জনতার চোখ-এর গোলটেবিল
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অবিলম্বে সংলাপের তাগিদ, জনগণই গণতন্ত্রের মূল শক্তি, দেশে চলছে ব্যতিক্রমের শাসন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অর্থনীতির ওপর, বর্তমান সরকার কারও প্রতিপক্ষ নয়, একজিট নিশ্চিত করবে নির্বাচিত পার্লামেন্ট, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর গণতন্ত্র নির্ভরশীল, জাতীয় সরকারের কোন অবকাশ নেই, গণতন্ত্র এখন এক দূরদ্বীপবাসী মায়ামৃগ
স্টাফ রিপোর্টার : গণতন্ত্রের স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে রাজনীতিকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ শুরু করতে হবে। গতকাল দৈনিক মানবজমিন প্রকাশনার সাপ্তাহিক ‘জনতার চোখ’ আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা জনগণই গণতন্ত্রের মূল নিয়ন্ত্রকশক্তি উল্লেখ করে আরও বলেন, এদেশে গণতন্ত্রের ইতিহাস গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, লড়াইয়ে বিজয় এবং বিজয় হাতছাড়া হওয়ার ইতিহাস। এখানে গণতন্ত্রচর্চা ব্যাহত হয়েছে বিরোধী দলগুলোর ক্রমাগত সংসদ বর্জন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নেতানেত্রীর মুখ দেখাদেখি, কথা বলাবলি বন্ধ হওয়ার কারণে। তাঁরা বলেন, বিচারবিভাগের স্বাধীনতার ওপর গণতন্ত্র বিশেষভাবে নির্ভরশীল। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকে সামরিক ও বেসামরিক শাসন এবং পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি উল্লিখিত হয়েছে বারবার। বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে চলছে ব্যতিক্রমের শাসন। এ সরকারের একজিট (বহির্গমন) হবে কিভাবে তা নির্বাচিত পার্লামেন্টই ঠিক করবে। বক্তারা বলেন, দেশে জরুরি অবস্থার চেয়ে গুরুতর হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা। দেশ গণতন্ত্রে ফিরলে অর্থনীতির এ বিপর্যয় মোকাবেলা করা সম্ভব হবে। বস্তুত দেশের অর্থনীতির ওপরই নির্ভর করছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। বক্তারা আরও বলেন, এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘জনতার চোখ’ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। তারা দেশের রাজনীতিতে বিদেশী কূটনীতিক ও অন্যান্য মহলের অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেন। গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ‘বাংলাদেশ টুডে’র সাবেক সম্পাদক আসাফউদ্দৌলাহ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছিল। এ মুহূর্তে নেই। আগামীতে আসবে। এ প্রত্যাশা নিয়ে আজকের আলোচনা। আমরা গণতন্ত্র চাই। চার ঘণ্টা দীর্ঘ এই প্রাণবন্ত আলোচনায় মুখর বৈঠকের সমাপ্তি টানেন মানবজমিন-এর সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
মূল প্রবন্ধে সাংবাদিক ও সাবেক সচিব আসাফউদদৌলা বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র পরাধীন। আজকের দাবি হওয়া উচিত গণতন্ত্রের মুক্তি। স্বাধীন রাজনীতি নির্দেশ দেয়, নেয় না। পরিচালিত করে, পরিচালিত হয় না। বাংলাদেশে গণতন্ত্র রয়ে গেছে এক দূরদ্বীপবাসী মায়ামৃগ। গণতন্ত্রকে সংশোধিত হতে হবে, তার নিজের ও সময়ের প্রয়োজনে, অন্যের আস্বাদিত অভিজ্ঞতা থেকে নয়। অন্যের নির্দেশে নয়। বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে অর্থবহ করতে হলে রাজনৈতিক অগ্রযাত্রায় সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপ দূর করতে হবে। এ দেশে গণতন্ত্রের পথরোধের কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করেছে সেনাবাহিনী। কখনও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতায়, কখনও উপলক্ষ সৃষ্টি করে তারা ক্ষমতা দখল করেছে। এখন তারা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের রূপরেখা