খুবই সহজ ও স্বাভাবিক একটি সত্য হলো মানব সেবা, ধর্ম কর্ম এসবই মানুষের জীবনে শুরু হয় নিজ ঘর থেকে, পরবর্তীতে ব্যাক্তি থেকে সমস্টি, সমস্টি থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা পায়। প্রাক ইসলামী যুগে মহান নবী [স:] ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু করেছিলেন অত্যান্ত সহজ সাভাবিক ভাবে। তিনি এমন একটি সময়ে শুরু করেছিলেন যখন তার সমাজে ইসলাম বোঝার মত কেউ ছিলনা। সমাজে যুক্তি ও সত্যের পরিবর্তে বাহুবল আর অনাচারেরই প্রধান্য ছিল। তিনি প্রচন্ড ভাবে সেখানে সফল হয়েছিলেন। তিনি সফল হতে পেরেছিলেন ধর্ম কে ব্যাক্তি পর্যায়ে কর্মে রুপান্তর করার কারণেই। কোন আন্দোলন অথবা জিহাদ তাকে ইসলাম প্রচার এর জন্য করতে হয়নি। তিনি জিহাদ তথা ধর্মযুদ্ধ (ছোট জিহাদ) করেছিলেন আক্রমণকারীদের প্রতিহত করার জন্য, নিজের শহর (পরে রাষ্ট্র, মদীনা) শত্রু আক্রমণ থেকে প্রতিহত করার জন্য। তিনি জোর করে, আন্দোলন করে ইসলামকে প্রচার করেননি।
আজকে যারা ইসলাম প্রচার করতে আগ্রহী তারা অনেকেই ব্যক্তি জীবনে তা মেনে চলেন না অথবা চলেন নাই। তাদের কর্মকান্ড ও চরিত্র প্রশ্নের সম্মূখীন। তাদের আসলে ধর্ম প্রচার কাজ থেকে নিজেদের আত্মউন্নয়নের দিকে বেশি মনযোগ দেয়া উচিত। যাতে করে ধর্মপ্রচারকগন সম্পর্কে ব্যক্তি অথবা সমাজে কোন সন্দেহের অবকাশ না থাকে। সেটা না করলে ধর্ম প্রচারকদের কারণে পুরো ধর্ম সম্পর্কেই ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে ভূল আর বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হবে।
আসলে সবকিছুর জন্য সময়, ধৈর্য, কর্ম এবং ভাল নিয়ত থাকতে হয়। ভাল আগে নিজেকে হতে হয় তারপর অন্যকে ভালর পথে আহ্ববান করতে হয়। নিজের কর্মে চরিত্রে কোন প্রশ্ন জাগ্রত না হয় সেরকম পথ অবলম্বন করতে হয়। বহু উদাহরণ আছে, প্রাক ইসলাম যুগের.. নবী করিম [স:] এর যারা শত্রু তারাও তার সততা, চরিত্র নিয়ে কোনদিন প্রশ্ন তুরতে পারেনি। তাদের সে সুযোগই ছিলনা।
ইসলাম অনেক আধুনিক, যৌকক্তিক আর লিবারেল ধর্ম, সত্য সবসময় সুন্দর, সবসময় জয়ী। ধর্ম প্রচার করতে হলে স্বাভাবিক ভাবেই তা করা উচিত। যদি সঠিক ভাবে ইসলাম ধর্ম ব্যক্তি ও সমাজিক পর্যায়ে পালন করা হয়, যদি কর্মের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় তবে তা একদিন রাষ্ট্রিয় পর্যায়ে ইসলাম প্রতিষ্টার পথ সুগম করবে।
নিজেকে পরিবর্তন না করে অন্যকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা অনেকটা ভন্ডামির পর্যয়ে পড়ে। সত্য বোধকরি এটাই যে, এক ধরনের সমাজে বসবাস করে চিতকার চেচামেচি আর বলপ্রয়োগ করে সে সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে চাওয়াটা সঠিক পন্থা নয়। এধরনের কর্ম কান্ডকে ধর্ম প্রচার বলা যায়, বলা যায় ফেতনা। আর ফেতনা সৃষ্টি করা ইসলামিক নীতি বিরুদ্ধ একটি কাজ।
সব শেষে আশাবাদী হতে চাই, ইসলাম প্রচার হবে সত কর্ম, সঠিক যুক্তি আর সামগ্রিক শান্তি প্রতিষ্ঠার মধ্যদিয়ে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা আগস্ট, ২০১০ ভোর ৫:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


