স্পর্শ করে যাই...
১৫ ই জুন, ২০০৭ রাত ২:৫২
মাঝ দুপুরে হঠাত সেদিন
আচমকা সব পড়লো মনে...
অতঃপর তার ফিসফিস করে বলে যাওয়া কথার মানে আমি বুঝতে পারি। একটা বছর পেরিয়ে গেলো তাহলে সত্যি!
পুরনো সব বন্ধুদের কথা মনে হয়। অথবা বন্ধুতা কি পুরনো হয় আদৌ?
তাহলে কি পুরনো হয়? সময়টা?
হবে হয়তো। সেই পুরনো সময় অথবা বন্ধুদের কথা আমার খুব মনে হয় - স্কুলের ভীষন দুরন্তপনার দিন অথবা কলেজে “খুব বড় হয়ে গেছি” ভাবের সময়টা। একটা একটা ক্ষুদ্র স্মৃতির সাথে কি গভীরভাবে যে জড়িয়ে থাকে আরো অজস্র অনুষঙ্গ!
স্কুল মানে তাই সবুজ জামা, সাদা পাজামা-ওড়না, দুই বেনী, ঘুম ভেঙ্গে ছুটতে ছুটতে মর্নিং শিফটের ক্লাস ধরা, আমাদের দশজনের পুরো ক্লাস দাপিয়ে বেড়ানো, ক্লাসের ফাঁকে অপ্রয়োজনে পানি খাবার ছুতোয় হাত ধরে আমাদের কলের পাড়ে ছুট, সেখানে কিচিরমিচিরের ঠেলায় রুম থেকে বেরিয়ে আসা এসিস্ট্যান্ট হেড মিস্ট্রেসের কোমরে হাত দিয়ে চিতকার, অতঃপর মুখ চেনা ভালো ছাত্রী বলে পাড় পেয়ে যাওয়া, আমার জন্মদিনে ফার্স্টগার্ল তন্বীর আবদার “স্যার, আজকে আমাদের জন্মদিন, ক্লাস করব নাআআআ”-কাজেই ক্লাস বন্ধ, জন্মদিনে উপহার হিসেবে প্রতিদিনের টিফিন বা রিক্সাভাড়া থেকে বাঁচানো মহামূল্যবান ৩৫ বা ৪০ টাকা দিয়ে একটা ক্যাসেট নয়তো তিন গোয়েন্দা বা হুমায়ুন আহমেদ এবং সাথে স্কুলের গাছ থেকেই চুরি করা ফুলের তোড়া, সব ক্লাস-ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে হাসরের ময়দানের অনুভূতি নিয়ে দোয়া পড়া....এবং স্কুলের শেষ দিনে গান গাইতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সংগী হিসেবে কঠিনতম টিচারেরও অশ্রুসজল চোখ দেখা...আহ, আমার মধুরতম কিশোরবেলা!
কলেজের কথা ভাবলেই কেন যেন সব ছাপিয়ে আমার কেবল মনে পড়ে অনেক অনেক গাছের ছায়া আর বিশাল পুকুর পাড়ের মুগ্ধতা...কি টানে আটকা পড়েছিলাম আমরা জানি না, গ্রুপের সবাই তথাকথিত ভালো ছাত্রী হলেও ক্লাস যেন আর তেমন টানতো না, পড়াশুনায় মন নেই এক বিন্দু, কি জানি এক উদাসীনতায় কেবল পুকুরপাড়ে গালে হাত দিয়ে বসে থাকা। “আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর, তাজা তাজা মনে অসহ্য যন্ত্রণা...” একদিনের কথা খুব বেশি মনে পড়ে, শেষ ঘন্টার একটু আগে রোদেলা আকাশ হঠাত ঘন কালো হলো, টিপটিপ করে ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা একটু একটু করে আরো বড় হলো...আমরা বসেই আছি। বিষন্ন আকাশ, বিষন্ন পুকুরঘাট, আঠারো বছরের বিষন্ন কিছু তাজা প্রাণ--মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম পুকুরের পানিতে বৃষ্টির আশ্চর্য সুন্দর নাচ! সেদিন আমরা ভিজেছিলাম, কেন যেন কেঁদেছিলাম...।
উচ্ছ্বল এবং বিষন্ন বন্ধুময় জীবনের প্রতিটা মোড়ে থমকে দাঁড়িয়ে কেন যেন বিদায় দিতে হয়। এ-ই বুঝি প্রকৃতির নিয়ম।
সামহোয়ারইনব্লগ - আমার বন্ধুময় জীবনে আরেক সংযোজন। আমি খুব মুগ্ধতা নিয়ে এখানে যাত্রা শুরু করেছিলাম। পড়া, লেখা, সমমনা কিছু মানুষ, চমতকার একটা পরিবেশ।
দিন অবশ্য এক রকম যায় না। ভাবনার জগতেও ছেদ পড়ে। চমতকার সুরেলা গানের মাঝেও হঠাত তাল কেটে যায় কখনও কখনও অপ্রত্যাশিতভাবে। কেটে যাওয়া তাল, বেসুরো সুরের মাঝেও তবু কেন যেন টিকে থাকে ভালোবাসা। “উইড়া যায় রে বনের পক্ষী, পইড়া থাকে মায়া”...?
