somewherein... blog badh bhangar awaaj recent posts http://www.somewhereinblog.net http://www.somewhereinblog.net/config_bangla.htm copyright 2006 somewhere in... হ্যাপী নিউ ইয়ার - ২০০৯
সবকিছুই ঠিক ছিলো, আচমকা গগন বিদারী একটা হাঁচি দিয়ে নিজেই বোকা বনে গেলাম, বুঝতে পারছিলাম ঠান্ডা আমাকে ভালোই পেয়েছে। এরপর আরো কয়েকটা। এর মাঝে কেটে গেছে বেশ কয়েকটা ঘন্টা, ঘড়িতে তখন ঠিক সন্ধ্যা ৬টা, চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে (ছবিঃ ৭)। আর মাত্র কয়েকটা ঘন্টা, তারপরেইতো সেই মাহিন্দ্রক্ষণ। ভাবতে ভাবতেই শুরু হলো, মাথা ব্যাথা আর হাঁচি, শরীরটাও ভালো লাগছিলোনা। বুঝলাম এভাবে নিউ ইয়্যার পালন করে অসুস্থ হয়ে পড়ার চেয়ে বাসায় বসে নেটে ব্লগার বন্ধুদের সাথে নিউ ইয়্যারটা শেয়ার করলেওতো মন্দ হয়না! যেই ভাবা সেই কাজ, দেরী না করে সোজায় বাসা চলে এলাম।

নেটে ঢুকে দেখলাম অনেকেই ইতিমধ্যে লিখা পোস্ট করে ফেলেছেন। অনেকের লিখাই পড়লাম, বেশ ভালো লেগেছে। বাবা-মা, ভাইয়াকে ছেড়ে হাজার হাজার মাইল দূরে আছি, তবুও আপনাদের সাথে নিউ ইয়্যার শেয়ার করতে পেরেও খুব ভালো লাগলো। নিউ ইয়্যারে, শুভ কামনা থাকলো সবার জন্যে, আপনাদের সবার জীবন আরো সুন্দর, সুখময় ও সমৃদ্ধ হোক। হ্যাপী নিউ ইয়্যার ২০০৯।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28891480 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28891480 2009-01-01 10:24:15
আমার আইপড ন্যানো!
এক নজরে দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপড ন্যানো ৮গিগাবাইটঃ
বৈশিষ্ট্যসমূহঃ
- প্রায় ২০০০ গান ধারণে সক্ষম।
- কয়েক হাজার ছবি ধারণে সক্ষম (ছবির সাইজরে উপর নির্ভরশীল)।
- ১.৫ ইঞ্চি রঙিন ডিসপ্লে।
- কাস্টমাইজড মেনু সেট করা সম্ভব।
- মাত্র ১.৪১ আউন্স ওজন।
- পূর্ণ চার্জে একটানা ২০ ঘন্টারও বেশী গান প্লে করতে সক্ষম (পরীক্ষিত)।
- বিভিন্ন অডিও ফরম্যাট সাপোর্ট করে (এএসি, এমপিথ্রি, ওয়েভ, এআইএফএফ)।
- বিভিন্ন ফরম্যাট ইমেজ সাপোর্ট করে (জেপিইজি, বিএমপি, জিআইএফ, টিআইএফএফ, পিএসডি)।
- বিল্ট ইন গেমস(ব্রিকস, মিউজিক কুইজ, প্যারাসুট ও সলিটার)।
- বিল্ট ইন এ্যড্রেস বুক।

এত ছোট্ট একটা ডিভাইসে কি করে এত কিছু করা সম্ভব সেটাই ভাবা যায়না, অন্তত আমার কাছে ডিভাইসটা বেশ জোশ বলেই মনে হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো খুব হার্ডকোর লিসেনারদেরও প্রতিদিন এটা চার্জ দেয়ার প্রয়োজন নেই। গান সিনক্ করার সময়ই এটা চার্জ হয়, যদিও এসি এ্যাডাপটার দিয়েও সেটা করা সম্ভব, তবে তার কোন প্রয়োজন আদৌ আছে বলে আমার মনে হয়না। ব্যবহার করা খুবই সহজ, নতুন যারা ব্যবহার করছেন, তাদেরও এটা ব্যবহার করা শিখতে ১/২ ঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা নয়।

একটা ব্যাপার আমার কাছে ভালোলাগেনি, সেটা হলো এটাতে ভিডিও প্লে করা সম্ভব নয় (তৃতীয়, চতুর্থ প্রজন্মের ন্যানোতে সেটা সম্ভব)। সমসাময়িক প্রায় সবগুলো মিউজিক প্লেয়ারে ভিডিও প্লে করা সম্ভব, সেখানে এই আপডে কেন এই ভিডিও চালানোর ব্যবস্থা নেই সেটা আমার বোধগম্য হয়নি, বিশেষ করে যদি দামের কথা আসে তবেতো কথাই নেই। আর একটি বিষয় এ্যাপল এখনো এড়িয়ে যাচ্ছে সেটা হলো এফএম রেডিও। অনেক কম দামি মিউজিক প্লেয়ারেও এফএম রেডিও ব্যবস্থা থাকে, যেটা গান শোনার পাশাপাশি বিনোদনের আরেকটি গুরূত্বপূর্ণ মাধ্যম। যদিও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আইপডের উপযোগী এফএম ডিভাইস তৈরী করছে, কিন্তু এত দাম দিয়ে একটা ডিভাইস কেনার পর আবার টাকা খরচ করে রেডিও শোনার জন্য ডিভাইস কেনার পক্ষপাতী আমি নই। সে দিক থেকে মাইক্রোসফট্-এর জুন অনেক বেশী সমৃদ্ধ।

দু'একটা বিষয় বাদ দিয়ে দেখলে আইপড ন্যানো গান শোনা ডিভাইসগুলোর মধ্যে অপ্রতিদ্বন্দী, অন্তত আমার কাছে। তাই হাতে টাকা থাকলে, চোখ বন্ধ করে কিনে ফেলুন। আর পাশাপাশি আপনার আইপড উপযোগী একটা কভার কিনে নিন, এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যারান্টি দিচ্ছি আইপড ন্যানো আপনার ভালো লাগবেই।

বিঃদ্রঃ- বাজারে এখন দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের আইপড পাওয়া যাচ্ছে, তবুও আমি এখনো দ্বিতীয় প্রজন্মের আইপড ন্যানোই ব্যবহার করছি। মাইক্রেসফটের জুন কিনেছি কিছুদিন হলো, আশা করছি আরো কিছুদিন ব্যবহার করে ওটা নিয়েও একটা লিখা পোস্ট করবো ।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28872036 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28872036 2008-11-21 10:32:51
... অতপর আমেরিকায় দু'বছর।
গত দু'বছরে আমার জীবনে তেমন বিশেষ কিছু না ঘটলেও, ফেলে আসা দেশটাতে ঘটে গেছে অজস্র ঘটনা। হাজার মাইল দূরে থেকেও সব খবরই রাখার চেষ্টা করছি। চেষ্টা করি আপনাদের কাছাকাছি থাকতে। ব্যক্তিগত ব্যস্ততায় সময় হয়ে ওঠেনা। ক্ষমা চাচ্ছি নিয়মিত সাইটটিতে না আসতে পারার জন্যে আর দেরীতে এই লিখাটা পোস্ট করার জন্যেও।

আপনারা সবাই আমার জন্যে দোয়া করবেন। যে উদ্দেশ্য নিয়ে প্রিয় জন্মভূমিকে ফেলে এত দূরে আসা আমি যেন সে লক্ষ্যে পৌছুঁতে পারি। সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28847598 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28847598 2008-09-25 02:45:56
৯/১১ - আমার শ্রদ্ধাঞ্জলী
বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার সাত বছর পূর্তিতে তাই বিনম্র চিত্তে শ্রদ্ধা জানাই সেই সব শহীদদের এবং তাদের পরিবারের সবাইকে। মহান আল্লাহ তাদের আত্নাকে শান্তি দিন। শান্তি দিন পৃথিবীর সবাইকে।


বিঃদ্রঃ- আমি যখন লিখাটি লিখছি তখন আমেরিকাতে ১১ই সেপ্টেম্বর।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28841999 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28841999 2008-09-12 05:48:32
সামহয়্যার ইন ব্লগ-এ দু'বছর!
বাংলা ব্লগিং-এ আমার প্রথম পদচারণা এখানেই। অনেক আবেগ, ভালোলাগা, ভালোবাসা মিশে আছে আমার এই ব্লগে। প্রবাসে থেকে দেশের মানুষের কথা, অনুভূতি জানার জন্যে এর চেয়ে ভালো আর কোন পথ আমার জানা নেই। সহস্র ব্লগারের মন্তব্য, তাদের লিখা আমাকে বরাবরই অনুপ্রাণিত করে। অনেক দূরে থেকেও মনে হয় দেশের খুব কাছাকাছিই আছি, আমার দেশের মাটি-মানুষের খুব কাছাকাছি।

অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা রইল সাইটটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় যারা আছেন, যাদের চেষ্টা আর ভালোবাসার ফসল আজকের এই সামহ্যয়ার তাদের কাছে, সাইটটির সকল ব্লগারদের কাছে। প্রার্থনা রইল সাইটটি আর্ন্তজালে বেঁচে থাকুক অনন্তকাল, সবার ভালোবাসা নিয়ে। সাইটটি এগিয়ে যাক বাংলার পতাকা হাতে। সবাই ভালো থাকুন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28815569 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28815569 2008-07-01 05:47:33
আজ জন্মদিন আমার!
গতবছর ঠিক এই দিনেই আমার জন্মদিন নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম সামহয়্যারইন-এ, মনে হচ্ছে এইতো সেদিন... অথচ চলে গেছে একটা বছর। ভাবতেই পারিনা।

