somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... স্পর্শ করে যাই... আচমকা সব পড়লো মনে...

অতঃপর তার ফিসফিস করে বলে যাওয়া কথার মানে আমি বুঝতে পারি। একটা বছর পেরিয়ে গেলো তাহলে সত্যি!

পুরনো সব বন্ধুদের কথা মনে হয়। অথবা বন্ধুতা কি পুরনো হয় আদৌ?

তাহলে কি পুরনো হয়? সময়টা?

হবে হয়তো। সেই পুরনো সময় অথবা বন্ধুদের কথা আমার খুব মনে হয় - স্কুলের ভীষন দুরন্তপনার দিন অথবা কলেজে “খুব বড় হয়ে গেছি” ভাবের সময়টা। একটা একটা ক্ষুদ্র স্মৃতির সাথে কি গভীরভাবে যে জড়িয়ে থাকে আরো অজস্র অনুষঙ্গ!

স্কুল মানে তাই সবুজ জামা, সাদা পাজামা-ওড়না, দুই বেনী, ঘুম ভেঙ্গে ছুটতে ছুটতে মর্নিং শিফটের ক্লাস ধরা, আমাদের দশজনের পুরো ক্লাস দাপিয়ে বেড়ানো, ক্লাসের ফাঁকে অপ্রয়োজনে পানি খাবার ছুতোয় হাত ধরে আমাদের কলের পাড়ে ছুট, সেখানে কিচিরমিচিরের ঠেলায় রুম থেকে বেরিয়ে আসা এসিস্ট্যান্ট হেড মিস্ট্রেসের কোমরে হাত দিয়ে চিতকার, অতঃপর মুখ চেনা ভালো ছাত্রী বলে পাড় পেয়ে যাওয়া, আমার জন্মদিনে ফার্স্টগার্ল তন্বীর আবদার “স্যার, আজকে আমাদের জন্মদিন, ক্লাস করব নাআআআ”-কাজেই ক্লাস বন্ধ, জন্মদিনে উপহার হিসেবে প্রতিদিনের টিফিন বা রিক্সাভাড়া থেকে বাঁচানো মহামূল্যবান ৩৫ বা ৪০ টাকা দিয়ে একটা ক্যাসেট নয়তো তিন গোয়েন্দা বা হুমায়ুন আহমেদ এবং সাথে স্কুলের গাছ থেকেই চুরি করা ফুলের তোড়া, সব ক্লাস-ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্টের দিনে হাসরের ময়দানের অনুভূতি নিয়ে দোয়া পড়া....এবং স্কুলের শেষ দিনে গান গাইতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে সংগী হিসেবে কঠিনতম টিচারেরও অশ্রুসজল চোখ দেখা...আহ, আমার মধুরতম কিশোরবেলা!

কলেজের কথা ভাবলেই কেন যেন সব ছাপিয়ে আমার কেবল মনে পড়ে অনেক অনেক গাছের ছায়া আর বিশাল পুকুর পাড়ের মুগ্ধতা...কি টানে আটকা পড়েছিলাম আমরা জানি না, গ্রুপের সবাই তথাকথিত ভালো ছাত্রী হলেও ক্লাস যেন আর তেমন টানতো না, পড়াশুনায় মন নেই এক বিন্দু, কি জানি এক উদাসীনতায় কেবল পুকুরপাড়ে গালে হাত দিয়ে বসে থাকা। “আঠারো বছর বয়স ভয়ংকর, তাজা তাজা মনে অসহ্য যন্ত্রণা...” একদিনের কথা খুব বেশি মনে পড়ে, শেষ ঘন্টার একটু আগে রোদেলা আকাশ হঠাত ঘন কালো হলো, টিপটিপ করে ঝরে পড়া বৃষ্টির ফোঁটা একটু একটু করে আরো বড় হলো...আমরা বসেই আছি। বিষন্ন আকাশ, বিষন্ন পুকুরঘাট, আঠারো বছরের বিষন্ন কিছু তাজা প্রাণ--মুগ্ধ হয়ে দেখছিলাম পুকুরের পানিতে বৃষ্টির আশ্চর্য সুন্দর নাচ! সেদিন আমরা ভিজেছিলাম, কেন যেন কেঁদেছিলাম...।

উচ্ছ্বল এবং বিষন্ন বন্ধুময় জীবনের প্রতিটা মোড়ে থমকে দাঁড়িয়ে কেন যেন বিদায় দিতে হয়। এ-ই বুঝি প্রকৃতির নিয়ম।

সামহোয়ারইনব্লগ - আমার বন্ধুময় জীবনে আরেক সংযোজন। আমি খুব মুগ্ধতা নিয়ে এখানে যাত্রা শুরু করেছিলাম। পড়া, লেখা, সমমনা কিছু মানুষ, চমতকার একটা পরিবেশ।

দিন অবশ্য এক রকম যায় না। ভাবনার জগতেও ছেদ পড়ে। চমতকার সুরেলা গানের মাঝেও হঠাত তাল কেটে যায় কখনও কখনও অপ্রত্যাশিতভাবে। কেটে যাওয়া তাল, বেসুরো সুরের মাঝেও তবু কেন যেন টিকে থাকে ভালোবাসা। “উইড়া যায় রে বনের পক্ষী, পইড়া থাকে মায়া”...?

অনেক অপ্রাপ্তি, অনেক অনাকাংখিত বেদনার মাঝে তবু এখনও জ্বলজ্বল করে পাওনাগুলো। কোন এক দুপুরে সময়ের ফিসফিসানিতে নিজের অজান্তেই উঁকি মারে সামহোয়ারইনের জন্য তুলে রাখা ভালোবাসা। আজ সামহোয়ারইনে আমার লেখা শুরুর ঠিক এক বছর পরে খুব ছোট্ট পরিসরে জানান দিচ্ছি এই ব্লগটির জন্য আমার শুভকামণা।

আবার বলি, সব অশুভ দূর হয়ে যাক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28716015 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28716015 2007-06-15 02:52:45
স্মৃতির নৌকা বেয়ে
আমি মুগ্ধ হয়ে ওদের দেখি। চারপাশের যেসব ক্ষুদে ফিল্ডার ছুটোছুটি করছে ওদের দেখি। উইকেটের পেছনের দুধভাত ছেলেটাকেও দেখি। দেখতে দেখতেই কানের ওপরে চাপড় পড়ে। চমকে ওঠে তাকাতেই দেখি ফজলু আর নুরু দাঁড়িয়ে ফ্যাকফ্যাক করে হাসছে। ঠিক বুঝতে পারি না কেন, কিন্তু আমার একটু খটকা লাগে। ভ্যাবলার মত তাকিয়ে থাকি আমি। আবার চাপড়।

- ব্যাটা,আমাদের দিকে তাকাইয়া দেখতাছোস কি? আকাশ দ্যাখ, ক্যামন ম্যাঘ করসে দেখছস? এক্ষনি নৌকা নিয়া বাইর হব। উঠ উঠ, সারাদিন বই পইড়া পইড়া ভ্যাবলা ভাবুক হইছস একটা।

এবার আমার সম্বিত ফিরে, তাই তো ! আজ দুপুরেও না ইস্কুল থেকে ফেরার পরে এমন কথাই হয়েছিলো? এর মাঝেই ভুলে গেলাম? ফজলু, নুরু এবার হাত ধরে টান মেরে উঠিয়েই ফেলে আমাকে। বাংলা ঘর পেরিয়ে উঠোনে বসে থাকা মা'কে চিতকার করে একটুখানি জানিয়ে যাই কেবল, "মা রে, আমি গেলাম , চিন্তা করিস না"...।

এবার ছুটতে থাকি তিন বন্ধু মিলে। নদীর ঘাটে নৌকো বাঁধাই ছিলো। নুরু আমাদের তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো পারে এইসব কাজ। আমি আর ফজলু একটু পরে দেখি নৌকা ভাসছে! আহা! চলতে থাকে আমাদের নৌকা... পারি না বলে কিছু নেই, তিনজনেই বৈঠা হাতে নেই পালা করে। আকাশের মেঘ একটু একটু করে বাড়তে থাকে, গুমগুম গুড়গুড় হাঁকডাক। এত জোরেলা বাতাস! আহা! পাড়ের বাড়িঘরের সামনে দাঁড়ানো কত্ত মানুষ, ছেলে, বুড়ো, বৌঝি, তাদের কচি কচি ননদেরা...!

- সবাই বুঝি আমাদেরই দেখতাসে রে নুরু?
- আররে না...অতদূর থেইকা অত বুঝা যায় নাকি রে? ওরা ম্যাঘ দেখে রে ম্যাঘ, বাতাস খায়!