অনেক অপ্রাপ্তি, অনেক অনাকাংখিত বেদনার মাঝে তবু এখনও জ্বলজ্বল করে পাওনাগুলো। কোন এক দুপুরে সময়ের ফিসফিসানিতে নিজের অজান্তেই উঁকি মারে সামহোয়ারইনের জন্য তুলে রাখা ভালোবাসা। আজ সামহোয়ারইনে আমার লেখা শুরুর ঠিক এক বছর পরে খুব ছোট্ট পরিসরে জানান দিচ্ছি এই ব্লগটির জন্য আমার শুভকামণা।
আবার বলি, সব অশুভ দূর হয়ে যাক।
প্রকাশ করা হয়েছে: খেরোখাতা বিভাগে । সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে নভেম্বর, -০০০১ রাত ১২:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
জানালা বলেছেন:
স্পরশ করে গেছে প্রজাপতি
কিংকর্তব্যবিমূঢ় বলেছেন:
এক বছরের এক বস্তা অভিনন্দন (আপনার কপাল খারাপ, দুই বছর হইলে দুই বস্তা পাইতেন) ......
এত ভাল লেখেন কিভাবে বলেন তো ...
...
আরও বেশি বেশি লেখেন ... আপনাদের লেখা এখন অনেক বেশি দরকার ...
গোলাপি বলেছেন:
খুব ভাল লাগলো পড়ে।
পথিক!!!!!!! বলেছেন:
দূর হোক
আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন:
বছরপূর্তির শুভেচ্ছা।আপনি কী জানেন, আপনার '...অত:পর!' আমার পড়া শ্রেষ্ঠ অনুগল্পের অন্যতম।
নূর-ই-হাফসা বলেছেন:
চমৎকার জীবন।
ঝরা পাতা বলেছেন:
অনেকবার ভেবেছি আপনাকে খুন করবো কিন্তু কনফুর কথা ভেবে করা হয় না। কিন্তু সত্যি আপনাকে খুন করা উচিত, না হলে কেউ এভাবে মধুরতম কৈশোরবেলায় ফিরে যাওয়ার আকুতি সহস্র মাইল দূরের এক মানুষের মনে জাগাতে পারে!
কালপুরুষ বলেছেন:
কোথায় হারিয়ে গেলেন? কোন খবর নেই।
মনিটর বলেছেন:
ইস্সিরে কালু'দা!
কালপুরুষ বলেছেন:
ব্যথা পেলেন নাকি?
মনিটর বলেছেন:
আর্কতো?বয়সতো কমহইল না।থাম্বেন্কবে?
কালপুরুষ বলেছেন:
আমি থামলেই কী পৃথিবী থেমে যাবে? নাকি আপনি শান্তি পাবেন? জীবন মানেইতো সচল কিছু। আপনি কী আমার মৃত্যু চান? তাহলে কায় মনে দোয়া করেন। আমি কিন্তু আপনার দীর্ঘায়ু কামনা করবো। কারন আপনি বেঁচে না থাকলে আমি বুঝবো না আমাকে কখন থামতে হবে।
কালপুরুষ বলেছেন:
জ্ঞান তো আমি ফলাইনি। আপনি দিতে এসেছিলেন। একজন মানুষের খোঁজ নেয়া আপনার এতো গা জ্বলার কারন হবে জানা ছিল না। যাকে চিনি জানি তার খবর নেয়া সৌজন্যের মধ্যে পরে।
প্রজাপতি বলেছেন:
এই পোস্ট যারা পড়েছেন, অনেক দেরিতে হলেও অনেক ধন্যবাদ জানাই সবাইকে।কালপুরুষ, দুঃখিত, আমার পোস্টে এসে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হলো আপনাকে। হারাইনি ঠিক। কিন্তু এখানে লেখার উতসাহটা কমে গেছে। মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে দেখে যাই পুরনো বাড়ি। এই ব্লগের আপনি, মনিটর--আপনারা সবাই ভালো থাকুন। তবে যাদের কারনে উতসাহে ভাটা পড়লো, তাদের জন্য প্রার্থনা, ঈশ্বর তাদের জ্ঞান দিন।
অন্ধকার বলেছেন:
সব অন্ধকার দূর হয়ে যাক!
কালপুরুষ বলেছেন:
আমারও ঐকান্তিক কামনা, আলো ফিরে আসুক।
রাশেদ বলেছেন:
হুমম...ভালো লাগল।
ফারজানা১৬ বলেছেন:
ফিরে আসুন।
সারিয়া তাসনিম বলেছেন:
ভেবেছিলাম তোর জন্য ১৫ জুন একটা পোস্ট দিবো , কিন্তু সময় আমারে সময় দেয়না রে !
দিনগুলো হু হু কইরা দৌড়াইতাসে , বয়স রু রু কইরা বাড়তাসে , অথচ সঞ্চয়ের খাতা শূণ্য !
মনে আছে তোদের জন্য কামনা করেছিলাম ' অসাধারন সুখ ' ?
যুগ যুগ সেই কামনাতেই থাকবো
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















ছেড়ে দিতে ইচ্ছে করে সকল ব্যস্ততা
ফিরে যেতে ইচ্ছে করে আবার সেই আড্ডায়...
কিন্তু আর ফেরা হয় না। আমি বাধা পড়েছি, আমার ঘরকে আমি শেকল করেছি। শুধু ভাবি.. পাখি উড়ে উড়ে যায় কোথায়.. ইচ্ছে হয়- আমার মনও পাখি হয়ে যেতে চায়।
ব্লগের এই এহেন পরিবেশ ভালো লাগে না। আগে কেমন ছিলো আর এখন কেমন হয়েছে।! আমারো প্রায় এক বছর হয়ে গেলো। কষ্ট লাগে...
প্রার্থনা সকল অশুভ যেন হারিয়ে যায় চিরতরে।