আমার নিশীথরাতের বাদলধারা, এসো হে গোপনে, আমার স্বপনলোকে দিশাহারা

রাহেলা

২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১:০৪

শেয়ারঃ
0 0 0

--রাহেলা,অজুর পানিটা দিয়ে যাও তো।

হঠাত ডাকে সচকিত হন রাহেলা বেগম। জমে যাওয়া পায়ে ধীর গতিতে হেঁটে যান স্বামীর কাছে। অপলক তাকিয়ে থাকেন। ভুলে যান স্বামীর আদেশ। ফের ডাক পড়ে।

-- কি দেখো তাকিয়ে, কথা কানে যায় না? সারা দিন কোন ধ্যানে যে থাকো? আমার প্রথম বউ তো এরকম বেয়াদবী আমার সাথে কখনও করে নি। তোমরা আজকালকার মেয়েছেলে ...

রাহেলা নিজের অপরাধের মাত্রা বোঝেন। শান্ত গলায় বলেন,
-- আজকে শরীলটা ভালো নাই, তাই কাজে ভুল হয়ে যাচ্ছে, কিছু মনে কইরেন না। আমি এক্ষনি পানি আনছি।

রাহেলা ওজুর পানি স্বামীর সামনে রাখতেই টান পড়ে হাতে।

-- কি করেন? ছাড়েন। এখন না নামাজ পড়বেন!

রোমান্টিক হবার চেষ্টা ব্যর্থ হতে দেখে জামাল সাহেব বোঝেন অল্প বয়েসী বউয়ের সাথে কঠিন করে কথা বলাটা ভুল হয়েছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নামাজে বসেন তিনি।

রাহেলা বেগম রান্নাঘরে ঢুকে আবার নিজের চিন্তার জগতে ডুব দেন। আজ তার কি যে হলো ... কেবল পুরনো কথা গুলো এসে ভীড় করছে মনের মধ্যে। চুলায় ভাত ফুটতে থাকে ...

রাহেলা বেগম এক নিমিষে "রাহু" হয়ে ভাবতে থাকেন একই সাথে সুখ অথবা দুঃখ স্মৃতি।

সুন্দরী রাহেলা। নিজের প্রতি সবার আকর্ষন খুব ভালো করেই টের পায়। সৌন্দর্যের অহংকারে তাচ্ছিল্যে এড়িয়ে চলে সকলকে। কিন্তু কি করেই যেন ভালো লেগে গেলো বড় ভাইয়ের এক বন্ধু, আরমানকে। কি হ্যান্ডসাম দেখতে! তার মত সুন্দরীর জন্য যোগ্য পাত্র আর কে হতে পারে? চুরি চুরি প্রেমে বেশ কেটে যাচ্ছিলো দিন।

কিন্তু একদিন ধরা পড়তেই হলো আর সাথে সাথেই কড়া হুমকী বড় ভাইয়ের "আর কোন দিন ও পথে পা বাড়িয়েছিস তো ... কেন বুঝিস না ও ভালো ছেলে না মোটেই"!

সতেরো বছরের মন ছিলো অস্থির-চঞ্চল, বাসার কেউ মানবে না আগে থেকেই জানত সে। এদিকে আরমানও তাগাদা দিচ্ছিলো। রাহেলা মনস্থির করার জন্য আর বেশি সময় তাই নিলো না। বিয়ে করে ফেললো পালিয়ে। বাপের বাড়িতে আর ফেরা হলো না তার, এক রকম অবাঞ্ছিতই করা হলো তাকে।

(চলবে)

অনলাইন ম্যাগাজিন "বীক্ষণ"-এ প্রকাশিত, এখানে সামান্য পরিবর্তিত।

 

প্রকাশ করা হয়েছে: অনুগল্প  বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১:১২
ফাহা বলেছেন: প্রথম পর্বটা একটু ছোট হয়ে গেছে মনে হয়।শুরু করতেই দেখি পর্ব শেষ
তবে শুরু ভাল লেগেছে। তাড়াতাড়ি ছাড়ুন।
ফাহা পড়বে।
৩. ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ১:৩০
প্রজাপতি বলেছেন: ছোট? বাহ, আমি আরো বড় হয়ে যাবে এই ভয়ে আস্ত গল্পটাকে কেটে টুকরো করেছি! পরের পর্বগুলো ভেতরের পাতায় দিচ্ছি। ফাহা পড়বে জেনে খুব ভালো লাগলো!
৫. ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ৩:৩৩
দ্রোহী বলেছেন: এই যাহ, এতটুকু মাত্র?
--পরের পর্বে যাই!
৬. ২৮ শে মে, ২০০৭ রাত ৯:০৭
শ্যাজা বলেছেন: বীক্ষণে পড়েছিলাম।
কি পরিবর্তন করলি একটু পড়ে দেখি...

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৫৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি

কেন খুঁজিস মিছে সোনার মত

হারিয়ে যাওয়া দিন-

কেন ভাবিস বসে চেরাগ হাতে

আসবে আলাদিন--

কেন আঁকিস মনে বৃথাই কেবল

অসম্ভবের ছবি

কেন...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