somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নড়ন-চড়ন সেতু ০১

২৪ শে নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা সচারাচর সে সমস্ত সেতুগুলি দেখিয়া থাকি তাহারা নট নড়ন-চড়ন হইয়া স্থির পরিয়া থাকে। কিন্তুক কিছু কিছু সেতু রহিয়াছে যাহারা নট নড়ন-চড়ন হইয়া পরিয়া থাকে না মোটেই, বরং বেশ নড়ন-চড়ন দিয়া থাকে। আজিকের এই লেখা সেই সমস্ত নড়ন-চড়ন সেতুদিগকে লইয়াই।

সেতু কোথায় দেয়া হয়?
ইহা একটি হাস্যকর প্রশ্ন। সকলেই জানে, সেতু সাধারণত নদী বা খাল অথবা জলের উপরেই দেয়া হইয়া থাকে। যাহাতে করিয়া জলের দুইধারের পথের মিলন সেতুবন্ধনে যান ও জন পারাপার হইতে পারে। অবশ্য আজকাল স্থলেও কিছু সেতু নির্মাণ করা হইতেছে যাহাদিগকে (ফ্লাইওভার) উড়ালসেতু নামে অবহিত করা হয়। এই সমস্ত সেতু দিয়া উড়াল দেয়া যায় কিনা তাহা আমার জানা নাই, তবে উড়ালসেতুর নিচের পথে যানজটকে টপকাইয়া সহজেই চলিয়া যাইবার জন্যই এর ব্যবহার। যদিও আমাদের দেশে এই সুযোগ খুব একটা পরিলক্ষিত হইতেছে না। যাহাহোক আমাদের আজিকের এই লেখার উদ্দেশ্য উড়ালসেতু নহে, অন্য আরেকদিন ইহার সম্পর্কে লেখা যাইবে। আজ বরং আমরা নড়ন-চড়ন সেতু সম্পর্কে কিছু জানিবার চেষ্ঠা নেই।

নড়ন-চড়ন সেতু
“সেই সমস্ত সেতুকেই আমরা নড়ন-চড়ন সেতু বলিবো যাহারা জলযানসমূহকে তাহার নিচ দিয়া চলিয়া যাইতে দিবার উদ্দেশ্যে নিজেরা নানান ভাবে নড়াচড়া করিয়া থাকে।”


নানান ধরনের নড়ন-চড়ন সেতু দেখিতে পাওয়া যায়। একে একে সকল প্রকার নড়ন-চড়ন সেতু লইয়াই লেখার ইচ্ছা রহিয়াছে। সেই ধারাবাহিকতায় আজকে যেই ধরনের নড়ন-চড়ন সেতু লইয়া লিখিতেছি তাহাকে বলা হয় “টানা-সেতু” বা “Drawbridge” । (বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলা নামের প্রতি খুব একটা শ্রদ্ধা না রাখিলেও চলিবে।) নড়ন-চড়ন সেতুগুলি কি ভাবে নড়াচড়া করিয়া থাকে তাহার উপর ভিত্তি করিয়াই তাহাদেরকে নামকরণ করা হয়।

“টানা-সেতু” বা “Drawbridge” একখান ছবি দেখেন




টানা-সেতুঃ যে সমস্ত সেতুকে একপাশ হইতে শক্ত কাছি বা দড়ির সাহায্যে টানিয়া অন্য মাথা তুলিয়া ফেলা হয় সেই সমস্ত সেতুকে “টানা-সেতু” বলিয়া থাকে।


টানা-টানির বিষয়টি মোটামুটি এই রকম


আদিকাল হইতেই এই সমস্ত টানা-সেতুর ব্যবহার পরিলক্ষিত হইয়া আসিতেছে। সেই সময়ে টানা সেতুগুলি ব্যবহার করা হইতো দূর্গগুলিতে।



দূর্গের চারিপাশে পরিখা খনন কররিয়া পরিখার নিচে চোখা চোখা লৌহদণ্ড অথবা কাষ্টদণ্ড পুতিয়া রাখা হইতো। কখনবা সেইখানে পানি দিয়া পরিপূর্ন করিয়া রাখা হইতো। আবার সেই পানিতে কুমীর বা বিষাক্ত সাপও ছেড়িয়া রাখিতো। সেই পরিখার উপর দিয়া দূর্গে প্রবেশের প্রবেশদ্বারে এই “টানা সেতু” স্থাপন করা হইতো। এগুলিকে “দূর্গ টানা-সেতু” বলিতে পারি আমরা। তাহাছাড়া বড়বড় প্রাসাদেও এই ধরনের “টানা সেতুর” ব্যবহার দেখা যাইতো।

আদিকালেই এই সমস্ত “টানা-সেতুর” ব্যবহার শেষ হইয়াছে ভাবিলে ভুল করিবেন। এই আজিকের সময়েও সেই আদিকালের “টানা-সেতুর” আধুনিক সংস্করণ দেখিতে পাওয়া যায়। তবে ইহারা দূর্গ বা প্রাসাদ ছাড়িয়া নদী বা খালের উপর স্থান করিয়া লইয়াছে। নিচে তাহাদের কিছু নমুনা পেশকরা হইলো।









উপরের সেতুটির নাম “Slauerhoffbrug” সেতু, যাহা Netherlands অবস্থিত।
শতর্কিকরণঃ সেতুর নাম উচ্চারণ করিবার কালে দুই-একটা পোঁকে খাওয়া দূর্বল দাঁত পরিয়া গেলে লেখক দায়ি হইবে না। নিজ দায়িত্বে উচ্চারণ করিবেন।



Gloucester dock-এর টানা-সেতু




এবার দেখেন কিছু টানা-সেতুন নমুনা যাহাদের মাঝখান হইতে দুই ভাগ হইয়া যায়।





Willamette নদীর উপরে টানা-সেতু




Amsterdam টানা- সেতু




ইহা Amsterdamএর Magere Brug টানা সেতু।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১০ দুপুর ২:১৬
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×