বিজ্ঞানী মাইকেল ফ্যারাডে
বাড়ির কাছে একটি প্রাথমিক স্কুলে কিছুদিন পড়াশোনা করেছেন ফ্যারাডে। আর্থিক অনটনের জন্য মাঝপথেই স্কুল ছেড়ে দিতে হলো। তেরো বছর বয়সে সংসারের ব্যয় মেটাতে তাকে কাজে ঢুকতে হলো। মি. জর্জ বলে এক ভদ্রলোকের বইয়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ফেরি করা হতো। ফ্যারাডের কাজ ছিল সেসব পত্রপত্রিকা ঘুরে ঘুরে লোকের বাড়িতে বিলি করা। এক বছর কাজ করার পর ফ্যারাডের কাজে খুশি হয়ে মি. জর্জ তাকে বই বাঁধাইয়ের কাজ দিলেন। আগের চেয়ে পরিশ্রম অনেক কম। কাজের ফাঁকে পড়াশোনা করার সুযোগ বেশি। তাকে সবচেয়ে আকর্ষণ করতো বিজ্ঞান বিষয়ক বইগুলো।
দু'টি বই মার্শেটের লেখা কনভারসেশনস ইন কেমিস্ট্রি এবং এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার বিদ্যুৎ সম্বন্ধীয় প্রবন্ধগুলো সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিল ।
কিছুদিনের মধ্যেই বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য বাড়িতে একটা ছোট ল্যাবরেটরি তৈরি করে ফেললেন। হাতখরচার পয়সা বাঁচিয়ে গবেষণার জন্য একটা-দুটো করে জিনিস কিনতেন। আবার অনেক সময় ফেলে দেয়া জিনিস আবর্জনা থেকে সংগ্রহ করে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরি করতেন।
কিছুদিনের জন্য বই বাঁধাইয়ের কাজ বন্ধ হয়ে গেল। তখন মাইকেল ফ্যারাডের জীবনের সঙ্কটময়কাল। অভাব-দারিদ্র্য আর অসুস্থতায় বাবা মারা গিয়েছেন, মায়ের অবস্থা ভালো নয়। ভাইয়ের কাজ নেই। সামান্য কিছু উপার্জনের জন্য সারাদিন পথে পথে ঘুরে বেড়াতেন মাইকেল ফ্যারাডে। কিছুদিন পরে আবার পুরনো বইয়ের দোকানে বই বাঁধাইয়ের চাকরি ফিরে পেলেন ফ্যারাডে।
তখন ফ্যারাডের বয়স মাত্র ২১। একদিন দোকানের এক খরিদ্দার এসে বিখ্যাত বিজ্ঞানী স্যার হামফ্রি ডেভির বক্তৃতা শোনানোর জন্য দোকানের মালিক মি. জর্জকে চারদিনের বক্তৃতার টিকেট দিয়ে গেলেন। জর্জ জানতেন বিজ্ঞান বিষয়ে ফ্যারাডের কৌতূহলের কথা। তিনি তাকে সবকটি টিকেট দিয়ে দিলেন।
মাইকেল ফ্যারাডের জীবনে এক নতুন দিগন্তের দ্বার উন্মোচিত হলো। গভীর মনোযোগ সহকারে তিনি শুনলেন স্যার হামফ্রি ডেভির বক্তৃতা। অবশেষে শেষ আশা নিয়ে স্যার হামফ্রি ডেভিকে পত্র লিখলেন ফ্যারাডে। সেইসঙ্গে তিনি যে তার বক্তৃতা কতো আগ্রহের সঙ্গে শুনেছেন এবং বুঝেছেন তার প্রমাণস্বরূপ পুরো বক্তৃতাই লিখে পাঠালেন। নিজের ইচ্ছা এবং বর্তমান অবস্থা কোনো কথাই গোপন করলেন না।
কিছুদিন পর অপ্রত্যাশিতভাবে স্যার হাফ্রি ডেভির চিঠি পেলেন ফ্যারাডে। তাকে সাড়্গাতের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন স্যার ডেভি। তাকে রয়াল সোসাইটিতে নিজের গবেষণাগারে শিশি বোতল ধোয়ার চাকরি দিলেন।
ফ্যারাডের মধ্যে যে সুপ্ত প্রতিভা ছিল, অল্প দিনের মধ্যেই তা বিকশিত হয়ে উঠলো। ল্যাবরেটরির কাজের মধ্যেই তিনি লড়্গ্য করতেন স্যার হামফ্রি ডেভির গবেষণা। যখনই সময় পেতেন বিজ্ঞান বিষয়ক সব পত্রপত্রিকা গভীর মনোযোগ সহকারে পড়তেন।
