আমার ভ্রমণ কাহীনি শুরু হয়েছিলো সিঙ্গাপুর ভ্রমণের প্রথম দিন দিয়ে। সিঙ্গাপুর ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন শেষে লিখেছিলাম সিঙ্গাপুর টু মালয়শিয়ার কথা। মালয়শিয়া ভ্রমণের প্রথম দিন শেষ হয়েছে কিছু না দেখেই। মালয়শিয়া ভ্রমণের দ্বিতীয় দিনের কথাই আজ বলতে বসেছি।
ডিসেম্বারের ১৮ তারিখ সকালে বেশ বেলা করে উঠে নাস্তা সেরেআসি হোটেলের বুফে রেস্টুরেন্ট থেকে। লাগেজ আগেই গুছিয়ে রেখেছি, হোটেল চেঞ্জ করার উদ্দেশ্যে। ১২টার দিকে আসে আমাদের নিয়ে যেতে মাক্রবাস, রওনা হয়ে যাই অন্য আরেক হোটেলের উদ্দেশ্যে। নতুন হোটেলে গিয়ে শুধু লাগেজ রুমে রেখেই নেমে আসি নিচে। যাত্রা এবার “গেটিং হাইল্যান্ডের” উদ্দেশ্যে। হাইওয়েতে উঠতেই চোখের নিমিশে গাড়ি ছুটতে শুরু করে ১২০কি.মি থেকে ১৪০কি.মি. তে, অথচ মনে হচ্ছে যেন ছুটছি ৭০কি ৮০কি.মি. বেগে। অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসি পাহাড়ি এলাকাতে। রাস্তার দুপাশের সবুজ প্রকৃতি দেখতে দেখতে একসময় এসে যাই গন্তব্যে। আমাদের আইডিয়াই ছিলোনা যায়গাটিতে এতো ঠান্ডা হবে। পাহারের উপরের চমৎকার এই যায়গাটিতে মেঘেরা কুয়াশার মতো এসে ঝাপটে ধরছে কিছুক্ষণ পরপরই। নিমিষেই হাড় কাপানো ঠান্ডাও তার ধাড়ালো দাঁত বসিয়ে যাচ্ছে আলতো করে। এখানে নামতেই দেখি একজন সান্টা বুড়ো অনেকগুলি স্কুলছাত্রীদের নিয়ে বড়দিনের গান গেয়ে নচছেন। এদিক সেদিক একটু ঘুরাঘুরি করে একসময় আমরা এসেপড়ি একটি বাঁচ্চাদের প্লেগ্রাউন্ডে। হাজাররকমের গেইম আর রাইড এখানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে কিছুটা আলো আধাঁরির পরিবেশ তৈরি করে। এখান থেকে আরো কিছুটা সামনে যেতেই পেয়ে যায় স্কাইওয়ে। টিকেট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে যাই। অল্প সময়েই চড়ে বসি একটি বক্সে, চলতেও শুরু করে তখনই। বস এই অভিজ্ঞতা বলে বুঝানো যাবে না, লিখেতো আরো অসম্ভব। পাহাড়ের এতটাই উপরে আমরা যেখানে মেঘগুলি কুয়াশার মতো চাদর বিছিয়ে রেখেছে। ঘন সাদা মেঘেদের ভিতরে কিছুক্ষণ পরপরই ঢুকে যাচ্ছে, একটু পরেই আবার বেরিয়ে আসছে। কখনো সোজা নিচের দিকে সাই করে নেমে যাচ্ছে, কখনোবা ঢালু পথে নামছে। চলার গতিও প্রচন্ড, বিপরিত দিক থেকে আশা বক্সগুলি সাইসাই করে পিছিয়ে যাচ্ছে। সাইফুল ২ সূরাকালাম পড়া শুরু করেদিয়েছে, মনির ভাই নিঃশ্চুপ, ভাতিজা সোহেলও বেশ ঘাবড়ে গেছে। সামনেযে কত দূর পর্যন্ত গিয়েছে তার শেষ দেখা যায় না, আর নিচের দিকে তাকালে অনেকটা নিচে পাহারের কানাখন্দর ছাড়া আর কিছু নেই। না-না ভুল বললাম দেখার আছে পাহারের প্রতিটা অংশই নাম না জানা সবুজ পাহাড়ি গাছগাছালিতে ভরা। আমি ক্যামেরায় টপাটপ ছবি তুলে যাচ্ছি একের পর এক, অল্প একটু যায়গায় কোনো রকমে। এভাবে চলতে চলতে প্রায় মিনিট ১২/১৫ পরে আমরা নেমে আসি নিচের ল্যান্ডিংএ। এতোটা পথ নেমে যাবো আমাদের কল্পনাতেও ছিলো না। তাই ভাবলাম আবার টিকেট কেটে উপরে চলে যাবো, কারণ আমাদের গাড়িতো দাঁড়িয়ে আছে উপরে। কিন্তু বিশাল লাইন দেখে আর টিকেট কাটার সাহস হলো না। আমাদের ড্রাইভার মি. শাহরিনের নাম্বারে ফোন করে বললাম আমরা নিচে নেমে গেছি, উনি জানালেন এখনি আসছেন আমাদের নিতে মাত্র ২০ মিনিট লাগবে এখানে পৌছতে তার। ২০ মিনিট ড্রাইভ করে এখানে আসতে হবে!!! মনে কতটা পথ আমরা নেমে এসেছি রোপওয়েতে চড়ে একবার ভাবুন!!
২০মিনিটের ব্রেক পেয়েছি, তাই এখানকার সপিং এরিয়াতে ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকি সব কিছু। একটুতেই বুঝতে পারি বাইরের তুলনায় তিনগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে সব কিছু। এক যায়গায় দেখলাম চকলেট, আঁচার, শুকানো ফলের স্লাইস বিক্রি করছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে সব কিছুই খোলা, আপনি এক পিস করে টেস্ট করে পছন্দ হলে ওরা প্যাকেট করে দিবে পরিমাণ মতো। সবাই খাচ্ছে তাই দেখে সাইফুলও খেয়ে এসেছে। আমাদের সাইফুর ২ কিছু চকলেট কিনেছেও। সাইফুল আমাকে ডেকে নিয়ে গেছে এই অভিনব দোকান দেখাতে। এবার আমিও এখান থেক সেখান থেকে এটা সেটা মুখে দিয়ে দেখছি। আমার সামনের চাইনিজ লোকটা যে জিনিসটি নিয়ে মুখে দিয়েছে দেখতে তা চমৎকার। একেবারে পাতলা আমসত্তের মত, সামান্য সাদা সাদা পাউডার দেয়া। ওর দেখা দেখি আমিও একটা স্লাইস নিয়ে মুখে দিয়েছি, ভালো লাগলো না। ফেলার জন্য কোনো বিন নেই। আরেক চিবুনি দিতেই টের পেলাম জিনিসটি কি!! কল্পনাও করতে পারবেন না, সেটি ছিলো স্লাইস করা শুকনো মাছ, লবন দেয়া। ওয়াক!!! কিন্তু ফেলার যায়গা নাই। বাধ্য হয়ে টুপকরে গিলে ফেলে তারাতারি আমের একটা টুকরো মুখে পুরে বেরিয়ে আসি সেখান থেকে। সাইফুলের মুখে মিটি মিটি হাসি, ওও ধরা খেয়ে এসেছে। তাই আমাকে খাওয়ানোর জন্য ডেকে এনেছে। আমাদের মধ্যে এই ব্যাপারটি খুব চলে।
এবার ফেরার পালা, ফেরার পথে মি. শাহরিন আমাদের নামিয়ে দেয় টুইন টাওয়াররের সামনে। কল করলে আবার আমাদের নিয়ে যাবে এসে। পৃথিবী বিখ্যাত এই স্থাপনার সামনে বেশ কিছুটা সময় চলে ফটো সেশান আরো অনেক দর্শনার্থীদের সাথে। এবার হোটেলে ফেরার পালা, মি. শাহরিন কে ফেরাপথে বলি আমরা আগামী কাল এ্যায়পোর্ট যাওয়ার পথে পুত্রাজায়া হয়ে যেতে চাই। তিনি রাজি হন ৫০ রিঙ্গিতের বিনিময়ে নিয়ে যেতে। কথা ঠিক হয়ে যায় এটাই আগামীকালের প্রগ্রাম থাকবে। এবার হেটেলে ফেরার পথে মি. শাহরিন আমাদের শহরের বিভিন্ন যায়গা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একে-একে চিনিয়ে দেন জাতীয় মসজিদ, জাতীয় জাদুঘর, বার্ড ওয়ার্ল্ড, রেলওয়ে স্টেশান ও মিউজিয়াম, কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পুরনো জাতীয় মসজিদ, রাস্ট্রোপতির পুরনো বাসভবন ইত্যাদি। বিকেল গড়িয়ে যাওয়ায় কোনোটিই খোলা ছিলো না, আর ক্যামেরার ব্যাটারি ডাউন হয়ে যাওয়ায় ছবি তোলা সম্ভব না হলেও সামনে দিয়ে ঘুরে এসেছি এটাই বড় পাওনা, কারণ হাফডে সিটিটুরটি আমাদের মাঠে মারা গেছে তাতো বুঝতেই পাচ্ছেন।
আপাততো ছবি দেখেন, বাকিটা কালকে…..
১। দিনের আলোতে কে.এল. টাওয়ার, হোটেলের কামরা থেকে তোলা।