একটু একটু দূরে সরে যেতে থাকে পাড়ের ছবি...আমাদের ছোট তরী বেয়ে আমরা দূরে, আরো দূরে ভাসতে থাকি। ফজলু হঠাত নৌকার মাঝে উঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত শূণ্যে তুলে চিতকার করতে থাকে। "ওরে ফজলা, হাসু...আমি তো উইড়া যাইতেসি রে...আআআআআআআআ"। বাতাস বাড়তে থাকে আমাদের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দিতে। আমিও দাঁড়াই নুরুর পাশে, আমিও চিতকার করি। "উউউউউউউউউউউউউউ, হুইইইইইইইই"। দুইজন গলা জড়াজড়ি করে আমরা নৌকার ওপরে নাচতে থাকি দুলে দুলে। ফজলু বৈঠা হাতে দাঁত কেলিয়ে হাসে। "খাড়া...আমিও আই"।

একজন একজন করে হাল ধরি। তুমুল হাসি, হুল্লোড়ের সাথে বেড়ে চলে পাগলা হাওয়া। নৌকা চলে, চলতে থাকে। নৌকা চলে, হাওয়া চলে...নৌকা চলে, হাওয়া চলে ! কৈশোরের উদ্দামতায় আনাড়ীপনাকে তুচ্ছ করে চালানো নৌকাও এবার একটু হাসে আমাদের সাথে, "দাঁড়া রে দাঁড়া। এবার আমার খেল দ্যাখ"। অতঃপর নৌকার গতি আর বাতাসের বেগ পাল্লা দিয়ে উল্লাস করে। এক সময় দেখি গ্রাম ছেড়ে অনেক দূরে চলে এসেছি। কৈশোরের পাগলা যৌবন টেনে নিয়ে এসেছে আমাদের এত দূরে, এবার হানা দেয় ভয় কৈশোরের আরেক রূপ-ভয় পাওয়া শৈশব।

নুরু, ফজলু এবং আমি একে অন্যের নাম ধরে কান্না শুরু করে দেই এবার। মা"র কথা মনে হয়। এই নৌকা ঠিক দিক মেনে মেনে কেমনে বেয়ে নিব আবার আমাদের গ্রাম? ও আল্লাহ বাঁচাও, এইবার শুধু বাড়ী ফিরতে দাও, আর কখনো এমন করুম না। আল্লাহ তুমি মেহেরবান, তুমি দয়ালু...কাইল থেইকাই নামাজ পড়মু...গ্রামে ফিরাইয়া নাও, বাড়ী ফিরাইয়া নাও।

আস্তে আস্তে বাতাস কমে আসে, নৌকাও কথা শোনে আমাদের। আল্লাহর নাম নিতে নিতে গ্রামের বাড়ীঘর চোখে পড়তে থাকে আবার একটু একটু করে। আপন ঘাটে নৌকা ভেড়াই আমরা।... এতক্ষনের উত্তেজনায় কাঁপছে শরীর। হঠাত সব রাগ গিয়ে পড়ে একজনের ওপর। রাগে কাঁপতে কাঁপতে তাকেই গালি দিতে থাকি একমনে..."শয়তান আল্লাহ, খুব পাট নিলি আমাদের ওপরে না? তোরে যদি আর ডাকসি জীবনে"!।


- দাদু, আমি আজকে ৩৯ করেছি জানো?

দোদুলের ডাকে নেমে আসি আমার কৈশোরের নৌকো থেকে। আনমনে বলি,"আর আমি সেঞ্চুরি"!

(গল্প)


(পুনশ্চঃ আজ খুব বিশেষ একটা দিন। খুব দূর থেকে ভার্চুয়াল ভালোবাসা ছাড়া আর তেমন কিইবা দিতে পারি? তাই ছোট্ট এই গল্পটা আজকের দিনে, রু তোর জন্যে আমার উপহার।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713694 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713694 2007-05-31 15:41:40
রাহেলা(চতুর্থ এবং শেষ পর্ব)
রাহেলা নিজের সংসার পেলেন পরিপূর্ণভাবে। না, তার কোন অভিযোগ নেই বৃদ্ধ স্বামীর উপর। আগের স্বামীর সাথে তুলনা করলে রীতিমতন ফেরেশতা বলা যায়। কেবল কিছু বাড়তি শাসন, সেগুলোও গায়ে মাখেন না রাহেলা বেগম। বরং স্বামীর পরামর্শে এখন বোরকা পরেন, পান খান যাতে বয়সটা একটু বেশি মনে হয় লোকের কাছে। আবার তারই পছন্দে চোখে কাজল পরেন ঘরের ভেতর! একসাথে টিভি দেখেন। মজা আর রোমান্সও করার চেষ্টা করেন।

রাহেলা বেগমের ছোট্ট মেয়ে নীলা প্রথম কদিন এই নতুন বাড়িতে তাদের অবস্থান ঠিক বুঝে উঠতে পারে নি। তাকে শেখানো হলো নানার মত দেখতে এই লোকটাই এখন থেকে তার বাবা, ধীরে ধীরে সে বুঝে নিলো এটা এখন তাদেরই বাড়ি। সে তার ইচ্ছামত ঘোরে ফেরে। স্কুলে যায়, কেউ তাকে কিছু বলে না, কেবল তার নতুন বাবার বড় বড় ছেলে মেয়েগুলো এ বাড়িতে এলে তাকে খুব চুপচাপ থাকার নির্দেশ দেয় তার মা। রাহেলার ভয় কোন দিন যদি তাকে বাড়তি মনে করে ঝেড়ে ফেলে দিতে বলে তারা! রাহেলা ভাবে কোনভাবে যদি তার নামে বুড়োর কাছ থেকে কিছু সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া যেতো। কবে দুম করে মরে যাবে তখন কি আর এই ছেলেমেয়েরা তাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখবে? ভেবে ভেবে মেয়েদের আর বুড়ো স্বামীকে পটানোর নতুন বুদ্ধি করতে থাকেন তিনি মনে মনে...।

সহসা পোড়া গন্ধে চমকে ওঠেন রাহেলা বেগম। ইশ, ভাতটা লেগে গেলো হাঁড়ির তলায়। রান্না শেষ। নতুন করে আর রান্না না করে এই ভাতটাই খাবেন ঠিক করলেন তিনি, নইলে যে দেরী হয়ে যাবে। সদ্য রাঁধা ভাতের দিকে তাকিয়ে রাহেলার হঠাত মনে হয়,এই তো বেশ দেখতে - সাদা, কেবল একটু পোড়া গন্ধওয়ালা!


[অনলাইন ম্যাগাজিন "বীক্ষণ"-এ প্রকাশিত, সামান্য পরিবর্তিত।]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713009 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713009 2007-05-28 02:14:09
রাহেলা-(তৃতীয় পর্ব)
-- আমি অনেক ভেবে দেখেছি তোমার আমার সংসার করার আর কোন দরকার নাই ... রোজ রোজ তোমার জ্ঞানী জ্ঞানী উপদেশ শুনতে শুনতে আমি বিরক্ত। আমি নিজের জীবনের তালই রাখতে পারি না আরো বাড়তি দুইটা মানুষ! শোন রাহেলা, তোমার মেয়েকে নিয়ে তুমি কালকে চলে যাবা তোমার বাপের বাড়ি। আমি একলা শান্তিতে, ফুর্তিতে জীবন কাটাবো। বিশেষ দরকার হলে আমার ময়নাপাখীদের এইখানে আমার বাসায় নিয়ে আসবো।

সাথের মেয়েটিকে রাহেলার সামনেই জড়িয়ে ধরে পাশের ঘরে ঢুকে যায় আরমান। রাহেলার মুখে কোন কথা সরে না। হাঁ করে তাকিয়ে থাকে স্বামীর চলে যাবার দিকে। অবিশ্বস্ত, বড় অবিশ্বস্ত মনে হয় পৃথিবীটাকে। কতটা সময় চলে গেছে খেয়াল হয় পাশের ঘরের আওয়াজে। চটকা ভেঙে পাথর রাহেলা ছুটে যায় মেয়ের দিকে। নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে জাপটে ধরে তাকে, ভেঙে পড়ে মেঝের ওপর ঝড়ে ওপড়ানো গাছের মতো। চিৎকার করে কাঁদতে থাকে। সমস্ত শক্তি নিশেঃষিত হলে একের পর এক বিভীষিকা চোখের ওপর ভাসতে থাকে। পাশের ঘর থেকে হাসির শব্দ খান খান হয়ে ছড়িয়ে পরে অন্ধকারে।

কেমন করে কেটেছিলো ওই বিভতস রাত, আজ ভেবে তার কোন কূল পায় না রাহেলা। পরদিন সকাল হবার সাথে সাথেই ছুটে গিয়েছিলো বাপের বাড়িতে। সংসার ভাঙ্গার জন্য কোন কষ্ট নয়, বাস্তবিক সে যেন মুক্তি পেয়েছিলো অসুস্থ এক জীবন থেকে। বহুদিন পর নিজের চেনা পরিবেশে বাবা-মা আর ভাইয়ের সাথে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে কথা বলে সে। ছোট্ট মেয়ে নীলা বড় হতে থাকে একটু একটু করে। তারও কিছুদিন পর ভাইয়ের বিয়ে উপলক্ষ্যে সে কি আনন্দ রাহেলার! কদিনের জন্য ভুলেই যায় নিজের অভিশপ্ত জীবনের কথা। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়,নতুন ভাবী আসে ঘরে। বিয়ে উপলক্ষ্যে পাওয়া আনন্দ বেদনায় পরিণত হতে সময় লাগে না খুব বেশি দিন। নতুন ভাবীর নিত্য খোটা ছন্দপতন ঘটাতে থাকে দিনযাপনে। নিজের বাবার বাড়িতে প্রতি পদে পদে অপমানিত হতে হতে রাহেলার জীবন আবার দুর্বিষহ হয়ে উঠে। ইচ্ছা করে আবার পড়াশোনা করে চাকরী করে বাঁচতে। মেয়েটাকে যেন তার মতো অবস্থায় না পড়তে হয়। কিন্তু পড়ার খরচটাই বা দিবে কে?

