somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিপ্রতীপ ভালবাসা...(গতকালের বাকী অংশ)

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুলিয়ার আব্বা যখন ওকে জিজ্ঞেস করল- ‘বাসা খুঁজে বের করতে কোন অসুবিধা হয়নি তো?’ ও হাসি মুখে মাথা নেড়ে জানিয়েছে যে ওর কোন অসুবিধাই হয়নি। তারপর মুখে বলেছে আপনাদের বাসাটা বড় রা¯তার আরেকটু ধারে হলে ও আরো তাড়াতাড়ি খুঁেজ বের করতে পারত। জুলিয়ার বাবা বুদ্ধিমান হলে এতেই সব বোঝার কথা। সে-ও হাসি মুখে জানাল-‘কি করব বাবা? যদি ভাড়াটে হতাম তাহলে এক কথা ছিল, নিজেদের বাড়ী বলেই সমস্যাটা হয়েছে। ঠিকানা বলে দিলেও সশরীরে চিনিয়ে না দিলে অনেকেই বাসা চিনতে পারে না, ভাবছি বাড়ীটা ভাড়া দিয়ে আরো সামনে বাসা নেব, এভাবে গলির জটে আর কদিন পড়ে থাকব?’ জুলিয়ার বাবাকে ভাল লাগল ওর। হাউজ টিউটরের সাথে প্রথম পরিচয়েই কেউ এত কথা বলে না, তিনি বলেছেন, আর ওর ধারনা যারা একটু বাঁচাল স্বভাবের হয় তারা সাধারনত মানসিকভাবেও একটু ‘নির্ঝঞ্ঝাট’ প্রকৃতির হয়ে থাকে। একটুপর না¯তার ট্রে হাতে একটি মেয়ে ড্রয়িংরুমে ঢুকল। লম্বা এক হারা গড়ন, গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, মুখটা অসম্ভব মায়াময়। ও ভেবেছিলো এটা বুঝিবা জুলিয়ার বড় বোন। তাই বয়সের ব্যাপারে ও নিশ্চিšত থেকেছিলো। কিšতু ওর আব্বা যখন ওর সাথে পরিচয় করিয়ে দিল তখন ও যেন বিষম খেল। ‘এই মেয়ে টেনে পড়ে? একেই আমার একাউন্টিং পড়াতে হবে?’ আসলে শাড়ি পড়াতে ওকে বড়দের মত লাগছিলো।
জুলিয়া যে ওকে স্যার ছাড়া আর কিছুই ভাকে না সেটা রাজন বেশ ভাল করেই জানে। নিজেকে ও প্রবোধ দিয়েছে অনেক। ‘স¤পুর্ন নিস্কলুষ ও নির্ভেজাল সম্পর্ক আমাদের। প্রেম ভালোবাসার মত আবেগী ও স্পর্শকাতর জিনিস এখানে একেবারেই প্রশ্নাতীত।’ কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি, ও প্রতিবারই নিজের কাছে হেরে গেছে।
সেদিন পড়ানো শেষ করে বাসায় ফেরার পথে ভাসির্টি ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে গিয়েছিলো পুরোনো বন্ধুদের সাথে। ‘নিজের ছাত্রার সাথে প্রেম? তুই আর মানুষ খুজেঁ পেলি না? নাহ্, তুই একদম ব্যাকডেটেড হয়ে গেলিরে রাজন! তোকে
খুব স্মার্ট ভাবতাম। ’ হতাশ হয়ে বল্ল একজন। ‘সারাজীবন শুনেছি ছাত্রীই বুঝি স্যারদের প্রেমে পড়ে, এখন দেখছি উল্টোটাও ঘটে। ’ হেসে বল্ল আরেকজন। -‘আমাদের ক্লাসের মেয়েরা কি দোষ করেছিলো? ওরা কি কম সুন্দরী ছিলো? - ‘না, রাজনই ঠিক আছে।’ আরেকজন ফোড়ন কাটল- ‘যে যুগ পড়েছে, সেইম এইজের মাল এখন রিস্কি, পিউর বলতে গেলে তো পাওয়াই যায় না। তুই চালিয়ে যা রাজন, ওদের কথায় কান দিস না।’ কান দেবে আর কি! ওর কান তো লজ্জায় লাল হয়ে গরম হয়ে উঠছিলো। রাজন জুলিয়ার ব্যাপারে ওদের তেমন একটা জানায়নি, তবুও ওরা কি করে বুঝতে পারল কে জানে? সেই থেকে আর কাউকে বলার সাহস পায়নি। শুধু অস্থির একটা বেদনা ওকে নিঃশব্দে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবুও সুযোগ পেলেই ও সুখ চিšতায় বিভোর হয়। মারা যাবার আগে ও একদিন জুলিয়াকে নিয়ে ভরা জোৎস্নার রাতে বৃষ্টিতে ভিজবে। হতে পারে এটা ওর একটা অলীক কল্পনা, কারন বৃষ্টি আর জোৎস্না সাধারনত একসাথে উপভোগ করা যায় না, প্রকৃতি মানুষের জন্য সাধারনত এতটা উদার কখনো হয় না। রাজন তবুও ওর কল্পনাকে আরোও বি¯তৃত করে। কি ভাবে ঘটনাটা ঘটবে সেটা বসে বসে ভাবে। মধ্যরাত, জুলিয়া আর ও বিছানায় শুয়ে আছে। রাতে শোয়ার আগে কোন এক সামান্য ব্যাপার নিয়ে দুজনার মধ্যে হালকা ধুন্ধুমার লেগেছিলো। তাই অভিমান করে দুজন বিছানার দু প্রাšেত শুয়ে আছে। জুলিয়া হয়ত তখন মনে মনে ভাবছে রাজনের সাথে ও আর কখনও কথা বলবে না। রাজনও ভাবছে জুলিয়ার ছোটোখাটো একটা শিক্ষা হওয়া দরকার। হঠাৎ এমন সময় ওদের টিনের চালের উপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হবে। জুলিয়া ভয় পাওয়া গলায় বলবে- ‘এ্যাই শুনছ, বৃষ্টি পড়ছে।’ ও বিরক্ত হয়ে বলবে- ‘এত রাতে আবার কিসের বৃষ্টি? চুপচাপ ঘুমাও।’
- ঘুম আসছে না তো!
- ‘ঘুম না আসলে আমি কি করব?’ রাজন আরো বিরক্ত হয়ে বলবে।
- চল বৃষ্টিতে ভিজি।
- ’তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’ রাজন অবাক হয়ে বলবে।
- ‘হ্যাঁ, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’-বলে জুলিয়া ওকে হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাবে। বাইরে তখন প্রকৃতি অদ্ভুত, অভূতপূর্ব আর চমৎকার এক রুপ ধারন করে বসে আছে। উথাল পাথাল জোছনার মাঝে মুষলধারে বৃষ্টি!!!




(বি:দ্র: এই গল্পটির চরিত্র ও ঘটনা পুরোপরি কাল্পনিক নয়। তবে সঙ্গত কারনে স্বল্প কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবকে শুধুমাত্র কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবু অন্য কারো নাম বা ব্যক্তিগত কোন ঘটনার সাথে ব্যাপারটা মিলে গেলে সেটা হবে সম্পূর্ন কাকতালীয়।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩৩
১৫টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×