আস্তিক নাস্তিক বিষয়ক পোস্ট সমূহের প্রতি এই অধমের বিশেষ আগ্রহ রহিয়াছে। ইশ্বরের অস্তিত্বের ব্যাপারে আমি সংশয়বাদী হইলেও ধর্ম-সমূহ যে ঐশ্বরিক কিছু নহে সে বিষয়ে নি:সংশয়। ধর্মগ্রণ্থসমূহে যেই সকল রুপকথা রহিয়াছে সেইগুলো বিশ্বাস করিতে আমার মন কিছুতেই সায় দেয় না।
ইশ্বর যদি সত্যই অস্তিত্বশীল হইয়া থাকেন এবং আস্তিকদের দাবি মত সর্বশক্তিমান হইয়া থাকেন, তাহা হইলে মানবসকলকে হেদায়েত প্রদান করিবার তরে তাহার ধর্ম প্রচলন করিবার কোনই আবশ্যকতা নাই। তিনি চাহিলেই মানবসকলকে একেকজন দেবদূত করিয়া দিতে পারেন।
আস্তিকেরা বলিবেন, তিনি মানবসকলের পরীক্ষা লইবার জন্য ধর্ম তৈরী করিয়া মানবকূলকে তাহা গ্রহণ বা বর্জন করিবার স্বাধীনতা দিয়া দিয়াছেন। সেক্ষেত্রে আমি বলিবো, আমি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হইবার অর্থ তিনিও অকৃতকার্য হইয়াছেন। কারণ আমাকে তিনিই তৈরী করিয়াছেন। আমার যে সকল দোষ, গুন সকলি তাহার সৃষ্টি। ইহা তাহার ব্যার্থতা যে, তিনি আমাকে পারফেকট করিয়া তৈরী করিতে পারেন নাই। আমার দোষের জন্য যদি শাস্তি পেতে হয় তবে তাহা ইশ্বরেরই প্রাপ্য।
আস্তিকেরা আরো বলিয়া থাকেন, যে তিনি সর্বজ্ঞ। তাহা হইলে আর পরীক্ষা লইবার দরকার কি? ফলাফল তো তাহার জানাই রহিয়াছে।
সামু ব্লগে আস্তিক নাস্তিক বিতর্কে সকলেই স্রষ্টা আছে কি নাই সে বিষয়ে বিতর্ক করিয়া থাকে। কিন্তু এই বিষয়ে যেহেতু পক্ষে-বিপক্ষে কোন অকাট্য প্রমাণ দাখিল করা সম্ভব নহে সেইহেতু তর্ক কোন কালেই শেষ হইবে না, অনন্ত কাল ধরিয়া চলিতে থাকিবে। ইহার চেয়ে বরং প্রচলিত ধর্মসমূহের প্রকৃত উৎস্য বিষয়ে আলোচনা করা যাইতে পারে।
তর্কের খাতিরে ধরিয়া লইলাম যে ইশ্বর রহিয়াছেন। সে ক্ষেত্রে আমি বলিবো তিনি ধর্মসমূহ প্রেরণ করেন নাই, বরং মানুষই মনগড়া ভাবে তাহার সম্পর্কে কল্পনা করিয়া ধর্মসমূহ তৈরী করিয়া লইয়াছে। আর ইশ্বর হয়তোবা তাহার তৈয়ারীকৃত বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্টিক ক্লাস্টারের মধ্যে একখানা, ভার্গো গ্যালাক্টিক ক্লাস্টারের, হাজার খানেক গ্যালাক্টিক গ্রুপের একখানা, লোকাল গ্রুপের, হাজারখানেক গ্যালাক্সির মধ্যে একখানা মিল্কি-ওয়ের বিলিয়ন বিলিয়ন নক্ষত্রের মধ্যে একখানা, সূর্যের ডজনখানেক গ্রহের মধ্যে একখানা, পৃথিবীর মিলিয়ন মিলিয়ন প্রজাতির মধ্যে স্বঘোষিত শ্রেষ্ঠ, মানবকুল কি করিতেছে সেই বিষয়ে মোটেও আগ্রহী নয়। কিংবা হয়তো তিনি আমাদের সকল কিছু দেখিতেছেন এবং তাহার নামে আমরা কি সকল আচার-অনাচার করিতেছি তাহা দেখিয়া পুলক/ক্রোধ বোধ করিতেছেন। এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জগতের কার্যকলাপে হস্তক্ষেপ করিবার কোনরূপ ইচ্ছাই তাহার নাই।
ধর্মসমূহের উৎস্য নিয়া আলোচনা পরের পর্বে করিবো।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ১০:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


