জুলিয়া যে ওকে স্যার ছাড়া আর কিছুই ভাকে না সেটা রাজন বেশ ভাল করেই জানে। নিজেকে ও প্রবোধ দিয়েছে অনেক। ‘স¤পুর্ন নিস্কলুষ ও নির্ভেজাল সম্পর্ক আমাদের। প্রেম ভালোবাসার মত আবেগী ও স্পর্শকাতর জিনিস এখানে একেবারেই প্রশ্নাতীত।’ কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়নি, ও প্রতিবারই নিজের কাছে হেরে গেছে।
সেদিন পড়ানো শেষ করে বাসায় ফেরার পথে ভাসির্টি ক্যাম্পাসে আড্ডা দিতে গিয়েছিলো পুরোনো বন্ধুদের সাথে। ‘নিজের ছাত্রার সাথে প্রেম? তুই আর মানুষ খুজেঁ পেলি না? নাহ্, তুই একদম ব্যাকডেটেড হয়ে গেলিরে রাজন! তোকে
খুব স্মার্ট ভাবতাম। ’ হতাশ হয়ে বল্ল একজন। ‘সারাজীবন শুনেছি ছাত্রীই বুঝি স্যারদের প্রেমে পড়ে, এখন দেখছি উল্টোটাও ঘটে। ’ হেসে বল্ল আরেকজন। -‘আমাদের ক্লাসের মেয়েরা কি দোষ করেছিলো? ওরা কি কম সুন্দরী ছিলো? - ‘না, রাজনই ঠিক আছে।’ আরেকজন ফোড়ন কাটল- ‘যে যুগ পড়েছে, সেইম এইজের মাল এখন রিস্কি, পিউর বলতে গেলে তো পাওয়াই যায় না। তুই চালিয়ে যা রাজন, ওদের কথায় কান দিস না।’ কান দেবে আর কি! ওর কান তো লজ্জায় লাল হয়ে গরম হয়ে উঠছিলো। রাজন জুলিয়ার ব্যাপারে ওদের তেমন একটা জানায়নি, তবুও ওরা কি করে বুঝতে পারল কে জানে? সেই থেকে আর কাউকে বলার সাহস পায়নি। শুধু অস্থির একটা বেদনা ওকে নিঃশব্দে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তবুও সুযোগ পেলেই ও সুখ চিšতায় বিভোর হয়। মারা যাবার আগে ও একদিন জুলিয়াকে নিয়ে ভরা জোৎস্নার রাতে বৃষ্টিতে ভিজবে। হতে পারে এটা ওর একটা অলীক কল্পনা, কারন বৃষ্টি আর জোৎস্না সাধারনত একসাথে উপভোগ করা যায় না, প্রকৃতি মানুষের জন্য সাধারনত এতটা উদার কখনো হয় না। রাজন তবুও ওর কল্পনাকে আরোও বি¯তৃত করে। কি ভাবে ঘটনাটা ঘটবে সেটা বসে বসে ভাবে। মধ্যরাত, জুলিয়া আর ও বিছানায় শুয়ে আছে। রাতে শোয়ার আগে কোন এক সামান্য ব্যাপার নিয়ে দুজনার মধ্যে হালকা ধুন্ধুমার লেগেছিলো। তাই অভিমান করে দুজন বিছানার দু প্রাšেত শুয়ে আছে। জুলিয়া হয়ত তখন মনে মনে ভাবছে রাজনের সাথে ও আর কখনও কথা বলবে না। রাজনও ভাবছে জুলিয়ার ছোটোখাটো একটা শিক্ষা হওয়া দরকার। হঠাৎ এমন সময় ওদের টিনের চালের উপর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়া শুরু হবে। জুলিয়া ভয় পাওয়া গলায় বলবে- ‘এ্যাই শুনছ, বৃষ্টি পড়ছে।’ ও বিরক্ত হয়ে বলবে- ‘এত রাতে আবার কিসের বৃষ্টি? চুপচাপ ঘুমাও।’
- ঘুম আসছে না তো!
- ‘ঘুম না আসলে আমি কি করব?’ রাজন আরো বিরক্ত হয়ে বলবে।
- চল বৃষ্টিতে ভিজি।
- ’তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?’ রাজন অবাক হয়ে বলবে।
- ‘হ্যাঁ, আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’-বলে জুলিয়া ওকে হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাবে। বাইরে তখন প্রকৃতি অদ্ভুত, অভূতপূর্ব আর চমৎকার এক রুপ ধারন করে বসে আছে। উথাল পাথাল জোছনার মাঝে মুষলধারে বৃষ্টি!!!
(বি:দ্র: এই গল্পটির চরিত্র ও ঘটনা পুরোপরি কাল্পনিক নয়। তবে সঙ্গত কারনে স্বল্প কিছু ক্ষেত্রে বাস্তবকে শুধুমাত্র কিছুটা পরিবর্তন করা হয়েছে। তবু অন্য কারো নাম বা ব্যক্তিগত কোন ঘটনার সাথে ব্যাপারটা মিলে গেলে সেটা হবে সম্পূর্ন কাকতালীয়।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০০৮ রাত ১১:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



