somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিবিরে গণপদত্যাগ : শিবিরের মধ্য কি ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশ! ;) ;)

২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংগঠনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কার্যকরী পরিষদের ২৪ সদস্য গতকাল রাতে একযোগে পদত্যাগ করেছেন। রাত ১০টায় কার্যকরী পরিষদের এক সভা শেষে তারা এই গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর একে একে পদত্যাগপত্র পেশ করেন বলে শিবিরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।
শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবদুল্লাহ আল মামুন গত রাতে সমকালের কাছে গণপদত্যাগের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, গত ২১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। কারণ তখন পত্রটি কেন্দ্রীয় কমিটি গ্রহণ করতে রাজি হননি। তবে গত রাতে সেটি গ্রহণ করা হয়েছে। মামুন বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।
গতকাল রাত ১টায় এ প্রতিবেদন তৈরির সময় সর্বশেষ খবরে জানা যায় পদত্যাগকারীর সংখ্যা ২৪ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে রাতে সবার নাম জানা যায়নি। মোট ১২ জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন_ শিবিরের কেন্দ্রীয়
অফিস সম্পাদক আহমেদ জায়দুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবদুর জব্বার, পাঠাগার সম্পাদক আবুল কালাম আযাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আনিসুর রহমান, কেন্দ্রীয় কমিটির বিজ্ঞান সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সাঈদী, ঢাকা মহানগর পূর্ব শাখার সভাপতি মইন উদ্দীন, ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি মাকসুদুর রহমান. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি গোলাপ হোসেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুদ্দিন আহমেদ, শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি তাফাজ্জল হোসেন রুমেল।
শিবিরের কার্যকরী পরিষদ মোট ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট। পদাধিকারবলে বর্তমান ও সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এ পরিষদের সদস্য হয়ে থাকেন। নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে ২৪ জন পদত্যাগ করেছেন। বাকি ১২ জন আজ পদত্যাগ করতে পারেন। এরপর নতুন করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আনিসুর রহমান এ গণপদত্যাগের কথা স্বীকার করে গতকাল রাতে সমকালকে জানান, তারা পদত্যাগ করেছেন। কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে ইঙ্গিতে তারা দলীয় কোন্দলের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃশংসভাবে ছাত্রলীগ নেতা ফারুককে হত্যার পর সংগঠনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
তাৎক্ষণিক এ পদত্যাগের একাধিক কারণ জানা গেছে। মূলত সভাপতির বিরুদ্ধে অর্থআত্মসাতের অভিযোগে ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেকেই। আরেকটি বড় কারণ হলো, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিশির মুহাম্মদ মুনিরকে সভাপতির একক সিদ্ধান্তে সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া। শিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত সদস্যদের পরামর্শে মনোনয়ন দিতে পারেন। কিন্তু গত ২০ জানুয়ারি শিবিরের কার্যকরী পরিষদ গঠনের পর সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে কোনো রকম পরামর্শ না করেই একক ক্ষমতাবলে এক-তৃতীয়াংশ সদস্য মনোনয়ন দেন। যাদের অনেকেরই নাম শিবিরের কার্যকরী পরিষদ সদস্য নির্বাচনের সময় ব্যালট পেপারেই ছিল না। এতেও ক্ষুব্ধ হন পরিষদের সদস্যরা। সবশেষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংসতার পর ঘটনা ঠিকমতো সামাল দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয় সভাপতির বিরুদ্ধে।
২৪ কার্যকরী সদস্যের পদত্যাগের পর মঙ্গলবার রাতেই নতুন কার্যকরী পরিষদ পুনর্গঠনে শিবিরের বৈঠক শুরু হয়। রাত ২টায়ও বৈঠক চলছিল। তবে শিবিরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আজকালের মধ্যে বাকি সদস্যরাও পদত্যাগ করবেন। দুই-একদিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠিত হবে। তবে সভাপতি রেজাউল করিম পদত্যাগ করবেন কি-না তা এখনও পরিষ্কার করে জানা যায়নি।
পদত্যাগের এই ঘটনার বিষয়ে শিবিরের অভিভাবক সংগঠন জামায়াত নেতারা এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাতে চাননি। একজন এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হন। তিনি হলেন শিবিরের সাবেক সভাপতি এবং মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক হামিদুর রহমান আজাদ। গতকাল রাতে সমকালকে তিনি জানান, এটা শিবিরের অভ্যন্তরিন বিষয়।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের হামলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের কর্মী ফারুক হোসেন নিহত হন। এরপর শিবিরের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী চিরুনি অভিযান চালাতে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। গত দু'সপ্তাহ ধরে শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

http://www.shamokal.com/
১৬টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×