খুব মনে পড়ছে বাবা-মা'কে, ভাইয়াকে। মনে পড়ছে প্রিয় কিছু মুখ। খুব মিস করছি তোমাদের সবাইকে। অনেক দূরে আছি, হয়তো ভুলে গেছে অনেকেই, তোমরা যে যেখানেই থাকো, ভালো থেকো খুব খুব ভালো।

সামহয়্যারের বন্ধুরা, আমি কিন্তু আপনাদের ভুলে যাইনি আর তাই মধ্যরাতে লিখতে বসা। আপনারা আমার জন্যে দোয়া করবেন, যেন জীবনের সব দুঃখ-কষ্ট মাড়িয়ে মা-বাবার মুখে হাসি ফোঁটাতে পারি। যে কারণে প্রিয়মুখগুলো পেছনে ফেলে এতদূরে আসা, যেন পৌছাতে সে অভিষ্ট লক্ষ্যে। সবাই ভালো থাকুন, অনেক অনেক ভালো।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28811941 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28811941 2008-06-21 10:27:09
আমার বাবা
আমার বাবা সবসময়ই একটু গম্ভীর ধরনের, রসিক তিনি কখনোই ছিলেন না। সন্ধ্যায় যখন অফিস থেকে বাবা বাসায় ফিরতেন তখন বাসার সবাই চুপ হয়ে যেত। কলিংবেল বেজে উঠলেই আমরা দু’ভাই টেলিভিশন বন্ধ করে দিয়ে পড়ার টেবিলে বসে যেতাম বাবার ভয়েই। মাঝে মাঝে মাকে জিজ্ঞেস করতাম বাবা এমন কেন? কেন আমার বাবা আর সব বাবার মতো আমাদের আদর করেন না, আমাদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যান না? মা কখনোই এর সদুত্তর দিতে পারেন নি। বলতেন তোদের বাবা এমনই। ছোটবেলা থেকেই একটা ধারনা বুকে নিয়েই বড় হয়েছি, আর সেটা হলো বাবা আমাদের ভালোবাসেন না।

কিন্তু আমার ধারনা ভুল প্রমাণিত হতে থাকলো, আমেরিকার ভিসা পাওয়ার পর থেকেই। তখন থেকেই বাবা কেমন যেন বদলে যেতে শুরু করলেন। সব সময় মন মরা হয়ে থাকতেন। ফ্লাই করার দু’দিন আগে থেকেই বাবা ছুটি নিলেন। সারাক্ষণ বাসায়ই ছিলেন। খেতে বসে বাবা এটা-ওটা আমার প্লেটে তুলে দিতেন। আমি অবাক হতে থাকি, এতদিন যা দেখিনি বাবা আজ তাই করছেন। কেন যেন মনে হতে লাগলো বাবা কোন একটা কারণে খুব কষ্ট পাচ্ছেন, হয়তো আমি চলে যাবো বলেই। যাবার দিন বাবার চোখ সারাটাদিনই লাল হয়েছিলো, বুঝতে বাকি ছিলোনা বাবা শুয়ে শুয়ে কেদেছেন। এয়ারপোর্টে যাবার সময় পুরোটা পথ মা আমাকে জড়িয়ে কাঁদলেন। বাবা কোন কথাই বললেন না। এয়ারপোর্টে ঢোকার আগে, মা-বাবাকে পায়ে ধরে সালাম করে সামনের দিকে এগুতে যাবো, দেখি বাবা কাঁদছেন। বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠলো, বাবাকে কিছু একটা বলতে চাইলাম, পারলাম না। চোখে জল চলে আসলো, সামনের দিকে হাটতে থাকলাম। বুঝতে পারলাম বাবা আমাকে কতটাই না ভালোবাসেন, কখনোই বুঝতে পারিনি। এমন কঠোর আর গম্ভীর একটা মানুষের মাঝেও যে কতটা পিতৃস্নেহ, ভালোবাসা জমে থাকতে পারে তা আমার জানা ছিলোনা, জানা হলো সেদিনই।

আজ -বাবা দিবসে- বাবাকে খুব বেশী মনে পড়ছে। বাবার অনেক স্মৃতি, অনেক কথা এখনো স্মৃতিপটে ভেসে উঠে, আর চোখ ভিজে আসছে নোনা জলে। আজ তাই বাবা দিবসে বাবাকে খুব বলতে ইচ্ছে করে, বাবা, তোমাকে অনেক অনেক ভালোবাসি, তোমাকে অসম্ভব মিস করি, তুমি অনেক অনেক ভালো থেকো.. ..। মৃত্যুর পর আর কোন জীবন আছে কিনা, জানিনা.. যদি সত্যিই তেমন কোন জীবন থেকে থাকে তবে আমি যেন কেবল তোমারই সন্তান হয়ে জন্মি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28809685 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28809685 2008-06-15 08:11:12
কবি ও কবিতা - ৭ জয়েন উদ্দিন

সারি সারি শ্বেতছত্রধৃজ সুশোভন।
নির্ভয় চলন্ত যুদ্ধে যথাত্র সৈন্যগণ।।
সৈন্যপদধুলি উঠি ছাইল গগন।
দিক অন্ধকার হইল না দেখি তপন।।
রসুলের সঙ্গে বীর্যবন্ত অশ্ববার।
বিক্রমে কেশরী তুল্য তেত্রিশ হাজার।।
সারি সারি মত্তকরী গলে মুক্তা ধার।
মারুত সদৃশ সব বিজুলি সঞ্চার।।
হস্তীগলে বাজে বণ্টি শুনিতে সুস্বর।
চলন্ত পর্বত যেন মূর্তি ভয়ঙ্কর।।
বিবিধ সাজন অশ্ব দেখিতে সুন্দর।
গরুড়ের গতি সব অতি মনোহর।।
মহা মহা মল্ল সব সিংহনাদ করে।
এথ দেখি এরাকের পৃথিম্বি বিদরে।।
সহস্র সহস্র বীর নাচে গদা ধরি।
যুদ্ধ মাঝে চলে হেন যেন মত্তকরী।।




কবি পরিচিতিঃ
কবির নাম: জয়েন উদ্দিন
জন্ম ও মৃত্যু: ১৫শ শতক (আনুমানিক)

জয়েন উদ্দিন মধ্যযুগের বাংলার একজন বিখ্যাত কবি। তিনি গৌড়ের সুলতান রুসুফ শাহের (১৪৭৪-১৪৮১) সভাকবি ছিলেন। তাঁর রসুল-বিজয় মৌলিক রচনা নয়, কোন ফারসী গ্রন্থেও অনুসরণে লিখিত। তাঁর এ কাব্যটি প্রাচীন বাংলা সাহিত্যে মুসলমান রচিত বিজয়-কাব্যধারার অন্যতম পথিকৃৎ। এই কাব্যে মহানবীর দিগি¦জয়-কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। “রণাঙ্গন দৃশ্য”-এর উৎস: মধ্যযুগের কাব্য-সংগ্রহ, সম্পাদনা: আহমদ শরীফ।

সহায়ক গ্রন্থঃ বাংলা সাহিত্যের কথা (২য় খন্ড): মুহম্মদ শহীদুল্লাহ; মুসলিম বাংলা সাহিত্য: মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: ওয়াকিল আহমদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28808741 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28808741 2008-06-12 08:40:32
ভালোবাসি তোমার তোমাকেই প্রিয়ার হাতে রাখিনি হাত,
চোখে রাখিনি চোখ
কিংবা ঠোঁটে ঠোঁট।

আজ বহুদিন হলো,
রাত জেগে হয়নি প্রিয়ার সাথে কথোপকথোন,
অসম্ভব অভিমানে ফুলে থাকা প্রিয়ার তুলতুলে গাল
ছুঁয়ে দেখিনি তাও বহুদিন।

আজ বহুদিন হলো,
ডাগর কালো সেই চোখে দেখিনি,
অনাগত দিনের নতুন কোন স্বপ্ন
একান্তই আমাকে ঘিরে।

যে হাতের মায়াবী পরশে ভোলা যেত
পৃথিবীর সবটুকু দুঃখ-কষ্ট,
যে চোখে কেবল তাকিয়ে থেকেই
অনায়াসে পার করা যায় ছোট্ট এক জীবন,
যার ভালোবাসার পরশেই পেয়েছি
আমৃত্যু শুধু তাকেই ভালোবেসে যাওয়ার প্রেরণা।

...হয়তো সে আজ কেবলই অন্য কারো!
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28793028 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28793028 2008-04-30 23:18:27
কবি ও কবিতা - ৬ কৃত্তিবাস

নারদের মুখে শুনি বাল্মীকি হরষিত।
তমসা নদী দেখিতে চলিল ত্বরিত।।
শিষ্য সহিতে মুনি পাইয়া পুন্য স্থান।
বাল্মীকি বোলে ভরদ্বাজ কর অবধান।।
নির্মল জল তমসার তবে আমি দেখি।
তমসা দেখিয়া আমি বড় হইল সুখী।।
বাকল বসন আন ঘাটে স্নান করি।
বেলা অবসান ঘাটে বাকল আন পরি।।
গুরুর বচনে ভরদ্বাজ মুনিবর।
বাকল বসন দিল গুরুর গোচর।।
বাকল পরিয়া মুনি করিল স্নান দান।
নির্জন জে স্থানে কিছু করিল বিধান।।
দেবাচর্চা করিয়া মুনি হইল সুস্থির।
তমসা জে দেখিয়া বেড়াএ তীর তীর।।
ক্রৌঞ্চ দুই পক্ষী কেলি করে এক সঙ্গে।
কেলি করে দুই পক্ষী অতি রঙ্গে।।
হেন কালে এক ব্যাধ আইল সেইখানে।
সন্ধান পুরিয়া পক্ষী মারিলেক বাণে।।
সর্বাঙ্গ বাহিয়া পক্ষীর পড়িছে শোণিত।
দেখিয়া পক্ষিণী কান্দে পড়িয়া ভূমিত।।
নির্ঘাতে হানিল পক্ষী তেজিল পরাণী।
পক্ষিণীর করুণা দেখি বাল্মীকি মহামণি।।