২। দিনের আলোতে মিউজিয়ামটি, হোটেলের কামরা থেকে তোলা।

৩। হোটেল রেস্টুরেন্টে সকালের নাস্তা।

৪। পাম গাছের তলায় আমি।

৫। পাম ফল

৬। বড়দিনের সাজে হোটেল চত্তর

৭। গ্রেটিং হাইল্যান্ড যাওয়ার পথে।

৮। গাড়িতে আমরা।

৯। গাড়ি থেকে গ্রেটিং হাইল্যান্ডের গেট।

১০। বড় দিনের গান ও নাচ

১১। একটি ধাঁধা, বলুনতো কে বেশি মোটা? আমার ভাতিজা না সান্টা?

১২। এতো হাসির কি?

১৩। এরা কিন্তু হাসায়

১৪। এই ঠান্ডার মধ্যে কে যায় পানির এই রাইডে চড়তে?

১৫। মনির ভাই, খেলেন নাই, শুধু ভাব ধরেছেন।

১৬। স্কাইওয়ে

১৭। স্কাইওয়ে

১৮। স্কাইওয়ের বক্সে, নিজের ছবি নিজে তুলেছি।

১৯। স্কাইওয়ে

২০। স্কাইওয়ে

২১। স্কাইওয়ে ল্যান্ডিং পয়েন্টে বড়দিন সাজ

২২। দুর থেকে টুইন টাওয়ার

২৩। দুর থেকে টুইন টাওয়ার

২৪। টুইন টাওয়ার এর গ্রাউন্ডে।

২৫। কাছ থেকে টুইন টাওয়ার।

২৬। কাছ থেকে টুইন টাওয়ার।

২৭। টুইন টাওয়ারের সামনে এই পানির ফোয়ারা।

২৮। টুইন টাওয়ারের সামনে আমি বা আমার পিছনে টুইন টাওয়ার।

২৯। সাইফুল ও টুইন টাওয়ার।

৩০। টুইন টাওয়ার।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


