল অনন্য এক আবিষ্কার এবং সব ধরণের ক্যাসেট প্লেয়ারে ব্যাবহার শুরু হয়েছিল টেরানজিসটরের। ফলে প্লেয়ার বা রেডিও সব রে পাবলিক বলা শুরু করল টেরানজিসটর, অনেকটা মবিল এর মত।
২৬. ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ দুপুর ১২:০৭
অতিথি বলেছেন: কনফুসিয়াস,
খুব ভালো লাগলো আবেগ ছুঁয়েছে জেনে।

চামেলী হাতে.....আয় হায়, তাহলে তো আপনি নতুন পোস্টও করতে পারবেন না!তাড়াতাড়ি problem solve করুন। আর আমাকে কি লিখেছিলেন আপাতত নাহয় ইংলিশেই লিখে দিন! তারপরে আগের হিজিবিজি মন্তব্যটা মুছে দেয়া যাবে।

হযু ভাই,
যখনকার কথা লিখেছি তখন আমার জন্ম হয়নি,শুনে শুনেই লিখা।তবে আমি জন্মে বড় হবার পরেও ক্যাসেট প্লেয়ারকে সাধারণ মানুষকে ট্র্যানজিস্টার বলতে শুনেছি। তার কারন হয়তো আপনি যা বললেন, যে ক্যাসেট প্লেয়ার বা টুইন ওয়ানে ট্র্যানজিস্টার ব্যবহার শুরু হয়েছিলো।

নওরীন,
ধন্যবাদ পড়ার জন্য।আপনার বাসায় যেটা ছিলো তার নাম ট্র্যানজিস্টার ছিলো না নিশ্চয়ই, কিন্তু বলা হতো না এটা মনে হয় ঠিক বলেন নি! একটু আগে এই নিয়ে প্যাকপ্যাক করলাম মেলা, সেই।ভালো থাকবেন।
২৭. ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ রাত ৩:০৭
অতিথি বলেছেন: ট্রানজিস্টার এর ইতিহাসে আমার কোন আগ্রহ নাই..
বরাবরের মত আপনার লেখার আবেগ আবারো ছুঁয়ে গেল..আপনার বাবা-মা'র সৌভাগ্য যে,তাদের মেয়ে তাদের কে নিয়ে এ্যত্তো সুন্দর করে লিখতে পারে..
২৮. ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৫:০৭
অতিথি বলেছেন: না রে ভাই, মোটেই তাদের সৌভাগ্য না, আমি কি পরিমাণ ত্যাদর এটা তো জানেন না !
২৯. ১৯ শে জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:০৭
কালপুরুষ বলেছেন: প্রজাপতি,
আপনি ঠিকই ধরেছেনঅ "টার্ণ টেবল্" অর্থাৎ আগের দিনের সেই "কলের গান" এর আধুনিক ভার্সন। কলের গান চাবি দিয়ে চালাতে হতো আর "টার্ণ টেবল্" বিদু্যৎ দিয়ে চলে। এতে লং প্লে বা রেকর্ড বসানোর একটা "এ্যালুমিনিয়াম ডায়াকাষ্ট" প্লেট বা প্লাটার থাকে যা রাবার বেল্ট অথবা "ডিসি সার্ভো মটর" দ্বারা ঘুরে। রাবার বেল্ট দ্বারা চালিত "টার্ণ টেবল্" 'বেল্ট ড্রাইভ' নামে আর "ডিসি সার্ভো মটর" দ্বারা চালিত 'ডাইরেক্ট ড্রাইভ' "টার্ণ টেবল্" নামে পরিচিত ছিল।

জাপানের "নাকামিচি ড্রাগন" ও "টেকনিকস্", বৃটেনের "লীন সনডেক", সুইডেনের "থরেন্স", নরওয়ে'র "ওরাকল আলেকজান্দ্রিয়া", ডেনমার্কের "ব্যাং এন্ড ওলুফসেন", জামানর্ীর "ডুয়াল" বেশ নামকরা "টার্ণ টেবল্" ছিল সেই সময়। সেই যুগেই এক একটা "টার্ণ টেবল্" 8000 থেকে 60000 পর্যন্ত দাম ছিল। আমি সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন মাকের্ট থেকে কিছু ব্যবহৃত গুলা কিনতাম। নতুনের দাম আরও বেশী ছিল। পেতেও সময় লাগতো। আল্লাহর অশেষ রহমত আমি উল্লেখিত সবগুলোই ব্যবহার করেছি বিভিন্ন সময়ের ব্যবধানে।

"টার্ণ টেবল্" গুলোতে ফিঙ্ড্ বা ইন্টারচেঞ্জেবল "টোন আর্ম" ব্যবহার করা যেত যাতে "কার্টিজ" ও "স্টাইলাস" বা "পিন" থাকতো যা রেকর্ডের গ্রুভ এর উপর দিয়ে ঘুরে "ম্যাগনেটো ইলেকট্রিক" পালস্ তৈরী করতো যা শব্দের আকারে "এ্যামপ্লিফায়ার" এর মাধ্যমে শোনা হতো। আলাদা সাউন্ড বঙ্ আবশ্যই লাগতো।
৩০. ২২ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৪:৩০
অতিথি বলেছেন: আমার ফিলিপসের একটা জিনিস ছিল, ষাটের দশকের শেষে (সম্ভবত) ইংল্যান্ড থেকে আনা। লং প্লে আর ক্যাসেট চলত। এখনো আছে। ক্যাসেট এখনো চলে। যদিও শোনা হয়না। প্রজাপতির লেখাটা হৃদয়গ্রাহী। সত্যি ঘটনা বলেই হয়তো এতো জীবন্ত। ভালো লেগেছে।
৩১. ২২ শে জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৪:৪৩
অতিথি বলেছেন: ধন্যবাদ অন্ধকার।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৩৮৪ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি

কেন খুঁজিস মিছে সোনার মত

হারিয়ে যাওয়া দিন-

কেন ভাবিস বসে চেরাগ হাতে

আসবে আলাদিন--

কেন আঁকিস মনে বৃথাই কেবল

অসম্ভবের ছবি

কেন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