কবি পরিচিতি
নামঃ কৃত্তিবাস
জন্মঃ ১৩৮১ শতক (আনুমানিক)।
মৃত্যুঃ ১৪৬১ শতক (আনুমানিক)।
কৃত্তিবাসের পূর্ব-পুরুষ নারসিংহ ওঝা 'বঙ্গদেশে প্রমাদ' পড়লে তাঁর পূর্ববঙ্গস্থ বাস্তুভিটা ত্যাগ করে পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গাতীরে ফুলিয়া গ্রামে চলে যান। তিনি নারসিংহ ওঝা থেকে অধস্তন চতুর্থ পুরুষ। কৃত্তিবাস তাঁর পিতা বনমালীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি এগার বছর বয়সে বিদ্যার্জনের জন্য উত্তরবঙ্গে, গঙ্গাপারে যান। শিক্ষাশেষে তিনি কোন এক গৌড়েশ্বরের দরবারে গিয়ে তাঁর আদেশে বাংলা ভাষায় রামায়ণ রচনা করেন। কৃত্তিবাসের এই গৌড়েশ্বর কে তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। কৃত্তিবাসের রামায়ণ সারা বাংলাদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তবে বাংলায় রামায়ণ অনুবাদের জন্য তিনি সেকালের গোঁড়া ব্রাহ্মণদের দ্বারা নিন্দিত হন। 'বাল্মীকির কবিত্ব লাভ'-এর উৎস : রামায়ণ: আদিকাণ্ড - সম্পাদনা: নলিনীকান্ত ভট্টশালী।

সহায়ক গ্রন্থঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১ম খন্ড): সুকুমার সেন; বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (১ম খন্ড): অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; বাংলা সাহিত্য (২য় খন্ড): মণীন্দ্রমোহন বুস।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28792028 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28792028 2008-04-28 10:17:51
কবি ও কবিতা - ৫
বনের অন্তরে যদি গেলা ভ্রাতৃগণ।
ইছুফক প্রহার করিতে হইলা মন।।
কোহ্ন ভাই করাঘাত অঙ্গেতে মারিল।
কেহো দুষ্ট বাণী বলি কর্ণ মোচরিল।।
কেহো মারিলেন্ত ঠেলা মারিয়া চাপড়।
একে একে কাড়ি লইল গায়ের কাপড়।।
কোহ্ন ভাই ক্রুদ্ধ হই মারে অনুরাগে।
আর ভাই নিকটে যায়ন্ত দয়াভাগে।।
সেহো ভাই ঠেলা দিয়া ফেলে একপাশ।
আর ভাই কাছে গেল হইয়া হতাশ।।
সেহো ভাই নিদয়া হৃদয় হইয়া মারে।
আর ভাই নিকটে জায়ন্ত বস্ত্র কাড়ে।।
কোহ্ন ভাই মায়া নাহি সবে মারে বেড়ি।
কান্দিতে লাগিলা তবে বাপ অনুস্মরি।।
হাহা পিতা তুমি মোর প্রাণের দুর্লভ।
তুমি জীবমানে মোর এতেক লাঘব।।
যার যথ আছে ক্রোধ সব উদ্ধারিল।
মন্দ ছন্দ বলি তানে বহুল মারিল।।
কোহ্ন ভাই বলে তার লইব পরাণ।
কোহো বিমরিষ মতি কেহো ক্রুদ্ধমান।।
জ্যেষ্ঠ ভাই বলে এহি নবীর সন্ততি।
প্রাণে মারিবারে তাক ন আইসে যুকতি।।



কবি পরিচিতিঃ
নামঃ শাহ্ মুহম্মদ সগীর
জন্মঃ আনুমানিক ১৪শ শতক।
মৃত্যুঃ আনুমানিক ১৫শ শতক।

বাঙলার মুসলমান কবিদের মধ্যে শাহ্ মুহম্মদ সগীর প্রাচীনতম। তাঁর কাব্যের নাম “ইউসুফ-জুলিখা”। সুলতান গিয়াসুদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালে (১৩৮৯-১৪১০) কাব্যটি রচিত হয়। কবি ছিলেন সুলতানের একজন রাজকর্মচারী। কাব্যরস পরিবেশন অপেক্ষা ধর্মীয় প্রেরণা সৃষ্টির প্রতিই কবির অধিক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়। সে যুগে দেশী ভাষায় রসাশ্রয়ী ধর্মকাহিনী রচনা করার মধ্যে কবির সৎসাহসের পরিচয় মেলে। বাইবেল-কুরআন কিংবা ফিরদৌসী-জামীর অনুসরণে কাহিনী-কাব্যটি কল্পিত হলেও তাতে বাংলাদেশ ও বাঙালী-জীবনের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পেয়েছে। “ইউসুফের নির্যাতন” কবিতাটির উৎস : মধ্যযুগের কাব্য-সংগ্রহ। সম্পাদনা: আহমদ শরীফ।

সহায়ক গ্রন্থঃ বাংলা সাহিত্যের কথা (২য় খন্ড): মুহম্মদ শহীদুল্লাহ; মুসলিম বাংলা সাহিত্য: মুহম্মদ এনামুল হক; বাংলা রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান: ওয়াকিল আহমদ।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28791293 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28791293 2008-04-26 07:19:28
কবি ও কবিতা - ৪ (মধ্যযুগের বাংলা গীতি কবিতা)
চন্ডীদাস

মরম না জানে ধরম বাখানে
এমন আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি তাদের কথায়
বাহিরে রহুন তারা।।
আমার বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে
ভিতর দুয়ার খোলা।
তোরা নিসাড় হইয়া আয় লো সজনি
আঁধার পেরিলে আলা।।
আলার ভেতরে কালাটি আছে
চৌঙটি রয়েছে তথা।।
সে দেশের কথা এ দেশে কহিলে
লাগিবে মরমে ব্যাথা।
তোরা পর-পতি সনে শয়নে স্বপনে
সতত করিবি লেহা।
তোরা সিনান করিবি নীর না ছুঁইবি
ভাবিনী ভাবের দেহা।।
কহে চন্ডীদাস এমতি হইলে
তবে ত পিরীতি সাজে।
তোরা না হইবি সতী না হবি অসতী
থাকিবি ধরণী মাঝে।



কবি পরিচিতিঃ
নামঃ চন্ডীদাস
জন্মঃ আনুমানিক ১৪শ শতক।
মৃত্যুঃ আনুমানিক ১৫শ শতক।
রাধাকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক প্রেমের বিষয় নিয়ে চন্ডীদাস বহু পদ রচনা করেছেন। তবে এই নামের অনেকগুলি পদ প্রক্ষিপ্ত বলেও মনে হয়। রামী সম্পর্কিত কাহিনীর তিনিই সম্ভবত নায়ক। শ্রীচৈতন্য চন্ডীদাসের পদ আস্বাদন করেছিলেন বলে জানা যায়। চন্ডীদাস মূলত বিরহের কবি। তাঁর ধারার প্রধান বৈশিষ্ট্য সরলতা, আন্তরিকতা ও পূর্ণ আত্মসমর্পণচিত্ততা। এখানে তাঁর প্রেমতত্ব বিষয়ক একটি পদ সঙ্কলিত হয়েছে।

সহায়ক গ্রন্থঃ মধ্যযুগের বাঙলা গীতিকবিতা : সম্পাদনা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আহমদ শরীফ; পদাবলী পরিচয় : হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়; মধ্যযুগের কবি ও কাব্য : শঙ্করী প্রসাদ বসু; মানবধর্ম ও বাংলা কাব্যে মধ্যযুগ : অরবিন্দ পোদ্দার; প্রাচীন কাব্য : সৌন্দর্য জিজ্ঞাসা ও নব মূল্যায়ন : ক্ষেত্রগুপ্ত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28790654 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28790654 2008-04-24 02:22:37
আমার ডেস্কটপ কম্পিউটার
কম্পিউটারের প্রতি দুর্বলতা আমার বেশ আগে থেকেই। সর্বপ্রথম কম্পিউটার হাতে পেয়েছি সেই ৯৭'এর দিকে। মনে পড়ে সেটা ছিলো ৪৮৬ মডেলের কম্পিউটার, ১০০ মেগাহার্টজ প্রসেসর, ৮০ মেগাবাইট হার্ডডিস্ক আর ১৬ মেগাবাইট র‌্যাম। আর অপারেটিং সিস্টেম ছিলো উইন্ডোজ ৯৫। ছিলোনা কোন সিডি-রম ড্রাইভ, উইন্ডোজ ইন্সটলেশনের জন্যে ছিলো ২০/২৫টা ফ্লপি ডিস্ক। এসব মনে হলে এখন সত্যিই খুব হাসি পায়। মাত্র কয়েক বছরেই কতটা বদলে গেছে সেই প্রযুক্তি। ফ্লপি বদলে এসেছে, সিডি, ডিভিডি, ব্লু-রে ড্রাইভ, ফ্ল্যাশ ড্রাইভ। শক্তিশালী মাদারবোর্ড, প্রসেসর এমনি আরো কত কি! কিন্তু কম্পিউটারের প্রতি ভালোবাসাটা ঠিক সেই আগের মতোই আছে, বদলে যায়নি এতটুকুও।

