আমার প্রিয় পোস্ট

...চলে এসো সব সপ্নচারীরা...!

তোমাকেই বলছি, এপ্রিল!

২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:২৬

শেয়ার করুন:                   Facebook

কয়েক সপ্তাহ আগের ঘটনা। ইলাউড়া রেললাইনে ট্রেক ওয়ার্ক চলছে তাই ট্রেন চলাচল দুদিনের জন্য বন্ধ। পরিবর্তে বিরক্তিকর এক বাস সার্ভিস চালু করা হয়েছে। নতুন কি কি ল্যাপটপ বাজারে এসেছে সেটা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা আমার অনেক দিনের অভ্যাস। তাছাড়া পুরোনোটাও আপগ্রেড করার কথা অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম। বাসে করে মার্টিন প্লেসের হারভে নরম্যানের শোরুমে ঢুঁ মারলাম। HP'র একটা স্পেশাল এডিশন হঠাৎ নজরে পড়ে গেল। হালকা খয়েরি রংয়ের, চমৎকার কারুকাজ খঁচিত আর মেটালের নিখুঁত ফিনিশিং। সাথে সাথেই আমার চোখের তারাগুলো ঝলমল করে উঠল। দাম লেখা: দুই হাজার ডলার (থেকে এক ডলার কম!)। ভেল্যু ফর মানি চোখ বুজে ৪.৭ দিয়ে দিলাম আউট অফ ৫। মনে মনে বল্লাম একেই আমার চাই।কিন্তু হুট করে এত টাকা খরচ করার পাবলিক আমি না;)। তাই বাসায় গিয়ে সিনিয়র ভাইয়াদের সাথে আলাপ আলোচনা করে কাল পরশুর ভেতর কিনে ফেলব ভেবে দোকান থেকে বেরিয়ে এলাম।

মার্টিন প্লেস থেকে আগে কখনো বাসে উঠিনি। তাই স্টপিজটাও ঠিক ঠাহর করতে পারছি না। চারদিক শুনশান। উইক ডেজে যেখানটায় লোকে গিজগিজ করে, উইকএন্ডে সেটা খা খা। একটু আগে পশলাখানেক বৃষ্টি হয়েছে। বাতাসে সোঁদা মাটির স্যাতঁস্যাঁতে গন্ধ। আমি খোলা আকাশের নীচে বুক ভরে শ্বাস নিলাম। আমার কাছে এ গন্ধটা অসম্ভব ভালো লাগে। একটু এগোতেই ল্যাম্পপোস্টে ঝোলানো একটা কর্মাসিয়াল দেখলাম। আমাকে বলছে, 'আপনি এখানে এসে দয়াকরে আপনার মোবাইল ফোনের ব্লু টুথ অন করুন।' খানিকটা অবাক হলাম।আমার মোবাইল ফোনের ব্লু টুথ অন করলাম। সাথে সাথেই একটা ম্যাসেজ পেলাম। যেটা ছিল আসলে 'দি অস্ট্রেলিয়ান' পত্রিকার একাট আধুনিক বিঞাপন! সেদিনের পুরো পত্রিকাটি সেখানে ইন্টার এ্যাকটিভ এমএমএস এ রুপান্তর করে দেয়া ছিল। মুচকি হেসে ভাবলাম, প্রযুক্তি আজ কোথায় চলে গেছে! আচ্ছা, প্রযুক্তি কি পারে না আমার ভেজা মাটির স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধটা একটা পারফিউমের বোতলে ভরে দিতে?
কিছুদূরেই বাসের একটা প্লাটর্ফম দেখলাম। একদম ফাকাঁ। কাছে গিয়ে দাড়াঁলাম। একটুপর একটা মেয়ে এসে বসল পাশে। আমার ব্যক্তিগত ধারনা হল, ওজি মেয়েদের গড়পড়তা চেহারা সুরত খুব একটা আর্কষনীয় নয়। তাই সচারচর ওদের দিকে দ্বিতীয়বার আর তাকানো হয় না। কিন্তু এই মেয়েটির দিকে তাকিয়ে আমার চোখের তারাগুলো যেন আবার কথা বলে উঠল। দেখতে অদ্ভুত সুন্দর মেয়েটি! মেয়েদের চোখের দিকেই আমার চোখ সবার আগে যায়। যার চোখ যতবেশী সুন্দর, আমার চোখে সে ততবেশী সুন্দরী। এই মেয়েটির চোখ দেখে মনে হল প্রশান্ত মহাসাগরের সবটুকু নীল এই মেয়ের চোখদুটোতে গুলে দেয়া হয়েছে। কাঁধ পর্যন্ত মোলায়েম তন্তুর মত গাঢ় সোনালী চুল, পরনে ফেড জিনসের সাথে ফুল স্লীভ হালকা হলুদ রঙ্গয়ের টি শার্ট, সাথে গলায় আলতো করে জড়ানো আকাশী রংয়ের ছোট্ট একটা মাফলার। হাতে বিশাল একটা ব্যাগ, ফুলে আছে। বড়জোর ২০/২১ হবে বয়স। আমি খুব স্বাভাবিক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম, সেটা খেয়াল করে মেয়েটা হঠাৎ আমার দিকে তাকিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে খুব মৃদু স্বরে বল্ল- 'হাই!' আমিও ভদ্রতা করে পাল্টা একটা হাসি দিয়ে বল্লাম- 'হ্যাল্লো!'

