somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নড়ন-চড়ন সেতু ০২

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরা সচারাচর সে সমস্ত সেতুগুলি দেখিয়া থাকি তাহারা নট নড়ন-চড়ন হইয়া স্থির পড়িয়া থাকে। কিন্তুক কিছু কিছু সেতু রহিয়াছে যাহারা নট নড়ন-চড়ন হইয়া পড়িয়া থাকে না মোটেই, বরং বেশ নড়ন-চড়ন দিয়া থাকে। আজিকের এই লেখা সেই সমস্ত নড়ন-চড়ন সেতুদিগকে লইয়াই।


যাহাদের নজরে নড়ন-চড়ন সেতু ০১ আসে নাই তাহারা চাইলে দেখিয়া আসিতে পারেন।
যাহাহোক আজ আমরা আলোচনা করিবো নড়ন-চড়ন সেতুর আরো একটি ধরন লইয়া। এই সেতু নাম দিতে পারি -“ভাজ করা সেতু” বা “folding bridge”, আজও কহিয়া রাখিতেছি বাংলা নামের দিকে নজর না দিলেও চলিবে।

নাম শুনিয়াই বুঝিতে পারিতেছেন সেতুগুলি কেমন হইবে। যাহারা বুঝিতে পারিতেছেন না তাহারা নিচের ছবি দুইটিকে অবলোকন করিতে পারেন।

১। চ্যাপ্টা ভাজ সেতু



২। গোল ভাজ সেতু



ছবি দেখিয়া এইবার নিশ্চই বুঝিয়াছেন ইহারা কিরূপ হইবে। তাহারপরেও বলা আমার কর্তব্য তাই বলিতেছি -
“যেই সমস্ত সেতু তাহাদের নিচ দিয়া জলযান যাইতে দিবার উদ্দেশ্যে নিজেদেরকে ভাজ করিয়া লয় সেই সমস্ত সেতুদিগকে ভাজ করা সেতু বলা যায়।”

সাধারণ ভাবে “ভাজ করা সেতু” দিগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। উপরের প্রথম ছবিতে দেখিতে পাইয়াছেন কি করিয়া একটি সেতুকে চ্যাপ্টা ভাবে ভাজ করি রাখা যায়। এই সমস্ত সেতুগুলিকে আমরা “চ্যাপ্টা ভাজ সেতু” বলিতে পারি।
আবার উপরের দ্বিতীয় ছবিতে আমরা দেখিতে পাইতেছি একটি সেতুকে কি করিয়া পেঁচাইয়া গোল করিয়া ভাজ করা হইতেছে। এই ধরনের সেতুদিগকে আমরা বলিবো “গোল ভাজ সেতু”

এখন মনে প্রশ্ন জাগিতে পারে, বাস্তবে কি এই ধরনের সেতুর সত্যিই কোনো অস্তিত্ব রহিয়াছে? নাকি লেখকের উত্তপ্ত মস্তিস্কের উদ্ভট আবিস্কার। লেখকের মস্তিস্ক উত্তপ্ত হলেও “ভাজ করা সেতু” গুলির অস্তিত্ব কিন্তু সেই উত্তপ্ত মস্তিস্কে নয়। বাস্তবেও ইহাদের অস্তিত্ব রহিয়াছে। তাই বলিয়া সঞ্চয় দত্ত অভিনিত “বাস্তাব” চলচিত্রে ইহাদের খুঁজিতে যাইবেন না দয়া করিয়া। একটু অপেক্ষা করেন আমিই উহা দিগকে আপনাদের সামনে হাজির করিতেছি।

চ্যাপটা ভাজ সেতুঃ চ্যাপটা ভাজ সেতু নিজ চোক্ষে দেখিতে হইলে আপনাকে যাইতে হইবে জার্মানি। কারণ জার্মানির Kiel শহরে রহিয়াছে একখানি চ্যাপ্টা ভাজ সেতু, নাম তাহার “Hörnbrücke বা Hoernbridge”। সেতুটি যখন নিচ দিয়া নৌযান যাইবার জন্য নিজেকে গোটাইয়া লইতে থাকে তখন তাহাকে দেখিতে ইংরেজী “N” অক্ষরের মতো দেখা যায়। নৌযান চলিয়া যাইবার পরে সে আবার নিজেকে মেলিয়া ধরে পথচারী আর মটরগাড়ীর জন্য। এখনো যদি আমার কথা বিশ্বাস না হইয়া থাকে তবে নিচে ছবি দিয়া দিতেছে দেখিয়া লইবেন।


“Hörnbrücke বা Hoernbridge” নিজেকে মেলিয়া ধরা অবস্থায়।


“Hörnbrücke বা Hoernbridge” নিজেকে গোটাইয়া লইবার কালে।

গোল ভাজ সেতুঃ নিজ চর্ম চোক্ষে গোল ভাজ সেতু দেখিতে হইলে আপনাকে যাইতে হইবে লন্ডন। Grand Union Canal খারের উপরে এই অতিব চমৎকার সেতুটি তৈরি করা হইয়াচে ২০০৪ সালে। স্বাভাবিক অবস্থায় সেতুটি চুপচাপ পড়িয়া থাকিলেও তাহার নিচ দিয়া জলযান বাইবার কালে যখন সে নিজে গোটাইতে শুর করে তখন এক মনরম দৃশ্যের আর্বিভাব হয়। সেতুটি ধীরে ধীরে নিজে গোটাইয়া গোল একটি চাকার মতো করিয়া ফেলে। দর্শক তাহা দেখিয়া নয়ন স্বার্থক করেন। নয়ন স্বার্থক করিবার জন্য লন্ডন যাইতে না চাইলে নিচে ছবি দিতেছে- দেখিয়া দুধের স্বাদ ঘোলে মিটাইয়া লন, আমারই মতো।













এই রকমের আরো একটা মডেল দেখিতে পারেন ।



এইবার বিদায় নিচ্ছি, তবে দখা হবে আবারও অন্য কোনো "নড়ন-চড়ন সেতু ০৩"-এ। শর্ত একটাই................
"পাগলা সেতু নাড়াইস না"

সূত্রঃ উইকি
ছবিঃ google মামা।
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষা খাতে শুরু হয়েছে তারেক রহমান ম্যাজিক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:২৯


রাজনীতির মাঠে ক্ষমতার হাতবদল যেমনই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের আসল নজর থাকে জীবনের মৌলিক জায়গাগুলোতে। আর একটি দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো শিক্ষা ব্যবস্থা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×