অবশেষে সিদ্ধান্ত নেয়, এইখানে এইভাবে আর নয়। কিছু একটা করবে। কিন্তু কি যে করবে তাই ভেবে পায় না। একদিন ভাইয়ের ঘরের পাশ দিয়ে যেতে যেতে ভাবীর কথা কানে আসে। তার জন্য বিয়ের প্রস্তাব এসেছে। অবাক হয় রাহেলা। একটু পরেই বুঝতে পারে আসল ঘটনা। পয়ষট্টি বছরের এক বিপত্নীক বৃদ্ধ-- তার দুই ছেলে, দুই মেয়ে, সবাই বিবাহিত। ভাবী চাইছে এই বিয়েটা দিয়ে আপদ বিদায় করতে। রাহেলা নিজের মনে কিছুক্ষন ভাবতে থাকে। পয়ষট্টি বছর! এ যে বাবার বয়েসী। তবু তো সেখানে তার নিজের সংসার হবে, মেয়ের ভবিষ্যতের একটা ব্যবস্থা হবে। রাহেলা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। একটাই কেবল শর্ত থাকবে এই বিয়েতে রাজী হবার, তার মেয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। এই শর্তে নিঃসংগ বৃদ্ধের আপত্তির কোন কারন ছিলো না। বিয়েটা হয়ে গেলো তাদের।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713007 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713007 2007-05-28 01:56:17
রাহেলা (দ্বিতীয় পর্ব)
কটা দিন, মাত্রই হাতে গোনা কটা দিনই। এরপর রাহেলার স্বপ্নের হ্যান্ডসাম নায়কের ভিলেনের মত রূপ বেরিয়ে এলো। পারিবারিক ব্যবসা করছে বলে যে কথা বিয়ের আগে বলেছিলো আরমান তার সবটাই মিথ্যা বলে জানা গেলো। সেই সাথে শুরু হলো কিছুদিন আগে বড় ভাইয়ের মুখে শোনা কথাগুলোর বাস্তবায়ন। অনেক রাতে মদ্যপ হয়ে বাড়ি ফেরা, কখনও বা না ফেরা, খারাপ পাড়ায় যায় বলেও শোনা যায় মানুষের মুখে। সবটা রাহেলা বিশ্বাস করে না। অনেক রাত অবধি একলা ঘরে ভয়ে ভয়ে স্বামীর জন্যে অপেক্ষা করে। এক সময় শ্বশুরের রেখে যাওয়া ব্যাংক ব্যালেন্স ফুরিয়ে যেতে থাকে। একে একে ঘরের জিনিস বিক্রি করেও সামলানো যায়না নিত্য দিনের চাহিদা।

দিনের পর দিন রাহেলা চেষ্টা করে যায় স্বামীকে শোধরাবার। কিন্তু দিনগুলোই কেটে যায় কেবল, বদল হয় না কিছুই। সব দেখে শুনে রাহেলা ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, বিশ্বাস হয় না সত্যি এমন ঘটে চলেছে তার জীবনে। আরও কিছু দিন যায়, এরই মাঝে ফুটফুটে এক মেয়ে জন্ম নেয় তাদের ঘরে। রাহেলা তাকে বুকে চেপে রাখে। সব ভুলে তাকে অবলম্বন করে বাঁচতে চায়। কিন্তু সেই অবলম্বনকে কেন্দ্র করে শুরু হয় নতুন অশান্তি। কেন? না, সে যে মেয়ে! হোক শিশু, মেয়েমানুষ তো!

মেয়ের বয়স বাড়ে - এক বছর, দুই বছর করে তিন বছর, কিন্তু বাড়ে না শরীর। অপুষ্টিতে রুগ্ন হয়ে যাওয়া ছোট্ট শরীর। রাহেলা আর্তনাদ করে স্বামীর কাছে বলে,

-- একটা কিছু কর, এইভাবে বসে থেকে থেকে না খেয়ে না দেয়ে আমাদের হয়তো আর কিছুদিন জীবন কেটে যাবে, কিন্তু এই শিশুটার কথা ভাবো, সে আমাদের সন্তান’!

আরমানের মদের গন্ধওয়ালা মুখ থেকে অদ্ভুত কিছু শব্দ বেরোয় জবাবে। অস্ফুটে বলে,

--হুঁ ... সন্তান ... মেয়ে বাচ্চা দিয়ে আমার তো কোন কাজ নেই...তোমার থাকলে তুমিই কাজ করে খাওয়াও না তোমার মেয়েকে ।

রাহেলার মুখে কথা সরে না। দিন দিন কতখানি অমানুষ হয়ে উঠেছে তার স্বামী স্পষ্ট বুঝতে পারে। নিজের জন্য নয়, কোলের শিশুটার কচি মুখের দিকে তাকিয়ে হাহাকার করে উঠে তার বুকের ভেতরটা। বড় অভিমান হয় নিজের ওপর। কেন বাবা-মা’র কথা না শুনে সে বিয়ে করেছিল এই অমানুষটাকে? কেন তার আর পড়ালেখা করা হলো না? যে মেয়ের জন্য পাগল হয়ে ছিল এত মানুষ, আজ তার জীবনের এই দশা! রাহেলার চোখ থেকে ক্রমাগত অশ্রু ঝরে পড়তে থাকে। শত শত প্রশ্নে নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকে। নিজের হাতে একটা টাকা নেই। রাহেলা বাস্তবিকই কি করবে খুঁজে পায় না। হঠাত মনে পড়ে বাবার বাড়ি থেকে চলে আসবার সময় নিয়ে আসা মায়ের কিছু গয়নার কথা, নিজের ছোট্ট ট্রাংকটায় তালা মেরে যত্ন করে রেখে দিয়েছে। দৌড়ে ট্রাংক খুলেই থম হয়ে যায়। নেই!

(চলবে)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713006 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28713006 2007-05-28 01:38:26
রাহেলা
হঠাত ডাকে সচকিত হন রাহেলা বেগম। জমে যাওয়া পায়ে ধীর গতিতে হেঁটে যান স্বামীর কাছে। অপলক তাকিয়ে থাকেন। ভুলে যান স্বামীর আদেশ। ফের ডাক পড়ে।

-- কি দেখো তাকিয়ে, কথা কানে যায় না? সারা দিন কোন ধ্যানে যে থাকো? আমার প্রথম বউ তো এরকম বেয়াদবী আমার সাথে কখনও করে নি। তোমরা আজকালকার মেয়েছেলে ...

রাহেলা নিজের অপরাধের মাত্রা বোঝেন। শান্ত গলায় বলেন,
-- আজকে শরীলটা ভালো নাই, তাই কাজে ভুল হয়ে যাচ্ছে, কিছু মনে কইরেন না। আমি এক্ষনি পানি আনছি।

রাহেলা ওজুর পানি স্বামীর সামনে রাখতেই টান পড়ে হাতে।

-- কি করেন? ছাড়েন। এখন না নামাজ পড়বেন!

রোমান্টিক হবার চেষ্টা ব্যর্থ হতে দেখে জামাল সাহেব বোঝেন অল্প বয়েসী বউয়ের সাথে কঠিন করে কথা বলাটা ভুল হয়েছে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নামাজে বসেন তিনি।

রাহেলা বেগম রান্নাঘরে ঢুকে আবার নিজের চিন্তার জগতে ডুব দেন। আজ তার কি যে হলো ... কেবল পুরনো কথা গুলো এসে ভীড় করছে মনের মধ্যে। চুলায় ভাত ফুটতে থাকে ...

রাহেলা বেগম এক নিমিষে "রাহু" হয়ে ভাবতে থাকেন একই সাথে সুখ অথবা দুঃখ স্মৃতি।

সুন্দরী রাহেলা। নিজের প্রতি সবার আকর্ষন খুব ভালো করেই টের পায়। সৌন্দর্যের অহংকারে তাচ্ছিল্যে এড়িয়ে চলে সকলকে। কিন্তু কি করেই যেন ভালো লেগে গেলো বড় ভাইয়ের এক বন্ধু, আরমানকে। কি হ্যান্ডসাম দেখতে! তার মত সুন্দরীর জন্য যোগ্য পাত্র আর কে হতে পারে? চুরি চুরি প্রেমে বেশ কেটে যাচ্ছিলো দিন।

কিন্তু একদিন ধরা পড়তেই হলো আর সাথে সাথেই কড়া হুমকী বড় ভাইয়ের "আর কোন দিন ও পথে পা বাড়িয়েছিস তো ... কেন বুঝিস না ও ভালো ছেলে না মোটেই"!

সতেরো বছরের মন ছিলো অস্থির-চঞ্চল, বাসার কেউ মানবে না আগে থেকেই জানত সে। এদিকে আরমানও তাগাদা দিচ্ছিলো। রাহেলা মনস্থির করার জন্য আর বেশি সময় তাই নিলো না। বিয়ে করে ফেললো পালিয়ে। বাপের বাড়িতে আর ফেরা হলো না তার, এক রকম অবাঞ্ছিতই করা হলো তাকে।

(চলবে)

অনলাইন ম্যাগাজিন "বীক্ষণ"-এ প্রকাশিত, এখানে সামান্য পরিবর্তিত।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712998 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712998 2007-05-28 01:04:49
ছলাত ছল
রাতে আমার ব্লগে বসা হয়, ভালো লাগে সময়টা। অনেক ভালো লেখা আসে। ইদানিং আর লাগছে না। মনটা খারাপ হয়, খুব খারাপ।

গান শুনছি সুমন চট্টোপাধ্যায়ের,( আমার সব সময়ের সহজ উপায়, আরো মন খারাপ দিয়ে মন ভালো করার চেষ্টা)

"ছলাত ছল ছলাত ছল ছলাত ছল
ঘাটের কাছে গল্প বলে নদীর জল
আদ্যিকাল শ্যাওলা হল ঘাটের গায়
ভুতের মত চার নখে নৌকো যায়
নদীর ধার বসবে বুঝি পাটের কল
..."।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712992 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712992 2007-05-28 00:12:25
নিঃশব্দে এই যে দেখো
বইয়ের তাকে আর একটুখানি জায়গাও নেই অবশিষ্ট।
গানের জলসায় যাওয়া হয় না আজকাল ঠিকই,
তাই বলে গান শুনি না ভাবো না নিশ্চয়ই!
গানের বাজারজাতকরণ ব্যাপারটা মন্দ নয় কি বল?
যদিও ইদানিং আগের মত
খবরের কাগজে খুঁজি না
আজ কোথায় কখন কোন নাটকের শো চলছে,
অথবা ভালো লাগা মুভির ফেস্টিভাল।
কিন্তু সব আছে ডিভিডি হয়ে,
হাতের কাছেই অন্য সব কিছুর মতই।
আর আছে বিশ্বজোড়া জাল ছড়ানো এক গণকবাক্স।

এত কিছু নিয়ে
কাটানোর মত সময়গুলো
অতিরিক্ত হয়ে যায় নি কখনই তাই আমার জন্য।
বুঝতে পারছো তো?

