মহান বিপ্লবী কমরেড আল্লাহ নেওয়াজ খায়রুঃ
৮ সেপ্টেম্বর ছিল বিপ্লবী কমরেড আল্লাহ নেওয়াজ খায়রুর ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। মাত্র ৩২ বছর বয়সে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু ১৯৬৪ সাল থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। রাজবাড়ীতে ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেই তিনি মার্কসবাদী আদর্শ রাজনীতি সম্পর্কে জানতে-বুঝতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
কমরেড আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু কমিউনিস্ট আন্দোলনে হাতেগোনা যে কয়েকজন ধৈর্যশীল, বিনয়ী আত্মত্যাগী ভদ্রগুণের অধিকারী কমরেডদের মধ্যে একজন ছিলেন। যারা ওই সময় ঘরবাড়ি ছেড়ে বিপ্লবের কাজে আত্মনিয়োগ করতে দ্বিধান্বিত ছিলেন সেই সময় কমরেড আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে মাদারীপুর জেলার ভেদরগঞ্জ, নড়িয়া অঞ্চলে কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করতে একটি অপরিচিত এলাকায় পার্টির নির্দেশে চলে যান। ১৯৭০ সালের আগস্টে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি ফরিদপুর জেলায় ৩১ আগস্ট শ্রেণীশত্রু খতমের সর্বনাশা লাইন গ্রহণ করে। এরই লাইন প্রয়োগ করতে গিয়ে ভূমিহীন, গরিব কৃষকের বাড়িতে থেকে নিজেকে তাদের একজন প্রমাণ করার জন্য কী করেননি তিনি? অনেক সময় না খেয়ে কেটেছে। তার সুযোগ ছিল অবস্থাপন্ন বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে ছুটে এসে কিছু সময় কাটানো তাও করেননি। কারণ ওই বন্ধুদের অনেকেই তার আদর্শ মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে সমর্থন করতেন না।
সত্তরের দশকে কমিউনিস্টরা তখন অসংখ্য খন্ড বিভক্ত ও বিপর্যস্ত। ওই সময় কমরেড আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু কমিউনিস্ট লীগ (এমএল) নেতা। ১৯৭৯ সালে তিনি ঘুরে এসেছেন সমাজতান্ত্রিক চীন। ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন কমরেড শরদিন্দু দস্তিদারের নেতৃত্বে আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু, আনোয়ার ও শাহ আলম মোল্লা। সেখানে চিং কাং পাহাড়ের ঘাঁটি থেকে শুরু করে চীন বিপ্লবের মূল মূল জায়গায় ঘুরে ঘুরে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে রেখে গেছেন। কিন্তু তা অন্য হাতে রয়েছে। সেটি উদ্ধার করে তার থেকে কিছু শিক্ষণীয় থাকলে আমরা তা কমিউনিস্ট আন্দোলনের স্বার্থে গ্রহণ করতে পারি।
১৯৮০ সালের ২০ আগস্ট নারিন্দার ভজহরি সাহা স্ট্রিটে রশিদ ভাইয়ের বাসায় বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) কমিউনিস্ট লীগ (এমএল) ও সাম্যবাদী দলের (এমএল) তিন পার্টির ঐক্য কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয় এবং সিদ্ধান্ত হয় ছাত্র, কৃষক শ্রমিকসহ সব গণসংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সালের ১৫ মার্চে বেড়ায় ৪টি কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে ৪০ হাজার কৃষকের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় এবং ওই সমাবেশ শেষে গঠিত হয় জাতীয় কৃষক সমিতি। জাতীয় কৃষক সমিতির প্রথম দফতর সম্পাদক ছিলেন আল্লাহ নেওয়াজ খায়রু। কমিউনিস্ট ঐক্য ও কৃষক সংগঠনের ঐক্যের ক্ষেত্রে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। কমরেড খায়রু মতাদর্শগত সংগ্রামকে, রাজনৈতিক বিতর্ককে পক্ষপাতহীনভাবে দেখার চেষ্টা করতেন, যা এখন প্রায় অনুপস্থিত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