একটু পর খুব মোলায়েম স্বরে বল্ল- 'Could you let me know if there is any bus departs to the city from here?'
আমি বল্লাম - 'sorry, i dont know either, umm...but I hope so.'
আমার আশাবাদ ওকে বেশ খুশী করে দিল। তাই এবারের হাসিটা আগের চেয়েও চমৎকার করে দিল। আমি কথা আরো বাড়ানোর জন্য মুখ খোলার আগেই দেখি একটা বাস এসে আমাদের সামনে দাঁড়ালো। এমনিতে সিটি রেইলের বাস কখনোই টাইম মত আসেনা। সেদিন মরার বাস মনে হল টাইমের একটু আগেই চলে এসেছিলো। মনে মনে বাসের ১৪ গোষ্টি উদ্ধার করলাম মুখে একটা সুন্দর হাসি ঝুলিয়ে রেখে ওকে বল্লাম 'here you go!'

বাসওয়ালার কাছ থেকে জানা গেল বাস সিটির দিকেই যাচ্ছে। বাসে প্রচন্ড ভীড়। আমি আর ও একদম বলতে গেলে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে আছি। এই ব্যাপারটি আমাকে বিরাট এক অস্বস্তির ভেতর ফেলে দিল। ঠিকমত দাঁড়াতেও পারছি না, আবার ব্রেকের জন্য ওর উপর গিয়ে যাতে না পড়ি সেই কসরতও করতে হচ্ছে। মহা জ্বালা। আমি বাইরে তাকিয়ে ছিলাম, হঠাৎ দেখলাম একটা কড়া ব্রেকে ও আমার প্রায় গায়ের উপর এসে পড়েছে। খুব লজ্জা পেল মেয়েটা। লজ্জিত কন্ঠে বল্ল -'সরি'। আমিও খুব লজ্জা পাচ্ছিলাম , শুধু বল্লাম- 'ইউ আর অলরাইট।'
একটুপর একটা সিট পেলাম, ভাগ্যক্রমে। আমি না বসে স্বভাবতই ওকে বসতে দিলাম। ভীষন আন্তরিক একটা ধন্যবাদ পেলাম।

ও বসে আছে। আর আমি ঠিক ওর সামনেই দাঁড়ানো। ভীড়ের কারনে অন্যদিকে সরতেও পারছি না। সে আরেক অস্বস্তিকর অবস্থা। কাকতালীয়ভাবে হাবিবের কৌতুহল গানটা তখন শুনছিলাম। গানের প্রায় প্রতিটা লাইনের সাথেই আমাদের ঘটনাগুলো মিলে যাচ্ছিল। মনে হল আমরা বুঝি গানটার মিউজিক ভিডিওতে অভিনয় করছি। সে এক আর্শ্চয অনুভূতি!
একটুপর ও ব্যাগ থেকে ফোন বের করে কার ভয়েস মেইলে যেন একটা ম্যাসেজ রাখলো, Hello, its April, can u give me a call when u're available. Thanks very much.

ও ফোন করার আগেই আইপডের ভলিউম কমিয়ে দিয়েছিলাম। নামটা জানার পর অবাক চোখে আরেকবার দেখলাম ওকে। কি অদ্ভুত নাম! "এপ্রিল!"

আমি আমার সুনয়নার নামটা জানতে পারলাম!

(মাবুদে এলাহী, এই লেখাটা যেন নওরীনের চোখে না পড়ে:((, তুমি মেহেরবান।)

 

প্রকাশ করা হয়েছে: সপ্নবাজের দল  বিভাগে ।

 

  • ২৬ টি মন্তব্য
  • ২৭৮ বার পঠিত,
Send to your friend Print
রেটিং দিতে লগ ইন করুন
পোস্টটি ৬ জনের ভাল লেগেছে, ০ জনের ভাল লাগেনি
১. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৫৩
comment by: রাহাত আহমেদ বলেছেন: ভালো লাগলো ।
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:১৯

লেখক বলেছেন: ধইন্যাপাতা।

২. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৫:৫৭
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:
ছবিডা কি হেই মাইয়ার
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:১৭

লেখক বলেছেন: মাইয়ার যে ডেসক্রিপশন দিছি তাতে কি তা মনে হয়? গন্ডার আর কারে কয়!