ফ্যারাডের এ আগ্রহ দেখে তাকে নিজের সহকারী করে নিলেন স্যার ডেভি। নিজের গবেষণার সঙ্গে সঙ্গে ফ্যারাডেকে গবেষণার ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। নিজেকে গড়ে তোলার নিরলস প্রচেষ্টা, জ্ঞানের সাধনা, আর কঠোর শ্রমই এক অজ্ঞাত কুলশীল যুবককে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী পাশে স্থান করে দিলেন।
১৮১৩ সালে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আমন্ত্রণ পেলেন স্যার ডেভি। মাইকেল ফ্যারাডেকে নিজের সঙ্গী হিসেব গ্রহণ করলেন তিনি।
স্যার ডেভির সহকারী হিসেবে বহু বিজ্ঞানীদের সান্নিধ্যে আসার সুযোগ পেলেন। তার যাত্রা শুরু করেন বুধবার ১৩ অক্টোবর ১৮১৩। ফ্যারাডে তার ডায়েরিতে লিখেছেন, 'আজকের সকাল আমার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো।' তারা ঘুরে বেড়ালেন ফ্রান্স, ইতালির বিভিন্ন শহর।
ইতালি ভ্রমণের সময় পরিচয় হলো বিজ্ঞানী ভোল্টারের সঙ্গে। বিজ্ঞানী ভোল্ট তখন বিদ্যুৎপ্রবাহ নিয়ে গবেষণা করছিলেন, ভোল্টার সঙ্গে সাড়্গাতের পর ফ্যারাডে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত গবেষণার প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন।
১৮১৫ সালে দীর্ঘ বিদেশ ভ্রমণ শেষ করে স্বদেশে ফিরে এলেন ফ্যারাডে। এবার তিনি রয়াল ইন্সটিটিউটে একজন গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন। একদিকে ফ্যারাডে যেমন হামফ্রে ডেভিকে গবেষণার কাজে নানাভাবে সাহায্য করতেন, তড়িৎ রসায়ন বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করতে থাকেন, কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করেন ক্লোরিন গ্যাসের তরলীকরণ, তড়িৎ বিশেস্নষণের সূত্র।
ইংল্যান্ডের রাজসভায় বিজ্ঞানী হিসেবে তাকে নিযুক্ত করা হলো। বেতন ধার্য করা হলো বছরে পাঁচ হাজার পাউন্ড। এবং এক বছর পরে তার বেতন পঁচিশ হাজার পাউন্ড স্থির হলো। রাজসভায় বিজ্ঞানী হিসেবে অর্থ-সম্মান পেলেও গবেষণার সুযোগ কম। তাই তিনি পদত্যাগ করে ফিরে এলেন রয়াল ইন্সটিটিউটের গবেষণাগারে। এখানে তার মাসিক বেতন ছিল মাত্র পাঁচশ পাউন্ড। কিন্তু গবেষণার সুযোগ পেয়ে তাতেই সন্তুষ্ট হলেন ফ্যারাডে।
অন্যদিকে ১৮৪১ সালে তিনি আবিষ্কার করলেন তার যুগান্তকারী তত্ত্ব আলোকের ওপর চৌম্বকের প্রভাব। এ আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালে বিজ্ঞানী ম্যাক্সওয়েল বের করলেন তার বিখ্যাত বিদ্যুৎ চুম্বকীয় সমীকরণ। যার ফলে মানুষ লাভ করলো তারের সংযোগ ছাড়াই বেতার টেলিগ্রাফ যোগাযোগ।
১৮৬৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আসলে কেউ ফেরে না।
মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর
যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্য ড্রাগ কিং

সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।
খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে
আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।
শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন
মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪
মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।
মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।