তোমাকে আজকের ব্যস্ত বিকালটার কথাই বলি নাহয়--
আজ কি হলো জানো?
বিকাল বেলা হঠাত সে কি উত্তাল বাতাস! ঝড় !
আমি বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াতেই
ভীষণ বাতাসে আমার স্কার্টের ঝুল গোল হয়ে ফুলে উঠলো!
ঠিক ছোট্টবেলায় যেমন ঘরের কোনায় দাঁড়াতাম
ফ্যানের বাতাসে ফ্রকের ঝুল ফোলাতে!
আর ঠিক তখনই আমার একটুখানি, হ্যা খুব একটুখানিই
তোমার কথা মনে হলো...
ধানমন্ডি লেকে বেড়াতে গিয়ে একদিন
হঠাত এমনি ঝড়ের কবলে পড়েছিলাম আমরা,
তোমার মনে পড়ে?
সবাই যখন ছুটোছুটি করে আশ্রয় খুঁজতে ব্যস্ত,
তখন তুমি আর আমি হাত ধরে লেকের পাড়ের রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে!
আমি সেদিন কেন যেন শাড়ি পড়েছিলাম,
ঝড়ো বাতাসে
পতপত করে উড়ছিলো আমার লাল টুকটুকে শাড়ির আঁচল...।

এই তো, এইসব স্মৃতি রোমন্থনের ব্যস্ততায়ই
কেটে গেলো আমার আজকের বিকেল,
অন্য আর সব দিনের মতই।

এবার বলো তো, তোমাকে ভাবার বিলাস
তবু কেন কাঁদাবে আমায়?
সময় কোথায় আমার তেমন!

কিন্তু কি আশ্চর্য!
প্রতিটা দিনের শেষে কেন যেন রাত নামে।
নামেই,
রোজ।
আর আমার সারাদিনের নিজস্ব সংগীদের
ঠিক সেই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় শত্রু মনে হয়।
আমার ভীষন ব্যস্ততার আলগা মুখোশ
এক নিমেশে খসে পড়ে।
আমার চিতকার করে বলতে ইচ্ছা করে --
আমার এসব কিচ্ছু চাই না
কিচ্ছু না!

আমার--
শুধু তোমাকে চাই!


(মাঝ রাতে এটা কি নাজিল হলো আমার ওপর নিজেই বুঝছি না, তাই "ইচ্ছেঘুড়ি" বিভাগে ছুঁড়ে ফেললাম।)]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712275 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28712275 2007-05-24 04:03:50
জ্বরের ঘোরে তোমার বাস্তবতা হারিয়ে ফেলেছো
এখনো কি সময় আছে তোমার জীবন্ত শরীর স্পর্শ করার
এবং যে ওষ্ঠ থেকে আমার অতি প্রিয় স্বর জন্ম নেয়
সেখানে চুম্বন দেবার?......
আমি তোমাকে এত বেশি সপ্ন দেখেছি যে হয়তো
আমার পক্ষে আর জাগাই সম্ভব হবে না
আমি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুমাই,আমার শরীর সব
রকম জীবন ও ভালোবাসার জন্য উন্মুক্ত.......
আমি তোমার ভুরু ছুঁতে পারি,ওষ্ঠ ছুঁতে পারি এত কম......
আমি তোমাকে এত বেশি স্বপ্ন দেখেছি,হেঁটেছি,
কথা বলেছি।
শুয়েছি তোমার ছায়ার সঙ্গে..............

----------------------------------------------
এটা সুনীল গঙোপাধ্যায়ের অনুবাদ, মূলটা লিখেছিলেন রোবেয়ার দেনো। আমি পড়েছি সুনীলের "ছবির দেশে কবিতার দেশে" বইটা থেকে। জ্বরের ঘোরে খুব ইচ্ছা করতেসে এই রকম একটা তীব্র কবিতে লিখতে, যেন পড়ে আউলা মাথা আরো আউলা হয়... কিন্তু কবিতা হইলো সেই জিনিস যাহা ইচ্ছা করিলেই লেখা যায় না। অতএব পড়, তোমার প্রভুর নামে, কবিতা আর কবিতার ডালপালা। পড়লাম। এবং লিখলাম। অন্যের লিখা জিনিস, কিন্তু এখন আমি লিখলাম, এইটা তো আর মিথ্যা না?!

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28711917 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28711917 2007-05-21 23:04:33
প্রলাপ (?)
অথবা বাঁচার ছোট্ট একটা স্বপ্ন হয়ত বাকি ছিলো তার। সেলাই মেশিনের সাথে সাথে মেশিন হয়ে যাওয়া হাত দু'টোর দিকে কখনও তাকানোর অবকাশ কি পেতো সে? যদি পায় বা নাও পায়, সেই হাতেই উঠে আসার কথা তার সারাদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল--বেতনের সামাণ্য ক'টা টাকা। আসমা আক্তারের বেঁচে থাকার খড়কুটো।

-----------------------------------------------------

গতকাল গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে নিহত নারী শ্রমিক আসমা আক্তার পুলিশের গুলিতে মরেছে নাকি ছুটোছুটি করতে গিয়ে বাসচাপায়--এই নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশের কথার মাঝে আছে দ্বিমত। প্রশাসন আর তার চাকরের ক্ষমতায় সাধারণের মৃত্যুও বড় তুচ্ছ হয়ে যায়, সে নিজের দোষে মরেছে কিনা সেই তর্কের সামনে।

অথবা রাজশাহীর ছোট বনগ্রাম এলাকার মজনু-- সে কি মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার হবার পর বিচারের অধিকারটুকুও পেতে পারে না? পারে না, আমাদের মহাপরাক্রমশালী র‌্যাব বাহিনীর হাতে পিটুনি খেয়ে মরে যাবার জন্যে এদেশের মানুষের আজ আর বিচারের প্রয়োজন হয় না। বেঁচে থাকার মত সামাণ্য মৌলিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনের দিন এটা নয়!

-----------------------------------------------------


ভাস্কর চৌধুরীর কবিতা,"আমার বন্ধু নিরঞ্জন" থেকে লিখছি---

" মানুষকে এত ক্ষুদ্রার্থে নেবেন না ৷
মানুষ এত বড় যে ,
আপনি যদি 'মানুষ ' শব্দটি একবার উচ্চারণ করেন
যদি অন্তর থেকে করেন উচ্চারণ
যদি বোঝেন এবং উচ্চারণ করেন ' মানুষ' -
তো আপনি কাঁদবেন।
.
.
.
তুমি দুষ্কৃতি মারো , বান্গালী মারো ,
হিন্দু-মুসলমান মারো , গেরিলা - তামিল মারো ,
এভাবে যেখানে যাকেই মারো না কেন
ইতিহাস লিখবে যে এত মানুষ মরেছে ৷
বড়ই করুণ এবং বড়ই দু:খজনক
শক্তির স্বপক্ষে তুমি যারই মৃত্যু উল্লেখ করে
উল্লাস কর না কেন
মনে রেখো মানুষই মরেছে।"


"কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি"....সুকান্ত সেই কবে কবিতাকে ছুটি দিয়ে হারিয়ে গেলেন। তারপর পদ্মার পানি বইতে বইতে শুকিয়ে চর হলো, তবু কবিতার ছুটি ফুরলো না। তাই বুঝি অত বছর আগের শেখা "মানুষ" শব্দটি বুকে আর কাঁপন ধরায় না। এত তুচ্ছ শব্দ উচচারণ করে আজ আর আমরা কাঁদি না!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28711876 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28711876 2007-05-21 17:52:45
বোধ
একটু আগে রুমের শেষ জেগে থাকা সদস্য হিসেবে আলো নিভিয়ে বিছানায় চিত হয়ে শুয়ে পড়েছি। সোজা ঘরের সিলিংয়ে চোখ। এরপর দৃষ্টির ভ্রমণ। ঘরের সাথে লাগোয়া বারান্দার পাশে কৃষ্ণচুড়া গাছ, পূর্ণিমার আলোয় তার কি অপূর্ব ছায়া পড়েছে ঘরের দেয়ালে! আলোছায়ার এই সৌন্দর্য আজ বহু দিন পরে যেন আবার নজরে এলো আমার। আমার বেকার জীবনের অবসান হবে খুব শীঘ্রি, এর'চে শান্তির ভাবনা আর কি হতে পারে আমার জন্য?

ঠিক পাশের বেডে বিভোর হয়ে ঘুমুচ্ছে আমার বন্ধু রতন। বাপস, একটা মানুষের ঘুম এত গাঢ় হয়,রতনকে না দেখলে ধারণাই থাকতো না আমার। আটপৌরে জীবনযাত্রার জল-খাবারের মত স্বাভাবিক হয়ে যাওয়া অসংখ্য ইতিহাস আছে আমাদের বন্ধুত্বের, ইউনিভার্সিটির এবং হল-জীবনের এই ৭ বছরে। সবাই বলে রতন-স্বপন মাণিকজোর। আজ এই মাঝ রাতে জরুরী একটা সময়ে কেন সেই ভাবনার আদিখ্যেতা আমাকে বিব্রত করছে বুঝতে পারছি না।

অন্ধকারে উঠে বসি আমি নিজের অজান্তে। নাহ, দ্বিধাটা সরাতেই হবে মন থেকে। কিচ্ছু করার নেই, আর কোন উপায় নেই আমার কাছে। ফজলু ভাইকে কথা দিয়েছি, কালকের মধ্যে টাকাটা তার হাতে দিতেই হবে; নইলে এই চাকরীটা পাবার আশাও ছাড়তে হবে আমাকে।

রতনের বালিশের নিচে রাখা চাবিটা বের করে আনা কোন ব্যাপারই না আমার জন্য। কাংখিত জিনিসটা কোথায় সেটা খুব ভালো করে জানা আছে আমার। সেটা বের করে আনার আগে চাবি হাতে তবু কয়েকটা মুহুর্ত নষ্ট হলো আবার। মনে পড়লো রতনের কথা, গতকালই এই সোনার হারটা কিনেছে সে। কিনে সবার আগে আমাকেই দেখিয়েছে। "বুঝলি, আমার পুচকি বোনটা বড় হইয়া গেলো! দেখতে শুনতে ভালো তো, বিয়াশাদির প্রস্তাব আসতেসে খালি। কবে যে ফুট কইরা চইলা যায় আমগো রে ফালাইয়া! টিউশ্যনির টাকা থেইকা সেই ফার্স্ট ইয়ার থেইকা ওর জন্য কিছু টাকা বাঁচাইছিলাম। অবাক হইছস না? আমার মত খরুচে পোলা কেমনে এত দিন ধইরা জমাইলাম এই টাকা তাই ভাবতেছস? বোনটা বড় আদরের রে, খুব আদরের"। কথা শেষ করে আশ্চর্যজনকভাবে শার্টের হাতায় চোখ মুছেছিলো রতন। আমার অবাক হবার ক্ষমতাও হার মেনেছিলো ওর এই কান্ডে। জীবনে অত ভালোবাসা কারো জন্য জমা থাকতে পারে সেই ধারণাই আমার ছিলো না!

