বিডিনিউজ২৪-এ বুর্জ খলিফার ছবি ও বাংলানিউজ২৪-এ বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি যুবরাজ-শিরোনামে একটি সংবাদ দেখে প্রশ্ন গুলো মনে আসল। মুসলমানদের আসল কাজ কি? বুর্জ খলিফা, তাজমহল ও বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বানানো?
বিশ্বমানবতাকে সার্বিক মুক্তির পথ দেখানোর এক সুমহান দায়িত্ব ছিল মুসলিম জাতির। সেই জাতি আসল কাজ ছেড়ে দিয়ে পাল্লা দিয়ে বানাচ্ছে উঁচু উঁচু ভবন! এর কারণ কি?
অবশ্য এসব ভোগবাদী মানসিকতা শুধু বর্তমান মুসলিম জনগণের ভিতর ঢুকেছে তা নয়। অতীতেও ছিল। মধ্যযুগে ভারতে মোগল সাম্রাজ্যেও একই ব্যাপার লক্ষ করা যায়। সেই যুগে তাজমহলের মতো এক অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীকের পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকা, শ্রম ও সময় ব্যয় করা হয়েছিল। কি ছিল এর ফলাফল? তাজমহল দিয়ে কি পেয়েছে মুসলিম বিশ্ব?
অথচ যে সময় মুসলিমরা তাজমহল বানাচ্ছে ঠিক একই সময় পশ্চিমে স্থাপিত হয়েছে নিউটনের 'প্রিনসিপিয়া'। ১৬৮৭ সালে। সেটি ছিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের কেন্দ্র। অর্থাৎ পশ্চিমারা শুরু করেছিল জ্ঞান চর্চা। সেই জ্ঞানচর্চাই ইউরোপীয় সভ্যতাকে বিশ্বজয়ে পথ দেখিয়েছিল। বারো শতক থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠতে থাকে। অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, প্যারিস প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে মধ্যযুগে ইউরোপে। তখন ভারতে মোগল সাম্রাজ্য। মোগলরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেনি। তারা স্থাপন করেছে তাজমহল!
মুসলিম দেশগুলোতে আজ স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় যে নেই; তা নয়। কিন্তু তার কোনটিই পশ্চিমা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিতে পারছেনা। অর্থাৎ মুসলিমরা পথ হারিয়েছে। প্রায় ৭০০ বছর আগে ইসলামের স্বর্ণযুগ ছিনতাই হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান মুসলিম বিশ্ব মধ্যযুগের ইসলামের স্বর্ণযুগের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। কিন্তু সেই সময়ের মতো বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আল-কিন্দি, আল-ফারাবি, ইবন-আল-হাইয়ান, ইবনে সিনার মতো যুগস্রষ্টা তৈরি করার কোন চিন্তা নেই। এখন চিন্তা উঁচু উঁচু দালান বানানো!
দুবাইয়ের 'বুর্জ খলিফা' যতই উঁচুই হোক, তা কোনোভাবেই আজ মুসলিম বিশ্ব যে সমস্যার মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে, তা থেকে ওই ভবনটি তাদের উদ্ধার করতে পারবে না। তাজমহল উপমহাদেশের মুসলমানদের কিছুই দিতে পারেনি। বরং ওই বিপুল অর্থ যদি আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চায় খরচ হতো, তাহলে আশা করার মতো কিছু একটা তৈরি হতো। সৌদি আরব আরো উঁচু ভবন বানাবে। এসব মুসলমান ও বিশ্বের কোনো কল্যাণে আসবে না।
এ ধরনের ভোগলিপ্সা দেখে দিয়ে বুঝা যায় মুসলমান গরিব নয়, অতীতেও ছিলনা। তবে মুসলমানদের মানসিকতার পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। মুসলমানরা লক্ষ্যচ্যুত হয়েছে।
তাই মুসলমানরা যদি আসলেই এগিয়ে যেতে চায় তাহলে সম্পদের এ প্রদর্শনী বন্ধ করা হোক। আকাশচুম্বী ভবন নির্মাণের মধ্যে কি কোনও গৌরব আছে? এসব কি মুসলিম বিশ্বের হাজারো সমস্যার সমাধান দিতে পারবে? মুসলমানদের দায়িত্ব কি এসব?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ৯:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


