আগামীকাল ঢাকায় জলবায়ু ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনঃ
ঢাকায় আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু ও খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ওহাইও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এ সম্মেলন চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত। ৭০ জন বিদেশি ও ২০০ জন দেশি বিশেষজ্ঞ এ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সম্মেলনের সংবাদ ইংরেজি, ফরাসি ও স্প্যানিশ ভাষায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একযোগে প্রচার করা হবে। বিশেষজ্ঞদের আলোচনার সারসংক্ষেপ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। গতকাল ২৩ আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ কথা জানায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এস এম এ ফায়েজ সম্মেলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার প্রতিনিধি এম ভি কে শিভাকুমার, ওহাইও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইকবাল রশীদ চৌধুরী, ড. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরি এস এ ইসলাম বক্তব্য দেন। তাঁরা বিভিন্ন প্রশ্নেরও জবাব দেন। সম্মেলন আয়োজনে সহযোগিতা করবে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা-ডব্লিউএমও, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-এফএও এবং ইউএন ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক-এসকাপ।
রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ও সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। সমাপনী অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ। বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ব্যারিষ্টার রাজা দেবাশীষ রায় উপস্থিত থাকবেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।
প্রথম দিন দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, পরিবেশ, পানি, সংক্রামক ব্যাধি ও স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে দ্বিতীয় দিন জলবায়ু পরিবর্তনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপট ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে পর্যালোচনা হবে। তৃতীয় দিন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি এবং চতুর্থ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
অধ্যাপক ফায়েজ বলেন, বাংলাদেশে জলবায়ু ও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে এত বড় আয়োজন এবারই প্রথম। বিশ্বের ২২ শতাংশ মানুষের বসতি দক্ষিণ এশিয়ায় এবং অর্থনীতি কৃষির ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো কোন ধরনের উদ্যোগ ও কৌশল নিতে পারে, তা পর্যালোচনা করা হবে। সমাপনী দিনে প্রস্তাব তুলে ধরা হবে।
ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাটরিনা ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর সেখানকার বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশে এসেছিলেন। এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে বাংলাদেশ কীভাবে টিকে আছে, তা থেকে তাঁরা শিক্ষা নিয়েছেন। তাই বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের বিশেষজ্ঞমহল বাংলাদেশের এই সম্মেলনের প্রতি যথেষ্ট আগ্রহী।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৫:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