চাবিটা আগের জায়গায় আবার রাখার পরেও রতনের ঘুম ভাঙ্গেনি, জানতাম। আগামীকাল ভোরে ধড়মড় করে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির ট্রেন ধরার আগে গুছিয়ে রাখা ট্রাভেল ব্যাগটা কাঁধে নেবার আগে একবার চেক করেও দেখবে না আমার বোকা বন্ধুটা, সেও জানি। এইসব ভাবনা কেন আমি ভাবছি? আমার উচিত স্বস্তির একটা বিশাল নিঃস্বাস ফেলা। আমার চাকরীটা হয়ে যাবে এবার নিশ্চিত, ফজলু ভাই কথা দিয়েছে। আমি চোখ বন্ধ করি একটা শান্তির ঘুমের আশায়, বুজে থাকা চোখের কোন থেকে অকারণে গড়িয়ে পরে কি যেন একটা, আমি পাত্তা দেই না - আর কখনও দেবও না।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28710715 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28710715 2007-05-15 14:13:53
আজীবনের ব্যক্তিগত প্যানপ্যানানি
-----------------------------------------------------

এইসব ভাবে দিন কাটানোর চেষ্টা করে গেছি। ছাতার মাথা রাত সময়টা এমন বদমাশ কেন? আর আম্মু তুমিও পারো, যতদিন ছিলে সারাক্ষন জ্বালাতাম ডেকে ডেকে, তাই বলে তুমি এখন তার প্রতিশোধ নেবে? একটু সময়ও কি তুমি আমার থেকে দূরে থাকতে পারো না?

মাঝে মাঝে শরীরের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, শক্তিমান মনটা বিজয়ের হাসি দিয়ে তাকে চালিত করে। আমি কোন ফাঁকে নেহাত অনিচ্ছায় উঠে পুরানো ডায়েরীর ভেতরে কি খুঁজতে লাগলাম কখন যেন, কখন? জানিই তো না! কি একটা বেরিয়ে এলো পাতার ভেতর থেকে, আর আমি......


// আমার ছোট,

আমার সোনার মা। তোমার চিঠি পড়ে আমার কান্না আর ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের ছেড়ে তোমরা আর তোমাদের ছেড়ে আমরা, এই যে কঠিন সময়টা যাচ্ছে, এই সময়টাই কিন্তু বাস্তব এবং সত্য। এভাবেই কিন্তু আমাদের ছেড়ে থাকতে হবে। কাজেই এখন থেকেই একটু একটু করে অভ্যাস করে নাও।

তবে আল্লাহ তোমার আব্বু আর আমাকে যতদিন বাঁচিয়ে রাখবে, ততদিন ইনশাল্লাহ তোমাদের কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করবো।
.
.
তোমার কষ্ট আমি বুঝি। কিন্তু জীবনে বড় হতে হলে কষ্ট যে করতেই হবে।

"বল জীবন কি সুন্দর হত এমন
যদি একটুও ব্যথা নাহি থাকতো।"
.
.
আমার জান, আমার সোনার মা, এই তো আর দুটো মাস। তারপরই আমি চলে আসবো। আমি এসে ৩ মাসের আদর একসাথে করে তোমার মনটাকে কানায় কানায় ভরে দেব।
.
.
আজ আর নয়। তোমাকে আমার আদর এবং চুমু দিয়ে শেষ করছি।

ইতি,
তোমার 'মা'। //

-------------------------------------------------

নাহ, আমার অত আবেগ নেই। আমি তোমার চিঠি পড়ে কাঁদব কোন দুঃখে? আমি কি এত বোকা নাকি?

.........কেন আমি এত বোকা?

[ প্রথম পাতার জন্য নয় ]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28710447 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28710447 2007-05-13 23:50:42
চামেলী হাতে মানুষটা- শুভ জন্মদিন
না, এই বোধ আমাদের সবার নয়। সবাই আমরা নিজেকে নিম্নমানের মানুষ বলে আখ্যা দিয়ে নিজের মুখোমুখি দাঁড়াবার সাহস রাখি না।

চামেলী হাতের নিম্নমানের মানুষ -- সামহোয়ারইনের একজন ভীষন অনিয়মিত এবং ভীষন মূল্যবান ব্লগার। সংখ্যার বিচারে খুবই অল্প কিন্তু ভীষণ দামী পোস্টগুলো দিয়ে নিজের বোধের গভীরতার জগতে টেনে নিয়ে গিয়েছেন যিনি আমাদের অনেককেই।

আজ ৯ মে। চামেলী ফুল হাতের লাজুক মানুষটির জন্মদিন।

শুভেচ্ছার সাথে একটা ছোট্ট অনুরোধ, অনেক ব্যস্ততার মাঝেও, ছোট্ট ধাক্কাগুলো দিয়ে আমাদের আবার একটু সময় দেয়া যায় না?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28709836 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28709836 2007-05-09 19:04:23
নিভৃত প্রাণের দেবতা সংসারগাহনে নির্ভয়নির্ভর, নির্জনসজনে সঙ্গে রহো।।
অধনের হও ধন, অনাথের নাথ হও হে, অবলের বল।
জরাভারাতুরে নবীন করো ওহে সুধাসাগর।।"

অনেক কিছু লিখতে গিয়ে থমকে যাই, মনের যত রকম আবেগ-অনুভূতি তার সবটুকু নিয়ে কোন না কোন ফাঁকে যেন লিখা হয়ে গিয়েছে তোমার ... কেমন করে একজন মানুষ সব মানুষের প্রাণের ভেতর বসে থাকেন? কেবল মুগ্ধতা, অপার বিস্ময় নিয়ে আমার অবনত হওয়া, অণুক্ষণ।

আজ ২৫ শে বৈশাখ, তোমার বানীতেই অসীম কৃতজ্ঞতায়, শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায় তোমায় প্রণমী গুরু। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28709636 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28709636 2007-05-08 14:40:08
বাকি দু'আনার আশায়
এরপর? আলাদা হয়ে যাবে কি সেই হাতগুলো? নাকি আরো আঁকড়ে ধরবে পরস্পরকে?

পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, হারিয়েই যাবে কি? একেবারেই?

হায় "বিশ্বাস"...হায় আমার এতদিনের শ্রেষ্ঠতর অনুভূতি, তুমি মিথ্যে হয়ো না। কখনও তোমার অপমানে ভেঙ্গে যেতে দিও না কারো বন্ধুতা। বন্ধুতা বেঁচে থাকুক বিশ্বাসের গাঁথুনীতে, শ্রদ্ধায়।

"সব নির্মল কর, পবিত্র কর হে"।

ততক্ষণ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি সুমন চাটুজ্জের আশ্বাসে...একের পর এক সুরময় উদাত্ত কবিতার বিশ্বাসে। "তোমার ওই দেহাতি গান, দোলে যখন বাঁশির মুখে, আমাদের নকল ভন্ড কৃষ্টি চালায় করাত বুকে"।

হাল ছেড়ো না বন্ধু...কেমন করে ছাড়ি ? আমরা যে এই আকালেও স্বপ্ন দেখি!

জানি--

"কখনও সময় আসে
জীবন মুচকি হাসে
ঠিক যেন পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা
অনেক দিনের পর
মিলে যাবে অবসর
আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু আনা।

আশা নিয়ে ঘর করি
আশায় পকেট পুড়ি
পড়ে গেছে কোন ফাঁকে চেনা আধুলী।
হিসেব মেলানো ভার
আয় ব্যয় একাকার
চলে গেলো সারাদিন এলো গোধুলী।
সন্ধ্যে নেবে লুটে
অনেকটা চেটেপুটে
অন্ধকারের তবু আছে সীমানা।
সীমানা পেরুতে চাই, জীবনের গান গাই
আশা রাখি পেয়ে যাবো বাকি দু'আনা।।"]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28708722 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28708722 2007-05-02 16:57:58
আ ট্রিবিউট টু শাজনীন
সুকান্ত অনেক প্রভাব ফেলেছিলো বড় হবার সময়গুলোতে। "দীর্ঘ নয় তীব্র জীবন চাই"-কে বলেছিলো প্রথম? জানি না, কিন্তু সুকান্ত ভট্টাচার্য নিজেকে উদাহরন করে রেখে গেছেন এই শ্লোগানের।

আজ কিন্তু সুকান্তর কথা লিখতে বসি নি। যার কথা ভাবছি, সে অতি সাধারণ একজন। স্কুলপড়ুয়া কিশোরী--কুতসিত নির্যাতন আর মর্মান্তিক হত্যার পর পত্রিকার আর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার লাইম লাইট হয়ে এসেছে যে আমাদের সামনে - শাজনীন।

না, শাজনীন ঘটনার বর্ণনা, বিচার প্রক্রিয়া এসব কোন কিছুই লিখব না। গত নয় বছরে অজানা নেই আমাদের কোন কিছুই। আমরা পড়ি, আবার ভুলে যাই। এরকম কত ঘটনা হরহামেশা ঘটে চলেছে আমাদের আশে,পাশে,সামনে,পেছনে। নতুন কিছু তো নয় এসব, আমরা কেন আর মাথা ঘামাবো? বরং ধনাঢ্য পরিবার বলেই হয়ত এত বছরের হাল ছাড়ে নি তার পরিবার, চালিয়ে যেতে পারছে বিচার-প্রক্রিয়া, দীর্ঘ নয় বছর ধরে।

আজ শাজনীনের মৃত্যুবার্ষিকী। না না, আমি মনে করে বসে আছি, তেমনটা মোটেই নয়। পেপার দেখে মনে পড়লো। আর হঠাত কেমন একটা ব্যথা বুকের মধ্যে-- ১৯৯৮, ১৫ বছর বয়স... বেঁচে থাকলে সে আজ আমার বয়সী হত!