৩. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:০৪
comment by: ইরাবতী বলেছেন: কিরে ওই! তোর কি হইছে? এত ঘন ঘন প্রেমে পড়তাছস ক্যান?
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:১৮

লেখক বলেছেন: হেইডা তো আমিও জানি না ইরাপু। এই প্রশ্নটা আমিও মাঝে মাঝে আমারে জিগাই! ':(

৪. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:২০
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন: লেখক বলেছেন: মাইয়ার যে ডেসক্রিপশন দিছি তাতে কি তা মনে হয়? গন্ডার আর কারে কয়!


ছবিটা অন্য দিন তোলা হইতারে
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:৩২

লেখক বলেছেন: নাহ, তোমারে নিয়া আর পারলাম না। না...হইতারে না!

৫. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:২৪
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:


ভাই সাহেব কি ছাতরো
২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:৩১

লেখক বলেছেন: একসময় আছিলাম, অহন নাই। আবার কিছুদিন পরে হব, ইনশাল্লাহ। তয় এত জাইনা তোমার কাম কি গন্ডু মিয়া?

৬. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ ভোর ৬:৪০
comment by: স্করপিয়ন্স বলেছেন:
একই শহরে থাকিতো, কুনোদিন দেখা হইয়াও যাইতে পারে রাসতাঘাটে
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪২

লেখক বলেছেন: দেখা হইলে তোমারে চিনুম কেমনে? শিং তো এখনো গজাইনাই মনে লয়। তয় তোমার লগে দেখা হইলে কিন্তু ০০০ তে কল লাগামু কইয়া দিলাম!;)

৭. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:১৮
comment by: ফারহান দাউদ বলেছেন: হুম,অনুভূতিগুলি খুব তুলে ধরেছেন,চোখের সামনে।
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৪৩

লেখক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ দাউদ ভাই।

৮. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:৩৮
comment by: রোডায়া বলেছেন: মেলা দিন প্রেমে পড়িনা, আপনার ঘন ঘন প্রেমে পড়া দেখে হিংসা হচ্ছে, হা হা হা... +
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৯

লেখক বলেছেন: কেউ প্রেম করে, কেউ প্রমে পড়ে...আপনার হয়েছে কোনটা?;)
নাকি কোনটাই না?:(

৯. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:৩৫
comment by: প্রীটি সোনিয়া বলেছেন: হা হা হা .....সুন্দর। +
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৭

লেখক বলেছেন: সোনিয়া, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। আমার লেখাগুলো সুন্দর দৃষ্টি নিয়ে পড়েন বলেই সুন্দর।

১০. ২৫ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:১৫
comment by: বর্তমানবাংলা বলেছেন: অবশ্যই সুন্দর। +
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: ধইন্যবাদ।

১১. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:০৮
comment by: নীভা বলেছেন: eto pream e portecis, ghotona ki??????????
২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: তুমিও দেখি ইরাপির মত কথা বলা শুরু করলা!
তোমাগো ঘটনা কি সেইটা কও!

১২. ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:৪৫
comment by: কালপুরুষ বলেছেন: (মাবুদে এলাহী, এই লেখাটা যেন নওরীনের চোখে না পড়ে, তুমি মেহেরবান।

আমার ধারণা, নওরীনের চোখে এই লেখাটি পড়লে তেমন কিছু হবে বলে মনে হয়না। কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমি নওরীন (আপনি যার কথা বলছেন তিনি সেই নওরীন কিনা জানা নেই) সম্পর্কে কিছুটা হলেও জানি।
২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: কালুদার কি হইছে? আপনি কি জীবনেও ঠিকমত কোন কিছু বুঝতে পারবেন না?

আমার আর্কাইভে 'আমার একটি ক্ষমা প্রার্থনা' নামে একটি পোস্ট পাবেন। ঐখানে নওরীনের ডিটেইলস দেয়া আছে। আমার মনে হয় না আপনি যাকে চিনেন সে আমার নওরীন।

ধন্যবাদ কালুদা। আল্লাহ আপনাকে আরো বুঝ দান করুন। আমিন।

১৩. ০৩ রা মার্চ, ২০০৮ রাত ৯:২৫
comment by: মামুন বাংলা বলেছেন: ভালো একশবার ভালো
০৪ ঠা মার্চ, ২০০৮ রাত ৮:০১

লেখক বলেছেন: খাইছে আমারে! এতবার ভাল!
ধন্যবাদ।

 



 


Well, I am NOT what you see,
I am not what they say
but if I turned out to be,...
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

সর্বমোট হিট

 ২০৩৮৫