ক্ষমা করবেন যদি আপনার মতো করে বলতে না পারি, ক্ষমা করবেন যদি মনে করেন আমি একটু বেশী বেশী করছি। দু'টো রাত ধরে আমি ঠিক মতো ঘুমুতে পারছিনা। সকাল বেলার ক্লাসে গিয়ে মনোযোগ আমার ক্লাসের ব্ল্যাকবোর্ড থেকে জানালা দিয়ে চলে যায় হাডসন রিভারের দিকে। আমি তাকিয়ে আছি নদীর দিকে, কিন্তু নদীতে দেখার মতো তেমন কিছুই হচ্ছেনা। তাকিয়ে আছি সত্যি তবুও মনটা ছুঁটে বেড়াচ্ছে বাংলাদেশের চেনা জানা কোন গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ ধরে। শুধু ছুটছে আর ছুটছে, আমি এ গ্রাম থেকে ও গ্রামে, শহরের এ পথ থেকে ও পথ সব চষে বেড়াচ্ছি। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, মিরপুর থেকে সায়েদাবাদ কিংবা টঙ্গী থেকে সদরঘাট আমি কেবলই দোড়ে যাচ্ছি লাল সবুজের পতাকা হাতে। না, আমি একুশের গান গাইছিনা, ১৬ই ডিসেম্বর কিংবা ২৬শে মার্চের মত কোন দিবসের উদযাপন করছিনা। আমি স্বাধীনতার ডাক দিচ্ছি, এ স্বাধীনতা নিজেদের মুক্ত করার, স্বদেশী স্বৈরাচার শাসক, আমলা, রাজনৈতিক নেতা, ঘুষখোরদের হাত থেকে নিজের দেশকে বাচাঁবার। বাংলার কৃষকের শেষ সম্বলটুকু বাঁচাবার, দেশের বুকে জন্মানো পশুর হাত থেকে বোনের সম্ভ্রম বাঁচাবার, লক্ষ-কোটি গরীবের ধন মেরে যারা নিজের পকেট ভরে তাদের হাত ভেঙ্গে দেয়ার।
ভাবতে ভাবতেই দৃষ্টি সূক্ষ্ম হয়ে আসে, হাতের মুঠি শক্ত হয়ে যায়, গায়ের সবগুলো লোম জানান দেয় তাদের মৌন সম্মতির কথা, দাঁতে দাঁত ঘষে কিড়মিড় করে উঠি, কিছু একটা করে ফেলার প্রবল ইচ্ছায়। কিছুই করা হয়না, আমি আবার নিস্তেজ হয়ে যাই। হঠাৎ আবার কোন নতুন খবরে পাতায় দেখি, সেই একই গান, একই দৃশ্যপট সেই একই নাট্যমঞ্চ। নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনা, কিছু একটার ধ্বংস না দেখে আমার ভেতরের ক্ষুধা কিছুতেই নেভেনা। ইচ্ছে হয়, সব শু....র বাচ্চাদের পায়ের তলায় পিষে ফেলি। ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলি ওদের অস্তিত্বকে, নখের থাবায় ছিঁড়ে ফেলি বুকের ছাতি ধারালো ক্ষুরের মতো, বুকের পাঁজড়ের হাঁড় ভেঙ্গে ফেলি মুড়ি-মুরকির মতো।
আমার দেশের মাটিতে বসে তুই, ধ্বংস করছিস আমাদের, আমাদের টাকায় করছিস আমোদ-প্রমোদ, করছিস জলসা ঘর, দিচ্ছিস গণতন্ত্রের বুলি, গরীবের পেটে লাথি মেরে তুই যাচ্ছিস তোর রাজ প্রাসাদে, ক্ষুধার্ত শিশুর মুখের অন্ন কেঁড়ে তুই খাচ্ছিস কোর্মা-পোলাও। ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট গলায় ঝুঁলিয়ে, শোনাচ্ছিস দেশপ্রেমের কথা, শেয়ারবাজারে আগুন দিয়ে তুই থাকছিস চুপ, কালো-টাকা সাদা করে তুই ভরছিস তোর সুইস ব্যাংক একাউন্ট, তোর রক্ত থেকে জন্ম নিচ্ছে একুশ শতকের রাজাকার, মজদুরের টাকা মেরে তুই ফুলে-ফেঁপে উঠছিস পেটুক জোঁকের মত।
শু....র বাচ্চারা ফিরিয়ে দে আমার দেশ, আমার মাটি, ফিরিয়ে দে আমার হারানো ৪০টা বছর, কৃষকের ঘামে ভেজা ফসল, ফিরিয়ে দে গণতন্ত, ভাত দে অনাহারীর মুখে, নয়তো তোর রক্ত খাবো, বেয়নেটের খোঁচায় উপড়ে ফেলবে তোর চোখ, কেটে কুঁচি কুঁচি করে তোদের রক্তে স্বাধীন করবো হারানো বাংলাদেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