পৃথিবীর প্রতি তীব্র ঘৃণা আর অভিমান নিয়ে তোমাকে চলে যেতে হয়েছিলো। তোমার বয়স আটকে গেছে ১৫ তে, তুমি বড় হলে না, তুমি জানলে না পৃথিবীর ঘৃণ্যতম মানুষগুলোই সব নয়... এখনও মানুষ যে শাজনীনকে কখনো দেখেনি, জানে নি, সেই অচেনা ১৫ বছরের কিশোরীর জন্য প্রার্থনা করে, এখনো পৃথিবীতে ভালোবাসা বেঁচে আছে,বেঁচে আছে বন্ধুতা, বিশ্বাস কর! শাজনীন, আমার সেই ১৫ বছরের বিশ্বাসের জগত নাড়িয়ে দেয়া অচেনা বন্ধু - তুমি শুনতে কি পাও?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28707364 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28707364 2007-04-22 14:11:56
পরিবর্তিত ব্লগ নিয়ে - ভালোমন্দ
এখন নিজেকে কিছুটা সময় দিয়ে মাথা ঠান্ডা করে আমি যা ভাবছি---

১। ইউনিকোড আসাটা খুব প্রয়োজন ছিলো, দেরি হলো বরং অনেক। তবে যারা কখনো ইউনিকোড ব্যবহার করেন নি তাদের কাছে হুট করে এটাকে শত্রু মনে হতেই পারে। এক্ষেত্রে ইউনিকোড চালু করার আগে এই সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে একটা পোস্ট দেয়া উচিত ছিলো ব্লগ কর্ত্রৃপক্ষের। তাহলে একে ওকে জিজ্ঞেস করে নয় বরং সেই আউটলাইন ধরে প্রত্যেকে ধীরে ধীরে ইউনিকোডে অভ্যস্ত হয়ে উঠতেন।

২। ব্লগ বিরক্তির মুল কারন ব্লগের পরিবর্তিত চেহারা। এই ধরনের রঙচঙ্গে চেহারা কি সব সময়ের জন্য আদৌ গ্রহনযোগ্য? ইন্টারনেটে অনেক ধরনের সাইটের নানান রকম চেহারা দেখে দেখে আমরা সবাই-ই অভ্যস্ত। কিন্তু, এই সাইট--যেখানে নিত্য দিনলিপির চাইতেও অনেক বেশি আগ্রহ নিয়ে আমরা খুব অসাধারণ অনেক সাহিত্য পড়ি, তার চেহারা এতটা রঙ্গচঙ্গে হলে কি মানায়? একটু হালকা, রুচিসম্মত, অন্তত চোখের ওপর কটকটে প্রভাব ফেলে না এরকম সহজ-স্বাভাবিক কিছু করা তো কোন সমস্যা হবার কথা না। সেটাই আশা করছি।

৩। সবার রেগে যাবার আরেকট বড় কারন হচ্ছে--পুরনো মন্তব্য মুছে গিয়েছে। আশা করছি এটা ঠিক করে ফেলবেন হাসিন ভাইয়েরা। এবং খুব তাড়াতাড়ি।

৪। পোস্ট সংশোধন করার পরে সেটা যখন আবার পোস্ট করা হচ্ছে তখন আর তা প্রথম পাতায় আসছে না, এটা তো খুব বড় রকমের সমস্যা! এটাও আশা করি ঠিক করে ফেলা হবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।

৫। টপ রেটেড পোস্ট -- এর কি কোন দরকার ছিলো? শুধু শুধু একটা ডিস্ক্রিমিনেশন।

৬। নতুন যা যোগ হয়েছে তার মাঝে আছে--কারা সাম্প্রতিক ব্লগ দেখেছে তাদের তালিকা, একটা পোস্ট কতবার পড়া হয়েছে তার সংখ্যা, রেটিং ব্যবস্থার পরিমার্জন, দিনলিপি, প্রিয় পোস্টের তালিকা, এক মাসে কতগুলো পোস্ট করা হয়েছে একজন ব্লগারের তার সংখ্যা,পোস্ট করার সময় হিসেবে আগে ভুতুড়ে একটা সময় দেখানো হতো, এখন বাংলাদেশ সময় দেখা যায়--আপাতত এই মনে পড়ছে। এই সবগুলোই বেশ ভালো। বিশেষ করে একটা পোস্ট কতবার পঠিত এবং পোস্টের বাংলাদেশ সময়- এই দু'টো খুবই ভালো হয়েছে। আমার তরফ থেকে এজন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানাছি ব্লগ কর্ত্রিপক্ষকে। তবে একজনের সবগুলো পোস্টের তালিকা ছিলো আগে, সেটা তো ভালো ছিলো অনেক, ওটা ফিরিয়ে আনা যায় না?

পরিবর্তন মানেই গতিশীলতা। কিন্তু যেকোন পরিবর্তনকেই গ্রহনযোগ্যতা পেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। এত্তগুলো পরিবর্তন একসাথে করে একটু যেন বোকামী করা হয়েছে। একটু একটু করে যেত। সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতা পেতে কাজেই সময় তো লাগবেই। যা যা ভুল সবাই টুকটাক ধরিয়ে দিচ্ছেন, তার একটা সারাংশ করে ব্লগ কর্ত্রিপক্ষ যদি তা শুধরে নেন তাহলে তো অসন্তোষের সমাধান হয়। সেটা যত তাড়াতাড়ি হয় ততই মঙ্গল।

পুনশ্চঃ ব্যক্তিগত একটা দুঃখ প্রকাশ করেই ফেলি। আজ অনেক দিন পরে আমার প্রিয় “লালচে বেগুলী” রঙ বাদ দিয়ে কালো কালিতে লিখছি। কিরম কিরম যেন লাগছে। রঙ দেয়ার ব্যবস্থাটা কি আবার করা যায় না?
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28706309 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28706309 2007-04-15 18:52:37
বৈশাখ আইলো রে নয়া বছরে http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28706306 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28706306 2007-04-15 18:42:42 মুশফিকুর, স্যালুট ব্রাদার
এক্কেবারে স্কুল-পড়ুয়া কিশোরের মুখশ্রী, ভীষণ মায়াবী--আমাদের মুশফিকুর রাহিম। খুবই বিরক্ত হয়েছিলাম খালেদ মাসুদ পাইলটের পরিবর্তে তাকে দলে নেওয়ায়। তারপর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দেখিয়ে দিলো নিজের যোগ্যতা। এরপরে টুকটাক ভুল করেছে অবশ্য প্রায় প্রতি ম্যাচেই (ওই ম্যাচগুলোয় বাংলাদেশের কেই বা আর ভালো খেলেছে?)। কিন্তু আজ তার ছোট্ট একটা সিদ্ধান্ত কোথায় নিয়ে গেলো বাংলাদেশের স্কোর!

নিজের নিশ্চিত নিরাপদ অবস্থান থেকে উলটো দৌড়ে এসে এইটুকু বয়সে ভীষন দায়িত্ববানের মত আশরাফুলকে বাঁচিয়ে দিলো মুশফিকুর দলের প্রয়োজনে। আর সেই দাম খুব ভালোভাবেই দিলো আশরাফুল। নিজে 87, এবং বাংলাদেশ পুরো 50 ওভার খেলে 251/8!

একজন খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে গেলে, আর পুরো 50 ওভার খেলতে পারলে কতদূর যাওয়া যায়! খুব ভালো লাগছে সত্যিই। এবং অনেক দিন পরে একটু একটু জেতার আশাও হয়ে যাচ্ছে!

গুড লাক বাংলাদেশ!]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28705265 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28705265 2007-04-07 13:27:51
হুদাই
রিমাইন্ডারে কাজ হলো না, সামান্য এডিট করে ওখানে আগামীকালের তারিখ দিয়ে দিয়েছি। দেখি কাল হয় কিনা!

আজব দিন কাটছে, ভালো লাগার মত যা দেখি সবই স্মৃতি। সবচেয়ে ভালো লাগার স্মৃতিগুলো আবার রিনিউ করার একটা প্রবল সম্ভাবনা আছে, সেই আশায় বসে আছি, যার জন্য দেশ ছাড়ার মত ভয়াবহ কঠিন দাম দিতে হবে--কষ্ট কষ্ট অনুভূতি নিয়ে লাল-সবুজ রঙের যেকোন কিছুর দিকে তাকাই, বুকের মধ্যে তীব্র একটা ব্যথা কেমন জানি চিনচিন করে--যাবো গা দেশ ছাইড়া? আমিও?!