এখন আমি যে ডেস্কটপ পিসিটা ব্যবহার করছি তার কনফিগারেশনটা নিচে দিয়ে দিচ্ছিঃ

মডেলঃ এইচপি প্যাভিলিয়ন স্লিমলাইন এস৭৬০০ এন
প্রসেসর: ২.২ গিগাহার্টজ , এএমডি এথলন ৬৪ বিট।
হার্ড ড্রাইভ: ২০০ গিগাবাইট।
অপটিক্যাল ড্রাইভ: ডিভিডি আর/ডব্লিউ।
র‌্যাম: ১.৫ গিগাবাইট।
গ্রাফিক্স কার্ড: ২৫৬ মেগাবাইট, এনভিডিয়া জি-ফোর্স ৬১৫০ এল.ই.।
সাউন্ড কার্ড: ৫.১ চ্যানেল।
নেটওয়ার্কিং: ডায়াল আপ, ল্যান, ওয়্যারলেস ল্যান।
মনিটর: এইচপি ডব্লিউ ১৭ই।
অপারেটিং সিস্টেম: উইনন্ডোজ এক্সপি প্রফেশনাল ২০০২।

আসলে কম্পিউটারের কনফিগারেশনটা নির্ভর করে ব্যক্তিগত প্রয়োজন বা চাহিদার উপর। অনেকেই কম্পিউটারে গেম খেলতে পছন্দ করেন আর সেজন্যে প্রায়ই টাকা খরচ করে কম্পিউটার আপগ্রেড করেন, এটা আমার কাছে অনেকটাই অপচয় বলে মনে হয়। সাধারণত আপনি যে ধরনের কাজ করেন, মূলত সেটার উপর নির্ভর করেই পছন্দের কম্পিউটারটি বেছে নেয়া প্রয়োজন। আমার কম্পিউটারটিতে কাজ করে আমি যথেষ্টা সাচ্ছন্দ্য বোধ করি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28788575 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28788575 2008-04-17 03:01:01
ইরাক যুদ্ধের পাঁচ বছরঃ আমেরিকার খতিয়ান
আজ যুদ্ধের পাঁচ বছর পরে অনেক মার্কিনিরাই প্রশ্ন তুলেছেন এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে, কিন্তু প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন আরো আগে হয়নি কেন? যখন মার্কিন বাহিনী ইরাকে কোন ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পায়নি, যখন সাদ্দামকে বিচারের নামে একটা নাটক মঞ্চস্থ হলো? আজ যখন মার্কিন অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ছে, দেশের আবাসন ব্যবসায়ীরা ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, বাণিজ্যিক বাংকগুলোর ঋণগ্রহীতারা ঋণের টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যখন চীনের মতো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসেবে ডলারের পরিবর্তে পাউন্ড অথবা ইউরোর কথা চিন্তা করছে তখন সবাই সোচ্চার হচ্ছেন এ ব্যাপারে, বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছেন যুদ্ধ বন্ধের ব্যাপারে। ইরাক যুদ্ধের বিষয়টি এখানেই থেমে নেই। আমেরিকাতে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীরা ইরাক যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিকে তাদের নির্বাচনী এজেন্ডা হিসেবেও ব্যবহার করছেন। এক নেতা সন্ত্রাসীদের হাত থেকে দেশের জনগণকে বাঁচাতে প্রায় এক সাথে দু’টো যুদ্ধ শুরু করলেন, আর আরেক নেতাই সে যুদ্ধ বন্ধের লেবেল গায়ে লাগিয়ে একের পর এক স্টেট থেকে প্রাক-নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হয়ে চলেছেন। অনেকে তাকেই আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্টও বলতে শুরু করে দিয়েছেন। বোধ করি একেই বলে রাজনীতি!?

প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে ইরাক যুদ্ধ থেকে আমেরিকার প্রাপ্তি কি? প্রশ্নটার উত্তর এক বাক্যে দেওয়া খুব সহজ নয়, তবে এ নিয়ে কিছুটা অর্থনৈতিক আলোচনা হলে হয়তো এ প্রশ্নের একটা উত্তর খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

ইরাক যুদ্ধ বাবদ বুশ প্রশাসনের প্রস্তাবিত খরচের পরিমাণ ছিলো ৫০-৬০ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। প্রতি মাসেই খরচ হয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলার (তথ্যসূত্র: এপি), সে অনুযায়ী গত পাঁচ বছরে ৭২০ বিলিয়ন ডলার খরচ হওয়ার কথা, কিন্তু বুশ প্রশাসন বলছে ভিন্ন কথা, তাদের হিসেব অনুযায়ী এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে ৫০০-৬০০ বিলিয়ন ডলার। এই টাকার বেশীরভাগই এসেছে সরকারকে প্রদত্ত আমেরিকান জনগনের আয়কর থেকে। কিন্তুু এক জনমত জরিপে দেখা যায় শতকরা ৭৩ ভাগ আমেরিকানই চাননা ইরাক যুদ্ধে তাদের প্রদত্ত আয়করের ১টি সেন্টও ব্যয় করা হোক। অন্যদিকে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ ও কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি মেম্বার “জোসেফ স্টিগলিজ” এর মতে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলতে থাকলে তার খরচ দাঁড়াবে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার। অথচ প্রেসিডেন্ট বুশ ২০০৮ ও ২০০৯ সালের জন্যে ফেডারেল বাজেট ঘোষণা করেছেন যথাক্রমে ২.৯ ও ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার, সুতরাং আমেরিকার মতো অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশের পক্ষেও এত বড় আর্থিক ক্ষতি কাঁটিয়ে উঠতেও বেশ সময় লাগবে তা খুব সহজেই অনুমান করা যায়। আমেরিকায় চলমান অর্থনৈতিক সমস্যার পেছনে ইরাক যুদ্ধের ব্যয়ভারকেও অনেকাংশে দায়ী করেছেন খোদ মার্কিন অর্থনীতিবিদরাও। তারপরেও থেমে নেই বুশ প্রশাসন। এখনো তারা নানা ধরনের লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে নতুন করে সৈন্য সংগ্রহ করছেন। মাত্র কিছুদিন আগেই এ লক্ষ্যে নিউ ইয়র্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণ চালানো হয়েছে, আমি নিজেও তা দেখেছি।

আমেরিকার ইরাক যুদ্ধের প্রথম দিন থেকে শুরু করে ১৬ই মার্চ, ২০০৮ পর্যন্ত ৩,৯৮৮ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন, যাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে ৫ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসেবে সর্বমোট ৩,৯৮৮ জন মার্কিন সৈন্যের পরিবারের পেছনে খরচ হবে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। অপর দিকে বিগত ৫ বছরে মার্কিন আগ্রাসনে নিহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ইরাকি, যার অনেকেই ছিলেন পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, যাদের মৃত্যুতে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে অসংখ্য ইরাকি পরিবার কিন্তু তাদেরকে আর্থিকভাবে সহয়ায়তা করার কোন পরিকল্পনাই কেউ গ্রহণ করেনি।

ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ও স্বৈরাচারী সাদ্দামকে সরানোর যে ঢোল পিটিয়ে তিনি যুদ্ধের আয়োজন করেছিলেন সেটা যে ভুল ছিলো তাও আজ পৃথিবীর সবাই জানতে পেরেছেন। মার্কিন সৈন্যরা ইরাকে গিয়ে ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্রের টিকিটাও খুঁজে পাননি। সাদ্দাম হোসেনকেও ইতিমধ্যে তথাকথিত বিচারের নামে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে, যা কেবলই প্রহসন, তবুও তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাধারণ মানুষ তা মেনে নিয়েছে। মারণাস্ত্র আর সাদ্দামই যদি যুদ্ধের কারণ হয় তাহলে এখনো প্রতিমাসে ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ইরাকে আমেরিকান সৈন্য রাখার কারণ কি হতে পারে? উত্তরটাও খুব সহজ, ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র ধ্বংস বা সাদ্দামকে সরিয়ে ইরাকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয় বরং ইরাকি তেলের উপর আমেরিকার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধাস্ত্র নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক মুনাফা বৃদ্ধি (যার সাথে বুশ পরিবারের ব্যবসা জড়িত), একটি তেল কোম্পানীর ব্যবসায়িক সুবিধা বৃদ্ধি (যার প্রতিষ্ঠাতা হলেন সিনিয়র বুশ) ও ইরাকে এমন একটা সরকার গঠন করে দেওয়া যারা কিনা পরবর্তীতে আমেরিকার হাতের পুতুর হিসেবে কাজ করবে।

ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেঁড়েই চলেছে, আর খোদ আমেরিকাতেও প্রতিদিনই বাড়ছে তেলের চাহিদা। বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো মধ্যে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরান ও ভেনিজুয়েলা অন্যতম। যাদের মধ্যে শেষ দুটি দেশের সাথে মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো নয়, সুতরাং আমেরিকা তার ভবিষ্যত তেলের চাহিদা মেটাতে এমন একটি দেশ চাচ্ছে যেখান থেকে সে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করতে পারবে বা ঐ দেশের তেল খনিগুলোর উপর প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবে, পরিবেশ পরিস্থিতিতে তাই ইরাকই ছিলো সম্ভাব্য লক্ষ্য। এ ছাড়া ইরাক যুদ্ধ এখনো টিকিয়ে রাখার কোন কারণ খুঁজে পাওয়া সত্যিই কঠিন।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28781424 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28781424 2008-03-22 10:14:05
কবি ও কবিতা - ৩ (বিদ্যাপতি)

আজু রজনী হম ভাগে গমাওল
পেখল পিয়া মুখ চন্দা।
জীবন যৌবন সফর করি মানল
দশ দিশ ভেল নিরদন্দা।।
আজু মঝু গেহ গেহ করি মানল
আজু মঝু দেহ ভেল দেহা।
আজু বিহি মোহে অনুকূল হোয়ল
টুটল সবহি সন্দেহা।।
সোই কোকিল অব লাখ ডাকউ
লাখ উদয় করু চন্দা।
পাঁচ বাণ অব লাখ বাণ হোউ
মলয় পবন বহু মন্দা।।
অব মুঝ যব পিয়া সঙ্গ হোয়ত
তবহি মানব নিজ দেহা।
বিদ্যাপতি কহ অলপ ভাগি নহ
ধনি ধনি তুয় নব নেহা।
(মধ্যযুগের বাঙলা গীতি কবিতা)