বিনির্মাণে ব্যস্ত। রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের স্থাপত্য নকশা নির্মাণ করছেন সশস্ত্র বাহিনী। নির্বাচনের চারিত্রিক সংস্কারে নির্ঘুম রয়েছে এক অনির্বাচিত সরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী আমাদের পাওয়ার কথা ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংসদীয় গণতন্ত্র। সেখানে ১৯৭২-এ আমরা পেয়েছি বাকশালের একদলীয় শাসনের অবরুদ্ধ গণতন্ত্র, পরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা, ’৭৬ সালে অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় হ্যাঁ/না ভোট, ১৯৮১ সালে সেনা সদস্যদের দিয়ে জিয়া হত্যা, পরে এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবে ইতিহাস প্রত্যক্ষ করেছে সকল যুদ্ধ ও রক্তপাতই হয়েছে শান্তির নামে। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি সংসদীয় গণতন্ত্রের আড়ালে প্রেসিডেন্সিয়াল শাসন, ছদ্মবেশে পূর্ণ একনায়কতন্ত্র।
আসাফউদদৌলা বলেন, যেখানে ৩৬ বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধের নায়ক হিসেবে জনগণকে দেখানো হচ্ছে অথচ বীরশ্রেষ্ঠদের মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাড়া রইলো না লাখ লাখ শহীদ জনমানুষের একটি প্রতিনিধিও। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি হবে তা উত্তর রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী বা কোন অসামরিক প্রতিষ্ঠান দিতে পারবে না। এর গ্রহণযোগ্য কোন পূর্বাভাস দিতে পারবেন না এ দেশের সাধারণ মানুষ। তারাই কেবল দিতে পারবেন, যারা আজ সরকারের কর্মচারী হয়ে গণতন্ত্রের রূপরেখা আঁকছেন।
আকবর আলি খান
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেন, দেশ এখন চলছে সাংবিধানিক ব্যতিক্রমের ওপর। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর। তিনি বলেন, সারা বিশ্বেই গণতন্ত্রে সমস্যা আছে। অতিস¤প্রতি আমাদের দেশে এমন একটা ধারণা সৃষ্টি করা হয়েছে যে গণতন্ত্রে কোন সমস্যা নেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে দু’ ধরনের জরুরি অবস্থা চলছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা। এ অবস্থা আরও চলতে থাকলে দেশ অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে পড়বে। আগামী ২-১ বছরে খাদ্যদ্রব্যের দাম কমবে বলেও মনে হয় না। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় গণতান্ত্রিক সরকার যা করতে পারে তত্ত্বাধায়ক সরকার তা করতে পারে না।
ড. কামাল হোসেন
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, ১৫ কোটি মানুষ গণতন্ত্রের বিকল্প কিছু মানতে রাজি নয়। অতীতে আমরা আন্দোলন করেছি। ফল নিয়ে গেছে অন্যরা। আমরা কখনও বিক্রি হই না। হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষ কখনও বিক্রি হয় না। সকল স্তরের মানুষের মধ্যে জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় জেলায়, প্রতিটি ইউনিয়নে-ইউনিয়নে সংলাপ চাই। চালাক মানুষের সংলাপ নয়। সাধারণ মানুষের সংলাপ চাই।
আমির হোসেন আমু
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণেই আজ অনেক প্রশ্ন আসছে। বর্তমান সরকার আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। এ সরকারের চুলচেরা বিশ্লেষণ করার কোন দরকার নেই। প্রয়োজনে আমরা সরকারকে পরামর্শ দিতে পারি। এ সরকারের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তিনি বলেন, আইন উপদেষ্টা বলেছেন, জাতীয় সরকার বলতে কিছু সংবিধানে নেই। তবে তিনি যে উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন তা কি সংবিধানসম্মত? তিনি জাতীয় পার্টি নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বক্তব্য সমর্থন করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনই সংলাপ শুরু করতে হবে। এজন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ১৪ দল, মহাজোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে উদ্যেগ নেয়া হয়েছে