কিন্তু ওপর থেকে নাটের গুরু হাসেন..."যেতে যখন চাস না এখুনি, থেকে যা আর ক'টা দিন"...তিনি যখন হেসেছেন, সে হাসিকে সমর্থন করে সামান্য পাসপোর্টটাই হয় না আমার তিন মাসেও! কেন?--জরুরী অবস্থার ক্যাচাল। সুতরাং ভিসা বহুত দূরের কথা।

আমি পড়েছি মহা ফান্দে...দেশ ছাড়ব ভেবে যেখানে কান্নাকাটি অবস্থা সেখানে এখন যেতে পারছি না বলে মন খারাপ করে বসে থাকি। হাসান মোরশেদ ভাই কবে যেন আমাকে বলেছিলেন, "ভালো থাকার জন্য দীর্ঘ ক্লান্তিকর অপেক্ষা"। মাঝে মাঝে ভাবি খুব হাই পাওয়ারের ধৈর্যবটিকা খাওয়ানো হয়েছে মনে হয় আমাদের। নইলে বছরের পর বছর এমন করে...কেমন করে?![/রং]
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28705043 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28705043 2007-04-05 07:22:40
অকারণ মুঠোফোনে আঙুল ঘোরাতে
ইচ্ছা করে না আর।

পাশ ফিরে,
চুল ছুঁয়ে,
চোখ ছুঁয়ে,
জ্যান্ত হয়ে
জানান দিতে ইচ্ছা করে--
আসলে সকাল কি সুন্দর!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28704691 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28704691 2007-04-02 19:13:37
নিশীথরাতের বাদলধারা আমার স্বপনলোকে দিশাহারা ।।

ওগো অন্ধকারের অন্তরধন, দাও ঢেকে মোর পরান মন --
আমি চাই নে তপন, চাই নে তারা ।।

যখন সবাই মগন ঘুমের ঘোরে নিয়ো গো, নিয়ো গো,
আমার ঘুম নিয়ো গো হরণ করে।

একলা ঘরে চুপে চুপে এসো কেবল সুরের রূপে--
দিয়ো গো, দিয়ো গো,
আমার চোখের জলের দিয়ো সাড়া ।।

রবীন্দ্রনাথের কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই, আজ আবার প্রণতি জানাচ্ছি তোমায় গুরু।

নির্ভুল সুর এবং নোটেশানে অর্ণবের গীটার এবং কি-বোর্ডের আধুনিক কম্পোজিশানে শাহানা বাজপেয়ীর কণ্ঠে গাওয়া এই গানটার wjsK দিলাম। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702902 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702902 2007-03-20 14:48:01
হৃদয়পাত্র উচ্ছলিয়া
আজ দিনটার শুরুই যে অন্য রকম, আজ ভাঙুক সব নিয়ম।

বারান্দার ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে আজ বহুদিন পরে বিকালটাকে বড় সুন্দর মনে হলো আমার। বিকালের নরম হলুদ আলো বুঝি সত্যি এত সুন্দর হয়! কতদিন আমি দেখিনি, কতদিন চোখ বুঝে ছিলাম, কত বছর?

পাশে রাখা সাদা খামটার দিকে চোখ পড়ে আবার। আজই সকালের ডাকে হাতে এলো। প্রাপকের নাম বরুণা। চমকে উঠেছিলাম, এই নামে আমাকে কেউ ডাকে না আজ কত বছর!

...তারপর...তীব্র আবেগে সংবরনহীন জলোচ্ছ্বাস দু'গাল বেয়ে। না, আজ আর কোন খেদ নেই, কোন অভিযোগ নেই আমার জীবনের কাছে। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কি অপূর্ব উপহার, কি শান্তি ! আজ আমি পরিপূর্ণ।

আজ সেই চিঠি এলো, যে চিঠির প্রতিক্ষায় দিন গুনেছি আমি জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে, যে কথার শুণ্যতায় এত বছরের পূর্ণ সংসারে সব থেকেও কিসের এক অপূর্ণতা ঘিরে ছিলো আমাকে--আজ তা-ই রঙীণ ঘুড়ির মত উড়ে উড়ে আমার দরজায় আটকা পড়েছে...আর কি চাইবার থাকলো আমার জীবনের কাছে?

"বরুণা,
খুব চমকে গেছো বুঝি আজ এতদিন পরে আমার চিঠি পেয়ে! অথবা উলটোটাও হতে পারে, হয়তো বিরক্ত, কিছুটা বিব্রত। কিন্তু এতটা বয়সে, এত দিন পরে তোমাকে লিখতে গিয়ে আমার কিন্তু চমক, বিরক্তি বা বিব্রতবোধ--এর একটাও হচ্ছে না।

দেশে গিয়েছিলাম গত বছর, কি আশ্চর্য অঞ্জনের মৃত্যুর খবর আমি সেবার মাত্র পেলাম জানো? তখনই তোমাকে লিখতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কি এক অস্বস্তি, যা এতগুলো বছরে তোমার থেকে আমাকে দূরে রেখেছিলো -- আবারো আমাকে আটকে দিলো। থাক সে কথা। তোমার মেয়ে কেমন আছে? অনেক বড় হয়েছে নিশ্চয়ই? তোমার মত মুখ আর অঞ্জনের মাথা পেয়েছে শুনলাম নীলার কাছে।

আমার ছেলেমেয়ে দুটোও খুব ভালো, আমার মত নয়, নীলারই মত- ভাগ্যিস, আমার মত হলে নীলাকে একসাথে তিনটা পাগল সামলাতে হোত!

বরুণা, আজকাল শরীর ভালো থাকে না জানো? বয়স ধরে ফেললো বুঝি আমাকেও। সব সময়ের হাসিখুশি থাকা এই আমি মাঝে মাঝেই বড্ড আনমনা হয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যাই। অতীত মনে পড়ে কেবল। মনে পড়ে দেশের কথা, আমার মফস্বলের শান্তিমাখা কৈশোর, প্রথম যৌবনের ইউনিভার্সিটি জীবন, প্রথম চাকরী স-ব। আর মনে পড়ে খুব ছোট্ট একটা সময়ে বিদ্যুতের মত আমার জীবন ঝলকে দেয়া তোমার কথা! বয়স বাড়লে বুঝি এমনই হয়? যা কিছু চলে গেছে তার কাছে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে কেবল বারবার? তোমারও কি তাই হয় বরুণা?!

কত কিছু বলছি কেবল, থাক আজ। তুমি ভালো থেকো, ঠিক তোমার নিজের মত করে।

ইতি,
অরুনাভ।

পুনশ্চ: কেন আমি এমন হয়েছি বল তো? যে কথা বলব বলে আজ এত দিন পরে তোমাকে লিখতে বসেছি, এখনও তাই বলা হলো না! বরুণা, সেদিন তোমাকে ফিরিয়ে দিয়ে অনেক কষ্ট দিয়েছিলাম জানি। কিন্তু আজ জীবনের এতটা পথ পাড়ি দিয়ে যে কথা বলা অর্থহীন, তাই খুব বলতে ইচ্ছা করছে... বরুণা--তুমি জানো না, আমিই জানতে দিই নি, আজ বলছি, তোমাকে আমি ভালোবেসেছিলাম।


[ইটালিক]ইন্সপায়ার্ড বাই গি দ্য মোঁপাসা। ছবি- ইন্টারনেট থেকে পাওয়া, নাম-The Desire From Your Hidden Bones [/ইটালিক]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702769 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702769 2007-03-19 07:48:07
তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা
এবার মোবাইলটা হারিয়ে লাভ যেটা হলো, রেডিও-ওলা একটা সেট কিনে ফেললাম। দামী কিছু নয়, কিন্তু এখনকার সাধারণ মোবাইলেও এই প্রযুক্তিটা থাকে। এখন সারাদিন এফএম রেডিও শুনি, দারুণ লাগে। যারা দেশের বাইরে আছেন, তারা সত্যি বঞ্চিত হচ্ছেন বাংলাদেশের গানের এই নতুন রেভ্যুলিউশানের আনন্দটা থেকে। নতুন কখন কি গান আসছে তার সব জানতে পারছি এখান থেকে, সেই সাথে বহুদিনের পুরনো গানগুলোও ওরা খুঁজে খুঁজে বের করে বাজায়। মোট কথা, বিভিন্ন স্বাদের নানা রকম গানের একটা সংগ্রহ সারাক্ষন সাথে থাকে।

3/4 দিন আগে, দুপুরবেলা ল্যাবের অবসরে বসে আছি--কানে লাগালাম রেডিওর হেডফোনটা। স্বাধীনতার মাস--বেজে উঠলো আমার গান, "ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা"। ক্লান্ত দুপুরে চোখ বন্ধ করে শুনতে শুনতে আনমনে গেয়ে উঠি আমিও সাথে সাথে, বন্ধ চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি।

দেশ মা আমার, নিজের মা আমাকে ছেড়ে গেছে...আমি যদি কখনো ছেড়ে যাই তোমাকে, তুমি কি আমায় ক্ষমা করবে মা?


ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা।
তোমাতে বিশ্বময়ীর, তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা।।

তুমি মিশেছ মোর দেহের সনে,
তুমি মিলেছ মোর প্রাণে মনে,
তোমার ওই শ্যামলবরন কোমল মূর্তি মর্মে গাঁথা।।

ওগো মা, তোমার কোলে জনম আমার, মরণ তোমার বুকে।
তোমার 'পরে খেলা আমার দুঃখে সুখে।

তুমি অন্ন মুখে তুলে দিলে,
তুমি শীতল জলে জুড়াইলে,
তুমি যে সকল-সহা সকল-বহা মাতার মাতা।।

ও মা, অনেক তোমার খেয়েছি গো, অনেক নিয়েছি মা--
তবু জানি নে যে কী বা তোমায় দিয়েছি মা!

আমার জনম গেল বৃথা কাজে,
আমি কাটানু দিন ঘরের মাঝে--
তুমি বৃথা আমায় শক্তি দিলে শক্তিদাতা।।


ছবি [link|#http://www.flickr.com/photos/mrhasan/421302250/|K]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702222 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28702222 2007-03-14 22:57:04
[is=#4682B4]wk
ঠিক হচ্ছে তো? কোথাও কোন ভুল ? শেষটায় কি দাঁড়াবে? চরম উৎকণ্ঠিত হৃদয়ে অতঃপর শেষ হয় আমার শিল্পকর্ম!

আমি তাকিয়ে মুগ্ধ হই, বারবার পরখ করি! তৃপ্তির নিঃশ্বাসে বলি, " এ একান্ত আমারই হাতে গড়া"।

এবং তারপর, নিজের শিল্পকর্মের একটা নাম দিব বলে ভাবি। নাহ, নতুন করে নাম দেবার কিছু নেই, পুরনো নামেই তাকে নতুন করে ডাকি, " টমেটো দিয়ে ডাল" !