কবি পরিচিতিঃ
নাম ঃ বিদ্যাপতি
জন্ম ঃ ১৩৮০ শতক (আনুমানিক)।
মৃত্যু ঃ ১৪৬০ শতক (আনুমানিক)।
সম্ভবত দ্বারভাঙা জেলার বিসফী গ্রামের এক বিদগ্ধ ব্রাহ্মণ পরিবারে কবি বিদ্যাপতির জন্ম। তাঁর কৌলিক উপাধি ঠক্কুর বা ঠাকুর। বংশ পরম্পরায় এরা মিথিলার উচ্চ রাজকর্মচারী ছিলেন। শস্ত্র, শাস্ত্র, রাজ্যশাসন ও সংস্কৃত সাহিত্যে এঁদের দান বিশেষরূপে উল্লেখযোগ্য। তিনি যে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেনÑ ছয়জন রাজা ও একজন রাণীর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ থেকেই তার স্বীকৃতি মেলে। কবি, স্মৃতিকার, রাজনীতিবিদ, ব্যবহারবিদ ও আখ্যান লেখক হিসেবে তিনি সুপরিচিত। তাঁর রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: কীর্তিলতা, ভূপরিক্রমা, কীর্তিপতাকা, পুরুষ-পরীক্ষা, শৈবসর্বস্বসার, গঙ্গাবাক্যবলী, বিভাগসার, দানবাক্যবলী, লিখনাবলী, দূর্গাভক্তিতরঙ্গিণী। তিনি প্রায় আট’শ পদ রচনা করেন। জীবৎকালে বিখ্যাত কবি ও পন্ডিতরূপে তাঁর প্রতিষ্ঠা ছিল।

মিথিলার কবি হলেও তাঁর অমর পদাবলী অচিরেই সমগ্র বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মিথিলার উপভাষা ‘ব্রজবুলি’ই তাঁর পদাবলীর বাহন। এই ভাষার ধ্বনি-মাধুর্য ও সঙ্গীতময়তা বাঙলা কাব্যকে, বিশেষ করে বৈষ্ণব পদাবলীকে, সমৃদ্ধ করেছে। বিষয়ের লালনে, ধ্বনি, শব্দ, অলঙ্কার প্রভৃতির ব্যবহারে তাঁর নাগরিক বৈদগ্ধ্য ও মননশীলতার পরিচয় পাওয়া যায়। তিনি চৈতন্য-পূর্ববর্তী কবি। তাই তাঁর রাধা মানবীয় বৈশিষ্ট্যমন্ডিত। রাধার বয়ঃসন্ধির দৈহিক সুষমা ও লাস্যময়তা তাঁর পদাবলীকে ঐশ্বর্যময় করেছে। ভাব-সম্মিলন ও ভাবোল্লাসের পদেও বিদ্যাপতি একপ্রকার প্রতিদ্বন্দ্বীহীন।

সহায়ক গ্রন্থঃ মধ্যযুগের বাঙলা গীতিকবিতা : সম্পাদনা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আহমদ শরীফ; পদাবলী পরিচয় : হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়; মধ্যযুগের কবি ও কাব্য : শঙ্করী প্রসাদ বসু; মানবধর্ম ও বাংলা কাব্যে মধ্যযুগ : অরবিন্দ পোদ্দার; প্রাচীন কাব্য : সৌন্দর্য জিজ্ঞাসা ও নব মূল্যায়ন : ক্ষেত্রগুপ্ত।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28766310 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28766310 2008-02-02 09:39:26
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে!
আজ বিজয়ের দিন, আজ আমাদের আনন্দের দিন। তবুও আমরা যেন ভুলে না যাই সেই সব শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের আজকের স্বাধীনতা, আজকের বিজয় আর আজকের বাংলাদেশ। গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সকল মুক্তিযোদ্ধাদের, যারা শহীদ হয়েছেন প্রিয় মাতৃভূমির জন্যে, অভিবাদন জানাচ্ছি তাদের সবাইকে, অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে প্রার্থনা করছি, মহান আল্লাহ্তাআলা যেন তাদের বেহেশত নসিব করেন। যুদ্ধাহত ও জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের জানাচ্ছি শত কোটি সালাম।

জীবিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে দিন।

ওপরওয়ালাকে ধন্যবাদ জানাই, কারণ আমিও একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। এই ভালোলাগার কোন তুলনা হয়না, বাবার কথা মনে হলেই গর্বে বুকটা ভরে যায়। মুক্তিযুদ্ধের অনেক ঘটনাই বাবার মুখ থেকে শোনা, আর শৈশবে দেশপ্রেমের সূচনা বাবার মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা শুনে শুনেই। আমার বাবার জন্যে সবাই দোয়া করবেন।

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা সবাইকে, বাংলাদেশ চিরজীবি হোক।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28751849 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28751849 2007-12-16 07:44:03
খেলার বিনিময়ে ক্ষুধার্ত মানুষের জন্যে খাদ্য।
বি.বি.সি-এর নিউজ সাইটে এমনি একটা শিরোনাম দেখে, আমিও বেশ অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু সত্যিটুকু অনুধাবন করতে বা আমার ভুল ভাঙতে ২মিনিটও সময় লাগেনি।

ফ্রিরাইস.কম - এই সাইটটিতে ঢুকেই দেখতে পাবেন, সবুজ ধানক্ষেত। ডান দিকে লক্ষ্য করলেই দেখতে পাবেন খেলার নিয়মাবলী। মাঝে দেয়া আছে প্রশ্ন। বোল্ড আকারে, কালো রঙের যে কোন শব্দ দেখতে পারেন, তার নিচেই দেয়া আছে চারটি সম্ভাব্য উততর। সেখান থেকেই অপনাকে বেছে নিতে হবে সবচেয়ে সঠিক উততরটি। অনেকটা এম.সি.কিউ-এর মত। উততর সঠিক হলেই আপনার অনুদান হবে ১০টি চাউল। মানে আপনি ১টি সঠিক উততর দিলে আপনার পক্ষ হয়ে ঐ সাইটের কর্মকর্তারা ‍- ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম - কে ১০টি চাউল আর্ন্তজাতিক বাজার থেকে কেনার টাকা দেবে। মানে দাঁড়াচ্ছে আপনি যত বেশী সঠিক উততর দেবেন আপনার অনুদান তত বেশী হবে। মানে দাঁড়ালো, আপনি ১০টি প্রশ্নের উততর সঠিক দিতে পারলে আপনার অনুদান দাঁড়াবে ১০০টি চাউল।

উল্লেখ্য, এই চাউলগুলো বিতরণ করা হবে, অনুন্নত দেশগুলোতে অনাহারী মানুষের মাঝে। পাশাপাশি আমাদেরও ইংরেজীতে দক্ষতা বাড়বে অনেকখানিই। অনাহারী, অসহায় ক্ষুধার্ত ঐ মানুষগুলোর মুখের দিকে একবার তাকিয়ে দেখুন, ভাবুন। কতটা অসহায়ের মতোই ওরা হয়তো আপনার আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। আপনার আমার এই সামান্য অবদানে যদি অন্তত একটি মানুষের মুখে তিন বেলা খাবার যোগানো সম্ভব হয়, তবে কি সেটাই আমাদের অনেক বড় পাওয়া নয়?

পৃথিবীর অর্ধেকেরও বেশী মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেনা। কিন্তু আপনি, আমি - আমরা যারা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছি, আমরা কি ঐসব অনাহারী মানুষগুলোর জন্যে এতটুকুও করতে পারিনা? অন্তত মানুষ হিসেবে অন্য একটা মানুষের প্রতি আমাদের কি এতটুকুও মমত্ববোধ থাকা উচিত নয়? প্রতিদিনই আমরা অনেকটা সময়ই ইন্টারনেটে অপচয় করি, সেখান থেকে কিছুটা সময় কি আমরা তাদের জন্যে ব্যয় করতে পারিনা?

হয়তো ওরা জানবেনা আপনার আমার কথা, তাতে কি আসে যায়? মানুষ হিসেবে মানুষের জন্যে কিছু করার এর চেয়ে বড় সুযোগ হয়তো খুব বেশী আসেনা।

বিঃদ্রঃ ব্লগের সকল ইউজার এবং এই সাইটের সংশ্লিষ্ট সবাইকে এবারে দৃষ্টি আর্কষণ করছি, পাশাপাশি এর প্রচার ও খেলায় অংশগ্রহণে সবার সহযোগিতা কামণা করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28744552 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28744552 2007-11-11 09:27:52
সুখ স্মৃতি তোমার ভালোবাসা, অখন্ড কিছু স্মৃতি
পঞ্জিকার পাতা উল্টে, আবারও
ফিরে আসে বেদনার তিথি।

নদীর বুকে চিরে জেগে থাকা
অজানা, অচেনা চরের মতো,
বুকের ভেতর বেঁচে থাকে,
অযাচিত আর ব্যাথিত কিছু ক্ষত।

সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে, তবুও
আমি অবিরাম হেটে চলি,
সুখ স্মৃতির রোমন্থনে তাই,
সকল দুঃখ-কষ্ট ভুলি।




... ভালোবাসার সেই মানুষটির স্মরণেই লিখা। যে এইদিনেই এসেছিলো এই ধরণীতে, আমার ছোট্ট এই হৃদয়ে ভালোবাসার প্রদীপ জ্বালাবে বলে। শুভ জন্মদিন, পর্ণা-কে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28742852 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28742852 2007-11-05 12:45:01
ঈদ মোবারক
ঈদ উদযাপন নিয়ে নিউ ইয়র্কে একটু ঝামেলা আছে। কেউ বলছেন আজ(শুক্রবার) ঈদ, আবার কেউ বলেছেন আগামীকাল(শনিবার) ঈদ। নানাজনের নানারকম মতামত শুনে আমি বেশ দ্বিধায় পড়ে গিয়েছি। তবে যেদিনই ঈদ হোক, প্রার্থনা করছি ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক পৃথিবীর প্রতিটি ঘরে ঘরে। আনন্দের বন্যায় ধুয়ে-মুছে যাক, পৃথিবীর সব দুঃখ-কষ্ট, ক্লান্তি।