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ
এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, আমি চাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হোক। তবে এর মাধ্যমে দুর্নীতিবাজরা বেরিয়ে যাক তা-ও আমি চাই না। তিনি বলেন, লুণ্ঠন, দুর্নীতির গণতন্ত্র চাই না। অবাধ নির্বাচনের জন্য রাজনীতিবিদদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মনে সংশয় দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনারদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। তিনি আরও বলেন, আমিই প্রথম বিএনপি’র লুটপাটের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছি। তখন বলা হয়েছে না পাওয়ার বেদনায় আমি এসব কথা বলেছি।
ফেরদৌস আহমদ কোরেশী
প্রগতিশীল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রধান আহ্বায়ক ড. ফেরদৌস আহমদ কোরেশী বলেন, রাজনীতিবিদ, সেনাবাহিনী, সরকার, দেশবাসীর সমন্বিত আচরণের ওপর নির্ভর করছে দেশের ভবিষ্যৎ। আমাদের বক্তব্য পূর্বাপর সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত। আজ যারা বিরোধিতা করছে তারাই সেনাবাহিনীকে ডেকেছে। আমরা কি চাই তা নিশ্চিত হয়েই বলতে হবে। সেনাবাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের ইতিহাস নতুন নয়। রাজা-রাজড়াদের আমলেও সেনাপতিরা কখনও কখনও রাজা হয়ে যেতেন।
মতিয়া চৌধুরী
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেন, নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দৃশ্যপট একটি জায়গায় এসেছে। গত এক বছরে সরকারের পারফরমেন্স বিবেচনা করলে দেখা যায়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চলছে, বিনিয়োগ নেতিবাচক, রপ্তানি কমেছে। গ্রাম ও শহরে কোথাও কাজ নেই। অথচ এ সময় কোন মিছিল-মিটিং হয়নি। রাজনীতিবিদদেরও কোন হাত ছিল না। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারের ঊর্ধ্বগতির কারণে দ্রব্যমূল্য বাড়ছে। তাহলে বেতন কাঠামোও সেভাবে বাড়িয়ে দেয়া উচিত। বৃটিশ বা পাকিস্তান আমলে যা হয়নি এ সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা করেছে। ছাত্র-শিক্ষকদের নির্যাতন, শাস্তি ও অযাচিত ক্ষমতার মাধ্যমে অনুপম রেকর্ড সৃষ্টি করেছে! সরকার কিছু ইতিবাচক কাজ করলেও বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। ভোটার তালিকা করা হচ্ছে খুবই শ্লথগতিতে। তিনি বলেন, আইনের হাত লম্বা হলেও এক অদৃশ্য শক্তি তা মুচড়ে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে তাই প্রমাণিত। দেশে জরুরি অবস্থা এখন অপ্রয়োজনীয় হলেও তা তুলে নেয়ার কোন লক্ষণ দেখি না। নতুন নতুন কিংস পার্টির জন্ম হয়েছে। আমরা একটি বছর পরিশুদ্ধ প্রহসন দেখেছি।
আনিসুল ইসলাম মাহমুদ
জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক দল ছাড়া সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংলাপ করতে হবে। সরকারের সঙ্গে বসার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের মধ্যেই বসা উচিত। গত ১৫ বছরে দেশে কোন গণতন্ত্র ছিল না। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গ্রহণ ছিল অনিবার্য। আমরা সবাই সেদিন সেনাবাহিনীর ভূমিকা সমর্থন করেছি। ওইদিন সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলেও বেশির ভাগ মানুষই তা সমর্থন করতো।
রাশেদ খান মেনন
