খাঁ খাঁ করছে শহীদ মইনুল রোডের বাড়িটি
দোতলায় তারেক রহমানের শোয়ার ঘরে একটি সাধারণ খাট, একটি সিঙ্গেল সোফা ও একটি টেবিল ল্যাম্প। সামনে ড্রয়িং রুমে এলোমেলো একসেট সোফা ও কিছু চেয়ার। সিঁড়ির একপাশে কিছু হ্যান্ডিক্রাফটস। মাঝারি মানের ওইসব ফার্নিচারে সাধারণভাবে সাজানো তারেক রহমানের শোয়ার ঘর দেখে তার সঙ্গে সাক্ষাৎকারী নেতাকর্মীদের বিভিন্ন মন্তব্য করতে দেখা যায়। যুবদলের এক নেতা বলেন, আগে মনে করতাম লোকজন এত দুর্নীতির কথা বলেÑ না জানি কি রকম জমকালো তারেক রহমানের শোয়ার ঘর। লোকজন বলাবলি করে তিনি দুর্নীতি করে টাকার পাহাড় জমিয়েছেন আর আয়েশি জীবনযাপন করেছেন। তবে ভেতরের অবস্থা দেখে আজ আমার মনের ভুল ভেঙেছে। আমাদের অনেক মাঝারি মানের নেতার বাড়িঘরও এর চেয়ে জমকালো। তারেক রহমানের শোয়ার ঘর, ড্রয়িং রুমসহ পাশের দু’টি কক্ষের ফার্নিচার রুচিসম্মত হলেও খুব বেশি দামি নয়। তবে দোতলায় তার কক্ষে ওঠার সিঁড়ির পাশে সাজানো বিভিন্ন শিল্পকর্ম দেখে যে কারও চোখ আটকে থাকবে।
বাড়ির মধ্যের অংশে খালেদা জিয়ার শোয়ার ঘরের সামনেই একটি লম্বা ড্রয়িং রুম। সেখানে একসেট সোফা ও তিনটি গোল টেবিলে বসে থাকতে দেখা যায় সাবেক মহিলা এমপি ও তাদের পরিবারের মহিলা সদস্যদের। ড্রয়িং রুমের রঙিন টেলিভিশনের কাচেও ধুলোর আস্তর। এ ঘরের ফার্নিচারও খুব বেশি দামি নয়। বাড়ির রান্নাঘরও সাধারণ মানের। শুধু খালেদা জিয়াকে যে ড্রয়িং রুমে বসানো হয় সেটি খুবই সাজানো-গোছানো এবং পরিষ্কার। খালেদা জিয়ার মায়ের মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তির খবরে দলের মহিলা নেতাকর্মীরা সেখানে ভিড় করেন। তাদের অনেকেই দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ঘরের অবস্থা দেখে অবাক। কয়েকজনকে এ ব্যাপারে মন্তব্য করতেও দেখা যায়। বাড়ির একজন মহিলা কেয়ারটেকার বলেন, ম্যাডাম ও দুই ভাইকে গ্রেপ্তারের পর এ ঘরের নিত্যদিনের চিত্র পাল্টে গেছে। আমাদের বেশির ভাগ সময় নিঃসঙ্গ কাটে। বাড়িতে আগের মতো কাজের চাপ নেই। এমনিতেই ক্যান্টনমেন্টের এ বাসায় লোকজনের আনাগোনা কম। তার ওপর ম্যাডামকে গ্রেপ্তারের পর খাঁ খাঁ করছে পুরো বাড়ি। আজ কয়েক ঘণ্টার জন্য তাদের আগমনে একটি সুনসান ভূতের বাড়ি যেন কিছুটা প্রাণ পেয়েছে।
বিস্তারিত: খাঁ খাঁ করছে শহীদ মইনুল রোডের বাড়িটি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