ভালো থাকুন সকাল, সন্ধ্যা রাত্রিতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28737308 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28737308 2007-10-13 08:49:36
কবি ও কবিতা - ২ (মধ্যযুগের বাংলা গীতি কবিতা)
চন্ডীদাস

মরম না জানে ধরম বাখানে
এমন আছয়ে যারা।
কাজ নাই সখি তাদের কথায়
বাহিরে রহুন তারা।।
আমার বাহির দুয়ারে কপাট লেগেছে
ভিতর দুয়ার খোলা।
তোরা নিসাড় হইয়া আয় লো সজনি
আঁধার পেরিলে আলা।।
আলার ভেতরে কালাটি আছে
চৌঙটি রয়েছে তথা।।
সে দেশের কথা এ দেশে কহিলে
লাগিবে মরমে ব্যাথা।
তোরা পর-পতি সনে শয়নে স্বপনে
সতত করিবি লেহা।
তোরা সিনান করিবি নীর না ছুঁইবি
ভাবিনী ভাবের দেহা।।
কহে চন্ডীদাস এমতি হইলে
তবে ত পিরীতি সাজে।
তোরা না হইবি সতী না হবি অসতী
থাকিবি ধরণী মাঝে।



কবি পরিচিতিঃ
নামঃ বড়ু চন্ডীদাস।
জন্ম ও মৃত্যুঃ (আনুমানিক ১৪শ শতক)।
বড়ু চন্ডীদাস নামের এই কবির আসল নাম অনন্ত, কৌলিক উপাধি বড়ু, গুরু প্রদও নাম চন্ডীদাস। জন্মস্থান বাঁকুড়া জেলার ছাতনা, মতান্তরে বীরভূমের নান্নুর। তাঁর রচিত কাব্যের নামপত্র পাওয়া যায়নি। বসন্তরঞ্জন বিদ্বদ্বল্লভ ১৯০৯ সালে বাঁকুড়া-বিষ্ণুপুরের এক গ্রাম থেকে গ্রন্থখানি উদ্ধার করেন এবং ১৩২৩ বঙ্গাব্দে তা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। তিনি কাব্যটির নামকরণ করেন ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’। চর্যাপদের পরে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনই বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য নিদর্শন। চন্ডীদাস ভণিতার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যমন্ডিত অসংখ্য পদ পাওয়ার ফলে চন্ডীদাস কয়জনÑ পন্ডিতদের মনে এই প্রশ্ন জাগে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন এব অন্যান্য বৈষ্ণব পদের ভণিতা, ভাব, ভাষা কাল ও লিপি বিচার করে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ প্রমাণ করেছেন যে, চন্ডীদাস তিনজন: বড়ু চন্ডীদাস, দ্বিজ চন্ডীদাস ও দীন চন্ডীদাস। তবে কারও কারও মতে, চন্ডীদাস নামের কবির সংখ্যা আরও বেশী। বড়ু চন্ডীদাস এঁদের মধ্যে প্রাচীনতম ও চৈতন্য-পূর্ববর্তী।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নাট্যগীতিকাব্য। প্রধান তিন চরিত্রÑ কৃষ্ণ, রাধা, ও বড়ায়ি-কে আশ্রয় করে এ-কাব্য জন্ম, তাম্বুল, বংশী ও বিরহ ইত্যাদি মোট তের খন্ডে বিন্যস্ত। রাধা-কৃষ্ণের পরিচয় ও প্রণয়ের এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় কাহিনীটি, কৃষ্ণ কর্তৃক রাধাকে ত্যাগ ও তজ্জাত রাধার বিরহ-আর্তির মধ্যে দিয়ে পরিসমাপ্তি লাভ করেছে। এই জন্যে বংশী ও বিরহ খন্ডে উচ্ছ্বসিত গীতিময়তার পরিচয় আছে।

সহায়ক গ্রন্থঃ শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: সম্পাদনাÑ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ; বাংলা সাহিত্যের কথা (দ্বিতীয় খন্ড): মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্; মধ্যযুগের বাংলা গীতিকবিতা: সম্পাদনাÑ মুহম্মদ আবদুল হাই ও আহমদ শরীফ; বড়ু চন্ডীদাসের কাব্য: সম্পাদনাÑ মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য পাঠের ভূমিকা: নীলিমা ইব্রাহিম; বড়ু চন্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: সম্পাদনাÑ অমিত্রসূদন ভট্টাচার্য।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28736181 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28736181 2007-10-08 09:27:31
অনুরোধ আমি এসে দাঁড়াই তোমার দুয়ারে,
তুমি কি অবাক হবে?

যদি বলি, চলো ঘুরে আসি
সেই চিরচেনা সবুজারণ্যে,
তুমি কি যাবে?

যদি কোন এক বৃষ্টি ভেজা দুপুরে,
তোমায় নিয়ে ঘুরে বেড়াঁতে চাই, পুরোটা শহর।
তুমি কি যাবে?

যদি কোন এক পড়ন্ত বিকেলে বলি,
তোমার হাতে রাখতে চাই এই হাত, সারাটাজীবন!
দেবে কি তোমার হাত বাড়িয়ে?

যদি তোমারই জন্যে নিয়ে আসি
চির প্রত্যাশিত লাল টকটকে এক শাঁড়ী
তুমি কি নেবে?

জানি তুমি অবাক হবেনা, যাবেনা বেড়াতে,
বাড়িয়ে দেবেনা হাত, নেবেনা কোন লাল শাড়ি।

যদি কোন এক অবেলায় শুনতে পাও,
আমি চলে গেছি দূরে, বহুদূরে,
কোন এক চির নবান্নের দেশে..

অনুরোধ,
তুমি ফিরে এসোনা, আমার আঙিনায়।
তুমি কেদোঁনা কখনো, আমায় ভেবে।

ভেবে নেবো.. আমার হাজারো না পাওয়ার মাঝে
এ ছিলো একমাত্র পাওয়া।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28735983 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28735983 2007-10-07 09:58:40
প্রতীক্ষায় আছি সুদীর্ঘকাল ধরে, একাকী।

তোমার জন্যে রাখা ফুলের মালাটা
শুকিয়ে গেছে, বহুদিন হলো।
শুকনো ফুলের শেষ পাঁপড়িটা
কবে ঝড়ে গেছে, তাও মনে নেই।

আমার ডায়েরির পাতায় পাতায় জমেছে
অজস্র ধুলো-কণা,
তোমার জন্যে লিখা সহস্র কবিতাগুলো,
আজ বড় বেশী ক্লান্ত,পরিশ্রান্ত।

আমার চোখের কোনে কোনে
শুকিয়েছে বহু অশ্রুজল,
চোখের নিচেই পড়েছে,
ভাবনার সুবিশাল কালো দাগ।
খোঁচা খোঁচা দাঁড়িগুলোর অনেকেই,
বদলে ফেলেছে তার আপন রঙ।

তবুও প্রতীক্ষায় আছি,
প্রতীক্ষায় থাকি নিতান্তই একাকী,
সকাল, বিকেল, সন্ধ্যা রাত্রিতে।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733885 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733885 2007-09-27 09:35:59
কবি ও কবিতা - ১ (কাহ্নপাদানাম্)

আলিএঁ কালিএঁ বাট রুন্ধেলা।
তা দেখি কাহ্ন বিমণা ভইলা।।
কাহ্ন কহিঁ গই করিব নিবাস।
জো মণ গোঅর সো উআস।।
তে তীনি তে তীনি তীনি হো ভিন্না।
তণই কাহ্ন ভব পরিচ্ছিন্না।।
জে জে আইলা তে তে গেলা।
অবণাগবণে কাহ্ন বিমণা ভইলা।।
হোরি সে কাহ্নি নিঅড়ি জিনউর বট্টই।
ভণই কাহ্ন মো হিঅহি ন পইসই।।


কবি পরিচিতিঃ
নামঃ কাহ্নপা।
জন্মঃ ৬৭৫ খ্রীষ্টাব্দ (আনুমানিক)।
মৃত্যুঃ ৭৭৫ খ্রীষ্টাব্দ (আনুমানিক)।
বাঙলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের অন্যতম কবি। ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে -চর্য্যাচর্য্যবিনিশ্চয়- নামে যে পদ-সঙ্কলন আবিষ্কার করেন, তা-ই চর্যাপদ নামে পরিচিত। এই সঙ্গলনের মোট ৫১টি পদের মধ্যে সাঁড়ে ছেচল্লিশটি পদ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এগুলোর মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি পদ-সহ মোট ১৩টি পদই রচনা করেন কাহ্নপা। তিনি বাঙালী ছিলেন, তবে উড়িষ্যাবাসী বলেও অনেকে দাবি করেন। মোটা ২২জন কবির এই পদগুলো বাংলা, হিন্দী, মৈথিলী, উড়িয়া বা অসমীয়া ভাষার আদি নিদর্শন বলে দাবি উঠেছে। অনুমান করা হয় যে, চর্যাপদের রচনা-কালে এই সমস্ত অঞ্চলে একটি সাধারণ ভাষা ছিলো। মোটামুটিভাবে ৭ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে চর্যাপদগুলো রচিত হয়েছে বলে পন্ডিতদের ধারণা। চর্যাপদে রহস্যময় ভাষায় বৌদ্ধ সহজিয়া সিদ্ধাদের গুহ্য সাধনতত্ত্ব প্রকাশিত হয়েছে। সেই সঙ্গে এগুলোতে বিধৃত হয়েছে সে সময়কার সমাজের নানা চিত্র এবং জীবনের নানা পরিচয়। চর্যাপদের সাহিত্যিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিও একালের পন্ডিত ও সাহিত্যি-রসিকদের কৌতূহল জেগেছে। -আলিএঁ কালিএঁ বাট রুন্ধেলা-(তার কবিতা)-র সূত্র: Buddhist Mystic Songs. সম্পাদনা: মুহম্মদ শহীদুল্লাহ।