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, জাতির সবচেয়ে ব্যর্থ ও অযোগ্যতার প্রমাণ বর্তমান সরকার। তারা এমন জায়গায় ঢুকে পড়েছে যেখান থেকে বেরুনোর পথ খুঁজে পাচ্ছে না। এ পথ হচ্ছে নির্বাচন। গত ৪৫ বছর ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলন করেই যাচ্ছি। এখন মনে হচ্ছে, দেশ একটি নিয়ন্ত্রিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন গণতন্ত্রের কথাটি ভুলতেও পারছি না আবার বলতেও পারছি না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর দাঁড়াতে পারিনি বলেই সেনাবাহিনীকে ক্ষমতার অংশীদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন হয় সংবিধান মেনেই কাজ করা হোক অথবা সংবিধান উল্টে দিয়েই কাজ করা হোকÑ সংস্কার নতুন কিছু নয়। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের জায়গা ঠিক রেখে সংস্কার হবে না। আর আদালতের ওপর আমার কোন ভরসা নেই।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম
কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, দেশে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে তা একটি সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের মধ্য দিয়েই আসতে হবে। জনতার রাজনৈতিক ক্ষমতায়নকে সামনে রেখেই তা করতে হবে। বলা হয়, প্রয়োজনের একদিন বেশিও জরুরি অবস্থা রাখা হবে না। তবে এ প্রয়োজনটা কে নির্ধারণ করবে? আমার দাবি, এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি গণভোট দেয়া হোক। জাতীয় সরকার মনে হয় তলে তলে হয়েই যাচ্ছে। আর সেটা হলে তা হবে জাতীয় চোরদের সরকার। আমাদের দেশে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে লুটপাটের অর্থনীতি, বিদেশী তথা কূটনৈতিকদের ভূমিকা, দুই প্রয়াত নেতার প্রতি ভক্তিবাদ, কর্পোরেট সংস্কৃতি, প্রদর্শনবাদ ও অনুন্নত প্রতিষ্ঠান।
দিলীপ বড়–য়া
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেন, আমরা বারবার বিভিন্ন ফাঁদে পড়েছি। আন্দোলন করলাম, পুলিশের পিটুনি খেলাম আর ক্ষমতার স্বাদ নিচ্ছে উপদেষ্টারা। তারা আমাদের সবক দিচ্ছেন। সংস্কার চেয়েছিলাম আমরা, সরকার নয়। আমরা ক্ষেত্র প্রস্তুত না করলে তারা ক্ষমতার স্বাদ পেতেন কিভাবে? শেষ কথা হচ্ছে, জনগণ বর্তমানে সহ্য করছে। সহ্যের সীমা লঙ্ঘন হলে বাঁধভাঙা যে জোয়ার হবে তাতে এসব থাকবে না। তবে জনগণ রুখে দাঁড়াবেই।
ব্যারিস্টার রফিক-উল হক
সাবেক এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, বিদেশী কূটনীতিকরা যখন আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন, তখন আমরা খুব আহ্লাদিত হই। আমরা যখন জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলি, তখন কেউ গুরুত্ব দেয় না। আনোয়ার চৌধুরী, গীতা পাসি জরুরি অবস্থা নিয়ে কথা বললে পত্রিকাগুলো বড় বড় করে লেখে। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন চলছে না চলছে ডাণ্ডার শাসন। তিনি বলেন, মুক্তির ৪৫ সেকেন্ডের মাথায় হান্নান শাহ’কে আবার গ্রেপ্তার করা হলো। এটাই কি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নমুনা?[/sb
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক
জামায়াতে ইসলামীর নেতা ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধবংস করেছে সামরিক শাসন। নির্বাচন গণতন্ত্রের একমাত্র মাধ্যম নয়Ñ একথা যেমন সত্য, তেমনি একথাও সত্য যে, নির্বাচন ছাড়া কোন গণতন্ত্র হতে পারে না। গণতন্ত্রের কোন বিকল্প নেই। বর্তমান সঙ্কট উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে সংলাপে বসতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া মানুষের অর্থনৈতিক উত্তরণ সম্ভব নয়। আসলে সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি রাজনীতিকদের হাতেই।
হাসানুল হক ইনু