জি ভাই, রন্ধন! ইহা এক প্রকার শিল্প-- দেখাও যায়, এবং খাওয়াও যায়!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28701559 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28701559 2007-03-09 13:34:02
...পরীক্ষাশেষের জট-ভাবনা
নাহ, আর বেশি দিন আফসোস করতে হবে না, পরীক্ষা অবশেষে শেষ হতে চললো, আর মাত্র একটা বাকি। আর সেই একটা দিন আসতে বাকি আছে মাত্র 2 দিন। পরীক্ষা শেষ করে কি কি করব এইসব প্ল্যান করে করে এখনি সময় কাটানো শুরু হয়েছে-- বইমেলা গেলো মাত্র- নিজের এবং বন্ধুদের কেনা বই মিলে অনেকগুলো বই পাওয়া গিয়েছে পড়ার জন্য, শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ক্রিকেট, খুব ভালো কিছু মুভি জমে আছে দেখার জন্য, ব্লগিং তো আছেই--আর সবকিছুর শেষে নতুন খবর পেলাম আমার স্কুলজীবনের অসম্ভব প্রিয় বন্ধু তন্বী আসছে সুদূর জাপান থেকে-- সব মিলে আসন্ন ছুটি কাটানোর আনন্দের কথা ভেবে এখনই চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠছে!

কিন্তু জানি না কেন আনন্দ আর আনন্দের ভাবনাগুলোর স্থায়ীত্ব বেশিক্ষণ হয় না...। ঝট করেই মনে পড়ে গেলো থার্ড ইয়ার ফাইনালের কথা। পরীক্ষার সময়ের খুব কমন একটা ব্যাপার, পরে কি হবে এটা ভেবে সময় কাটানো। সেবারও হাজার প্ল্যান করলাম। বাসায় পড়া হয়না বলে পরীক্ষার সময়টা আমি হলেই থাকি। সেবারও পরীক্ষার টানা দেড় মাস হলে ছিলাম। বাসার সবার কথা খুব মনে পড়তো, আর মনকে সান্তনা দিতাম, আর তো মাত্র কটা দিন...আগস্টের 23 তারিখ, পরীক্ষাটা খালি শেষ হোক না, একদম ফাটাইয়া ফেলব!

আমি আদৌ কিছু ফাটিয়েছিলাম কিনা মনে নেই, কিন্তু কপাল বলে কি একটা জিনিস নাকি আছে মানুষের...থাকলে ওইটা আমার ফেটেছিলো বোধ করি, ঠিক 23 আগস্ট, আমার পরীক্ষা শেষের আকাংখিত দিনটিতে...। অপেক্ষার অবসান সব সময় হয় না, সেই দিন বুঝেছিলাম আমি। তাই মায়ের সাথে জমে থাকা গল্পগুলো আর কখনও করা হলো না আমার, দেড় মাসের অপেক্ষা হয়ে গেলো অনন্তকালের।

অনার্স ফাইনালের এই শেষ পরীক্ষাটার আগে সব কিছু ছাপিয়ে প্রতিটা মুহুর্তে সেই দু:সহ স্মৃতিই কেন যে মনে পড়ছে মামণি, পড়তে পারছি না, কোন কিছুতে মন বসাতে পারছি না...এত দিন পরে বোকার মত আবারও প্রশ্ন করি, আম্মু, তুমি কেন চলে গেলে?]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28700587 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28700587 2007-03-01 07:33:31
বাঙালীয়ানায় পূজা
ইউনিভার্সিটি হল মানেই বৈচিত্র্য, একটা না একটা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। সবচেয়ে মজার অনুষ্ঠানের মধ্যে একটা হলো সরস্বতী পূজা। সরস্বতী বিদ্যার দেবী, তাই বিদ্যালয়গুলোয় খুব গুরুত্বের সাথে পূজা দেয়া হয় তাকে। সকালে ঘুমই ভাঙলো ভক্তিমূলক গানের সুরে। তারপর কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমুল ঢাকের শব্দে আর উলুধ্বনিতে যখন মুখরিত চারদিক, পড়াশুনা শিকেয় তুলে ছুট লাগালাম। নিজের হলে একটা চককর মেরে চারপাশের আনন্দিত আর উৎসব মুখরিত মুখগুলোয় উৎসাহী হয়ে বেরিয়ে পড়লাম জগন্নাথ হলের উদ্দেশ্যে।

জগন্নাথ হলের মন্ডপ- সম্ভবত পুরো ঢাকার মধেই সবচেয়ে আকর্ষনয়ীয় পূজা পন্ডপ, ইউনিভার্সিটির সব ডিপার্টমেন্টই আলাদা করে মন্ডপ সাজায়, পূজো দেয়। এত্ত বড় একটা হলের সম্পূর্ণটা জুড়ে এত এত মন্ডপ-- কে কার চে বেশি সুন্দর করে মন্ডপ সাজাতে আর নিজেরা সাজতে পারে তার যেন প্রতিযোগীতা চলে। বরাবরের মতই সবচেয়ে আকর্ষনীয় মন্ডপটি চারুকলার, হলের পুকুরটার মাঝে অসাধারণ করে তারা সাজিয়েছে সরস্বতী দেবীকে। সারা ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষের ঢল নামে পূজা দেখতে। প্রত্যেকেই যত্ন করে সেজে এসেছে পূজা উপলক্ষ্যে। আমার পরীক্ষার চাপে গুমোট হয়ে থাকা মনটা উৎসবের রঙে রঙীন হয়ে ওঠে। শাড়ি পড়া হলো না এবার, তাতে কি কপালে আবীর মাখতে ভুলিনি। নিজের ডিপার্টমেন্টের পূজা মন্ডপ থেকে টুকটুকে লাল রঙের আবীর আঙুলে মাখিয়ে লম্বা একটা টান দেই কপালের বড় লাল টিপটার ঠিক ওপরে।

সন্ধ্যা নামতে ফিরে আসি নিজের হলে। পূজা উপলক্ষ্যে কনসার্টের আয়োজন। এবারের শিল্পী সন্দীপন। সন্দীপনের গান আমার খুব পছন্দের, কিন্তু ভয় হচ্ছিলো কনসার্ট কি জমাতে পারবে? কিন্তু আশ্চর্য হয়ে দেখলাম যেখানে বড় বড় ব্যান্ডস্টাররাও মার খেয়ে যান কখনো কখনো হলের ছাত্রীদের চাহিদার কাছে, সেখানে চট্টগ্রামের অপরিচিত কিছ ুআঞলিক গান গেয়ে কেবল অসাধারণ পারফরমেন্স দিয়ে সন্দীপন আসর মাতিয়ে তুললেন। দেশীয় গান, ঐতিহ্যবাহী ঢোলের বাজনায় মুগ্ধ হয়ে মেতে রইলাম আমরা সবাই। গানের ফাঁকে ফাঁকে সন্দীপণ যখন চিৎকার করে উঠছিলো, " সরস্বতী মা কি..." আমরা তাল দিচ্ছিলাম " জয়" !

বড্ড বেশি এগিয়া যাওয়া আধুনিকতা, আর একইসাথে ভীষণ মুখ থুবড়ে পড়ে থাকা গোঁড়ামি বুঝি এমন করেই প্রতিনিয়ত মার খেয়ে যায় বুকের মধ্যে গেঁথে যাওয়া বাঙালিয়ানার কাছে। উৎসব এমনি করে, নতুন করে প্রতি বছর, প্রতি মুহুর্তে, প্রতি পর্বে আন্দোলিত করবে আমাদের, নতুন করে জন্ম দেবে আমাদের আজীবনের পুরনো বাঙালীয়ানার-- এটাই আজন্ম বিশ্বাস।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28695110 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28695110 2007-01-24 07:58:57
সব কটি চাপা ফুল দিলো ফুটাইয়া
"সহসা থামিয়া গেলো সৌর অবর্তন
সহসা সহস্র পক্ষি তুলিলো গুঞ্জন
সহসা দক্ষিনা বায়ু শাখা দুলাইয়া
সব কটি চাপা ফুল দিলো ফুটাইয়া!"

হুমম, কেমন করে যেন অবশেষে ব্যাপারটা ঘটেই গেলো...ব্যাপারটা, মানে আমাদের বিয়েটা -- আমার এবং কনফু'র! এই নিয়ে আর কিছু বলছি না, শুধু[/রং] [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িংড়সবযিবৎবরহনষড়ম.হবঃ/ড়ৎড়ঢ়রনষড়ম/ঢ়ড়ংঃ/28692159]পিয়াল ভাইয়ের[/লিংক] [রং=#800080]কাছে কৃতজ্ঞতা, আমাদের আগেই খবরটা ব্ল্লগে দিয়ে দেবার জন্য।

ঈদ, নতুন বছরের শুভেচ্ছা রইলো সবার জন্য, আর আমি থাকি আমার গানগুলো নিয়ে ------

"বিন্দু আমি তুমি আমায় ঘিরে
বৃত্তের ভেতর শুধু তুমি আছো...."[/রং]]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28692626 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/28692626 2007-01-02 06:00:55
আবার ফুটুক আশার ফুল http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/27022 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/27022 2006-12-06 09:47:17 হবে কি দেখা?
আজ রঞ্জনের সাথে আমার দেখা হবে।

জানলে কি করে?

হবে হবে, দেখা হবে। খবর এসেছে।

সর্দারের চোখ এড়িয়ে কোন পথ দিয়ে খবর আসবে?

যে পথে বসন্ত আসবার খবর আসে সেই পথ দিয়ে। তাতে লেগে আছে আকাশের রঙ বাতাসের লীলা।

তার মানে, আকাশের রঙ্গে বাতাসের লীলায় উড়ো খবর এসেছে।

যখন রঞ্জন আসবে তখন দেখিয়ে দেব, উড়ো খবর কেমন করে মাটিতে এসে পৌঁছল।"

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "রক্তকরবী" থেকে তুলে নিলাম। ভদ্রলোক সবার নিভৃত প্রাণের দেবতা, তাই কি করে যেন সেই কবে জেনে বুঝে বসে আছেন সবার মনের খবর। আমিও তার থেকে নিয়ে আমার সাথেই কথা কইলাম, প্রথম পাতার জন্য নয়।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/24142 http://www.somewhereinblog.net/blog/projapotiblog/24142 2006-11-11 23:42:43