সহায়ক গ্রন্থঃ হাজার বছরের পুরান বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা : হরপ্রসাদ শাস্ত্রী; বাংলা সাহিত্যের কথা (১ম খন্ড) : মুহম্মদ শহীদুল্লাহ; চর্যাগীতিপদাবলী : সম্পাদনা- সুকুমার সেন; চর্যাগীতিকা : সম্পাদনা- মুহম্মদ আবদুল হাই ও আনোয়ার পাশা। ]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733880 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733880 2007-09-27 08:41:41
জানি তুমি! হাসছো প্রানখুলে,
দেখনি পেছনে ফিরে
কিভাবে চলে গেলে
এ মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে।

জানি তুমি
এমনি করে বেশ আছো,
ফেলে আসা সব স্মৃতি
মন থেকে মুছে দিয়ে,
যত প্রেম যত প্রীতি।

জানি তুমি
হাটছো মুখরিত জনপদ,
চিরুনিতে জড়াচ্ছো চুল,
বুকে নিয়ে ফিরে গেছো
আমার যত ভুল।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733830 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733830 2007-09-27 00:22:42
সন্ত্রাসী রাষ্ট্র : একটি আত্তঘাতী সংজ্ঞা!
কিছুকাল আগেও আমার ব্যক্তিগত জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার বাইরে ছিলো এই শব্দটি, তবে খুব বেশীদিন তা স্থায়ী হয়নি। মার্কিন মুল্লুকে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকেই এই শব্দটি এত বেশী বার উচ্চারিত হয়েছে যে, এর মানে জানার আগ্রহকে আমি কোনভাবেই দমিয়ে রাখতে পারিনি। হামলার পরপরই মার্কিন কংগ্রেসে ইউ.এস প্যাট্রিয়ট এ্যাক্ট পাস হয়। আর সেখানেই মেলে আমার প্রশ্নের উত্তর, যেখানে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে এভাবে: ...the gathering of intelligence information on potential terrorist targets, the solicitation of funds for a terrorist organisation or the solicitation of others to undertake acts of terrorism. Those who provide knowing assistance to a person who is planning to perform such activities are defined as undertaking terrorist activities. Such assistance includes affording material support, including a safe house, transportation, communications, funds, transfer of funds or other material financial benefit, false documentation or identification, weapons (including chemical, biological, or radiological weapons), explosives, or training to perform the terrorist act. এবং যে কোন দেশ এ ধরনের কর্মকান্ড সমর্থন করে অথবা কোন প্রকার বাধা প্রদান করেনা তাকেই সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

হামলার পর স্বাভাবিকভাবেই মার্কিন মুল্লুকের প্রেসিডেন্ট জুনিয়র বুশের উপর নানা প্রকার চাপ চলে আসে, বিশেষ করে দেশের জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্যর্থ একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি স্বদেশীদের কাছেই নিন্দিত হয়েছেন। আর তাই পৃথিবী থেকে সন্ত্রাসবাদ র্নিমূলের নামে নিজেই আর্বিভূত হয়েছেন সন্ত্রাসবাদীদের নেতা হিসেবে। খোঁড়া অজুহাতে যুদ্ধ শুরু করে হত্যা করেছেন অগণিত মানুষ। বোমা মেরে, সাধারণ মানুষ হত্যা করে তিনি কি প্রমাণ করতে চেয়েছেন? আফগানিস্তান ও ইরাকে নিহত সবগুলো মানুষের রক্তকে কলমের কালি বানিয়েও যদি তিনি তার স্বপক্ষে লিখে যুক্তি দাঁড় করাতে চেষ্টা করেন, তবুও যে কোন মানুষের(মার্কিনী নন) নিরপেক্ষ বিবেচনায় তাকে মানবাধিকার লংঙ্ঘনের অভিযোগে মৃত্যুদন্ড দেয়া যায় অনায়াসে।

মার্কিন দৃষ্টিভঙ্গিতে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইরাণ, যথাক্রমে সিরিয়া, লিবিয়া, কিউবা, উত্তর কোরিয়া ও সুদান। এসব দেশের কথা আমরা সবাই কম-বেশী জানি, তাই এসব দেশ নিয়ে আমি আলোচনায় যাচ্ছিনা। আসুন এবার দৃষ্টি ফেরানো যাক খোদ আমেরিকার দিকেই। পুরো ব্যাপারটা বুঝতে হলে আমাদেরকে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে। দৃষ্টি দেয়া যাক আমেরিকা-কিউবা সম্পর্কের দিকে। ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু করে প্রায় ৭০'র দশকের শেষ পর্যন্ত(অফিসিয়ালি) আমেরিকা কিউবায় ছোট-বড় অনেকগুলো সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত ছিলো, যার মধ্যে Bay of Pigsদখল ও বিজারীকে দিয়ে ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা পরিকল্পনার সাথে আমেরিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ১৯৮৯ সালে সিনিয়ব বুশ, ফিদেল কাস্ত্রো বিরোধী ভয়ানক সন্ত্রাসী অরল্যান্ডো বোশকে আমেরিকার বিচার বিভাগ উপক্ষো করে ক্ষমা ঘোষণা করেন, যার বিরুদ্ধে ১৯৭৬ সালে কিউবার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে বোমা হামলার মতো মারাত্মক অভিযোগ ছিলো, বলা হয়ে থাকে অরল্যান্ডোই ছিলো এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। কাস্ত্রো বিরোধী সন্ত্রাসীদের আমেরিকার মদদ দেয়ার বিষয়গুলো আঁচ করতে পেরে কিউবার গোয়ন্দা দল পুরো সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কটিকে ভেঙ্গে দেয়। ১৯৯৮ সালে এফ.বি.আই-এর কয়েকজন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাকে হাভানায় আমন্ত্রন জানানো হয় এবং সেখানে তাদেরকে কয়েক হাজার পাতার বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও বেশ কয়েক ঘন্টার ভিডিওচিত্র দেখানো হয়। যাতে কাস্ত্রো বিরোধী সন্ত্রাসীদের আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদ দেয়ার অভিযোগ সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়। জবাবে এফ.বি.আই কিউবায় যারা এসব তথ্য-প্রমান সংগ্রহে সাহায্য করেছে তাদের গ্রেপ্তার করে আমেরিকায় নিয়ে এসে বিচারের সম্মুখীন করায়, যাতে বেশ কিছু কিউবান দোষী সাব্যস্ত হয়, এবং যাবজ্জ্বীবন কারাদন্ডে দন্ডিত হয়, যারা এখনো এ শাস্তি ভোগ করছেন, এরা কিউবান ফাইভ নামে অধিক পরিচিত।

আমেরিকার মাটিতে নির্বিঘ্নে বসবাসকারী আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসীদের তালিকা নিতান্তই ছোট নয়, যার মধ্যে হাইতির প্রাক্তন আধা-সামরিক বাহিনীর নেতা ইমানুয়েল কনসটান্ট ও রয়েছেন, যিনি মূলত টোটো নামেই পরিচিত। ৯০'র দশকে তার বাহিনীই সেদেশে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড শুরু করে এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট র্বাট্রান্ড আর্তিসদতিদি কে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরবর্তীতে হাইতি টোটোকে সেদেশে পাঠানোর প্রস্তাব পাঠালেও আমেরিকা তাকে ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করে,যার বিরুদ্ধে ৪-৫ হাজার মানুষ হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যতদূর জানা যায়, টোটো এখনো নিউ ইয়র্ক শহরের কুইন্সে বসবাস করছেন।

এতো গেল কয়েক দশক আগের ঘটনা। আমেরিকা অতি সম্প্রতি বিন লাদেনকে(আর্ন্তজাতিক সন্ত্রাসী?) আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে আফগানিস্তানে আর লাদেনকে সহযোগিতা ও ব্যাপক বিধ্বংসী মারনাস্ত্র(নিউক্লিয়ার, কেমিক্যাল ও বায়োলজিকাল)তৈরী ও মওজুদের অভিযোগে ইরাকে আক্রমন করে। যদিও দুটো যুদ্ধেই স্পষ্টভাবে আমেরিকার অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং তার প্রমাণ এই বিশ্ববাসী দেখেছে ও জেনেছে।

একটা কথা আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, বিন লাদেন এবং সাদ্দাম হোসেন এ দু'জনই আমেরিকার সৃষ্টি। ব্যবসায়ী থেকে আজকের সন্ত্রাসী লাদেন এবং সাধারণ রাজনৈতিক কর্মী থেকে কিছুদিন আগের সাদ্দাম এর উত্থান কিভাবে হলো? এবং কিভাবে তাদের ভাগ্য আমেরিকা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়েছে এবং হচ্ছে তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই। সোভিয়েত ইউনিয়নকে আফগানিস্তান থেকে সরানোর জন্যে এই তালেবান আর লাদেনকে ব্যবহার করেছে আমেরিকা তার নিজ প্রয়োজনে, সাদ্দামকে ব্যবহার করা হয়েছে ইরাণ ও কুয়েত আক্রমণ করার জন্যে। একজন সন্ত্রাসী ছাড়া এত জটিল আর সূক্ষ্ম কাজ কোন প্রকৃত গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক আজ পর্যন্ত করতে পেরেছেন কিনা তা আমার জানা নেই। এ দৃষ্টিকোণ থেকে সিনিয়র বুশকে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক না বলে উপায় নেই!