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা যারা ঘোরাচ্ছেনÑ সেই প্রবাসী বাংলাদেশী, সৎ উদ্যোক্তা ও শিক্ষিত এনজিও কর্মীÑ যারা জনগণকে সচেতন করছেন তাদের হাতে ক্ষমতা নেই। আমাদের দেশে পরিবারতন্ত্র, সন্ত্রাস, নগ্ন লুণ্ঠন, দুর্বৃত্তায়ন, দারিদ্র্য ও মৌলিক বিষয়ে অনৈক্য, জনগণের ক্ষমতাহীনতা, দলতন্ত্র, দুর্নীতির ওপর দেশটি দাঁড়িয়ে আছে। এদেশে জনগণ আন্দোলন করেছে আর সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করেছে। বর্তমান সরকারের সেনাবাহিনী রাজনৈতিক দলের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে। আসলে সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক দলের অদৃশ্য বন্ধুত্বের ওপর নির্ভর করছে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ। তবে আমি জাতীয় সরকারের পক্ষে।
আনিসুল হক
বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে শ্লথগতি বিরাজ করছে। এ থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ গণতন্ত্র। তবে গত ১৫ বছরে আমরা যে গণতন্ত্র দেখেছি সে গণতন্ত্রে ফিরে যেতে চাই না। তিনি বলেন সবাই বলছেন, দেশ বর্তমানে সঙ্কটময় সময় অতিক্রম করছে। এ সঙ্কট থেকে জাতিকে রাজনীতিবিদরাই উদ্ধার করতে পারেন। রাজনীতিবদরা জাতিকে এ সঙ্কট থেকে উত্তরণের পথ না দেখালে আমাদের অর্থনীতিতে আরও বিপর্যয় নেমে আসবে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী
ইংরেজি দৈনিক অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, অনেকে বলছেন, ওয়ান-ইলাভেনে আমরা সেনাবাহিনীকে আসতে বাধ্য করেছি। সেনাবাহিনী কারও জন্য আসে না। তিনি বলেন, যারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিনের বিচার করতে পারেনি বাংলাদেশে তাদের কারও বিচার করার অধিকার নেই। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলিত করার ক্ষমতাকে যেদিন খর্ব করা যাবে, সেদিনই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। মাহফুজউল্লাহ
সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ বলেন, টেলিভিশন আজ পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক রঙ্গমঞ্চে। রাজনীতিকে রাজনৈতিক প্লাটফরমে নিতে না পারলে গণতন্ত্র আসবে না। দু’ নেত্রীকে ছাড়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র এগুবে বলে মনে হয় না। দু’নেত্রী তাদের আশপাশের দুর্নীতিবাজদের বাদ দিয়ে রাজনীতিতে আসতে পারলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র সফল হবে
নুরুল কবির
ডেইলি নিউ এজ-এর সম্পাদক নুরুল কবির বলেন, স্বাধীনতার কথা বলে গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হয়েছে। যারা অন্যের কথা শুনতে পারে না, তাদের দিয়ে আর যাই হোক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। গণতন্ত্রের কথা বলে যে মানুষের মুখ বন্ধ করা হয়েছে তা না বোঝার মতো মূর্খ এদেশে নেই। গণতন্ত্র পেতে চুপ থাকতে হবে এটা একটি ঐতিহাসিক মিথ্যা। তিনি বলেন, যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভুল ব্যাখ্যা করে বলছেন আগামী সরকার পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন তারা ধান্দাবাজির জন্য এটা বলছেন।
আমির খসরু
সাংবাদিক আমির খসরু বলেন, এ সরকার জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার বিপক্ষে অবস্থান করছে। প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে যে ফারাক তাই হতাশা আর তার ব্যাপ্তি কেবল দীর্ঘই হয়ে চলছে। এ সরকার রাজনৈতিক সংস্কারের নামে রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙেচুরে এমন অবস্থায় নিয়ে গেছে যেখান থেকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। দলের মধ্যে সন্দেহ ও অবিশ্বাস ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এখন ক্ষমতার অনানুষ্ঠানিক কেন্দ্র অনেক হয়ে গেছে। এখন আবার জাতীয় সরকারের বিষয়টি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। অবশ্য একজন উপদেষ্টা এর বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।
হোমপেজ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

