আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের একাংশের গোপন সমঝোতা
বিশেষ প্রতিনিধি
শেখ হাসিনা ও আমির হোসেন আমুআওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের একটি প্রভাবশালী অংশের গোপন সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতা অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রভাবশালী মহলটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য সবরকম পদক্ষেপ নেবে। উভয় পক্ষের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ গোপন সমঝোতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সূত্র জানায়, সারাদেশে জরুরি অবস্থা জারি ও ২২ জানুয়ারি ২০০৭-এ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পরিচালিত ১১ জানুয়ারি (ওয়ান-ইলাভেন) অভিযানের পূর্বে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে যে গোপন সমঝোতা করা হয়েছিল সেটাই আবারো নতুন করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকারের প্রভাবশালী মহলটি। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কথিত সংস্কারবাদী অংশের সঙ্গে যোগাযোগ ছাড়াও শেখ হাসিনাপন্থী হিসেবে পরিচিত গ্রুপটির সঙ্গেও প্রভাবশালী মহলটি ইতিমধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এ যোগাযোগের ফলাফল ইতিবাচক বলে উভয় পক্ষই মনে করছে এবং সে কারণে সরকারকে বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর এবং আওয়ামী লীগের বেলায় নমনীয় কৌশল গ্রহণে প্রভাবিত করা হচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, দেশে জরুরি অবস্থা জারির কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনার ‘হানিমুন সম্পর্ক’-এর ক্ষেত্রে অবনতি ঘটে। কারণ সরকারের অন্য একটি প্রভাবশালী মহলের আওয়ামী লীগের সঙ্গে এ গোপন সমঝোতার ব্যাপারে ঘোর আপত্তি ছিল। তাদের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুম্পর্কে চিড় ধরে এবং এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা অবস্থান বদল করে কড়া কড়া কথা বলে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটান। এতে সরকারের আওয়ামী লীগ বিরোধী অংশটির প্রভাব বেড়ে যায় এবং তারা বিএনপির একটি দলছুট অংশ ও অন্যান্য খুচরা জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড় করাবার চেষ্টা করেন। বিগত কয়েক মাসে নানা কারণে এই উদ্যোগ পুরোপুরি ব্যর্থ হওয়ায় সরকারে প্রবল হতাশার জন্ম নেয়। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগ ও প্রতিবেশী একটি দেশের প্রতি অনুকূল মনোভাবাপন্ন মহলটি আবার সামনে চলে এসেছে। তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের ‘সেফ এক্সিট’ বা নিরাপদ প্রস্থান নিশ্চিত করার তত্ত্ব হাজির করেছে। সে অনুযায়ী বিএনপি বিনাশ ও আওয়ামী পুনর্বাসন প্রকল্প সা¤প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুতবেগে সামনে অগ্রসর হচ্ছে। সূত্র জানায়, নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির মূলধারা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার সব রকম প্রচেষ্টা নেয়া হচ্ছে। দল হিসেবে বিএনপিকে দুর্বল ও বিভক্ত রাখার সব রকম পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিএনপিকে বিচ্ছিন্ন ও কলংকিত করার উদ্দেশ্যে মামলা সাজানো ও ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ। ইতিমধ্যে নতুন মামলায় সুবিধা করতে না পেরে বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৬/৭ বছর আগের পুরনো মামলা পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকেও আরো গুরুতর মামলায় জড়াবার জন্য সর্বাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে আগানো হচ্ছে। শতমুখী প্রচেষ্টা সত্ত্বেও দেশবাসী এবং কর্মী-সমর্থকদের মন থেকে জিয়া পরিবারকে মুছে ফেলতে না পেরে এখন সরকারের একটি মহল শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ও ইমেজকে ক্ষুণœ করার প্রয়োজন মনে করছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতিমধ্যে শহীদ জিয়ার অবদানকে পাঠ্যপুস্তকে সরকারি নির্দেশে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যমে শহীদ জিয়াকে করা হয়েছে অপাংক্তেয়। ৭ নবেম্বর যে মহান বিপ্লব ও সংহতির মাধ্যমে শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক অভিষেক ঘটেছিল সেই ঐতিহাসিক দিনটির সরকারি ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এমনকি বিশেষ দিনগুলোয় শহীদ জিয়ার মাজারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনকেও নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। পক্ষান্তরে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে চলছে মুজিব-বন্দনা ও আওয়ামী কালচারের পৃষ্ঠপোষকতা। আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মতো বিভিন্ন বক্তব্য সরকারের প্রভাবশালী মহল থেকে বার বার আসছে। সূত্র জানায়, এগুলোর কোনোটিই বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। খুবই পরিকল্পনামাফিক একটি নীল-নকশা বাস্তবায়নের পথেই অগ্রসর হচ্ছে সরকারের একটি প্রভাবশালী মহল। একটি প্রতিবেশী দেশের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশী বংশো™ভূত একজন বিদেশী কূটনীতিক পুরো প্রক্রিয়া মনিটর ও দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাদের পরামর্শেই বিএনপিকে বিপর্যস্ত রেখে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন সেরে ফেলার পথে সরকার এগুচ্ছে বলে সূত্র জানায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে বাদ রেখে হলেও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সেক্ষেত্রে দলের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমু হবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে পরিকল্পিত পন্থায় সুবিধাজনক সময়ে শেখ হাসিনাকে কারামুক্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে শেখ হাসিনার প্রবাসী দু পুত্র-কন্যার যে কোনো একজন দেশে ফিরে আসবেন। সরকারের প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে বিদেশের মাটিতে তাদের সঙ্গে এ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। জনাব আমু তার ঘনিষ্ঠ মহলের কাছে এসব সমঝোতার কথা স্বীকার করেছেন। স¤প্রতি হজ পালনকালে সৌদি আরবে তার সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে বলে তিনি তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন।
সূত্র: Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

