ঠিক কবে "মুক্তির গান" দেখেছিলাম মনে নেই, তবে অনেকদিন হবে হয়তো। তখন আমি স্কুলে পড়ুয়া ছাত্র। মুক্তির গানে দেখা সেই বিভৎস দৃশ্যগুলো আমি আজও ভুলতে পারিনি। স্বাধীনতার যুদ্ধ আমি দেখিনি, বাবার (মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন) মুখ থেকে যখন যুদ্ধের ব্যাপারে জানতে চাইতাম, তিনি বরাবরই বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলতেন অনেকটা বাচ্চাদের মতোই। কিন্তু অতটুকু বয়সেও বুঝতে পারিনি এমন কি ঘটেছিলো ৭১-এর সেই দিনগুলোতে যে, বাবার মতো একজন (সে সময় বাবাকে বেশ কঠিন প্রকৃতির লোক বলেই জানতাম) মানুষও ওভাবে চোখের জল ফেলতেন! মুক্তির গান দেখে আমারও অনেক কান্না পেয়েছিলো, মনে মনে নিজেকেই জিজ্ঞেস করতাম মানুষ এত র্নিদয় আর বর্বর হয় কি করে?
২০০১-এ তখন আমি ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্র। সে সময়ে "ইটিভি"তে "বলতে চাই" নামে একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার নিমন্ত্রন পেলাম আমরা বেশ ক'জন। সেই অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিলো "বাংলাদেশের চলচ্চিত্র"। অনষ্ঠানে বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক "তানভীর মোক্কামেল" স্যারও ছিলেন। অনষ্ঠানের রেকর্ডিং শেষে আমারা খোলামেলা আলোচনা করছিলাম মোকাম্মেল স্যারের সাথে। কথা প্রসঙ্গেই স্যার তারেক মাসুদের কথা টেনে আনলেন, ভূয়সী প্রশংসাও করলেন মুক্তির গানের আর তারেক মাসুদ স্যারের। আজ যখন বয়স ত্রিশের কোঠা ছুঁই ছুঁই করেছে, তখন অনেক বিষয় আর অন্য কারো কাছ থেকে বোঝার প্রয়োজন না হলেও অজানাকে জানার আগ্রহটা একেবারেই কমে যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ের বাংলা চলচ্চিত্রের একনিষ্ঠ দর্শক না হলেও তারেক মাসুদ, তানভীর মোকাম্মেল স্যারদের কাজের প্রতি আগ্রহের কমতি আমার কখনোই হয়নি। মনের একটা বিশেষ স্থানে স্যারদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা অটুট আছে।
গতকাল ভোর রাতের দিকে (নিই ইয়র্কের সময়) কোন একটা কাজে বেশ ব্যস্ত ছিলাম, হঠাৎই দেখলাম বাংলাদেশ থেকে অপরিচিত কোন একটা নাম্বার থেকে কল এসেছে। পিক আপ করার পরেই শুনি আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু গালিবের গলা। তার প্রথম কথাই ছিলো, "দোস্ত, তারেক মাসুদ আর নেই", প্রথমে কথার আগা-গোড়া কিছুই বুঝতে পারলাম না। মনে মনে বলি, কি বলছে এই ছেলে, জেনে শুনে এই ভোর রাতে ফোন করে কাউকে এ ধরনের খবর দেয়ার মানে কি? সেকেন্ডের মধ্যেই মনে হলো সম্বিত ফিরে পেলাম। বন্ধুটি সব খুলে বলার পর, ওকে বলার মতো আর কিছু খুঁজে পেলাম না। কিন্তু বিছানায় আর যাওয়া হলোনা, সাথে সাথে পিসি অন করে খবরটা খুজে পেতে দেরী হলোনা। বেশ কিছুক্ষন মাসুদ স্যারের ছবির দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই র্নিলিপ্ততার কোন শাব্দিক ব্যাখ্যা আমার জানা নেই, তবে মনে মনে কথা হলো বেশ।
তারেক মাসুদ স্যারের মতো গুনী চলচ্চিত্রকার বাংলাদেশে খুব কমই আছেন, আমার দৃষ্টিতে নেই বললেই চলে। "মাটির ময়না" দেখে স্যারের একনিষ্ঠ ফ্যান হয়ে গিয়েছিলাম। সেই থেকেই শুরু। স্যারের এই হঠাৎ চলে যাওয়া, ভীষণ কষ্ঠদায়ক মনে হচ্ছে। তিনি আমার রক্তের সম্পর্কের কেউ নন, তবুও একটা অজানা কারণে তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধাবোধ ছিলো, আছে আর থাকবে যতদিন আমি বেঁচে আছি।
তার এই হঠাৎ চলে যাওয়া মানতে পারছিনা কিছুতেই, কিন্তু নিয়তির এই অমেঘ সত্যকে অস্বীকার করি কি করে? কারো প্রতিই আমি অভিযোগের আঙুল তাক করছিনা। শুধু মন থেকে প্রার্থনা করছি, সেই পরম করুনাময় সৃষ্টিকর্তার কাছে। তার এবং সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। বিনম্র শ্রদ্ধা আর এক মিনিট নিরবতায় স্মরণ করছি মৃত্যুঞ্জয়ী এই মহান মানুষটিকে।
বিঃদ্রঃ যারা "মুক্তির গান" দেখেননি, দেখুন এখান থেকে । ধন্যবাদ।
আলোচিত ব্লগ
শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এমন কেন?
একটা গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।
শেষ বিচারের পর নরকে শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বিশাল বিশাল তেলের ড্রামে তাদের একবার ডুবিয়ে আবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিটি ড্রামের সামনে একজন করে পাহারাদার... ...বাকিটুকু পড়ুন
পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন
“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প!

আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।