আর জুনিয়র বুশ? র্নিবুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি অনেকবার, নিজ দেশেও তিনি বহুল সমালোচিত। ছিলেন স্পোর্টস ক্লাবের ম্যানেজার, হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। বলা চলে অনেকটাই আঙুল ফুলে কলাগাছ, যদিও আমেরিকাতে বুশ পরিবারের প্রভাব-প্রতিপত্তি আরো অনেক আগে থেকেই। কূটনীতিতে বাবার যোগ্য উত্তরসূরী না হতে পারলেও যুদ্ধবাজ নেতার তালিকায় তিনি তার বাবার চেয়ে অন্তত এক ধাপ উপরেই আছেন সে কথা বলা যায় নির্দ্বিধায়। বার বার যুদ্ধ করে নিজ দেশের অর্থনীতির বারোটা বাজিয়েছেন, তবুও নতুন করে আবার যুদ্ধ শুরু করতে যেন তার আর তর সইছেনা, সম্ভাব্য তালিকায় বোধ করি ইরাণ সবার আগে এগিয়ে, কারণ বুশ প্রশাসনের চোখে ইরাণ একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র।

এখন প্রশ্ন হলো, প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসী রাষ্ট্র কি? যদি আমেরিকা প্রদত্ত সংজ্ঞাকেই আমরা মেনে নিই, তবে কি আমেরিকাকে একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায় না? যদি তাই হয়, তবে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের সংজ্ঞা আমেরিকার জন্যে একটি আত্মঘাতী সংজ্ঞা বৈ আর কিছু নয়।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733644 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733644 2007-09-26 10:35:48
কবি পরিচিতি প্রকাশ করতে চাই!
কিছুদিন হলো আমি কবিতার একটা বই পেয়েছি,যার নাম "কবিতা সংগ্রহ"। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত এই বইটি সেসময়ে স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্য বই ছিলো। বইটিতে প্রায় ১০৪ জন কবির কবিতা ও তাদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আকারে "কবি পরিচিতি" তুলে ধরা হয়েছে। মোটামুটিভাবে বাংলা সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য বেশ কয়েকজন কবি ও তাদের কবিতা এই বইটিতে স্থান পেয়েছে। আমি এই অমূল্য তথ্যগুলো, বিশেষ করে "কবি পরিচিতি"-টুকু আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি। আমরা যেন আমার সংস্কৃতিকে আরো ভালো করে জানতে পারি, সে জন্যেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

নিজের ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার পরেও বলবো, যদি আপনারা সত্যিই এ ব্যাপারে জানতে আগ্রহী হন, তবে ধারাবাহিকভাবে আমি এসব কবিদের পরিচিতি তুলে ধরতে পারি। এ ব্যাপারে ব্লগের সবার দৃষ্টি আকর্ষণ ও মন্তব্য প্রত্যাশা করছি।]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733201 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28733201 2007-09-24 07:04:27
চার দেয়ালের মাঝে! আমার বসবাস, সুদীর্ঘদিন।
তার ছোট্ট জানালা দিয়েই তাকিয়ে দেখি,
বাইরের উজ্ব্বল পৃথিবীকে।

আমার ঘরে সূর্য্যি মামার আলো আসেনা,
আসেওনি কখনো, কোনদিন।
আর চাঁদ মামা?
তাকে দেখিনি সেও বহুদিন।

আমার আষ্টে-পৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে,
পৃথিবীর সব দুঃখ-কষ্ট।
নির্জন অন্ধকার ঘরে সে কষ্ট,
আরো দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়।
পৃথিবীর সবটুকু নির্জনতা খেলা করে,
বড় একাকী আমাকে নিয়ে।
অসহায় আমি নিজেই নিজের কাছে
পরাজিত হই প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত।

কেবল সহস্র ফোঁটা চোখের জল,
আমার সঙ্গী হয়ে থাকে,
বুকের ভেতর কী ভয়ানক এক কষ্ট
কেবল আমাকেই পোড়াঁয়।

চার দেয়ালের মাঝে বেঁচে থাকে,
আমার সব কষ্টগুলো, আর
তোমার-আমার অতীত দিনের
খুব বিষণ্ন কিছু স্মৃতি।

প্রতিরাতেই আমার কষ্টগুলো,
নতুন করে জন্ম নেয়, আমার
অন্ধকার ঘরের প্রতিটি কোনে,
...কেবল আমাকেই ভালোবাসবে বলে।

শুধু একদিন তুমি ফিরে আসবে বলেই,
আমার আকাশে ভোর আসেনি,
শুধু তুমি আবার ভালোবাসবে বলেই,
আমার অন্ধকার ঘরে আজও আলো জ্বালিনি।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28732985 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28732985 2007-09-23 07:30:44
আমেরিকায় এক বছর!
আমেরিকায় আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাটা মিশ্র, ভালোলাগা আর মন্দলাগার মতো দুটো বিষয়ই আমার অভিজ্ঞতায় রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে বলবো, আমেরিকা একটা সুন্দর দেশ, জীবন-যাপনের জন্যে এর চেয়ে ভালো জায়গা খুব বেশী একটা আছে বলে আমার জানা নেই। তবে এখানকার জীবন-যাত্রার মান একটু ব্যয়বহুল হলেও সুবিধা অনেক। এখানকার সমাজের সব শ্রেণীর মানুষকেই কাজ করতে হয়। বলা চলে, বেঁচে থাকার জন্যে বেশ সংগ্রাম করতে হয়। আমারতো মনে হয়, সুযোগ থাকলে আমাদের বাংলাদেশের সব যুবক, তরুন-তরুণীর এখানে এসে কমপক্ষে এক দুই বছর কাটানো উচিত। তাতে করে জীবন সম্পর্কে বেশ ভালো একটা ধারণা হবে বলে আমি মনে করি, যেটা তাদের পরবর্তী কর্মজীবন বা ব্যক্তিগত জীবনে বেশ কাজে আসতে পারে। এখানে সবকিছুতেই অসম্ভব প্রতিযোগীতা কাজ করে। এসব কথাই আমার ব্যক্তিগত অভিমত, কোন উপদেশ নয়।

খুব মনে পড়ছে, ঠিক এক বছর আগের কথা। যেদিন আমি আমেরিকায় আসার জন্যে রওনা হলাম, তার আগেও আমি মেসেজ পোস্ট করেছি। এই সাইটটির অনেকেই আমাকে অভিনন্দন আর শুভ কামনা জানিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট কারো নাম উল্লেখ করে অন্যকে ছোট করতে চাইছিনা। আপনাদের সবার দোয়া আর ভালোবাসায় আমি ভালো আছি। আমার জন্যে দোয়া করবেন।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28731724 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28731724 2007-09-17 10:14:45
কষ্টগুলো এভাবেই ছিলো! এভাবেই ছিলো বহুদিন।

একাকী অন্ধকার ঘরের
চার দেয়ালে বন্দী হয়ে
কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো আমার হৃদয়টাকে।

রক্তাক্ত আমার এই দেহ, এই মন
পায়নি তোমার কোন পরশ,
ধীরে ধীরে আমি চলে এসেছি
মৃতু্র খুব কাছাকাছি।

আজ বিদায় বেলায় তাই কি তুমি এলে?
তাই কি এলে আমার কপালে ছোঁয়াতে
তোমার সেই মায়াবী পরশ?

তাই কি মুছে দিতে এলে
টুপ-টাপ ঝরে পড়া চোখের জল?
দেখতে এলে আমার শেষ নিঃশ্বাসের
প্রতিটি মুহূর্তগুলোকে?

বড় বেশী অবেলায় তুমি এলে আজ,
কি এমন ক্ষতিটুকু হতো তোমার,
যদি সত্যিই ফিরে আসতে,
আর ক'টাদিন আগে?

আমি হারিয়ে গেলেও জেনো,
আমি আছি তোমার খুব কাছাকাছি,
তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসে
প্রতিটি হৃদস্পন্দনে আমি বেঁচে থাকবো।

বেঁচে থাকবো
তোমার হৃদয়ের খুব গহীন কোনে,
কখনোবা তোমার চোখের কোনে
কান্নার নোনা জল হয়ে ঝরে পড়বো।

আমি বেঁচে ছিলাম, বেঁচে আছি
আর বেঁচে থাকবো...
চিরকাল শুধু তোমাকেই ভালোবাসার, কাছে পাবার
অতৃপ্ত হৃদয়ের আকুতি নিয়ে।
]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28724820 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28724820 2007-08-09 09:25:34
আমি হেঁটে চলেছি! ঘোর অমানিশার অন্ধকারেও
আমি হেঁটে চলি নির্ভয়ে।

শিশির ভেজা ঘাস মাঁড়িয়ে,
অজানা গাঁয়ের মেঠোপথে।
তপ্ত রোদে ঘামে ভিজে,
আমি হেঁটে চলি,
আমি হেঁটে চলি, আমার মতো করে।

পাহাড় পেরিয়ে, ঘোর জঙ্গলেও
আমি হেঁটে চলি দ্বিধাহীন,
দেখি হিংস্রপ্রাণীগুলো আমায় দেখে
অলস চোখে।

আমি হেঁটে চলি, আপন মনে।
পথের বাঁকে বাঁকে দেখি
লোভ-লালসার বসবাস,
কুঁড়ে খাচ্ছে মানব-পশুর হৃদয়টাকে।

আমি হেঁটে চলি
বহুদূর থেকে বহুদূরে,
তবুও দেখি আমার ছায়া
এখনো আমাকেই ছাঁড়িয়ে।

আমি হাঁটছি একাকী, দীর্ঘপথ,
কোন এক অজানা গন্তব্যের পথে।


‍‍‍

]]>
http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28717636 http://www.somewhereinblog.net/blog/prokashoniblog/28717636 2007-06-25 11:57:05